অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড

দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর, লেখক পরিচিতি ও সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন একসাথে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সেরা প্রস্তুতি।

লেখক পরিচিতি

পান্নালাল প্যাটেল (১৯১২–১৯৮৯) গুজরাতি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম। রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে মাণ্ডু গ্রামে তাঁর জন্ম হলেও তাঁর সারা জীবনের লেখালেখি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের কথা, গ্রামীণ জীবনের ছোট ছোট আনন্দ-বেদনার ছবি। ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্যও তাঁর কলমে বারবার উঠে এসেছে। ‘মালেলা জীব’, ‘নগধ নারায়ণ’, ‘সুখ দুখনান সাথি’, ‘কোই দেশি কোই পরদেশি’ প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সাহিত্যসম্মান জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত করে।

‘অদল বদল‘ গল্পটি মূলে গুজরাতি ভাষায় লেখা। এস. সুন্দর প্রথম এটি ‘The Exchange’ নামে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ‘Stories for Kids’ ও ‘নির্বাচিত গল্প সংকলন’ থেকে গল্পটি নেওয়া হয়েছে। বাংলা অনুবাদক অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।


গল্পের সারসংক্ষেপ

অদল বদল গল্পের সারসংক্ষেপ
অদল বদল গল্পের সারসংক্ষেপ

পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের কেন্দ্রে দুই কিশোর বন্ধু — অমৃত আর ইসাব। হোলির পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের নিম গাছের তলায় ছেলেরা ধুলো উড়িয়ে খেলায় মেতে আছে। সেই ভিড়ে নতুন জামা পরে এসে দাঁড়ায় দুই বন্ধু। তাদের মিলের শেষ নেই — একই স্কুল, একই ক্লাস, রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি বাড়ি, দুই বাবাই সমান জমির চাষি। পোশাকও হুবহু এক। একটিমাত্র পার্থক্য — অমৃতের পাশে মা-বাবা-ভাই সকলেই আছেন, ইসাবের পাশে কেবল তার বাবা। ধর্মের পরিচয়ে এক হিন্দু, অন্য মুসলমান — কিন্তু এই ভেদ তাদের বন্ধুত্বে কখনো ছায়া ফেলেনি।

সেই বিকেলে কালিয়া নামের এক ছেলে অমৃতকে কুস্তির চ্যালেঞ্জ দেয়। অমৃত রাজি না হলে কালিয়া তাকে মাটিতে ছুঁড়ে দেয়, চারপাশ থেকে ছেলেরা হই-হই করে ওঠে। বন্ধুর এই অপমান সইতে না পেরে ইসাব নিজেই মাঠে নামে, কালিয়াকে হারিয়ে দেয়। কিন্তু ধস্তাধস্তিতে তার নতুন জামাটি ছিঁড়ে যায়।

এখানেই আসল বিপদ। ইসাবের বাবা হাসান রাগী মানুষ। সুদখোরের কাছ থেকে কষ্ট করে টাকা ধার করে ছেলের জামা বানিয়েছিলেন। ছেঁড়া জামা দেখলে মারবেনই। দুই বন্ধুর বুকে ভয় জমে ওঠে। তখনই অমৃতের মাথায় এক বুদ্ধি খেলে যায় — জামা অদল-বদল। নিজের ভালো জামা ইসাবকে দেবে, ইসাবের ছেঁড়া জামা নিজে পরবে।

ইসাব দ্বিধায় পড়ে বলে — “তোর বাবা তোকে পেটাবে।” অমৃত শান্তভাবে বলে — “নিশ্চয়ই ঠ্যাঙাবে, কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” ইসাবের সেই মা নেই। মায়ের আশ্রয়ের ভরসায় অমৃত ছেঁড়া জামাটি পরে নেয়।

এরপর বাড়ির দাওয়ায় হুঁকো টানতে বসা হাসান দূর থেকে ছেঁড়া জামা দেখে চেঁচিয়ে ওঠেন। কাছে এসে বুঝলেন জামাটা পরেছে অমৃত, ইসাব নয়। আড়াল থেকে তিনি গোটা কথোপকথনই শুনেছিলেন। “কিন্তু আমার তো মা আছে” — এই একটা কথা তাঁর বুকে গিয়ে লাগল। ইসাবের মাতৃহীন জীবনের কথা মনে পড়ে চোখ জলে ভরে উঠল। সজল চোখে অমৃতকে বুকে টেনে নিলেন। অমৃতের মায়ের কাছে গিয়ে বললেন — “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।”

দুই বন্ধুর এই গল্প গ্রামময় ছড়িয়ে পড়ল। গ্রামপ্রধান ঘোষণা করলেন — আজ থেকে অমৃতের নাম ‘অদল’, ইসাবের নাম ‘বদল’। দুই বন্ধু খুশিতে আটখানা হল। গ্রাম পেরিয়ে আকাশ-বাতাসেও সেই আওয়াজ মুখরিত হয়ে উঠল — “অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল।”


অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

পান্নালাল প্যাটেল
পান্নালাল প্যাটেল

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ১

১. ‘অদল বদল’ গল্পটির মূল লেখক কে?

উঃ পান্নালাল প্যাটেল।

২. গল্পটি মূলে কোন ভাষায় রচিত?

উঃ গুজরাতি ভাষায়।

৩. গল্পটির বাংলা অনুবাদক কে?

উঃ অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

৪. ‘অদল বদল’ গল্পটির ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?

উঃ ‘The Exchange’।

৫. গল্পের ঘটনা কোন বিশেষ দিনের বিকেলে ঘটেছে?

উঃ হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেলে।

৬. নিম গাছের নীচে ছেলেরা কী করছিল?

উঃ ধুলো ছোটাছুটি করে খেলছিল।

৭. অমৃত ও ইসাব কোথায় পড়াশোনা করত?

উঃ একই স্কুলে, একই ক্লাসে।

৮. দুই বন্ধুর বাড়ি কীভাবে অবস্থিত ছিল?

উঃ একই রাস্তার মোড়ে মুখোমুখি।

৯. অমৃত ও ইসাবের মধ্যে একমাত্র পার্থক্য কোথায়?

উঃ অমৃতের মা-বাবা ও তিন ভাই আছে, কিন্তু ইসাবের কেবল বাবা আছে।

১০. কালিয়া গল্পে কোন ভূমিকায় এসেছে?

উঃ অমৃতকে কুস্তির চ্যালেঞ্জ জানানো গ্রামের এক ছেলে হিসেবে।

১১. কুস্তিতে কার কী ক্ষতি হল?

উঃ ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে গেল।

১২. ইসাবের জামা কিনতে তার বাবা কার কাছ থেকে টাকা ধার করেছিলেন?

উঃ সুদখোরের কাছ থেকে।

১৩. ইসাবের বাবার নাম কী? উঃ হাসান।

১৪. জামা বদলের প্রস্তাবে ইসাব কী আপত্তি জানিয়েছিল?

উঃ বলেছিল, এতে অমৃতের বাবা তাকে পেটাবে।

১৫. অমৃত কোন যুক্তিতে ছেঁড়া জামা নিজে পরতে রাজি হয়েছিল?

উঃ বলেছিল — “আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।”

১৬. হাসান কোথায় বসে হুঁকো টানছিলেন?

উঃ বাড়ির সামনের দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে।

১৭. হাসান দূর থেকে ছেঁড়া জামা দেখে কার নাম ধরে চেঁচিয়েছিলেন?

উঃ ইসাবের নাম ধরে।

১৮. “কী খাঁটি কথা!” — এই উক্তিটি কার?

উঃ ইসাবের বাবা হাসানের।

১৯. হাসান অমৃতের মাকে কী বলেছিলেন?

উঃ বলেছিলেন — “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।”

২০. হাসানের মতে অমৃতের মতো ছেলে পেলে তিনি কতজনকে পালন করতে রাজি?

উঃ একুশজনকে।

২১. গ্রামপ্রধান অমৃতকে কোন নাম দিলেন?

উঃ ‘অদল’।

২২. গ্রামপ্রধান ইসাবকে কোন নাম দিলেন?

উঃ ‘বদল’।

২৩. গল্পের শেষে আকাশ-বাতাসে কোন আওয়াজ ধ্বনিত হয়েছিল?

উঃ “অমৃত-ইসাব অদল-বদল, অদল-বদল।”

২৪. পান্নালাল প্যাটেল কত খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান?

উঃ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে।

২৫. পান্নালাল প্যাটেলের জন্মস্থান কোথায়?

উঃ রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে মাণ্ডু গ্রামে।

২৬. ‘হেলি’ বা ‘হোলি’ কী?

উঃ ফাল্গুন মাসে হওয়া অবাঙালিদের রঙের উৎসব।

২৭. ‘পড়ন্ত বিকেল’ বলতে কী বোঝায়?

উঃ ক্রমশ শেষ হয়ে আসা বিকেল।

২৮. ‘রিফু’ করা মানে কী?

উঃ ছুঁচ ও সুতো দিয়ে বুনে জীর্ণ জামাকাপড় মেরামত করা।

২৯. ‘খাটিয়া’ শব্দের অর্থ কী?

উঃ দড়ি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি হালকা খাট বিশেষ।

৩০. গল্পে অমৃতের ও ইসাবের ধর্মীয় পরিচয় কী?

উঃ অমৃত হিন্দু, ইসাব মুসলমান।


অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

অদল বদল _ দশম শ্রেণি বাংলা _ মাধ্যমিক সাজেশন
অদল বদল দশম শ্রেণি বাংলা মাধ্যমিক সাজেশন

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৩

১. নিম গাছের নীচের পরিবেশ বর্ণনা করো এবং সেখানে অমৃত-ইসাবের আগমনের প্রসঙ্গ লেখো।

উঃ হোলির পড়ন্ত বিকেলে গ্রামের নিম গাছের ছায়ায় একদল ছেলে ধুলো উড়িয়ে ছুটোছুটি করে খেলছিল। উৎসবের আনন্দে গোটা পরিবেশ তখন প্রাণবন্ত। ঠিক সেই মুহূর্তে হাত ধরাধরি করে সেই দলের কাছে এসে দাঁড়ায় অমৃত ও ইসাব। দুজনের গায়েই সেদিনের বিশেষ নতুন জামা — রং, মাপ, কাপড় সবদিক থেকে হুবহু এক। এই উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝে দুই বন্ধুর আগমনই গল্পের সূচনাবিন্দু।


২. কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির ঘটনাটি বর্ণনা করো।

উঃ কালিয়া নামের এক ছেলে অমৃতকে কুস্তির চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল। অমৃত রাজি না হলে কালিয়া তাকে জোর করে মাটিতে ছুঁড়ে দেয়, চারপাশ থেকে ছেলেরা হই-হই করে ওঠে। বন্ধুর এই অপমান সইতে না পেরে ইসাব নিজেই কালিয়ার মুখোমুখি হয়। লড়াইয়ে ইসাব জিতে যায়, কিন্তু মূল্য দিতে হয় বড় — ধস্তাধস্তিতে তার নতুন জামাটি ছিঁড়ে যায়। এই ছেঁড়া জামাই গল্পের মূল সংকটের জন্ম দেয়।


৩. ইসাবের বাবাকে কেন এত ভয় পেয়েছিল দুই বন্ধু?

উঃ ইসাবের বাবা হাসান স্বভাবে রাগী এবং কঠোর মানুষ। ইসাবের নতুন জামা কেনার জন্য তিনি সুদখোরের কাছ থেকে কষ্ট করে টাকা ধার করে, অনেক বাছাবাছি করে কাপড় কিনে জামা বানিয়েছিলেন। সেই জামা কুস্তির ধাক্কায় ছিঁড়ে যাওয়ায় দুই বন্ধু বুঝল বাবা জানলে মারধর নিশ্চিত। হাসানের রাগী চরিত্রের কথা ইসাব ভালো করেই জানত, তাই এই গভীর ভয় তাদের মধ্যে জেঁকে বসেছিল।


৪. অমৃত নতুন জামা পাওয়ার জন্য কী কী কৌশল নিয়েছিল?

উঃ অমৃত ইসাবের মতো নতুন জামা পাওয়ার জন্য তুমুল জেদ ধরে। মা বোঝালে সে কাঁদতে কাঁদতে জামার একটু ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরো বড় করে ছিঁড়ে দেয়। স্কুল যাওয়া বন্ধ করে, খাওয়া ছেড়ে দেয়, রাতে বাড়ি ফিরতেও অস্বীকার করে। বাবার গোয়ালঘরে লুকিয়ে থাকে। এই চাপে শেষ পর্যন্ত মা বাবাকে রাজি করান এবং অমৃতের জন্য নতুন জামা কেনা হয়।


৫. হাসান সব ঘটনা জানার পর কী করলেন এবং কী বললেন?

উঃ আড়াল থেকে দুই বন্ধুর কথোপকথন শুনে হাসানের মন ভেতর থেকে কাঁদল। তিনি সজল চোখে অমৃতকে বুকে টেনে নিলেন এবং তাকে নিয়ে গেলেন অমৃতের বাবা-মায়ের কাছে। বাহালি বৌদিকে বললেন — “আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” বাহালি বৌদি হাসতে হাসতে বললেন — “এক ছেলেকেই সামলাতে পারেন না, দুজনকে কী করে সামলাবেন?” আবেগভরা গলায় হাসান জবাব দিলেন — “অমৃতের মতো ছেলে পেলে একুশজনকেও পালন করতে রাজি।”


৬. গল্পে পাড়ার মায়েরা হাসানের কথা শুনে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখালেন?

উঃ হাসান পাড়ার মায়েদের কাছে জামা অদল-বদলের গল্প বিস্তারিত বললেন। অমৃতের সেই কথাটি — “কিন্তু আমার তো মা আছে” — তিনি আবেগভরে জানালেন। দুই ভিন্নধর্মী কিশোরের এই নিঃস্বার্থ বন্ধুত্বের কাহিনি শুনে সেখানে উপস্থিত সকল মায়ের বুক ভরে গেল। হাসান যখন সজল চোখে বললেন — “কী খাঁটি কথা! অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে” — তখন সেই বন্ধুত্বের মহিমায় সকলেই অভিভূত হয়ে পড়লেন।


৭. ‘অদল-বদল’ ডাকটি দুই বন্ধুর মনে কীভাবে পরিবর্তন এনেছিল?

উঃ প্রথমে গ্রামের ছেলেরা যখন মজা করে ‘অদল-বদল’ বলে চেঁচাতে শুরু করল, তখন অমৃত ও ইসাব বিব্রত হয়ে সরে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু গ্রামপ্রধান যখন আনুষ্ঠানিকভাবে অমৃতকে ‘অদল’ ও ইসাবকে ‘বদল’ নাম দেওয়ার ঘোষণা করলেন, তখন দুই বন্ধু আর অস্বস্তি বোধ করল না। বরং এই বিশেষ নাম পেয়ে তারা বেজায় খুশি হল। নামটি তাদের বন্ধুত্বকে চিরস্মরণীয় করে রাখল।


৮. হাসান ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে আসলে কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?

উঃ হাসান ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে মায়ের স্নেহ বা মাতৃমেহ বুঝিয়েছিলেন। অমৃত বলেছিল — সে মার খেলেও তার মা তাকে বাঁচাবেন। এই সরল কথাটি হাসানকে বুঝিয়ে দিল, একটি শিশুর জীবনে মায়ের কোমল আশ্রয় কতটা অপরিহার্য। ইসাব সেই আশ্রয় থেকে চিরবঞ্চিত। শাসন করা যায়, ভরণ-পোষণ দেওয়া যায়, কিন্তু মায়ের সেই উষ্ণ কোলটুকু আর কোনো কিছু দিয়ে পোষানো যায় না — এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে ‘খাঁটি জিনিস’।


৯. অমৃতের মা কি তাকে ছেঁড়া জামার ঘটনায় শাস্তি দিয়েছিলেন? গল্প অনুযায়ী জানাও।

উঃ না, অমৃতের মা তাকে বড় কোনো শাস্তি দেননি। হোলির দিন বাড়ি ফিরলে মা জামা দেখে ভুরু কুঁচকেছিলেন ঠিকই। কিন্তু হোলির দিনে ছেলেরা এলোমেলো করে চলে — এটা জানা ছিল বলে তিনি রাগ করলেও মাফ করে দিলেন। একটা সুঁচসুতো নিয়ে ছেঁড়া জামাটি নিজেই রিফু করে দিলেন। এতে দুই বন্ধুর ভয় কেটে গেল এবং তারা আবার হাত ধরে মাঠের দিকে বেরিয়ে পড়ল।


১০. পান্নালাল প্যাটেলের এই গল্পে গ্রামীণ জীবনের কোন কোন দিক উঠে এসেছে?

উঃ পান্নালাল প্যাটেল তাঁর গল্পে গ্রামীণ ভারতের বাস্তব পরিবেশ অসাধারণ সজীবভাবে এঁকেছেন। হোলির উৎসব, নিম গাছের তলায় ছেলেদের খেলা, কুস্তির গ্রামীণ ঐতিহ্য, চাষির সুদখোরের কাছে টাকা ধার — এই সব চিত্র সাধারণ গ্রামজীবনের অংশ। দাওয়ায় খাটিয়ায় বসে হুঁকো টানা, জামা রিফু করে দেওয়া, প্রতিবেশীর মায়েদের মিলেমিশে থাকা — এই সূক্ষ্ম বিবরণগুলো গল্পকে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।


অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর: বিশ্লেষণধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি

বন্ধুর জন্য এগিয়ে আসা
বন্ধুর জন্য এগিয়ে আসা

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৫

১. ‘অদল বদল’ গল্পের নামকরণ কতটা সার্থক তা বিচার করো।

উঃ যেকোনো সাহিত্যের নামকরণ পাঠকের মনে গল্প সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা জাগিয়ে তোলে। একটি সার্থক নাম গল্পের গভীর অর্থকে সংক্ষেপে ধরে রাখে এবং পাঠ শেষেও পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের নামকরণ এই দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ সফল।

আক্ষরিক অর্থে ‘অদল বদল’ মানে পরস্পরের সাথে বিনিময় করে নেওয়া। গল্পে এই বিনিময় প্রথমত ঘটে পোশাকের ক্ষেত্রে। কুস্তিতে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার পর অমৃত তার নিজের ভালো জামা বন্ধুকে দেয় এবং নিজে ছেঁড়া জামাটি পরে নেয়। এই পোশাক-বিনিময়ই গল্পের কেন্দ্রীয় ঘটনা।

কিন্তু কেবল পোশাকের বিনিময়েই এই নামের সার্থকতা শেষ হয়ে যায় না। এর অনেক গভীর অর্থ রয়েছে। এই অদল-বদলের মধ্য দিয়ে দুই বন্ধু পরস্পরের পরিচয়ই বদলে দিল। হিন্দু বন্ধু অমৃত মুসলমান পরিবারের কাছের মানুষ হয়ে গেল, ইসাব পেল হিন্দু বন্ধুর মায়ের আশ্রয়। দুটি ভিন্নধর্মী পরিবার মিলে একটি মানবিক পরিবার হয়ে উঠল।

আরও একটি সূক্ষ্ম অদল-বদল ঘটেছে হাসানের মধ্যে। কঠোর, রাগী মানুষটি অমৃতের একটি কথায় নরম হয়ে গেলেন — তাঁর চরিত্রেও ঘটল বদল। রাগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা বেরিয়ে এল।

সবচেয়ে স্থায়ী অদল-বদল হল নামকরণে। গ্রামপ্রধান অমৃতকে ‘অদল’ এবং ইসাবকে ‘বদল’ নাম দিলেন। এই নাম তাদের সম্পর্কের পরিচয় হয়ে গেল — তারা একে অপরের বিনিময়যোগ্য, একে অপরের পরিপূরক।

সব দিক বিচার করলে স্পষ্ট যে ‘অদল বদল’ নামটি কেবল একটি ঘটনার পরিচয় নয়, গল্পের সমস্ত মানবিক আদর্শ ও দার্শনিক সত্যকে একটি বিন্দুতে ধরে রেখেছে। তাই এই নামকরণ সার্থক এবং যথাযথ।


২. ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃতের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।

উঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত একটি বহুমাত্রিক চরিত্র। তার মধ্যে একইসাথে আছে শিশুসুলভ একগুঁয়েমি এবং গভীর মানবিক বোধ।

প্রথমত, অমৃত অত্যন্ত জেদি। নতুন জামার জন্য সে যে কৌশল নেয় তা একটু বাড়াবাড়ি মনে হলেও তার মধ্যে একটি দৃঢ় সংকল্প স্পষ্ট। স্কুল না যাওয়া, খাওয়া বন্ধ করা, বাড়ি না ফেরা — এই চাপ দিয়ে সে লক্ষ্য অর্জন করে। এই একরোখা স্বভাব তার দুর্বলতা নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বের একটি বৈশিষ্ট্য।

দ্বিতীয়ত, অমৃতের মধ্যে বন্ধুর প্রতি গভীর সমবেদনা রয়েছে। কালিয়া তাকে মাটিতে ফেলে দিলে সে নিজে উঠে দাঁড়াল, কিন্তু পাল্টা লড়াইয়ে নামল না। সে জানে তার মা বকবেন। কিন্তু যখন দেখল তার জন্য ইসাব লড়ে বিপদে পড়েছে, তখন সে দায়িত্ব এড়াল না।

তৃতীয়ত, অমৃতের মধ্যে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও পরিপক্বতা আছে। জামা অদল-বদলের বুদ্ধিটি সে নিজেই ভেবেছে। তার চেয়েও বড় কথা — সে জানে ইসাবের মা নেই, তাই ইসাবকে বাঁচানোর দায়িত্বটা তার। এই উপলব্ধি একটি কিশোরের জন্য অনেক পরিপক্ব।

চতুর্থত, অমৃত সাহসী। নিজের বাবার মার খাওয়ার ভয় জেনেও ছেঁড়া জামা পরল — কারণ তার মা আছেন। মায়ের উপর এই বিশ্বাস এবং বন্ধুর জন্য ত্যাগ স্বীকারের সাহস তার চরিত্রকে উজ্জ্বল করে তুলেছে।

সার্বিকভাবে অমৃত এমন একটি চরিত্র যে দুষ্টামি ও মানবিক ভালোবাসা দুটোই সমানভাবে ধারণ করে। হাসানের “একুশজনকেও পালন করতে রাজি” কথাটি অমৃতের শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।


৩. ‘অদল বদল’ গল্পে হিন্দু-মুসলিম পারস্পরিক সম্প্রীতির যে ছবি ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

উঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পটি বাইরে থেকে দেখলে একটি সরল কিশোরের বন্ধুত্বের আখ্যান। কিন্তু এর ভেতরে রয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক গভীর ও মর্মস্পর্শী বার্তা।

গল্পের মূল দুই চরিত্র অমৃত হিন্দু, ইসাব মুসলমান। কিন্তু লেখক এই পরিচয় জানিয়েই সরে এলেন — তারপর আর সেদিকে ফিরে তাকাননি। দুই বন্ধুর দৈনন্দিন জীবনে ধর্মের প্রশ্ন আসেইনি। একই স্কুল, একই ক্লাস, পাশাপাশি বাড়ি, একসাথে খেলা — এই স্বাভাবিক মেলামেশাতেই গল্পের প্রথম সম্প্রীতির বার্তা।

সম্প্রীতির প্রথম উজ্জ্বল প্রকাশ কুস্তির ঘটনায়। ইসাব মুসলমান বলে হিন্দু বন্ধুর অপমানে চুপ থাকবে — এই ভাবনা তার মনে আসেনি। সে নিজের জামার ক্ষতির কথা না ভেবেই বন্ধুর পাশে দাঁড়াল।

পরের ঘটনায় অমৃতও একই পথে হাঁটল। মুসলমান বন্ধুর বিপদে নিজে ছেঁড়া জামা পরে মার খাওয়ার ঝুঁকি নিল। “আমার মা আছে, ইসাবের নেই” — এই একটি কথায় ধর্মের চেয়ে মানবতা যে বড়, সেই সত্য অসাধারণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

সম্প্রীতির সবচেয়ে শক্তিশালী ছবি মেলে গল্পের শেষে। হাসান একজন মুসলমান। হিন্দু অমৃতকে তিনি নিজের ছেলে বলে স্বীকার করলেন। দুই পরিবারের মধ্যে গড়ে উঠল আত্মীয়তার বন্ধন। গ্রামপ্রধানের ঘোষণায় সমাজ এই মিলনকে স্বীকৃতি দিল। আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়া “অমৃত-ইসাব অদল-বদল” আওয়াজ যেন জানাল — ধর্মের ব্যবধান মানুষের তৈরি, মানবতা তার উপরে।

পান্নালাল প্যাটেল দেখালেন, শিশুদের নিষ্পাপ ভালোবাসা ধর্মের প্রাচীরকে অনায়াসে অতিক্রম করতে পারে। এই বার্তাই আজকের ভারতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।


৪. “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে” — বক্তা কে? তিনি কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলেছেন? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে এখানে কী বোঝানো হয়েছে?

উঃ এই উক্তিটির বক্তা ‘অদল বদল’ গল্পের ইসাবের বাবা হাসান।

প্রসঙ্গ: পাড়ার মায়েদের কাছে জামা অদল-বদলের ঘটনা বলতে গিয়ে হাসান আবেগ সামলাতে পারলেন না। তিনি জানালেন — ইসাব যখন অমৃতকে জিজ্ঞেস করেছিল, “তোর বাবা যদি তোকে মারে কী হবে?” তখন অমৃত উত্তর দিয়েছিল — “নিশ্চয়ই ঠ্যাঙাবে, কিন্তু আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” এই কথাটি আড়াল থেকে শুনেছিলেন হাসান। সজল চোখে সেই প্রসঙ্গে তিনি বলে ওঠেন — “কী খাঁটি কথা! অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে। ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।”

‘খাঁটি জিনিস’ বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে মায়ের স্নেহ — মাতৃমেহ। ইসাব ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে। কঠোর বাবার কাছে বড় হওয়া ইসাব জানে না মায়ের কোমল আশ্রয় কী। কিন্তু অমৃত সেই আশ্রয়ের উপর পুরোপুরি নির্ভর করে বিপদের মুখে বুক পেতে দিল। এই মাতৃস্নেহ — যা কেনা যায় না, যার কোনো বিকল্প নেই — সেটাই পৃথিবীর সবচেয়ে ‘খাঁটি’ জিনিস।

হাসানের এই উপলব্ধি তাঁকে নতুন করে চেনাল নিজেকে। তিনি বুঝলেন তাঁর ছেলে এই সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস থেকে বঞ্চিত। সেই বোধই তাঁকে অমৃতের মায়ের কাছে নিয়ে গেল, অমৃতকে নিজের ছেলে বলে স্বীকার করাল।


৫. ‘অদল বদল’ গল্পে হাসানের চরিত্রে মানবিক রূপান্তর কীভাবে ঘটেছে তা আলোচনা করো।

উঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে হাসান একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। গল্পের শুরুতে যে হাসানকে দেখি এবং শেষে যে হাসানকে পাই — দুজনের মধ্যে অনেক দূরত্ব। এই মানবিক রূপান্তরের গল্পটিই এই সাহিত্যকর্মের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়।

গল্পের শুরুতে হাসান রাগী, কঠোর। তাঁর ভয়েই ইসাব ও অমৃত — দুজনেই বুক কাঁপিয়ে ভয় পেয়েছিল। সুদখোরের কাছ থেকে ধার করে কষ্টে ছেলের জামা বানিয়েছিলেন — এই দায়িত্ববোধ আছে, কিন্তু ভালোবাসা প্রকাশ পায় না। তিনি ছিলেন এমন একজন বাবা যাঁকে সন্তান ভালোবাসার চেয়ে ভয় বেশি পায়।

ইসাব মাতৃহীন — এই সত্য হাসান জানতেন, কিন্তু গভীরভাবে অনুভব করেননি। গল্পের মোড় ঘুরল যখন তিনি আড়াল থেকে শুনলেন — “আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” এই একটি বাক্যে যা ছিল তা তাঁর বুকে গিয়ে লাগল। অমৃত যে নিশ্চয়তায় বিপদ ডেকে নিতে পারছে, ইসাব তা কোনোদিন পারবে না। মায়ের উষ্ণ কোলটুকু — যা প্রতিটি শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় — সেটা ইসাব পায়নি।

এই উপলব্ধিটিই হাসানকে ভেতর থেকে বদলে দিল। তাঁর কঠোরতার খোলস খসে পড়ল। সজল চোখে অমৃতকে বুকে টেনে নিলেন, অমৃতের মায়ের কাছে গেলেন। বললেন — “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” এবং যখন বলা হল একজনকেই সামলাতে পারেন না, তখন আবেগে ভরা গলায় জানালেন — “অমৃতের মতো ছেলে পেলে একুশজনকেও পালন করতে রাজি।”

এই হাসান আর আগের হাসান নন। কঠোরতার আড়ালে থাকা মানুষটি বেরিয়ে এল। একটি শিশুর সরল কথা একজন পরিণত মানুষকে যেভাবে বদলে দিতে পারে, হাসান তার জীবন্ত উদাহরণ।


৬. অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আলোকগল্প
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আলোকগল্প

উঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের প্রাণশক্তি হল অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্ব। এই বন্ধুত্ব শুধু দুই কিশোরের স্বাভাবিক সাহচর্য নয় — এর মধ্যে রয়েছে পরস্পরের জন্য গভীর নিঃস্বার্থ ত্যাগ।

বাইরে থেকে দেখলে দুজনের মিল অসাধারণ। একই স্কুল, একই ক্লাস, একই রাস্তার দুই পাড়ে বাড়ি, বাবাদের পেশা একই, পোশাকও হুবহু এক। ধর্মের পরিচয়ে অমৃত হিন্দু, ইসাব মুসলমান — কিন্তু এই ভেদ তাদের বন্ধুত্বকে কোনোদিন স্পর্শ করেনি। গল্পকার এভাবেই দেখিয়েছেন যে খাঁটি বন্ধুত্বে ধর্মের প্রশ্ন আসে না।

বন্ধুত্বের প্রথম পরীক্ষা কুস্তির ঘটনায়। কালিয়া অমৃতকে মাটিতে ছুঁড়ে দিলে ইসাব নিজের নতুন জামার পরোয়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়ল। বন্ধুর সম্মান নিজের স্বার্থের চেয়ে বড় — এটাই তার কাছে স্বাভাবিক।

পাল্টা পরীক্ষায় অমৃতও পিছিয়ে নেই। ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়া বন্ধুকে বাঁচাতে সে নিজে ছেঁড়া জামা পরল। কারণটা সে সরাসরি বলল — “আমার মা আছে, ইসাবের নেই।” এই একটি কথায় প্রকাশ পেল বন্ধুত্বের সবচেয়ে বড় গুণ — সমবেদনা।

এই বন্ধুত্ব একসময় দুই পরিবার ও গোটা গ্রামকে স্পর্শ করল। হাসান অমৃতকে নিজের ছেলে বলে গ্রহণ করলেন, গ্রামপ্রধান তাদের ‘অদল’ ও ‘বদল’ নামে ডাকার ঘোষণা করলেন। অমৃত-ইসাবের বন্ধুত্ব হয়ে উঠল হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির এক জীবন্ত প্রতীক এবং মানবতার সার্থক উদাহরণ।

সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর

প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

  • কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) MCQ — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (সন্ততা, অন্তরকলন, প্রয়োগ)
    WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর অধ্যায়ের ৯০টি MCQ প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধানসহ উত্তর — সন্ততা, অন্তরকলনযোগ্যতা, অন্তরকলন কৌশল ও প্রয়োগ কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) সম্পূর্ণ MCQ — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টার গণিত পরীক্ষায় কলনবিদ্যা প্রশ্ন উত্তর (Calculus) সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় — সন্ততা (continuity), অন্তরকলনযোগ্যতা …

    Read more

  • ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর (Matrices and Determinants) MCQ প্রশ্ন— HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত
    WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর, এই অধ্যায়ের ৬৮টি MCQ প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধানসহ উত্তর। ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক প্রশ্ন উত্তর (Matrices and Determinants) সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্ন উত্তর উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণির তৃতীয় সেমিস্টার গণিত পরীক্ষায় ম্যাট্রিক্স ও নির্ণায়ক (Matrices and Determinants) অধ্যায় থেকে ম্যাট্রিক্সের ধর্ম, নির্ণায়কের বৈশিষ্ট্য, প্রতিসম/বিপ্রতিসম ম্যাট্রিক্স এবং রৈখিক …

    Read more

  • বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ (Inverse Trigonometric Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের দ্বিতীয় ইউনিট বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক (Inverse Trigonometric Functions) — এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় যোগ-বিয়োগের সূত্রে …

    Read more

  • সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সিলেবাসে সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) অধ্যায়টা প্রথম ইউনিট হলেও এখানেই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী …

    Read more

  • তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ” অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তরসহ। লেঞ্জের সূত্র, আবেশাঙ্ক, ট্রান্সফরমার, AC বর্তনী সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের পঞ্চম ও শেষ মূল ইউনিট তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ — এখানে লেঞ্জের সূত্র, স্ব-আবেশ, পারস্পরিক …

    Read more

  • তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” সংক্রান্ত মডেল প্রশ্নপত্রের প্রশ্ন উত্তরসহ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার সিলেবাসে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা টপিকটা মূল ৫টা ইউনিটের মতো আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ Model Question Paper হিসেবে আসেনি — বরং সাধারণ মিশ্র মক টেস্ট (Set-I …

    Read more

  • তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। বায়ো-সাভার্ট সূত্র, সাইক্লোট্রন, চুম্বকত্ব সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের চতুর্থ অধ্যায় তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব — এখানে বায়ো-সাভার্ট সূত্র, অ্যাম্পিয়ারের সূত্র, সাইক্লোট্রন …

    Read more

  • প্রবাহী তড়িৎ – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “প্রবাহী তড়িৎ” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। কারেন্ট, রোধ, পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। প্রবাহী তড়িৎ: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর প্রবাহী তড়িৎ অধ্যায়টা তৃতীয় সেমিস্টারের মধ্যে সবচেয়ে “প্র্যাকটিক্যাল” — এখানেই পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ, শান্ট-গ্যালভানোমিটারের মতো যন্ত্রের হিসাব আসে, যেগুলো ল্যাব পরীক্ষাতেও কাজে লাগে। নিচে …

    Read more

  • স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
    উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। ধারক নেটওয়ার্ক, বিভব ও শক্তি সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়ের পরের ধাপ হলো স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব — এই অধ্যায়ে বিভব, বিভব প্রভেদ, ধারকত্বের …

    Read more

মন্তব্য করুন