মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর : অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর (চতুর্থ অধ্যায়) Madhyamik Life Science Question and Answer : মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর 2025| Madhyamik Life Science Question and Answer নিচে দেওয়া হলো

Table of Contents

4.A অভিব্যক্তি

4.A.I অভিব্যক্তির ধারণা

দীর্ঘ সময় ধরে ক্রমাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সরলতম এককোশী জীব থেকে ধীরে ধীরে জটিল বহুকোষী জীব সৃষ্টির ঘটনাকে অভিব্যক্তি বা জীব বিবর্তন বলে। এই প্রক্রিয়াটি কয়েক কোটি বছর ধরে চলতে থাকে এবং এখনও চলছে।

4.A.II জীবনের উৎপত্তি — রাসায়নিক বিবর্তন

Chemical Evolution (Chemogeny) steps
জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির ধাপসমূহ Chemical Evolution — কেমোজেনি (ওপারিন-হ্যালডেন মতবাদ) Hot Dilute Soup ( হ্যালডেন) হবে ছবিতে

প্রাচীন পৃথিবীতে বিভিন্ন মহাজাগতিক বিকিরণ, অতিবেগুনি রশ্মি, বজ্রপাত ইত্যাদির প্রভাবে সরল অজৈব যৌগ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি হওয়াকে রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি বলে।

বিজ্ঞানী ওপারিন ও হ্যালডেন কেমোজেনির পর্যায়গুলি বর্ণনা করেন। সেগুলি হল:

  • [i] আনুমানিক ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর উৎপত্তি ঘটে।
  • [ii] সৃষ্টিলয়ে পৃথিবী ছিল মুক্ত হাইড্রোজেন ও অন্যান্য মৌলিক পদার্থের একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড।
  • [iii] লোহা, নিকেল ইত্যাদি ভারী মৌলগুলি পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে, মাঝারি ধরনের মৌল অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি পৃথিবীর মধ্যস্থলে এবং অতি হালকা মৌলগুলি অর্থাৎ হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ইত্যাদি পৃথিবীর উপরের স্তরে জমা হয়।
  • [iv] পৃথিবীর উপরের স্তরের হালকা মৌলগুলি পরবর্তীকালে তাপ বিকিরণ করে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জল, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি অণুর সৃষ্টি করে।
  • [v] পৃথিবীতে প্রথম যে কার্বনের উৎপত্তি হয়েছিল সেটি ছিল হাইড্রোকার্বন। যেমন — মিথেন, ইথিলিন ইত্যাদি।
  • [vi] হাইড্রোকার্বন উত্তপ্ত বাষ্পের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অক্সি ও হাইড্রক্সি যৌগ সৃষ্টি করেছিল। যেমন — কিটোন, অ্যালডিহাইড ইত্যাদি।
  • [vii] হাইড্রক্সি যৌগগুলি কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিভিন্ন শর্করা সৃষ্টি করেছিল। যেমন — গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ ইত্যাদি।
  • [viii] অক্সি ও হাইড্রক্সি যৌগগুলি ঘনীভূত হওয়ার মাধ্যমে পলিমার গঠিত হয়েছিল এবং তাদের জারণের ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড সৃষ্টি হয়েছিল।
  • [ix] হাইড্রোকার্বন যৌগগুলি অ্যামোনিয়া ও জলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে অ্যামাইনো অ্যাসিড সৃষ্টি করেছিল।
  • [x] বিভিন্ন ধরনের জৈব যৌগগুলি সমুদ্রের জলে মিশে গরম তরল স্যুপ সৃষ্টি করেছিল।
  • [xi] গরম তরল স্যুপে বিভিন্ন জৈব যৌগগুলি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল যৌগ সৃষ্টি করে। যেমন — পলিস্যাকারাইড, অ্যামাইনো অ্যাসিড, নিউক্লিক অ্যাসিড, প্রোটিন ইত্যাদি।
  • [xii] সমুদ্রের জলে গরম তরল স্যুপে বিভিন্ন জৈব যৌগ যেমন প্রোটিন, লিপিড, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি পরস্পর বিক্রিয়া করে বৃহৎ কোলেয়ডজাতীয় পদার্থ গঠিত হয়েছিল, তাকে কোয়াসারভেট বলে। এতে কোষপর্দার মতো দ্বিস্তরীয় আবরণ ছিল।
  • [xiii] কোয়াসারভেটের সঙ্গে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড বিক্রিয়া করে প্রোটোবায়োন্ট বা প্রোটোসেল সৃষ্টি হয়েছিল।
  • [xiv] প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে সমুদ্রের জলে প্রথম কোষ সৃষ্টি হয়েছিল।

4.A.II. 2 মিলার ও উরের পরীক্ষা

Miller-Urey Experiment 1953
মিলার ও উরের পরীক্ষা — Miller-Urey Experiment (1953) জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তির প্রমাণ (ছবির অনুপাত টি ২:২:১ হবে)

বিজ্ঞানী স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড উরে সর্বপ্রথম গবেষণাগারে বিশেষ পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণ করেন যে, আদি পৃথিবীতে অজৈব যৌগ থেকে জৈব যৌগের উৎপত্তি ঘটে।

পরীক্ষায় ব্যবহৃত যন্ত্রের বিভিন্ন অংশ:

  • [i] তড়িৎ সংযোগযুক্ত টাংস্টেন তার নির্মিত দুটি ইলেকট্রোড
  • [ii] গোলাকার কাচের ফ্লাস্ক
  • [iii] গোলতল ফ্লাস্ক
  • [iv] U আকৃতির কাচের নল
  • [v] ঘনীভবন যন্ত্র (কনডেনসার)

পরীক্ষার পদ্ধতি:

  • [i] এই পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ যন্ত্র তৈরি করা হয়।
  • [ii] প্রথমে বড়ো গোলাকার কাচের ফ্লাস্কটিতে মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃) এবং হাইড্রোজেন (H₂) গ্যাস ২:২:১ অনুপাতে নেওয়া হয় এবং ছোটো গোলতল ফ্লাস্ক থেকে ফুটন্ত জল জলীয় বাষ্পরূপে নলের মাধ্যমে বড়ো ফ্লাস্কে প্রবেশ করানো হয়।
  • [iii] টাংস্টেন ইলেকট্রোডের সাহায্যে বড়ো গোলাকার কাচের ফ্লাস্কটিতে তড়িৎ স্ফুলিঙ্গ তৈরি করা হয় এবং ছোটো গোলতল ফ্লাস্কটিকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করার ফলে জলীয় বাষ্প নলের মাধ্যমে বড়ো ফ্লাস্কে প্রবাহিত হতে থাকে।
  • [iv] গ্যাসীয় মিশ্রণকে ঘনীভবন যন্ত্র বা কনডেনসারের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করে তরলে পরিণত করা হয়।
  • [v] তরল পদার্থ ‘U’ আকৃতির নলে জলীয় মাধ্যমে সঞ্চিত হয়।
  • [vi] সমগ্র পরীক্ষাটি এক সপ্তাহ ধরে করা হয়।

পর্যবেক্ষণ: এক সপ্তাহ পর পরীক্ষায় উৎপন্ন যৌগগুলোকে ক্রোমাটোগ্রাফির মাধ্যমে শনাক্ত করে দেখা যায় যে, উৎপন্ন পদার্থগুলি হল বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড যেমন — অ্যাসিটিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড ইত্যাদি। বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড যেমন — গ্লাইসিন, অ্যালানিন, অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড ইত্যাদি। রাইবোজ শর্করা, অ্যাডেনিন ইত্যাদি।

সিদ্ধান্ত: এই পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদি পৃথিবীতে অজৈব যৌগ থেকে প্রথমে বিভিন্ন সরল ও পরে জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি ঘটে এবং এর ফলেই পরবর্তীকালে জীবনের উৎপত্তি ঘটে।

4.A.III অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাবলি

পৃথিবীতে প্রাণের উদ্ভব থেকে বর্তমান পর্যন্ত অভিব্যক্তির ধাপগুলি নিম্নরূপ:

  • পৃথিবীর সৃষ্টি
  • জীবনের উৎপত্তি
  • এককোশী জীবের উৎপত্তি
  • সালোকসংশ্লেষকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিবেশে অক্সিজেন ত্যাগের সূচনা
  • বহুকোশী জীবের উৎপত্তি
  • প্রথম মেরুদণ্ডী প্রাণীর (মাছ) উৎপত্তি
  • স্থলজ উদ্ভিদ সৃষ্টি
  • উভচর প্রাণীদের উৎপত্তি ও প্রাধান্য বিস্তার
  • অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীর আবির্ভাব

4.A.IV জৈব অভিব্যক্তির মতবাদ

4.A.IV.1 ল্যামার্কের মতবাদ বা ল্যামার্কবাদ

ফরাসি প্রকৃতিবিদ জ্যাঁ ব্যাপটিস্ট দ্য মনেট ল্যামার্ক তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ফিলোজফি জুওলজিক‘ নামক গ্রন্থে সর্বপ্রথম অভিব্যক্তি সংক্রান্ত মতবাদ প্রকাশ করেন। ল্যামার্কের অভিব্যক্তি বা বিবর্তন সম্পর্কিত বিশ্লেষণাত্মক তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক মতবাদকে ল্যামার্কবাদ বা ল্যামার্কের মতবাদ বলে।

জৈব অভিব্যক্তির সপক্ষে ল্যামার্কের মতবাদের মূল বক্তব্যসমূহ:

  • [i] পরিবেশের প্রভাব: ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে জীবের স্বভাব এবং দৈহিক পরিবর্তন ঘটে থাকে এবং নতুন অঙ্গের সৃষ্টি হয়। উদাহরণ — উটপাখির পূর্বপুরুষের সক্রিয় ডানা বংশপরম্পরায় ব্যবহার না হওয়ায় ক্ষীণ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
  • [ii] ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র: ল্যামার্কের মতে, জীবদেহের কোনো অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে শক্তিশালী, সবল, সুগঠিত এবং বর্ধিত হয়, অপরদিকে জীবদেহের কোনো অঙ্গ ক্রমাগত দীর্ঘকাল অব্যবহারের ফলে অঙ্গটি দুর্বল ও অক্ষম হতে হতে নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয় এবং অবশেষে অবলুপ্ত হয়।

উদাহরণ:

  • জিরাফের পূর্বপুরুষদের গ্রীবা ছোটো ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে উঁচু গাছের পাতা খাদ্যরূপে গ্রহণ করার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে আধুনিক জিরাফের গ্রীবা দীর্ঘ হয়েছে। এটি হল ব্যবহারের সপক্ষে প্রমাণ।
    • প্রাচীনকালে উড়তে সক্ষম উটপাখির ডানা ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এটি হল অব্যবহারের সপক্ষে প্রমাণ।
  • [iii] অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: ল্যামার্কের মতে, কোনো জীব জীবদ্দশায় যেসমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, সেই সমস্ত বৈশিষ্ট্য পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়, অর্থাৎ এক জনু থেকে অপর জনুতে জীবের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে। উদাহরণ — জিরাফের পূর্বপুরুষদের গ্রীবা ছোটো ছিল, কিন্তু পরবর্তীকালে উঁচু গাছের পাতা খাদ্যরূপে গ্রহণ করার ক্রমাগত চেষ্টার ফলে আধুনিক জিরাফের গ্রীবা দীর্ঘ হয়েছে অর্থাৎ জিরাফের দীর্ঘ গ্রীবা হওয়াটা অর্জিত বৈশিষ্ট্য। বংশপরম্পরায় এই অর্জিত বৈশিষ্ট্যটি এক জনু থেকে অপর জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার ফলে বর্তমানের দীর্ঘ গ্রীবার জিরাফের আবির্ভাব হয়েছে।
  • [iv] নতুন প্রজাতির উদ্ভব: ল্যামার্কের মতে, অর্জিত বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে সঞ্চারণের ফলে জীবের পরিবর্তন ঘটে এবং অবশেষে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।

ল্যামার্কবাদের বিপক্ষে মতবাদ

বিজ্ঞানী ভাইসম্যান তাঁর একটি বিখ্যাত পরীক্ষার মাধ্যমে ল্যামার্কের অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ মতবাদ খণ্ডন করার চেষ্টা করেন। তিনি ইঁদুরের লেজ কেটে ৩৫ প্রজন্ম ধরে তাদের জনন সম্পন্ন করিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও কোনো লেজবিহীন ইঁদুর তৈরি হয়নি। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে লেজ কেটে দেওয়ার কারণে যে অর্জিত বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয়েছিল তা বংশানুসরণ করে না। আবার, ড্রসোফিলা মাছিকে ৬০ প্রজন্ম ধরে অন্ধকারে জনন ঘটানো সত্ত্বেও কোনো অন্ধ মাছি জন্মায়নি।

4.A.IV.2 ডারউইনের মতবাদ বা ডারউইনবাদ

ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইন ‘On the Origin of Species by Means of Natural Selection’ নামক গ্রন্থে জীবনসংগ্রাম, যোগ্যতমের উদ্বর্তন, প্রাকৃতিক নির্বাচন ইত্যাদি জীবের বিবর্তন সংক্রান্ত মতবাদ প্রকাশ করেন। এই বৈজ্ঞানিক মতবাদকে ডারউইনবাদ বা ডারউইনিজম বলে।

জৈব অভিব্যক্তির সপক্ষে ডারউইনের মতবাদের মূল বক্তব্যসমূহ:

  • [i] অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি: ডারউইনের মতে, জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে প্রাণীর বংশবৃদ্ধি হয়, কিন্তু যে পরিমাণে সন্তান জন্মায়, শেষপর্যন্ত সেই পরিমাণে তারা বেঁচে থাকে না। উদাহরণ: হাতি ১২ বছর অন্তর একটি সন্তান প্রসব করে, এমন একজোড়া হাতি থেকে উদ্ভূত সব হাতি বেঁচে থাকলে ৭৫০ বছরের হাতির সংখ্যা হত ১৯ মিলিয়ন। কিন্তু বাস্তবে হাতির সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য।
  • [ii] সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান: ডারউইনের মতে, পৃথিবীর আকার ও আয়তন নির্দিষ্ট। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তার বাসস্থান ও জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের সংকট দেখা দেবে।
  • [iii] অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: ডারউইনের মতে, খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত হওয়ায় এবং জীবের জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন সংগ্রাম করতে হয়। এই সংগ্রামকে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে। এই সংগ্রাম তিনভাগে বিভক্ত।

অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের প্রকারভেদ:

  • (ক) অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: একই প্রজাতির অন্তর্গত বিভিন্ন জীবের মধ্যে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের জন্য যে সংগ্রাম হয়, তাকে অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম বলে। উদাহরণ — খাদ্যের জন্য পুকুরের রুই মাছেদের মধ্যে সংগ্রাম।
  • (খ) আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: দুই বা ততোধিক ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে খাদ্য, আশ্রয় ও প্রজননের জন্য যে সংগ্রাম হয়, তাকে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম বলে। উদাহরণ — ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও পেঁচাদের মধ্যে সংগ্রাম।
  • (গ) পরিবেশগত সংগ্রাম: পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন, যেমন বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, অধিক তাপমাত্রা ইত্যাদির বিরুদ্ধে জীবের যে সংগ্রাম হয়, তাকে পরিবেশগত সংগ্রাম বলে।
  • [iv] প্রকরণ বা ভেদ: ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে সমস্ত জীবের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনো পার্থক্য দেখা না গেলেও প্রতিটি জীবের মধ্যে কিছু কিছু পার্থক্য অবশ্যই থাকে। এই পার্থক্যকেই প্রকরণ বা ভেদ বলে। যে প্রকার প্রকরণ জীবকে জীবন সংগ্রামে সাহায্য করে, তাকে অনুকূল প্রকরণ বলে এবং যে প্রকার প্রকরণ জীবকে জীবনসংগ্রামে বাধার সৃষ্টি করে, তাকে প্রতিকূল প্রকরণ বলে।
  • [v] যোগ্যতমের উদ্বর্তন: ডারউইনের মতে, অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা জীবনসংগ্রামে জয়ী হন এবং যোগ্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়। অপরদিকে, প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা জীবন সংগ্রামে পরাজিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
  • [vi] প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ: ডারউইনের মতে, প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত যোগ্যতম জীবেরা বংশগতির মাধ্যমে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি করে। এইভাবেই জৈব বিবর্তন ঘটে থাকে।
  • [vii] নতুন প্রজাতির উৎপত্তি: ডারউইনের মতে, প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত যে জীব প্রকৃতিতে টিকে থাকার জন্য বিবেচিত হয়, সেই জীবকে প্রকৃতি নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকার করে নেবে। এইভাবে বিবর্তনের ফলস্বরূপ জীবজগতে নতুন প্রজাতির জন্ম হয়।
Lamarckism-vs-Darwinism-—-Giraffe-Neck-Example
জীরাফের গ্রীবা বৃদ্ধি: ল্যামার্ক বনাম ডারউইন Lamarckism vs Darwinism — Giraffe Neck Example

ডারউইন মতবাদের সীমাবদ্ধতা:

  • [i] ডারউইন যেসব ক্ষুদ্র প্রকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন, সেগুলির বংশানুসরণ না ঘটায় অভিব্যক্তিতে এর কোনো বিশেষ ভূমিকা পালন করে না।
  • [ii] ডারউইন প্রকরণের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্টরূপে কিছু বলতে পারেননি।
  • [iii] ডারউইন দেহকোষ ও জননকোষের প্রকরণের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারেননি।
  • [iv] ডারউইন যোগ্যতমের উদ্বর্তনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।

নয়া ডারউইনবাদ

ডারউইনবাদ বা প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ নিয়ে সমালোচনা হলেও পরবর্তীকালে জিনতত্ত্ব এবং বংশগতি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কৃত হওয়ার পর ভাইসম্যান, হুগো দ্য ভ্রিস, গোল্ডস্মিথ প্রমুখ বিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ডারউইনের মতবাদকে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত ধারায় সংশোধন করে বিবর্তনের যে নতুন তথ্য উপস্থাপন করেন, তাকে নয়া ডারউইনবাদ বা নিও ডারউইনিজম বা আধুনিক সংশ্লেষণবাদ বলা হয়।

4.A.V অভিব্যক্তির মতবাদের সপক্ষে প্রমাণসমূহ

4.A.V.1 জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ

কোনো জীবের দেহ বা দেহাংশ ভূগর্ভের বিভিন্ন পালানিক শিলাস্তরের চাপা পড়ে ধীরে ধীরে পাথরের রূপান্তরিত হলে, তাকে জীবাশ্ব বা ফসিল বলে। উদাহরণ — Archaeopteryx sp.-এর জীবাশ্ম।

ঘোড়ার বিবর্তনঘটিত প্রমাণের ক্ষেত্রে জীবাশ্মের ভূমিকা

Evolution-of-Horse
ঘোড়ার বিবর্তন — Evolution of Horse (জীবাশ্মঘটিত প্রমাণ — Fossil Evidence)

বিবর্তনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রাপ্ত ঘোড়ার জীবাশ্মের বৈশিষ্ট্য নিচে তুলনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হল:

পর্যায়যুগউচ্চতাপায়ের আঙুলপেষক দাঁতদৈহিক বৈশিষ্ট্য
[i] ইওহিপ্পাসইওসিন যুগ৩০ সেমিঅগ্রপদে ৪টি, পশ্চাৎপদে ৩টিমসৃণ ও অমসৃণ সিমেন্টযুক্তশরীরের তুলনায় মাথা ও গলা ছোটো, অনেকটা শিয়ালের মতো গঠনযুক্ত
[ii] মেসোহিপ্পাসঅলিগোসিন যুগ৬০ সেমিপ্রতি পায়ে ৩টি, মধ্য-আঙুল লম্বা ও অন্যান্য আঙুলের তুলনায় লম্বাসামান্য খাঁজযুক্ত ও অল্প এনামেলযুক্তভেড়ার মতো গঠনযুক্ত
[iii] মেরিচিপ্পাসমায়োসিন যুগ১০০ সেমিপ্রতি পায়ে ৩টি, উভয় পায়ের মধ্যের আঙুলটি লম্বা, খুরযুক্ত ও সক্রিয়অমসৃণ ও ক্রাউনযুক্তগাধার মতো গঠনযুক্ত
[iv] প্লায়োহিপ্পাসপ্লায়োসিন যুগ১২০ সেমিপ্রতি পায়ে কেবলমাত্র খুরযুক্ত ও সক্রিয় মধ্য-আঙুল বর্তমান, পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটেশক্ত, অমসৃণ ও এনামেলযুক্তআধুনিক ঘোড়ার মতো গঠনযুক্ত কিন্তু আধুনিক ঘোড়ার তুলনায় আকৃতিতে ছোটো
[v] ইকুয়াসপ্লিস্টোসিন যুগ১৫০ সেমিখুরযুক্ত ও সক্রিয় মধ্য-আঙুল বর্তমান, পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটেশক্ত, অমসৃণ ও এনামেলযুক্তদৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি ঘটে, আধুনিক ঘোড়ার সৃষ্টি হয়

4.A.V.2 তুলনামূলক শরীরস্থান

1. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ:

Homologous-and-Analogous-Organs
সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ Homologous and Analogous Organs
  • সমসংস্থ অঙ্গ: জীবদেহের যে সমস্ত অঙ্গের কার্যকারিতার দিক থেকে পার্থক্য থাকলেও যেসমস্ত অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন একই রকম, সেই সমস্ত অঙ্গকে সমসংস্থ অঙ্গ বলে।

উদাহরণ: উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ফণীমনসার পর্ণকান্ড (পরিবর্তিত কান্ড), মটরগাছের আকর্ষ (পরিবর্তিত পাতা) — উভয়েরই কাজ হল আরোহণে সাহায্য করা। কিন্তু এরা হল পৃথক অঙ্গের রূপান্তর অর্থাৎ সমসংস্থ অঙ্গ। প্রাণীর ক্ষেত্রে, তিমির ফ্লিপার, পাখি ও বাদুড়ের ডানা, ঘোড়ার অগ্রপদ এবং মানুষের হাত ইত্যাদি সমস্ত অঙ্গুলি একইরকম অস্থি হিউমেরাস, রেডিয়াস ও আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল ও ফ্যালাঞ্জেস দ্বারা আলনা, কারপাল, মেটাকারপাল ও ফ্যালাঞ্জেস দ্বারা গঠিত।

কিন্তু তাদের প্রত্যেকের ডানা উড়তে, ঘোড়ার অগ্রপদ দৌড়াতে, তিমির ফ্লিপার সাঁতার কাটতে এবং মানুষের হাত সৃজনশীল কাজ করে, অর্থাৎ এরা সমসংস্থ অঙ্গ। সমস্ত অঙ্গ মূলগতভাবে অপসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।

  • সমবৃত্তীয় অঙ্গ: জীবদেহের যেসমস্ত অঙ্গের উৎপত্তি ভিন্ন, কিন্তু কার্যগতভাবে একইরকম হয়, সেই সমস্ত অঙ্গকে সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে।

উদাহরণ: পাখির ডানা (অগ্রপদের রূপান্তর) এবং পতঙ্গের ডানা (বহিঃকঙ্কালের উপবৃদ্ধি) — উভয়েরই কাজ হল উড়তে সাহায্য করা। কিন্তু এরা হল পৃথক অঙ্গের রূপান্তর অর্থাৎ সমবৃত্তীয় অঙ্গ। ইহা প্রকৃতপক্ষে অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।

2. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ:

Comparative-Heart-Structure-in-Vertebrates
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃদপিণ্পের বিবর্তন Comparative Heart Structure in Vertebrates
(ভ্রূণতাত্ত্বিক ও তুলনামূলক প্রমাণ)

জীবের পূর্বপুরুষের দেহের যেসমস্ত কার্যকারী অঙ্গ ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে কার্যহীন বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গে পরিণত হয়েছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।

উদাহরণ:

  • উদ্ভিদের ক্ষেত্রে, আদা, হলুদ ইত্যাদি উদ্ভিদের কাণ্ডের নিষ্ক্রিয় শল্কপত্র; কালকাসুন্দার স্ট্যামিনোড বা বন্ধ্যা পুংকেশর; শতমূলীর পিস্টিলোড বা বন্ধ্যা গর্ভকেশর নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ।
  • প্রাণীর ক্ষেত্রে মানুষের আপেনডিক্স, উটপাখির লুপ্তপ্রায় ডানা হল নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ।

৪.A.V.3 ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ

ভ্রূণ সৃষ্টি, তার ক্রমিক বৃদ্ধি এবং ভ্রূণ থেকে পরিণত জীব সৃষ্টির ঘটনাবলি অধ্যয়নকে ভ্রূণতত্ত্ব বলে।

জৈব বিবর্তনের সপক্ষে ভ্রূণতাত্ত্বিক প্রমাণ: মৎস্য, উভচর, সরীসৃপ, পক্ষী ও স্তন্যপায়ী ইত্যাদি প্রাণীর ভ্রূণের বিকাশের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, প্রাথমিক অবস্থায় তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। যেমন —

  • [i] এদের জাইগোট এককোশী।
  • [ii] জাইগোট বিভাজিত হয়ে মরুলা, ব্লাস্টুলা, গ্যাস্ট্রুলা ইত্যাদি দশার সৃষ্টি হয় এবং এদের প্রতিটির দেহকোষ ত্রিস্তরবিশিষ্ট।

বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণের এই প্রাথমিক সাদৃশ্যের কারণ হল এরা একই পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। বিবর্তনের ক্রমবিকাশ অনুযায়ী মাছ থেকে উভচর, উভচর থেকে সরীসৃপ, সরীসৃপ থেকে পাখি এবং পাখি থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর উৎপত্তি ঘটেছে।

4.B বেঁচে থাকার কৌশল — অভিযোজন

4.B.I অভিযোজনের সংজ্ঞা

একটি নির্দিষ্ট পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করে সুষ্ঠুভাবে বসবাস করার জন্য কোনো জীবের যে অংসংস্থানিক ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়, তাকে অভিযোজন বলে।

4.B.II অভিযোজনের কয়েকটি উদাহরণ

4.B.II.1 অংসংস্থানগত অভিযোজন

1. কাকটাসের অভিযোজন:

Cactus-adaptation-Xerophytic-adaptation
কাকটাসের মরু অভিযোজন — Cactus Desert Adaptation (অংসংস্থানগত অভিযোজন — Structural Adaptation) জেরোফাইট / জাঙ্গল উদ্ভিদ (Xerophyte)

কাকটাস মরু অঞ্চলের শুষ্ক পরিবেশে জন্মায়, তাই এদের জেরোফাইট বা জাঙ্গল উদ্ভিদ বলে। কাকটাসের বিভিন্ন অভিযোজন সম্পর্কীয় বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • [i] পাতাগুলো কন্টকে রূপান্তরিত হওয়ায় বাষ্পমোচনের হার হ্রাস পায়। কন্টকে রূপান্তরিত পাতাগুলি আত্মরক্ষায় সাহায্য করে। এ ছাড়াও অধিকাংশ কাকটাসে পাতার সংখ্যা কম হয় এবং আকারে ছোটো হয়।
  • [ii] উদ্ভিদের বহু শাখাবিশিষ্ট প্রধান মূল মাটির অনেক গভীরে জলের সন্ধানে প্রবেশ করে।
  • [iii] কাণ্ডটি বেশি জল সংগ্রহের জন্য স্ফীত ও রসালো হয়। ইহাদের পর্ণকাণ্ড বলে।

2. রুইমাছের অভিযোজন:

Swim-Bladder-Function-—-Labeo-rohit
রুইমাছের পটকার কার্যপ্রণালী Swim Bladder Function — Labeo rohita
(জলজ অভিযোজন — Aquatic Adaptation)

রুইমাছ (Labeo Rohita) জলজ অভিযোজনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • [i] জলের চাপের সঙ্গে সমতা রক্ষার জন্য মাছের সামনের এবং পিছনের পাখনা তৈরি হয়েছে, যা মাছকে জলের মধ্যে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে।
  • [ii] মাছের উদর গহ্বরে একটি বায়ুপূর্ণ থলি অর্থাৎ পটকা থাকে। এই পটকা অগ্র ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে দ্বারা গঠিত। অগ্র প্রকোষ্ঠে গ্যাস উৎপাদনকারী রেডগ্রন্থি এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে গ্যাস শোষণকারী রেটিয়া মিরাবিলিয়া থাকে। রেডগ্রন্থি থেকে নির্গত গ্যাসে পটকা স্ফীত হলে মাছ জলে ভাসে, অপরদিকে ওই গ্যাস রেটিয়া মিরাবিলিয়া শোষণ করে নিলে মাছ জলে ডুবে যায়। পটকা মাছকে জলের যে-কোনো স্তরে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

3. পায়রার অভিযোজন:

Pigeon-Aerial-Adaptation
পায়রার বায়বীয় অভিযোজন — Pigeon Aerial Adaptation (খেচর অভিযোজন — Aerial Adaptation)
Columba livia

পায়রা (Columba livia) বায়ুতে ওড়ার জন্য অভিযোজনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল — (খেচর অভিযোজন)

  • [i] পায়রার সমস্ত দেহ পালক দ্বারা আবৃত। পালক দেহের তাপ সংরক্ষণে সাহায্য করে এবং পায়রার আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস করে। ডানার পালক রেমিজেসের সংখ্যা ২৩টি যা পাখিকে উড়তে সাহায্য করে এবং পুচ্ছ পালক রেক্ট্রিসেসের সংখ্যা ১২টি, যা দিক পরিবর্তন করতে সাহায্য করে।
  • [ii] পায়রার অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত। ডানা দুটি পায়রাকে বাতাসে ভেসে থাকতে এবং উড়তে সাহায্য করে।
  • [iii] পায়রার শ্বসনতন্ত্র সুগঠিত। ফুসফুসের সঙ্গে নয়টি বায়ুপূর্ণ থলি বা এয়ার স্যাক যুক্ত থাকে, যা পায়রার দেহকে হালকা করে এবং ওড়ার সময় অধিক অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে।

4.B.II.2 শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন

1. সুন্দরী গাছের অভিযোজন:

Sundari Tree Adaptation Heritiera fomes
সুন্দরী গাছের অভিযোজন — Sundari Tree Adaptation Heritiera fomes — হ্যালোফাইট (Halophyte)
(শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন — Physiological Adaptation)

সুন্দরী গাছ (Heritiera fomes) নদীর মোহনা অর্থাৎ সমুদ্র উপকূলবর্তী লবণাক্ত মাটিতে জন্মায়, তাই এদের লবণাশু উদ্ভিদ বা হ্যালোফাইট বলে। সুন্দরী গাছের অভিযোজনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল — (খেচর অভিযোজন)

  • [i] লবণাক্ত মাটির জন্য মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে না এবং অনেক শাখামূল অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির উপরে উঠে আসে। এইসকল মূল শাসমূল বা নিউম্যাটোফোরা নামে পরিচিত। শাসমূলে অনেক শ্বাসরন্ধ্র থাকে, যা সুন্দরী গাছকে বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণে সাহায্য করে।
  • [ii] সুন্দরী গাছের মূলের ত্বক এবং অধস্তক পুরু, তাই অন্তঃঅভিরসণের মাধ্যমে জল শোষিত হওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।
  • [iii] এদের কাণ্ডের শাখাপ্রশাখার বিভিন্ন অংশের কোশে অবস্থিত ভ্যাকুওলের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ সঞ্চয় করে এবং পরে বাকল মোচনের মাধ্যমে ত্যাগ করে।
  • [iv] জল শোষণের মাধ্যমে গৃহীত অতিরিক্ত লবণ পাতায় অবস্থিত লবণগ্রন্থির মাধ্যমে নির্গত হয়।

2. উটের অভিযোজন:

Camel-Desert-Adaptation-Camelus-dromedarius
উটের মরু অভিযোজন — Camel Desert Adaptation Camelus dromedarius
(শারীরবৃত্তীয় অভিযোজন — Physiological Adaptation)

মরুভূমিতে বাস করার জন্য উটের (Camelus dromedarius) অভিযোজনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  • [i] বাষ্পীভবন প্রতিরোধের জন্য দেহত্বক পুরু ও রোমযুক্ত হয়।
  • [ii] উটের ফ্যাটসমৃদ্ধ কুঁজে সঞ্চিত ফ্যাট বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্লিষ্ট হয়ে জল উৎপন্ন করে, যা দেহে জল সরবরাহ করে।
  • [iii] উটের পাকস্থলীর ওয়াটার স্যাক থেকে জল জরুরিকালীন অবস্থায় দেহে সরবরাহ হয়।
  • [iv] মলমূত্রের সঙ্গে খুব কম পরিমাণ জল ত্যাগ করে।
  • [v] উটের লোহিত রক্তকণিকাগুলি (RBC) আকারে ছোটো হওয়ায় জলের অভাবে শুষ্ক রক্তবাহের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুসারে আয়তনে প্রসারিত হওয়ার জন্য অধিক পরিমাণ জল প্রবেশ করলে ফেটে যায় না।

4.B.II.3 আচরণগত অভিযোজন

1. শিম্পাঞ্জির অভিযোজনে সহায়ক আচরণগত বৈশিষ্ট্য:

Chimpanzee-Behavioral-Adaptation Pan-troglodytes
শিম্পাঞ্জির আচরণগত অভিযোজন Chimpanzee Behavioral Adaptation — Pan troglodytes (আচরণগত অভিযোজন — Behavioral Adaptation) গবেষণা: বিজ্ঞানী জেন গুডাল (Jane Goodall)
  • [i] শিম্পাঞ্জি উইঢিবির সন্ধান পেলে গাছের ডাল ভেঙে লাঠির মতো দণ্ড তৈরি করে। এই দণ্ডটির ছোটো প্রান্তটিকে উইঢিবির মধ্যে প্রবেশ করায় এবং উইপোকাগুলি ওই ডালের প্রবেশ স্থান দিয়ে ডালটি বেয়ে বাইরে আসতে থাকলে শিম্পাঞ্জি ওই উইপোকাগুলিকে ভক্ষণ করে।
  • [ii] শিম্পাঞ্জি কাঠ অথবা পাথরের টুকরোকে হাতুড়ির মতো ব্যবহার করে বাদামের খোলা ভাঙে।
  • [iii] কোনো পরজীবী দ্বারা শিম্পাঞ্জি আক্রান্ত হলে নিজেরাই বিশেষ কিছু ভেষজ উদ্ভিদ ভক্ষণ করে পরজীবীঘটিত রোগ থেকে নিজেদের রক্ষা করে।

2. মৌমাছির বার্তা আদানপ্রদান:

Honeybee-Dance-Communication Karl-von-Frisch
মৌমাছির নৃত্যের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান Honeybee Dance Communication — Karl von Frisch
(আচরণগত অভিযোজন — Behavioral Adaptation)
  • [i] মৌচাক থেকে খাদ্যের দূরত্ব এবং খাদ্যের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য শ্রমিক মৌমাছিরা বিশেষ ধরনের নৃত্য প্রদর্শন করে।
  • [ii] খাদ্যের উৎস মৌচাকের ১০০ মিটারের মধ্যে হলে মৌমাছিরা চক্রাকার নৃত্য প্রদর্শন করে। এই নৃত্য নিকটবর্তী স্থানের খাদ্য থেকে মৌমাছিদের খাদ্যসংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
  • [iii] খাদ্যের উৎস মৌচাকের ১০০ মিটারের বেশি দূরে হলে মৌমাছিরা ইংরেজি ‘৪’ সংখ্যার আকৃতিবিশিষ্ট নৃত্য প্রদর্শন করে, একে ওয়াগটেল বা ওয়াগল নৃত্য বলে। এই নৃত্য দূরবর্তী স্থানের খাদ্য উৎস থেকে মৌমাছিদের খাদ্যসংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
  • [iv] শ্রমিক মৌমাছিদের আন্দোলিত উদর, নৃত্যের সময়কাল এবং নৃত্য প্রদর্শনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিরা মৌচাক ছেড়ে খাদ্যসংগ্রহের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যায় এবং দ্রুত ওই খাদ্যের উৎসস্থানে পৌঁছে খাদ্য সংগ্রহ করে।

MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর 2025 (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান এর চতুর্থ অধ্যায় অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর 2026 থেকে mcq প্রশ্নোত্তর গুলি আলোচনা করা হলো যেগুলি মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এছাড়াও যদি কোন প্রশ্ন থাকে সেগুলি কমেন্ট অংশে জানাতে পারো

1. প্রাণের উৎপত্তির জন্য কোন যৌগটি সবচেয়ে প্রয়োজন –

(a) প্রোটিন

(b) উৎসেচক

(c) নিউক্লিক অ্যাসিড

(d) শর্করা

2. জীবনের উৎপত্তির রাসায়নিক তত্ত্বটি প্রকাশ করেন-

(a) মিলার ও ফক্স

(b) ওপারিন ও হ্যালডেন

(c) মিলার ও ওয়াটসন

(d) ওয়াটসন ও ক্লিক

3. যোগ্যতমের উদবর্তন কথাটির সমার্থক কে?-

(a) ডারউইন

(b) ল্যামার্ক

(c) স্পেন্সার

(d) হুগো দি ভ্রিস

4. ‘অরিজিন অফ স্পিসিস’ গ্রন্থটির লেখক কে-

(a) ডারউইন

(b) ল্যামার্ক

(c ) হুগ ডি ভ্রিস

(d) স্পেন্সার

5. ডারউইন তত্ত্বের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় টি হল-

(a) পৃথক ভবন

(b) স্বাধীন সঞ্চারণ

(c) প্রাকৃতিক নির্বাচন

(d) উত্তরাধিকার

6. অস্তিত্বের জন্য জীবন সংগ্রাম কার মতবাদ-

(a) ডারউইন

(b) মেন্ডেল

(c) ল্যামার্ক

(d) ভাইসম্যান

7. ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষ কোনটি-

(a) প্লায়োহিপ্পাস

(b) মেসো হিপ্পাস

(c) ইউহিপ্পাস

(d) ইকুয়াস

8. নিচের কোনটি সমসংস্থ অঙ্গ নয়-

(a) পাখির ডানা, ঘোড়ার অগ্রপদ,মানুষের হস্ত

(b) আদা, আলু, ওল

(c) পতঙ্গের ডানা, পাখির ডানা, বাদুড়ের ডানা

(d) ব্যাঙের অগ্রপদ, পাখির ডানা, তিমির পাখনা

9. কোনটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ নয়-

(a) গিনিপিগের সিকাম

(b) মানুষের কক্সিস

(c) মানুষের কানের পেশি

(d) পুরুষ মানুষের স্তনগ্রন্থি

10. উটে লোহিত রক্ত কণিকা দেখতে কেমন-

(a) ডিম্বাকার নিউক্লিয়াসযুক্ত

(b) ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস বিহীন

(c) গোলাকার নিউক্লিয়াস যুক্ত

(d) গোলাকার নিউক্লিয়াস বিহীন

17. পর্ণ কান্ড হলো-

(a) পরিবর্তিত পাতা

(b) পরিবর্তিত কান্ড

(c) রূপান্তরিত বৃন্ত

উত্তর: (b) পরিবর্তিত কান্ড

18. প্রথম জীবন সৃষ্টি হয়েছিল কোথায়?-

(a) মহাশূন্যে

(b) বায়ুমন্ডলে

(c) সমুদ্রে

(d) বারিমন্ডলে

19. কুমিরের হৃদপিন্ডের প্রকোষ্টের সংখ্যা হল-

(a)3 টি

(b)2 টি

(c)4 টি

(d)6 টি

20. কোনটি জেরোফাইট উদ্ভিদ-

(a) সুন্দরী

(b) ক্যাকটাস

(c) বট

(d) পদ্ম

21. নিউম্যাটো ফোর কোথায় দেখা যায়-

(a) হ্যালোফাইট উদ্ভিদে

(b) জেরোফাইট উদ্ভিদে

(c) মেসোফাইট উদ্ভিদে

(d) হাইড্রোফাইট উদ্ভিদে

22. নিচের কোনটি মাছের যুগ্ম পাখনা-

(a) শ্রোণি পাখনা

(b) পুচ্ছ  পাখনা

(c) পৃষ্ঠ পাখনা

(d) পায়ু পাখনা

23. নিচের কোন পরিবর্তনটি ঘোড়ার মধ্যে ঘটেনি-

(a) পায়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি

(b) পায়ের সবকটি আঙুলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে বৃদ্ধি

(c) পায়ের তৃতীয় আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে বৃদ্ধি

(d) সমগ্র দেহের আকার বৃদ্ধি

24. নিউম্যাটো ফোর হল-

(a) কাণ্ড রন্ধ্র

(b) শ্বাস রন্ধ্র

(c) পত্র রন্ধ্র

(d) কোনোটিই নয়

25. নিচের কোন প্রয়োজনের জন্য মৌমাছি ওয়াগল নৃত্য করে থাকে-

(a) প্রজনন সঙ্গী খোঁজা

(b) অন্যান্য শ্রমিক মৌমাছিদের মৌচাক থেকে খাদ্যের উৎসের অভিমুখ ও দূরত্ব জানানো

(c) নতুন মৌচাকে স্থান নির্ধারণ করা

(d) সম্ভাব্য শত্রুর আক্রমণ এড়ানো

26. রাসায়নিক বিবর্তনবাদ কার মতবাদ-

(a) ওপারিন

(b) হ্যালডেন

(c) ল্যামার্ক

(d) ওপারিন ও হ্যালডেন

27. পট কর কোথায় রেড গ্রন্থি থাকে-

(a) অগ্র প্রকোষ্ঠে

(b) পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ

(c) উভয় প্রকোষ্ঠে

(d) কোনোটিই নয়

28. নিচের কোনটি একই খাদ্যের জন্য অন্ত প্রজাতিগত সংগ্রাম-

(a) শকুন ও হয়নার মধ্যে সংগ্রাম

(b) ঈগল ও চিলের মধ্যে সংগ্রাম

(c) পুকুরে রুই মাছের মধ্যে সংগ্রাম

(d) বক ও মাছরাঙার মধ্যে সংগ্রাম

29. পায়রার বায়ুথলিতে এয়ার স্যাক থাকে- (a)7 টি (b)9 টি (c)6 টি (d)11 টি

30. পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টির সময় পরিবেশে যে গ্যাসটি অনুপস্থিত ছিল-

(a) হাইড্রোজেন

(b) মিথেন

(c) অ্যামোনিয়া

(d) অক্সিজেন

31. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণ করেন-

(a) ফ্রান্সিস কিক

(b) চার্লস ডারউইন

(c) মিলার ও উরে

(d) রবার্ট হুক

32. একটি লুপ্তপ্রায় অঙ্গ হল-

(a) কক্সিস

(b) মানুষের হৃদপিণ্ড

(c) বাঁদরের যকৃত

(d) পাখির ডানা

33. ব্যবহার এবং অব্যবহার ধারণা প্রবর্তন করেন-

(a) ল্যামার্ক

(b) ডারউইন

(c) ওপারিন

(d) হ্যালডেন

34. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ এর প্রণেতা কে-

(a) ডারউইন

(b) ল্যামার্ক

(c) হুগো দা ভ্রিস

(d) রাসেল ওয়ালেস

35. নিচের কোনটি আন্ত প্রজাতিগত সংগ্রামকে নির্দেশ করে তা শনাক্ত কর-

(a) মশার লার্ভা খাওয়ার জন্য গাপ্পি মাছদের মধ্যে সংগ্রাম

(b) ইঁদুর ধরে খাওয়ার জন্য সাপ ও প্যাঁচার মধ্যে সংগ্রাম

(c) একই জায়গায় ঘাস খাওয়ার জন্য একদল হরিণীদের মধ্যে সংগ্রাম

(d) হরিণ শিকারের জন্য একটি জঙ্গলের বাঘেদের মধ্যে সংগ্রাম।

36. মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত একটি গ্যাস হল-

(a) অক্সিজেন

(b) কার্বন ডাই অক্সাইড

(c) মিথেন

(d) অ্যাসিটিলিন

37. রোমান্থক ঘোড়া হলো-

(a) ইকুয়াস

(b) প্লিওহিপ্পাস

(c) মেসোহিপ্পাস

(d) মেরিচিপ্পাস

38. কোন উদ্ভিদে বাষ্পমোচন হাসে পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়?-

(a) মটর

(b) ডালিয়া

(c) সুন্দরী

(d) ফনিমনসা

39. আদি কোষের অপর নাম হল-

(a) প্রোটোসেল

(b) কোয়াসারভেট

(c) মাইক্রোস্ফিয়ার

(d) হ্যালডেন

40. হট ডাইলিউট সুপ কথাটি প্রথম বলেন-

(a) ওপারিন

(b) হ্যালডেন

(c) ল্যামার্ক

(d) ডারউইন

41. নিচের কোন টি অস্থি যুক্ত মাছের পটকার গ্যাস শোষণ করে নেয়-

(a) রেড গ্রন্থি

(b) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি

(c) অগ্র প্রকোষ্ঠ

(d) রেটিয়া মিরাবিলিয়া

42. নিচের কোনটি সমসংস্থ অঙ্গের বৈশিষ্ট্য-

(a) উৎপত্তিগতভাবে ভিন্ন

(b) গঠনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা

(c) অভিসারী বিবর্তনকে সমর্থন করে

(d) কাজ আলাদা কিন্তু উৎপত্তিগত ভাবে এক

43. উটের অতিরিক্ত জলক্ষয় সহনের ক্ষমতার কারণ নয় কোনটি-

(a) এদের লোহিত রক্তকণিকা লম্বাটে

(b) এদের মল মূত্রে জলের পরিমাণ খুব কম থাকে

(c) এদের প্রচুর ঘর্মগ্রন্থী থাকে না

(d) এদের কুঁজে জল সঞ্চিত থাকে

44. পরিবেশের নানা ইঙ্গিত এর প্রভাবে জীব স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণাধীনে বিভিন্ন ক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে, এই ঘটনাকে কি নামে অভিহিত করা হয়-

(a) জনন

(b) বিবর্তন

(c) আচরণ

(d) পরি ভ্রমণ

45. ‘ফিলোজফি জুওলজিক’ গ্রন্থটির লেখক হলেন-

(a) হেকেল

(b) ল্যামার্ক

(c) ওপারিন

(d) ডারউইন

46. একটি অলিন্দ এবং একটি নিলয় নিয়ে গঠিত হৃৎপিণ্ড যুক্ত প্রাণীটি হল-

(a) মাছ

(b) ব্যাং

(c) সাপ

(d) কুমির

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান এর চতুর্থ অধ্যায় অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর থেকে অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর গুলি এখানে আলোচনা করা হলো। এই প্রশ্নোত্তর গুলি আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ

1. যদি চাহিদা থাকলেই নতুন অঙ্গ সৃষ্টি হতে পারে তাহলে মানুষের আজ দুটি ডানা থাকত ল্যামার্ক এর মতবাদকে খন্ডন করে তোমার ব্যাখ্যা দাও। 

উত্তর: বিজ্ঞানী ল্যামার্ক বলে গেছেন যে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার জন্য কোন জীবের অঙ্গের বিভিন্ন রকম পরিবর্তন ঘটে এবং তা বংশানুক্রমে এক জীব থেকে অন্য জীবে সঞ্চারিত হতে থাকে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে আকাশে ওড়ার জন্য তাহলে আজ দুটি ডানা থাকার কথা। কিন্তু তা মানুষের নেই। এ থেকে স্পষ্ট যে চাহিদা থাকলেও সব সময় নতুন অঙ্গ সৃষ্টি হয় না। 

2. বাষ্পমোচন রোধে ক্যাকটাসের একটি অঙ্গ সংস্থান গত অভিযোজন উল্লেখ কর।

উত্তর: ক্যাকটাসের কান্ড জল শোষণ করে স্ফীত ও রসালো হয়ে পর্নকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। 

3. পেঙ্গুইন রা ওনার জন্য ডানা ব্যবহার না করার কারণে সেগুলি ছোট হয়ে গেছে এটি কোন বিবর্তন ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারো?

উত্তর: পরে আপডেট করা হবে

4. হৃদপিণ্ডে কয়টি প্রকোষ্ঠ থাকে?

উত্তর: তিনটি। দুটি অলিন্দ এবং একটি অর্ধ বিভক্ত নিলয়

5. ঘোড়ার কোন আঙুল ক্ষুরে রূপান্তরিত হয়?

উত্তর: ঘোড়ার তৃতীয় আঙ্গুলটি

6. ঘোড়ার অগ্রপথ ও পাখির ডানা কি প্রকারের অঙ্গ?

উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গ

7. উদ্ভিদের একটি লুপ্তপ্রায় অঙ্গের নাম লেখ। 

উত্তর: কালকাসুন্দা ফুলের নিষ্ক্রিয় পুংকেশর বা স্ট্যামিনোড

8. যোগ্যতমের উদবর্তন কার ধারণা?

উত্তর: ডারউইন

9. প্রাকৃতিক নির্বাচন কার ধারণা?

উত্তর: চার্লস ডারউইন

10. ঊষাকালের ঘোড়া বলা হয় কোন ঘোড়াটিকে?

উত্তর: ইউহিপ্পাস

11. ডারউইনবাদের একজন সমালোচক এর নাম লেখ। 

উত্তর: বিজ্ঞানী গোলস্মিথ

12. রুই মাছকে ভাসতে ও ডুবতে সাহায্য করে কোন অঙ্গ?

উত্তর: পটকা

13. পায়রার খেচর অভিযোজনে বায়ুথলির একটি ভূমিকা লেখ। 

উত্তর: পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে পায়রার দেহকে হালকা করে বাতাসে ভেসে থাকতে সাহায্য করে। 

14. কোয়াসারভেট এর সাথে নিউক্লিক অ্যাসিড যুক্ত হলে তাকে কি বলা হয়?

উত্তর: প্রোটোসেল

15. মেরিচিপ্পাস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর: মায়সিন

16. পায়রার বায়ুথলির সংখ্যা কটি?

উত্তর: 9 টি

17. মৌমাছির নৃত্য কয় প্রকার?

উত্তর: দুই প্রকার যথা-ওয়াগল নৃত্য ও রাউন্ড ড্যান্স

18. কেমোজেনি তত্ত্ব দেন কোন কোন বিজ্ঞানী?

উত্তর: ওপারিন ও হ্যালডেন

19. শর্করার রাসায়নিক উপাদানগুলি কি ছিল?

উত্তর: গ্লুকোজ, সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ

20. ডারউইন যে জাহাজে করে ভ্রমণ করেছিলেন তার নাম কি ছিল?

উত্তর: HMS BEAGLE

21. ল্যামার্কের বিপক্ষে কোন বিজ্ঞানী মত পোষণ করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ভাইসম্যান

22. কোন প্রাণীর হৃৎপিণ্ডকে ভেনাস হৃদপিন্ড বলে?

উত্তর: মাছ

23. শ্বাসমূল কোন গাছে দেখা যায়?

উত্তর: সুন্দরী গাছ

24. শিম্পাঞ্জিরা কিভাবে শক্ত খোলা ভেঙ্গে বাদাম খায়?

উত্তর: পাথরকে হাতুড়ির মতো ব্যবহার করে শিম্পাঞ্জিরা শক্ত খোলা ভাঙে

25. মিউটেশন তত্ত্ব এর প্রবক্তা কে ছিলেন?

উত্তর: হুগো দ্য ভ্রিস

26. সমসংস্থ অঙ্গ কোন ধরনের বিবর্তনকে সমর্থন করে?

উত্তর: অপসারী বিবর্তন

27. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কোন ধরনের বিবর্তনকে সমর্থন করে?

উত্তর: অভিসারী বিবর্তন

28. আধুনিক ঘোড়ার নাম কি?

উত্তর: ইকুয়াস

29. ডারউইনের গ্রন্থের নাম কি?

উত্তর:‘On the Origin of Species by Means of Natural Selection’

30. একটি সমবৃত্তীয় অঙ্গে উদাহরণ দাও?

উত্তর: পতঙ্গের ডানা, বাদুড়ের ডানা, পাখির ডানা

31. লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের একটি অভিযোজন উল্লেখ কর। 

উত্তর: সুন্দরী গাছের পাতায় লবণ শোষণ করে রাখার জন্য লবণ গ্রন্থি থাকে। 

32. কোয়াসারভেট এর প্রবক্তা কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী ওপারিন

33. মাইক্রোস্ফিয়ারের প্রবক্তা কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী ফক্স

34. নারকেলের নিষ্ক্রিয় গর্ভকেশর কে কি বলা হয়?

উত্তর: পিস্টিনোড

35. জীবন উৎপত্তির আদি পর্যায় কোনটি কিছু বৃহৎ অণুর সমন্বয় ছিল?

উত্তর: কোয়াসারভেট

36. কোন বিজ্ঞানী মৌমাছিদের নৃত্যের ভাষা আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান?

উত্তর: বিজ্ঞানী কার্ল ভন ফিশ

37. উটের পাকস্থলীতে জল সঞ্চয়ের জন্য কি থাকে?

উত্তর: ওয়াটার স্যাক

38. শিম্পাঞ্জিরা পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে কি করে?

উত্তর: শিম্পাঞ্জিরা বিভিন্ন ধরনের ভেষজ উদ্ভিদ খুঁজে এনে ভক্ষণ করে

39. কোন বিজ্ঞানী শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে অনেক বছর কাটিয়েছিলেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী জেন গুডাল

40. পায়রার চোখে কোন অঙ্গ থাকে দূর থেকে কোন কিছু দেখার জন্য?

উত্তর: পেকটিন নামক অঙ্গ

41. পায়রার দেহকে হালকা করার জন্য কি কি থাকে না?

উত্তর: চোয়ালের দাঁত, পৌষ্টিকতন্ত্রে পাকস্থলী, পিত্তাশয়, রেচনতন্ত্রের মুত্রাশয়, ডান ডিম্বাশয় ও ডান ডিম্বনালী

42. উট একসাথে প্রায় কত গ্যালন জল পান করতে পারে?

উত্তর: 25-32 গ্যালন

43. উটের লোহিত রক্ত কণিকা প্রায় কত শতাংশ প্রসারিত হতে পারে?

উত্তর: 240%

44. উটের লোহিত রক্তকণিকার আকৃতি কেমন হয়?

উত্তর: ডিম্বাকার

45. ক্যাকটাসের দেহে স্থূল , চ্যাপ্টা, রসালো, সবুজ কান্ডকে কি বলে?

উত্তর: পর্ণ কান্ড বা ফাইলোক্লেড

46. ব্যক্তবীজী ও গুপ্তবীজী উদ্ভিদের সংযোগী উদ্ভিদ এর নাম লেখ। 

উত্তর: নিটাম

47. কোন প্রাণী অঙ্গুরী মাল ও সন্ধিপদ-প্রাণীদের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে?

উত্তর: পেরিপেটাস

48. স্তন্যপায়ী ও সরীসৃপ দের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি প্রাণীর নাম লেখ। 

উত্তর: প্লাটিপাস

49. কোন উদ্ভিদকে জেরোফাইট উদ্ভিদ বলে?

উত্তর: ক্যাকটাস

50. কালকাসুন্দা ফুলে কটি নিষ্ক্রিয় পুংকেশর থাকে?

উত্তর: কালকাসুন্দা ফুলে 10 টি পুংকেশরের মধ্যে 4 টি নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ্যা

51. কোন বিজ্ঞানী বায়োজেনেটিক সূত্র প্রবর্তন করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী হেকেল

52. কোন ঘোড়ায় প্রথম খুরের আবির্ভাব ঘটে?

উত্তর:মেরিচিপ্পাস

53. আধুনিক ঘোড়ার উচ্চতা কত?

উত্তর: 150 সেমি

54. একটি জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ দাও।  

উত্তর: প্লাটিপাস

55. জীবন্ত জীবাশ্ম কি?

উত্তর: যেসব জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে  বিরাজমান তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 

56. হোমোলগি কি?

উত্তর: বিভিন্ন জীব প্রজাতিতে প্রাপ্ত সমসংস্থ অঙ্গ অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ গঠন সাদৃশ্য যুক্ত অঙ্গ সৃষ্টির ঘটনাকে হোমোলগি বলে। 

57. অ্যানালগি কি?

উত্তর: সমবৃত্তীয় অঙ্গ সৃষ্টি ঘটনাকে বলা হয় অ্যানালগি। 

58. আঙুর লতার আকর্ষ এবং বৈঁচি গাছের কন্টক কি ধরনের অঙ্গ?

উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গ

59. পেঁয়াজের স্বল্প পত্র ও ক্যাকটাসের পত্রকন্টক কি ধরনের অঙ্গ?

উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গ

60. মটরের আকর্ষ এবং আঙ্গুলতার আকর্ষ কি ধরনের অঙ্গ?

উত্তর: সমবৃত্তীয় অঙ্গ

61.  ডারউইন আটলান্টিক মহাসাগরের কোন দ্বীপে ভ্রমণ করেছিলেন?

উত্তর:  গ্যালাপোগাস

62. ল্যামার্কের সম্পূর্ণ নাম কি?

উত্তর: জাঁ ব্যাপটিস্ট দ্য মনেট ল্যামার্ক

63. ল্যামার্কের মতবাদকে কি বলা হয়?

উত্তর: ল্যামার্ক বাদ

64. বিজ্ঞানী ভাইসম্যান লেজবিহীন ইঁদুরের উপর কতজনু ধরে পরীক্ষা করেছিলেন?

উত্তর: 35 জনু

65. বিজ্ঞানী মিলার ও উড়ে তাদের পরীক্ষার জন্য কোন কোন গ্যাস নিয়েছিলেন?

উত্তর: মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন

66. মিলার ও উরের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস গুলির অনুপাত কত ছিল?

উত্তর: মিথেন: অ্যামোনিয়া: হাইড্রোজেন=2:2:1

67. মিলার ও উরের পরীক্ষায় উৎপন্ন দুটি পদার্থের নাম লেখ। 

উত্তর: গ্লাইসিন, আলফা অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড

68. প্রায় কত কোটি বছর আগে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল?

উত্তর: 450 কোটি বছর আগে

69. প্রায় কত লক্ষ বছর আগে মানুষের সৃষ্টি হয়েছিল?

উত্তর: 1 লক্ষ

70. কোন বিজ্ঞানী ‘EVOLUTION’ কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন?

উত্তর: হারবার্ট স্পেনসার

71. ওপারিন ও হ্যালডেনের মতবাদকে কি বলা হয়?

উত্তর: রাসায়নিক বিবর্তনবাদ

72. মিলার ও উরে তাদের পরীক্ষায় প্রাপ্ত পদার্থ গুলিকে কোন পদ্ধতিতে শনাক্ত করেছিলেন?

উত্তর: ক্রোমাটোগ্রাফি

73. সিডনি ফক্সের মতে অনেকগুলি অ্যামাইনো অ্যাসিড যুক্ত কি গঠন করেছিল?

উত্তর: প্রথমে প্রোটিনয়েড ও পরে মাইক্রোস্ফিয়ার

74. ইকুয়াস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর: প্লিস্টোসিন

75. প্লিয়োহিপ্পাস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর: প্লায়োসিন

76. ইওহিপ্পাস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর:ইওসিন

77.মেরিচিপ্পাস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর:মায়োসিন

78.মেসো হিপ্পাস কোন যুগের ঘোড়া?

উত্তর:অলিগোসিন

79. প্রত্ন জীব বিদ্যা কি?

উত্তর: জীব বিদ্যার যে শাখায় জীবাশ্ম নমুনা নিরীক্ষণ করে জীবের অতীত ও অভিব্যক্তি সম্বন্ধে ধারণা করা হয় তাকে প্রত্ন জীববিদ্যা বলে। 

80. একটি উদ্ভিদ জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ দাও।  

উত্তর:গিংকো বাইলোবা

81.‘Ontogeny Repeats Phylogeny’ কথাটির প্রবর্তক কে?

উত্তর: বিজ্ঞানী হেকেল

82. প্রোটিন বিহীন RNA কে কি বলে?

উত্তর: নগ্ন জিন

83. জার্মপ্লাজম বাদ কার মতবাদ?

উত্তর: বিজ্ঞানী ভাইসম্যান

84. পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি মিসিং লিঙ্কের উদাহরণ দাও

উত্তর: আর্কিওপটেরিক্স

85. তিমির ফ্লিপার ও মানুষের হাত কি ধরনের অঙ্গ?

উত্তর: সমসংস্থ অঙ্গ

86. ওপারিন রচিত বইটির নাম লেখ। 

উত্তর: ‘Origin of life on Earth’

87. প্রথম প্রাণের সঞ্চার ঘটেছিল কার মধ্যে?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে

88. উচ্চ উষ্ণতায় পদার্থের দ্রুত প্রসারণকে কি বলে?

উত্তর: বিগ ব্যাং

89. পৃথিবীর আদি পরিবেশ কেমন ছিল?

উত্তর: বিজারণ ধর্মী

90. কত কোটি বছর আগে জীবের উৎপত্তি ঘটেছিল?

উত্তর: 300 কোটি বছর আগে

91.‘EVOLUTION’ কথাটির আক্ষরিক অর্থ লেখ। 

উত্তর: ক্রম বিকাশ

92. জীব বিদ্যা শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?

উত্তর: ল্যামার্ক

93. সৃষ্টির আদিকালে পৃথিবীর উষ্ণতা কত ছিল?

উত্তর: 5000-6000°C

94. ডারউইন এর মতে কোন জীবেরা পৃথিবীতে টিকে থাকার সুযোগ পায়?

উত্তর: অনুকূল ভেদ সম্পন্ন জীবেরা

95. জীবের পপুলেশনে কখন অভিব্যক্তি ঘটে?

উত্তর: প্রকরণ বা ভেদ থাকলে

96. উটের দেহে জল পাওয়া যায় কোন বিপাকের ফলে?

উত্তর: ফ্যাট বিপাকের ফলে

97. মৌচাকে যে দু প্রকার করবি মৌমাছি থাকে তাদের নাম লেখ। 

উত্তর: স্কাউট মৌমাছি ও ফোরেযার মৌমাছি

98. কোন অঙ্গ মাছের শ্বাসকার্য সাহায্য করে?

উত্তর: ফুলকা

99. মাছের উদস্থৈতিক অঙ্গ কোনটি?

উত্তর: পটকা

100. ওয়াগল নৃত্য কোন ইংরেজি সংখ্যার ন্যায় হয়?

উত্তর: ‘8’ আকৃতির ন্যায়

[ আরোও দেখুন:- Madhyamik All Subjects Suggestion 2024 Click here ]

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান এর চতুর্থ অধ্যায় অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর 2025 থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও তাদের উত্তরগুলি আলোচনা করা হলো। এই প্রশ্নোত্তর গুলি আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ

1. জৈব অভিব্যক্তি কাকে বলে? 

 উত্তর: যে মন্থর ও গতিশীল ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় কোন উদবংশীয় সরলতম জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল জীবের উদ্ভব হয় তাকে জৈব অভিব্যক্তি বলে। 

2. গরম তরল সুপ কিভাবে তৈরি হয়েছিল?

উত্তর: প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণ উৎপত্তির পূর্বে প্রথম প্রাণকনা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান গুলি সমুদ্রের উত্তপ্ত জলে অবস্থান করতো। হ্যালডেনের মতে এইসব জৈব যৌগগুলি সমুদ্রের জলে মিশে গরম তরল সুপ বা হট ডাইলিউট স্যুপ নামক তরল রূপে অবস্থান করত। 

3. মাইক্রোস্ফিয়ার মডেল কাকে বলে?

উত্তর: বিজ্ঞানী সিডনি ফক্সের মতানুসারে প্রাচীন পৃথিবীতে সমুদ্রের মধ্যে অনেকগুলি অ্যামাইনো অ্যাসিড যুক্ত হয়ে প্রথমে প্রোটিনয়েড এবং পরে মাইক্রোস্ফিয়ার তৈরি হয়। তার মতে কোয়াসারভেট নয় মাইক্রোস্ফিয়ার এই প্রথম প্রাণের উৎপত্তি ঘটে।

প্রাচীন পৃথিবীতে দ্বিলিপিড পদাবৃত, ATP ব্যবহারে সক্ষম, বৃদ্ধি ও বিভাজনক্ষম যে জৈব গঠন থেকে বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স প্রথম প্রাণ সৃষ্টি হয়েছিল বলে বর্ণনা করেন তাকে মাইক্রোস্ফিয়ার বলে।

4. অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্রটি ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর: ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্ক তার ‘ফিলোজফি জুওলজিক’ গ্রন্থে অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্রটির কথা উল্লেখ করেন। তার মতে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার উদ্দেশ্যে জীবদেহের কোন কোন অঙ্গের ব্যবহার বেশি হয় কিন্তু কোন কোন অঙ্গের আবার ব্যবহার কম হয়।

ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট অঙ্গ বা অঙ্গগুলি ও সুগঠিত হয়। অপরপক্ষে, ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে অব্যবহৃত অঙ্গগুলি দুর্বল ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কালক্রমে অবলুপ্ত হয়।

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

5. অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ কিভাবে ঘটে?

উত্তর: ল্যামার্কের মতে পরিবেশের প্রভাবে জীবের জীবনকালে যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা পরবর্তী প্রজন্মের জীবের সঞ্চারিত হয়। 

এইভাবে প্রতি প্রজন্মে অর্জিত সামান্য মাত্রার পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে জমা হতে হতে একসময় তা একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দেয়। এইভাবেই অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে। 

6. প্রাকৃতিক নির্বাচন বাদ কাকে বলে?

উত্তর: বিজ্ঞানী ডারউইনের মতে যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় অনুকূল ভেদ বা অভিযোজনমূলক ভেদ সমন্বিত জীবেরা অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অধিক সুযোগ সুবিধা লাভ করে তাকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।

অনুকূল ভেদ সমন্বিত জীবেরা প্রকৃতি যারা নির্বাচিত হলে বেঁচে থাকে এবং অধিক হারে বংশবৃদ্ধি করে; অপরদিকে প্রতিকূল ভেদ সমন্বিত জীবেরা প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত হয় না বলে পরাজিত সৈনিকের মতো ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়।

7. নয়াডারউইন বাদ কি?

উত্তর: হুগো দা ভ্রিস,গোল্ডস্মিথ, হ্যালডেন প্রভৃতি বিজ্ঞানীরা আণবিক জীববিদ্যা ,জেনেটিক্স ,বাস্তুবিদ্যা প্রভৃতি আধুনিক জীববিজ্ঞানের আলোতে ডারউইনবাদ ব্যাখ্যা করেন, একে নয়াডারউইন বাদ বলে।

8. সমবৃত্তীয় অঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর: যেসব অঙ্গ একই কাজ করে কিন্তু উৎপত্তি ও গঠন আলাদা তাদের সমবৃত্তিয় অঙ্গ বলে। যেমন-পতঙ্গের ডানা, বাদুরের ডানা ও পাখির ডানা

9. সমসংস্থ অঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর: যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন-আঙুর লতার আকর্ষ ও বৈঁচি গাছের কন্টক। 

10. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর: জীবদেহের যেসব অঙ্গ তাদের পূর্বপুরুষদের দেহে সক্রিয় থাকলেও খাদ্যাভাসের পরিবর্তন ,পরিবেশগত অভিযোজনের প্রয়োজনে এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজের সুবিধার জন্য অঙ্গগুলির ব্যবহার না হতে থাকায় ক্রমে ক্রমে তাদের কার্যকারিতা লোপ পেয়েছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। যেমন-মানুষের কক্সিস। 

11. উভচর, সরীসৃপ ,পক্ষীর হৃদপিন্ডের বৈশিষ্ট্য কি?

উত্তর: উভচর প্রাণীদের হৃদপিন্ডে তিনটি প্রকোষ্ঠ থাকে, যথা-ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ, একটি নিলয়। 

সরীসৃপ প্রাণীদের হৃদপিণ্ড অসম্পূর্ণ হবে চারটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত, যথা-ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ ও একটি অসম্পূর্ণ ভাবে বিভক্ত নিলয়। 

পক্ষীর হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত, যথা-দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।

12. ভেনাস হৃদপিণ্ড কাকে বলে ?

উত্তর: মাছের হৃদপিণ্ড দুটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত, যথা-একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়। গঠনগতভাবে এই হৃদপিণ্ড খুবই সরল। এই হৃদপিন্ডের মধ্যে দিয়ে কেবল অধিক কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত রক্ত সংবাহিত হয় জলে বসবাসের ক্ষেত্রে উপযুক্ত। মাছের এই হৃদপিণ্ডকে ভেনাস হৃদপিণ্ড বলে। 

13. ভ্রুণ অবস্থায় মেরুদন্ডী প্রাণীদের কি কি মিল খুঁজে পাওয়া যায়?

উত্তর: ভ্রুণ অবস্থায় মেরুদন্ডী প্রাণীদের ফুলকা খাঁজ, ফুলকা থলি, লেজ সদৃশ মায়টোম পেশি প্রভৃতি উপস্থিত থাকে। 

14. রুই মাছের পটকার কাজ কি?

উত্তর: রুই মাছের পটকার কাজ হল-

  • (1) উদস্থিতি:-অগ্র প্রকোষ্ঠের রেড গ্রন্থি অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন করলে মাছের দেহ হালকা হয়। ও মাছ জলে ভাসতে পারে। পশ্চাদ প্রকোষ্ঠের রেটিয়া মীরাবিলিয়া গ্যাস শুসে নিলে মাছের দেহ ভারি হয়ে যায় ও মাছ জলের গভীরে চলে যায়। অর্থাৎ পটকা মাছের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে বা বাড়িয়ে যথাক্রমে মাছকে জলের উপরে ভাসতে বা জলের গভীরে নামতে অথবা জলের যে কোন অবস্থানে স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করে।
  • (2) ভরকেন্দ্র:-পটকার এক প্রকোষ্ঠ থেকে গ্যাস অন্য প্রকোষ্ঠ স্থানান্তরিত করে দেহের সঠিক ভারকেন্দ্র বজায় রাখে। এতে মাছের গমনের সুবিধা হয়।  
15. পায়রার বায়ুথলির দুটি গুরুত্ব লেখো। 

উত্তর: (1) বায়ু থলিগুলি বায়ুপূর্ণ হলে পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে দেহকে হালকা করে। ফলে পায়রা সহজে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে। 

  • (2) বায়ু থলিগুলি দেহের দুই পাশে এমনভাবে সাজানো থাকে যাতে ওড়ার সময় পায়রার দেহের ভারকেন্দ্র ঠিকভাবে স্থাপিত হয়। 
  • (3) বায়ু থলি গুলি উদয়নকালে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে।  
16. সুন্দরী গাছ তার দেহের অতিরিক্ত লবণ কিভাবে রেচিত করে?

উত্তর: (1) সুন্দরী গাছ মূল দ্বারা লবণাক্ত জল পরিশ্রুত করে এবং অতিরিক্ত লবণ ত্যাগ করে। 

  • (2) জলের মাধ্যমে শোষণ করা লবণ পাতার লবণ গ্রন্থি ও মূলের মাধ্যমে দেহ থেকে বার করে দিয়ে লবণের বিষক্রিয়া থেকে উদ্ভিদকে রক্ষা করে। 
  • (3) সুন্দরী গাছের কোষগুলির ভ্যাকুওল কোষের প্রায় 90% জায়গা দখল করে থাকে। ভ্যাকুওল এর কোষরসে এরা লবণ জমা রেখে কোষের অন্যান্য অংশকে বিষক্রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। 
17. শিম্পাঞ্জির কতগুলি আচরণ উল্লেখ কর। 

উত্তর: (1) শিম্পাঞ্জিরা উই ঢিবির সন্ধান পেলে গাছের শাখা দিয়ে একটি লাঠির মত দণ্ড তৈরি করে নেয়।  এই দন্ডের ছোঁচালো প্রান্তটিকে উই এর ঢিবির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় উই পোকা গুলি যখন লাঠি বেয়ে সারিবদ্ধ ভাবে বাইরে বেরিয়ে আসে শিম্পাঞ্জি তখন মহানন্দে তার ভোজ ছাড়ে। 

  • (2) শিম্পাঞ্জিরা শক্ত কাঠ বা পাথরের টুকরোকে হাতুড়ির মতো ব্যবহার করে বাদামের খোসা ছাড়ায়। 
18. মৌমাছিদের একটি আচরণ লেখো। 
Honeybee-Dance-Communication Karl-von-Frisch
মৌমাছির নৃত্যের মাধ্যমে বার্তা আদানপ্রদান Honeybee Dance Communication — Karl von Frisch
(আচরণগত অভিযোজন — Behavioral Adaptation)

উত্তর: শ্রমিক মৌমাছিরা খাবারের সন্ধানে দূরদূরান্তে উড়ে যায়, খাবারের খোঁজ পেলে মৌচাকে তারা ফিরে আসে এবং বিশেষ ধরনের নৃত্য পরিবেশন করে এই নৃত্যের মহড়া দেখতে যদি ইংরেজি 8 অক্ষরের ন্যায় হয় তখন বুঝতে হবে যে তাদের খাদ্যের অবস্থান মৌচাক থেকে 100 মিটারের দূরে।

এই নিত্যকে ওয়াগ টেল নৃত্য বলে। আবার মৌমাছিটি যদি চক্রাকারে নৃত্য করে তখন বুঝতে হবে যে খাদ্যের অবস্থান মৌচাক থেকে 100 মিটারের মধ্যে। একে চক্রাকার নৃত্য বলে। 

19. উটের লোহিত রক্তকণিকার বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: (1) উটের লোহিত্য কণিকা গুলি ডিম্বাকার এবং নিউক্লিয়াসবিহীন হয়। 

  • (2) উট যখন অধিক মাত্রায় জল পান করে তখন তাদের লোহিত রক্তকণিকা গুলি প্রায় 240% পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে এবং সহজে বিদীর্ণ হয় না।
20. উটের জল নিরুদন হ্রাস করার জন্য এই দুটি অভিযোজন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর। 

উত্তর: (1) এদের দেহত্ত্বক থেকে বাষ্পীভবন প্রতিরোধ করার জন্য চামড়া খুবই পুরু এবং রোম যুক্ত হয়। 

  • (2) নিঃশ্বাসের সঙ্গে জলীয় বাষ্প যাতে বেরিয়ে না যায় সেই কারণে উষ্ণ নিঃশ্বাসকে নাসা পথে ঠান্ডা করে ত্যাগ করে। হলে নাশা পথে জল ঘনিভূত হয়। এবং নাসা পথের কোষগুলি জল শোষণ করে নেয়। 
  • (3) এদের কুঁজে সঞ্চিত ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ায় বিশ্লিষ্ট হয়ে জল উৎপন্ন করে সারা দেহ কোষে সরবরাহ করে।
21. কেমোজেনি কাকে বলে?

উত্তর: প্রাচীন পৃথিবীতে বিভিন্ন মহাজাগতিক শক্তির প্রভাবে সরল অজৈব যৌগ থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রমাগত পরিবর্তনের ফলে জটিল জৈব যৌগের উৎপত্তি হওয়াকে রাসায়নিক বিবর্তন বা কেমোজেনি বলে।

22. মিলার ও উরের পরীক্ষা থেকে কী সিদ্ধান্তে আসা যায়?

উত্তর: মিলার ও উরে তাঁদের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে, ওপারিন ও হালডেনের মতবাদ সত্যিনা। সেই মতবাদ অনুসারে, সকল জৈব যৌগগুলি আস্তে আস্তে জটিল যৌগ উৎপন্ন করে। তাঁদের পরীক্ষায় মিথেন, অ্যামোনিয়া ও হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে তাঁরা বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফর্মিক অ্যাসিড ও ইউরিয়া তৈরি করতে পেরেছিলেন।

এই পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আদি পৃথিবীতে অজৈব যৌগ থেকে জৈব যৌগের উৎপত্তি ঘটে।

23. কোয়াসারভেট কী?

উত্তর: সমুদ্রের জলে গরম তরল স্যুপে বিভিন্ন জৈব যৌগ যেমন প্রোটিন, লিপিড, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি পরস্পর বিক্রিয়া করে যে বৃহৎ কোলেয়ডজাতীয় পদার্থ গঠিত হয়েছিল, তাকে কোয়াসারভেট বলে। বিজ্ঞানী ওপারিনের মতে, কোয়াসারভেটের সঙ্গে প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিড বিক্রিয়া করে প্রোটোবায়োন্ট সৃষ্টি হয়, যা থেকে আদিকোষের উৎপত্তি ঘটে।

24. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উত্তর: জীবের পূর্বপুরুষের দেহের যেসমস্ত কার্যকারী অঙ্গ ক্রমাগত অব্যবহারের ফলে কর্মক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে কার্যহীন বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গে পরিণত হয়েছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। উদাহরণ — মানুষের আপেনডিক্স, উটপাখির লুপ্তপ্রায় ডানা (প্রাণী); কালকাসুন্দার স্ট্যামিনোড বা বন্ধ্যা পুংকেশর (উদ্ভিদ)

25. কাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: মরু অঞ্চলে জলের অভাব থাকায় কাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে। কারণ পাতার মাধ্যমে সর্বাধিক বাষ্পমোচন হয়। পাতা কাঁটায় পরিণত হলে বাষ্পমোচনের পরিমাণ কমে এবং জল সংরক্ষিত হয়। এ ছাড়া কাঁটাগুলি শাকাহারী প্রাণীদের হাত থেকে কাকটাসকে রক্ষা করে।

26. ঘোড়ার বিবর্তনের ধারাবাহিক পথটি তীরচিহ্নের সাহায্যে দেখাও।

উত্তর: ঘোড়ার পূর্বপুরুষ থেকে আধুনিক ঘোড়ার বিবর্তনের পথটি হল — ইওহিপ্পাস → মেসোহিপ্পাস → মেরিচিপ্পাস → প্লায়োহিপ্পাস → ইকুয়াস (আধুনিক ঘোড়া)

27. উটের লোহিত রক্তকণিকার বিশেষ অভিযোজন কী?

উত্তর: উটের লোহিত রক্তকণিকাগুলি (RBC) অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় আকারে অনেক ছোটো হয়। জলের অভাবে শুষ্ক রক্তবাহের মধ্যে দিয়ে চলাচল করার জন্য এই ছোটো RBC বিশেষভাবে উপযুক্ত। আবার যখন একসাথে প্রচুর জল পান করে, তখন RBC প্রয়োজনমতো প্রসারিত হতে পারে (২৪০% পর্যন্ত) — ফেটে যায় না।

 আরোও দেখুন:- Madhyamik All Subjects Suggestion 2024 Click here ]

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান চতুর্থ অধ্যায় অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর থেকে রচনাধর্মী যে প্রশ্নগুলো আছে তার মধ্যে বাছাই কিছু প্রশ্ন ও তাদের উত্তর এখানে আলোচনা করা হলো। এই অংশটি ক্রমশ সংযোজিত হতে থাকবে।

1. রাসায়নিক সংশ্লেষ মতবাদ ব্যাখ্যা করার জন্য মিলার ও উরের পরীক্ষাটি বর্ণনা কর।      

উত্তর:- পরীক্ষা:- প্রথমে মিলার ও উরে একটি বড় গোলাকার কাচের ফ্লাস্কে মিথেন, অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন গ্যাস 2:2:1 অনুপাতে জলীয় বাষ্পের মধ্যে রাখেন। ছোট গুলোতল ফ্লাস্ক থেকে ফোটানো জল বাষ্প রূপে নলের মাধ্যমে গোলাকার ফ্লাস্ক এ আসে।

টাংস্টেন ইলেক্ট্রোডের সাহায্যে বড় গোলাকার ফ্লাস্কে 6000 ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রয়োগ করা হয়। ছোট ফ্লাস্কের জলকে ক্রমাগত উত্তপ্ত করার ফলে জলীয় বাষ্প প্রবাহিত হতে থাকে। ঘনীভবন যন্ত্রে উৎপন্ন জৈব যৌগ ‘U’ আকৃতির নলে জলীয় মাধ্যমে জমা হয়। এক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনা চলার পর উৎপন্ন যৌগকে ক্রোমাটোগ্রাফি এবং বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে শ নাক্ত করা হয়।  

পরীক্ষার ফলাফল:- উৎপন্ন পদার্থ গুলি ছিল গ্লাইসিন, আলফা অ্যালানিন, বিটা অ্যালানিন, অ্যাসপারটিক অ্যাসিড, আলফা অ্যামিনোবিউটাইরিক অ্যাসিড। পরবর্তী সময়কালে মিলারের ছাত্র এবং অন্যান্যরা প্রায় 20 টি অ্যামিনো অ্যাসিড ও অন্যান্য জৈব অ্যাসিড ওই পরীক্ষা ব্যবস্থা থেকে আবিষ্কার করেন।

এই পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় প্রাচীন পৃথিবীতে অক্সিজেন বিহীন বিচারক পরিবেশে বজ্রপাত, অতি বেগুনি রশ্মি, অগ্নুৎপাতের তাপ শক্তির উপস্থিতিতে জলীয় বাষ্প, মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন প্রভৃতির বিক্রিয়ার ফলে জটিল যৌগের সৃষ্টি হয়। এই পরীক্ষায় প্রাপ্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড গুলি জীবের দেহ গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। 

2. ল্যামার্কের মতবাদ যেসব তত্ত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ। 

উত্তর:-   ফরাসি বিজ্ঞানী ল্যামার্ক তার ফিলোসপি জুওলজিক নমক গ্রন্থে সর্বপ্রথম অভিব্যক্তি সংক্রান্ত মতবাদ প্রকাশ করেন।  তার মতবাদটি হল নিম্নরূপ। 

(1)পরিবেশের প্রভাব:- ল্যামার্কের মতে জীবদেহের গঠনগত পরিবর্তনে পরিবেশের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে জীবের স্বভাব ও দেহেরও পরিবর্তন ঘটে। পরিবেশের পরিবর্তন মাটি, খাদ্য ও তাপমাত্রার উপর প্রভাব ফেলে যার ফলে প্রাণীরা একস্থান থেকে অন্যস্থানে অভিজান করে থাকে। 

(2) অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র:- পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার উদ্দেশ্যে জীব দেহের কোন কোন অঙ্গের বেশি মাত্রায় ব্যবহার ঘটে আবার কোন কোন অঙ্গের ব্যবহার কমে যায়। ফলে ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে নির্দিষ্ট অঙ্গ গুলি সবল ও সুগঠিত হয়। অপরপক্ষে ক্রমাগত না ব্যবহার করার ফলে অন্যান্য অঙ্গ গুলি দুর্বল ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়।

(3) অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার সূত্র:- পরিবেশের প্রভাবে জীবের জীবনকালে যেসব বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয় তা পরবর্তী প্রজন্মের জীবের সঞ্চারিত হয়। এইভাবে প্রতি প্রজন্মে অর্জিত সামান্য মাত্রার পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মে জমা হতে হতে কালক্রমে তার একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা দেয়। এইভাবে জীবের বিবর্তন ঘটে। 

(4) নতুন প্রজাতির উৎপত্তি:- ল্যামার্কের তথ্য অনুযায়ী অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণের ফলে এবং প্রতি জনুতে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হওয়ার ফলে ধীরে ধীরে একটি প্রজাতি থেকে আরেকটি নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। 

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

3. মেরুদন্ডী প্রাণীদের হৃদপিন্ডের গঠন কিভাবে অভিব্যক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় তা বুঝিয়ে লেখ। 

উত্তর- মেরুদন্ডী প্রাণীদের হৃদপিন্ডের গঠন গর্ত জটিলতা ভিন্ন ভিন্ন হলেও এদের মূল কাঠামো একই প্রকার। নিচে মেরুদন্ডী প্রাণীর হৃদপিন্ডের তুলনামূলক গঠন আলোচনা করা হলো-

প্রত্যেক মেরুদন্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ড মূলত দুটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত। যথা-রক্ত গ্রহণকারী প্রকোষ্ঠ বা অলিন্দ এবং রক্ত প্রেরণকারী প্রকোষ্ঠ বা নিলয়। অলিন্দে সারা দেহের রক্ত গৃহীত হয় এবং নিলয় থেকে রক্ত সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। এবার মেরুদন্ডী শ্রেণীর প্রাণীদের হৃদপিন্ডের গঠন নিম্নে আলোচনা করা হলো। 

মাছ:- মাছের হৃদপিণ্ড দুটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত। যথা-একটি অলিন্দ এবং একটি নিলয়। এই হৃদপিণ্ড খুবই সরল। এই হৃদপিন্ডের মধ্যে দিয়ে কেবল অধিক কার্বন ডাই অক্সাইডযুক্ত রক্ত প্রবাহিত হতে পারে। 

উভচর:- এদের হৃদপিণ্ড তিনটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত-ডান অলিন্দ, বাম অলিন্দ এবং একটি নিলয়। মাছ অপেক্ষা এদের হৃদপিণ্ড কিছুটা উন্নত হলেও এদের নিলয় অধিক কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত ও অধিক অক্সিজেন যুক্ত রক্তের মিশ্রণ ঘটে। 

সরীসৃপ:- এদের হৃৎপিণ্ডটি অসম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত-ডান অলিন্দ ,বাম অলিন্দ এবং নিলয়টি অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত। হৃদপিণ্ড অসম্পূর্ণ প্রাচীর থাকায় দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ আংশিকভাবে বন্ধ হয়। 

পক্ষী ও স্তন্যপায়ী:- এদের হৃদপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠ যুক্ত-দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়। ঈদের হৃৎপিণ্ডে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্তের মিশ্রণ ঘটে না।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে হৃৎপিণ্ডের মৌলিক গঠন বা কাঠামো সকল মেরুদন্ডী শ্রেণীতে একি শুধুমাত্র গঠনগত জটিলতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অধিক অক্সিজেনযুক্ত রক্তের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেই জন্যই হৃৎপিণ্ডের গঠনগত জটিলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলেই মাছের হৃৎপিণ্ড সরল এবং পক্ষী ও স্তন্যপায় হৃৎপিণ্ড অধিক জটিল। 

মন্তব্য:-সকল মেরুদন্ডী প্রাণীর হৃদপিন্ডের মৌলিক গঠন কাঠামো এক হওয়ায় এটি মেরুদন্ডী প্রাণীদের একই উদবংশীয় জীব থেকে অবির্ভূত হওয়াকে নির্দেশ করে। তাই এটির জৈব অভিব্যক্তির মত কে সমর্থন করে। 

(4) অভিব্যক্তির স্বপক্ষে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ ঘটিত প্রমাণ ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর:- জীবদেহের যেসব অঙ্গ তাদের পূর্বপুরুষদের দেহে সক্রিয় ছিল কিন্তু খাদ্যাভাসের পরিবর্তনের জন্য, পরিবেশগত অভিযোজন এর প্রয়োজনে এবং অন্যান্য শারিরবৃত্তীয় কাজের সুবিধার জন্য ব্যবহার না হতে থাকায় ক্রমে তাদের লোপ পেয়েছে তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।

মানুষের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ:-

(1) অ্যাপেনন্ডিক্স:-মানুষের সিকাম ও সিকাম সংলগ্ন অ্যাপেনডিক্স নিষ্ক্রিয় বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গ। 

(2) কক্সিস:-মানুষের মেরুদন্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত চারটি কক্সিজিয়াল কশেরুকা মিলিত হয়ে যে অস্থিটি গঠন করে সেটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ। 

(3) প্লিকা সেমিলুনারিস:-মানুষের চোখের কোনায় লাল রঙের ক্ষুদ্র মাংসল অঙ্গ। 

অন্যান্য প্রাণীতে সক্রিয় অঙ্গ:-

(1) তৃণভোজী প্রাণী গিনিপিগ, ঘোড়া ইত্যাদির দেহে সক্রিয় অঙ্গ হিসেবে অবস্থান করে। 

(2) বানর জাতীয় প্রাণীতে একটি সক্রিয় অঙ্গ। 

(3) ব্যাঙ ও মাছ জাতীয় প্রাণীর সক্রিয় অঙ্গ নিকটেটিং পর্দা। 

উদ্ভিদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ:-

(1) আদা, হলুদ ও আলু প্রভৃতির ভূমি নিম্নস্থ কান্ডের শল্কপত্র। 

(2) কালকাসুন্দর স্ট্যামিনোড বা নিষ্ক্রিয় পুংকেশর। 

অন্য উদ্ভিদ দেহের সক্রিয় অঙ্গ:-

(1) অন্যান্য সপুষ্পক উদ্ভিদের পাতা সক্রিয় অঙ্গ। 

(2) সপুষ্পক উদ্ভিদের ফুলের সক্রিয় পুংকেশর। 

সুতরাং, লুপ্তপ্রায় অঙ্গ থেকে প্রমাণ করা যায় উদবংশীয় জীবের যে সমস্ত অঙ্গগুলি সক্রিয় ছিল সেগুলি পরবর্তী বংশধরদের দেহে অব্যবহারের ফলে নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বিশিষ্ট জীবেরা সক্রিয় অঙ্গ বিশিষ্ট উদবংশীয় জীব থেকে সৃষ্টি হয়েছে। 

5. সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল এবং উটের জল নিরুদনের জন্য কি কি ধরনের অভিযোজন ঘটেছে তা লেখ?

উত্তর:- সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল:- সুন্দরী গাছের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে না মাটির অল্প নিচে বিস্তৃত থাকে। সুন্দরবনের লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেন সরবরাহ কম হওয়ার জন্য কিছু শাখা-প্রশাখা মূল অভিকর্ষের বিপরীতে মাটির উপরে উঠেছে শ্বাসমূল গঠন করেছে। 

এই মূলে থাকা শ্বাসরন্দ্র সরাসরি বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্যাস শোষণ করে এবং তা উদ্ভিদকে প্রেরণ করে। 

উটের জল নিরুদনের জন্য অভিযোজন:- উটের দেহে জল নিরূদনের জন্য নিম্নলিখিত অভিযানগুলি দেখা যায়।

  • (i) এদের দেহতত্ব থেকে বাষ্পীভবন প্রতিরোধ করার জন্য চামড়া খুবই পুরু এবং রোমযুক্ত হয়।
  • (ii) নিঃশ্বাসের সঙ্গে জলীয় বাষ্প যাতে বেরিয়ে না যায় সেই কারণে উষ্ণ নিঃশ্বাসকে নাসা পথে ঠান্ডা করে ত্যাগ করে। ফলে জল গনীভূত হয় এবং নাসাবাদের কোষগুলি জল শোষণ করে নেয়। 
  • (iii) উট মলমূত্রের সঙ্গে জল খুব কম ত্যাগ করে। অর্ধ কঠিন মূত্র ত্যাগ করে এবং ইউরিয়ার পরিবর্তে ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে। উট শুষ্ক বিষ্ঠা ত্যাগ করার ফলে জলের অপচয় কম হয়। 
  • (iv) এদের পাকস্থলীতে অবস্থিত ওয়াটার স্যাক থেকে জল প্রয়োজন কালে দেহে সরবরাহ হয়। 
6. অভিযোজন কাকে বলে? ক্যাকটাসের অভিযোজন ব্যাখ্যা কর। 

উত্তর:- কোন একটি নির্দিষ্ট পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য এবং বংশবৃদ্ধি করার জন্য জিভের যে গঠনগত, আচরণগত এবং শারীরবৃত্তিয় স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে তাকে অভিযোজন বলে। 

ক্যাকটাসের অঙ্গ সংস্থান গত অভিযোজন:-

ক্যাকটাস মরুভূমির উসর পরিবেশ জন্মায়। তাই এদের জঙ্গল উদ্ভিদ বা জেরোফাইট বলে। এই জন্যই ক্যাকটাসের বিভিন্ন ধরনের অভিযোজন ঘটেছে। 

  • (1) বাষ্পমোচন রোধ:-একটা জাতীয় উদ্ভিদ শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চলের জন্মায় সেজন্য বাষ্পমোচন এর মাধ্যমে জলের অপচয় রোধ করার জন্য পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে। 
  • (2) আত্মরক্ষা:-রূপান্তর পাতা অর্থাৎ কাঁটা ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদের আত্মরক্ষায় সাহায্য করে। 
  • (3) ফাইলোক্লেড:-ক্যাকটাসের কাণ্ড জল সংরক্ষণ ও সালোকসংশ্লেষের জন্য স্থূল, চ্যাপ্টা, রসালো এবং সবুজ হয়ে গেছে। ক্যাকটাসের এরকম কাণ্ডকে পর্নকাণ্ড বলে। 
7. ঘোড়ার জীবাশ্ম থেকে কিভাবে আধুনিক গোড়ার উৎপত্তি হয়েছে তা লেখ। 

উত্তর:- ঘোড়ার জীবাশ্মের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা যে তথ্য পাই তা হল-আধুনিক ঘোড়া ইকুয়াস

8. ডারউইনবাদ ও ল্যামার্কবাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তর:- ল্যামার্কবাদ ও ডারউইনবাদের পার্থক্য:

বিষয়ল্যামার্কবাদডারউইনবাদ
i)অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে ফলে নতুন জীবের উৎপত্তি হয়।প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফলে নতুন জীবের উৎপত্তি ঘটে।
ii)পরিবেশ পরিবর্তনে নতুন চাহিদা সৃষ্টির ফলে নতুন বৈশিষ্ট্য আগত হয়।প্রকরণ সৃষ্টি দ্বারা নতুন বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়।
iii)অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহারের ফলে অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ ঘটে।অনুকূল প্রকরণে প্রাকৃতিক নির্বাচন ঘটে ও নতুন জীব সৃষ্টি হয়।
9. কী কী কারণে জীবেদের মধ্যে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম তৈরি হয়? Protocell-এর দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর:- অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের কারণ:

  • প্রতিটি জীবকে বেঁচে থাকার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য, উপযুক্ত বাসস্থান এবং সঙ্গী অনুসন্ধান করার জন্য সঠিক কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য এবং বাসস্থান না থাকলে একই প্রজাতির জীবেরা নিজেদের মধ্যে লিপ্ত হয়।
  • ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে খাদ্যের জন্য সংগ্রাম হয়।
  • পরিবেশের বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিটি জীবকে অনবরত লড়াই করতে হয়।

উত্তর:- Protocell-এর দুটি বৈশিষ্ট্য: (i) Protocell গুলির মধ্যে নিউক্লিওপ্রোটিনযুক্ত নিউক্লিক অ্যাসিড তথা RNA-র প্রথম প্রকাশ ঘটেছিল। (ii) এগুলি স্বজননশীল। অর্থাৎ কোষের মতো এরাও বিভাজন করতে পারত।

10. সুন্দরী গাছের লবণ শোষণের জন্য তিনটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো। উটের জল সংরক্ষণের ২টি উপায় লেখো।

উত্তর:- সুন্দরী গাছের লবণ শোষণের জন্য তিনটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য:

  • সুন্দরী গাছের কাণ্ডের শাখাপ্রশাখার কোশে অবস্থিত ভ্যাকুওলের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ সঞ্চয় করে এবং পরে বাকল মোচনের মাধ্যমে ত্যাগ করে।
  • অতিরিক্ত লবণ পাতায় অবস্থিত লবণগ্রন্থির মাধ্যমে নির্গত হয়।
  • সুন্দরী গাছের মূলের ত্বক ও অধস্তক পুরু থাকায় অন্তঃঅভিরসণে লবণ শোষণ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

উত্তর:- উটের জল সংরক্ষণের ২টি উপায়: (i) দেহ যাতে অতিরিক্ত জল বাষ্পীভূত না হয়ে যায়, তার জন্য উটের চামড়া পুরু ও লোমযুক্ত হয়। (ii) উট মলমূত্রের সঙ্গে কম পরিমাণে জল ত্যাগ করে। তাই এদের মূত্র অধিকঠিন ইউরিক অ্যাসিড হয়ে থাকে।

11. জলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় রুই মাছের পটকার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। পায়রার দেহে বায়ুথলির গুরুত্ব লেখো।

উত্তর: জলের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় রুই মাছের পটকার গুরুত্ব:

  • রুই মাছের পটকার দুটি প্রকোষ্ঠ — অগ্রপ্রকোষ্ঠ ও পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠ।
  • অগ্রপ্রকোষ্ঠে অবস্থান করে রেড গ্রন্থি, যেখান থেকে গ্যাস উৎপন্ন হয়। গ্যাস বেরিয়ে গেলে মাছের দেহ ভারী হয় ও আপেক্ষিক গুরুত্ব বেড়ে যায়।
  • পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে অবস্থান করে রেটিয়া মিরাবিলিয়া নামক রক্তজালক যা গ্যাসকে শোষণ করে রক্তে পাঠিয়ে দেয়।
  • পটকা মাছকে জলের যে-কোনো স্তরে ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

উত্তর: পায়রার দেহে বায়ুথলির গুরুত্ব: পায়রা হল মুখ্য খেচর প্রাণী। পায়রা আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য দেহে বেশ কতগুলি বায়ুথলির অবস্থান লক্ষ করা যায়। পায়রার দেহে পাতলা পর্দাবৃত নয়টি প্রধান বায়ুথলি উপস্থান করে। পায়রার আকাশে ওড়ার জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই এই বায়ুথলিতে পায়রা বেশি করে অক্সিজেনপূর্ণ বাতাস ভরে নেয়। এ ছাড়া বায়ুথলিগুলি বায়ুপূর্ণ হয়ে পায়রার দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব হ্রাস করে এবং দেহকে হালকা করে উড়তে সাহায্য করে।

12. যোগ্যতমের উদ্বর্তন কী? ডারউইনের মতে প্রকরণ সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর:- যোগ্যতমের উদ্বর্তন: বিজ্ঞানী ডারউইনের মতে, জীবনসংগ্রামে যেসমস্ত জীব কোনো বিশেষ পরিবেশের সঙ্গে বেশি কিছু অভিযোজনমূলক বৈশিষ্ট্য আসতে থাকে, তারা জীবনসংগ্রামে জয়ী হয় এবং বাকি জীবেরা পরাজিত হয়ে আস্তে আস্তে পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়। তাই জীবনসংগ্রামে জীবের জয়ী হয়ে বেঁচে থাকার ঘটনাকে যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলা হয়। উদাহরণ — জিরাফের লম্বা গলা বৈশিষ্ট্যটি অনুকূল অভিযোজনসহায়ক। তাই লম্বা গলার জিরাফ আস্তে আস্তে উদ্বর্তন ঘটেছে।

উত্তর: ডারউইনের মতে প্রকরণ সৃষ্টির কারণ: ডারউইনের মতে, জীবনসংগ্রামে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিটি জীব অনবরত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের নতুন বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি বংশ পরম্পরায় সঞ্চারিত হয়। তবে আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী, বিভিন্ন রকম জেনেটিক মিউটেশন এই প্রকারণের জন্য দায়ী।

13. মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃদপিণ্ডের তুলনামূলক আলোচনা থেকে কোন তথ্যে পৌঁছানো সম্ভব?

উত্তর:- বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃদপিণ্ডের পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সরল হৃদপিণ্ড থেকে ক্রমশ জটিল হৃদপিণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।

  • মৎস্য শ্রেণির হৃদপিণ্পে: দুটো প্রকোষ্ঠ বর্তমান, যথা — একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়।
  • উভচর শ্রেণির হৃদপিণ্পে: তিনটি প্রকোষ্ঠ বর্তমান, যথা — দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয়।
  • সরীসৃপ শ্রেণির হৃদপিণ্পে: চারটি প্রকোষ্ঠ বর্তমান, যথা — দুটি অলিন্দ ও অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত দুটি নিলয়।
  • পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর হৃদপিণ্পে: সম্পূর্ণরূপে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত, যথা দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।

উত্তর:- এই তুলনামূলক আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, মাছ থেকে উভচর, উভচর থেকে সরীসৃপ, সরীসৃপ থেকে পাখি এবং পাখি থেকে স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিবর্তন ধারাবাহিকভাবে ঘটেছে।

উপসংহার অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর : অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) , Madhyamik Life Science Question and Answer : মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর Madhyamik Life Science Question and Answer নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়েছে । এই সব প্রশ্ন উত্তর গুলো ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রস্তুতিতে কাজে লাগবে এই আশা রাখি এছাড়াও যদি কোন প্রশ্ন না পারো সেগুলি কমেন্ট সেকশনে দিতে পারো

Leave a Comment