বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত: এক অগ্নিযুগের বীরগাথা

Kanailal Dutta Chandannagar
Kanailal Dutta Chandannagar

Table of Contents

বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত: এক অগ্নিযুগের বীরগাথা

কানাইলাল দত্ত, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ১৮৮৮ সালের ৩১শে আগস্ট (ভাদ্র মাস, শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে) চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল চুনিলাল দত্ত এবং মাতা ব্রজেশ্বরী দেবী। আট সন্তানের মধ্যে কানাইলাল ছিলেন অন্যতম। শৈশব থেকেই তাঁর মধ্যে দেশপ্রেমের উন্মেষ ঘটেছিল।

শিক্ষাজীবন | Kanailal Dutta in Bengali

কানাইলালের শিক্ষাজীবন শুরু হয় চন্দননগরের ডুপ্লে কলেজে। ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এন্ট্রান্স এবং ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে এফ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর হুগলি মহসিন কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে সেখান থেকে বি এ পাশ করেন। ডুপ্লে কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন। অধ্যাপক চারুচন্দ্র রায় এবং সহপাঠী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় কানাইলাল বিপ্লবী দল “যুগান্তর“-এর সংস্পর্শে আসেন।

বিপ্লবী কর্মকাণ্ড | Kanailal Dutta Biography in Bengali

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বি এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কানাইলাল দত্ত চন্দননগর থেকে কলকাতায় এসে যুগান্তর দলের সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। চন্দননগর ত্যাগের পূর্বে তিনি তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু মতিলাল রায়কে জানান যে তিনি “বিপ্লব যজ্ঞে” আত্মাহুতি দিতে চলেছেন। এমনকি তিনি এও বলেছিলেন যে সম্ভবত তিনি মোজাফফরপুর যাবেন কিংসফোর্ডকে “চির বিদায়” জানাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হেমচন্দ্র দাসের সুপারিশে ক্ষুদিরাম বসু এবং প্রফুল্ল চাকীকে মোজাফফরপুরে পাঠানো হয়।

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০শে এপ্রিল মোজাফফরপুরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার পর পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে এবং ২রা মে কলকাতায় যুগান্তর দলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে হানা দেয়। কানাইলাল দত্ত এবং নিরাপদ ওরফে নির্মল রায় ১৫ নম্বর গোপীমোহন দত্ত লেনের একটি বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। সেই বাড়ি থেকে বিস্ফোরক তৈরির ফর্মুলা, মাৎসিনি ও গ্যারিবল্ডির জীবনী ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়।

আলিপুর বোমা মামলা ও নরেন গোঁসাই হত্যাকাণ্ড:

কানাইলাল দত্ত আলিপুর বোমা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য হন। এই মামলায় শ্রীরামপুরের নরেন গোঁসাই নামক এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। সেই জবানবন্দীতে তিনি মোজাফফরপুর বোমা বিস্ফোরণ সহ বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপের পেছনে অরবিন্দ ঘোষের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেন। এর ফলে ইংরেজ সরকার নরেন গোঁসাইকে আদালতে “অ্যাপ্রুভার” হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। নরেন গোঁসাইয়ের এই বিশ্বাসঘাতকতায় বিপ্লবীরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

বিপ্লবী মতিলাল রায়, নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বসন্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্রীশচন্দ্র ঘোষের সহায়তায় জেলের ভেতরে দুটি রিভলভার পাঠানো হয়। নরেনের নিরাপত্তার জন্য তাকে জেল হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী কানাইলাল দত্ত এবং সত্যেন্দ্রনাথ অসুস্থতার ভান করে জেল হাসপাতালে ভর্তি হন।

Kanailal Dutta and Satyendranath Basu

১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে আগস্ট কানাইলাল এবং সত্যেন্দ্রনাথ সুযোগ বুঝে রিভলভার নিয়ে নরেনের উপর আক্রমণ করেন এবং তাকে হত্যা করেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে জানা যায় যে কানাইলালের রিভলভারের গুলিতেই নরেনের মৃত্যু হয়েছিল।

এই ঘটনার পর জেলের অভ্যন্তরে রিভলভার আসার বিষয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে কানাইলাল নাকি বলেছিলেন যে ক্ষুদিরামের আত্মা এসে তাকে পিস্তল দিয়ে গেছে। এই ঘটনার বিচারে কানাইলালের ফাঁসি হয়।

কানাইলাল দত্তের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তার সাহস, দেশপ্রেম এবং আত্মত্যাগ আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা যোগায়।

আরো দেখো :-

মাধ্যমিক 2025 | ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং

আরোও দেখো :-

Madhyamik Physical Science Suggestion 2025 – আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন (অধ্যায়-৮.২) প্রশ্নউত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন

আরোও দেখো :-

দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান | পর্যায় সারণী – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Physical Science Suggestion

আরোও দেখো :-

Madhyamik Physical Science Question Paper 2024 With Answers | সম্পূর্ণ উত্তরসহ মাধ্যমিক ভৌত বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ২০২৪

আরোও দেখো:-

Madhyamik Physical Science Suggestion- পরিবেশের জন্য ভাবনা (অধ্যায়-১) প্রশ্ন-উত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন

আরোও দেখো:-

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

🅵🅰🆀

Q.1: কানাইলাল দত্ত কে ছিলেন?

Ans: কানাইলাল দত্ত ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের এক অন্যতম বিপ্লবী। তিনি ১৮৮৮ সালের ৩১শে আগস্ট চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন।

Q.2: কানাইলাল দত্তের শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?

Ans: তিনি চন্দননগরের ডুপ্লে কলেজে পড়াশোনা শুরু করেন এবং পরে হুগলি মহসিন কলেজ থেকে বি এ পাশ করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি স্বদেশী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন।

Q.3: তিনি কিভাবে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন?

Ans: অধ্যাপক চারুচন্দ্র রায় এবং সহপাঠী উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় তিনি “যুগান্তর” বিপ্লবী দলের সংস্পর্শে আসেন এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

Q.4: আলিপুর বোমা মামলায় কানাইলাল দত্তের ভূমিকা কী ছিল?

Ans: তিনি আলিপুর বোমা মামলায় অভিযুক্ত হন এবং নরেন গোঁসাই নামে এক পুলিশের স্বীকারোক্তিদাতা সাক্ষীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্যোগী হন।

Q.5: নরেন গোঁসাই হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটে?

Ans: ১৯০৮ সালের ৩১শে আগস্ট, জেলের ভেতরে কানাইলাল ও সত্যেন্দ্রনাথ নরেন গোঁসাইকে গুলি করে হত্যা করেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী, কানাইলালের গুলিতেই নরেনের মৃত্যু হয়।

Q.6: কানাইলাল দত্তের শেষ পরিণতি কী হয়?

Ans: নরেন গোঁসাই হত্যার দায়ে কানাইলাল দত্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

Q.7: কেন তিনি আজও স্মরণীয়?

Ans: তাঁর সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে এবং তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

Leave a Comment