দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন
লেখক পরিচিতি
রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, ‘কজ্জলী’, ‘হনুমানের স্বপ্ন’ প্রভৃতি তাঁর বিখ্যাত রসরচনাসংকলন। প্রবন্ধ রচনায়ও তিনি দক্ষ ছিলেন — ‘লঘুগুরু’, ‘বিচিন্তা’, ‘ভারতের খনিজ’, ‘কুটির শিল্প’ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ।
১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর ‘চলিতভাষা’ বাংলা অভিধান বাংলা ভাষাচর্চার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। তিনি ‘বাল্মীকি রামায়ণ’, ‘মহাভারত’, ‘মেঘদূত’, ‘হিতোপদেশের গল্প’ অনুবাদ করেছেন। রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার ও পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত এই সাহিত্যিক কলকাতা ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট পান।
‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান‘ প্রবন্ধটি ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ‘বিচিন্তা’ গ্রন্থের অন্তর্গত।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর: প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ

রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি যুক্তিনিষ্ঠ, গভীর আলোচনা। এগারোটি অনুচ্ছেদে রচিত এই প্রবন্ধে লেখক বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক রচনার পথে যে বাধাগুলি আছে, সেগুলি চিহ্নিত করেছেন এবং সেগুলি অতিক্রমের পথও নির্দেশ করেছেন।
লেখক প্রথমে বাংলায় বিজ্ঞান-বিষয়ক গ্রন্থের পাঠকদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে আছেন যাঁরা ইংরেজি জানেন না বা অল্প জানেন — অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে ও অশিক্ষিত বয়স্ক মানুষ। তাঁদের কাছে বিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণাই নেই, তবে ইংরেজির প্রভাব থেকে তাঁরা মুক্ত — ফলে বাংলায় বিজ্ঞান শেখা তাঁদের পক্ষে তুলনামূলক সহজ। দ্বিতীয় শ্রেণিতে আছেন যাঁরা ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়েছেন — তাঁদের পক্ষে নতুন করে বাংলা পরিভাষায় বিজ্ঞান শেখা একটু কঠিন, কারণ ইংরেজির সংস্কার দমন করতে হয়।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে প্রাবন্ধিক চিহ্নিত করেছেন পারিভাষিক শব্দের অভাবকে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে প্রথমে কিছু বিদ্যোৎসাহী লেখক পরিভাষা তৈরিতে হাত দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করায় ঐকমত্য হয়নি। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতি গঠন করে ভাষাতত্ত্বজ্ঞ, বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও অভিজ্ঞ লেখকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করান — এবং সেই প্রচেষ্টা অধিকতর সফল হয়।
লেখক আরও দেখিয়েছেন যে, অনেক বাংলা লেখক ইংরেজিতে ভেবে বাংলায় লেখেন, ফলে রচনা হয় আড়ষ্ট ও ‘উৎকট’। আবার অনেকের ভ্রান্ত ধারণা যে পরিভাষিক শব্দ বাদ দিলে রচনা সহজ হয়। প্রাবন্ধিক এই ধারণাকে নাকচ করেছেন — সঠিক পরিভাষা ছাড়া বৈজ্ঞানিক রচনার মান বজায় থাকে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন ‘Sensitized paper‘-এর সঠিক বাংলা ‘সুগ্রাহী কাগজ’ — কিন্তু ভুল অনুবাদে ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ লেখা হলে তা কানে লাগে।
শব্দের শক্তি প্রসঙ্গে লেখক আলংকারিকদের উল্লেখ করে বলেছেন শব্দের তিনটি শক্তি — অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা। বৈজ্ঞানিক রচনায় শব্দের অভিধাশক্তি ব্যবহার করা উচিত; ব্যঞ্জনার প্রয়োগ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কাম্য নয়। উপমা ও রূপক কিছুটা গ্রহণযোগ্য, কিন্তু অন্যান্য অলংকার পরিহার্য। ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ — কালিদাসের এই কাব্যোক্তি কাব্যের জন্য উপযুক্ত, ভূগোলের প্রবন্ধের জন্য নয়।
প্রবন্ধের শেষে লেখক ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী‘ প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন — যাঁরা বাংলায় বৈজ্ঞানিক রচনা লেখেন কিন্তু প্রকৃত জ্ঞান রাখেন না, তাঁদের লেখা পাঠকের ক্ষতি করতে পারে। এজন্য সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে লেখা যাচাই করানো উচিত।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ১
১. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির লেখক কে?
উঃ রাজশেখর বসু।
২. প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?
উঃ ‘বিচিন্তা’ গ্রন্থ থেকে।
৩. ‘বিচিন্তা’ গ্রন্থটি কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
উঃ ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে।
৪. রাজশেখর বসুর বিখ্যাত ছদ্মনাম কী?
উঃ পরশুরাম।
৫. রাজশেখর বসুর জন্ম কবে এবং কোথায়?
উঃ ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ, বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায়।
৬. রাজশেখর বসু কত সালে পদ্মভূষণ পান?
উঃ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে।
৭. রাজশেখর বসুর জীবনাবসান কবে হয়?
উঃ ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে।
৮. রাজশেখর বসু কোন বিখ্যাত অভিধান রচনা করেন?
উঃ ‘চলিতভাষা’ বাংলা অভিধান।
৯. প্রবন্ধটি মোট কতটি অনুচ্ছেদে রচিত?
উঃ এগারোটি অনুচ্ছেদে।
১০. ‘প্রথম শ্রেণি’র পাঠক বলতে প্রাবন্ধিক কাদের বুঝিয়েছেন?
উঃ যারা ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে — অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে এবং অশিক্ষিত বয়স্ক মানুষ।
১১. ‘দ্বিতীয় শ্রেণি’র পাঠক কাদের বলা হয়েছে?
উঃ যারা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজিতে কমবেশি বিজ্ঞান পড়েছেন।
১২. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রধান বাধা কী?
উঃ বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব।
১৩. পরিভাষার উদ্দেশ্য কী?
উঃ ভাষার সংক্ষেপ ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা।
১৪. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কী?
উঃ কলকাতার একটি সাহিত্যিক সংস্থা, যার উদ্দেশ্য বাংলা সাহিত্যকে পথ দেখানো।
১৫. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পরিভাষা সমিতিতে কাদের নিয়েছিল?
উঃ বিভিন্ন বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্বজ্ঞ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও কয়েকজন লেখককে।
১৬. ‘অভিধা’ কী?
উঃ শব্দের মুখ্যার্থ বোঝানোর শক্তিকে অভিধা বলে।
১৭. ‘লক্ষণা’ কী?
উঃ মুখ্যার্থ বাধাপ্রাপ্ত হলে যে শক্তি দ্বারা অন্য অর্থ বোঝানো হয় তাকে লক্ষণা বলে।
১৮. ‘ব্যঞ্জনা’ কী?
উঃ অভিধা ও লক্ষণার মাধ্যমে যখন অর্থ স্পষ্ট হয় না, তখন যে শক্তি দ্বারা গভীর বা ব্যঞ্জনামূলক অর্থ প্রকাশ পায়, তা ব্যঞ্জনা।
১৯. ‘Sensitized paper’-এর সঠিক বাংলা কী?
উঃ ‘সুগ্রাহী কাগজ’।
২০. ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ বলা হলে কেন সমস্যা হয়?
উঃ ‘স্পর্শকাতর’ শব্দে আবেগপ্রবণ অর্থ আসে, যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষার পক্ষে অনুপযুক্ত — শুনতেও কানে লাগে।
২১. ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ — এটি কার উক্তি?
উঃ কবি কালিদাসের।
২২. কালিদাসের এই উক্তি কোন বিষয়ের রচনায় প্রযোজ্য নয়?
উঃ ভূগোলের বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে প্রযোজ্য নয়।
২৩. রচনা ‘উৎকট’ হয় কখন?
উঃ যখন লেখক বক্তব্য ইংরেজিতে ভাবেন এবং হুবহু বাংলায় অনুবাদ করেন।
২৪. প্যারাডাইরোক্লোরোবেনজিন কী?
উঃ একটি শক্তিশালী কীটনাশক পদার্থ, যার বাংলা নাম না থাকায় ইংরেজি নামটিই বাংলায় ব্যবহার করা হয়।
২৫. ‘পপুলার সায়েন্স’ মানে কী?
উঃ জনপ্রিয় বিজ্ঞান।
২৬. বৈজ্ঞানিক রচনায় কোন অলংকারগুলি কিছুটা গ্রহণযোগ্য?
উঃ উপমা ও রূপক।
২৭. ‘অরণ্যে রোদন’ বলতে কী বোঝায়?
উঃ নিষ্কল ক্ষেদ — এটি শব্দের ব্যঞ্জনাশক্তির উদাহরণ।
২৮. রাজশেখর বসু কোন কোন পুরস্কার পেয়েছেন?
উঃ রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার এবং পদ্মভূষণ।
২৯. শেষে লেখককে কার জ্যামিতি পড়তে হয়েছিল?
উঃ ব্রহ্মোমহন মলিকের জ্যামিতি।
৩০. বৈজ্ঞানিক রচনায় ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে প্রাবন্ধিক মনে করেছেন?
উঃ সহজ, সরল, স্পষ্ট এবং সঠিক পরিভাষাযুক্ত।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৩
১. বিজ্ঞান-বিষয়ক বাংলা গ্রন্থের পাঠকদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে প্রাবন্ধিক কী বলেছেন?
উঃ রাজশেখর বসু বাংলায় বিজ্ঞানের পাঠকদের দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে আছেন যাঁরা ইংরেজি জানেন না বা সামান্য জানেন — অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে এবং অশিক্ষিত বয়স্ক মানুষ। তাঁদের ইংরেজির কোনো সংস্কার নেই, তাই বাংলা পরিভাষায় বিজ্ঞান শেখা তাঁদের পক্ষে স্বাভাবিক।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন যাঁরা ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়েছেন — তাঁদের মনে ইংরেজি পরিভাষার ছাপ আছে। তাই বাংলায় বিজ্ঞানের নতুন পরিভাষা আয়ত্ব করতে তাঁদের কিছুটা বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
২. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রধান বাধা কী? প্রাবন্ধিক কীভাবে এই বাধার কথা তুলে ধরেছেন?
উঃ প্রাবন্ধিক রাজশেখর বসুর মতে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার সবচেয়ে বড় বাধা হল বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কিছু বিদ্যোৎসাহী লেখক এককভাবে পরিভাষা তৈরির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ঐকমত্যের অভাবে একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন প্রতিশব্দ তৈরি হয়।
পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতি বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে কাজ করায় কিছুটা সাফল্য আসে। তবু এখনও বাংলা পারিভাষিক শব্দের বিস্তর ঘাটতি আছে, যা বাংলায় বিজ্ঞান লেখাকে কঠিন করে তুলেছে।
৩. রচনা কখন ‘উৎকট’ হয়? প্রাবন্ধিকের মত ব্যাখ্যা করো।
উঃ অনেক লেখক বক্তব্যটা মাথায় ইংরেজিতে ভাবেন, তারপর সেটা হুবহু বাংলায় অনুবাদ করার চেষ্টা করেন। এই আক্ষরিক অনুবাদে রচনা আড়ষ্ট, কৃত্রিম ও ‘উৎকট’ হয়ে পড়ে। রাজশেখর বসু বলেছেন, ইংরেজির গড়নে বাংলা লিখলে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়।
যেমন ‘The atomic engine has not even reached the blue print stage’ বাক্যটির সরাসরি বাংলা অনুবাদ স্বাভাবিক বাংলার মতো শোনায় না। বিজ্ঞানের মূল ধারণাটি সঠিক রেখে প্রাকৃতিক বাংলায় প্রকাশ করাই কাম্য।
৪. ‘অভিধা’, ‘লক্ষণা’ ও ‘ব্যঞ্জনা’ — এই ত্রিবিধ শব্দশক্তির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উঃ রাজশেখর বসু আলংকারিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন শব্দের তিনটি শক্তি আছে। প্রথম শক্তি ‘অভিধা’ — যা শব্দের মুখ্য বা আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করে। যেমন ‘দেশ’ শব্দ বললে সরাসরি ভারত বা যেকোনো রাষ্ট্র বোঝায়। দ্বিতীয় শক্তি ‘লক্ষণা’ — মুখ্যার্থ বাধাপ্রাপ্ত হলে যে অর্থ বোঝায়।
যেমন ‘দেশের লজ্জা’ বলতে দেশবাসীর লজ্জা বোঝায়। তৃতীয় শক্তি ‘ব্যঞ্জনা’ — যেখানে শব্দ তার সরাসরি অর্থ ছাড়িয়ে অন্য কিছু ইঙ্গিত করে। যেমন ‘অরণ্যে রোদন’ মানে নিষ্কল ক্ষেদ বা বৃথা আর্তনাদ।
৫. বৈজ্ঞানিক রচনায় অলংকারের ব্যবহার সম্পর্কে রাজশেখর বসু কী মত দিয়েছেন?
উঃ রাজশেখর বসু বলেছেন বৈজ্ঞানিক রচনায় ভাষাকে সহজ, সরল ও স্পষ্ট রাখা একান্ত দরকার। বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে উপমা ও রূপক কিছুটা গ্রহণযোগ্য — বিষয় বোঝানোর সুবিধার জন্য সামান্য ব্যবহার করা চলে।
কিন্তু উৎপ্রেক্ষা, অতিশয়োক্তি বা ব্যঞ্জনাজাতীয় অলংকার বৈজ্ঞানিক রচনায় একেবারেই কাম্য নয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’ — কালিদাসের এই উক্তি কাব্যের জন্য সুন্দর, কিন্তু ভূগোলের প্রবন্ধে এটি অনুপযুক্ত। বৈজ্ঞানিক ভাষায় অলঙ্কারের বাহুল্য বিষয়বস্তুর স্পষ্টতাকে নষ্ট করে।
৬. পরিভাষার উদ্দেশ্য ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রাবন্ধিক কী বলেছেন?
উঃ পরিভাষার মূল উদ্দেশ্য হল ভাষার সংক্ষেপ ও অর্থ সুনির্দিষ্ট করা। একটি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা একটি দীর্ঘ বিবরণের বদলে সংক্ষিপ্তভাবে সুনির্দিষ্ট অর্থ বহন করে। তবে পরিভাষার সীমাবদ্ধতা হল ইংরেজি শব্দের অর্থব্যাপ্তি বা Connotation সবসময় বাংলা প্রতিশব্দে আনা যায় না। যেমন ‘Sensitive’ শব্দের বাংলায় অর্থভেদে অভিমানী, উত্তেজী, সুবেদী, স্পর্শকাতর — বিভিন্ন শব্দ প্রযোজ্য। ইংরেজি শব্দটির মতো বাংলায় একটিমাত্র প্রতিশব্দ নেই, তাই সঠিক প্রসঙ্গ বুঝে সঠিক শব্দ বেছে নিতে হয়।
৭. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা কার্যক্রমের পার্থক্য কী?
উঃ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে একাধিক বিদ্যোৎসাহী লেখক স্বতন্ত্রভাবে পরিভাষা তৈরির কাজ করেছিলেন। কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে না হওয়ায় একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি হয়, সামঞ্জস্য রক্ষা হয়নি। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন বিজ্ঞানের অধ্যাপক, ভাষাতত্ত্বজ্ঞ, সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিত ও লেখকদের নিয়ে একটি সুসংগঠিত পরিভাষা সমিতি গঠন করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করায়।
এই পদ্ধতিটি অধিকতর সফল হয়েছে, কারণ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিভাষা তৈরি সম্ভব হয়েছে।
৮. ‘Sensitized paper’-এর অনুবাদ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক কী বলেছেন?
উঃ রাজশেখর বসু ‘Sensitized paper’-এর উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে পরিভাষার ভুলে বৈজ্ঞানিক রচনার ক্ষতি হয়। ‘Sensitized paper’-এর সঠিক বাংলা হওয়া উচিত ‘সুগ্রাহী কাগজ’ — কারণ এই কাগজ আলোক-সংকেত বা রাসায়নিক বস্তু সহজে গ্রহণ করতে পারে।
কিন্তু কেউ যদি ‘Sensitive’ শব্দের আবেগপ্রবণ অর্থ থেকে ‘স্পর্শকাতর কাগজ’ লেখেন, তা শুনতে অদ্ভুত লাগে এবং বৈজ্ঞানিক অর্থের সাথে মিলে না। সঠিক পরিভাষা না জানলে এই ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
৯. প্রথম শ্রেণির পাঠকদের জন্য বাংলায় বিজ্ঞান শেখা সংস্কারবিরোধী নয় কেন?
উঃ প্রাবন্ধিকের মতে, প্রথম শ্রেণির পাঠকরা ইংরেজি ভাষার প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই, ফলে ইংরেজি পরিভাষার ছাপ তাঁদের মনে নেই। তাই বাংলায় নতুন পারিভাষিক শব্দ শিখতে তাঁদের কোনো মানসিক বাধা নেই।
লেখক নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তিনি ছোটবেলায় ব্রহ্মোমহন মলিকের বাংলা জ্যামিতি পড়েছিলেন — ভাষার কারণে কোনো অসুবিধা হয়নি। কিন্তু পরে যাঁরা ইংরেজিতে জিওমেট্রি পড়েছেন, তাঁদের কাছে বাংলা পরিভাষার সেই বই কঠিন মনে হয়।
১০. বৈজ্ঞানিক রচনায় ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ — প্রাবন্ধিক এ কথা কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
উঃ রাজশেখর বসু লক্ষ করেছেন যে অনেকে বাংলায় বৈজ্ঞানিক রচনা লেখেন, কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের প্রকৃত জ্ঞান সীমিত। এই অর্ধশিক্ষিত লেখকরা ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য লিখে পাঠকদের ভুল ধারণা দিতে পারেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি পত্রিকার উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছিল ‘অক্সিজেন বা হাইড্রোজেন স্বাস্থ্যকর — জীবের বেঁচে থাকার পক্ষে অপরিহার্য অঙ্গ মাত্র’। এই বক্তব্য বিজ্ঞানসম্মত নয়। তাই সম্পাদকের উচিত বিশেষজ্ঞদের দিয়ে বৈজ্ঞানিক রচনা যাচাই করানো।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর: বিশ্লেষণধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৫
১. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার যেসব অসুবিধার কথা বলা হয়েছে তা আলোচনা করো।
উঃ রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক রচনার পথে যে বাধাগুলি আছে, সেগুলিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছে।
প্রথম ও প্রধান অসুবিধা হল পারিভাষিক শব্দের অভাব। বাংলায় বিজ্ঞানের উপযুক্ত পরিভাষা এখনও সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখক আলাদাভাবে পরিভাষা তৈরির চেষ্টা করায় একই শব্দের বিভিন্ন প্রতিশব্দ চালু হয়েছে, বিভ্রান্তি বেড়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমিতির প্রচেষ্টায় কিছুটা সমাধান হলেও কাজ এখনও অসম্পূর্ণ।
দ্বিতীয় সমস্যা হল জনসাধারণের বিজ্ঞানচেতনার অভাব। পাশ্চাত্যের তুলনায় আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। যে বিষয়ের পাঠক নেই, সে বিষয়ে ভালো রচনাও তৈরি হয় না।
তৃতীয় সমস্যা অনুবাদের দুর্বলতা। অনেক লেখক ইংরেজিতে ভেবে বাংলায় আক্ষরিক অনুবাদ করেন, ফলে রচনা আড়ষ্ট ও উৎকট হয়ে পড়ে। সাবলীল বাংলায় লেখার দক্ষতা অনেকের নেই।
চতুর্থ সমস্যা লেখকদের জ্ঞানের ঘাটতি। অনেকে বাংলায় বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লেখেন, কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের প্রকৃত জ্ঞান কম। এই ‘অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী’ পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছায়।
পঞ্চম সমস্যা পারিভাষিক শব্দ বাদ দেওয়ার ভুল প্রবণতা। অনেকে মনে করেন পরিভাষা বাদ দিলে রচনা সহজ হয়। কিন্তু প্রাবন্ধিকের মতে এটা ভ্রান্ত ধারণা — সঠিক পরিভাষা ছাড়া বৈজ্ঞানিক রচনার নির্ভুলতা রক্ষা সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে এই অসুবিধাগুলো দূর না হলে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পথ কখনো মসৃণ হবে না বলেই প্রাবন্ধিক মনে করেছেন।
২. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় এখনো নানা রকম বাধা আছে’ — এই বাধা দূর করতে রাজশেখর বসু কী কী পরামর্শ দিয়েছেন তা আলোচনা করো।
উঃ রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেননি, সমাধানের পথও নির্দেশ করেছেন।
প্রথমত, পরিভাষার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দরকার। ব্যক্তিগত উদ্যোগে নয়, বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিভাষা তৈরি হওয়া উচিত। যেখানে বাংলা প্রতিশব্দ পাওয়া কঠিন, সেখানে বাংলা বানানে ইংরেজি শব্দটিই ব্যবহার করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জনসাধারণের মধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে বিজ্ঞানশিক্ষার প্রসার ঘটানো দরকার। বিজ্ঞানচেতনা না থাকলে বিজ্ঞানের বই পড়ার পাঠক তৈরি হবে না।
তৃতীয়ত, অনুবাদ হওয়া উচিত সহজ ও সাবলীল — ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদ নয়। বাংলার স্বাভাবিক গড়নে বৈজ্ঞানিক বিষয় প্রকাশ করাই লক্ষ্য।
চতুর্থত, লেখার ভাষা সহজ, স্পষ্ট ও সরস হওয়া উচিত। পরিভাষার প্রথম প্রয়োগের সময় তার ব্যাখ্যা দেওয়া এবং প্রয়োজনে ইংরেজি নামটিও উল্লেখ করা উচিত।
পঞ্চমত, সম্পাদকদের উচিত বৈজ্ঞানিক রচনা প্রকাশের আগে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তা যাচাই করানো, যাতে ভুল তথ্য পাঠকের কাছে না পৌঁছায়।
এই পরামর্শগুলো মেনে চললে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার পথ ক্রমশ সহজ হবে বলে প্রাবন্ধিক আশাবাদী।
৩. ‘আমাদের আলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন’ — এই ত্রিবিধ কথা কী কী, উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উঃ রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে আলংকারিকদের উল্লেখ করে বলেছেন শব্দের তিনটি শক্তি বা বৃত্তি আছে — অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।
প্রথম শক্তি ‘অভিধা’ হল শব্দের মূল বা আভিধানিক অর্থ প্রকাশ করার শক্তি। উদাহরণ: ‘দেশ’ বললে সরাসরি ভারত বা যেকোনো দেশকে বোঝায়। বৈজ্ঞানিক রচনায় এই শক্তিটিই সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য।
দ্বিতীয় শক্তি ‘লক্ষণা’ তখন প্রযুক্ত হয় যখন শব্দের মুখ্যার্থ প্রসঙ্গবিশেষে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তখন মুখ্যার্থের সাথে সম্পর্কিত অন্য একটি অর্থ বোঝায়। উদাহরণ: ‘দেশের লজ্জা’ বলতে দেশবাসীর লজ্জা বোঝায়, দেশের নিজের নয়।
তৃতীয় শক্তি ‘ব্যঞ্জনা’ সবচেয়ে জটিল। এখানে শব্দের অভিধানিক বা লাক্ষণিক কোনো অর্থেই পুরো ভাব প্রকাশ হয় না — একটি অতিরিক্ত, গভীরতর অর্থ ব্যঞ্জিত হয়। উদাহরণ: ‘অরণ্যে রোদন’ — আভিধানিক অর্থে বনে কান্না হলেও প্রকৃত অর্থ হল নিষ্কল ক্ষেদ বা বৃথা আর্তনাদ।
প্রাবন্ধিকের বক্তব্য হল, বৈজ্ঞানিক রচনায় শুধু অভিধাশক্তি প্রযুক্ত হওয়া উচিত। ব্যঞ্জনার প্রয়োগ বিজ্ঞানের প্রবন্ধে অনুচিত — কারণ এতে অর্থ অস্পষ্ট হয় এবং পাঠক বিভ্রান্ত হন।

৪. বিজ্ঞান-বিষয়ক বাংলা গ্রন্থের পাঠকদের যে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন রাজশেখর বসু, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উঃ রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বলেছেন যে বাংলায় বিজ্ঞানের পাঠক আসলে দুটি আলাদা শ্রেণির, এবং তাঁদের চাহিদাও আলাদা।
প্রথম শ্রেণির পাঠক হলেন যাঁরা ইংরেজি জানেন না বা সামান্য জানেন — অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে ও অশিক্ষিত বয়স্ক মানুষ। এই পাঠকদের কাছে গুটিকয় ইংরেজি বৈজ্ঞানিক পরিভাষা পরিচিত থাকতে পারে (যেমন টাইফয়েড, আয়োডিন), কিছু সাধারণ তথ্যও জানতে পারেন (যেমন জল আর কর্পূর উবে যায়)।
কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের জটিল তথ্য তাঁরা জানেন না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইংরেজির কোনো সংস্কার তাঁদের মনে নেই — তাই বাংলা পরিভাষায় বিজ্ঞান শেখা তাঁদের পক্ষে স্বাভাবিক ও সহজ।
দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠক হলেন যাঁরা ইংরেজি জানেন এবং ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়েছেন। এই পাঠকদের মনে ইংরেজি পরিভাষার গভীর ছাপ পড়ে গেছে। তাই বাংলায় একই বিষয় পড়তে গেলে তাঁদের পুরনো ইংরেজি সংস্কার দমন করে নতুন বাংলা পরিভাষা আয়ত্ব করতে হয় — যা পাশ্চাত্য পাঠকের তুলনায় বেশি পরিশ্রমসাধ্য।
তবে তাঁদের বিজ্ঞানের পটভূমি আছে, তাই বাংলা বৈজ্ঞানিক রচনা ধীরে ধীরে তাঁদের কাছেও গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
এই দুই শ্রেণির বিশ্লেষণ করে প্রাবন্ধিক দেখিয়েছেন যে উভয় শ্রেণির জন্য বাংলায় বিজ্ঞান রচনার গুরুত্ব আছে — শুধু উপস্থাপনার পদ্ধতিতে তারতম্য থাকা দরকার।
৫. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বৈজ্ঞানিক রচনার যে আদর্শ রূপ রাজশেখর বসু নির্দেশ করেছেন তা আলোচনা করো।
উঃ রাজশেখর বসু শুধু বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা আলোচনা করেননি, একটি ভালো বৈজ্ঞানিক রচনার রূপরেখাও দিয়েছেন।
প্রথমত, ভাষা হবে সহজ, স্পষ্ট ও সরল। বৈজ্ঞানিক বিষয় যতই জটিল হোক, ভাষার প্রকাশভঙ্গি হবে সাধারণ পাঠকের বোধের মধ্যে। ইংরেজি আক্ষরিক অনুবাদ এড়িয়ে বাংলার স্বাভাবিক গড়নে লেখা হবে।
দ্বিতীয়ত, সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। পারিভাষিক শব্দের প্রথম প্রয়োগে তার ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনে ইংরেজি নামও দেওয়া উচিত। পরবর্তীতে শুধু বাংলা পরিভাষাই চলবে।
তৃতীয়ত, অলংকারের ব্যবহার সীমিত রাখতে হবে। উপমা ও রূপক কিছুটা ব্যবহার করা চলে, কিন্তু ব্যঞ্জনা, উৎপ্রেক্ষা, অতিশয়োক্তি — এই ধরনের অলংকার পরিহার করতে হবে। কারণ এগুলো অর্থকে অস্পষ্ট করে।
চতুর্থত, তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে। লেখকের বিষয়জ্ঞান যথেষ্ট না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভুল তথ্য পাঠকের ক্ষতি করে।
পঞ্চমত, রচনা সরস হওয়া উচিত — একঘেয়ে তথ্যের তালিকা নয়, পাঠকের কৌতূহল জাগানো ও বোধকে গভীর করার মতো রচনা চাই।
এই আদর্শ মেনে চলা গেলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের রচনা পাশ্চাত্যের ‘পপুলার সায়েন্স’-এর মতো জনপ্রিয় ও কার্যকর হতে পারবে — এই আশাবাদেই প্রবন্ধটি শেষ হয়।
উপরের আলোচনায় দশম শ্রেণীর বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর, রাজশেখর বসু প্রবন্ধ দশম শ্রেণি, class 10 Bengali bangla bhasay bigyan question answer, দশম শ্রেণি বাংলা প্রবন্ধ প্রশ্নোত্তর, মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ সাজেশন, WBBSE class 10 Bengali prabandha, পরশুরাম রাজশেখর বসু মাধ্যমিক, বিচিন্তা প্রবন্ধ প্রশ্নোত্তর, বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা সমস্যা ও সম্ভাবনা, bangla bhasay bigyan class 10 question answer, অভিধা লক্ষণা ব্যঞ্জনা প্রশ্নোত্তর, পারিভাষিক শব্দ বাংলা বিজ্ঞান, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান সারসংক্ষেপ, মাধ্যমিক বাংলা ২০২৭ সাজেশন আলোচনা করা হয়েছে। এগুলি আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুবই ইমপর্ট্যান্ট।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড
সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
- কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) MCQ — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (সন্ততা, অন্তরকলন, প্রয়োগ)
WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর অধ্যায়ের ৯০টি MCQ প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধানসহ উত্তর — সন্ততা, অন্তরকলনযোগ্যতা, অন্তরকলন কৌশল ও প্রয়োগ কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) সম্পূর্ণ MCQ — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টার গণিত পরীক্ষায় কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় — সন্ততা (continuity), অন্তরকলনযোগ্যতা … - ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর (Matrices and Determinants) MCQ প্রশ্ন— HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত
WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর, এই অধ্যায়ের ৬৮টি MCQ প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধানসহ উত্তর। ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর (Matrices and Determinants) সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টার গণিত পরীক্ষায় ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক (Matrices and Determinants) অধ্যায় থেকে ম্যাট্রিক্সের ধর্ম, নির্ণায়কের বৈশিষ্ট্য, প্রতিসম/বিপ্রতিসম ম্যাট্রিক্স এবং রৈখিক … - বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ (Inverse Trigonometric Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের দ্বিতীয় ইউনিট বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক (Inverse Trigonometric Functions) — এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় যোগ-বিয়োগের সূত্রে … - সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সিলেবাসে সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) অধ্যায়টা প্রথম ইউনিট হলেও এখানেই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী … - তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ” অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তরসহ। লেঞ্জের সূত্র, আবেশাঙ্ক, ট্রান্সফরমার, AC বর্তনী সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের পঞ্চম ও শেষ মূল ইউনিট তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ — এখানে লেঞ্জের সূত্র, স্ব-আবেশ, পারস্পরিক … - তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” সংক্রান্ত মডেল প্রশ্নপত্রের প্রশ্ন উত্তরসহ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার সিলেবাসে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা টপিকটা মূল ৫টা ইউনিটের মতো আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ Model Question Paper হিসেবে আসেনি — বরং সাধারণ মিশ্র মক টেস্ট (Set-I … - তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। বায়ো-সাভার্ট সূত্র, সাইক্লোট্রন, চুম্বকত্ব সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের চতুর্থ অধ্যায় তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব — এখানে বায়ো-সাভার্ট সূত্র, অ্যাম্পিয়ারের সূত্র, সাইক্লোট্রন … - প্রবাহী তড়িৎ – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “প্রবাহী তড়িৎ” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। কারেন্ট, রোধ, পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। প্রবাহী তড়িৎ: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর প্রবাহী তড়িৎ অধ্যায়টা তৃতীয় সেমিস্টারের মধ্যে সবচেয়ে “প্র্যাকটিক্যাল” — এখানেই পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ, শান্ট-গ্যালভানোমিটারের মতো যন্ত্রের হিসাব আসে, যেগুলো ল্যাব পরীক্ষাতেও কাজে লাগে। নিচে … - স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। ধারক নেটওয়ার্ক, বিভব ও শক্তি সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়ের পরের ধাপ হলো স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব — এই অধ্যায়ে বিভব, বিভব প্রভেদ, ধারকত্বের …