অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা

Table of Contents

কবি-পরিচিতি

উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি, তৎকালীন যশোহর জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) সাগরদাঁড়ি গ্রামে। বাল্যকালেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় তিনি গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

প্রথম জীবনে ইংরেজি ভাষায় দুটি গ্রন্থ রচনা করলেও পরবর্তীকালে বাংলায় মনোযোগ দেন এবং সাহিত্যজগতে অবিনশ্বর কীর্তি রেখে যান। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ ও ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’। তাঁর নাটকগুলির মধ্যে ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ ও ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নামে দুটি প্রহসনও তিনি রচনা করেছেন।

মধুসূদনের বাংলা কাব্যসাহিত্যে অবদান অতুলনীয়। তিনি বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ (blank verse) প্রবর্তন করেন — প্রথমে ‘পদ্মাবতী’ নাটকে এর প্রয়োগ করেন এবং পরে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ এই ছন্দকে মহাকাব্যের পর্যায়ে নিয়ে যান। তিনি বাংলা ভাষায় চতুর্দশপদী কবিতার (সনেটের) জনক। ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন এই মহান কবির জীবনাবসান ঘটে।


অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর,রচনার উৎস ও পটভূমি

ছদ্মবেশী লক্ষ্মী ইন্দ্রজিৎ অভিষেক কবিতা
ছদ্মবেশী লক্ষ্মী ইন্দ্রজিৎ অভিষেক কবিতা

‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর সৃষ্টি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয় এবং এটি মোট নয়টি সর্গে বিভক্ত। বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হিসেবে এটি ইতিহাসে চিরস্মরণীয়।

কাব্যটি রামায়ণের একটি পরিচিত ঘটনা অবলম্বনে রচিত হলেও মধুসূদন তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন। রামায়ণে রাবণ ও মেঘনাদ খলনায়ক হলেও মধুসূদনের কাব্যে মেঘনাদ একজন মহৎ, দেশপ্রেমী ও বীর নায়কে পরিণত হয়েছেন। কবি নিজেই বলেছিলেন, তাঁর প্রিয় চরিত্র ইন্দ্রজিৎ — “My favourite Indrajit”। এই কাব্যে রামচন্দ্র ও লক্ষ্মণ আক্রমণকারী শত্রু এবং লঙ্কার মানুষেরা তাদের স্বদেশ রক্ষার জন্য লড়ছেন।

কাব্যটি মিল্টন, হোমার, ভার্জিল, ভলমীকি ও কালিদাসের কাব্যঐতিহ্যকে একত্রিত করে রচিত।


অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর:পাঠ-সারসংক্ষেপ

প্রথম ভাগ: ছদ্মবেশী লক্ষ্মীর আগমন ও বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ

পাঠ্যাংশের সূচনায় দেখা যায়, মেঘনাদ (ইন্দ্রজিৎ) তাঁর সোনার আসনে (কনক-আসন) বসে আছেন। এমন সময় প্রভাষার ছদ্মবেশে লক্ষ্মীদেবী সেখানে আসেন। বীরেন্দ্রকেশরী ইন্দ্রজিৎ তাঁকে দেখে আসন ছেড়ে উঠে প্রণাম করেন এবং তাঁর আগমনের কারণ জিজ্ঞেস করেন।

লক্ষ্মীদেবী তখন মেঘনাদকে জানান — লঙ্কায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাবণের পুত্র বীরবাহু রামের ভাই লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি পিতা রাবণ শোকাকুল হয়েও প্রতিশোধের জন্য যুদ্ধযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লক্ষ্মীদেবী ইন্দ্রজিৎকে তাড়াতাড়ি লঙ্কা ফিরে যেতে এবং রাক্ষসকুলের মান রক্ষার পরামর্শ দেন।

মেঘনাদ হতবাক — কারণ তিনি নিজের হাতে রামচন্দ্রকে হত্যা করেছিলেন (রাতের যুদ্ধে), তবু রামচন্দ্র বেঁচে উঠলেন কীভাবে? এ ঘটনা তাঁর কাছে ‘এ অদ্ভুত বারতা’।

দ্বিতীয় ভাগ: ইন্দ্রজিতের আত্মধিক্কার ও যুদ্ধসজ্জা

বীরবাহুর মৃত্যু ও লঙ্কার বিপদের কথা শুনে ইন্দ্রজিৎ নিজেকে তীব্রভাবে ধিক্কার দেন — ‘হা ধিক্ মোরে!’ শত্রুসৈন্য যখন লঙ্কা ঘেরাও করে ফেলেছে, তখন তিনি প্রমাদে (নারীসঙ্গে আনন্দে) কাল কাটাচ্ছিলেন — এই ভাবনাই তাঁর বুকে জ্বালা ধরিয়ে দেয়।

এরপর ইন্দ্রজিৎ দ্রুত যুদ্ধের সাজে সজ্জিত হন। তাঁর যুদ্ধযাত্রার জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত হয়। আকাশে তাঁর রথ ছুটে চলে — কবি সেই দৃশ্যকে মেনাক পর্বতের সোনার পাখা বিস্তার করে উড়ে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর ধনুকের ছিলার শব্দ মেঘের মাঝে গরুড়ের নাদের মতো গমগম করে ওঠে। তাঁর অস্ত্রশস্ত্রের সাজে লঙ্কার আকাশ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

তৃতীয় ভাগ: স্ত্রী প্রমীলার সঙ্গে বিদায়

যুদ্ধে যাওয়ার আগে ইন্দ্রজিৎ তাঁর প্রিয়তমা পত্নী প্রমীলার কাছে যান। প্রমীলা যুদ্ধে যেতে বারণ করেন না — তবে তাঁর বিরহ-যন্ত্রণা, ইন্দ্রজিতের প্রতি গভীর প্রেম এই অংশে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ইন্দ্রজিৎ তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে প্রতিজ্ঞা করেন শীঘ্রই ফিরে আসবেন এবং লঙ্কার কল্যাণ করবেন — ‘ত্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া।’ বিদায়ের দৃশ্যটি করুণ ও মর্মস্পর্শী।

চতুর্থ ভাগ: পিতা রাবণের সঙ্গে কথোপকথন

ইন্দ্রজিৎ তখন সরাসরি পিতা রাবণের যুদ্ধশিবিরে যান। সেখানে রাবণ তাঁর সৈন্যদল নিয়ে যুদ্ধের জন্য সজ্জিত হচ্ছিলেন। রাবণের যুদ্ধসজ্জার বর্ণনায় কবি দেখান — চতুর্দিকে রণবাদ্য বাজছে, হাতি-ঘোড়া গর্জন করছে, সোনার পতাকা (কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভা) আকাশে উড়ছে, সৈন্যরা উৎসাহে উদ্দীপিত হয়ে উঠছে।

মেঘনাদকে দেখে পিতা রাবণ আনন্দিত হন। ইন্দ্রজিৎও ‘নিমি পুত্র পিতার চরণে করজোড়ে’ প্রণাম করেন। তখন তাদের মধ্যে গভীর কথোপকথন হয়।

রাবণ বলেন — বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি শোকার্ত, কুম্ভকর্ণও ইতিমধ্যে মারা গেছেন। রামচন্দ্র বারবার মরেও বেঁচে উঠছেন — এটা কিছুতেই তাঁর বোধগম্য নয়। বিধাতার উপর তিনি বিরূপ। তিনি পুত্রকে যুদ্ধে পাঠাতে চান না।

মেঘনাদ উত্তর দেন — ‘এ কলঙ্ক, পিতঃ ঘুষিবে জগতে।’ পুত্র থাকতে পিতার যুদ্ধে যাওয়াটা অপমানজনক। তিনি নিজেই যুদ্ধে যাবেন এবং পিতার কাছে প্রতিজ্ঞা করেন — রামচন্দ্রকে সমূলে বিনাশ করে ফিরে আসবেন। রাবণ আনন্দিত হয়ে পুত্রকে আলিঙ্গন করেন।

পঞ্চম ভাগ: অভিষেক — সেনাপতিপদে নিয়োগ

কিন্তু রাবণ যুদ্ধে পাঠানোর আগে পুত্রকে একটি শর্ত দেন — নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পন্ন করতে হবে এবং ইষ্টদেবতার আরাধনা করতে হবে, তারপরেই যুদ্ধে যেতে হবে।

পিতার নির্দেশ মেনে ইন্দ্রজিৎ যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। তারপর পিতা রাবণ যথাবিধি গঙ্গাজল (গোদাদক) ছিটিয়ে পুত্র ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কার সেনাপতি পদে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষিক্ত করেন।

এই অভিষেক-ই পাঠ্যাংশের শিরোনামের মূল অর্থ। এরপর ইন্দ্রজিৎ সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধযাত্রায় রওনা হন। তাঁকে দেখে মহাগর্বে রাক্ষসদল আওয়াজ করে ওঠে।


বিশেষ শব্দার্থ: অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর

অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর
হা ধিক মোরে মেঘনাদ যুদ্ধসজ্জা
শব্দঅর্থ
কনক-আসনসোনার তৈরি আসন
বীরেন্দ্রকেশরীবীরেশ্রেষ্ঠ
ধাত্রীজননী
বীরবাহুরাবণের কনিষ্ঠ পুত্র
যূঝিতেযুদ্ধ করতে
মহাবাহুমহাশক্তিশালী
নিশা-রণেরাতের যুদ্ধে
বারতাসংবাদ
কনক-বলয়সোনার বালা
কুণ্ডলকানের গহনা
রথীর্ষভশ্রেষ্ঠ রথীদের মধ্যে ঘোড়ের মতো শক্তিশালী যোদ্ধা
হেমবতীসুতকার্তিক
কিরীটীঅর্জুন (অর্জুনের নাম)
তুরগমঘোড়া
ইন্দ্রচাপইন্দ্রের ধনুক
প্রমীলাইন্দ্রজিতের স্ত্রী
মাতঙ্গহাতি
যূথনাথহাতিদের দলপতি
হেমপাথাসোনার ডানা
শিঞ্জিনীধনুকের ছিলা
পক্ষীন্দ্রগরুড়
নাদশব্দ, ধ্বনি
জলধিসমুদ্র
কর্বুরদলরাক্ষসদল
পামরপাপিষ্ঠ
গোদাদকগঙ্গাজল
অভিষেককাউকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করার পদ্ধতি
নিকুম্ভিলারাক্ষসবংশের কুলদেবতার পূজার যজ্ঞস্থান
কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভাসোনার পতাকার উজ্জ্বলতা


প্রশ্নোত্তর: অভিষেক কবিতা প্রশ্ন উত্তর

রাবণ মেঘনাদ পিতাপুত্র মেঘনাদবধ কাব্য
রাবণ মেঘনাদ পিতাপুত্র মেঘনাদবধ কাব্য

ক · অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: ১)

১. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের নাম কী?

উত্তর: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গের নাম ‘অভিষেক’।

২. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কয়টি সর্গে বিভক্ত?

উত্তর: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ নয়টি সর্গে বিভক্ত।

৩. ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

৪. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে।

৫. ছদ্মবেশী লক্ষ্মী কোন সংবাদ নিয়ে এসেছিলেন?

উত্তর: ছদ্মবেশী লক্ষ্মী রাবণপুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ এবং তাতে রাবণের শোকাকুলতার সংবাদ নিয়ে এসেছিলেন।

৬. ‘সৈসেনা সাজেন আজি যুঝিতে আপিন’ — কে, কেন সৈসেনা সাজেন?

উত্তর: প্রিয় পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুতে শোকাহত লঙ্কেশ্বর রাবণ প্রতিশোধ নিতে সৈন্যদলসহ যুদ্ধে সজ্জিত হন।

৭. ‘এ অদ্ভুত বারতা’ — কোন ‘বারতা’র কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে বীর চূড়ামণি বীরবাহুর অকালে ও অন্যায়ভাবে মৃত্যু সংবাদের কথা এখানে বলা হয়েছে।

৮. ‘হা ধিক্ মোরে!’ — ইন্দ্রজিৎ কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন?

উত্তর: শত্রুসৈন্য লঙ্কা ঘিরে ফেলেছে, অথচ তিনি প্রেমাদে (নারীসঙ্গে) সময় কাটাচ্ছিলেন — এই ভেবেই ইন্দ্রজিৎ নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিলেন।

৯. ‘হেমবতীসুত যথা…’ — কীসের কথা এখানে বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে দেবসেনাপতি কার্তিকের তারকাসুর বধের কথা বলা হয়েছে।

১০. ‘কিষা যথা বৃহন্নলারূপী কিরীটী’ — ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটী’ কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘বৃহন্নলারূপী কিরীটী’ বলতে মহাভারতের অর্জুনকে বোঝানো হয়েছে।

১১. ‘সাজিলা শূর শমীবৃক্ষমূলে।’ — ‘শমীবৃক্ষ’ কোন গাছকে বলা হয়?

উত্তর: শমীবৃক্ষ হল বাবলাজাতীয় গাছ।

১২. ‘উঠিছে আকাশে কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভা।’ — কাকে ‘কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভা’ বলা হয়েছে?

উত্তর: রাক্ষসবাহিনীর রেশমি পতাকার উজ্জ্বলতাকে ‘কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভা’ বলা হয়েছে।

১৩. ‘সমুলে নির্মূল করিব পামর আজি।’ — কাকে ‘পামর’ বলা হয়েছে?

উত্তর: ইন্দ্রজিৎ এখানে রামচন্দ্রকে ‘পামর’ (পাপিষ্ঠ) বলে সম্বোধন করেছেন।

১৪. ‘ত্বরায় আমি আসিব ফিরিয়া।’ — কোথা থেকে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রামচন্দ্রকে পরাজিত করে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

১৫. ‘এ কলঙ্ক, পিতঃ ঘুষিবে জগতে।’ — এখানে কোন ‘কলঙ্কে’র কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: পুত্র ইন্দ্রজিৎ বেঁচে থাকতে পিতা রাবণের নিজে যুদ্ধে যাওয়াটাকেই ‘কলঙ্ক’ বলা হয়েছে।

১৬. ‘হাসিবে মেঘবাহন।’ — ‘মেঘবাহন’ কে?

উত্তর: ‘মেঘবাহন’ হলেন দেবরাজ ইন্দ্র। মেঘ তাঁর বাহন, তাই তাঁকে মেঘবাহন বলা হয়।

১৭. ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সাজ করো।’ — ‘নিকুম্ভিলা যজ্ঞ’ কী?

উত্তর: রাক্ষসবংশের কুলদেবতার পূজার স্থান হল নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার। সেখানে যজ্ঞ করার কথা বলা হয়েছে।

১৮. ‘অভিষেক করিলা কুমারে’ — কে, কার অভিষেক করলেন?

উত্তর: লঙ্কেশ্বর রাবণ তাঁর পুত্র বীরশ্রেষ্ঠ ইন্দ্রজিৎকে সেনাপতি পদে অভিষিক্ত করলেন।

১৯. সেনাপতি পদে ইন্দ্রজিতের অভিষেক কীভাবে হয়েছিল?

উত্তর: গঙ্গাজল (গোদাদক) ছিটিয়ে ইন্দ্রজিতের সেনাপতিপদে অভিষেক করা হয়েছিল।

২০. ‘নাদিলা কর্বুরদল…’ — কেন ‘কর্বুরদল’ আওয়াজ করেছিল?

উত্তর: মেঘনাদকে দেখে মহাগর্বে রাক্ষসদল আওয়াজ করেছিল।

২১. মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় কোন ছন্দের প্রবর্তক?

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ (blank verse) ও চতুর্দশপদী কবিতার (সনেট) প্রবর্তক।


খ · সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: ৩)

অভিষেক সেনাপতিপদ ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদবধ
অভিষেক সেনাপতিপদ ইন্দ্রজিৎ মেঘনাদবধ

১. ‘কহ দাসে লঙ্কার কুশল।’ — উদ্ধৃতাংশটির বক্তা কে? কাকে একথা বলা হয়েছে? তাঁর উত্তরে লক্ষ্মীদেবী কী জানিয়েছিলেন?

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে উদ্ধৃত এই পঙ্ক্তিটির বক্তা রাবণপুত্র মেঘনাদ। তিনি প্রভাষার ছদ্মবেশে আগত লক্ষ্মীদেবীকে লঙ্কার কুশল জিজ্ঞেস করেছেন।

এর উত্তরে লক্ষ্মীদেবী জানিয়েছিলেন — লঙ্কায় ভয়ংকর বিপর্যয় নেমেছে। রাবণের পুত্র বীরবাহু শত্রুহাতে নিহত হয়েছেন। এই খবরে শোকাহত রাবণ প্রতিশোধ নিতে নিজেই সৈন্যসজ্জা করছেন। একইসঙ্গে তিনি ইন্দ্রজিৎকে লঙ্কায় শীঘ্র ফিরে আসার এবং রাক্ষসকুলের মান রক্ষার পরামর্শ দেন।


২. ‘জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিষময় মানিয়া’ — কাকে ‘মহাবাহু’ বলা হয়েছে? তাঁর বিস্মিত হওয়ার কারণ কী?

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ শীর্ষক কাব্যাংশে ‘মহাবাহু’ বলা হয়েছে রাবণপুত্র মেঘনাদকে।

মেঘনাদের বিস্মিত হওয়ার কারণ ছিল গভীর। রামচন্দ্রের মৃত্যু এবং তারপরেও তাঁর বেঁচে ওঠা — এই ঘটনাটি তাঁর বোধের বাইরে। কারণ ইন্দ্রজিৎ নিজের হাতে রামচন্দ্রকে হত্যা করেছিলেন। তারপরও কীভাবে রামচন্দ্র বেঁচে উঠে বীরবাহুকে বধ করতে পারলেন — এই ‘অদ্ভুত বারতা’ তাঁকে বিস্মিত করেছিল।


৩. ‘হা ধিক্ মোরে!’ — বক্তা কে? বক্তা কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন? উদ্ধৃতাংশটিতে বক্তার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? (১+১+১)

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে উদ্ধৃত এই পঙ্ক্তির বক্তা রাবণপুত্র মেঘনাদ।

বক্তার ধিক্কারের কারণ: যখন শত্রুসৈন্য লঙ্কা ঘিরে ফেলেছে, বীরবাহু মারা পড়েছেন, পিতা রাবণ নিজে যুদ্ধে যেতে বাধ্য হচ্ছেন — তখন মেঘনাদ প্রমাদে (নারীসঙ্গে) অলস সময় কাটাচ্ছিলেন। দায়িত্ব পালনে এই ব্যর্থতা মেঘনাদকে তীব্র আত্মধিক্কারের দিকে নিয়ে যায়।

এই উক্তিতে মেঘনাদের দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতার দিকটি উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে জন্মভূমি লঙ্কার রক্ষার দায়িত্বকে অনেক বড়ো মনে করেন — এটিই তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে মহৎ দিক।


৪. ‘সৈসেনা সাজেন আজি যুঝিতে আপিন।’ — কে, কেন সৈসেনা সজ্জিত হয়েছিলেন? তাঁর সজ্জার পরিচয় দাও। (১+১+১)

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে বলা হয়েছে লঙ্কেশ্বর রাবণ সৈন্যসহ যুদ্ধের জন্য সজ্জিত হয়েছিলেন।

রাবণের যুদ্ধসজ্জার কারণ: তাঁর পুত্র বীরবাহু শত্রুর হাতে নিহত হয়েছেন। শোকার্ত রাবণ তারপরও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নিজেই রণক্ষেত্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রাবণের সজ্জার বর্ণনায় কবি দেখান — চারদিকে রণবাদ্য বেজে চলেছে, হাতি-ঘোড়া গর্জন করছে, রাক্ষসবাহিনীর সোনালি রেশমি পতাকার আলো আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে (কাঞ্চন-কুঞ্জ-বিভা)। পদাতিক সৈন্যরা শত্রু-সংহারের পণ করে হুংকার করছে, উড়ছে কৌশিক ধ্বজ। এই বর্ণনায় রাবণের সামরিক শক্তির এক মহিমান্বিত চিত্র তুলে ধরেছেন কবি।


৫. ‘নিমি পুত্র পিতার চরণে করজোড়ে কহিলা।’ — পিতা ও পুত্রের পরিচয় দাও। পাঠ্যাংশ অবলম্বনে পিতা-পুত্রের কথোপকথন নিজের ভাষায় লেখো। (২+৩)

উত্তর: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে পিতা হলেন লঙ্কাধিপতি রাবণ এবং পুত্র হলেন বীরশ্রেষ্ঠ মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ।

পিতা-পুত্রের কথোপকথন: রাবণের যুদ্ধশিবিরে এসে ইন্দ্রজিৎ পিতার চরণে করজোড়ে প্রণাম করেন। রাবণ পুত্রের আগমনে আনন্দিত হন।

রাবণ পুত্রকে বলেন — কুম্ভকর্ণ মারা গেছেন, বীরবাহুও মারা পড়েছেন। রামচন্দ্র বারবার মরেও বেঁচে উঠছেন — এ কীভাবে সম্ভব তা তিনি বুঝতে পারছেন না। বিধাতা তাঁর প্রতি বিরূপ। তিনি নিজে যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মেঘনাদ উত্তর দেন — পিতা, এটা লজ্জার কথা। পুত্র বেঁচে থাকতে পিতার যুদ্ধে যাওয়া কলঙ্কের। তিনি নিজেই রামচন্দ্রকে সমূলে বিনাশ করে ফিরে আসবেন। এই কথা শুনে রাবণ পুত্রকে আলিঙ্গন করেন এবং শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি দেন — তার আগে নিকুম্ভিলা যজ্ঞ সম্পন্ন করতে হবে।


গ · ব্যাখ্যাধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)

১. ‘অভিষেক’ কবিতা অবলম্বনে মেঘনাদ চরিত্রটি আলোচনা করো। (৫)

উত্তর: উনিশ শতকের প্রথম ভাগ থেকেই বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা হয়েছিল, কিন্তু যুগলক্ষণ পরিপূর্ণ হল মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ প্রকাশের সঙ্গে। প্রথা ভেঙে মধুসূদন এই কাব্যে রাবণ ও মেঘনাদকে নায়ক হিসেবে নির্বাচন করলেন। ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে মেঘনাদ চরিত্রের বিভিন্ন দিকগুলি উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

বীরত্ব ও পরাক্রম: মেঘনাদের অপর নাম ইন্দ্রজিৎ — কারণ তিনি দেবরাজ ইন্দ্রকে জয় করেছেন। রামকে তিনি দু’বার পরাজিত করেছেন। এই কাব্যে তাঁর সৈন্যসজ্জা, আকাশে রথে চড়ে যুদ্ধযাত্রা — সবকিছুতেই তাঁর প্রবল পরাক্রমের পরিচয় পাওয়া যায়।

দেশপ্রেম ও কর্তব্যনিষ্ঠা: শত্রু লঙ্কা ঘেরাও করেছে জেনে তিনি নিজেকে তীব্র ধিক্কার দেন। ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়ে মাতৃভূমি লঙ্কার রক্ষার দায়িত্বকে তিনি অনেক বড়ো মনে করেন।

পিতৃভক্তি ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ: পিতার কাছে সরাসরি প্রতিজ্ঞা করেন — পুত্র থাকতে পিতার যুদ্ধযাত্রা কলঙ্কের। তিনি নিজেই রামচন্দ্রকে পরাজিত করে ফিরবেন।

স্ত্রী প্রমীলার প্রতি প্রেম: যুদ্ধের আগে প্রিয়তমা প্রমীলার পায়ের ধুলো নেন। তাঁর প্রেমময় সত্তাটিও এই কাব্যে আভাসিত হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে মেঘনাদ শৌর্যে-বীর্যে-পরাক্রমে, জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসায়, ব্যক্তিসত্তায় — এক সম্পূর্ণ মানবিক ও আধুনিক নায়কচরিত্র।


২. ‘অভিষেক’ কবিতা অবলম্বনে রাবণ চরিত্রটি আলোচনা করো। (৫)

উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর প্রথম সর্গ থেকে গৃহীত ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে রাবণ একটি বহুমাত্রিক ও মানবিক চরিত্র।

রাজা হিসেবে রাবণ: তিনি লঙ্কার অধিপতি। লঙ্কার মানুষদের রক্ষার দায়িত্ববোধ তাঁর মধ্যে সবসময় জাগ্রত। কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি শোকার্ত হলেও লঙ্কার মর্যাদার জন্য নিজেই যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পিতা হিসেবে রাবণ: কুম্ভকর্ণ ও বীরবাহুর মৃত্যুতে তিনি শোকে কাতর। পুত্র ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে পাঠাতে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দ্বিধাগ্রস্ত — কারণ মৃত মানুষের পুনর্জীবন লাভ (রামের ক্ষেত্রে) তাঁকে অশান্ত করে তুলেছে। তবু পুত্রের দৃঢ় সংকল্পের কাছে শেষপর্যন্ত তিনি অনুমতি দেন।

বিধাতার প্রতি বিরূপতা: রামচন্দ্র বারবার মরেও বেঁচে ওঠেন — এটি রাবণের কাছে অবিশ্বাস্য। তিনি ভাবেন বিধাতা তাঁর প্রতি বিরূপ।

ট্র্যাজিক মহিমা: মধুসূদনের কাব্যে রাবণ একজন ট্র্যাজিক নায়ক। তিনি বীর, কিন্তু ভাগ্য তাঁর সহায় নয়। ক্ষমতা-সম্পদ থাকলেও প্রিয়জন হারানোর বেদনায় তিনি ভাঙছেন। সব মিলিয়ে রাবণ চরিত্রটি এই কাব্যে পাঠক-পরিচিত বাল্মীকির রাবণের থেকে স্বতন্ত্র ও অনন্য।


৩. মাইকেল মধুসূদন দত্তের কবিপ্রতিভার পরিচয় ‘অভিষেক’ কাব্যাংশের আলোকে আলোচনা করো। (৫)

উত্তর: উনিশ শতকে বাংলা কাব্যসাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন। ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ তাঁর কবিপ্রতিভার উজ্জ্বল দলিল।

ছন্দ-বিপ্লব: বাংলা কাব্যে চিরপরিচিত পয়ার ও মাত্রাবৃত্তের জায়গায় মধুসূদন প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দ (blank verse) প্রবর্তন করেন। এই ছন্দে চরণের শেষে মিল বা অনুপ্রাস নেই, কিন্তু প্রতিটি চরণে ১৪টি মাত্রার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছন্দোস্পন্দন রয়েছে। এই ছন্দে অনেক বেশি স্বাধীনতা পাওয়া যায় — ভাব প্রকাশে সীমাবদ্ধতা কমে।

চরিত্রায়ণের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: রামায়ণের খলনায়ক রাবণ ও মেঘনাদকে মধুসূদন মানবিক ও মহৎ নায়কচরিত্রে উপস্থাপন করেছেন। এটি সেকালের সাহিত্যে অভূতপূর্ব সাহসী পদক্ষেপ।

উপমা ও চিত্রকল্পের সমৃদ্ধি: ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে কবির উপমা অসাধারণ — ইন্দ্রজিতের রথকে মেনাক পর্বতের সঙ্গে তুলনা, ধনুকের ছিলার শব্দকে গরুড়ের নাদের সঙ্গে তুলনা — এগুলো কবির কল্পনাশক্তির অসাধারণ প্রকাশ।

পশ্চিমি ও প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন: মিল্টন, ভার্জিলের মহাকাব্যিক কাঠামোর সঙ্গে বাল্মীকি, কালিদাসের সংস্কৃত ঐতিহ্যকে এক কাব্যে মিলিয়ে মধুসূদন বাংলা কাব্যকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে গেছেন।

সামগ্রিকভাবে ‘অভিষেক’ মধুসূদনের প্রতিভার এক অপূর্ব নিদর্শন — ছন্দ-ভাষা-চরিত্র-দৃষ্টিভঙ্গি সব দিকেই তিনি বাংলা সাহিত্যকে নতুন দিগন্তে নিয়ে গেছেন।

জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী

অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)

আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

অভিষেক কবিতা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, অভিষেক প্রশ্ন উত্তর, মেঘনাদবধ কাব্য, অভিষেক সারাংশ, দশম শ্রেণি বাংলা অভিষেক, class 10 bangla abhishek, মেঘনাদ চরিত্র বিশ্লেষণ, রাবণ চরিত্র মেঘনাদবধ, ইন্দ্রজিৎ অভিষেক, অমিত্রাক্ষর ছন্দ, হা ধিক মোরে অভিষেক, abhishek madhyamik suggestion, মাধ্যমিক বাংলা কাব্যাংশ প্রশ্ন উত্তর সব কিছু আলোচনা করা হল, প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ইমপর্ট্যান্ট

  • সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    নাটকারের পরিচিতি বাংলা নাটসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নাটকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে, তৎকালীন বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সখারামের সহযোগী হন। পরে ‘বেকালী’, ‘বিজলী’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সহ-সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক কৃষক’ …

    Read more

  • অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা
    কবি-পরিচিতি উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি, তৎকালীন যশোহর জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) সাগরদাঁড়ি গ্রামে। বাল্যকালেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় তিনি গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। প্রথম …

    Read more

  • বহুরূপী
    লেখক-পরিচিতি বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান নাম সুবোধ ঘোষের জন্ম ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর, বিহারের হাজারিবাগে। আদি নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ছিল অসাধারণ বর্ণময়। বাসের কন্ডাক্টর, টিউটর, ট্রাক ড্রাইভার, এমনকি সার্কাস পার্টিতে ক্লাউনের ভূমিকা পর্যন্ত — বহু পেশায় তাঁকে যেতে হয়েছে। এই …

    Read more

  • হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | শ্রীপান্থ | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    লেখক-পরিচিতি বাংলা সাহিত্য জগতে নিখিল সরকার ‘শ্রীপান্থ’ ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। তাঁর আরেকটি ছদ্মনাম ‘দৌবারিক’। জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১ মে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক হওয়ার পর তরুণ বয়স থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন — প্রথমে ‘যুগান্তর’, পরে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য়। আনন্দবাজারের সোমবারের বিখ্যাত ‘কলকাতার কড়চা’ বিভাগটি দীর্ঘকাল …

    Read more

  • আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের চাঁদপুরে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। তাঁর আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ; পৈতৃক ভিটে ছিল বরিশাল জেলার বানারিপাড়া গ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। …

    Read more

  • আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে। শৈশব থেকেই সাহিত্যের আবহে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি খুব অল্প বয়স থেকেই ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’, আর প্রথম সার্থক ছোটোগল্প হিসেবে সাহিত্য-সমালোচকেরা ‘দেনাপাওনা’-কে চিহ্নিত করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, …

    Read more

  • অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)
    কবি পরিচিতি পাবলো নেরুদা ছিলেন চিলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক এবং একইসঙ্গে দক্ষ কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি চিলির বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবতা, প্রেম, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী চেতনা তাঁর কবিতার মূল সুর। ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার …

    Read more

  • জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী
    (দশম শ্রেণি, বাংলা — সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর) লেখক পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতায়। সেকালের সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁর প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটেনি, বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার সূচনা। অথচ এই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখেনি— নিজের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ আর মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে …

    Read more

  • টাইকো ব্রাহে: যে জ্যোতির্বিদ নাক হারিয়েও আকাশ দেখা থামাননি
    একটু ভাবুন। ১৫৬০ সাল। ডেনমার্কের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌদ্দ বছর বয়সের একটা ছেলে আইন পড়তে বসে আছে। হঠাৎ বাইরে লোকজনের ভিড়। সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে। সূর্যগ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়টা সূর্যগ্রহণ নয়। অবাক করা বিষয়টা হলো — জ্যোতির্বিদরা আগে থেকেই বলে দিতে পেরেছিলেন ঠিক কখন এই গ্রহণ হবে। নিখুঁতভাবে। এই ছেলেটার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরতে …

    Read more

Leave a Comment