
অ্যানি বেসান্ত: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অনন্য অধ্যায়
অ্যানি বেসান্ত, একজন ব্রিটিশ নারী, যিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অনন্য অধ্যায় যোগ করেছিলেন। তাঁর জীবন যেন এক রোমাঞ্চকর উপন্যাস, যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে সমাজতন্ত্র, নারী অধিকার থেকে জাতীয়তাবাদ, সবকিছুই মিশে গিয়েছিল।
আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা অ্যানি, ছোটবেলা থেকেই এক স্বাধীন চিন্তাশীল মেয়ে ছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়ে তিনি সমাজ সংস্কারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। চার্লস ব্র্যাডলোর মতো মুক্ত চিন্তকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সমাজের নানা অসাম্যের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঠান। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি আধ্যাত্মিকতার দিকেও আকৃষ্ট হন এবং থিওসফিক্যাল সোসাইটিতে যোগ দিয়ে ম্যাডাম ব্লাভাটস্কির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।
১৮৯৩ সালে ভারতে এসে অ্যানি বেসান্ত নিজেকে সম্পূর্ণভাবে দেশের সেবায় নিবেদিত করেন। তিনি শুধু থিওসফিক্যাল সোসাইটির কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। তাঁর বক্তৃতা ও লেখালিখি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের আগুনে ঘি ঢালত।
অ্যানি বেসান্তের হোম রুল লীগ | Annie Besant in Bengali
অ্যানি বেসান্তের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ভারতে হোমরুল আন্দোলন চালু করা। আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতা রেমন্ডের হোমরুল লিগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ভারতে এই আন্দোলন গড়ে তোলেন। জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত একটি দায়িত্বশীল সরকার গঠনের মাধ্যমে ভারতকে একটি স্বশাসিত রাষ্ট্রে পরিণত করাই ছিল হোমরুল আন্দোলনের লক্ষ্য। তিলকের সঙ্গে মিলে তিনি দেশব্যাপী হোমরুল আন্দোলনকে জনপ্রিয় করে তোলেন।
অ্যানি বেসান্ট: একজন সমাজ সংস্কারক
অ্যানি বেসান্তের গ্রেফতার এবং পরবর্তী মুক্তি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তাঁর মুক্তির জন্য দেশব্যাপী যে প্রতিবাদ হয়েছিল, তা ব্রিটিশ সরকারের জন্য এক বড় ধাক্কা ছিল।
অ্যানি বেসান্ত ছিলেন একজন দূরদর্শী নেত্রী। তিনি ভারতের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং সেই স্বপ্নের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর অবদান ভারতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
অ্যানি বেসান্তকে স্মরণ করতে গিয়ে আমরা তাঁর এই কথাগুলো মনে রাখতে পারি:
* “সত্যই শক্তিশালী।”
* “মানুষের সেবা করা সর্বোচ্চ ধর্ম।”
* “শিক্ষা হল মুক্তির চাবিকাঠি।”
অ্যানি বেসান্তের জীবন থেকে আমরা কি শিখতে পারি?
* স্বাধীন চিন্তা: তিনি কখনোই সমাজের বাধা-নিষেধ মেনে নেননি।
* সাহস: তিনি নিজের বিশ্বাসের জন্য সবসময় লড়াই করেছেন।
* দৃঢ়তা: তিনি লক্ষ্য থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
* সেবা: তিনি নিজের জীবন দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন।
আজকের দিনেও অ্যানি বেসান্তের জীবন এবং কর্ম আমাদের অনুপ্রাণিত করে। তাঁর মতো হয়ে আমরাও সমাজের সেবা করতে পারি এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করতে পারি।
আরো দেখো :-
মাধ্যমিক 2025 | ইতিহাস ম্যাপ পয়েন্টিং
আরোও দেখো :-
Madhyamik Physical Science Suggestion 2025 – আয়নীয় ও সমযোজী বন্ধন (অধ্যায়-৮.২) প্রশ্নউত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন
আরোও দেখো :-
দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান | পর্যায় সারণী – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Physical Science Suggestion
আরোও দেখো :-
Madhyamik Physical Science Question Paper 2024 With Answers | সম্পূর্ণ উত্তরসহ মাধ্যমিক ভৌত বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ২০২৪
আরোও দেখো:-
Madhyamik Physical Science Suggestion- পরিবেশের জন্য ভাবনা (অধ্যায়-১) প্রশ্ন-উত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন
আরোও দেখো:-
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
- সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা। তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় … - পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
লেখক-পরিচিতি রবীন্দ্র সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড়ো হওয়া শরৎচন্দ্র ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন অনেক বছর এবং দীর্ঘকাল বর্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) ছিলেন। সেই বর্মণীয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ‘কুন্তলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় ‘মন্দির’ নামে গল্প পাঠিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন — এটাই … - প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি লেটো দলে গান লিখে ও গেয়ে সাহিত্যজীবনের সূচনা করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাঁর লেখালেখিকে … - সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
নাটকারের পরিচিতি বাংলা নাটসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নাটকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে, তৎকালীন বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সখারামের সহযোগী হন। পরে ‘বেকালী’, ‘বিজলী’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সহ-সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক কৃষক’ … - অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা
কবি-পরিচিতি উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি, তৎকালীন যশোহর জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) সাগরদাঁড়ি গ্রামে। বাল্যকালেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় তিনি গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। প্রথম … - বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর | সুবোধ ঘোষ | দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর
লেখক-পরিচিতি বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান নাম সুবোধ ঘোষের জন্ম ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর, বিহারের হাজারিবাগে। আদি নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ছিল অসাধারণ বর্ণময়। বাসের কন্ডাক্টর, টিউটর, ট্রাক ড্রাইভার, এমনকি সার্কাস পার্টিতে ক্লাউনের ভূমিকা পর্যন্ত — বহু পেশায় তাঁকে যেতে হয়েছে। এই …