দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন।
লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অঙ্ক অনার্স পড়ার সময়েই তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামি’ ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (১৯২৮)। মাত্র একুশ বছর বয়সে লেখেন প্রথম উপন্যাস ‘দিবারাত্রির কাব্য’।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পসংকলনের মধ্যে আছে ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ‘সরীসৃপ’, ‘মিহি ও মোটা কাহিনি’, ‘সমুদ্রের সাদ’, ‘হলুদ পোড়া’, ‘আজকাল পরশুর গল্প’, ‘লাজুকলতা’ প্রভৃতি। ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ ও ‘পদ্মানদীর মাঝি’ তাঁর সর্বাধিক সমাদৃত উপন্যাস। ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর এই মহান সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।
‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত নবম সংখ্যক গল্প। ‘সরীসৃপ’ তাঁর দশম গ্রন্থ ও চতুর্থ গল্পসংকলন।
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর: গল্পের সারসংক্ষেপ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মূল চরিত্র নেদারচাঁদ। ত্রিশ বছর বয়সি এই যুবক একটি ছোটো রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার। বাইরে থেকে দেখলে সে একজন সাধারণ কর্মী মানুষ — কিন্তু ভেতরে বাস করে একটি প্রকৃতিপ্রেমী, শিশুসুলভ, রোমান্টিক সত্তা।
গল্পের শুরুতে দেখা যায়, টানা পাঁচদিনের অবিরাম বৃষ্টির পর একটু থামলে নেদারচাঁদ চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন রওনা করিয়ে নতুন সহকারীকে বিদায় জানায় — ‘আমি চললাম হে।’ তার গন্তব্য স্টেশন থেকে এক মাইল দূরে নদীর উপরকার ব্রিজ। পাঁচদিন নদী দেখা হয়নি, এই ব্যবধানে নিশ্চয়ই নদী অপূর্ব রূপ পেয়েছে — এই ঔৎসুক্যেই তার এই যাত্রা।
ব্রিজে পৌঁছে নেদারচাঁদ থমকে যায়। তার চিরচেনা শীর্ণ, নিরীহ নদী আজ চিনতেই পারা যাচ্ছে না। বর্ষার জলে পুষ্ট হয়ে নদী আজ ফেনোচ্ছাসিত, উন্মত্ত, গর্জনশীল। পঙ্কিল গাঢ় জলরাশি ফুলে-ফেঁপে প্রচণ্ড বেগে ছুটে চলেছে। এই অপরিচিত রূপ দেখে নেদারচাঁদের মনে হয় নদী যেন আজ সত্যিই জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নেদারচাঁদ মেতে ওঠে নদীর সঙ্গে নিজের মতো খেলায়। পকেট থেকে কাগজের টুকরো বের করে স্রোতে ভাসায়। তারপর পুরনো একটি চিঠি বের করে — টানা বৃষ্টির দিনে বউকে লেখা পাঁচ পাতার একখানা বিরহের চিঠি। সেটিও একে একে ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়। মুশলধারা বৃষ্টিতেও সে উঠে আসে না — ভিজতে থাকে, নদীর সুরে একাকার হতে চায়।
হঠাৎ ট্রেনের শব্দে সচেতন হয়ে নেদারচাঁদ হাঁটতে শুরু করে স্টেশনের দিকে। তার মনে তখন একটি গভীর উপলব্ধি ভিড় করে। সে বুঝতে পারে — এই ব্রিজ নদীর জন্য একটি শৃঙ্খল। মানুষ বাঁধ-সেতু দিয়ে প্রকৃতিকে বন্দি করেছে। তাই বর্ষায় স্ফীত নদী সেই শৃঙ্খল ভাঙতে ফুলে-ফেঁপে উঠছে — এটাই তার বিদ্রোহ। কিন্তু নেদারচাঁদ জানে মানুষ নদীকে এভাবে বিদ্রোহ করতে দেবে না।
অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে ফেরার পথে পিছন থেকে আসা ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন নেদারচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়। প্রকৃতিপ্রেমী মানুষটির ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে মানুষেরই তৈরি যন্ত্রের হাতে। এই পরিণতিতে যন্ত্রসভ্যতার কাছে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পরাজয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ১
১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের লেখক কে? উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২. গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে সংগৃহীত? উঃ ‘সরীসৃপ’ গল্পগ্রন্থের নবম গল্প।
৩. গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম কী? উঃ নেদারচাঁদ।
৪. নেদারচাঁদ কী পেশার মানুষ? উঃ একটি ছোটো রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার।
৫. গল্পের শুরুতে কোন ট্রেন রওনা করানো হয়েছিল? উঃ চারটে পঁয়তাল্লিশের প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
৬. নেদারচাঁদের স্টেশন থেকে নদীর ব্রিজ কতটা দূরে? উঃ এক মাইল দূরে।
৭. গল্পে কতদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছিল? উঃ পাঁচদিন ধরে।
৮. নেদারচাঁদ বউকে কতদিন ধরে চিঠি লিখেছিল? উঃ দুদিন ধরে।
৯. চিঠিতে কত পাতা ছিল? উঃ পাঁচ পাতা।
১০. নেদারচাঁদ চিঠিটির কী করেছিল? উঃ ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিল।
১১. নদীর ‘বিদ্রোহের’ কারণ কী বলে নেদারচাঁদ মনে করেছিল? উঃ মানুষ বাঁধ-সেতু তৈরি করে নদীকে বন্দি করেছে — সেই শৃঙ্খল ভাঙার চেষ্টাই নদীর বিদ্রোহ।
১২. ব্রিজে বসে নেদারচাঁদ কী করছিল? উঃ কাগজের টুকরো ছিঁড়ে ছিঁড়ে নদীর জলে ভাসাচ্ছিল।
১৩. ব্রিজের কোথায় বসেছিল নেদারচাঁদ? উঃ ধারকস্তম্ভের উপর।
১৪. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল নাম কী? উঃ প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৫. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? উঃ সাঁওতাল পরগনার দুমকায়।
১৬. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম কী? উঃ ‘অতসী মামি’।
১৭. কোন পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয়? উঃ ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায়।
১৮. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনাবসান কবে হয়? উঃ ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর।
১৯. গল্পের শেষে কোন ট্রেন নেদারচাঁদকে পিষে দিয়ে যায়? উঃ ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন।
২০. ‘প্যাসেঞ্জার ট্রেন’ বলতে কী বোঝায়? উঃ কম দূরত্বের যাত্রীবাহী ট্রেন।
২১. ‘ঔৎসুক্য’ শব্দের অর্থ কী? উঃ কৌতূহল।
২২. ‘পরমাশীয়’ মানে কী? উঃ খুব আপনজন।
২৩. ‘ধারকস্তম্ভ’ মানে কী? উঃ ধারণ করে রাখে যে স্তম্ভ।
২৪. ‘আবর্ত’ শব্দের অর্থ কী? উঃ ঘূর্ণন।
২৫. ‘ক্ষীণস্রোত’ মানে কী? উঃ ক্ষীণ স্রোত যে নদীর।
২৬. ‘বর্ষণ-পুষ্ট’ মানে কী? উঃ বৃষ্টির জলে পরিপূর্ণ।
২৭. গল্পের শুরুতে নতুন সহকারী মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখে কী বলেছিল? উঃ বলেছিল — ‘আজ্ঞে হাঁ’ (আবার বৃষ্টি হবে সেই ইঙ্গিতে)।
২৮. ‘অবিরত’ শব্দের অর্থ কী? উঃ অনবরত।
২৯. গল্পে দেশের নদীটি কেমন ছিল? উঃ ক্ষীণস্রোতা, নির্জীব, প্রায় শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
৩০. ‘অকৃতপূর্ব’ মানে কী? উঃ যা আগে কখনো শোনা যায়নি।
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৩
১. নেদারচাঁদ কেন ব্রিজে গিয়েছিল? সেখানে কী দেখল?
উঃ পাঁচদিনের অবিরাম বৃষ্টির পর একটু থামলে নেদারচাঁদ স্টেশনের কাজ সেরে বের হয় — গন্তব্য এক মাইল দূরে নদীর ব্রিজ। এতদিনের বৃষ্টিতে নদী কী রূপ পেয়েছে তা দেখার তীব্র কৌতূহলই তাকে টেনে নিয়ে যায়। ব্রিজে পৌঁছে সে থমকে যায় — তার চিরচেনা শীর্ণ নদী আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্ষার জলে পুষ্ট হয়ে নদী এখন ফেনোচ্ছাসিত, উন্মত্ত, গর্জনশীল। পঙ্কিল গাঢ় জলরাশি প্রচণ্ড বেগে ছুটে চলেছে। এই অপরিচিত রূপ দেখে সে স্তম্ভিত ও আনন্দিত হয়ে পড়ে।
২. ‘জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল’ — নদীকে জীবন্ত মনে হওয়ার কারণ কী?
উঃ এই উদ্ধৃতিটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অংশ। নেদারচাঁদের স্টেশনের অদূরে একটি নদী রয়েছে। কিছুদিন আগেও সে নদীর পঙ্কিল, মৃদু স্রোত দেখেছিল। কিন্তু টানা পাঁচদিনের বৃষ্টির পর বিরতি পেয়ে নদীর ব্রিজে পৌঁছে নেদারচাঁদ সম্পূর্ণ ভিন্ন নদী দেখল। নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠে ফেনোচ্ছাসিত হয়ে গর্জন করে ছুটছে। এই প্রাণময় রূপ দেখে নেদারচাঁদের মনে হয়েছিল নদী যেন সত্যিই জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
৩. নেদারচাঁদ বউকে লেখা চিঠি নদীতে ভাসিয়ে দিল কেন?
উঃ টানা বৃষ্টির দিনগুলোতে নেদারচাঁদ বউকে দুদিন ধরে পাঁচ পাতার একটি বিরহবেদনাপূর্ণ চিঠি লিখেছিল। কিন্তু ব্রিজে এসে নদীর উন্মত্ত রূপ দেখে তার মধ্যে এমন একটি খেলাধুলার মনোভাব জেগে ওঠে যে ওই ব্যক্তিগত চিঠিটাও তার কাছে মামুলি হয়ে পড়ে। নদীর জলে কাগজ ভাসানোর খেলায় মেতে উঠে সে চিঠিটাও ছিঁড়ে ছিঁড়ে জলে দেয়। নদীর সঙ্গে একাত্ম হওয়ার এই আনন্দেই তার ছেলেমানুষির পরিচয় মেলে।
৪. নদীর বিদ্রোহের কারণ হিসেবে নেদারচাঁদ কী বুঝেছিল?
উঃ বর্ষায় স্ফীত নদীকে দেখে নেদারচাঁদ মনে মনে বুঝেছিল — এই উন্মত্ততা আসলে একটি প্রতিবাদ। মানুষ ইট, সুরকি, সিমেন্ট, পাথর, লোহালক্কড় দিয়ে শক্ত বাঁধ ও সেতু তৈরি করে নদীকে বন্দি করেছে, তার স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করেছে। নদী সেই শৃঙ্খলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ করছে — ফুলে-ফেঁপে বাঁধ চুরমার করে আবার তার মুক্ত পথে ফিরে যেতে চাইছে। এই বিদ্রোহের কারণ নেদারচাঁদের মনে স্পষ্ট হয়েছিল।
৫. দেশের নদীটির সম্পর্কে নেদারচাঁদের মনোভাব কেমন ছিল?
উঃ নেদারচাঁদের দেশের নদীটি ছিল ক্ষীণস্রোতা, প্রায় নির্জীব। গরমকালে স্রোতধারা এতটাই শুকিয়ে যেত যে নদীটির অস্তিত্বই বিপন্ন মনে হত। এই শীর্ণ, নির্বল নদীটির জন্যও নেদারচাঁদের মনে গভীর মমতা ছিল। মুমূর্ষু আপনজনকে যেভাবে শুশ্রূষা করা যায়, নদীটির প্রতি নেদারচাঁদের অনুভূতি ছিল অনেকটা সেইরকম — অসুস্থ নদীর জন্য সে মনে মনে সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ত।
৬. ‘নিজের পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে’ — কার পাগলামির কথা বলা হয়েছে? সে কীভাবে সেই পাগলামি উপভোগ করে?
উঃ এখানে নেদারচাঁদের পাগলামির কথা বলা হয়েছে। ত্রিশ বছর বয়সি স্টেশনমাস্টার হয়েও সে নদীর প্রতি যেভাবে আকৃষ্ট হয়, তা নিজের কাছেও একটু অস্বাভাবিক ঠেকে। পাঁচদিনের বৃষ্টির পর বৃষ্টি একটু থামলেই সে ছুটে যায় নদী দেখতে। মুশলধারা বৃষ্টিতেও ব্রিজে বসে থাকে, ভিজতে থাকে। কাগজের টুকরো নদীতে ভাসায়, বউকে লেখা বিরহের চিঠি ছিঁড়ে ছিঁড়ে জলে দেয়। এই খেলায় সে শিশুর মতো আনন্দ পায় — এটাই তার ‘পাগলামি’।
৭. নেদারচাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গল্পে কোন সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
উঃ গল্পের শেষে ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন অন্ধকারে হাঁটতে থাকা নেদারচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়। এই ট্র্যাজিক মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয় — এর মধ্যে একটি গভীর সত্য আছে। নেদারচাঁদ প্রকৃতিপ্রেমী, সংবেদনশীল মানুষ — সে বুঝতে পেরেছিল মানুষের যন্ত্রসভ্যতা কীভাবে প্রকৃতিকে পদদলিত করছে। কিন্তু সেই যন্ত্রের হাতেই তার মৃত্যু ঘটল। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন — যন্ত্রসভ্যতার সামনে প্রকৃতিপ্রেমী শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পরাজয় অনিবার্য।
৮. ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নেদারচাঁদের মধ্যে কোন অনুভূতি জেগে উঠেছিল?
উঃ ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নেদারচাঁদ প্রথমে শুধু আনন্দ পেয়েছিল — স্ফীত, গর্জনশীল নদী দেখে তার মন ভরে উঠেছিল। কিন্তু একাকী বসে থাকতে থাকতে তার মধ্যে ধীরে ধীরে জেগে উঠল একটি গভীর উপলব্ধি। সে বুঝল এই ব্রিজটি আসলে নদীর স্বাধীনতার পথে বাধা। মানুষের তৈরি যন্ত্রসভ্যতা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। নদীর বিদ্রোহ আসলে সেই নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে। এই মুহূর্তে তার মনে সন্দেহ জাগল — এই ব্রিজের আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল কি?
৯. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।
উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাধর লেখক। কলেজে পড়ার সময়েই তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামি‘ প্রকাশিত হয় (১৯২৮)। তাঁর উপন্যাস ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ ও ‘পদ্মানদীর মাঝি’ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম। তাঁর গল্পে মার্কসীয় চেতনা, মনোবিজ্ঞান এবং গ্রামজীবনের বাস্তবতা একসাথে মিলেছে। ‘প্রাগৈতিহাসিক’, ‘সরীসৃপ’ প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পসংকলন।
১০. ‘নেদারচাঁদ সব বুঝে নিজেকে কেবল বুঝাইতে পারে না’ — নেদারচাঁদ কে? সে ‘সব বুঝে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উঃ নেদারচাঁদ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রধান চরিত্র — ত্রিশ বছর বয়সি একটি ছোটো রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার। ‘সব বুঝে’ বলতে বোঝানো হয়েছে তার সেই উপলব্ধিকে যেখানে সে বুঝতে পেরেছে নদীর এই বিদ্রোহের কারণ। সে বোঝে মানুষের তৈরি বাঁধ-সেতু প্রকৃতিকে বন্দি করেছে, নদী সেই বন্ধন ভাঙতে চাইছে।
কিন্তু ‘নিজেকে বোঝাতে পারে না’ — কারণ একদিন এই ব্রিজের জন্যই সে গর্বিত হয়েছিল। বুদ্ধি ও আবেগের এই দ্বন্দ্বই তাকে দ্বিধায় ফেলে।
নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর: বিশ্লেষণধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নাবলি

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান — ৫
১. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের নেদারচাঁদ চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মূল চরিত্র নেদারচাঁদ। ত্রিশ বছর বয়সি এই যুবক একটি ছোটো রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার — দায়িত্বশীল, কর্তব্যনিষ্ঠ একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু তার ভেতরে বাস করে একটি অসাধারণ মন।
নেদারচাঁদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হল প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা। নদীর ধারেই তার জন্ম, বেড়ে ওঠা। তাই নদী তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্টেশনের পাশের নদীটির সঙ্গেও তার আত্মীয়তা গড়ে উঠেছে। পাঁচদিন না দেখলেই ছটফট করে, বৃষ্টি থামলেই ছুটে যায়।
তার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য শিশুসুলভ সরলতা ও আনন্দের প্রকাশ। ব্রিজে বসে কাগজ ছিঁড়ে জলে ভাসানো, বউকে লেখা পাঁচ পাতার বিরহচিঠি নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া — এই আচরণে একটি শিশুর মতো উন্মুক্ত আনন্দ আছে। ত্রিশ বছরের দায়িত্বশীল মানুষ এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভুলে যায় তার পরিচয়।
তৃতীয়ত, নেদারচাঁদ গভীরভাবে সংবেদনশীল। বর্ষায় স্ফীত নদী দেখে সে শুধু আনন্দিত নয় — সে বুঝতে পারে নদীর এই উন্মত্ততার পেছনে আছে একটি প্রতিবাদ। মানুষের তৈরি বাঁধ-সেতু প্রকৃতিকে শৃঙ্খলিত করেছে, নদী সেই শৃঙ্খল ভাঙতে চাইছে। এই বোধটি নেদারচাঁদকে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে তোলে।
চতুর্থত, নেদারচাঁদ রোমান্টিক। সে বাস্তববাদী হয়েও প্রকৃতিকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখে। নদীকে সে জীবন্ত মনে করে, নদীর বিদ্রোহে সে সহানুভূতি অনুভব করে।
গল্পের শেষে ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু ঘটে। এই ট্র্যাজিক পরিণতিতে নেদারচাঁদের চরিত্র সম্পূর্ণ হয় — প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের যন্ত্রের হাতে পরাজয় হিসেবে।
২. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে নদী ও নেদারচাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক আলোচনা করো।
উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের প্রাণকেন্দ্র হল নেদারচাঁদ ও নদীর সম্পর্ক — এই সম্পর্ক শুধু মানুষ ও প্রকৃতির নয়, এটি একটি আত্মিক বন্ধন।
নদীর সঙ্গে নেদারচাঁদের সম্পর্কের ভিত্তি ছেলেবেলা থেকে গড়া। নদীর ধারেই তার জন্ম, বেড়ে ওঠা। তাই নদী তার কাছে শুধু জলের প্রবাহ নয় — এক নিকটজন, জীবনের অংশীদার। দেশের ক্ষীণস্রোতা নদীটির প্রতিও তার মমতা মুমূর্ষু আপনজনের মতো।
স্টেশনের কাছের নদীটির সঙ্গেও এই আত্মীয়তা গড়ে উঠেছে। যখনই সময় পায়, নেদারচাঁদ ছুটে আসে নদীর ব্রিজে। পাঁচদিনের অনুপস্থিতির পর বৃষ্টি থামলে সে আর স্থির থাকতে পারে না।
ব্রিজে এসে স্ফীত, উন্মত্ত নদী দেখে নেদারচাঁদের মনে যে আনন্দ উথলে ওঠে তা একটি শিশুর মতো সরল ও গভীর। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সে কাগজের টুকরো নদীতে ভাসায়, বউকে লেখা চিঠি ছিঁড়ে ছিঁড়ে স্রোতে ছেড়ে দেয় — নদীর সঙ্গে খেলার এই আনন্দে সে একাকার হয়ে যায়।
নদী নেদারচাঁদের আনন্দ-বেদনার সাথী। দেশের নদী শুকিয়ে যাচ্ছে দেখে সে কাঁদতে পারে। আবার বর্ষায় নদীর প্রাণ ফিরে পাওয়া দেখে সে আনন্দে আত্মহারা হয়।
গল্পের শেষে নেদারচাঁদ বোঝে — নদীর এই বিদ্রোহ মানুষের তৈরি শৃঙ্খলের বিরুদ্ধে। নদীর মুক্তির কথা ভাবতে ভাবতেই সে মানুষের তৈরি ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়। নদী ও নেদারচাঁদ — দুজনেই যন্ত্রসভ্যতার শিকার — এই সমান্তরালটিই গল্পের সবচেয়ে গভীর দিক।
৩. ‘নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে’ — নদী কখন বিদ্রোহ করেছিল? নেদারচাঁদ কোন কারণ বুঝতে পেরেছিল?
উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে পাঁচদিনের অবিরাম বৃষ্টির পর নেদারচাঁদ নদী দেখতে যায়। ব্রিজে পৌঁছে সে দেখে তার চিরচেনা শীর্ণ নদী আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্ষার জলে পুষ্ট হয়ে নদী ফুলে-ফেঁপে ফেনোচ্ছাসিত হয়ে গর্জন করে ছুটছে। গাঢ় পঙ্কিল জলরাশি ব্রিজের ধারকস্তম্ভগুলিতে ধাক্কা মারছে। নেদারচাঁদের মনে হয় নদী যেন ব্রিজকে ভাসিয়ে নিতে চাইছে — এটাই নদীর বিদ্রোহ।
এই বিদ্রোহের কারণ হিসেবে নেদারচাঁদ বুঝতে পারে — মানুষ ইট-পাথর-লোহার কংক্রিটের বাঁধ ও সেতু দিয়ে নদীকে বন্দি করেছে, তার স্বাভাবিক গতিকে রুদ্ধ করেছে। যন্ত্রসভ্যতার হাতে প্রকৃতি শৃঙ্খলিত। বর্ষায় শক্তি ফিরে পেয়ে নদী সেই শৃঙ্খল ভাঙতে চাইছে, তার মুক্ত পথে ফিরে যেতে চাইছে।
কিন্তু নেদারচাঁদ এটাও জানে — মানুষ নদীকে এই বিদ্রোহ করতে দেবে না। বাঁধ ভাঙলে মানুষ আবার বাঁধ গড়বে। তাই নদীর এই বিদ্রোহ বারবার ব্যর্থ হবে। এই উপলব্ধিতেই মানুষ ও প্রকৃতির দ্বন্দ্বের মূল সত্যটি উঠে এসেছে।
৪. ট্রেনের ধাক্কায় নেদারচাঁদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলতে চেয়েছেন?
উঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের শেষ দৃশ্যে অন্ধকারে হেঁটে ফেরার পথে ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন পিছন থেকে এসে নেদারচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়। এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয় — এটি একটি প্রতীকী পরিণতি।
নেদারচাঁদ ছিল প্রকৃতিপ্রেমী, সংবেদনশীল মানুষ। সে বুঝতে পেরেছিল যন্ত্রসভ্যতা কীভাবে প্রকৃতিকে দমন করছে। নদীর বিদ্রোহে সে সহানুভূতি বোধ করেছিল। কিন্তু এই উপলব্ধি সত্ত্বেও সে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
মৃত্যুটা ঘটেছে মানুষেরই তৈরি ট্রেনের হাতে। যে প্রকৃতিকে নেদারচাঁদ ভালোবাসত, সেই প্রকৃতির শত্রু যন্ত্রের হাতেই তার পরিণতি — এতে একটি নির্মম বিদ্রুপ আছে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখিয়েছেন যে আধুনিক যন্ত্রসভ্যতার কাছে প্রকৃতিপ্রেম ও সংবেদনশীলতা অসহায়। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হয়তো বুঝতে পারে কোনটা ঠিক, কোনটা ভুল — কিন্তু যন্ত্রের ক্ষমতার সামনে সে কার্যত ক্ষমতাহীন। নেদারচাঁদের মৃত্যু সেই ক্ষমতাহীনতার এবং একটি মানবিক পরাজয়ের চরম প্রকাশ।

৫. ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে প্রকৃতি ও যন্ত্রসভ্যতার দ্বন্দ্ব কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
উঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পটি একটি সুনির্দিষ্ট দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে — প্রকৃতি বনাম মানুষের যন্ত্রসভ্যতা।
গল্পে প্রকৃতির প্রতীক হল নদী। এই নদী একসময় শীর্ণ ছিল, কিন্তু বর্ষার জলে তার শক্তি ফিরে পেয়েছে। যন্ত্রসভ্যতার প্রতীক হল ব্রিজ ও ট্রেন — মানুষের তৈরি কংক্রিট ও লোহার কাঠামো।
ব্রিজ নদীর পথে দাঁড়িয়ে আছে। এটি নদীর স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করেছে। বর্ষায় স্ফীত নদী সেই ব্রিজকে ভাসিয়ে দিতে চায় — এটাই ‘বিদ্রোহ’। কিন্তু মানুষের তৈরি কংক্রিটের ব্রিজ এতটা সহজে ভাঙার নয়।
নেদারচাঁদ এই দ্বন্দ্বের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। সে প্রকৃতিপ্রেমী, তাই নদীর বিদ্রোহে সহানুভূতি বোধ করে। কিন্তু সে নিজেও যন্ত্রসভ্যতার একজন কর্মী — স্টেশনমাস্টার হিসেবে সে ট্রেন চালায়।
গল্পের শেষে এই দ্বন্দ্বের পরিণতি নির্মম। যন্ত্রের (ট্রেনের) হাতেই প্রকৃতিপ্রেমীর (নেদারচাঁদের) মৃত্যু হয়। প্রকৃতিও নদীও বিদ্রোহ করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়। এই দ্বন্দ্বে প্রকৃতির পরাজয় ও যন্ত্রের আধিপত্য স্থাপনের মধ্য দিয়েই গল্প শেষ হয় — এটাই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল বার্তা।
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড
- মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা … - নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা … - বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, … - অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কবি পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর: সারসংক্ষেপ জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ একটি যুগসচেতন ও মানবতাবাদী কবিতা। তিনটি অসমান স্তবকে — পাঁচ, ছয় ও সাত পঙক্তিতে — কবি এঁকেছেন হিংসার বিরুদ্ধে গানের এক অনন্য বিদ্রোহ। কবিতায় … - অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর | পান্নালাল প্যাটেল | দশম শ্রেণি বাংলা গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের অদল বদল গল্পের প্রশ্নোত্তর, লেখক পরিচিতি ও সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন একসাথে। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য সেরা প্রস্তুতি। লেখক পরিচিতি পান্নালাল প্যাটেল (১৯১২–১৯৮৯) গুজরাতি সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম। রাজস্থানের দুঙ্গারপুরে মাণ্ডু গ্রামে তাঁর জন্ম হলেও তাঁর সারা জীবনের লেখালেখি জুড়ে ছিল সাধারণ মানুষের কথা, গ্রামীণ জীবনের ছোট ছোট … - সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা। তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় … - পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
লেখক-পরিচিতি রবীন্দ্র সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড়ো হওয়া শরৎচন্দ্র ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন অনেক বছর এবং দীর্ঘকাল বর্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) ছিলেন। সেই বর্মণীয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ‘কুন্তলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় ‘মন্দির’ নামে গল্প পাঠিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন — এটাই … - প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
কবি-পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি লেটো দলে গান লিখে ও গেয়ে সাহিত্যজীবনের সূচনা করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাঁর লেখালেখিকে … - সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
নাটকারের পরিচিতি বাংলা নাটসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নাটকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে, তৎকালীন বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সখারামের সহযোগী হন। পরে ‘বেকালী’, ‘বিজলী’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সহ-সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক কৃষক’ …