কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Grammar

কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বিষয়ে সম্পূর্ণ নোটস, সারসংক্ষেপ, MCQ এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক।

Table of Contents

অধ্যায় সারসংক্ষেপ: কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি

কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি
বাংলা কারক-বিভক্তি

বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কারক। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকেই বলা হয় কারক সম্পর্ক। সহজ করে বললে — ক্রিয়াটি কে করছে, কী করছে, কীভাবে করছে, কার জন্য করছে, কোথা থেকে করছে, কখন বা কোথায় করছে — এই প্রশ্নগুলোর উত্তর থেকে বিভিন্ন কারক চেনা যায়।

বাংলায় মোট ছটি কারক স্বীকৃত: কর্তৃকারক, কর্মকারক, করণকারক, নিমিত্তকারক, অপাদানকারক এবং অধিকরণকারক

কারক সম্পর্ক নির্ধারণে দুটি উপকরণ মূল ভূমিকা পালন করে — বিভক্তি এবং অনুসর্গ। বিভক্তি হল সেই ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ যা শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নামপদ বা ক্রিয়াপদ গঠন করে। বাংলায় কারক-বিভক্তির সংখ্যা পাঁচটি — শূন্য, এ, কে, রে এবং তে। এছাড়া বিভক্তির রূপান্তর হিসেবে যে, য, এতে প্রভৃতি ব্যবহার হয়। অনুসর্গ হল সেইসব অব্যয় পদ যারা বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে শব্দ-বিভক্তির কাজ করে — যেমন দিয়ে, থেকে, জন্য, দ্বারা, কাছে, মধ্যে প্রভৃতি।

নির্দেশক হল সেইসব শব্দ বা বর্ণ যারা বিশেষ্য বা বিশেষণের পরে যুক্ত হয়ে সংখ্যা বা নির্দিষ্টতা বোঝায় — টি, টা, খানা, গুলো ইত্যাদি।

কারক সম্পর্ক ছাড়াও বাক্যে এমন কিছু নামপদ থাকে যাদের সঙ্গে ক্রিয়ার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই — তাদের বলা হয় অকারক পদ। অকারক পদ দুই প্রকার: সম্বন্ধপদ (যেটি অন্য নামপদের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত) এবং সম্বোধন পদ (যে পদের দ্বারা কাউকে ডাকা হয়)।

বিভক্তি ও অনুসর্গ অনুযায়ী কারককে তিন ভাগে ভাগ করা যায় — বিভক্তিপ্রধান কারক (কর্তৃ, কর্ম, অধিকরণ, সম্বন্ধ), অনুসর্গপ্রধান কারক (করণ, অপাদান, নিমিত্ত) এবং বিভক্তি ও অনুসর্গ উভয়েই যেসব কারক চিহ্নিত হয়।


প্রশ্নোত্তর

✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন (MCQ ধরনের ব্যাখ্যাসহ)

অপাদান কারকের শ্রেণিবিভাগ
অপাদান কারকের শ্রেণিবিভাগ

১. কারক কাকে বলে?
বাক্যের অন্তর্গত ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকে কারক সম্পর্ক এবং সেই নামপদকে কারক বলে। বাক্যে ক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্নগুলো করা হয় — কে, কী, কীভাবে, কার জন্য, কোথা থেকে, কখন — তার উত্তর থেকে কারক নির্ণয় করা হয়।

২. বাংলায় কারক-বিভক্তির সংখ্যা কত এবং কী কী?
বাংলায় কারক-বিভক্তির সংখ্যা পাঁচটি — শূন্য (অ), এ (য়), কে, রে এবং তে। এর মধ্যে ‘এ’ বিভক্তির প্রসারণ হল ‘য়’ এবং ‘তে’ বিভক্তির প্রসারণ হল ‘এতে’।

৩. বিভক্তি কী? বিভক্তির মূল কাজ কী?
যে ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ শব্দ ও ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে নামপদ ও ক্রিয়াপদ গঠন করে, তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তির মূল কাজ হল শব্দ বা ধাতুকে পদে পরিণত করা, বাক্যে পদের কারক সম্পাদন করা এবং পদের সংখ্যা বিষয়ে ধারণা দেওয়া।

৪. মৌলিক বিভক্তি বলতে কী বোঝায়?
যে সকল বিভক্তি পদের অংশরূপে থাকে এবং পদের বাইরে যাদের কোনো স্বাধীন অস্তিত্ব বা অর্থ নেই, তাদের মৌলিক বা যথার্থ বিভক্তি বলে। কর্তৃকারকের বিভক্তি শূন্য ও এ (য়, য); কর্ম ও নিমিত্তকারকের এ (য়, য), তে, কে, রে; করণ ও অধিকরণের এ (য়, য), তে (এতে); সম্বন্ধপদের র, এর — এগুলি মৌলিক বিভক্তি।

৫. তির্যক বিভক্তি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
যে বিভক্তি একাধিক কারকে ব্যবহৃত হয়ে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদকে তির্যকভাবে অন্বিত করে, তাকে তির্যক বিভক্তি বলে। ‘এ’ বিভক্তি তির্যক বিভক্তির উৎকৃষ্ট উদাহরণ। যেমন — পাগলে কিনা বলে (কর্তৃ), আগুনে পুড়ে গেল (করণ), দুধে দই হয় (অপাদান)।

৬. শূন্যবিভক্তি কী? উদাহরণ দাও।
শব্দে যে বিভক্তি যুক্ত হয়ে বাক্যস্থ শব্দটিকে পদে উন্নীত করে অথচ নিজে অপ্রকাশিত বা অদৃশ্য অবস্থায় থাকে, তাকে শূন্যবিভক্তি বলে। যেমন — শ্যাম স্কুলে যায়; কবিতা পড়; বই (বই + শূন্যবিভক্তি) পড়।

৭. ‘বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত পদ’ বলতে কী বোঝায়?
বিভক্তি-স্থানীয় যে সকল পদ ভাষায় পৃথক অবস্থানে দেখা যায়, যাদের স্বাধীন অর্থ ও ব্যবহার আছে কিন্তু নামপদের পরে অবস্থান করে ক্রিয়াপদের সঙ্গে তার অন্বয় স্থাপন করে — তাদের বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত পদ বলে। এগুলিকে অনুসর্গও বলা হয়। যেমন — কলম দিয়া লিখ; কীসের তরে দীর্ঘশ্বাস।

৮. অনুসর্গ কাকে বলে?
যেসব অব্যয় বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে ভিন্নভাবে বসে শব্দ-বিভক্তির কাজ করে এবং কারক সম্পর্ক বোঝাতে সাহায্য করে, তাদের অনুসর্গ বলে। যেমন — ছাদ থেকে নেমে এসো; বিপদে বন্ধু পাশে থেকো।

৯. অনুসর্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো।
অনুসর্গ কখনোই বিভক্তির মতো শব্দের সঙ্গে মিশে যায় না — সে সর্বদা পৃথক শব্দ হিসেবে শব্দের পরে বসে। এটি অনুসর্গের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

১০. বিভক্তি ও অনুসর্গের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।

বিভক্তিঅনুসর্গ
শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একাত্ম হয়ে যায়পদের পরে পৃথক শব্দ হিসেবে বসে
বিভক্তির নিজস্ব কোনো অর্থ নেইঅনুসর্গের নিজস্ব অর্থ আছে
বিভক্তি সব সময় শব্দের পরে বসেঅনুসর্গ মূলত পরে বসলেও কখনো আগেও বসে
একটি শব্দে একটি বিভক্তি যুক্ত হলেই কারক-সম্পর্ক সুনির্দিষ্ট হয়অনুসর্গের ক্ষেত্রে কিছু সময় পূর্বপদে বিভক্তিও যুক্ত হতে হয়

১১. নির্দেশক কাকে বলে? কয় ধরনের নির্দেশক আছে?
যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুবাচক পদের অন্তে যুক্ত হয়ে তার সংখ্যা অর্থাৎ সে একবচন না বহুবচন তা নির্ধারণ করে, তাকে নির্দেশক বলে। একবচনে টি, টা, খানা, খানি; বহুবচনে গুলো, গুলি, গুলা ব্যবহৃত হয়।

১২. ‘টি’ ও ‘টা’ নির্দেশকের মধ্যে পার্থক্য কী?
‘টি’ সাধারণত সম্মান, আদর বা স্নেহ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয় — যেমন ছেলেটি খুব মেধাবী। ‘টা’ অবজ্ঞা বা তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত হয় — যেমন ছেলেটা আজ চুরি করেছে। তবে অনেক সময় উভয় একই অর্থে ব্যবহৃত হয়।

১৩. অকারক পদ কাকে বলে? কয় প্রকার?
বাক্যের মধ্যে যেসব নামপদ থাকে কিন্তু ক্রিয়াপদের সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, বরং অন্য কোনো নামপদের সঙ্গে সম্পর্ক আছে — তাদের অকারক পদ বলে। অকারক পদ দুই প্রকার — সম্বন্ধপদ এবং সম্বোধন পদ।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: কর্তৃকারক

বিভিন্ন প্রকারের কর্তা
বিভিন্ন প্রকারের কর্তা

১৪. কর্তৃকারক কাকে বলে?
বাক্যে যে ব্যক্তি বা বস্তু ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে কর্তা বলে এবং সেই কর্তার সঙ্গে ক্রিয়াপদের যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকে কর্তৃকারক বলে। সমাপিকা ক্রিয়াকে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্তৃকারক পাওয়া যায়।

১৫. কর্তৃকারকে কোন কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হয়?
কর্তৃকারকে শূন্য, কে, র, এর, তে, এ (য়), য — এই বিভক্তিগুলি ব্যবহৃত হয়। যেমন — সূর্য অস্তে গেল (শূন্য); তোমাকে একটু এদিকে আসতে হবে (কে); বুলবুলিতে ধান খেয়েছে (তে)।

১৬. প্রযোজক কর্তা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
বাক্যে কর্তা যখন নিজে কাজটি না করে অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে। যেমন — মা শিশুকে ভাত খাওয়াচ্ছেন; শিক্ষক ছাত্রটিকে রচনা লেখাচ্ছেন — এই বাক্য দুটিতে ‘মা’ ও ‘শিক্ষক’ প্রযোজক কর্তা।

১৭. প্রযোজ্য কর্তা কী? উদাহরণ দাও।
প্রযোজক কর্তা যাকে দিয়ে কাজটি করিয়ে নেয়, সেই ব্যক্তি বা বস্তুকে প্রযোজ্য কর্তা বা প্রকৃত কর্তা বলে। যেমন — মা শিশুকে ভাত খাওয়াচ্ছেন — এখানে ‘শিশু’ প্রযোজ্য কর্তা। শিক্ষক ছাত্রটিকে রচনা লেখাচ্ছেন — এখানে ‘ছাত্র’ প্রযোজ্য কর্তা।

১৮. সমধাতুজ কর্তা কী?
বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, সেই একই ধাতু থেকে উৎপন্ন কোনো বিশেষ্য পদ যদি ওই ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে কাজ করে, তাহলে সেই কর্তাকে সমধাতুজ কর্তা বলে। যেমন — লেখক বইটি লেখেন; আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি।

১৯. নিরপেক্ষ কর্তা কাকে বলে?
একটি বাক্যে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার আলাদা আলাদা কর্তা থাকলে অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তাকে নিরপেক্ষ কর্তা বলে। যেমন — তুমি এলে আমি যাব; পুলিশ এলে আমি এ স্থান ত্যাগ করব — এখানে ‘তুমি’ ও ‘পুলিশ’ নিরপেক্ষ কর্তা।

২০. উহ্য কর্তা কী?
বাক্যে কর্তা উহ্য বা অনুপস্থিত থাকলেও ক্রিয়াপদের রূপ অনুসারে সেই কর্তাকে অনুমান করা যায়, তাকে উহ্য কর্তা বলে। যেমন — সবার নজর এড়িয়ে কখন যে চলে গেল! — এখানে ‘তুমি’ বা ‘সে’ উহ্য কর্তা।

২১. ব্যতিহার কর্তা কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।
বাক্যে যে ক্রিয়া দুই বা ততোধিক কর্তা পরস্পর একে অন্যের বিরোধিতা করে বা পরস্পরের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে সম্পন্ন করে, সেই ক্রিয়ার কর্তাদের ব্যতিহার কর্তা বলে। যেমন — রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়; সাপে-বেজিতে লড়াই লেগেছে।

২২. সহযোগী কর্তা ও ব্যতিহার কর্তার পার্থক্য কী?
সহযোগী কর্তারা পরস্পরকে সহযোগিতা করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে — যেমন বাবা-মা একসঙ্গে বাজার করেছেন। ব্যতিহার কর্তারা একে অন্যের বিরোধিতা বা প্রতিযোগিতা করে ক্রিয়া সম্পন্ন করে — যেমন রাজায়-রাজায় যুদ্ধ হয়।

২৩. কর্মকর্তৃবাচের কর্তা কী?
বাক্যে ক্রিয়ার কর্তার উল্লেখ না থাকায় কর্ম যখন কর্তার মতো আচরণ করে ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেই কর্মকে কর্মকর্তৃবাচের কর্তা বলে। এটিকে স্বাধীন বা স্বতন্ত্র কর্তাও বলা হয়। যেমন — গাড়ি চলে; বাজনা বাজে।

২৪. আলংকারিক কর্তা কাকে বলে?
বাক্যে কোনো অচেতন বস্তুতে চেতনা আরোপ করলে সেটি অনেক সময় ক্রিয়া সম্পাদন করে বাক্যের কর্তা হয়ে উঠতে পারে — এই ধরনের কর্তাকে আলংকারিক কর্তা বলে। যেমন — আকাশ আমায় শিক্ষা দিল; মুক্তবেণি পিঠের পরে লোটে।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: কর্মকারক

বাংলা অনুসর্গ তালিকা
বাংলা অনুসর্গ তালিকা

২৫. কর্মকারক কাকে বলে?
বাক্যের কর্তা যা করে বা যাকে আশ্রয় করে কর্তা কোনো কাজ বা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়াপদকে ‘কী’ বা ‘কাকে’ বা ‘কাদের’ দিয়ে প্রশ্ন করলে কর্মকারকের কর্মপদ পাওয়া যায়।

২৬. মুখ্য কর্ম ও গৌণ কর্মের পার্থক্য লেখো।
কোনো বাক্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে অপ্রাণীবাচক কর্মটিকে মুখ্য কর্ম এবং প্রাণীবাচক কর্মটিকে গৌণ কর্ম বলে। মুখ্য কর্ম শনাক্ত করতে ক্রিয়াকে ‘কী’ দিয়ে প্রশ্ন করতে হয়, গৌণ কর্ম শনাক্ত করতে ‘কাকে’ বা ‘কাদের’ দিয়ে প্রশ্ন করতে হয়। যেমন — স্যার মনোজকে ব্যাকরণ পড়ান — এখানে ‘ব্যাকরণ’ মুখ্য কর্ম ও ‘মনোজ’ গৌণ কর্ম।

২৭. উদ্দেশ্য কর্ম ও বিধেয় কর্মের পার্থক্য কী?
কিছু ক্রিয়ার কর্মের পরিপূরক হিসেবে অন্য পদ ব্যবহার করতে হয়। এই পরিপূরক পদটিকে বিধেয় কর্ম এবং প্রধান কর্মটিকে উদ্দেশ্য কর্ম বলে। উদ্দেশ্য কর্ম বিভক্তিযুক্ত হয়ে বাক্যের প্রথমে বসে, বিধেয় কর্ম বিভক্তিহীন হয়ে পরে বসে। যেমন — নিবারণ দড়িকে সাপ মনে করল — ‘দড়িকে’ উদ্দেশ্য কর্ম, ‘সাপ’ বিধেয় কর্ম।

২৮. সমধাতুজ কর্ম কাকে বলে?
বাক্যে ক্রিয়াটি যে ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, সেই ধাতু থেকেই বাক্যের কর্মপদটি সৃষ্টি হলে তাকে সমধাতুজ কর্ম বলে। যেমন — একবার চোখের দেখা দ্যাখো; কত গান হল তো গাওয়া

২৯. উহ্য কর্ম কাকে বলে?
বাক্যে সকর্মক ক্রিয়ার কর্ম উহ্য থাকলে সেই কর্মকে উহ্য কর্ম বলে। যেমন — আমি লিখছি (লেখার বিষয়বস্তু উহ্য); তিনি তখনও খেতে বসেননি (খাদ্যবস্তু উহ্য)।

৩০. কর্মে বীপ্সা কী?
বাক্যে কোনো কর্মপদটির পুনরাবৃত্তি ঘটলে কর্মে বীপ্সা ঘটে। যেমন — কী কী নেবে আগে বলো; জনে জনে ডেকে গেলি।

৩১. বাক্যাংশ কর্ম কী? উদাহরণ দাও।
সমাপিকা ক্রিয়াবিহীন কোনো বাক্যাংশ কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হলে তাকে বাক্যাংশ কর্ম বলে। যেমন — থেমে থেমে কথা বলা আমি পছন্দ করি না; আমি সুমনকে পাড়া দিয়ে যেতে দেখলাম।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: করণকারক

সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদের পার্থক্য
সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদের পার্থক্য

৩২. করণকারক কাকে বলে?
বাক্যে কর্তা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদন করে তাকে করণ পদ এবং সেই পদের সঙ্গে ক্রিয়ার সম্পর্ককে করণকারক বলে। ক্রিয়াপদকে ‘কার দ্বারা’, ‘কার সাহায্যে’, ‘কীসে’, ‘কীসের দ্বারা’, ‘কী দিয়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে করণকারক পাওয়া যায়।

৩৩. যন্ত্রাত্মক করণ ও উপায়াত্মক করণের পার্থক্য লেখো।
যন্ত্রাত্মক করণ বা সাধন করণে ক্রিয়া সম্পাদনের পার্থিব ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপকরণ বোঝানো হয় — যেমন কুড়ুল দিয়ে কাঠ কাটে। উপায়াত্মক করণে ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় বাস্তব তথা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় — যেমন ব্যায়ামে শরীর ভালো হয়।

৩৪. হেতুময় করণ কাকে বলে?
যে করণ সম্পর্কে হেতু বা কারণ অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে হেতুময় করণ বলে। যেমন — যন্ত্রণায় শরীর অবশ হয়ে গেল; ফুলের গন্ধে ঘর ভরে উঠেছে।

৩৫. বীণাসূচক করণ কী?
যুগপৎ ব্যাপ্তি অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে করণকারকের পদটির পুনরাবৃত্তি হলে তাকে করণে বীপ্সা বলে। যেমন — মেঘে মেঘে বেলা হল; ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে।’

৩৬. সমধাতুজ করণ কাকে বলে?
বাক্যের ক্রিয়া ও করণকারক একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হলে সেই বাক্যের করণকারককে সমধাতুজ করণ বলে। যেমন — মায়ার বাঁধনে বেঁধেছে তাকে; তার দেহখানি জরায় জীর্ণ।

৩৭. করণকারকে অনুসর্গের ব্যবহার দেখাও।
করণকারকে দ্বারা, দিয়ে, করে, হতে, কর্তৃক — এই অনুসর্গগুলি ব্যবহৃত হয়। যেমন — তোমার দ্বারা একাজ নাই বা হল; গোরুটাকে দড়ি দিয়ে বাঁধো; পুলিশ তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেল।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: নিমিত্তকারক

৩৮. নিমিত্তকারক কাকে বলে?
বাক্যে যার কারণে, প্রয়োজনে বা উদ্দেশ্যে কর্তার ক্রিয়ার কাজ নিষ্পন্ন হয়, তাকে নিমিত্তকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কী জন্যে’, ‘কীসের জন্য’, ‘কার তরে’, ‘কাদের তরে’ — এই প্রশ্নগুলি করলে নিমিত্তকারক পাওয়া যায়।

৩৯. নিমিত্তকারকে বিভক্তির চেয়ে অনুসর্গের ব্যবহার বেশি কেন?
নিমিত্তকারক মূলত অনুসর্গপ্রধান কারক। ‘জন্য’, ‘তরে’, ‘লাগিয়া’ (লাগি), ‘নিমিত্ত’, ‘উদ্দেশে’, ‘কারণে’, ‘হেতু’ ইত্যাদি অনুসর্গই এই কারক প্রকাশে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বিভক্তি দিয়ে নিমিত্ত অর্থ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না বলেই অনুসর্গের ওপর নির্ভরতা বেশি।

৪০. নিমিত্তকারক ও গৌণকর্মের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য কী?
সাদৃশ্য: উভয় কারকেই ‘কে’ বিভক্তি যুক্ত হয়। বৈসাদৃশ্য: গৌণকর্ম শুধু সকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়, কিন্তু সকর্মক-অকর্মক নির্বিশেষে সকল ক্রিয়ারই নিমিত্তকারক হতে পারে।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: অপাদানকারক

৪১. অপাদানকারক কাকে বলে?
যা থেকে কোনো কিছুর বিচ্ছেদ ঘটে, উৎপন্ন হওয়া, স্খলন, নির্গমন, পতন, নিঃসরণ, গ্রহণ, অপসারণ ইত্যাদি বোঝায়, তাকে অপাদান পদ বা অপাদানকারক বলে। ক্রিয়াকে ‘কোথা থেকে’, ‘কী থেকে’, ‘কীসের থেকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে অপাদানকারক পাওয়া যায়।

৪২. স্থানবাচক ও কালবাচক অপাদানের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
স্থানবাচক বা আধারবাচক অপাদান স্থান বা আধার নির্দেশ করে — যেমন টাকাটা পকেট থেকে পড়ে গেছে; গাছ থেকে আমটা পাড়ো। কালবাচক অপাদান কাল বা সময় নির্দেশ করে — যেমন সেই সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে; দীনবাবু রোববার থেকে অসুস্থ।

৪৩. তারতম্যবাচক অপাদান কী? উদাহরণ দাও।
বাক্যে দুই বা তার বেশি বস্তু, ব্যক্তি বা ভাবের মধ্যে ‘চেয়ে’, ‘অপেক্ষা’, ‘থেকে’ ইত্যাদি অনুসর্গের সাহায্যে তুলনা করা বোঝালে তারতম্যবাচক অপাদান হয়। যেমন — রাজু অপেক্ষা নীতু ভালো নাচে; অপমানের চেয়ে মৃত্যুও ভালো।

৪৪. ভীতিসূচক অপাদান কী?
অপাদান পদটি যখন ভীতির উৎসকে নির্দেশ করে তখন তাকে ভীতিসূচক অপাদান বলে। যেমন — তোমার এত ভূতের ভয় কেন?

৪৫. অবস্থানবাচক অপাদান কী?
কর্তা যখন কোনো স্থানে অবস্থান করে কর্ম সম্পাদন করে, তখন সেই অপাদান পদটিকে অবস্থানবাচক অপাদান বলে। যেমন — সে জাহাজ থেকে দূরবিন দিয়ে দেখছে।

৪৬. অপাদানে ‘চেয়ে’ অনুসর্গের প্রয়োগ দেখাও।
তারতম্যবাচক অপাদান প্রকাশে ‘চেয়ে’ অনুসর্গটি বহুল ব্যবহৃত। যেমন — তোমার চেয়ে রামু অনেক ভীতু; স্বর্গের চেয়ে জন্মভূমির গৌরব অনেক বেশি।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: অধিকরণকারক

৪৭. অধিকরণকারক কাকে বলে?
বাক্যে ক্রিয়ার আধার বা আশ্রয়স্বরূপ যে স্থান, সময়, বিষয় বা ভাব থাকে, তাকে অধিকরণকারক বলে। ক্রিয়াপদকে ‘কখন’, ‘কোথায়’, ‘কোন্ বিষয়ে’, ‘কীসে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে অধিকরণকারকের উত্তর পাওয়া যায়।

৪৮. স্থানাধিকরণ ও কালাধিকরণের পার্থক্য উদাহরণসহ লেখো।
স্থানাধিকরণে ক্রিয়া যে স্থানে সম্পাদিত হয় সেই স্থান বোঝানো হয় — যেমন বনে থাকে বাঘ; টাকাটা রাস্তায় পড়ে গেছে। কালাধিকরণে যে কালে বা সময়ে ক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয় সেই কাল বোঝানো হয় — যেমন আগামীকাল বিকেলে তোমাদের ওখানে যাব।

৪৯. বিষয়াধিকরণ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
প্রধানত বিষয়কে অবলম্বন করে ক্রিয়া সংঘটিত হলে, সেই অধিকরণ কারককে বিষয়াধিকরণ বলে। যেমন — পড়াশোনায় মন দাও; তর্করত্বমশাই ন্যায়শাস্ত্রে পণ্ডিত।

৫০. ভাবাধিকরণ কী? উদাহরণ দাও।
ভাববাচক বিশেষ্য পদ যখন অধিকরণ কারকে পরিণত হয় তখন তাকে ভাবাধিকরণ বলে। যেমন — হাসিতে মন ভালো থাকে; সূর্যোদয়ে সকল অন্ধকার দূরীভূত হয়।

৫১. অধিকরণে বীপ্সা কাকে বলে?
অধিকরণকারকের পদটির দ্বিরুক্তিকেই অধিকরণে বীপ্সা বলে। যেমন — কুণ্ঠে কুণ্ঠে গাছে পাখি; গাছে গাছে ফুল ফুটেছে।

৫২. অধিকরণকারকে ‘মধ্যে’, ‘মাঝে’, ‘ভিতরে’, ‘উপরে’ অনুসর্গের প্রয়োগ দেখাও।
এই অনুসর্গগুলি অধিকরণ অর্থ প্রকাশে বহুল ব্যবহৃত। যেমন — মাঠের মধ্যে তালগাছের সারি; সবার মাঝে এসে দাঁড়ালাম; বীজের ভিতরে লুকিয়ে থাকে অঙ্কুরের সম্ভাবনা; তোমাদের উপরে আমাদের অনেক আশা।


✦কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি: সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদ

৫৩. সম্বন্ধপদ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে এক বা একাধিক নামপদের কোনো প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ থাকে না অথচ বাক্যের অন্য কোনো নামপদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে, তাকে সম্বন্ধপদ বলে। যেমন — রহিমার খাতাটি এখানে রাখো। এখানে ‘রহিমার’ ‘রাখো’ ক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়, বরং ‘খাতাটি’র সঙ্গে সম্পর্কিত।

৫৪. সম্বন্ধপদ ও কর্তৃকারকের পার্থক্য কী?
কর্তৃকারকের পদ সরাসরি ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সম্বন্ধপদের ক্রিয়াপদের সঙ্গে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই, সম্পর্ক আছে অন্য নামপদের সঙ্গে।

৫৫. সম্বন্ধপদের কয় ধরনের অর্থ প্রকাশ পায়? যেকোনো পাঁচটির উদাহরণ দাও।
সম্বন্ধপদ অনেক ধরনের অর্থ প্রকাশ করতে পারে। পাঁচটি উদাহরণ —

  • উপাদান অর্থ: চামড়ার ব্যাগ
  • অংশ/অঙ্গ অর্থ: গাছের ডাল
  • উৎস/উৎপাদক অর্থ: রবীন্দ্রনাথের কবিতা
  • আধার/আধেয় অর্থ: জলের বালতি
  • অধিকার/মালিকানা অর্থ: মায়ের গহনা

৫৬. সম্বোধন পদ কাকে বলে?
বাক্যে গতি ভঙ্গ করে যে পদের দ্বারা বিশেষভাবে আহ্বান করা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। সম্বোধন পদ সর্বদা শূন্যবিভক্তি হয় এবং বাক্যের যেকোনো জায়গায় বসতে পারে। যেমন — বন্ধু, তুমি আগামীকাল এসো।

৫৭. সম্বন্ধপদ ও সম্বোধন পদের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।

পার্থক্যের বিষয়সম্বন্ধপদসম্বোধন পদ
অন্য পদের সঙ্গে সম্বন্ধপরবর্তী বিশেষ্য বা সর্বনামের সঙ্গে সম্বন্ধ পদের একটা সম্পর্ক থাকেবাক্যের কোনো পদের সঙ্গেই সম্বোধন পদের সম্পর্ক থাকে না
অবস্থানসম্পর্কযুক্ত বিশেষ্য বা সর্বনামের আগে বসেবাক্যের যেকোনো জায়গায় বসে
বিভক্তি চিহ্নসম্বন্ধ পদে বিভক্তি চিহ্ন সাধারণত লোপ পায় নাআধুনিক বাংলায় সম্বোধন পদ সাধারণভাবে বিভক্তি শূন্য থাকে

৫৮. অকারক বিভক্তির প্রয়োগ বলতে কী বোঝায়?
অকারক সম্বন্ধপদের ক্ষেত্রেই ‘র’ বা ‘এর’ বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন — উপরওয়ালার নির্দেশ আছে; বিদ্যুতের আলো; ‘খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে।’ সম্বোধন পদের ক্ষেত্রে সর্বদা শূন্যবিভক্তি লক্ষ্য করা যায়।


✦ বিভক্তি ও অনুসর্গ অনুযায়ী কারকের শ্রেণিবিভাগ

৫৯. বিভক্তিপ্রধান কারক কী? কয় প্রকার ও কী কী?
বাংলায় যেসব কারক সম্পর্ক বিভক্তি দিয়ে চিহ্নিত করা যায় তাদের বিভক্তিপ্রধান কারক বলে। বিভক্তিপ্রধান কারকের সংখ্যা চারটি — কর্তৃকারক, কর্মকারক, অধিকরণকারক এবং সম্বন্ধকারক।

৬০. অনুসর্গপ্রধান কারক কয় প্রকার ও কী কী?
বাংলায় অনুসর্গপ্রধান কারকের সংখ্যা তিনটি — করণকারক, অপাদানকারক এবং নিমিত্তকারক। করণকারক ‘দিয়ে’, ‘দ্বারা’ অনুসর্গের সাহায্যে; অপাদানকারক ‘থেকে’, ‘হতে’ ইত্যাদি অনুসর্গ দিয়ে; এবং নিমিত্তকারক ‘জন্য’, ‘তরে’ ইত্যাদি অনুসর্গের ব্যবহারে চিহ্নিত হয়।

৬১. বিভক্তি ও অনুসর্গপ্রধান কারক কয় প্রকার ও কী কী?
বাংলায় এমন কারকের সংখ্যা চারটি — করণকারক, নিমিত্তকারক, অপাদানকারক এবং অধিকরণকারক। এই কারকগুলি কখনো বিভক্তি দিয়ে, কখনো অনুসর্গ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়।


✦ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ: নির্ধারণমূলক প্রশ্ন — বাক্য বিশ্লেষণ

৬২. নিচের বাক্যগুলির চিহ্নিত পদের কারক/অকারক সম্পর্ক ও চিহ্ন (বিভক্তি/অনুসর্গ) নির্ণয় করো।

বাক্যকারক/অকারক সম্পর্কসম্পর্ক চিহ্ন
নদীতে বন্যা হয়েছেঅধিকরণ (স্থানাধিকরণ)তে (এতে) বিভক্তি
ছেলেরা বল খেলেকর্তৃকারকশূন্যবিভক্তি
বারান্দা থেকে দেখলাম সে আসছেঅপাদানকারকথেকে অনুসর্গ
নক্ষত্রপুঞ্জের আলো জ্বলজ্বল করিতেছেসম্বন্ধপদএর বিভক্তি
রমেশ ইংরেজিতে খুব ভালোঅধিকরণ (বিষয়াধিকরণ)তে (এতে) বিভক্তি
বর্ধমান থেকে আসানসোল গাড়িতে যাবঅপাদানকারকথেকে অনুসর্গ
পোকাটা উড়ে গেলকর্তৃকারকশূন্যবিভক্তি
বঁটিতে হাত কাটলকরণকারক (যন্ত্রাত্মক)তে বিভক্তি
এই ছেলেটা, কোথায় যাচ্ছিস রে!সম্বোধন পদশূন্যবিভক্তি
বাজারের জিনিসে আজকাল বড়ো ভেজালঅধিকরণকারকএর বিভক্তি + তে বিভক্তি
স্কুলে আজ একটা মজার ঘটনা ঘটেছেঅধিকরণকারকএ বিভক্তি
রওনা হব আগামীকালঅধিকরণ (কালাধিকরণ)শূন্যবিভক্তি

✦ দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ: বড় প্রশ্নের উত্তর

৬৩. ‘কারক’ শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করো। বাংলা কারকের প্রকারগুলি উল্লেখ করো।

‘কারক’ শব্দটি সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে এসেছে। শব্দটির ব্যুৎপত্তি হল — √কৃ + অক = কারক, অর্থাৎ ‘যিনি নির্মাণ বা সৃষ্টি করেন।’ বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকেই কারক বলা হয়। সংস্কৃত ব্যাকরণবিদ পাণিনি ‘ক্রিয়াযয়ী কারকম্’ অর্থাৎ ক্রিয়ার সঙ্গে বাক্যের অন্তর্গত বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক থাকে তা-ই হল কারক — এই মত দিয়েছিলেন।

বাংলায় প্রচলিত ধারায় কারক ছয় প্রকার — (১) কর্তৃকারক, (২) কর্মকারক, (৩) করণকারক, (৪) নিমিত্তকারক, (৫) অপাদানকারক এবং (৬) অধিকরণকারক।

৬৪. একটি জটিল বাক্যের উদাহরণ দিয়ে দেখাও কোন্‌টি প্রযোজক কর্তা আর কোন্‌টি প্রযোজ্য কর্তা।

বাক্য: বিবেকবাবু ফিরলে আমরা যাব।

এই বাক্যে ‘যাব’ সমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা হল ‘আমরা’ — এটি প্রযোজ্য কর্তা নয়, এটি সরাসরি কর্তা।

আরেকটি বাক্য: মা শিশুকে ভাত খাওয়াচ্ছেন।

এখানে ‘মা’ নিজে খাওয়ার কাজটি করছেন না, ‘শিশুকে’ দিয়ে করাচ্ছেন। তাই ‘মা’ হলেন প্রযোজক কর্তা এবং ‘শিশু’ হলেন প্রযোজ্য কর্তা

৬৫. সমধাতুজ কর্তা বলতে আমরা কী বুঝি? উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।

বাক্যের ক্রিয়া যে ধাতু থেকে নিষ্পন্ন, সেই একই ধাতু থেকে উৎপন্ন কোনো বিশেষ্য পদ যদি সেই ক্রিয়ার কর্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাকে বলে সমধাতুজ কর্তা

উদাহরণ ১: মেলা মানুষকে মিলিয়ে দেয়। — ‘মেলা’ ও ‘মিলিয়ে’ উভয়ই ‘মিল্’ ধাতু থেকে সৃষ্টি। তাই ‘মেলা’ এক্ষেত্রে সমধাতুজ কর্তা।

উদাহরণ ২: আশ্বিনের মাঝামাঝি উঠিল বাজনা বাজি। — ‘বাজনা’ ও ‘বাজি’ একই ধাতু থেকে উৎপন্ন, তাই বাক্যের কর্তা ‘বাজনা’ সমধাতুজ কর্তা।

৬৬. করণকারকের শ্রেণিবিভাগগুলি সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দিয়ে লেখো।

করণকারকের কর্তার সাহায়কারী হিসেবে নানা ধরনের পরিচয় বাংলায় পাওয়া যায়:

যন্ত্রাত্মক করণ: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপকরণের সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হলে। — বঁটিতে হাত কাটল।

উপায়াত্মক করণ: ক্রিয়া সম্পাদনের উপায় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হলে। — ঘৃণায় তাকে বিদ্ধ করেছে।

সমধাতুজ করণ: ক্রিয়া ও করণকারক একই ধাতু থেকে উৎপন্ন হলে। — যে বাঁধনে বেঁধেছে আমায়।

হেতুময় করণ: হেতু বা কারণ অর্থ প্রকাশ করলে। — খুশিতে ভরে গেল মনপ্রাণ।

কালজ্ঞাপক করণ: সময় বা কাল প্রকাশ করলে। — দু-দিনেই সব কাজ মিটে গেল।

লক্ষণসূচক করণ: লক্ষণ বা উপলক্ষণের ভাব প্রকাশ করলে। — পেতায় বামুন চেনা যায়।

বীণাসূচক করণ: করণকারকের দ্বিরুক্তি ঘটলে। — মেঘে মেঘে বেলা হল।

৬৭. অপাদান কারকের শ্রেণিবিভাগ অর্থের দিক থেকে লেখো।

অপাদানকারক অর্থগতভাবে বেশ কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়:

১. উখিত অর্থে: ভূমি থেকে রকেটটা আকাশে উঠে গেল।
২. পতিত অর্থে: গাছ থেকে আমটা পড়ল।
৩. উৎপন্ন/নির্গত অর্থে: খেজুর গাছে রস হয়।
৪. বিকৃতি অর্থে: দুধ থেকে দই হয়।
৫. রক্ষিত বা পরিত্রাণ অর্থে: বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা।
৬. পরাজিত অর্থে: মোহনবাগানের কাছে হেরে গেল বেঙ্গালুরু এফ সি।
৭. ভীত অর্থে: বন্যা থেকে নদীতীরবর্তী অধিবাসীদের ভয় যায় না কখনও।
৮. বিরত অর্থে: পাপে বিরত হও।
৯. আরস্ত অর্থে: বৈশাখ থেকে বাংলা বছরের সূচনা।

বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর

বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10

আমরা এখানে কারক ও অকারক সম্পর্ক, দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, কারক কাকে বলে, কর্তৃকারক কর্মকারক করণকারক, বিভক্তি ও অনুসর্গ, নিমিত্তকারক অপাদানকারক অধিকরণকারক, সম্বন্ধপদ সম্বোধন পদ, বাংলা ব্যাকরণ MCQ, class 10 Bengali grammar, madhyamik bangla byakoron, karok o akarok somporko, বাংলা ব্যাকরণ প্রশ্নোত্তর, দশম শ্রেণি বাংলা নোটস, WBBSE Bengali grammar এই সমস্ত কিছু নিয়ে আলোচনা করেছি।

  • কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Grammar
    কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বিষয়ে সম্পূর্ণ নোটস, সারসংক্ষেপ, MCQ এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক। অধ্যায় সারসংক্ষেপ: কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কারক। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকেই বলা হয় কারক সম্পর্ক। সহজ করে বললে — ক্রিয়াটি কে করছে, …

    Read more

  • বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
    বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। …

    Read more

  • বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
    বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — …

    Read more

  • মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
    মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা …

    Read more

  • নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
    দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা …

    Read more

  • বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
    দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, …

    Read more


Leave a Comment