বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ

বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ
বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — শুধু ক্রিয়ার ভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাক্যের মধ্যে কর্তা, কর্ম বা ক্রিয়া — এদের মধ্যে কোনটি মুখ্য ভূমিকায় থেকে ক্রিয়ার প্রকাশভঙ্গি নির্ধারণ করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তৈরি হয় বাচ্য। সহজ করে বললে, বাক্যমধ্যস্থ সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা অথবা কর্মের সম্বন্ধ প্রকাশ করতে গিয়ে বাক্যগত প্রকাশভঙ্গিমার যে রূপভেদ দেখা যায়, তাকেই বাচ্য বলে। ইংরেজিতে একে Voice বলা হয়।
বাংলায় সাধারণত চার ধরনের বাচ্য দেখা যায়: কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য এবং কর্মকর্তৃবাচ্য।
কর্তৃবাচ্য (Active Voice): যে বাক্যে কর্তাভাবের প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়া কর্তার পুরুষ ও কালের অনুসারে গঠিত হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। যেমন — আমরা নিয়মিত খেলা করি। এই বাচ্যে কর্তাই প্রধান, ক্রিয়া তার অনুগামী, সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সক্রিয় সম্বন্ধ থাকে, এবং কর্তায় সাধারণত শূন্যবিভক্তি যুক্ত হয়।
কর্মবাচ্য (Passive Voice): যে বাক্যে কর্মভাবের প্রাধান্য থাকে এবং ক্রিয়া কর্মের পুরুষ অনুসারে গঠিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন — আমাদের দ্বারা নিয়মিত খেলা করা হয়। এই বাচ্যে কর্তার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি (র, এর) বা অনুসর্গ (দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক) যুক্ত হয়। শুধু সকর্মক ক্রিয়ার কর্মবাচ্য হয়।
ভাববাচ্য (Impersonal Voice): যে বাক্যে ক্রিয়াভাবের প্রাধান্য থাকে — অর্থাৎ ক্রিয়ার ভাবই প্রধান হয়ে ওঠে এবং কর্তার প্রাধান্য থাকে না — তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন — তোমার কী করা হচ্ছে? এই বাচ্যে ক্রিয়াটি অকর্তৃক, সাধারণত যৌগিক ক্রিয়া হয়, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কর্মহীন।
কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার উল্লেখ না থাকলে কর্মই কর্তুপদ অধিকার করে আসে বলে মনে হয়, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন — গাড়ি চলে, ঘন্টা বাজে, শঙ্খ বাজে। এই বাচ্যে ক্রিয়াপদ সবসময় সকর্মক, ক্রিয়ার রূপ কর্তৃবাচ্যের প্রথম পুরুষের মতো হয়, এবং কর্তুপদ অনুপস্থিত থাকে।
বাচ্য পরিবর্তন: এক বাচ্যের বাক্যকে অন্য বাচ্যে রূপান্তরিত করাকে বাচ্য পরিবর্তন বলে। বাংলায় চার ধরনের বাচ্য পরিবর্তন হয়: ক) কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য, খ) কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য, গ) কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য, এবং ঘ) ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্য। কর্মবাচ্য ও ভাববাচ্যের পারস্পরিক পরিবর্তন হয় না, এবং কর্ম-কর্তৃবাচ্যের বাচ্যান্তরও হয় না।
আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীরা মনে করেন বাংলায় প্রকৃত কর্মবাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য নেই। প্রচলিত ব্যাকরণে যাকে কর্মবাচ্য বলা হয়, তা আসলে কখনো কর্তৃবাচ্য কখনো ভাববাচ্যের রূপভেদমাত্র। বিকল্প শ্রেণিবিভাগ অনুসারে বাচ্য মূলত দুই প্রকার: কর্তাবাচ্য ও ভাববাচ্য।
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ)

১. বাচ্য শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী? ক) বলা খ) বচন গ) কথনীয় ঘ) বাচনস্পৃহা ✅ উত্তর: ঘ) বাচনস্পৃহা
‘বাচ্য’ শব্দটি √বচ্ + য প্রত্যয় যোগে গঠিত। এর অর্থ হলো বাচনস্পৃহা বা বলার যোগ্য।
২. বাচ্য হলো বাক্যের কোন ক্রিয়ার প্রকাশভঙ্গিমার বিশেষ রূপ? ক) অসমাপিকা খ) সমাপিকা গ) সকর্মক ঘ) সমাপিকা ও অসমাপিকা উভয় ✅ উত্তর: খ) সমাপিকা
বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়ার প্রকাশভঙ্গিমার বিভিন্ন রূপ থেকেই বাচ্যের সৃষ্টি হয়।
৩. “তোমার গল্প আমি ছাপিয়ে দেব” — বাক্যটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? ক) কর্তৃবাচ্য খ) কর্মবাচ্য গ) কর্মকর্তৃবাচ্য ঘ) ভাববাচ্য ✅ উত্তর: ক) কর্তৃবাচ্য
এই বাক্যে ‘আমি’ কর্তা এবং ‘ছাপিয়ে দেব’ ক্রিয়া কর্তার অনুগামী। কর্তাভাব প্রধান বলে এটি কর্তৃবাচ্য।
৪. কর্মপ্রধান বাক্যকে কী বলে? ক) কর্মবাচ্য খ) কর্তৃবাচ্য গ) কর্মকর্তৃবাচ্য ঘ) ভাববাচ্য ✅ উত্তর: ক) কর্মবাচ্য
৫. কোন বাচ্যে ক্রিয়ার অর্থ প্রাধান্য পায়? ক) ভাববাচ্য খ) কর্মবাচ্য গ) কর্তৃবাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: ক) ভাববাচ্য
ভাববাচ্যে ক্রিয়ার ভাবই প্রধান হয়ে ওঠে — কর্তার নয়, কর্মের নয়।
৬. বাচ্যান্তরের বাক্যের অর্থ কেমন থাকে? ক) পরিবর্তিত হয় খ) পরিবর্তিত হয় না গ) উন্নত হয় ঘ) অবনত হয় ✅ উত্তর: খ) পরিবর্তিত হয় না
বাচ্য পরিবর্তনে বাক্যের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে, শুধু প্রকাশভঙ্গির পরিবর্তন হয়।
৭. কর্মবাচ্যে কর্তারূপী কর্মের বিভক্তি কোনটি? ক) ‘র’ বিভক্তি খ) ‘য়’ বিভক্তি গ) ‘শূন্য’ বিভক্তি ঘ) ‘এ’ বিভক্তি ✅ উত্তর: ক) ‘র’ বিভক্তি
কর্মবাচ্যে কর্তার সঙ্গে ‘র’/’এর’ বিভক্তি যুক্ত হয় অথবা ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ অনুসর্গ বসে।
৮. বাচ্য পরিবর্তনে বাক্যে কী পরিবর্তিত হয়? ক) কর্তা, কর্ম, ক্রিয়া খ) কর্তা, ক্রিয়া গ) কর্ম, ক্রিয়া ঘ) শুধু ক্রিয়া ✅ উত্তর: খ) কর্তা, ক্রিয়া
বাচ্য পরিবর্তনে ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তনের সঙ্গে বাক্যের কর্তা ও কর্মের বিভক্তিরও পরিবর্তন ঘটে।
৯. কর্তৃবাচ্যে ‘সে’ ভাববাচ্যে কী হবে? ক) তিনি খ) তারা গ) তার ঘ) তাদের ✅ উত্তর: গ) তার
কর্তৃবাচ্যে ‘সে’ থাকলে ভাববাচ্যে সম্বন্ধ পদরূপে ‘তার’ বসে।
১০. যে বাক্যে কর্ম কর্তা রূপে প্রতীয়মান হয়, তাকে বলে — ক) কর্মবাচ্য খ) কর্তৃবাচ্য গ) ভাববাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
কর্মকর্তৃবাচ্যে কর্তার উল্লেখ থাকে না, কর্মই কর্তুপদের স্থান দখল করে।
১১. কর্মবাচ্যের কর্তাকে বলে — ক) অনুক্ত কর্তা খ) উত্ত কর্তা গ) উহ্য কর্তা ঘ) প্রযোজক কর্তা ✅ উত্তর: গ) উহ্য কর্তা
কর্মবাচ্যে কর্তা সরাসরি উচ্চারিত না হলেও অনুমান করা যায়, তাই তাকে উহ্য কর্তা বলে।
১২. “তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয়।” — এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? ক) কর্তৃবাচ্য খ) ভাববাচ্য গ) কর্মবাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: খ) ভাববাচ্য
এই বাক্যে কর্তার পরিচয় স্পষ্ট নয়, ক্রিয়ার ভাব প্রধান — তাই ভাববাচ্য।
১৩. বিকল্প শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী ভাববাচ্য কত প্রকার? ক) দ্বিবিধ খ) ত্রিবিধ গ) চতুর্বিধ ঘ) পঞ্চবিধ ✅ উত্তর: খ) ত্রিবিধ
বিকল্প শ্রেণিবিভাগে ভাববাচ্য তিন প্রকার — সম্বন্ধ-কর্তাবাচক, গৌণকর্ম-কর্তাবাচক এবং লুপ্ত-কর্তাবাচক ভাববাচ্য।
১৪. ক্রিয়া বিশেষ্য রূপ গ্রহণ করে না কোন বাচ্যে? ক) কর্তৃবাচ্যে খ) কর্মবাচ্যে গ) ভাববাচ্যে ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে ✅ উত্তর: গ) ভাববাচ্যে
ভাববাচ্যে ক্রিয়াপদ সাধারণত যৌগিক ক্রিয়া হয়, তাই ক্রিয়া বিশেষ্যরূপ গ্রহণ করে না।
১৫. “চল বাড়ি যাওয়া যাক।” — উদাহরণটি কোন ধরনের ভাববাচ্যের? ক) সকর্মক ভাববাচ্যের খ) দ্বিকর্মক ভাববাচ্যের গ) সম্ভাবনাসূচক ভাববাচ্যের ঘ) লুপ্ত-কর্তাবাচক ভাববাচ্যের ✅ উত্তর: গ) সম্ভাবনাসূচক ভাববাচ্যের
“যাওয়া যাক” — এই রকম সম্ভাবনাসূচক প্রয়োগ সম্ভাবনাসূচক ভাববাচ্যের বৈশিষ্ট্য।
১৬. “এখানে এ কথা বলা চলে না।” — এটি কোন ধরনের ভাববাচ্য? ক) সম্বন্ধ-কর্তাবাচক খ) লুপ্ত-কর্তাবাচক গ) গৌণকর্ম-কর্তাবাচক ঘ) কোনোটিই নয় ✅ উত্তর: খ) লুপ্ত-কর্তাবাচক
এই বাক্যে কর্তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত — “চলে না” ক্রিয়াটি কোনো নির্দিষ্ট কর্তা ছাড়াই ব্যবহৃত।
১৭. “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই।” — এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? ক) কর্তৃবাচ্য খ) ভাববাচ্য গ) কর্মবাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: খ) ভাববাচ্য
‘দেখা হয় নাই’ — ক্রিয়াটি যৌগিক এবং ক্রিয়ার ভাব প্রধান, তাই এটি ভাববাচ্য।
১৮. ঘটিত কর্তাবাচ্য পূর্বতন কোন বাচ্য থেকে তৈরি হয়? ক) কর্তৃবাচ্য খ) কর্মবাচ্য গ) ভাববাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য নয়, এটি কর্তৃবাচ্যের উপবিভাগ।
ঘটিত কর্তাবাচ্যে বাক্যের কর্মপদ কর্তার ভূমিকা নিয়ে ক্রিয়ার সঙ্গে অন্বিত হয়।
১৯. “জ্বর নিল ফাউন্টেন পেন।” — এটি কোন বাচ্যের দৃষ্টান্ত? ক) কর্মবাচ্য খ) কর্মকর্তৃবাচ্য গ) ভাববাচ্য ঘ) কর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: ঘ) কর্তৃবাচ্য
এই বাক্যে ‘জ্বর’ কর্তা এবং ‘নিল’ ক্রিয়া কর্তার অনুগামী — তাই কর্তৃবাচ্য।
২০. “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।” — এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? ক) কর্তৃবাচ্য খ) কর্মবাচ্য গ) ভাববাচ্য ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য ✅ উত্তর: ক) কর্তৃবাচ্য
‘বধূরা’ কর্তা, ‘তুলে ধর’ ক্রিয়া কর্তার অনুসারী।
২১. কর্তৃবাচ্যে প্রাধান্য পায় — ক) কর্ম খ) কর্তা গ) ক্রিয়া ঘ) কর্তা ও কর্ম ✅ উত্তর: খ) কর্তা
২২. কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া সকর্মক হলে তার পরিবর্তিত রূপকে বলে — ক) কর্মবাচ্য খ) ভাববাচ্য গ) কর্মকর্তৃবাচ্য ঘ) কর্ম-ভাববাচ্য ✅ উত্তর: ক) কর্মবাচ্য
২৩. কর্মবাচ্যে ক্রিয়া হয় — ক) কর্তার অনুসারী খ) কর্মের অনুসারী গ) কর্ম-কর্তার অনুসারী ঘ) ক্রিয়ার অনুসারী ✅ উত্তর: খ) কর্মের অনুসারী
২৪. কোন বাচ্যে ক্রিয়া অকর্মক হয়? ক) কর্মবাচ্যে খ) কর্তৃবাচ্যে গ) ভাববাচ্যে ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্যে ✅ উত্তর: গ) ভাববাচ্যে
২৫. বাচ্যে ক্রিয়াপদ সরাসরি কর্তার অনুসারী হলে তাকে বলে — ক) ঘটক কর্তা খ) ঘটিত কর্তা গ) কর্মকর্তৃবাচ্যের কর্তা ঘ) কোনোটিই নয় ✅ উত্তর: ক) ঘটক কর্তা (সম্পাদক কর্তাবাচ্য)
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. বাচ্য কাকে বলে? বাক্যমধ্যস্থ সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তা অথবা কর্মের সম্বন্ধ প্রকাশ করতে গিয়ে বাক্যগত প্রকাশভঙ্গিমার যে রূপভেদ দেখা যায়, তাকে বাচ্য বলে।
২. ‘বাচ্য’ শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্দেশ করো। বাচ্য = √বচ্ + য (প্রত্যয়)। শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘বাচনস্পৃহা’ বা ‘বলার যোগ্য’। ইংরেজিতে একে Voice বলা হয়।
৩. প্রচলিত ব্যাকরণে বাচ্যকে কী কী শ্রেণিতে ভাগ করা হয়? প্রচলিত ব্যাকরণে বাচ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় — কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য।
৪. কর্তৃবাচ্যের ‘বাচ্য’ বৈশিষ্ট্য কী? কর্তৃবাচ্যে এই বাচ্যে কর্তাই প্রধান, ক্রিয়া কর্তার অনুগামী হয়। সমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে কর্তার সক্রিয় সম্বন্ধ থাকে। কর্তায় শূন্যবিভক্তি যুক্ত হয় এবং কর্তার পুরুষ ও ক্রিয়ার কাল অনুযায়ী ক্রিয়ারূপ পরিবর্তিত হয়।
৫. কর্মবাচ্য কাকে বলে? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও। বাক্যে কর্মভাবের প্রাধান্য থাকলে এবং ক্রিয়াপদ কর্মের পুরুষ অনুসারে গঠিত হলে তাকে কর্মবাচ্য বলে। যেমন — “আমার দ্বারা অলোককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।” এখানে ‘আমার দ্বারা’ কর্তা, ‘অলোককে’ কর্ম এবং ক্রিয়া কর্মের পুরুষ অনুসারী।
৬. কর্তৃবাচ্য ও কর্মবাচ্যের একটি পার্থক্য লেখো। কর্তৃবাচ্যে কর্তা প্রধান এবং ক্রিয়া কর্তার পুরুষ ও কালের অনুসারে গঠিত হয়। কর্মবাচ্যে কর্ম প্রধান এবং ক্রিয়া কর্মের পুরুষ অনুসারে গঠিত হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় শূন্যবিভক্তি থাকে, কর্মবাচ্যে কর্তার সঙ্গে ‘র’/’এর’ বিভক্তি বা ‘দ্বারা’, ‘কর্তৃক’ অনুসর্গ যুক্ত হয়।
৭. কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে? যে বাক্যে কর্তার উল্লেখ থাকে না কিন্তু কর্মই কর্তুপদের স্থান অধিকার করে আসে বলে মনে হয়, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। যেমন — “ভাত খাওয়া হয়েছে।” এখানে ‘ভাত’ কর্তুপদ হিসেবে বিবেচিত।
৮. ভাববাচ্য কাকে বলে? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও। বাক্যে ক্রিয়াভাবের প্রাধান্য থাকলে এবং কর্তা ও কর্মের কোনোটিরই প্রাধান্য না থাকলে তাকে ভাববাচ্য বলে। যেমন — “আপনার কোথায় যাওয়া হচ্ছে?” এখানে ‘যাওয়া’ ক্রিয়ার ভাব প্রধান, কর্তা ‘আপনি’ সম্বন্ধ পদে পরিণত হয়েছে।
৯. বাংলা ভাষায় ভাববাচ্য প্রয়োগের অন্যতম কারণ কী? ক্রিয়ার মধ্যপুরুষের ব্যবহার না করা। বাংলায় মধ্যপুরুষের ‘আপনি’, ‘তুমি’, ‘তুই’ ব্যবহারের সমস্যা এড়াতে ভাববাচ্য প্রায়ই ব্যবহৃত হয়।
১০. বিকল্প ধারায় বাচ্য কত প্রকার ও কী কী? বিকল্প ধারায় বাচ্য দুই প্রকার — কর্তাবাচ্য এবং ভাববাচ্য। কর্তাবাচ্য আবার দুটি উপবিভাগে বিভক্ত: সম্পাদক-কর্তা কর্তাবাচ্য ও অসম্পাদক-কর্তা কর্তাবাচ্য। ভাববাচ্য তিন প্রকার: কর্তাহীন, সম্বন্ধ-কর্তা ও গৌণকর্ম-কর্তা ভাববাচ্য।
১১. একটি কর্মবাচ্যের বাক্যে উদাহরণ দিয়ে কর্মপদটি চিহ্নিত করো। “শর্মিষ্ঠার দ্বারা বই পড়া হচ্ছে।” — এই কর্মবাচ্যে ‘বই’ কর্মপদ। ক্রিয়া ‘পড়া হচ্ছে’ বইয়ের (কর্মের) পুরুষ অনুসারে গঠিত।
১২. আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে বাংলায় কী কী শ্রেণিতে বাচ্যের প্রধান শ্রেণিকরণ করা হয়? আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে বাংলায় বাচ্য দুই প্রকার: কর্তাবাচ্য ও ভাববাচ্য। প্রচলিত কর্মবাচ্য আসলে কর্তাবাচ্য বা ভাববাচ্যের রূপভেদ এবং কর্মকর্তৃবাচ্য কর্তাবাচ্যেরই একটি রূপ।
১৩. কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য পরিবর্তনের অন্তত একটি পদ্ধতি উল্লেখ করো। কর্তৃবাচ্যের কর্তার সঙ্গে ‘র’/’এর’ বিভক্তি যুক্ত হয় এবং ক্রিয়ার ধাতুর সঙ্গে ‘আ’ বা ‘আনো’ বা ‘তে’ প্রত্যয় যুক্ত করে যৌগিক ক্রিয়ার অসমাপিকা অংশটি গঠিত হয়। যেমন: কর্তৃবাচ্য — “ওরা কাজ করে।” → ভাববাচ্য — “ওদের কাজ করা হয়।”
১৪. একটি পূর্ববাক্যের সাহায্যে কর্মকর্তৃবাচ্যের দৃষ্টান্ত দাও। “দিন কেটে যায়।” এই বাক্যে ‘দিন’ কর্মপদ কিন্তু কর্তার মতো আচরণ করছে। কর্তার উল্লেখ নেই, ‘দিন’ নিজেই কর্তুপদের স্থান নিয়েছে — তাই এটি কর্মকর্তৃবাচ্য।
১৫. অসম্পাদক-কর্তা কর্তাবাচ্য বলতে কী বোঝ? যে কর্তাবাচ্যের কর্তা নিজে ক্রিয়া সম্পাদন না করলেও ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অসম্পাদক-কর্তা কর্তাবাচ্য বলে। যেমন — “শাঁখ বাজে।” এখানে শাঁখ নিজে বাজাতে পারে না, কেউ না-কেউ বাজায়, কিন্তু শাঁখই কর্তা।
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. বাচ্যের শ্রেণিবিভাগ করো এবং প্রতিটির সংজ্ঞা উদাহরণসহ লেখো।
বাংলায় প্রচলিত ব্যাকরণ অনুযায়ী বাচ্য চার প্রকার:
ক) কর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তাভাব প্রধান থাকে এবং ক্রিয়া কর্তার পুরুষ ও কালের অনুসারে গঠিত হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। এই বাচ্যে কর্তাই প্রধান, ক্রিয়া তার অনুগামী। উদাহরণ: শর্মিষ্ঠা বই পড়ছে। / রাম বই পড়ছিল।
খ) কর্মবাচ্য: যে বাক্যে কর্মভাব প্রধান এবং ক্রিয়াপদ কর্মের পুরুষ অনুসারে গঠিত হয়, তাকে কর্মবাচ্য বলে। কর্তার সঙ্গে ‘র’/’এর’ বিভক্তি বা ‘দ্বারা’, ‘কর্তৃক’ অনুসর্গ যুক্ত হয়। উদাহরণ: শর্মিষ্ঠার দ্বারা বই পড়া হচ্ছে। / মায়ের দ্বারা রামকে ভাত দেওয়া হচ্ছে।
গ) ভাববাচ্য: যে বাক্যে ক্রিয়ার ভাব প্রধান হয়ে ওঠে এবং কর্তা ও কর্মের কোনোটিরই প্রাধান্য থাকে না, তাকে ভাববাচ্য বলে। ক্রিয়াটি অকর্তৃক এবং সাধারণত যৌগিক। উদাহরণ: আপনার কোথায় যাওয়া হচ্ছে? / তোমার গান-গাওয়া হল?
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য: যে বাক্যে কর্তার উল্লেখ নেই কিন্তু কর্মই কর্তুপদের স্থান নেয় বলে মনে হয়, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্য বলে। ক্রিয়াপদ সর্বদা সকর্মক এবং ক্রিয়ার রূপ কর্তৃবাচ্যের প্রথম পুরুষের মতো হয়। উদাহরণ: দিন কেটে যায়। / সভা ভেঙে গেছে। / ট্রেন চলছে।
২. কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়মগুলো উদাহরণসহ লেখো।
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তনের চারটি প্রধান পদ্ধতি:
১ম পদ্ধতি: কর্তৃবাচ্যের কর্তাকে ‘র’/’এর’ বিভক্তিযুক্ত করতে হয় এবং প্রায়শই ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ অনুসর্গ বসে। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আমি অলোককে চিঠি দিয়েছি। → কর্মবাচ্য — আমার দ্বারা অলোককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
২য় পদ্ধতি: কর্তৃবাচ্যে একটি কর্ম থাকলে তা বিভক্তিশূন্য হয়ে বাক্যের উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আমি আলোককে দেকেছি। → কর্মবাচ্য — আলোক আমার দ্বারা ডাক পেয়েছে।
৩য় পদ্ধতি: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে গৌণকর্মে ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত থাকে। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আমি তাঁকে বইটি দিয়েছি। → কর্মবাচ্য — আমার দ্বারা তাঁকে বইটি দেওয়া হয়েছে।
৪র্থ পদ্ধতি: ক্রিয়ার ধাতুর সঙ্গে ‘আ’ বা ‘আনো’ বা ‘তে’ প্রত্যয় যুক্ত করে কর্মবাচ্যের যৌগিক ক্রিয়ার অসমাপিকা অংশটি তৈরি হয়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আমি দোকান থেকে সন্দেশ এনেছি। → কর্মবাচ্য — আমার দ্বারা দোকান থেকে সন্দেশ আনা হয়েছে।
৩. কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য পরিবর্তনের নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য পরিবর্তনের চারটি পদ্ধতি:
১ম পদ্ধতি: কর্তৃবাচ্যের কর্তার সঙ্গে ‘র’/’এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — ওরা কাজ করে। → ভাববাচ্য — ওদের কাজ করা হয়।
২য় পদ্ধতি: কর্তৃবাচ্যের কর্ম ভাববাচ্যে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আমি স্কুলে যাব না। → ভাববাচ্য — আমার স্কুলে যাওয়া হবে না।
৩য় পদ্ধতি: ক্রিয়ার ধাতুর সঙ্গে ‘আ’ বা ‘আনো’ বা ‘তে’ প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচ্যের যৌগিক ক্রিয়ার অসমাপিকা অংশ তৈরি হয়। সকর্মক কর্তৃবাচ্যকে ভাববাচ্যে পরিণত করার জন্য ‘হ’ ধাতুর বদলে ‘যা’, ‘আছ’ বা ‘পড়’ ধাতু ব্যবহার করা হয়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — চোর ধরেছি। → ভাববাচ্য — চোর ধরা পড়েছে।
৪র্থ পদ্ধতি: ক্রিয়াটিকে সংযোগমূলক সমাপিকা ক্রিয়াতে পরিণত করা হয়। দৃষ্টান্ত: কর্তৃবাচ্য — আজ স্কুলে যাব না। → ভাববাচ্য — আজ স্কুলে যাওয়া হবে না।
৪. কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।
কর্মবাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তনের তিনটি পদ্ধতি:
১ম পদ্ধতি: কর্মবাচ্যের কর্মরূপী কর্তার বিভক্তি ও অনুসর্গ তুলে দিতে হয়। দৃষ্টান্ত: কর্মবাচ্য — তোমার দ্বারা এ কাজ হবে না। → কর্তৃবাচ্য — তুমি এ কাজ পারবে না।
২য় পদ্ধতি: কর্মবাচ্যের যৌগিক ক্রিয়ার সমাপিকা অংশটি লুপ্ত হয়; অসমাপিকা ক্রিয়ার ধাতুটির সঙ্গে কর্তার পুরুষ ও বচন বিভক্তি যুক্ত করে তৈরি হয় কর্তৃবাচ্যের একপদী ক্রিয়া। দৃষ্টান্ত: কর্মবাচ্য — ছাত্রীদের দ্বারা নাটকটি অভিনীত হয়েছে। → কর্তৃবাচ্য — ছাত্রীরা নাটকটি অভিনয় করেছে।
৩য় পদ্ধতি: কর্মবাচ্যের যুক্তক্রিয়ার প্রথম পদ প্রত্যয়হীন হয় এবং সঙ্গে বসে কর্তার উপযোগী সমাপিকা ক্রিয়া। দৃষ্টান্ত: কর্মবাচ্য — সে এখনও বইটি পড়া হয়নি। → কর্তৃবাচ্য — সে এখনও বইটি পড়েনি।
৫. ভাববাচ্য থেকে কর্তৃবাচ্যে পরিবর্তনের নিয়ম উদাহরণসহ লেখো।
১ম পদ্ধতি: ভাববাচ্যের কর্তার থেকে বিভক্তির লোপ ঘটাতে হয়। দৃষ্টান্ত: ভাববাচ্য — আমার এখনও খাওয়া হয়নি। → কর্তৃবাচ্য — আমি এখনও খাইনি।
২য় পদ্ধতি: ভাববাচ্যের ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকে পৃথক করতে হয়। দৃষ্টান্ত: ভাববাচ্য — আমার বাড়ি যাওয়া হল না। → কর্তৃবাচ্য — আমি বাড়ি যাইনি।
৩য় পদ্ধতি: কর্মবাচ্যের মতোই ভাববাচ্যের যৌগিক ক্রিয়ার সমাপিকা অংশটি কর্তৃবাচ্যে লুপ্ত হয়। দৃষ্টান্ত: ভাববাচ্য — সুনীলবাবুর দার্জিলিং ঘোরা আছে। → কর্তৃবাচ্য — সুনীলবাবু দার্জিলিং ঘুরেছেন।
৪র্থ পদ্ধতি: ভাববাচ্যের যুক্তক্রিয়ার প্রথম পদ প্রত্যয়হীন হয় এবং সঙ্গে বসে কর্তার উপযোগী সমাপিকা ক্রিয়া। দৃষ্টান্ত: ভাববাচ্য — প্রকৃতির কাছ থেকে মানুষ অনেক উপকৃত হয়েছে। → কর্তৃবাচ্য — প্রকৃতি মানুষের অনেক উপকার করেছে।
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: নির্ণয়মূলক প্রশ্নোত্তর
নীচের বাক্যগুলির কর্তা ও বাচ্যের শ্রেণি নির্দেশ করো:
| বাক্য | কর্তা | বাচ্যের শ্রেণি |
|---|---|---|
| আমার সুযোগ হয়েছিল। | ‘আমার’ (সম্বন্ধ পদ) | ভাববাচ্য |
| আপনাকে কি আর কোথাও যেতে হবে? | ‘আপনাকে’ (গৌণকর্ম) | গৌণকর্ম-কর্তা ভাববাচ্য |
| তাদের মধ্যে আর তোমার থাকা চলবে না। | ‘তোমার’ (সম্বন্ধ পদ) | ভাববাচ্য |
| জীব কেবল বাইরের প্রবাহ দ্বারাই পরিচালিত হয় না। | ‘জীব’ (উহ্য কর্তা) | কর্মবাচ্য |
| কাশীদাসী মহাভারতখানা সুর করিয়া পড়িত। | ‘কাশীদাসী’ | কর্তৃবাচ্য |
নির্দেশ অনুযায়ী বাচ্য পরিবর্তন করো:

১. সর্দারজি ঠেঁপু বাজাতে আরম্ভ করলেন। (ভাববাচ্যে) → সর্দারজির ঠেঁপু বাজানো আরম্ভ হল।
২. সেইদিন ডাক্তারের দেখা শেষ হইল। (কর্তৃবাচ্যে) → সেইদিন তিনি ডাক্তারকে দেখলেন (শেষবার)।
৩. রামসুন্দর তাহা জানিতেন। (কর্মবাচ্যে) → রামসুন্দরের দ্বারা তাহা জানা ছিল।
৪. তাদের চুপ করে থাকার প্রচুর কারণ ছিল। (কর্তৃবাচ্যে) → তারা চুপ করে থাকত, তার প্রচুর কারণ ছিল।
৫. চোরটাকে পুলিশ ধরেছে। (কর্মবাচ্যে) → পুলিশের দ্বারা চোরটা ধৃত হয়েছে।
৬. তুমি থাকবে। (ভাববাচ্যে) → তোমার থাকা হবে।
৭. ইতিহাসে তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। (কর্তৃবাচ্যে) → ইতিহাস তার কোনো প্রমাণ রাখেনি।
৮. মহারাজ এই দণ্ড মঞ্জুর করুন। (ভাববাচ্যে) → মহারাজের দ্বারা এই দণ্ড মঞ্জুর হোক।
৯. মৃত্যুর পরে তোমার হাতে শৃঙ্খল পরিবে। (কর্মবাচ্যে) → মৃত্যুর পরে তোমার হাতে তোমার দ্বারা শৃঙ্খল পরানো হবে।
১০. আমার সঙ্গে এসো। (ভাববাচ্যে) → আমার সঙ্গে আসা হোক।
উপরের আলোচনায় আমরা বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ, bachy class 10 bangla, কর্তৃবাচ্য কর্মবাচ্য ভাববাচ্য, বাচ্য পরিবর্তন নিয়ম, WBBSE বাংলা ব্যাকরণ, দশম শ্রেণী বাংলা প্রশ্নোত্তর, বাচ্য MCQ উত্তর, কর্মকর্তৃবাচ্য কাকে বলে, বাচ্যের শ্রেণিবিভাগ, বাচ্য পরিবর্তনের নিয়ম, class 10 Bengali grammar voice এই সব কিছুই কভার করেছি , এই বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ প্রশ্ন উত্তর গুলি আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ভাল করে অভ্যাস করতে হবে, তার সাথে টেস্ট পেপার প্র্যাক্টিস করতে হবে ।
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
- বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — … - মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা … - নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা … - বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, … - অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কবি পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর: সারসংক্ষেপ জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ একটি যুগসচেতন ও মানবতাবাদী কবিতা। তিনটি অসমান স্তবকে — পাঁচ, ছয় ও সাত পঙক্তিতে — কবি এঁকেছেন হিংসার বিরুদ্ধে গানের এক অনন্য বিদ্রোহ। কবিতায় … - অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর, লেখক পরিচিতি ও সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন একসাথে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সেরা প্রস্তুতি। লেখক পরিচিতি পান্নালাল প্যাটেল (১৯১২–১৯৮৯) গুজরাতি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম। রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে মাণ্ডু গ্রামে তাঁর জন্ম হলেও তাঁর সারা জীবনের লেখালেখি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের কথা, গ্রামীণ জীবনের ছোট ছোট … - সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা। তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় … - পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
লেখক-পরিচিতি রবীন্দ্র সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড়ো হওয়া শরৎচন্দ্র ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন অনেক বছর এবং দীর্ঘকাল বর্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) ছিলেন। সেই বর্মণীয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ‘কুন্তলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় ‘মন্দির’ নামে গল্প পাঠিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন — এটাই … - প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি লেটো দলে গান লিখে ও গেয়ে সাহিত্যজীবনের সূচনা করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাঁর লেখালেখিকে …