প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

Table of Contents

কবি-পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি লেটো দলে গান লিখে ও গেয়ে সাহিত্যজীবনের সূচনা করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাঁর লেখালেখিকে এক বিশেষ তীব্রতা ও শক্তি দিয়েছে।

১৩২৬ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ প্রকাশিত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ‘বিজলী’ পত্রিকায় ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হলে সমগ্র বাংলায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ‘বিদ্রোহী’ কবি নজরুলের প্রতিবাদের হাতিয়ার ছিল তাঁর গান ও কবিতা। তিনি শুধু ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধেই নয়, সমস্ত অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে ‘অগ্নিবীণা’, ‘বিষের বাঁশি’, ‘সাম্যবাদী’, ‘সর্বহারা’, ‘ফণীমনসা’, ‘প্রলয়শিখা’, ‘ছায়ানট’, ‘চক্রবাক’ প্রভৃতি। কবিতা, গল্প ছাড়াও তিনি উপন্যাস ও বেশকিছু গান রচনা করেছেন। নজরুলের কবিতা ও গান চিরকাল বাঙালিকে উদ্দীপিত করে। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।


প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর: রচনার উৎস ও পটভূমি

তোরা সব জয়ধ্বনি কর প্রলয়োল্লাস
তোরা সব জয়ধ্বনি কর প্রলয়োল্লাস

‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৯ বঙ্গাব্দে) ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে এটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা‘ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হিসেবে স্থান পায়। কবিতাটির রচনার কারণ নিয়ে মতভেদ থাকলেও ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের শেষে ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হলে তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কবি নতুন বিপ্লবের সমর্থনে এই কবিতাটি রচনা করেন বলে মনে করা হয়।

কবিতাটির রচনাকাল ছিল এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। তখন ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। ভারতবাসী সেই সময় পর-পদানত। বিদেশি শাসকের অত্যাচারে মানুষকে প্রতিনিয়ত অপমানিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত হতে দেখে কবি এই কবিতায় মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ওই একই সময়ে অনেক তরুণ বিপ্লবী ব্রিটিশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে আন্দামানের কারাগারে (সেলুলার জেলে) বন্দি হচ্ছেন।


পাঠ-সারসংক্ষেপ: প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর

প্রলয়ের আহ্বান — কেন জয়ধ্বনি?

কবিতার শুরুতেই নজরুল সরাসরি আহ্বান জানাচ্ছেন — ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ এই ‘তোরা’ হল পরাধীন ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষ। জয়ধ্বনির কারণ — এসে গেছে এক মহাপ্রলয়। ‘নূতনের কেতন’ অর্থাৎ মুক্তির পতাকা উড়ছে। ‘কালবোশেখির ঝড়’-এর মতো এক মহাশক্তির আগমন ঘনিয়ে আসছে।

প্রলয়ংকরের রূপ

কবি এই প্রলয়ের বাহককে রুদ্র-শিবের রূপে কল্পনা করেছেন। তিনি ‘মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে মহাকালের চণ্ড-রূপে’ বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছেন। তাঁর কেশর দোলায় ঝাপটা মেরে গগন দুলছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছে সর্বনাশী ধূমকেতু।

কবি জানাচ্ছেন — ‘দ্বাদশ রবির বহিজ্বালা’ (সূর্যের বারোটি রূপের অগ্নিজ্বালা) তাঁর নয়নকটায় ভরে আছে। ‘দিগম্বরের’ (শিবের) পিঙ্গল রুদ্র জটায় কাঁদন লুটাচ্ছে। তাঁর নয়নজলের একটি বিন্দুতে ‘সপ্ত মহাসিন্ধু’ দোল খায়। বিশ্বমায়ের আসন তাঁর বিপুল বাহুর উপর।

বিষপাতার বক্ষকোলে তাঁর রক্তাক্ত কৃপাণ দোলে — এই বিষপাতা হল পরাধীন বিপ্লবীদের প্রতীক। তাদের বুকের কৃপাণের মতো উদাত্ত অস্ত্রই এই মহাপ্রলয়ের চালিকাশক্তি।

আন্দামানের বন্দিমুক্তির প্রতীক

‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের ধমক হেনে ভাঙল আগল!’ — এখানে ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে আন্দামানের কারাগার বা সেলুলার জেলকে বোঝানো হয়েছে। ঔপনিবেশিক ভারতে যে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন তাদের শাস্তি হিসেবে কখনও ফাঁসিতে ঝোলানো হত, কখনও দ্বীপান্তরে (আন্দামান) পাঠানো হত। সেই আন্দামানের কারাগৃহের দরজাও এই প্রলয়ের শক্তিতে ভেঙে পড়বে।

মহানিশার পরে উষার আগমন

কবি পরাধীনতার দুঃসময়কে বলছেন ‘মহানিশা’ (মহারাত)। এই মহানিশার শেষে আসবে ‘উষা অরুণ হেসে করুণ বেশে’। দিগম্বরের (শিবের) জটায় হাসছে শিশু-চাঁদের আলো — সেই আলোয় সকলের ঘর ভরে উঠবে।

ধ্বংস কেন ভয়ের নয়

কবির সবচেয়ে শক্তিশালী বক্তব্য — ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? — প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!’ অর্থাৎ প্রলয় বা ধ্বংস আসলে নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণামাত্র। পুরনো জরাজীর্ণ গতানুগতিকতা ভেঙে নতুন নবীনের আগমনই প্রলয়ের উদ্দেশ্য। ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!’ — এই ‘চিরসুন্দর’ হল মুক্তি, নতুন জীবন।

উপসংহার — সুন্দরকে বরণ

কবিতার শেষ পঙ্ক্তিগুলি এক আশার বার্তা বহন করে। ‘বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।’ — বধূরা প্রদীপ জ্বেলে বরণ করবে নতুনকে। ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর!’ — ভয়ংকর বিপ্লবের পোশাকেই আসছে চিরসুন্দর মুক্তি।


বিশেষ শব্দার্থ: প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর

প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর
রুদ্র প্রলয়ংকর প্রলয়োল্লাস কবিতা
শব্দঅর্থ
কেতনপতাকা
প্রলয়সর্বনাশ, মহাবিনাশ
সিন্ধুপারসমুদ্রের তীর
সিংহদ্বারপ্রধান দরজা
আগলখিল, তালা
গহনগভীর
দোদুলদোলায়মান
বহ্নিআগুন
পিঙ্গলইষৎ হলুদ আভাযুক্ত কটা রং
কেপালতলেগালের নীচে
মাভৈঃনির্ভয় হও (সংস্কৃত)
দিগম্বরবিবস্ত্র; এখানে শিবকে বোঝানো হয়েছে
রিণিয়েশব্দ করে
যজ্ঞ-যূপযজ্ঞের বলির জন্য প্রস্তুত করা হাঁড়িকাঠ
ডরভয়
দ্বাদশ রবিসূর্যের বারোটি রূপ
সপ্ত মহাসিন্ধুসাতটি মহাসমুদ্র
বিষপাতাবিষের পালনকর্তা বা রক্ষাকর্তা
মহানিশাপরাধীনতার মহাঅন্ধকার


প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর: সকল প্রশ্নোত্তর

ক · অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: ১)

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের কততম কবিতা?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

৪. কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতার নাম কী?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতার নাম ‘মুক্তি’।

৫. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — পঙ্ক্তিটিতে কাদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: পরাধীন ভারতবর্ষের নাগরিকদের জয়ধ্বনি করার কথা বলা হয়েছে।

৬. ‘নূতনের কেতন’ ওড়া বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: ‘নূতনের কেতন’ ওড়া বলতে পরাধীনতার বন্ধন থেকে, ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির দিন সমাগত — এ কথাই বোঝাতে চেয়েছেন।

৭. “আসছে ভয়ংকর!” — কবিতায় ভয়ংকরের রূপটি কেমন?

উত্তর: ভয়ংকরের রূপ অত্যন্ত ভীষণ ও উদ্ধত। তিনি মৃত্যু-গহন অন্ধকূপ থেকে বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে অবতীর্ণ হন।

৮. ‘…স্তব্ধ চরাচর’ — চরাচর স্তব্ধ কেন?

উত্তর: ধ্বংসের দেবতা প্রলয়ংকর শিবের অট্টহাসি ও প্রচণ্ড শব্দে চরাচর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বলে কবি কল্পনা করেছেন।

৯. ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে সূর্যের বারোটি রূপ বা মূর্তির কথা বলা হয়েছে। হরিবংশ মতে এই মূর্তিগুলি হল — বিবস্বান, অর্যমা, পূষা, ত্বষ্টা, ভগ, ধাতা, বরুণ, মিত্র, পর্জন্য ও বিষ্ণু।

১০. ‘সপ্ত মহাসিন্ধু’ কাদের বলা হয়?

উত্তর: পুরাণ মতে সপ্ত মহাসিন্ধু হল লবণ, সুরা, ইক্ষুরস, ঘৃত, দধি, ক্ষীর ও স্বাদুদক — এই সাতটি মহাসাগর।

১১. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে আন্দামানের কারাগার বা সেলুলার জেলকে বোঝানো হয়েছে।

১২. ‘বিষপাতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘বিষপাতা’ বলতে বিষের পালনকর্তা বা রক্ষাকর্তাকে বোঝানো হয়েছে। এখানে পরাধীন ভারতের বিপ্লবী তরুণদেরই এই রূপে কল্পনা করা হয়েছে।

১৩. “দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর” — পঙ্ক্তিটির অর্থ কী?

উত্তর: মহাদেব শিবের জটায় ধৃত শিশুচাঁদের নরম আলো সকলের ঘর ভরে উঠবে — কবি এই আশা প্রকাশ করেছেন।

১৪. ‘মহানিশা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘মহানিশা’ বলতে পরাধীন ভারতবর্ষে পরাধীনতার দুঃসময়ের মহাঅন্ধকারকে বোঝানো হয়েছে।

১৫. “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর।” — বধূরা কার উদ্দেশ্যে প্রদীপ তুলে ধরবে?

উত্তর: কাল-ভয়ংকরের বেশে আসা সুন্দরকে — অর্থাৎ মুক্তির নতুন যুগকে — বরণ করতে বধূরা প্রদীপ তুলে ধরবে।

১৬. “আসছে নবীন।” — নবীনের আসার উদ্দেশ্য কী?

উত্তর: জীবনহারা, প্রাণহীন, জড়, অসুন্দরের বিনাশ করাই নবীনের শুভাগমনের উদ্দেশ্য।

১৭. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘মাভৈঃ’ একটি সংস্কৃত শব্দ, অর্থ — নির্ভয় হও, ভয় পেয়ো না।

১৮. “কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর।” — এই পঙ্ক্তির মূল বক্তব্য কী?

উত্তর: ভয়ংকর বিপ্লব ও প্রলয়ের রূপেই আসছে প্রকৃত সুন্দর — অর্থাৎ মুক্তি ও নতুন যুগ।


খ · সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর: প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর (মান: ৩)

সিন্ধুপার সিংহদ্বার আন্দামান সেলুলার জেল প্রলয়োল্লাস
সিন্ধুপার সিংহদ্বার আন্দামান সেলুলার জেল প্রলয়োল্লাস

১. “সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের ধমক হেনে ভাঙল আগল।” — ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ কী? বক্তব্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে সমুদ্রপারের আন্দামানের কারাগার বা কুখ্যাত সেলুলার জেলকে বোঝানো হয়েছে।

ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে যে বিপ্লবীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন, তাদের শাস্তি হিসেবে কখনও ফাঁসিতে ঝোলানো হত, কখনও দ্বীপান্তরে আন্দামানে পাঠানো হত। সেই সেলুলার জেলের প্রধান দরজাকে ‘সিংহদ্বার’ বলা হয়েছে।

এই পঙ্ক্তির তাৎপর্য হল — প্রলয়ংকরী মহাশক্তির আগমনে সেই অভেদ্য কারাদরজাও ভেঙে পড়বে। বন্দি বিপ্লবীরা মুক্তি পাবেন। এটি আসলে কবির এক আশার বাণী — ব্রিটিশ শাসনের যত কঠোর বেড়াজালই থাকুক, মুক্তির মহাশক্তি তা অচিরেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।


২. “বিষপাতার বক্ষকোলে” — ‘বিষপাতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? তার বক্ষকোলে কীসের অবস্থান?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘বিষপাতা’ বলতে বোঝানো হয়েছে বিষের পালনকর্তা বা রক্ষাকর্তাকে।

পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে লেখা এই কবিতায় কবি চেয়েছেন এদেশের তরুণ বিপ্লবীরা পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য গর্জে উঠুক। বিষপাতার (বিষের পালক) বক্ষকোলে উদাত্ত কৃপাণের মতো রয়েছে এই তরুণ বিপ্লবীদের ধারালো অস্ত্র — যা দিয়ে তারা শত্রুর বুকে আঘাত হানবে।

পরাধীন ভারতের কোটি কোটি মানুষের গ্লানি, তাদের অপরিসীম যন্ত্রণার প্রতীক হিসেবে এই বিষপাতার কল্পনা করা হয়েছে। তাদেরই বক্ষকোলে রক্তাক্ত কৃপাণ দোদুল দোলে — এটি বিপ্লবী মানসিকতার এক তীব্র প্রকাশ।


৩. “এবার মহানিশার শেষে/আসবে উষা অরুণ হেসে।” — ‘মহানিশা’ কী? এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘মহানিশা’ হল পরাধীন ভারতবর্ষে পরাধীনতার দুঃসময়ের মহাঅন্ধকার।

ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষে মানুষ ছিল ব্রিটিশ শক্তির কাছে পদানত। সবদিক থেকে তারা ছিল বঞ্চিত-শোষিত-লাঞ্ছিত। এই দীর্ঘ পরাধীনতার রাত্রিকেই কবি ‘মহানিশা’ বলে অভিহিত করেছেন।

এই পঙ্ক্তির মাধ্যমে কবি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে যত দীর্ঘই হোক এই মহারাত, তার পরে একদিন আসবেই স্বাধীনতার ভোর। উষার অরুণাভাস নিয়ে নতুন দিন আসবে। প্রলয়ের ভয়াবহতার পরেই সূচিত হবে নতুন সূর্য, নতুন জীবন। এটি কবির দৃঢ় আস্থা ও আশাবাদের প্রকাশ।


৪. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? — প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!” — কবি কাদেরকে ভয় করতে বারণ করেছেন? বক্তব্যের তাৎপর্য লেখো।

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি পরাধীন ভারতবর্ষের সাধারণ মানুষকে ভয় পেতে বারণ করেছেন।

ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা বিপ্লব ও প্রলয়ের ভয়াবহতা দেখে অচেতন সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেতে পারে। তাই কবি তাদেরকে ভয় পেতে বারণ করেছেন।

এই উক্তির তাৎপর্য গভীর। প্রলয় আসলে নতুন সৃষ্টির যন্ত্রণামাত্র। পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থা না ভাঙলে নতুন কিছু গড়া সম্ভব নয়। যেমন সন্তানের জন্মে প্রসব-বেদনা থাকে, তেমনই নতুন মুক্ত ভারতের জন্মেও প্রলয়-বেদনা থাকবে। কিন্তু এই ধ্বংসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা। তাই ধ্বংস দেখে ভয় পাওয়া অর্থহীন।


৫. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয় কীভাবে উল্লাসের কারণ হয়ে উঠেছে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয় ও উল্লাস দুটি বিপরীত ধারণাকে কবি অসাধারণ দক্ষতায় এক সূত্রে গেঁথেছেন।

ভারতবর্ষ তখন ব্রিটিশ শাসনের অধীনে। পরাধীনতার বাতাবরণে সমাজের বুকে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু কবি মনে করেন এই ভয়াবহতার আড়ালেই রয়েছে নতুন দিনের সম্ভাবনা। মহাকালের ভয়ংকর মূর্তিতে যে প্রলয়ের সৃষ্টি হবে, তা-ই সূচনা করবে নতুন দিনের।

প্রলয়ের উল্লাসের কারণ দুটি: প্রথমত, এই প্রলয় পুরনো জরাজীর্ণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে। দ্বিতীয়ত, এই ধ্বংসের মধ্যেই জন্ম নেবে নতুন সৃষ্টি। ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর’ — এই ছন্দেই প্রলয় ও উল্লাসের সমন্বয়।

তাই এই কবিতায় প্রলয় হল মুক্তির বার্তাবাহক। ভয়ংকরের বেশে আসছে সুন্দর — এটাই প্রলয়োল্লাসের মূলসুর।


গ · প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর: ব্যাখ্যাধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)

মহানিশার শেষে উষা প্রলয়োল্লাস আশার আলো
মহানিশার শেষে উষা প্রলয়োল্লাস আশার আলো

১. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর।” — এখানে ‘তোরা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? এই জয়ধ্বনি করার প্রকৃত কারণ কবিতা অবলম্বনে লেখো। (১+৪)

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘তোরা’ বলতে পরাধীন ভারতবর্ষের সকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে।

জয়ধ্বনির প্রকৃত কারণ: পরাধীন ভারতবর্ষের প্রেক্ষাপটে লেখা এই কবিতায় কবি ভারতবর্ষের পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য রুদ্রদেবকে আহ্বান করেছেন।

‘কালবোশেখির ঝড়’-এর মতো যিনি আসবেন তিনি মৃত্যু-গহন অন্ধকূপ থেকে বজ্রের মশাল জ্বেলে ভয়ংকরের বেশে জীবন আর আলো নিয়ে আসবেন। তিনি ভয়ংকর বেশে এসে জরাজীর্ণ নিশ্চেষ্টতা, অসুন্দরের বিনাশ করবেন; আর তাঁর আগমনেই সূচিত হবে নতুন নবীনের বার্তা। এই রুদ্রদেবের এক পায়ে ধ্বংস, অন্য পায়ে সৃষ্টি। তিনি যুগপৎ বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রতীক।

অসুন্দরকে নাশ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করবেন সুন্দরকে। মহানিশার অন্ধকার শেষে আসবে স্বাধীনতার ভোর। ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর।’

কবির এই আহ্বান আসলে ভারতবর্ষের তরুণ বিপ্লবীদের জন্য এক উদ্বোধন-মন্ত্র — যাতে তারা ইংরেজদের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে, তাদের কারাগার-শৃঙ্খলকে ভেঙে চুরমার করে স্বাধীনতা আনতে পারে। সেই অনাগত মুক্তির আনন্দ-উল্লাসেই এই জয়ধ্বনি।


২. “আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরের করতে ছেদন!” — ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন? নবীনের কাছে কবির কী প্রত্যাশা? (২+৩)

উত্তর: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’ বলতে কবি নজরুল ইসলাম বোঝাতে চেয়েছেন আমাদের সমাজের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিকগুলোকে। সেই নিষ্প্রাণ, জরায়-মরা মুমূর্ষুরা যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না, রুখে দাঁড়াতে পারে না, মুখ বুজে কেবল মার খায়, অপমান সহ করে। শাসকের রক্তচক্ষুর সামনে তারা হীনবল। এরাই প্রকৃতপক্ষে ভারতের পরাধীনতার কারণ। তারাই ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’।

নবীনের কাছে কবির প্রত্যাশা: এই কবিতায় নবীনের আগমন মানে শুধু একটি নতুন প্রজন্মের আগমন নয় — এ হল এক নতুন বিপ্লবী মানসিকতার আবির্ভাব।

কবি চান নবীনরা এই জীবনহারা, নিষ্প্রাণ, জড় সমাজকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করুক। পুরনো গতানুগতিকতার বেড়াজাল ছিঁড়ে ফেলুক। যারা নিজীব, যারা হীনবল, যারা স্থবির — তাদেরকে এই নবীনরা পুনর্জীবিত করে তুলবে। সকল অসুন্দরের বিনাশের মধ্যে দিয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করবেন সুন্দরকে, প্রাণকে। কবির প্রত্যাশা — এই নবীনরা ভাঙবে এবং গড়বে, ধ্বংস করবে পুরনোকে এবং নির্মাণ করবে নতুন মুক্ত ভারত।


৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় নজরুলের বিপ্লবী চেতনার পরিচয় দাও। (৫)

উত্তর: ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা তাঁর বিপ্লবী চেতনার সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রকাশ।

পরাধীনতার বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ: কবিতাটি লেখা হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন ভারত ব্রিটিশ শাসনে পদানত। প্রতিদিনের অপমান, লাঞ্ছনা ও নির্যাতন দেখে কবির প্রাণে দ্রোহ জেগেছে। ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ — এই উচ্চকণ্ঠ আহ্বান নিছক কবিতা নয়, এটি মুক্তির মন্ত্র।

প্রলয়কে উল্লাসে রূপান্তর: সাধারণ মানুষ ধ্বংস ও প্রলয় দেখে ভয় পায়। কিন্তু নজরুল এই ভয়াবহতাকেই উল্লাসে পরিণত করেছেন। ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? — প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!’ — প্রলয় আসলে নতুন সৃষ্টির পূর্বশর্ত, এই দর্শনই তাঁর বিপ্লবী চেতনার মূল।

সেলুলার জেলের বন্দিদের প্রতি সংহতি: ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বারের ধমক হেনে ভাঙল আগল’ — আন্দামানের বন্দি বিপ্লবীদের প্রতি কবির উষ্ণ সহানুভূতি এই পঙ্ক্তিতে ধরা পড়েছে। মহাপ্রলয়ের শক্তিতে সেই অভেদ্য কারাদরজাও ভাঙবে — এ আশা কবির বিপ্লবী মানস থেকেই উৎসারিত।

আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি: নজরুলের বিপ্লবী চেতনা শুধু ধ্বংসে থেমে নেই। ‘কাল-ভয়ংকরের বেশে এবার ওই আসে সুন্দর’ — ভয়াবহ বিপ্লবের পরেই আসবে মুক্তির সুন্দর নতুন দিন। ‘বধূরা প্রদীপ তুলে ধর’ — নারীদেরও এই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় আহ্বান জানিয়েছেন কবি।

সামগ্রিকভাবে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি নজরুলের বিপ্লবী চেতনার সেই অগ্নিমন্ত্র, যা পরাধীন ভারতের মানুষকে জাগিয়ে তুলেছিল এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা

বহুরূপী

হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | শ্রীপান্থ | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর

আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)

এখানে প্রলয়োল্লাস কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর, প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর, প্রলয়োল্লাস সারাংশ, অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ, দশম শ্রেণি বাংলা প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর, class 10 bangla praloyllolas, নজরুল বিপ্লবী চেতনা, তোরা সব জয়ধ্বনি কর, মাভৈঃ মাভৈঃ নজরুল, সিন্ধুপার সিংহদ্বার, মহানিশা উষা প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর, madhyamik bangla nazrul suggestion, কাল ভয়ংকরের বেশে আসে সুন্দর এই সব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

  • বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ (Inverse Trigonometric Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের দ্বিতীয় ইউনিট বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক (Inverse Trigonometric Functions) — এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় যোগ-বিয়োগের সূত্রে …

    Read more

  • সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সিলেবাসে সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) অধ্যায়টা প্রথম ইউনিট হলেও এখানেই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী …

    Read more

  • তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ” অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তরসহ। লেঞ্জের সূত্র, আবেশাঙ্ক, ট্রান্সফরমার, AC বর্তনী সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের পঞ্চম ও শেষ মূল ইউনিট তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ — এখানে লেঞ্জের সূত্র, স্ব-আবেশ, পারস্পরিক …

    Read more

  • তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” সংক্রান্ত মডেল প্রশ্নপত্রের প্রশ্ন উত্তরসহ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার সিলেবাসে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা টপিকটা মূল ৫টা ইউনিটের মতো আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ Model Question Paper হিসেবে আসেনি — বরং সাধারণ মিশ্র মক টেস্ট (Set-I …

    Read more

  • তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। বায়ো-সাভার্ট সূত্র, সাইক্লোট্রন, চুম্বকত্ব সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের চতুর্থ অধ্যায় তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব — এখানে বায়ো-সাভার্ট সূত্র, অ্যাম্পিয়ারের সূত্র, সাইক্লোট্রন …

    Read more

  • প্রবাহী তড়িৎ – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “প্রবাহী তড়িৎ” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। কারেন্ট, রোধ, পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। প্রবাহী তড়িৎ: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর প্রবাহী তড়িৎ অধ্যায়টা তৃতীয় সেমিস্টারের মধ্যে সবচেয়ে “প্র্যাকটিক্যাল” — এখানেই পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ, শান্ট-গ্যালভানোমিটারের মতো যন্ত্রের হিসাব আসে, যেগুলো ল্যাব পরীক্ষাতেও কাজে লাগে। নিচে …

    Read more

  • স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। ধারক নেটওয়ার্ক, বিভব ও শক্তি সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়ের পরের ধাপ হলো স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব — এই অধ্যায়ে বিভব, বিভব প্রভেদ, ধারকত্বের …

    Read more

  • তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। WBCHSE বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আদর্শ। তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টারের পদার্থবিদ্যা পরীক্ষায় তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়টি নম্বর তোলার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। …

    Read more

  • আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর | HS সংস্কৃত তৃতীয় সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬
    উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার সংস্কৃত ‘আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের গ্রন্থ’ অধ্যায়ের আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর সম্পূর্ণ MCQ, শূন্যস্থান, স্তম্ভ মিলিয়ে, অ্যাসারশন-রিজন ও সত্য-মিথ্যা প্রশ্ন উত্তর। আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর — HS সংস্কৃত তৃতীয় সেমিস্টার সম্পূর্ণ সাজেশন উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার সংস্কৃত পাঠ্যক্রমের পৌরাণিক ও লৌকিক সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস ইউনিটের শেষ টপিক ‘আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের …

    Read more

মন্তব্য করুন