বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) – মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer Question and Answer খুঁজে চলেছ, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর গুলো ভালো করে পড়তে পারো

3.A বংশগতি
3.A.I বংশগতি ও প্রকরণ
জীবজগৎ প্রজননের মাধ্যমে নিজেদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় অপত্য বংশধরদের দেহে সঞ্চারিত করে এবং তার অনুরূপ জীব সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখে। এই বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়াকেই বংশগতি বলে। এই চ্যাপ্টার এ আমরা বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ নিয়ে জানবো।
- 3.A.I.1 বংশগতির সংজ্ঞা: যে পদ্ধতিতে পিতামাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে সংরক্ষিত ও প্রকাশিত হয়, তাকে বংশগতি বলে। বংশগতির সূচনা ঘটে জননকোষ বা গেমেটের মাধ্যমে — ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তাদের মধ্যে বহন করা জিনের সাহায্যে পিতামাতার গুণাবলি পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত করে।
- 3.A.I.2 প্রকরণ বা ভিন্নতা: একই প্রজাতির অন্তর্গত জীবদের মধ্যে গঠন, আকৃতি, রং ইত্যাদি বাহ্যিক অথবা চিন্তা-ভাবনা ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে প্রকরণ বা বৈচিত্র্য বা ভ্যারিয়েশন বলে।
উদাহরণ: মানুষের মধ্যে উচ্চতা, ত্বকের রং, চোখের আকার, রক্তের গ্রুপ ইত্যাদির পার্থক্য হল প্রকরণের উদাহরণ।
- 3.A.I.3 মিউটেশন: কোনো প্রজাতিভুক্ত জীবের DNA-এর গঠন পরিবর্তিত হওয়ার ফলে এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে সঞ্চারিত জিনের মধ্যে সংঘটিত পরিবর্তনকে মিউটেশন বলে। মিউটেশন হল প্রকরণের মূল কারণগুলির মধ্যে একটি।
মানুষের ক্ষেত্রে প্রকরণের উদাহরণ:
- [i] মুক্ত ও সংযুক্ত কানের লতি: বেশিরভাগ মানুষের কানের লতি মুখমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত থাকে না, একে মুক্ত লতি বলে। একজোড়া প্রকট জিন কানের মুক্ত লতি সৃষ্টি করে। অপরদিকে, কিছু মানুষের কানের লতি মুখমণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত থাকে, একে যুক্ত লতি বলে। একজোড়া মিউটেশনযুক্ত প্রচ্ছন্ন জিন কানের যুক্ত লতি সৃষ্টি করে।
- [ii] রোলার জিভ ও স্বাভাবিক জিভ: বেশিরভাগ মানুষ তাদের জিভ রোল করতে পারে, কিন্তু কিছু মানুষ পারে না। জিভের রোল করার বৈশিষ্ট্যটি অষ্টম জোড়া ক্রোমোজোমে অবস্থিত।
3.A.II বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ গুরুত্বপূর্ণ শব্দের ব্যাখ্যা

- 3.A.II.1 বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ: বাহ্যিক অথবা অভ্যন্তরীণ যেসমস্ত লক্ষণ দেখে কোনো জীবকে আলাদা করে চেনা যায়, তাদের বৈশিষ্ট্য বা প্রলক্ষণ বলে। উদাহরণ — মটর গাছের লম্বা ও খর্ব কাণ্ড, মটরের বীজপত্রের হলুদ বর্ণ ইত্যাদি হল পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য।
- 3.A.II.2 অ্যালিল: বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বহনকারী যুগ্ম জিনকে অ্যালিল বলে। একটি জিনের বিকল্প রূপকেই অ্যালিল বলা হয়। উদাহরণ — মটর গাছের দীর্ঘ ও খর্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য যথাক্রমে T এবং t হল উপাদান বা ফ্যাক্টর। এদের একটি অপরটির অ্যালিল বলে।
- 3.A.II.3 জিন (বংশগতির একক/ফ্যাক্টর): জিন হল বংশগতির গঠনগত ও কার্যগত একক। DNA-এর যে অংশ কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে জিন বলে। প্রতিটি জীবকোষে ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন অবস্থান করে। মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষায় জিনকে ‘ফ্যাক্টর’ নামে অভিহিত করেছিলেন।
- 3.A.II.4 লোকাস: একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী একটি নির্দিষ্ট জিন একটি নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট অংশে অবস্থান করে। ক্রোমোজোমের ওই অংশটিকে জিনের লোকাস বলে।
- 3.A.II.5 একসংকর ও দ্বিসংকর জনন: একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতিভুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে। উদাহরণ — দীর্ঘকার (TT) এবং খর্বকার (tt) উদ্ভিদের মধ্যে সংকরায়ণ (TT×tt)।
- দুইজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একই প্রজাতিভুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে দ্বিসংকর জনন বা ডাইহাইব্রিড ক্রস বলে। উদাহরণ — হলুদ (YY) ও গোলাকার (RR) বীজের সঙ্গে সবুজ (yy) ও কুঞ্চিত (rr) বীজযুক্ত উদ্ভিদের সংকরায়ণ (YYRR×yyrr)।
- 3.A.II.6 সমসংকর ও বিষমসংকর জীব: দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোমে একই গুণসম্পন্ন অ্যালিল থাকলে, সেই জীবকে সমসংকর জীব বা হোমোজাইগাস জীব বলে। উদাহরণ — বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর উদ্ভিদ।
- দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোমে দুটি বিপরীত গুণসম্পন্ন অ্যালিল থাকলে সেই জীবকে বিষমসংকর জীব বা হেটেরোজাইগাস জীব বলে। উদাহরণ — সংকর লম্বা (Tt) মটর উদ্ভিদ।
- 3.A.II.7 সংকরায়ণ: একই প্রজাতিভুক্ত বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি জীবের মিলন ঘটানোকে সংকরায়ণ বা হাইব্রিডাইজেশন বলে।
- 3.A.II.8 বিশুদ্ধ জীব ও সংকর জীব: যে জীবে স্বনিষেক ঘটালে বংশপরম্পরায় অপত্য জীব জনিতৃ জীবের মতো দেখতে হয়, তাদের বিশুদ্ধ জীব বলে। উদাহরণ — একসংকর জনন পরীক্ষায় জনিতৃ জনুর লম্বা (TT) ও খর্বকার (tt) মটর গাছ হল বিশুদ্ধ উদ্ভিদ।
- যে জীবে স্বনিষেক ঘটালে অপত্য জীবগুলি সবই জনিতৃ জীবের মতো দেখতে হয় না অর্থাৎ মিশ্র বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সৃষ্টি হয়, তাদের সংকর জীব বলে। উদাহরণ — বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ খর্বকার মটর গাছের সংকরায়ণের ফলে সৃষ্ট লম্বা মটর গাছ (Tt) হল সংকর উদ্ভিদ।
- 3.A.II.9 জনিতৃ জনু: সংকরায়ণের জন্য নির্বাচিত জীবকে জনিতৃ জনু বা P জনু বলে। উদাহরণ — সংকর লম্বা মটর গাছের জনিতৃ জনু হল বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছ এবং বিশুদ্ধ খর্ব মটর গাছ।
- 3.A.II.10 অপত্য জনু: সংকরায়ণের ফলে উৎপন্ন নতুন জীবগোষ্ঠীকে অপত্য জনু বলে। প্রথম অপত্য জীবদের F₁ জনু এবং দ্বিতীয় অপত্য জীবদের F₂ জনু বলা হয়।
- 3.A.II.11 প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য: একই প্রজাতির অন্তর্গত দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বা প্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে। অপরদিকে সুপ্ত বা অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।
উদাহরণ — মটর গাছের লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী T জিনটি হোমোজাইগাস বা TT এবং হেটেরোজাইগাস বা Tt উভয় অবস্থাতেই ‘লম্বা’ বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। অর্থাৎ মটর গাছ লম্বা হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি হল প্রকট বৈশিষ্ট্য। অপরদিকে মটর গাছের খর্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী t কেবলমাত্র হোমোজাইগাস বা tt অবস্থাতেই ‘খর্ব’ বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায় অর্থাৎ মটর গাছ খর্ব হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি হল প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
- 3.A.II.12 ফেনোটাইপ ও জিনোটাইপ: বাহ্যিকৃত লক্ষণ দ্বারা নির্ধারিত শ্রেণিকে ফেনোটাইপ বলে। জেনেটিক সংযুক্তি দ্বারা নির্ধারিত শ্রেণিকে জিনোটাইপ বলে।
উদাহরণ — একসংকর জনন পরীক্ষায় F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত ৩ লম্বা (TT, Tt, Tt) : ১ খর্বকার (tt) এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১ বিশুদ্ধ লম্বা (TT) : ২ সংকর লম্বা (Tt) : ১ বিশুদ্ধ খর্বকার (tt)।
3.A.III মটর গাছের উপর মেন্ডেলের কাজ

বংশগতি বিষয়ক সংকরায়ণ পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী গ্রেগর জোহান মেন্ডেল মটর গাছ নিয়ে কাজ করেন। মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।
মেন্ডেলের মটর গাছ নির্বাচনের কারণ:
- [i] মেন্ডেল ইতর পরাগযোগ ঘটানোর জন্য বেগুনি ফুলযুক্ত একটি মটর গাছের সমস্ত বেগুনি ফুলের পুংকেশর কুঁড়ি অবস্থাতেই ছোটো চিমটের সাহায্যে তুলে ফেলে দেন। এই ঘটনাকে ইমাসকুলেশন বলে।
- [ii] বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত অর্থাৎ সাদা ফুলযুক্ত একটি মটর গাছের ফুল থেকে পরাগরেণু ব্রাশের সাহায্যে তুলে নিয়ে বেগুনি ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করেন।
- [iii] এই একইভাবে তিন একটি মটর গাছের সব সাদা ফুলের পুংকেশর বাদ দেন এবং বেগুনি ফুলের পরাগরেণু নিয়ে পুংকেশরবিহীন সাদা ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন করেন।
- [iv] এইসব ফুল থেকে বীজ সৃষ্টি করে পরিণত বীজগুলি মাটিতে রোপণ করেন। তার ফলে বীজগুলি থেকে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়েছিল।
- [v] উৎপন্ন সমস্ত মটর গাছের ফেনোটাইপ ও জিনোটাইপ লিপিবদ্ধ করেন।
মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য:
| মটর গাছের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য | প্রকটধর্মী | প্রচ্ছন্নধর্মী |
| বীজের আকার | গোলাকার | কুঞ্চিত |
| বীজের বর্ণ | হলুদ | সবুজ |
| ফুলের বর্ণ | বেগুনি | সাদা |
| পরিপক্ক ফলের আকৃতি | স্ফীত | খাঁজযুক্ত |
| ফলের বর্ণ | সবুজ | হলুদ |
| কাণ্ডে ফুলের অবস্থান | কাক্ষিক | শীর্ষস্থ |
| কাণ্ডের দৈর্ঘ্য | দীর্ঘ | খর্ব |
একসংকর জনন পরীক্ষার সংজ্ঞা: একই প্রজাতির অন্তর্গত একজোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে একসংকর জনন বা মনোহাইব্রিড ক্রস বলে।
3.A.VI মেন্ডেলের পরীক্ষা এবং মেন্ডেলের সূত্র
3.A.VI.1 মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা

মেন্ডেলের নির্বাচিত মটর গাছের একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য:
- [i] বিশুদ্ধ লম্বা (TT) মটর গাছ এবং
- [ii] বিশুদ্ধ খর্ব বা বেঁটে (tt) মটর গাছ
পরীক্ষার পদ্ধতি:
- [i] একটি বিশুদ্ধ লম্বা ও একটি বিশুদ্ধ খর্ব মটর গাছের মধ্যে ইতর পরাগযোগ ঘটানো হল।
- [ii] ইতর পরাগযোগ ও নিষেকের ফলে উৎপন্ন বীজ অঙ্কুরিত হয়ে শুধুমাত্র লম্বা মটর গাছ তৈরি করল। এই গাছগুলো সংকর প্রকৃতির (Tt)। তাই এদের প্রথম অপত্য জনু বা একসংকর জনু বা F₁ জনু বলে। প্রথম অপত্য জনুর সব গাছই লম্বা হল।
- [iii] প্রথম অপত্য জনুর গাছগুলির মধ্যে মেন্ডেল স্বপরাগযোগ ঘটান অর্থাৎ একই ফুলের পরাগরেণু সেই ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত করা হয়।
পর্যবেক্ষণ: দ্বিতীয় অপত্য জনুতে বা F₂ জনুতে চারপ্রকার মটর গাছ উৎপন্ন হল।
ফলাফল বিশ্লেষণ: F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত ৩ লম্বা : ১ খর্ব এবং জিনোটাইপ অনুপাত ১ বিশুদ্ধ লম্বা (TT) : ২ সংকর লম্বা (Tt) : ১ বিশুদ্ধ খর্বকার (tt)।
একসংকর জনন থেকে প্রাপ্ত দুটি সিদ্ধান্ত:
- [i] পৃথকীভবন সূত্র: কোনো জীবের জনন মাতৃকোষে অবস্থিত বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যগুলি কখনই জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় পরস্পর মিশে যায় না, বরং ওদের স্বকীয়তা বজায় রেখে গ্যামেট গঠনকালে বিপরীতধর্মী জিনগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে প্রকাশ পায়। এই সূত্রটিকে পৃথকীভবন সূত্র বা পৃথকীকরণের সূত্র বলে।
- [ii] প্রকটতার নীতি: একই প্রজাতির অন্তর্গত দুটি বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বা প্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে এবং সুপ্ত বা অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে। একই প্রকটতার নীতি বলে। মটর গাছের উচ্চতার ক্ষেত্রে লম্বা বৈশিষ্ট্যটি হল প্রকট এবং খর্বকার বৈশিষ্ট্যটি হল প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
3.A.VI.2 মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা

দ্বিসংকর জনন পরীক্ষার সংজ্ঞা: একই প্রজাতির অন্তর্গত দুইজোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে দ্বিসংকর জনন বা ডাইহাইব্রিড ক্রস বলে।
মেন্ডেলের নির্বাচিত মটর গাছের বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য:
- [i] বিশুদ্ধ হলুদ ও গোলাকার বীজ (YYRR) যুক্ত মটর গাছ।
- [ii] বিশুদ্ধ সবুজ ও কুঞ্চিত বীজ (yyrr) যুক্ত মটর গাছ।
F₁ জনুতে সব হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটরগাছ (YyRr) উৎপন্ন হল।
F₂ জনুর ফলাফল বিশ্লেষণ:
F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত = ৯ হলুদ গোল : ৩ হলুদ কুঞ্চিত : ৩ সবুজ গোল : ১ সবুজ কুঞ্চিত।
জিনোটাইপ অনুপাত = ১:২:২:৪:১:২:১:২:১।
দ্বিসংকর জনন থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্ত:
- স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র: দুইজোড়া বা তার বেশি জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দায়ী জিনগুলি পরস্পর থেকে স্বাধীনভাবে পৃথক হয়ে গ্যামেটে প্রবেশ করে এবং অপত্য জনুতে নতুন নতুন সমন্বয়ে পুনর্মিলিত হয়। এই সূত্রকে স্বাধীন সঞ্চারণের সূত্র বলা হয়।
3.A.VII অসম্পূর্ণ প্রকটতা
অসম্পূর্ণ প্রকটতার সংজ্ঞা: যে ধটনায় দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে যৌন জনন বা সংকরায়ণ ঘটালে প্রথম অপত্য জনুতে দুটি বৈশিষ্ট্যের কোনোটিই বাইরে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত না হয়ে অন্য একটি মিশ্র বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটে তখন সেই ঘটনাকে বলা হয় অসম্পূর্ণ প্রকটতা।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদে বিশুদ্ধ লাল ফুলের (RR) সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত (rr) উদ্ভিদের সংকরায়ণ ঘটালে F₁ জনুতে লাল বা সাদা রঙের ফুলযুক্ত উদ্ভিদ জন্মায় না বরং সমস্ত ফুলগুলি গোলাপি রঙের হয়।
অসম্পূর্ণ প্রকটতায় F₂ জনুতে ফেনোটাইপ এবং জিনোটাইপ অনুপাত উভয়েই ১:২:১ হয়।
3.A.VIII মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ

মানুষের কোষে মোট ২৩ জোড়া (৪৬ টি) ক্রোমোজোম থাকে। এদের মধ্যে ২২ জোড়া (৪৪ টি) অটোজোম এবং ১ জোড়া লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম। পুরুষদের লিঙ্গ ক্রোমোজোম XY এবং মহিলাদের XX।
লিঙ্গ নির্ধারণের পদ্ধতি (XX-XY পদ্ধতি):
- [i] পুরুষের ক্ষেত্রে দুই প্রকার ডিম্বাণু তৈরি হয়: 22A+X ডিম্বাণু এবং 22A+Y ডিম্বাণু।
- [ii] মহিলাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র X ক্রোমোজোম সমন্বিত শুক্রাণু 22A+X এবং সন্তানের লিঙ্গ হবে 44A+XX অর্থাৎ কন্যাসন্তান।
- [iii] অপরদিকে 22A+Y সমন্বিত শুক্রাণু 22A+X সমন্বিত ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে সন্তানের লিঙ্গ হয় 44A+XY অর্থাৎ পুত্রসন্তান।
উপসংহার: মানুষের ক্ষেত্রে মাতা সবদাই হোমোগ্যামেটিক (XX) অর্থাৎ দুটি X ক্রোমোজোম বহন করে। তাই গ্যামেট তৈরির সময় সেই সমস্ত গ্যামেট শুধুমাত্র X ক্রোমোজোমযুক্ত হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে পিতা হেটেরোগ্যামেটিক (XY)। সুতরাং পুত্রসন্তান বা কন্যাসন্তান হওয়া সম্পূর্ণরূপে পিতার Y বা X প্রকৃতির শুক্রাণুর উপর নির্ভরশীল। এই কারণে মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিকে XX-XY পদ্ধতি বলা হয়।
3.B কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ
3.B.I.1 থ্যালাসেমিয়া

(Autosomal Recessive — অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ)
থ্যালাসেমিয়া হল এমন একটি জিনগত রোগ যা বংশগত ত্রুটির ফলে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। এটি একটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ।
থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ:
- হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়।
- অস্থি দুর্বল ও বিকৃত হয়।
থ্যালাসেমিয়ার কারণ:
- [i] α থ্যালাসেমিয়ার কারণ: মানুষের ক্ষেত্রে ১৬ নং ক্রোমোজোমে অবস্থিত α পলিপেপটাইড চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে α থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।
- [ii] β থ্যালাসেমিয়ার কারণ: মানুষের ক্ষেত্রে ১১ নং ক্রোমোজোমে অবস্থিত β পলিপেপটাইড চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে β থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়।
থ্যালাসেমিয়ার প্রকারভেদ: থ্যালাসেমিয়া প্রধানত দুপ্রকার — α থ্যালাসেমিয়া ও β থ্যালাসেমিয়া। এদের পুনরায় দুইভাগে ভাগ করা হয় — থ্যালাসেমিয়া মেজর ও থ্যালাসেমিয়া মাইনর।
থ্যালাসেমিয়া রোগে রক্তাল্পতার কারণ:
থ্যালাসেমিয়া রোগে হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন প্রোটিন সঠিকভাবে গঠিত হয় না। যে কারণে এই গ্লোবিন প্রোটিনের সঙ্গে হিম অর্থাৎ লৌহযুক্ত হতে পারে না কিংবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুবই কম থাকে। সেই কারণে লোহিত রক্তকণিকার আকারে অনেক ছোটো হয়ে যায় এবং তার আয়ু অনেক কম হয়। এই কারণেই থ্যালাসেমিয়া রোগে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে জেনেটিক কাউন্সেলিং: থ্যালাসেমিয়া একপ্রকারের অটোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। এই রোগের ক্ষেত্রে, যদি পিতা বা মাতার মধ্যে যে-কোনো একজন হেটেরোজাইগাস প্রকৃতির হয়, তাহলে অপত্য সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
কিন্তু যদি পিতা ও মাতা উভয়েই হেটেরোজাইগাস প্রকৃতির হয় তাহলে অপত্য সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৫০% সন্তান থ্যালাসেমিয়া বাহক প্রকৃতির হয় এবং ২৫% সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগগ্রস্ত হয়। বিবাহের পূর্বে রক্ত পরীক্ষা করে দম্পতির উভয় পরিবারের কেউ থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা বাহক কিনা, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হয় এবং উভয় পরিবারকে জেনেটিক পরামর্শ দেওয়া হয়।
3.B.I.2 হিমোফিলিয়া

হিমোফিলিয়া হল এমন একটি বংশগত রোগ যেখানে রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায় অর্থাৎ রক্তজমাট বাঁধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এটি একটি X ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ।
হিমোফিলিয়া তিন প্রকারের:
- হিমোফিলিয়া A-এর কারণ: আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর VIII বা অ্যান্টিহিমোফিলিক ফ্যাক্টর (AHF)-এর অভাব, ৮০%।
- হিমোফিলিয়া B-এর কারণ: আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর IX বা প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন কম্পোনেন্ট (PTC)-এর অভাব, ২০%।
- হিমোফিলিয়া C-এর কারণ: আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় রক্ততঞ্চন ফ্যাক্টর XI বা প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন অ্যান্টিসিডেন্ট (PTA)-এর অভাব।
হিমোফিলিয়ার বংশগতি:
X^H = স্বাভাবিক প্রকট জিনবহনকারী X ক্রোমোজোম
X^h = প্রচ্ছন্ন মিউট্যান্ট জিনবহনকারী X ক্রোমোজোম
Y = Y ক্রোমোজোম
একজন হিমোফিলিয়া বাহক মহিলার সঙ্গে স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে উৎপন্ন অপত্য সন্তানদের মধ্যে হিমোফিলিয়া হওয়ার প্রবণতা—
F₁ জনুর চেকার বোর্ড বিশ্লেষণ:
| ♀ / ♂ | X^H | Y |
| X^H | X^H X^H (স্বাভাবিক কন্যা) | X^H Y (স্বাভাবিক পুত্র) |
| X^h | X^H X^h (হিমোফিলিয়া বাহক কন্যা) | X^h Y (হিমোফিলিয়া রোগাক্রান্ত পুত্র) |
ফলাফল: ৫০% সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ৫০% হিমোফিলিয়া বাহক কন্যা। ৫০% সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও ৫০% হিমোফিলিক পুত্র।
পুরুষ কি কখনও হিমোফিলিয়ার বাহক হতে পারে?
হিমোফিলিয়া একটি X ক্রোমোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। এই সূত্রে হিমোফিলিয়া রোগটিকে বাইরে প্রকাশ পেতে গেলে দুটি X ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিনকেই হিমোফিলিক হতে হবে। কিন্তু পুরুষের একটি X হিমোফিলিক বহন করলে হিসাব অনুযায়ী তার বাহক হওয়ার কথা, কিন্তু যেহেতু তার ওপর কোনো Y ক্রোমোজোম আছে, সে কারণে ওই একটি X ক্রোমোজোমে থাকা হিমোফিলিক জিনই হিমোফিলিয়া রোগটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করবে। তাই পুরুষেরা কখনও হিমোফিলিয়া বাহক হতে পারে না।
3.B.I.3 বর্ণান্ধতা

বর্ণান্ধতার সংজ্ঞা: যে রোগে কোনো মানুষ লাল-সবুজ বর্ণ চিনতে পারে না, তখন তাকে বর্ণান্ধতা বলে। এটি একটি X ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ।
বর্ণান্ধতার লক্ষণ: লাল, সবুজ বর্ণ চিনতে না পারা।
বর্ণান্ধতার কারণ: X ক্রোমোজোমে অবস্থিত একটি জিনের মিউটেশনের জন্য বর্ণান্ধতা ঘটে।
বর্ণান্ধতার প্রকারভেদ:
- প্রোটানোপিয়া বা লাল বর্ণান্ধতা: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি লাল বর্ণ চিনতে পারে না।
- ডিউটেরানোপিয়া বা সবুজ বর্ণান্ধতা: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সবুজ বর্ণ চিনতে পারে না।
- ট্রাইটানোপিয়া বা নীল বর্ণান্ধতা: এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নীল বর্ণ চিনতে পারে না। ইহা অটোজোম ঘটিত অস্বাভাবিকতা।
বিশেষ তথ্য: মহিলাদের ক্ষেত্রে যখন বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়ার প্রকাশ ঘটে তখন উভয় X ক্রোমোজোমে এই রোগবাহনকারী জিন যখন হোমোজাইগাস অবস্থায় এই দুটি X ক্রোমোজোমের মধ্যেই এই রোগের জিনগুলি অবস্থান করে তখনই কেবলমাত্র বর্ণান্ধতা এবং হিমোফিলিয়া রোগের প্রকাশ ঘটে।
3.B.II অটোজোমাল ক্রোমোজোমঘটিত রোগ হিসেবে থ্যালাসেমিয়া এবং জেনেটিক কাউন্সেলিং

- 3.B.II.1 জেনেটিক কাউন্সেলিং: কোনো ব্যক্তির পরিবারের জিনগত রোগের ইতিহাস পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ শিশুর জিনগত রোগের সম্ভাবনা নির্ধারণ এবং তার প্রতিরোধে সঠিক পথ অবলম্বনে সাহায্য করার প্রক্রিয়াকে জেনেটিক কাউন্সেলিং বলে।
থ্যালাসেমিয়া রোগটি একপ্রকারের অটোজোমবাহিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। এই রোগের ক্ষেত্রে, যদি পিতা বা মাতার মধ্যে যে-কোনো একজন হেটেরোজাইগাস প্রকৃতির হয়, তাহলে অপত্য সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু যদি পিতা ও মাতা উভয়েই হেটেরোজাইগাস প্রকৃতির হয় তাহলে অপত্য সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে তাই অপত্য জনের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ দেখা যাবে কিনা তা নির্ধারণ করা হয় এবং প্রয়োজনে পরামর্শ দেওয়া হয়।
MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :
1. বংশগতির জনক বলা হয় –
(a) ডারউইন (b) ল্যামার্ক (c) মেন্ডেল (d) খোরানা
উত্তর: (c ) মেন্ডেল
2. নিচের কোনটি প্রকরণের উদাহরণ –
(a) ফর্সা ত্বক (b) রোলিং জিভ (c) মসৃণ চুল (d) লম্বা মানুষ
উত্তর:( b) রোলিং জিভ
3.ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে বলে –
(a) লোকাস (b) ফ্যাক্টর (c) অ্যালিল (d) সবগুলি সঠিক
উত্তর:(a) লোকাস
4.স্ত্রীলোকের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম কোনটি –
(a) XY (b) XX (c) yy (d) xy
উত্তর: (b) XX
5.মেন্ডেল নির্বাচিত মোটর গাছে মোট কত জোড়া বৈশিষ্ট্য ছিল –
(a) 5 জোড়া (b) 7 জোড়া (c) 8 জোড়া (d) 9 জোড়া
উত্তর: (b) 7 জোড়া
6.হিমোফিলিয়া বাহক মাতা ও স্বাভাবিক পিতার কন্যা সন্তানদের হিমোফিলিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত – (a) 25% (b) 50% (c) 100% (d) 0%
উত্তর: (d) 0%
7. Tt জিনোটাইপকে কিভাবে প্রকাশ করা হয় –
(a) বিশুদ্ধ লম্বা (b) সংকর লম্বা (c ) মিশ্র লম্বা (d) কোনোটিই ঠিক নয়
উত্তর: (b) সংকর লম্বা
8.মেন্ডেলের স্বাধীন সঞ্চরণের সূত্রটি কোন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত – (a) সংকর জনন (b) দ্বি সংকর জনন (C) ত্রি সংকর জনন (d) অসম্পূর্ণ প্রকটতা
উত্তর:( b) দ্বিসংকর জনন
9.ক্রোমোজোম এ জিনের যে স্থান নির্দিষ্ট থাকে তাকে বলে –
(a) অ্যালিল (b) অ্যালিনোফর্ম (c) সংকর (d) লোকাস
উত্তর: (d) লোকাস
10.YyRr জিনোটাইপ যুক্ত মটর গাছ থেকে কত রকমের গ্যামেট উৎপন্ন হয় –
(a) 1 (b) 2 (c) 3 (d) 4
উত্তর: (d)4
11. মানুষের অটোজোমে থাকা জিন দ্বারা নিচের কোনটি নিয়ন্ত্রিত হয় না –
(a) রোলার জিভ (b) হিমোফিলিয়া (c) থ্যালাসেমিয়া (d) কানের মুক্ত লতি
উত্তর: (b) হিমোফিলিয়া
12. মটর গাছের নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য গুলির মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি হল –
(a) কুঞ্চিত বীজ (b) হলুদ রঙের বীজ (c) বেগুনি রংয়ের ফুল (d) কাক্ষিক পুষ্প
উত্তর: (a) কুঞ্চিত বীজ
13. মেন্ডেলের 7 জোড়া বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি প্রকট গুণ ছিল –
(a) বেটে গাছ (b) সাদা ফুল (c) হলুদ ফুল (d) বেগুনি ফুল
উত্তর: (d) বেগুনি ফুল
14. মেন্ডেলের প্রথম সূত্রটি হল –
(a) পৃথকভবনের সূত্র (b) স্বাধীন সঞ্চারণ সূত্র (c) প্রকটতার সূত্র (d) কোনোটি নয়
উত্তর: (a) পৃথকভবনের সূত্র
15. দুটি সংকর কালো গিনিপিগের মধ্যে সংকরায়ন ঘটানো হলে প্রথম আপত্তি জমিতে সংকর কালো গিনিপিগ কতগুলি হবে –
(a) 25% (b) 50%(c ) 75% (d) 100%
উত্তর: (b) 50%
16.. একজন পুরুষ ও মহিলার বিবাহে পুত্র সন্তান ও কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা ছিল –
(a) 2:1 (b) 1:2 (c) 1:1 (d) 3:1
উত্তর: (c ) 1:1
17. মানুষের জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হল –
(a) 23 (b) 46 (c) 45 (d) 2n
উত্তর: (a) 23
18. কোনটি মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত চরিত্র নয় –
(a) বীজের আকৃতি (b) ফুলের রং (c) শুঁটির রং (d) আকর্ষের সংখ্যা
উত্তর: (d) আকর্ষের সংখ্যা
19. মানুষের ডিম্বাণু তে সেক্স ক্রোমোজোমের সংখ্যা –
(a)1 টি (b) 2 টি (c ) 23 টি (d) 23 জোড়া
উত্তর: (a)1 টি
20. দেহে লোহা জমে হৃদপিণ্ড ও যকৃতের ক্ষতি হয় যে বংশগত রোগে তা হল –
(a) হিমোফিলিয়া (b) অ্যানিমিয়া (c) ব্লাড ক্যান্সার (d) থ্যালাসেমিয়া
উত্তর: (d) থ্যালাসেমিয়া
21. মানুষের শুক্রাণুতে অটোজোমের সংখ্যা –
(a) শূন্য (b) 22 (c) 23 (d) 01
উত্তর: (b) 22
22. মেন্ডেলের এক সংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত জিনোটাইপিক অনুপাত হলো –
(a) 1:1 (b) 1:2:1 (c) 1:2:3 (d) 2:1:2
উত্তর: (b) 1:2:1
23. মেন্ডেলের দ্বি সংকর জনন পরীক্ষায় F2 জনুতে প্রাপ্ত ফিনোটাইপিক অনুপাত টি হল –
(a) 1:3:1 (b) 3:1 (c ) 9:3:3:1 (d) 2:1
উত্তর: (c ) 9:3:3:1
24.Bb জিওটাইপ যুক্ত গিনিপিগ থেকে কত ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয় –
(a) 1 (b) 2 (c) 3 (d) 4
উত্তর: (b) 2
25. কোন রোগটি পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায় –
(a) ক্যান্সার (b) থ্যালাসেমিয়া (c) যক্ষা (d) লাল- সবুজ বর্ণান্ধতা
উত্তর: (d) লাল-সবুজ বর্ণান্ধতা
26. নিচের কোনটি ইতর পরাগ যোগের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন কর –
(a) একই গাছের একটি ফুলের মধ্যে ঘটে (b) বাহকের প্রয়োজন হয় না (c) নতুন বৈশিষ্ট্য সঞ্চার হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে (d) পরাগরেণুর অপচয় হয়
উত্তর: (d) পরাগরেনুর অপচয় হয়
27. পুত্র সন্তান হওয়ার জন্য নিচের কোন গ্যামেটটি দরকার –
(a) 22A+X (b) 22A+XY (c) 22A+Y (d) a ও c উভয়
উত্তর: (d) a ও c উভয়ই
28. বিয়ের আগে জিনগত পরামর্শ নিয়ে যে রোগটি প্রতিরোধ করা যায় –
(a) গয়টার (b) ম্যালেরিয়া (c) থ্যালাসেমিয়া (d) যক্ষা
উত্তর: (c) থ্যালাসেমিয়া
29. শংকর গোল বীজ যুক্ত মটর গাছ থেকে প্রাপ্ত গ্যামেটের সংখ্যা হবে –
(a) একপ্রকার (b) দুই প্রকার (c) তিন প্রকার (d) চার প্রকার
উত্তর: (b) দুই প্রকার
30.TtRr X TtRr ক্রসটিতে কত প্রকারের জিনোটাইপ উৎপন্ন হয় –
(a) 8 প্রকার (b) 9 প্রকার (c ) 4 প্রকার (d) 2 প্রকার
উত্তর: (b) 9 প্রকার
31. জেনেটিক্স শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন কোন বিজ্ঞানী –
(a) মেন্ডেল (b) বেটসন (c) ডারউইন(d) মর্গ্যান
উত্তর: (b) বেটসন
32. মটর উদ্ভিদের ফুল হল –
(a) একলিঙ্গ ও স্বপরাগী (b) উভলিঙ্গ ও ইতর পরাগী (c) একলিঙ্গ ও ইতর পরাগী (d) উভলিঙ্গ ও স্বপরাগী
উত্তর: (d) উভলিঙ্গ ও স্বপরাগী
33.AaBbCc জিনোটাইপ থেকে কত ধরনের গ্যামেট পাওয়া যায় –
(a) 2 (b) 4 (c) 6 (d) 8
উত্তর: (d) 8
34.TtRrBB জিনোটাইপ থেকে কত ধরনের গ্যামেট পাওয়া যায় –
(a) 1 (b) 5 (c) 6 (d) 4
উত্তর: (d) 4
35.Tt X Tt এর ক্রসের ক্ষেত্রে 100 টি উদ্ভিদের মধ্যে কটি সংকর অপত্য হবে –
(a) 25 (b) 50 (c) 75 (d) 10
উত্তর: (b) 50
36. হোল্যানড্রিক জিন অবস্থান করে –
(a) X ক্রোমোজোমে (b) Y ক্রোমোজোমে (c) অটোজোমে (d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (b) Y ক্রোমোজোমে
37. মানুষের ক্ষেত্রে সেক্স ক্রোমোজোম হল –
(a) XX-XO (b) XX-YY (c) XX-XY (d) ZZ-WW
উত্তর: (c) XX-XY
38. তিনটি কন্যা আছে এমন দম্পতির চতুর্থ সন্তান পুত্র হওয়ার সম্ভাবনা কত শতাংশ –
(a) 100% (b) 25% (c) 75% (d) 50%
উত্তর: (d) 50%
39. অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত টি হল –
(a) 1:2:1 (b) 1:3:1 (c) 3:1 (d) 9:3:3:1
উত্তর: (a) 1:2:1
40. প্রদত্ত ক্রস গুলির মধ্যে কোনটি টেস্ট ক্রস –
(a) TT X TT (b) TT X tt (c) tt X tt (d) Tt X tt
উত্তর: (d) Tt X tt
আরো দেখো: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
41. একটি সংকর লম্বা মটর গাছ এবং একটি বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের সংকরায়ন করা হলে F2 জনুতে লম্বা মটর গাছ হবার সম্ভাবনা –
(a) 25% (b) 100% (c) 75% (d) 50%
উত্তর: (b) 100%
42.AaBb জিনোটাইপ থেকে প্রাপ্ত গ্যামেটের সংখ্যা –
(a) 3 (b) 2(c) 4 (d) 6
উত্তর: (c) 4
43. অসম্পূর্ণ প্রকটতা দেখায় এমন একটি উদ্ভিদ হল –
(a) মটর গাছ (b) ধান গাছ (c) চা গাছ (d) স্ন্যাপ ড্রাগন
উত্তর: (d) স্ন্যাপ ড্রাগন
44. কোনটি মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম নয় –
(a) অসম্পূর্ণ প্রকটতা (b) সহ প্রকটতা (c) লিংকেজ (d) প্রচ্ছন্নতা
উত্তর: (d) প্রচ্ছন্নতা
45. প্রকরণের উদাহরণ হল –
(a) ফর্সা ত্বক (b) রোলার জিভ (c) মসৃণ চুল (d) লম্বা মানুষ
উত্তর: (b) রোলার জিভ
46. মটর গাছের নিম্নলিখিত গুলির মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কোনটি –
(a) বেগুনি ফুল (b) সাদা ফুল (c) লম্বা গাছ (d) হলুদ রঙের বীজ
উত্তর: (b) সাদা ফুল
47. রয়েল হিমোফিলিয়া বা রাজকীয় হিমোফিলিয়া হলো –
(a) হিমোফিলিয়া-A(b) হিমোফিলিয়া-B (c) হিমোফিলিয়া-C (d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (b) হিমোফিলিয়া-B
48. ক্লাসিক হিমোফিলিয়া হলো –
(a) হিমোফিলিয়া-A (b) হিমোফিলিয়া-B (c) হিমোফিলিয়া-C (d) কোনোটিই নয়
উত্তর: (a) হিমোফিলিয়া-A
49. মানুষের ক্ষেত্রে কোনটি বংশগত রোগ –
(a) কলেরা(b) টাইফয়েড (c) বর্ণান্ধতা (d) হেপাটাইটিস
উত্তর: (c) বর্ণান্ধতা
50. থ্যালাসেমিয়ার আলফা গ্লোবিন জিন থাকে কোন দেহ ক্রোমোজোমে –
(a) 11 নং (b) 12 নং (c) 13 নং (d) 16 নং
উত্তর: (d) 16 নং
51. কোন রোগকে ডালটনিজম রোগ বলা হয় –
(a) হিমোফিলিয়া (b) বর্ণান্ধতা (c) থ্যালাসেমিয়া (d) ডাউন সিনড্রোম
উত্তর: (b) বর্ণান্ধতা
52. অ্যালবিনিজম রোগটি –
(a) X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন (b) X ক্রোমোজোম বাহিত প্রকট (c) অটোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন (d) অটোজোম বাহিত প্রকট
উত্তর: (c) অটোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন
53. একজন হিমোফিলিক পুরুষ ও একজন আপাত স্বাভাবিক মহিলার বিবাহ হলে তাদের সন্তানদের হিমোফিলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা –
(a) 75% (b) 100% (c) 25% (d) 50%
উত্তর: (d)50%
54. ভূমধ্যসাগরীয় রক্তাল্পতা বলা হয় কোন রোগকে –
(a) হিমোফিলিয়া (b) থ্যালাসেমিয়া (c) বর্ণান্ধতা (d) অ্যালবিনিজম
উত্তর: (b) থ্যালাসেমিয়া
55. কুলির অ্যানিমিয়া রোগ টির জিন কততম ক্রোমোজোম অবস্থিত –
(a) 11 (b) 16 (c) 17 (d) 22
উত্তর: (a) 16
56. একজন বর্ণান্ধ বাহক মহিলার সঙ্গে একজন স্বাভাবিক পুরুষের বিবাহ হলে তাদের কন্যা সন্তানদের বর্ণান্ধতা হবার সম্ভাবনা –
(a) 100% (b) 50%(c) 75% (d) 0%
উত্তর: (d) 0%
57. মৌমাছিরা কোন রঙের প্রতি বর্ণান্ধ হয়- –
(a) লাল রংয়ের (b) সবুজ রঙের (c) হলুদ রঙের (d) বেগুনিD
উত্তর: (a) লাল রঙের
58. ক্রোমোজোম মধ্যস্থ DNA বা জিনের পরিবর্তন হলো –
(a) মিউটেশন (b) লিংকেজ (c) ক্রসিং ওভার (d) কায়াজমা
উত্তর: (a) মিউটেশন
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :
1. মেন্ডেলের সূত্রগুলি কি নামে পরিচিত?
উত্তর: বংশগতির সূত্র বা মেন্ডেলবাদ
2. কানের লতি কত প্রকারের হয়?
উত্তর: দুই প্রকারের। যথা-মুক্ত লতি ও যুক্ত লতি।
3. জিভের রোল করার বৈশিষ্ট্যটি কত নম্বর ক্রোমোজোম এ অবস্থিত?
উত্তর:অষ্টম জোড়া ক্রোমোজোম
4.স্বাভাবিক জিভের বৈশিষ্ট্যটি কোন ক্রোমোজোম অবস্থিত?
উত্তর:22 তম অটোজোম জোড়াতে
5.মেন্ডেল তার দ্বি সংকর জনন পরীক্ষা থেকে কোন সূত্রে উপনীত হন?
উত্তর:স্বাধীন সঞ্চচরণের সূত্র
6. Tt এর ফিনোটাইপ কি হবে?
উত্তর: সংকর লম্বা মটর গাছ
7. পানেট স্কোয়ার বা চেকার বোর্ড আবিষ্কার করেন কোন বিজ্ঞানী?
উত্তর:বিজ্ঞানী R. C. Punnet
8.উভলিঙ্গ ফুলের পুংকেশর গুলিকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিকে কি বলে?
উত্তর:ইমাসকুলেশন
9.কান্ডের ফুলের অবস্থানের প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:শীর্ষস্থ অবস্থান
10.মটর গাছে কত জোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আছে?
উত্তর:7 জোড়া
11.মটর গাছে ইমাসকুলেশন সম্ভব কেন?
উত্তর:মটর গাছ স্বপরাগী ও মটর ফুল বড় আকারের হয় তাই ইমাসকুলেশন সম্ভব।
12.মেন্ডেলের এক সংকর জনন থেকে প্রাপ্ত অনুসূত্র দুটি কি?
উত্তর:ফ্যাক্টর এর সূত্র ও প্রকটতার সূত্র
13.ব্যাক ক্রস কি?
উত্তর:অপত্য বংশীয় কোন জীবের সঙ্গে জনিতৃ জনুর সদৃশ জিনোটাইপ বিশিষ্ট কোন জীবের সংকরায়নের পদ্ধতিকে ব্যাক ক্রস বলে।
14.মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম গুলি লেখ।
উত্তর:অসম্পূর্ণ প্রকটতা,সহ প্রকটতা,বহু অ্যালিলতা প্রভৃতি
15.কোন উদ্ভিদকে 4O’clock Plant বলে?
উত্তর:সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদকে
16.অসম্পূর্ণ প্রকটতা দেখায় এমন একটি প্রাণীর নাম লেখ।
উত্তর: অ্যান্ডুলেশিয়ান মুরগি
17.কোন ক্ষেত্রে ফিনোটাইপিক ও জিনোটাইপিক অনুপাত সমান হয়?
উত্তর:অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
18.পুরুষের কানের লোম কোন ক্রোমোজোম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত?
উত্তর: Yক্রোমোজোম
19.থ্যালাসেমিয়া শব্দটি কোন শব্দ থেকে এসেছে ?এই শব্দের অর্থ কি?
উত্তর: থ্যালসা শব্দ থেকে এসেছে।এই শব্দের অর্থ হলো সমুদ্র।
20.16নং ক্রোমোজোম এ আলফা পলিপেপটাইড তৈরীর জন্য কটি আলফা গ্লোবিন জিন থাকে?
উত্তর:মোট চারটি আলফা গ্লোবিন জিন থাকে।
21.ফ্র্যাক্টর IX এর অভাবে কোন হিমোফিলিয়া হয়?
উত্তর:হিমোফিলিয়া B
22. ফ্যাক্টর VIll এর অভাবে বা অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর এর অভাবে কোন হিমোফিলিয়া হয়?
উত্তর:হিমোফিলিয়া A
23.হিমোফিলিয়া C এর প্রচ্ছন্ন দিনটি কোন অটোজোমে অবস্থান করে?
উত্তর:4 নং
24.মানুষের মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর: 23 জোড়া বা 46 টি
25.পুরুষদের হেটারোগ্যামিটিক লিঙ্গ বলে কেন?
উত্তর: পুরুষরা দু প্রকার শুক্রানু উৎপন্ন করে। 50% শুক্রাণুতে X ও50% শুক্রানুতে Y যৌন ক্রোমোজোম থাকে। তাই পুরুষদের হেটারোগ্যামেটিক বলে।
26.মানুষের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:কোঁকড়ানো চুল
27.মানুষের একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর:মসৃণ চুল
28.মানুষের জিভ গোটানোর বৈশিষ্ট্যটি প্রকট না প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য?
উত্তর: প্রকট বৈশিষ্ট্য
29.মেন্ডেল জিনকে কি বলে সম্বোধন করতেন?
উত্তর: ফ্যাক্টর
30. অ্যালিল শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
উত্তর:বেটেসন
31.কে প্রথম ফ্যাক্টরকে জিন হিসেবে বর্ণনা করেন?
উত্তর: জোহানসেন
32.লিংকেজ কি?
উত্তর:একই ক্রোমোজোমের উপর অবস্থিত জিনগুলির মধ্যে ভৌত সংযোগ।
33.জেনেটিক্স কি?
উত্তর:জীব বিজ্ঞানের যে শাখায় বংশগতি সম্বন্ধে আলোচনা করা হয়, তাকে জেনেটিক্স বলে।
34.কোন একটি বৈশিষ্ট্যের একাধিক রূপকে কি বলে?
উত্তর:প্রলক্ষণ বা ট্ৰেইট
35.মানুষের ক্ষেত্রে একটি বিচ্ছিন্ন প্রকরণের উদাহরণ দাও।
উত্তর:মানুষের ছটি আঙুল বা হেক্সাডাক্টাইলি
36. X ক্রোমোজোম প্রথম কে পর্যবেক্ষণ করেন?
উত্তর: Mc Clung
37.থ্যালাসেমিয়া রোগের ফলে প্লীহার অতি বৃদ্ধিকে কি বলে?
উত্তর: স্প্লীনোমেগালি
38.ফটোপসিন কি?
উত্তর: ফটোপসিন হল এক ধরনের বর্ণ সংবেদী রঞ্জক যা কোন কোষে অবস্থান করে।
39.বর্ণান্ধতাকে ডালটনিজম বলা হয় কেন?
উত্তর:বিজ্ঞানী জন ডালটন বর্ণান্ধ ছিলেন বলে একে ডালটনিজম বলা হয়।
40.কোন রোগকে ক্রিস্টমাস ডিজিজ বলা হয়?
উত্তর:হিমোফিলিয়া B
41.লাল সংবেদী কোন কোষে কি ফটোপসিন রঞ্জন থাকে?
উত্তর:এরিথ্রলোব
42.সবুজ সংবেদী কোন কোষে কি রঞ্জক থাকে?
উত্তর:ক্লোরো লোব
43.নীল সংবেদী কোন কোষে কি রঞ্জক থাকে?
উত্তর: সায়ানোলোব
44.লাল বর্ণান্ধতাকে কি বলে?
উত্তর:প্রোটানোপিয়া
45.সবুজ বর্ণান্ধতাকে কি বলে?
উত্তর:ডিউটেরানোপিয়া
46.নীল বর্ণান্ধতা কে কি বলে?
উত্তর: টাইটানোপিয়া
47.কোন ব্যক্তির দেহে হিমোফিলিয়া B প্রথম লক্ষিত হয়?
উত্তর:স্টিফেন ক্রিস্টমাস
48.মেন্ডেলের দ্বি সংকর জনন পরীক্ষার F2 জনুর জিনোটাইপিক অনুপাত লেখ।
উত্তর:1:2:2:4:1:2:1:2:1
49.মেন্ডেলের দ্বি সংকর জন পরীক্ষার F2 জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাতি লেখ।
উত্তর:9:3:3:1
50.কন্যা সন্তান সৃষ্টির জন্য পিতার শুক্রাণুতে কোন প্রকৃতির সেক্স ক্রোমোজোম থাকা জরুরি?
উত্তর: ‘X’ প্রকৃতির সেক্স ক্রোমোজোম
51.মেন্ডেল বর্ণিত বংশগতির ফ্যাক্টর প্রকৃতপক্ষে কি?
উত্তর: জিন
52.আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজরের অপর নাম কি?
উত্তর: হাইড্রপস ফিটালিস
53.কোন হিমোফিলিয়া রোগের প্রকোপ পৃথিবীতে বেশি?
উত্তর:হিমোফিলিয়া A
54.কোন রোগে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হয়?
উত্তর:হিমোফিলিয়া
55.থ্যালাসেমিয়া রোগে লৌহ সঞ্চয়ের ফলে কোন কোন অঙ্গ বা তন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
উত্তর:হৃদপিণ্ড,যকৃত এবং অন্তঃক্ষরা তন্ত্র
56.কোন হিমোফিলিয়া ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে ছড়িয়ে পড়েছিল?
উত্তর:হিমোফিলিয়া B
57.কিসের দ্বারা বর্ণান্ধ রোগীকে চিহ্নিত করা হয়?
উত্তর: ইশিহারা চার্ট
58.গাইনোস্পার্ম কি?
উত্তর:পুরুষ দেহে X ক্রোমোজোম সমন্বিত(22 A+ X)পুং গ্যামেটকে গাইনোস্পার্ম বলে।
59. অ্যান্ড্রোস্পার্ম কি?
উত্তর:পুরুষ দেহে Yক্রোমোজোম সমন্বিত(22 A+ Y)পুং গ্যামেটকে অ্যান্ড্রোস্পার্ম বলে।
60.কোন রোগের জন্য বিবাহের পূর্বে জেনেটিক কাউন্সিলিং করা হয়?
উত্তর: থ্যালাসেমিয়া
61. ফ্যাক্টর IX এর সম্পূর্ণ নাম কি?
উত্তর:প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন কম্পোনেন্ট
62.ফ্যাক্টর VIll এর সম্পূর্ণ নাম কি?
উত্তর: অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর বা AHF
63.ফ্যাক্টর XI এর সম্পূর্ণ নাম কি?
উত্তর:প্লাজমা থ্রম্বোপ্লাস্টিন অ্যানটিসিডেন্ট
64.চোখের কি কোষের ত্রুটির ফলে বর্ণান্ধতা দেখা যায়?
উত্তর:কোন কোষ
65.বর্ণান্ধতার একটি কারণ লেখ।
উত্তর: Xক্রোমোজোমক্স্থিত মিউট্যান্ট প্রচ্ছন্ন জিনের প্রভাব
66.থ্যালাসিমিয়া মেজরের লক্ষণ কি?
উত্তর:তীব্র অ্যানিমিয়া দেখা যায়
67.থ্যালাসেমিয়া মাইনরের লক্ষণ কি?
উত্তর:যকৃত ও প্লীহা বড় হয়
68.কোন সেক্স ক্রোমোজোম পুরুষ ও স্ত্রী উভয়ের কোষে থাকে?
উত্তর: X ক্রোমোজোম
69. HPLC কি?
উত্তর: HPLC এর সম্পূর্ণ নাম হল High Performance Liquid Chromatography ।এর সাহায্যে সকল প্রকার থ্যালাসেমিয়া জানা যায়।
70.ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ শব্দের প্রবক্তা কে?
উত্তর:বিজ্ঞানী জোহানসেন
শূন্যস্থান পূরণ করো | প্রতিটি প্রশ্নের মান | কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) Suggestion Madhyamik Jibonbigyan
1. জিনোটাইপ-এর বাহ্যিক প্রকাশকে __________ বলে। [ফেনোটাইপ]
2. মেন্ডেল বর্ণিত ফ্যাক্টরকে পরবর্তীকালে __________ জিন নামে পরিচিত করা হয়। [ফ্যাক্টর]
3. ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে তাকে __________ বলে। [লোকাস]
4. একসংকর জনন পরীক্ষায় F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত হল __________ : __________। [৩:১]
5. দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত হল __________। [৯:৩:৩:১]
6. মটর গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম হল __________। [Pisum sativum]
7. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী ক্রোমোজোম-এর নাম হল __________ ক্রোমোজোম। [Y]
8. হিমোফিলিয়া রোগের জন্য দায়ী জিনটি __________ ক্রোমোজোমে অবস্থিত। [X]
9. থ্যালাসেমিয়া একটি __________ প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ। [অটোজোমাল]
10. YYRr জিনোটাইপ থেকে __________ ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়। [দুই]
সত্য অথবা মিথ্যা নির্ণয় করো | প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ |মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি Suggestion
- একই লোকাসে অবস্থিত জিনগুলিকে অ্যালিল বলা হয়। [সত্য]
- মেন্ডেল যেগুলোকে ফ্যাক্টর বলেছিলেন সেগুলোই বর্তমানে জিন নামে পরিচিত। [সত্য]
- প্রকট বৈশিষ্ট্য শুধুমাত্র হেটেরোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশিত হয়। [মিথ্যা]
- মেন্ডেলের একটি প্রকট বৈশিষ্ট্য হল হলুদ মটর বীজ। [সত্য]
- মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছগুলি সমস্ত খাঁটি চরিত্রের ছিল। [সত্য]
- মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা প্রথম অপত্য জনুতে ৭৫% বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছ পেয়েছিলেন। [মিথ্যা]
- YYRr জিনোটাইপ থেকে দুই ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয়। [সত্য]
- YYrr জিনোটাইপের ফেনোটাইপ হবে হলুদ কুঞ্চিত। [সত্য]
- হিমোফিলিয়া রোগটি অটোজোমঘটিত রোগ। [মিথ্যা]
- টেস্ট ক্রস করতে গেলে প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস জীবের সঙ্গে ক্রস করানো প্রয়োজন। [সত্য]
- মানুষের ক্ষেত্রে মহিলারা সবদাই হোমোগ্যামেটিক। [সত্য]
- TDF হল Testis Determining Factor। [সত্য]
- X ক্রোমোজোমের সঙ্গে যুক্ত জিনকে হোলান্ড্রিক জিন বলা হয়। [মিথ্যা — Y ক্রোমোজোমের সঙ্গে যুক্ত জিনকে হোলান্ড্রিক জিন বলা হয়]
মেলাও | প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ | Madhyamik Life Science 3rd Chapter
| A-স্তম্ভ | B-স্তম্ভ |
| (i) ফ্যাক্টর | (a) হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে ক্রটি |
| (ii) সাদা-কর্কশ লোমযুক্ত গিনিপিগের জিনোটাইপ | (b) লিঙ্গ সংযোজিত বংশগত রোগ |
| (iii) মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ | (c) XX-XY |
| (iv) থ্যালাসেমিয়া | (d) bbRR |
| (v) হিমোফিলিয়া | (e) BbRR |
| (f) জিন |
উত্তর: (i)→(f), (ii)→(d), (iii)→(c), (iv)→(a), (v)→(b)
বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো | প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ |মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সহায়িকা
- মুক্ত কানের লতি, রোলার জিভ, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা।
উত্তর: [বর্ণান্ধতা] — কারণ বাকি তিনটি প্রকরণের উদাহরণ, কিন্তু বর্ণান্ধতা একটি জিনগত রোগ।
- লম্বাকাণ্ডের দৈর্ঘ্য, গোলবীজের আকার, হলুদ বীজপত্রের রং, ফুলের শীর্ষস্থ অবস্থান।
উত্তর: [ফুলের শীর্ষস্থ অবস্থান] — কারণ মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছের প্রকট বৈশিষ্ট্য হল কাক্ষিক অবস্থান, শীর্ষস্থ নয়।
- হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া, বর্ণান্ধতা, মায়োপিয়া।
উত্তর: [মায়োপিয়া] — কারণ মায়োপিয়া একটি দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি, জিনগত রোগ নয়। বাকিগুলি জিনগত রোগ।
প্রথম জোড়ার সম্পর্ক দেখে দ্বিতীয় জোড়ার শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও
- জিন : লোকাস :: DNA : __________। [ক্রোমোজোম]
- ৩:১ : ফেনোটাইপ অনুপাত :: __________ : জিনোটাইপ অনুপাত। [১:২:১]
- প্রোটানোপিয়া : লাল বর্ণান্ধতা :: ডিউটেরানোপিয়া : __________। [সবুজ বর্ণান্ধতা]
- হোলান্ড্রিক জিন : কানে লম্বা চুল :: __________ : বর্ণান্ধতা। [X-লিংকড জিন]
- মহিলা : 44A+XX :: পুরুষ : __________। [44A+XY]
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :
1.বংশগতি ও প্রকরণ এর সংজ্ঞা দাও?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় পিতা-মাতার বা জনিতৃর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি বংশ পরম্পরায় সন্তান-সন্ততিতে বা অপত্যের দেহে সঞ্চারিত হয় তাকে বংশগতি বলে ।
জিনের পরিবর্তনের মাধ্যমে বা পরিবেশের প্রভাবজনিত কারণে একই প্রজাতিভুক্ত জীবদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় তাকে প্রকরণ বলে।
2. প্রকরণের কারণ লেখ।
উত্তর: (1) মিউটেশন:ক্রোমোজোমের সংখ্যা বা ক্রোমোজোমের গঠনের বদল ঘটলে বা DNA এর গঠনে কোন পরিবর্তনের কারণে জিনের গঠন পরিবর্তিত হলে জীব দেহের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলিতে যে হঠাৎ থাই ও বৃহৎ পরিবর্তন। দেখা যায় তাকে মিউটেশন বলে।মিউটেশন প্রকরণ সৃষ্টিতে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(2) জিনের পুনঃ সংযুক্তি:ক্রসিং ওভার মাধ্যমে ক্রোমোজোমের মধ্যে জিনের পুনঃসংযুক্তি ঘটলে তা জীবের মধ্যে পৃথক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশে সাহায্য করে এবং প্রকরণ সৃষ্টিতেও সহায়তা করে।
3. লোকাস ও অ্যালিলের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর: ক্রোমোজোমের ওপর যে স্থানে কোন জিন অবস্থান করে সেই স্থানটিকে লোকাস বলে।
সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়ের যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থিত একই জিনের বিভিন্ন রূপভেদকে অ্যালিল্ বলে।
4.প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য কাকে বলে?
উত্তর: যে বৈশিষ্ট্য বিপরীত ধর্মী অন্য কোন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশে বাধা দেয় কিন্তু নিজের প্রকাশিত হয় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
যে বৈশিষ্ট্য প্রকট বৈশিষ্ট্য উপস্থিত প্রকাশিত হয় না বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে ।
5.ফিনো টাইপ এবং জিনো টাইপ কাকে বলে?
উত্তর: কোনো জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে।
যে জিনগত সমন্বয় ফিনোটাইপ সৃষ্টির জন্য দায়ী তাকে বলা হয় জিনোটাইপ।
6. সমসংকর ও বিসমসংকর জীব কাকে বলে?
উত্তর: দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম এহবে যদি কোন একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য সমধর্মী অ্যালিল থাকে তবে জীবটিকে সেই বৈশিষ্ট্যের সাপেক্ষে সমসংকর জীব বলে।
দুটি সমসংস্থ ক্রোমোজোম এ যদি কোন একটি বৈশিষ্ট্যের জন্য দুটি বিপরীত ধর্মী অ্যালিল থাকে তবে জীব থেকে সেই বৈশিষ্ট্য সাপেক্ষে বিষম সংকর জীব বলে।
7. এক সংকর ও দ্বি সংকর জনন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: একজোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটনাকে এক সংকর জনন বলে।
দুই জোড়া বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটনাকে দ্বি সংকর জনন বলে ।
8.প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য সর্বদা বিশুদ্ধ প্রকৃতির হয় কেন?
উত্তর: প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী অ্যালিল কখনোই প্রকট বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতিতে প্রকাশিত হয় না। অর্থাৎ হেটারোজাইগাস অবস্থাতে প্রচ্ছন্ন অ্যালীল কখনোই প্রকাশিত হয় না। কোন জীবের দেহে দুটি
প্রচ্ছন্ন অ্যালিল উপস্থিত থাকলে অর্থাৎ হোমোজাইগাস অবস্থাতেই শুধুমাত্র প্রচ্ছন্ন অ্যালিল প্রকাশ পায়। তাই বলা যায় যে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশকারি জীব সর্বদাই হোমোজাইগাস বা বিশুদ্ধ প্রকৃতি হয়।
9. রেসিপ্রোকাল ক্রস কি?
উত্তর: মেন্ডেলটা তার সংকরায়নের পরীক্ষাতে যে জনিতৃ উদ্ভিদ গুলি ব্যবহার করেছিলেন তাদের জিনোটাইপের উপর পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করেছিল। এক্ষেত্রে জনিতৃ উদ্ভিদগুলির লিঙ্গের ওপর পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করেনি। এই ধরনের সংকরায়ণের পরীক্ষাকে রেসিপ্রোকাল ক্রস বলে।
10. মেন্ডেলের সাফল্যের কারণ লেখ।
উত্তর: মেন্ডেলের সাফল্য লাভের কারণগুলি হল-
(1) মেন্ডেল সংকরায়ন পরীক্ষার জন্য প্রাথমিকভাবে যেসব উদ্ভিদ গুলি নির্বাচন করেছিলেন সেগুলি ছিল বিশুদ্ধ প্রকৃতির।
(2) মেন্ডেল সংকরায়ন পরীক্ষাকলে কেবল একজোড়া কিংবা ২ জোড়া বিপরীত ধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলেন বলে পরীক্ষাগুলির সহজে সম্পন্ন হয়েছিল।
(3) মেন্ডেল প্রতিটি পরীক্ষালব্ধ ফলাফল অন্তঃপক্ষে তিনটি বংশানুক্রম পর্যন্ত পর্যালোচনা করে লিপিবদ্ধ করেছিলেন, ফলে সব ক্ষেত্রে অনুপাতের ভিত্তিতে সূত্র নির্ধারণ সহজ হয়েছিল।
11. মেন্ডেল মটর গাছকে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করেছিলেন কেন?
উত্তর: (1) মটর গাছ দ্রুত বংশবিস্তার সক্ষম তাই অল্প সময়ের মধ্যে বংশানুক্রমে কয়েক পুরুষ ধরে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা সম্ভব।
(2) মটর গাছে অনেক বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে ঘটার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ থাকে।
(3) মটর গাছ বংশ-পরম্পরায় নির্দিষ্ট চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন খাঁটি অপত্য উৎপাদন সক্ষম।
(4) মটর গাছের ফুল উভলিঙ্গ হওয়ায় মটর গাছের স্বপরাগযোগ গঠন সম্ভব।
(5) মটর ফুল বড় আকারের হয় বলে সহজে ইমাসকুলেশন করা সম্ভব।
12. পৃথক ভবনের সূত্রটি লেখো।
উত্তর: কোন জীবের একজোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় পরস্পর একত্রিত হলেও বৈশিষ্ট্য বা অ্যালিল গুলি কখনো মিশ্রিত হয় না বরং গ্যামেট গঠনকালে বিপরীতভাবে বৈশিষ্ট্য গুলি পরস্পর পৃথক হয়ে যায়।
13. স্বাধীন সঞ্চরণ সূত্রটি লেখো।
উত্তর: কোন জীবের দুই বা ততোধিক যুগ্ম বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্য গুলি জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চরিত হওয়ার সময় একত্রিত হলেও শুধুমাত্র গ্যামেট গঠনকালে এরা যে পরস্পর থেকে পৃথক হয় তাই নয় উপরন্তু প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য স্বাধীনভাবে যেকোনো বিপরীত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয় সঞ্চারিত হয়।
14. ক্রিসক্রস উত্তরাধিকার কাকে বলে?
উত্তর: মাতামহের X ক্রোমোজোমস্থিত প্রচ্ছন্ন দিনের বৈশিষ্ট্য যদি কন্যার মাধ্যমে তার দৌহিত্রে সঞ্চারিত হয় তাহলে তাকে ক্রিসক্রস উত্তরাধিকার বলে।
15. হ্যোলান্ড্রিক জিন কাকে বলে?
উত্তর: পুরুষদের Y ক্রোমোজোম এ অবস্থিত প্রকট জিন থাকলে তা উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্রদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। এই ধরনের জিনকে হ্যোলান্ড্রিক জিন বলে। যেমন-পুরুষদের কানের লোম।
16. লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকা লেখ।
উত্তর: পুত্র কোন সন্তান সৃষ্টি হওয়ার পিছনে প্রধান কারণ পিতার সেক্স ক্রোমোজোম X ও Y প্রকারের। যেহেতু মাথার সেক্স ক্রোমোজোম XX প্রকারের তাই তাদের এক ধরনের গ্যামেট X তৈরি হয়। অপরপক্ষে পিতা আর দু ধরনের গ্যামেট X ও Y তৈরি হয়।
যখন পিতার X গ্যামেট মাতার X গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয় তখন কন্যা সন্তান সৃষ্টি হয় এবং যখন পিতার Y গ্যামেট মাতার X গ্যামেটের সঙ্গে মিলিত হয় তখন পুত্র সন্তান সৃষ্টি হয়। সহজেই বলা যায় পুত্র কন্যা সন্তান সৃষ্টিতে পিতার ভূমিকায় প্রধান।
17. থ্যালাসিমিয়া রোগের দুটি লক্ষণ লেখ।
উত্তর: (1) এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের ত্রুটি এবং রক্তাল্পতা।
(2) এছাড়া হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় লোহিত রক্ত কণিকার আকার ছোট হয়ে যায়।
(3) অস্থি দুর্বল ও বিকৃত হয়।
18. আলফা থ্যালাসেমিয়ার কারণ লেখ।
উত্তর: হিমোগ্লোবিনের আলফা পলিটেকটাইড তৈরির জন্য ক্রোমোজোম 16 তে 2টি আলফা গ্লোবিন জীন থাকে। মানুষের দুটি ক্রোমোজোমএ যখন দুটি আলফা পলিটেকটাইড তৈরির জিন থাকে তখন তাকে বলে স্বাভাবিক অবস্থা।
16 নং ক্রোমোজোমে দুটি কিংবা একটি আলফা গ্লোবিন জিন ক্ষয় পেলে আলফা থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। যখন তিনটি বা চারটি আলফা গ্লোবিন জিনের মিউটেশন ঘটে তখন তাকে আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং যখন একটি বা দুটি আলফা গ্লোবিন জিনের মিউটেশন ঘটে তখন তাকে আলফা থ্যালাসিমিয়া মাইনর বলে।
19. থ্যালাসেমিয়া কাকে বলে? এটি কয় প্রকার?
উত্তর: হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন প্রোটিন অংশের কম সংশ্লেষ এবং দুটি পূর্ণ গঠনের ফলে সৃষ্ট এবং বংশগতভাবে বাহিত রোগ কে থ্যালাসেমিয়া বলে। এটি দুই প্রকার। যথা-আলফা থ্যালাসিমিয়া এবং বিটা থ্যালাসেমিয়া।
20. জেনেটিক কাউন্সেলিং কাকে বলে?
উত্তর: কোন পরিবারের বা ব্যক্তির বংশগত রোগের জিনগত ইতিহাসের বিশ্লেষণ এবং জেনেটিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জিনগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নির্ণয় এবং জিনগত রোগবিহীন সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান লাভের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শদানকে বলে জেনেটিক কাউন্সেলিং।
21. জেনেটিক কাউন্সেলিং এর পদ্ধতি গুলি লেখ।
উত্তর: (1) পরিবারের বংশগত রোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ।
(2) রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে পরিবারের লোকেরা রোগের বাহক কিনা তা নির্ধারণ।
(3) বিবাহের পূর্বে সঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সঙ্গীর জিনগত অবস্থা নির্ধারণ।
(4) পাত্র-পাত্রীর জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্তানের রোগের সম্ভাবনা নির্ধারণ এবং রোগের সমস্যা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে পরামর্শদান ও প্রয়োজনে গর্ভপাতের পরামর্শ দিয়ে পরবর্তী সন্তান গ্রহণে সহায়তা দান।
22. জেনেটিক কাউন্সেলিং এর গুরুত্ব লেখো।
উত্তর: (1) জেনেটিক কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে বংশগত রোগ নির্ণয় করা যায়।
(2) বংশগত রোগের কারণ বিশ্লেষণ করা যায়।
(3) পরবর্তী প্রজন্মের রোগের সম্ভাবনা কিরূপ তা নির্ধারণ করা যায়।
(4) জিনগত রোগমুক্ত শিশু সম্পন্ন সুষ্ঠ সমাজ গড়ে তোলা যায়।
23. বর্ণান্ধতা মূলত কত প্রকারের হয়?
উত্তর: (1) লাল বর্ণান্ধতা বা প্রোটন ওপিয়া,
(2) সবুজ বর্ণান্ধতা বা ডিউটেরানোপিয়া,
(3) নীল বর্ণান্ধতা বা ট্রাইটানোপিয়া।
24. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উত্তর: যে ধরনের বংশগতিতে বিশুদ্ধ বিপরীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন দুটি জনিতৃ জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে অপত্য জনুতে জনিতৃ জীবের কোন বৈশিষ্ট্যই প্রকাশিত না হয়ে যদি কোন অন্তবর্তী বৈশিষ্ট্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে।
যেমন-সন্ধ্যা মালতি, স্ন্যাপ ড্রাগন, প্রভৃতি উদ্ভিদে এবং আন্দুলেশিয়ান মুরগিতে অসম্পূর্ণ প্রকটতা লক্ষ্য করা যায়।
25. ইমাসকুলেশন কাকে বলে?
উত্তর: ইতরপরাগযোগের জন্য নির্বাচিত যে কোন জনিতৃ উদ্ভিদে ফুলগুলি থেকে পুংকেশর গুলিকে কেটে অপসারণ করা বা বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে উভলিঙ্গ ফুলের পুংস্তবককে নিষ্ক্রিয় করার পদ্ধতিকে ইমাসকুলেশন বলে।
মেন্ডেল চিমটা ,কাঁচি ইত্যাদির সাহায্যে যে কোন একটি মটর গাছের ফুলের কুঁড়ি অবস্থাতে পুংকেশরগুলিকে কেটে বাদ দেন এবং কৃত্রিমভাবে উভলিঙ্গ ফুলগুলিকে স্ত্রী ফুলে পরিণত করেন।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :
1. মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছের সাত জোড়া বিপরীত ধরনের বৈশিষ্ট্য সারণি আকার উল্লেখ কর।
উত্তর: চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকটধর্মী প্রচ্ছন্ন ধর্মী
(1) বীজের আকার গোলাকার কুঞ্চিত
(2) বীজত্বকের রং হলুদ সবুজ
(3) ফুলের রং বেগুনি সাদা
(4) ফলের আকৃতি পরিপুষ্ট খাঁজযুক্ত
(5) ফলের রং সবুজ হলুদ
(6) ফুলের অবস্থান কাক্ষিক শীর্ষস্থ
(7) কান্ডের দৈর্ঘ্য লম্বা বেঁটে
2. একটি উদাহরণের সাহায্যে অসম্পূর্ণ প্রকটতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সংকর জীবে যে ধর্মের প্রভাবে প্রকটজিনটি প্রচ্ছন্ন জীবের সাপেক্ষে সম্পূর্ণরূপে প্রকট না হয়ে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যবর্তী একটি মিশ্র প্রকাশ ঘটায় তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। উদাহরণ-সন্ধ্যা মালতি ,স্ন্যাপড্রাগন।
উদাহরণ:- সন্ধ্যামালতি ফুল
নির্বাচিত বৈশিষ্ট্য:– (1) প্রকট বৈশিষ্ট্য: লাল ফুল (RR), (2) প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (rr)
পরীক্ষা ,পদ্ধতি ও পর্যবেক্ষণ:- (1) একটি বিশুদ্ধ লাল ফুল যুক্ত সন্ধ্যামালতি গাছের সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সাদা ফুল যুক্ত সন্ধ্যামালতী গাছের ইতর পরাগযোগ ঘটানো হলো।
(2) প্রথম অপত্য জনুতে ( F1) উৎপন্ন সমস্ত গাছেই গোলাপি(Rr )রঙের ফুল ফোটে।
(3) এরপর F1 জনুর দুটি গাছের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হয়।
(4) F2 জনুতে উৎপন্ন গাছের মধ্যে 1 ভাগ গাছে লাল ফুল ,2 ভাগ গাছে গোলাপি ফুল, 1 ভাগ গাছে সাদা ফুল ফুটতে দেখা যায়।

3. মেন্ডেলের এক সংকর ও দ্বি সংকর জনন পরীক্ষা থেকে কোন কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন? সিদ্ধান্তগুলির সংক্ষিপ্ত ধারণা দাও।
উত্তর: মেন্ডেল একসংকর জনন পরীক্ষা থেকে দুটি সিদ্ধান্ত উপনীত হন। যথা- (1) প্রকটতার নীতি, (2) পৃথক ভবনের সূত্র।
(1) প্রকটতার নীতি:-একই প্রজাতি ভুক্ত বিপরীত ধর্মীর বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে প্রথম অপত্ত জনুতে উৎপন্ন সংকরজীবে যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয় তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য ও যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশিত হয় না তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে। একে প্রকটতার নীতি বলে। প্রকট বৈশিষ্ট্য হোমোজাইগাস বা হেটারোজাইগাস উভয় অবস্থায় প্রকাশিত হয়।
(2) পৃথক ভবনের সূত্র:-সংকরায়নের ফলে জীবের কোন একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের অন্তর্গত বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্য বা ফ্যাক্টর গুলি জনীতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় একত্রিত হলেও কখনো মিশ্রিত হয় না বরং গ্যামেট গঠনকালে বিপরীত ধর্মীর বৈশিষ্ট্য বা ফ্যাক্টর গুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়। এটি মেন্ডেলের প্রথম সূত্ররূপে পরিচিত। এই সূত্রটি পৃথক ভবনের সূত্র নামেও পরিচিত।
মেন্ডেলের দ্বি সংকর জননের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রটি হল:
স্বাধীন বিন্যাস সূত্র:-দুই বা ততোধিক বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্যযুক্ত একই প্রজাতিভুক্ত দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ন ঘটালে উৎপন্ন অপত্য জীবে বিপরীত ধর্মী বৈশিষ্ট্যের ফ্যাক্টর গুলি একত্রিত হলেও গ্যামেট গঠনকালে এরা পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং স্বাধীনভাবে সম্ভাব্য সকল প্রকার সমন্বয়ে সঞ্চারিত হয়। এটি মেন্ডেলের দ্বি সংকর জনন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত এবং দ্বিতীয় সূত্র রূপে পরিচিত।
4. মেন্ডেলের দ্বি সংকর জনন পরীক্ষার বর্ণনা দাও এবং চেকার বোর্ডের সাহায্যে পরীক্ষার ফলাফল ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মেন্ডেল নির্বাচিত মটর গাছের বৈশিষ্ট্য:-
(1) প্রকট বৈশিষ্ট্য: হলুদ ও গোলাকার বীজ(YYRR)
(2) প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য: সবুজ ও কুঞ্চিত বীজ (yyrr)
পরীক্ষা ,পদ্ধতি ও পর্যবেক্ষণ:-
(1) মেন্ডেল বিশুদ্ধ হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটর গাছের সঙ্গে বিশুদ্ধ সবুজ বীজযুক্ত মটর গাছের সংকরায়ন ঘটান।
(2) প্রথম অপত্য জনুতে (F1 জনু) উৎপন্ন সমস্ত মটর গাছেই হলুদ ও গোলাকার বীজ (শংকর) সৃষ্টি হয়।
(3) মেন্ডেল দ্বিতীয় পর্যায়ে F1 জনুতে উৎপন্ন গাছের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটান।
(4) দ্বিতীয় অপত্য জনুতে(F2) উৎপন্ন মটর গাছ 9 ভাগ হলুদ ও গোলাকার বীজ, 3 ভাগ হলুদ ও কুঞ্চিত বীজ, 3 ভাগ সবুজ ও গোলাকার বীজ,1 ভাগ সবুজ ও কুঞ্চিত বীজ সৃষ্টি হয়।


5. মেন্ডেল তার এক সংকর জনন পরীক্ষায় F1 জনুতে সকল উদ্ভিদ লম্বা হওয়ার ঘটনাটিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন ?
উত্তর: মেন্ডেলের এক সংকর জনন পরীক্ষা:-
(1) বিশুদ্ধ লম্বা মটর গাছের সঙ্গে বিশুদ্ধ খর্ব মটর গাছের সংকরায়ন ঘটানো হলে F1 জনুতে উৎপন্ন সমস্ত উদ্ভিদই লম্বা হয়।

(2) উপরিউক্ত পরীক্ষাতে F1 জনুতে উৎপন্ন সমস্ত উদ্ভিদ লম্বা হওয়ার কারণ হলো একজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকট এবং অন্য বৈশিষ্ট্যটি প্রচ্ছন্ন ধর্মী।
(3) হেটারোজাইগাস জীবে দুটি বিপরীত ধর্মী জিন একত্রে অবস্থান করলেও প্রকট জিন তার বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায় এবং অন্য জিনটি প্রকট জিনের উপস্থিতিতে সুপ্ত থাকে, ফলে সমস্ত উদ্ভিদই লম্বা হয়।
6. একজন বর্ণান্ধ জিন বহনকারী স্বাভাবিক মহিলা যদি একজন স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করে তাহলে তাদের পুত্র কন্যাদের দৃষ্টিশক্তি কিরূপ হবে?
উত্তর: P জনুতে একজন বর্ণান্ধ জিন বহনকারী স্বাভাবিক মহিলার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক X ক্রোমোজোম এবং আরেকটি বর্ণান্ধতার মিউট্যান্ট জিন সমন্বিত X ক্রোমোজোম থাকে। পুরুষের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক জিন সমন্বিত X ক্রোমোজোম আছে।
প্রচ্ছন্ন বর্ণান্ধ জিন XC এবং স্বাভাবিক জিন XC+ দ্বারা চিহ্নিত করা হলে বর্ণান্ধ জিন বহনকারী স্বাভাবিক মহিলার জনন কোষ দু প্রকারের-XC+ ও XC এবং স্বাভাবিক পুরুষের জনন কোষ দু প্রকারের হয়-XC+ ও XC।

7. থ্যালাসেমিয়ার প্রতিরোধে জেনেটিক কাউন্সেলিং এর ভূমিকা লেখ।
উত্তর: (1) থ্যালাসেমিয়া রোগটি অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন জিনের জন্য ঘটে। বর্তমানে HPLC (High Performance Liquid Chromatography) পরীক্ষা দ্বারা রক্তের হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করে কোন ব্যক্তি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বা বাহক কিনা তা নির্ধারণ করা যায়।
(2) সুতরাং বিবাহের পূর্বেই রক্ত পরীক্ষা করে থ্যালাসেমিয়া সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।
(3) বংশে কারোর থ্যালাসিমিয়া থাকলে জেনেটিক কাউন্সেলিং এর সাহায্যে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ বাবাও মা উভয়ই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে 25% সন্তান থ্যালাসেমিয়ার আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। বর্তমানে জেনেটিক কাউন্সেলিং এর দ্বারা থ্যালাসিমিয়া প্রতিরোধ করা যায়।
8. মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো। এই পরীক্ষা থেকে কী কী সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়?
উত্তর: মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষা:
- নির্বাচিত বৈশিষ্ট্য: বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছ।
- P জনু: TT × tt → F₁ জনু: সমস্ত Tt (লম্বা)। F₁ × F₁: Tt × Tt → F₂ জনুতে TT:Tt:tt = ১:২:১।
- ফেনোটাইপ অনুপাত: ৩ লম্বা : ১ খর্ব।
- জিনোটাইপ অনুপাত: ১ TT : ২ Tt : ১ tt।
- সিদ্ধান্ত ১ — পৃথকীভবন সূত্র: গ্যামেট গঠনকালে বিপরীতধর্মী অ্যালিলগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং অপত্য জনুতে পুনর্মিলিত হয়।
- সিদ্ধান্ত ২ — প্রকটতার নীতি: F₁ জনুতে শুধুমাত্র প্রকট বৈশিষ্ট্য (লম্বা) প্রকাশ পায়। প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য (খর্ব) সুপ্ত থাকে এবং F₂ জনুতে আবার প্রকাশ পায়।
9. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো।

উত্তর: মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (XX-XY পদ্ধতি):
- মানুষের দেহকোষে মোট ২৩ জোড়া (৪৬টি) ক্রোমোজোম থাকে। ২২ জোড়া অটোজোম এবং ১ জোড়া লিঙ্গ ক্রোমোজোম।
- পুরুষের লিঙ্গ ক্রোমোজোম: XY (হেটেরোগ্যামেটিক) — দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি হয়: 22A+X এবং 22A+Y।
- মহিলার লিঙ্গ ক্রোমোজোম: XX (হোমোগ্যামেটিক) — এক প্রকার ডিম্বাণু তৈরি হয়: 22A+X।
- 22A+X শুক্রাণু + 22A+X ডিম্বাণু = 44A+XX → কন্যাসন্তান।
- 22A+Y শুক্রাণু + 22A+X ডিম্বাণু = 44A+XY → পুত্রসন্তান।
- উপসংহার: সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার শুক্রাণুর প্রকৃতি (X বা Y) সম্পূর্ণরূপে দায়ী, মাতার কোনো ভূমিকা নেই।
10. হিমোফিলিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও বংশগতি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
উত্তর: হিমোফিলিয়া হল একটি X-ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত বংশগত রোগ।
- কারণ: রক্তজমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ফ্যাক্টর VIII (হিমোফিলিয়া A), IX (হিমোফিলিয়া B) বা XI (হিমোফিলিয়া C)-এর অভাবে হিমোফিলিয়া হয়।
- লক্ষণ: ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না; অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, অস্থিসন্ধিতে রক্তজমা।
- বংশগতি: X^H = স্বাভাবিক, X^h = হিমোফিলিক। বাহক মহিলা (X^H X^h) × স্বাভাবিক পুরুষ (X^H Y) সংকরায়ণে ২৫% স্বাভাবিক কন্যা, ২৫% বাহক কন্যা, ২৫% স্বাভাবিক পুত্র, ২৫% হিমোফিলিক পুত্র।
- পুরুষেরা বাহক হতে পারে না কারণ তাদের দেহে মাত্র একটি X ক্রোমোজোম থাকে।
- ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার: মাতা থেকে পুত্র এবং পুত্র থেকে কন্যাতে এই রোগ সঞ্চারিত হওয়ার বৈশিষ্ট্যকে ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার বলে।
11. হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার বংশগত সংক্রমণের দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লেখো এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে কখন বর্ণান্ধতা, হিমোফিলিয়ার প্রকাশ ঘটে?
উত্তর: হিমোফিলিয়া ও বর্ণান্ধতার বংশগত সংক্রমণের সাধারণ বৈশিষ্ট্য:
- উভয় রোগই X ক্রোমোজোম সংযোজিত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জিনঘটিত রোগ।
- উভয় রোগেই ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার দেখা যায় — মাতা থেকে পুত্রে এবং পুত্র থেকে পৌত্রকন্যায় সঞ্চারিত হয়।
- মহিলাদের ক্ষেত্রে যখন প্রকাশ ঘটে: মহিলাদের উভয় X ক্রোমোজোমেই ত্রুটিপূর্ণ অ্যালিল থাকলে অর্থাৎ হোমোজাইগাস রিসেসিভ (X^h X^h বা X^c X^c) হলেই কেবল বর্ণান্ধতা বা হিমোফিলিয়া প্রকাশ পায়।
12. মেন্ডেলের সূত্রের একটি ব্যতিক্রম হিসেবে অসম্পূর্ণ প্রকটতার ব্যাখ্যা করো। F₂ জনুতে কেন ৩:১ অনুপাত পাওয়া যায় না?
উত্তর: মেন্ডেলের পূর্ণ প্রকটতার সূত্র অনুযায়ী F₁ জনুতে প্রকট বৈশিষ্ট্যই প্রকাশ পাওয়ার কথা এবং F₂ জনুতে ফেনোটাইপ অনুপাত ৩:১ হওয়ার কথা।
- কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতায় F₁ জনুতে দুটি বৈশিষ্ট্যের কোনোটিই সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না — একটি মধ্যবর্তী মিশ্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
- F₂ জনুতে ৩:১ পাওয়া যায় না কারণ: Rr জিনোটাইপে R অ্যালিল সম্পূর্ণভাবে r অ্যালিলকে দমন করতে পারে না। ফলে Rr একটি আলাদা ফেনোটাইপ (গোলাপি) দেখায়।
- সুতরাং F₂ জনুতে তিনটি আলাদা ফেনোটাইপ দেখা যায় — লাল (RR), গোলাপি (Rr) এবং সাদা (rr)। ফেনোটাইপ অনুপাত হয় ১:২:১।
- এই কারণে অসম্পূর্ণ প্রকটতাকে মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম বলা হয়।
13. একজন স্বাভাবিক পিতা এবং একজন বর্ণান্ধ মাতার সন্তানেরা কেমন হবে?
উত্তর: বর্ণান্ধ মাতা: X^c X^c (হোমোজাইগাস রিসেসিভ); স্বাভাবিক পিতা: X^C Y।
- P জনু: X^c X^c × X^C Y
- গ্যামেট: মাতা থেকে X^c এবং পিতা থেকে X^C বা Y।
- F₁ জনু: X^C X^c (স্বাভাবিক কিন্তু বাহক কন্যা) এবং X^c Y (বর্ণান্ধ পুত্র)।
- ফলাফল: সমস্ত কন্যাসন্তান স্বাভাবিক হবে কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক হবে। সমস্ত পুত্রসন্তান বর্ণান্ধ হবে।
অনেক ধন্যবাদ এই ” মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer ” পােস্টটি পড়ার জন্য।
Madhyamik Life Science Question and Answer Suggestions | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর
এখানে আলোচনা করা হয়েছে Madhyamik Life Science Question and Answer মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর Madhyamik Life Science Question and Answer মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর প্রশ্ন ও উত্তর – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) MCQ, সংক্ষিপ্ত, রোচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর ।
আরো দেখো: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
আরো দেখো: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি ও অভিযোজন প্রশ্ন উত্তর (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
আরো দেখো: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
আরো দেখো: মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer
- টাইকো ব্রাহে: যে জ্যোতির্বিদ নাক হারিয়েও আকাশ দেখা থামাননি
একটু ভাবুন। ১৫৬০ সাল। ডেনমার্কের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌদ্দ বছর বয়সের একটা ছেলে আইন পড়তে বসে আছে। হঠাৎ বাইরে লোকজনের ভিড়। সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে। সূর্যগ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়টা সূর্যগ্রহণ নয়। অবাক করা বিষয়টা হলো — জ্যোতির্বিদরা আগে থেকেই বলে দিতে পেরেছিলেন ঠিক কখন এই গ্রহণ হবে। নিখুঁতভাবে। এই ছেলেটার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরতে … - রজার বেকন: মধ্যযুগের অন্ধকারে যে সন্ন্যাসী জ্বালিয়েছিলেন বিজ্ঞানের আলো
একটু ভাবুন। ত্রয়োদশ শতাব্দী। ইউরোপজুড়ে চার্চের অন্ধকার শাসন। বিজ্ঞানচর্চা মানেই ধর্মের বিরোধিতা। কেউ যদি বলে — “প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করব না” — তাকে পাগল বলা হবে, বিধর্মী বলা হবে। সেই যুগে একজন মানুষ সন্ন্যাসীর পোশাক পরে, হাতে কাচের লেন্স আর বই নিয়ে বললেন — “অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো কিছুই সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়।” এই একটা কথার … - হ্যানিম্যান: যে ডাক্তার রোগীর যন্ত্রণা দেখে নিজেই ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিলেন — তারপর বদলে দিয়েছিলেন পুরো চিকিৎসার ধারণাটাই
একটু ভাবুন। আপনি একজন ডাক্তার। সারাদিন রোগী দেখছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি জমছে — কারণ আপনি নিজেই জানেন, আপনি যে চিকিৎসা দিচ্ছেন সেটা রোগীকে সারাচ্ছে না, বরং তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। রক্তমোক্ষণ, পারদ, জোঁকের ব্যবহার — এই সব “চিকিৎসা” দেখে আপনার বুক ভারী হয়ে আসছে। কী করবেন আপনি? বেশিরভাগ মানুষ হয়তো মুখ বুজে … - ডিমোক্রিটাস: যে মানুষটা হাসতে হাসতে মহাবিশ্বের রহস্য সমাধান করেছিলেন
একটা মানুষ, যিনি প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটতেন আর মানুষের বোকামি দেখে হাসতেন। প্রতিবেশীরা ভাবত লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই “পাগল” মানুষটাই আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এমন একটা তত্ত্ব দিয়ে গেছেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একদম ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর নাম ডিমোক্রিটাস। আবডেরার সেই হাসিখুশি দার্শনিক, যাঁকে ইতিহাস স্মরণ করে “দ্য লাফিং ফিলোসফার” নামে। আজ একটু … - পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-২৭: শিক্ষা আর চাকরির ক্ষেত্রে কী কী বদল আসছে, এক নজরে দেখে নিন
২২শে জুন, ২০২৬-এ বিধানসভায় পেশ হলো রাজ্যের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট। এবারের ভাবনার কেন্দ্রে আছে “পঞ্চশক্তি” — পাঁচটা স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। তার মধ্যে দুটো স্তম্ভ সরাসরি ছুঁয়ে যাচ্ছে রাজ্যের ছাত্রছাত্রী আর চাকরিপ্রার্থীদের জীবন — একটা হলো জ্ঞান-শক্তি, অর্থাৎ শিক্ষা ও মানব-মূলধন, আর অন্যটা সেবা-শক্তি, যার অধীনে এসেছে বড় নিয়োগের ঘোষণা। আপনি … - অ্যারিস্টটল: যে বিজ্ঞানী ২,০০০ বছর ধরে পৃথিবীর চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন
চীন গ্রিসের এক অসাধারণ বিজ্ঞানী ও দার্শনিকের জীবন, কাজ এবং অবিনশ্বর উত্তরাধিকারের গল্প কল্পনা করুন — খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীর এথেন্স শহর। রাস্তাঘাটে দার্শনিকদের তর্ক, বাজারে বণিকদের কোলাহল, আর সমুদ্রের ধারে জেলেদের নৌকা। সেই পরিবেশে একজন মানুষ প্রতিদিন সকালে লাইসিয়াম নামের বাগানটিতে হাঁটতে হাঁটতে তাঁর ছাত্রদের পড়াতেন। হাঁটতে হাঁটতে পড়ানোর এই অভ্যাসের জন্যই তাঁর অনুগামীরা পরিচিতি …