বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ।
বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ
অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo

ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। তবে যেকোনো পদসমষ্টি বাক্য হয় না — বাক্য হতে গেলে সেই পদসমষ্টিতে তিনটি অপরিহার্য শর্ত থাকতে হয়: যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা এবং আসত্তি।
যোগ্যতা হল বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের পারস্পরিক অর্থগত সংগতি। আকাঙ্ক্ষা হল পরপর পদসমষ্টি উচ্চারিত হলে শ্রোতার মনে পরবর্তী পদ তথা সম্পূর্ণ বাক্যটি জানবার যে প্রত্যাশা গড়ে ওঠে। আর আসত্তি হল বাক্যে ব্যবহৃত পরস্পর সম্বন্ধবিশিষ্ট পদগুলিকে যথাস্থানে ক্রম অনুযায়ী সাজানো।
বাক্যকে দুটি প্রধান অংশে ভাগ করা হয় — উদ্দেশ্য (Subject) ও বিধেয় (Predicate)। উদ্দেশ্য হল বাক্যের যে অংশ সম্পর্কে কিছু বলা হয়, আর বিধেয় হল সেই অংশ যেখানে উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলা হয়। উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয়ই সরল ও সম্প্রসারিত হতে পারে।
আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীরা বাক্যকে দুটি প্রধান খণ্ডে বিভক্ত করেন — বিশেষ্যখণ্ড (Noun Phrase) এবং ক্রিয়াখণ্ড (Verb Phrase)। এছাড়া ক্রিয়াবিশেষণখণ্ড (Adverbial Phrase)-ও বাক্যবিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ।
গঠনগত দিক থেকে বাক্য চার প্রকার — সরল বাক্য, জটিল বাক্য, যৌগিক বাক্য এবং মিশ্র বাক্য। সরল বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। জটিল বাক্যে একটি স্বাধীন সরলবাক্য এবং এক বা একাধিক অধীন খণ্ডবাক্য থাকে। যৌগিক বাক্যে দুই বা তার বেশি নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্য সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা যুক্ত থাকে। মিশ্র বাক্যে সরল, জটিল বা যৌগিক বিভিন্ন ধরনের বাক্য মিলে একটি বৃহত্তর বাক্য তৈরি হয়।
অর্থগত দিক থেকে বাক্য সাত প্রকার — নির্দেশক বাক্য, প্রশ্নবাচক বাক্য, অনুজ্ঞাসূচক বাক্য, প্রার্থনাসূচক বাক্য, সন্দেহবাচক বাক্য, আবেগসূচক বাক্য এবং শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
বাক্যের রূপান্তর হল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে এক শ্রেণির বাক্যকে অন্য শ্রেণিতে পরিণত করা। গঠনগত ও অর্থগত — দুই দিক থেকেই বাক্যের রূপান্তর সম্ভব।
প্রশ্নোত্তর বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ madhyamik bakyo
✦ বাক্যের সংজ্ঞা ও শর্ত
১. বাক্য কাকে বলে?
এক বা একাধিক পদ বা পদসমষ্টির দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পেলে সেই পদ বা পদসমষ্টিকে বাক্য বলে। বাক্য ভাষার বৃহত্তম একক এবং এর সাহায্যেই আমরা মনের ভাবকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারি।
২. বাক্য নির্মাণের তিনটি শর্ত কী কী?
বাক্য নির্মাণের তিনটি অপরিহার্য শর্ত হল — যোগ্যতা, আকাঙ্ক্ষা এবং আসত্তি। এই তিনটি শর্ত পূরণ না হলে পদসমষ্টি সার্থক বাক্য হয়ে উঠতে পারে না।
৩. যোগ্যতা বলতে কী বোঝায়? উদাহরণ দাও।
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের পারস্পরিক অর্থগত ও ভাবগত সংগতিকে বলা হয় বাক্যের যোগ্যতা। কোনো পদসমষ্টি উচ্চারণের সময় ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে যদি কোনো অসংগতি না থাকে, তাহলে বাক্যের ওই সংগতিকেই যোগ্যতা বলা হয়। যেমন — ‘সূর্য পশ্চিম দিকে উদয় হয়’ — এই পদসমষ্টিতে কর্তা, কর্ম ও ক্রিয়া আছে কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংগতিহীন বলে এর যোগ্যতা নেই, ফলে এটি সার্থক বাক্য নয়।
৪. আকাঙ্ক্ষা কাকে বলে?
বাক্যে পরপর পদসমষ্টি উচ্চারিত হলে শ্রোতার মনে পরবর্তী পদ তথা সম্পূর্ণ বাক্যটি বিষয়ে জানবার যে প্রত্যাশা গড়ে ওঠে, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। পরিপূর্ণ অর্থগ্রহণের জন্য এক পদের পর অপর পদ শোনার যে আগ্রহ জন্মায়, তা-ই আকাঙ্ক্ষা।
যেমন — ‘সে বাগ নিয়ে স্কুলে …’ বললে শ্রোতার আকাঙ্ক্ষা অসম্পূর্ণ থাকে; ‘সে বাগ নিয়ে স্কুলে গেছে’ বললে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়।
৫. আসত্তি কী? উদাহরণসহ বোঝাও।
‘আসত্তি’ মানে নিকটে বা কাছাকাছি থাকার ভাব। বাক্যে ব্যবহৃত পরস্পর সম্বন্ধবিশিষ্ট পদগুলিকে যথাস্থানে ক্রম অনুযায়ী সাজানোই হল আসত্তি। পদগুলি যথাযথ পদক্রমে না বসলে অর্থ পরিষ্ফুট হয় না। যেমন — ‘খেয়ে সব ভাত সে নিল’ আসত্তিহীন; ‘সে সব ভাত খেয়ে নিল’ আসত্তিপূর্ণ।
৬. কোনো বাক্যে আসত্তির অভাব ঘটলে কী হয়?
কোনো বাক্যে যদি আসত্তির অভাব থাকে তাহলে বাক্যের মনোভাব বোঝার জন্য যে পদের পাশে যে পদ থাকার কথা তা সেখানে থাকে না। ফলে সেই পদসমষ্টি থেকে কোনো স্বচ্ছ ভাব প্রকাশ পায় না এবং বাক্যটি সার্থক হয়ে ওঠে না।
৭. কবিতার ক্ষেত্রে আসত্তির নিয়ম কি শিথিল হয়?
হ্যাঁ, কবিতার ভাষায় ছন্দ ও মিলের প্রয়োজনে আসত্তি অনেক সময়ই বিভিন্ন হতে পারে। কবিতার ক্ষেত্রে আসত্তিহীনতা গ্রহণযোগ্য। যেমন — ‘জীবনমৃত্যু করিয়া বহন, প্রাণ পাই যেন মরণে।’ — এই বাক্যে আসত্তির সাধারণ নিয়ম মানা হয়নি কিন্তু ছন্দের প্রয়োজনে তা গৃহীত।
✦ উদ্দেশ্য ও বিধেয়: দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ বাক্য

৮. উদ্দেশ্য কাকে বলে?
বাক্যের যে অংশ সম্পর্কে কিছু বলা হয় বা বাক্যের যে অংশে কারও সম্পর্কে কিছু বলা হয়, বাক্যের সেই অংশকে উদ্দেশ্য বলে। মূলত বাক্যে কর্তাই উদ্দেশ্য হয়। যেমন — পিকু ভাত খায় — এই বাক্যে ‘পিকু’ হল উদ্দেশ্য।
৯. বিধেয় কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশের মূল হল সমাপিকা ক্রিয়া। যেমন — ‘পিকু ভাত খায়’ বাক্যে ‘ভাত খায়’ অংশটি হল বিধেয়।
১০. সরল উদ্দেশ্য ও সম্প্রসারিত উদ্দেশ্যের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
উদ্দেশ্য যদি একটিমাত্র পদ দ্বারা গঠিত হয় তাহলে তাকে সরল উদ্দেশ্য বলে — যেমন ‘সুনীল ভালো লেখেন’। আর উদ্দেশ্য যদি একটিমাত্র পদ না হয়ে এক বা একাধিক বিশেষণ বা বিশেষণস্থানীয় পদ দ্বারা সম্প্রসারিত হয় তাহলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে — যেমন ‘বাঙালি কবি সুনীল ভালো লেখেন’।
১১. উদ্দেশ্য প্রসারক কাকে বলে?
উদ্দেশ্যকে সম্প্রসারিত করতে বাক্যে যে বাক্যাংশ যুক্ত করা হয়, তাকে উদ্দেশ্য প্রসারক বলে। যেমন — ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন’ — এখানে ‘বিশ্বকবি’ হল উদ্দেশ্য প্রসারক।
১২. বিধেয় প্রসারক কী?
বাক্যের ক্রিয়াপদের সঙ্গে কর্তাকারক ছাড়া অন্য কারক-সম্পর্কযুক্ত পদসমষ্টিকেই বিধেয় প্রসারক বলে। বাক্যের মূল বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে যদি কোনো বিশেষণ বা বাক্যাংশের দ্বারা সম্প্রসারিত করা হয় তাকে সম্প্রসারিত বিধেয় বলে এবং সেই সম্প্রসারণকারীকে বিধেয় প্রসারক বলা হয়।
১৩. বাংলা বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্বাভাবিক অবস্থান কোথায়?
বাংলা বাক্যে উদ্দেশ্য সাধারণত বিধেয়ের আগে বসে। তবে বিশেষ আবেগ প্রকাশ করার জন্য বা বাক্যের কোনো অংশে জোর দেওয়ার জন্য বা কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে উদ্দেশ্যটি বিধেয়ের পরেও বসতে পারে। যেমন — খাব নাকি আমি; আমার সঙ্গে এসো না তুমি।
✦ বিশেষ্যখণ্ড, ক্রিয়াখণ্ড, ক্রিয়াবিশেষণখণ্ড

১৪. বিশেষ্যখণ্ড কী? এতে কী কী থাকে?
বাক্যে যে পদ বা পদগুচ্ছ বিশেষ্যের অর্থকে প্রকাশ করে তাকে বিশেষ্যখণ্ড বলে। বিশেষ্যখণ্ডে বিশেষ্যপদ বা সর্বনামপদ থাকে। এছাড়া থাকে বিশেষণ, বিশেষণের বিশেষণ, সংযোজক ইত্যাদি পদ। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, বিশেষ্যখণ্ডে কোনো ক্রিয়া থাকে না।
১৫. ক্রিয়াখণ্ড কাকে বলে?
বাক্যে যে পদ বা পদখণ্ড ক্রিয়ার অর্থ প্রকাশ করে তাকে ক্রিয়াখণ্ড বলে। ক্রিয়াখণ্ডের প্রধান উপাদান হল সমাপিকা ক্রিয়া, যা অনেক ক্ষেত্রে উহ্যও থাকতে পারে। এছাড়া থাকে ক্রিয়াবিশেষণ, কালবাচক বিশেষণ, গৌণকর্ম, মুখ্যকর্ম ইত্যাদি।
১৬. ক্রিয়াবিশেষণখণ্ড কী?
বাক্যের মধ্যে থাকা যে অংশ বা খণ্ডটি বাক্যের মূল ক্রিয়াকে বিশেষিত করে ব্যাপ্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে ক্রিয়াবিশেষণখণ্ড বলে। এতে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে। যেমন — ‘আমরা যখন বাড়ির ভিতরে শুতে আসতাম, তখন মা চৌকাঠ পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে যেতেন’ — এখানে ‘আমরা যখন বাড়ির ভিতরে শুতে আসতাম’ অংশটি ক্রিয়াবিশেষণখণ্ড।
১৭. নিষ্ঠান্তগুচ্ছ কী?
গঠনগত কারণে ক্রিয়াগুচ্ছের যে অংশ ক্রিয়াপদের বিশেষণে পরিণত হয়, তাকে নিষ্ঠান্তগুচ্ছ বলে। যেমন — ‘হারিয়ে যাওয়া কালি কলম।’
✦ খণ্ডবাক্য বা উপবাক্য: class 10 Bengali grammar sentence
১৮. খণ্ডবাক্য বা উপবাক্য কাকে বলে?
বৃহৎ বাক্যের মধ্যে এক-একটি কর্তা ও সমাপিকা ক্রিয়া নিয়ে যে বাক্যাংশগুলি গড়ে ওঠে, তাদের বলা হয় খণ্ডবাক্য বা উপবাক্য। ইংরেজিতে যাকে Clause বলা হয়, বাংলায় সেটিই হল খণ্ডবাক্য।
১৯. স্বাধীন খণ্ডবাক্য ও অপ্রধান খণ্ডবাক্যের পার্থক্য কী?
স্বাধীন খণ্ডবাক্য বা নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যগুলি পরস্পর স্বাধীনভাবে অবস্থান করে এবং ভাব প্রকাশের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল নয় — যেমন ‘সে বাড়ি গেল এবং ভাত খেল।’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য বাক্যস্থিত অন্য খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভর করে ভাব প্রকাশ করে — যেমন ‘রেমেনবাবু জানেন না তাঁর ছেলে কোথায় গেছে’ — এখানে ‘তাঁর ছেলে কোথায় গেছে’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য।
২০. প্রধান খণ্ডবাক্য কী?
বাক্যস্থিত যে খণ্ডবাক্য তার ভাব স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে এবং অন্য কোনো খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে না, তাকে বলা হয় প্রধান খণ্ডবাক্য।
✦ গঠনগত শ্রেণিবিভাগ: WBBSE Bengali grammar sentence
২১. সরল বাক্য কাকে বলে? সরল বাক্যের গঠনগত বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
যে বাক্যে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। সরল বাক্যের গঠনগত বৈশিষ্ট্যগুলি হল —
১. একটিই সমাপিকা ক্রিয়া থাকবে।
২. সমাপিকা ক্রিয়া উহ্য থাকতে পারে।
৩. একটি বাক্যে দুটি বাক্য লুকিয়ে থাকতে পারে।
৪. একটি সমাপিকা ক্রিয়ার একাধিক কর্তা থাকতে পারে।
৫. একটি বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকতে পারে।
২২. জটিল বাক্য কাকে বলে? জটিল বাক্যের শ্রেণিবিভাগ করো।
যে বাক্যে একটি মাত্র প্রধান উপবাক্য বা খণ্ডবাক্য এবং এক বা একাধিক অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে তাকে জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্য তিন প্রকার —
বিশেষ্যবাচক জটিল বাক্য: অধীন খণ্ডবাক্যটি বিশেষ্যখণ্ড হিসেবে অবস্থান করে — যেমন ‘আমি জানি যে তুমি মিথ্যাবাদী নও।’
বিশেষণবাচক জটিল বাক্য: অধীন খণ্ডবাক্যটি বিশেষ্য পদকে বিশেষিত করে — যেমন ‘এমন কোনো মা নেই যে সন্তানকে স্নেহ করে না।’
ক্রিয়াবিশেষণবাচক জটিল বাক্য: অধীন খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন বাক্যের মূল ক্রিয়াকে বিশেষিত করে — যেমন ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’
২৩. যৌগিক বাক্য কাকে বলে? সংযোজক অব্যয় কয় শ্রেণির?
দুই বা ততোধিক নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্য অথবা সরল ও জটিল বাক্য যদি সংযোজক অব্যয় বা বিয়োজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করে তাহলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। সংযোজক অব্যয় প্রধানত তিন শ্রেণির — বিয়োজক (কিন্তু, অথচ), বৈকল্পিক (সুতরাং) এবং প্রাতিপাক্ষিক (তবু, কিন্তু)।
২৪. মিশ্র বাক্য কাকে বলে? মিশ্র বাক্যের গঠন কয় প্রকারের?
বিভিন্নজাতীয় বা সমজাতীয় সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের মধ্যে যে-কোনো দু-প্রকার বাক্য যুক্ত হয়ে মিশ্র আকারের বৃহত্তর কোনো জটিল বা যৌগিক বাক্য সৃষ্টি করলে তাকে বলা হয় মিশ্র বাক্য। মিশ্র বাক্যের গঠন অন্তত পাঁচ প্রকার — যৌগিক + সরল, সরল + জটিল, যৌগিক + জটিল, জটিল + জটিল, যৌগিক + যৌগিক।
✦ বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ: অর্থগত শ্রেণিবিভাগ

২৫. নির্দেশক বাক্য কাকে বলে? কয় প্রকার ও কী কী?
যে বাক্যে কোনো কিছু নির্দেশ করা বা বিবৃতি মাত্র বোঝানো হয় তাকে নির্দেশক বাক্য বলে। নির্দেশক বাক্য দুই প্রকার — ইতিবাচক নির্দেশক বাক্য (যেখানে কিছুর অস্তিত্ব ‘আছে’ অর্থ প্রকাশ পায়) এবং নেতিবাচক নির্দেশক বাক্য (যেখানে কিছুর নেই বা অনুপস্থিতি বোঝানো হয়)।
২৬. প্রশ্নবাচক বাক্য কয় প্রকার ও কীভাবে চেনা যায়?
প্রশ্নবাচক বাক্য দুই প্রকার — হ্যাঁ-না প্রশ্নবাচক বাক্য (উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হয়) এবং বস্তুগত প্রশ্নবাচক বাক্য (উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না, বরং এক বা একাধিক শব্দ বা বাক্যের প্রয়োজন হয়)। ‘কি’ থাকলে হ্যাঁ-না প্রশ্নবাচক; ‘কী’ থাকলে বস্তুগত প্রশ্নবাচক বাক্য বোঝা যায়।
২৭. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য কাকে বলে? বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞার পার্থক্য লেখো।
যে বাক্যে কোনো আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে। বর্তমান অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে ক্রিয়া বর্তমানকাল নির্দেশ করে — যেমন ‘এখনই চলে এসো’। ভবিষ্যৎ অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎকাল নির্দেশ করে — যেমন ‘তুমি কাল একবার আমাদের বাড়িতে এসো।’
২৮. প্রার্থনাসূচক বাক্য কাকে বলে?
যে বাক্যে বক্তার মনের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থনা বা কামনা প্রকাশিত হয় তাকে প্রার্থনাসূচক বা ইচ্ছাসূচক বাক্য বলে। প্রার্থনাসূচক বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া হয় অনুজ্ঞা ভাবসম্পন্ন। যেমন — ভগবান তোমার মঙ্গল করুন।
২৯. সন্দেহবাচক বাক্য কাকে বলে? চেনার উপায় কী?
যে বাক্যে বক্তার মনের কোনো সন্দেহ, সংশয় বা অনুমান প্রকাশিত হয় তাকে সন্দেহবাচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য বলে। ‘হয়তো’, ‘সম্ভবত’, ‘বুঝি’, ‘বোধহয়’, ‘হয়তো-বা’, ‘কী জানি হয়তো’, ‘নাকি’ ইত্যাদি শব্দ বা শব্দবন্ধের ব্যবহারে এই বাক্য চেনা যায়।
৩০. আবেগসূচক বাক্য ও সন্দেহবাচক বাক্যের পার্থক্য কী?
আবেগসূচক বাক্যে বক্তার মনের আনন্দ, শোক, ক্রোধ, ঘৃণা, বিস্ময়, উৎসাহ ইত্যাদি তীব্র আবেগ প্রকাশ পায় এবং বাক্যের শেষে বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) থাকে। সন্দেহবাচক বাক্যে বক্তার মনের সংশয় বা অনুমান প্রকাশ পায় এবং ‘হয়তো’, ‘বোধহয়’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়।
৩১. শর্তসাপেক্ষ বাক্য কাকে বলে?
যে বাক্যে একটি ঘটনা বা অবস্থার উপর অন্য একটি ঘটনা বা অবস্থার নির্ভরশীলতা ব্যক্ত হয়, তখন সেই বাক্যটিকে বলা হয় শর্তসাপেক্ষ বাক্য। এতে একটি কাজের কারণ, শর্ত, নিয়ম, স্বীকৃতি ইত্যাদি অর্থও প্রকাশিত হয়। যেমন — যদি পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়, এ বছর ফসল ভালো হবেই।
✦ বাক্যের রূপান্তর — গঠনগত: সরল জটিল যৌগিক মিশ্র বাক্য

৩২. সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি লেখো।
সরল বাক্যের অন্তর্গত কোনো পদ বা পদসমষ্টিকে সম্প্রসারিত করে একটি অধীন খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়। এই দুটি খণ্ডবাক্যকে নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় (যেমন-তেমন, যত-তত) বা অন্য কোনো অব্যয় অথবা সাপেক্ষ সর্বনাম (যদি-তবে, যিনি-তিনি, যার-তার) দিয়ে যুক্ত করতে হয়।
উদাহরণ:
সরল: তারপর সকালে গেলাম পুলিশে খবর দিতে।
জটিল: তারপর যখন সকাল হল তখন গেলাম পুলিশে খবর দিতে।
৩৩. জটিল থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম লেখো।
জটিল বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তিনটি নিয়ম মানতে হয় — (১) প্রধান খণ্ডবাক্যের সমাপিকা ক্রিয়া অপরিবর্তিত রেখেও অপ্রধান খণ্ডবাক্যের ক্রিয়াকে সরলবাক্যে অসমাপিকা ক্রিয়ায় পরিণত করতে হয়, (২) অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে সংকুচিত করে একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়াসম্পন্ন বাক্যে পরিণত করতে হয়, (৩) সাপেক্ষ শব্দজোড় বা সংযোগবাচক অব্যয় বিলুপ্ত করতে হয়।
৩৪. সরল থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি কী?
সরল বাক্যের কোনো পদ বা পদসমষ্টিকে সম্প্রসারিত করে একটি স্বাধীন বা নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যে পরিণত করতে হয়। এরপর কোনো সংযোজক অব্যয়ের দ্বারা মূল বাক্যের সঙ্গে ওই বাক্যটিকে সংযুক্ত করতে হয়।
৩৫. যৌগিক থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি লেখো।
যৌগিক থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতি মানতে হয় — (১) বাক্যের অন্তর্গত অপ্রধান খণ্ডবাক্যকে নিরপেক্ষ খণ্ডবাক্যে রূপান্তরিত করতে হয়, (২) সংযোজক অব্যয় দ্বারা দুটি স্বাধীন বাক্যকে যুক্ত করতে হয়, (৩) সাপেক্ষ শব্দজোড়, নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় লোপ পায়।
৩৬. জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম কী?
জটিল বাক্য থেকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তরের ক্ষেত্রে নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয়গুলিকে বাদ দিতে হয় এবং জটিল বাক্যের অধীন খণ্ডবাক্যটি স্বাধীন সরলবাক্যে পরিণত হয়। তারপর দুটি স্বাধীন বাক্যকে অর্থ অনুযায়ী সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত করতে হয়।
উদাহরণ:
জটিল: যদিও তিনি ধনী তবুও তাঁর এতটুকু অহংকার নেই।
যৌগিক: তিনি ধনী কিন্তু তাঁর এতটুকু অহংকার নেই।
✦ বাক্যের রূপান্তর — অর্থগত :দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ বাক্য
৩৭. নির্দেশক থেকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি লেখো।
নির্দেশক বাক্যকে প্রশ্নবাচক বাক্যে রূপান্তরিত করতে — (১) বাক্যের মধ্যে ‘কি’, ‘কী’, ‘কে’, ‘কোথায়’ ইত্যাদি প্রশ্নবাচক অব্যয় ব্যবহার করতে হয়, (২) ইতিবাচক বাক্য হলে নেতিবাচক উপসর্গ এবং নেতিবাচক হলে হ্যাঁ-বাচক উপসর্গ যোগ করতে হয়, (৩) বাক্যের শেষে প্রশ্নচিহ্ন (?) যুক্ত করতে হয়।
উদাহরণ:
নির্দেশক: তুমি কেঁদো না।
প্রশ্নবাচক: তুমি কাঁদছ কেন?
৩৮. প্রশ্নবাচক থেকে নির্দেশক বাক্যে রূপান্তর কীভাবে করতে হয়?
প্রশ্নবাচক থেকে নির্দেশক বাক্যে রূপান্তরিত করতে প্রশ্নবাচক চিহ্ন (?) তুলে দিতে হবে। প্রশ্নবাচক বাক্যটি না-বাচক হলে নির্দেশক বাক্য হ্যাঁ-বাচক হবে এবং হ্যাঁ-বাচক হলে নির্দেশক বাক্য না-বাচক হবে। তারপর বাক্যের শেষে পূর্ণচ্ছেদ (।) বসবে।
৩৯. অস্ত্যর্থক বাক্যকে নাস্ত্যর্থক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি লেখো।
অস্ত্যর্থক বাক্যকে নাস্ত্যর্থক বাক্যে রূপান্তর করতে — (১) না, নয়, নি, নেই — এই না-বাচক শব্দগুলি প্রয়োগ করে বাক্য গঠন করতে হয়, (২) কখনো-কখনো হ্যাঁ-বাচক বাক্যের বিপরীতার্থক শব্দ ব্যবহার করতে হয়, (৩) প্রয়োজনে বাক্যের সামান্য পরিবর্তন করা যেতে পারে।
উদাহরণ:
অস্ত্যর্থক: সব মানুষই মরণশীল।
নাস্ত্যর্থক: কোনো মানুষই অমর নয়।
৪০. নির্দেশক বাক্যকে আবেগসূচক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি কী?
নির্দেশক বাক্যকে আবেগসূচক বাক্যে রূপান্তরিত করতে — (১) নির্দেশক বাক্যের সঙ্গে অর্থ অনুযায়ী ইস, কী, কেমন, ভারি, বটে ইত্যাদি আবেগসূচক অব্যয় যোগ করতে হয়, প্রয়োজনমতো বাক্যের পদক্রমেরও পরিবর্তন করা যেতে পারে, (২) বাক্যের শেষে বিস্ময়সূচক চিহ্ন (!) দিতে হয়।
উদাহরণ:
নির্দেশক: আমটি খুব মিষ্টি।
আবেগসূচক: কী মিষ্টি আম! / কী মিষ্টিই না আমটি!
৪১. অনুজ্ঞাসূচক বাক্যকে নির্দেশক বাক্যে কীভাবে রূপান্তরিত করা যায়?
অনুজ্ঞাসূচক বাক্যকে নির্দেশক বাক্যে রূপান্তরিত করতে — (১) আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ প্রভৃতি অনুজ্ঞার ভাব সরাসরি উল্লেখ করতে হয়, (২) অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়াটিকে অসমাপিকা ক্রিয়া বা ক্রিয়াজাত বিশেষ্য বা বিশেষণ পদে পরিণত করতে হয়।
উদাহরণ:
অনুজ্ঞাসূচক: তুমি তাড়াতাড়ি স্কুলে যাও।
নির্দেশক: তোমাকে তাড়াতাড়ি স্কুলে যেতে বলছি।
৪২. নির্দেশক বাক্য থেকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি লেখো।
নির্দেশক বাক্যে আদেশ, অনুরোধ প্রভৃতি শব্দ উহ্য রেখে ভাবের মাধ্যমে বক্তব্য বোঝানো হয়। রূপান্তরে সাধারণত কর্তুবাচক শব্দের প্রাধান্য থাকে। যেমন —
নির্দেশক: দরজাটা খুলুন।
অনুজ্ঞাসূচক: দরজাটা খুলতে অনুরোধ করছি।
৪৩. সন্দেহবাচক বাক্যকে নির্দেশক বাক্যে রূপান্তরের পদ্ধতি কী?
সন্দেহবাচক বাক্যকে নির্দেশক বাক্যে রূপান্তরিত করতে নির্দেশক বাক্যে ‘বোধহয়’, ‘হয়তো’, ‘যেন’, ‘বুঝি’ প্রভৃতি শব্দের বিলুপ্তি ঘটাতে হয়।
উদাহরণ:
সন্দেহবাচক: মেঘের আড়ালে সূর্য বোধহয় উঁকি মারছে।
নির্দেশক: মেঘের আড়ালে সূর্য উঁকি মারছে।
✦ মাধ্যমিক বাংলা বাক্য: বাক্যের রূপান্তরের অনুশীলন — উদাহরণভিত্তিক
৪৪. নিচের বাক্যগুলির গঠনগত শ্রেণি নির্ণয় করো।
| বাক্য | গঠনগত শ্রেণি |
|---|---|
| যাহা পর ছিল তাহা আপন হইয়াছে। | জটিল বাক্য |
| ভক্ত দাস, বিজ্ঞতম তুমি। | সরল বাক্য |
| প্রযোজনের ওজনমতো আয়োজন যে করতে পারে। | জটিল বাক্য |
| বীরৎসৎ ও জড়পদার্থ উভয়ের ওপরই দূষিত বায়ুর প্রভাব পড়ে। | সরল বাক্য |
| নাবিকরা এই পরামর্শে সম্মত হল এবং সেইমতো আচরণ করতে লাগল। | যৌগিক বাক্য |
| ছিঃ, এমন কথা বলতে নেই! | আবেগসূচক বাক্য |
| তোরা বুঝি কাল চলে যাবি? | সন্দেহবাচক বাক্য |
৪৫. নিচের বাক্যগুলিকে নির্দেশ অনুযায়ী রূপান্তরিত করো।
যেহেতু ধনঞ্জয় হালের মালিক, তাই পরিশ্রম করে কম। (যৌগিক বাক্যে)
→ ধনঞ্জয় হালের মালিক, তবু পরিশ্রম করে কম।
বড়ো অদ্ভুত ব্যাপার! (না-বাচক বাক্যে)
→ এ ব্যাপারটা মোটেও অদ্ভুত নয়।
লাল শাড়িতে মেয়েটিকে খুব মানিয়েছে। (আবেগসূচক বাক্যে)
→ কী সুন্দর লাল শাড়িতে মেয়েটিকে মানিয়েছে!
এখন গেলে তার দেখা পাবে না। (প্রশ্নবাচক বাক্যে)
→ এখন গেলে কি তার দেখা পাওয়া যাবে?
বাপেও কাঁদে, মেয়েও কাঁদে। (সরল বাক্যে)
→ বাপ-মেয়ে একসঙ্গে কাঁদছে।
সাবধানে না চললে এই অবস্থা তোমারও হতে পারে। (যৌগিক বাক্যে)
→ সাবধানে চলো, নইলে এই অবস্থা তোমারও হবে।
তুমি কেন অকারণে ওকে কষ্ট দাও? (অনুজ্ঞাসূচক বাক্যে)
→ অকারণে ওকে কষ্ট দিও না।
বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
উপরের আলোচনায় আমরা আলোচনা করেছি বাক্য দশম শ্রেণি, বাংলা ব্যাকরণ বাক্য, মাধ্যমিক বাংলা বাক্য, বাক্যের সংজ্ঞা ও শর্ত, সরল জটিল যৌগিক মিশ্র বাক্য, বাক্যের রূপান্তর, উদ্দেশ্য ও বিধেয়, বিশেষ্যখণ্ড ক্রিয়াখণ্ড, অর্থগত শ্রেণিবিভাগ বাক্য, নির্দেশক প্রশ্নবাচক অনুজ্ঞাসূচক বাক্য, যোগ্যতা আকাঙ্ক্ষা আসত্তি, class 10 Bengali grammar sentence, madhyamik bakyo, WBBSE Bengali grammar sentence, বাংলা ব্যাকরণ MCQ বাক্য। আশা করি তোমাদের অনেক উপকারে লেগেছে।
- বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। … - বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — … - মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা … - নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা … - বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, … - অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কবি পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর: সারসংক্ষেপ জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ একটি যুগসচেতন ও মানবতাবাদী কবিতা। তিনটি অসমান স্তবকে — পাঁচ, ছয় ও সাত পঙক্তিতে — কবি এঁকেছেন হিংসার বিরুদ্ধে গানের এক অনন্য বিদ্রোহ। কবিতায় … - অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর, লেখক পরিচিতি ও সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন একসাথে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সেরা প্রস্তুতি। লেখক পরিচিতি পান্নালাল প্যাটেল (১৯১২–১৯৮৯) গুজরাতি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম। রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে মাণ্ডু গ্রামে তাঁর জন্ম হলেও তাঁর সারা জীবনের লেখালেখি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের কথা, গ্রামীণ জীবনের ছোট ছোট … - সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা। তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় … - পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
লেখক-পরিচিতি রবীন্দ্র সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড়ো হওয়া শরৎচন্দ্র ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন অনেক বছর এবং দীর্ঘকাল বর্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) ছিলেন। সেই বর্মণীয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ‘কুন্তলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় ‘মন্দির’ নামে গল্প পাঠিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন — এটাই …