মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর : জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) Madhyamik Life Science Question and Answer : মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer,দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর pdf  নিচে দেওয়া হলো

Madhyamik Life Science Question and Answer
মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান

Table of Contents

1.A উদ্ভিদের সংবেদনশীলতা ও সাড়াপ্রদান

1.A.I পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা চেনা এবং সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া

জীবজগতের প্রতিটি জীব তার চারপাশের পরিবেশের পরিবর্তনকে অনুভব করতে পারে এবং তার ভিত্তিতে প্রতিক্রিয়া দেখায়। বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ যেকোনো পরিবর্তনকে শনাক্ত করার ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলা হয়। এই পরিবর্তনের বিপরীতে সামগ্রিকভাবে সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় সাড়াপ্রদান। যে উপাদান বা শক্তি জীবের মধ্যে সাড়াপ্রদানের ঘটনাটি সূচনা করে, তাকে উদ্দীপক বলে। জল, বায়ু, আলো, তাপ, স্পর্শ ইত্যাদি বাহ্যিক উদ্দীপক এবং ক্ষুধা, তৃষ্ণা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের উদাহরণ।

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু ক্রেশকোগ্রাফ যন্ত্রের সাহায্যে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও সংবেদনশীলতা আছে। লজ্জাবতী উদ্ভিদের পাতা স্পর্শ করলে মুড়ে যায় — এটি সংবেদনশীলতার একটি পরিচিত উদাহরণ। বন্ চাঁড়াল উদ্ভিদের পত্রক গুলি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওঠানামা করে। এই দুটি পর্যবেক্ষণ থেকে বোঝা যায় উদ্ভিদেও প্রাণ রয়েছে এবং সে উদ্দীপনার সাড়া দিতে পারে।

১.A.II উদ্ভিদের চলন

Phototropic,Geotropic,Hydrotropic Movement
Phototropic,Geotropic,Hydrotropic Movement

উদ্ভিদের চলন দুই ধরনের — এক স্থান থেকে অন্য স্থানে না সরে, কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নড়াচড়াকে চলন বলে। আর প্রয়োজনে একটি স্থান থেকে সম্পূর্ণভাবে অন্যত্র সরে যাওয়াকে গমন বলে। উদ্ভিদে চলন আছে কিন্তু গমন নেই। চলনকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।

(i) ট্যাকটিক চলন: বাহ্যিক উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ বা তার অঙ্গ সম্পূর্ণভাবে একটি স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যায়। উদ্দীপকের গতিপথ অনুযায়ী চলন হলে সেটি ধনাত্মক এবং বিপরীত দিকে হলে ঋণাত্মক ট্যাকটিক চলন।

উদ্দীপকের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি বেশ কয়েক ধরনের হয় — ফটোট্যাকটিক (আলোর প্রভাবে), কেমোট্যাকটিক (রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে), থার্মোট্যাকটিক (তাপমাত্রার প্রভাবে), হাইড্রোট্যাকটিক (জলের প্রভাবে), রিওট্যাকটিক (জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে) এবং গ্যালভ্যানোট্যাকটিক (বৈদ্যুতিক শক্তির প্রভাবে)।

(ii) ট্রপিক চলন: বহিঃস্থ উদ্দীপকের গতিপথের দ্বারা প্রভাবিত উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধিজনিত আবিষ্ট বক্রচলনকে ট্রপিক চলন বলে। উদ্দীপকের দিকে বৃদ্ধি পেলে ধনাত্মক এবং বিপরীত দিকে হলে ঋণাত্মক ট্রপিক চলন। ফটোট্রপিক চলনে উদ্ভিদের কান্ড আলোর উৎসের দিকে বৃদ্ধি পায় এবং মূল বিপরীত দিকে। হাইড্রোট্রপিক চলনে মূল জলের উৎসের দিকে এগিয়ে যায়। জিওট্রপিক চলনে মূল মাটির ভেতর পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে বৃদ্ধি পায়।

(iii) ন্যাস্টিক চলন: বাহ্যিক উদ্দীপকের তীব্রতা ও স্থায়িত্বের দ্বারা প্রভাবিত উদ্ভিদের অঙ্গের রসস্ফীতিজনিত বক্রচলনকে ন্যাস্টিক চলন বলে। ফোটোন্যাস্টিক চলনে উদ্ভিদের ফুল দিনের বেলায় ফোটে এবং রাতে বন্ধ হয়ে যায় (যেমন — সূর্যমুখী)। থার্মোন্যাস্টিক চলনে বেশি তাপে টিউলিপ ফুলের পাপড়ি খুলে যায় এবং কম তাপে বন্ধ হয়। সিসমোন্যাস্টিক চলনে স্পর্শের ফলে লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যায়।

Seismonastic Movement
সিসমোন্যাস্টিক চলনে স্পর্শের ফলে লজ্জাবতীর পাতা মুড়ে যায়।

ট্যাকটিক, ট্রপিক ও ন্যাস্টিক চলনের তুলনা:

বিষয়ট্যাকটিক চলনট্রপিক চলনন্যাস্টিক চলন
প্রধান বৈশিষ্ট্যবহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তনবহিঃস্থ উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা প্রভাবিত বৃদ্ধিজনিত বক্রচলনবহিঃস্থ উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা প্রভাবিত রসস্ফীতিজনিত বক্রচলন
উদ্দীপকের প্রভাবউদ্দীপকের উৎস ও গতিপথ উভয়ের দ্বারা প্রভাবিতউদ্দীপকের উৎসের গতিপথ দ্বারা প্রভাবিতউদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা প্রভাবিত
অঙ্গের বৃদ্ধিচলনে অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটে নাচলনে অঙ্গের স্থায়ী বৃদ্ধি ঘটেচলনে রসস্ফীতির তারতম্য ঘটে, বৃদ্ধি নয়
উদাহরণফার্ন গাছের শুক্রাণুর ম্যালিক অ্যাসিডের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে যাওয়াউদ্ভিদের কান্ড আলোর দিকে বৃদ্ধিলজ্জাবতীর পাতা স্পর্শে মুড়ে যাওয়া

১.B উদ্ভিদের সাড়াপ্রদান ও রাসায়নিক সমন্বয় — হরমোন

AUXIN, GIBBERELLIN, CYTOKININ
AUXIN, GIBBERELLIN, CYTOKININ

1.B.I উদ্ভিদদেহে বিভিন্ন কাজের নিয়ন্ত্রণে হরমোনের ভূমিকা

উদ্ভিদদেহের বিশেষ কোষসমূহে উৎপন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ যা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দূরবর্তী কোষে পৌঁছে উদ্ভিদের জৈবিক ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে উদ্ভিদ হরমোন বলে। উদ্ভিদ হরমোনকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায় — অক্সিন, জিবেরেলিন ও সাইটোকাইনিন।

হরমোন ও উৎসেচকের মধ্যে পার্থক্য:

বিষয়হরমোনউৎসেচক
কাজের প্রকৃতি রাসায়নিক দূতজীব অনুঘটক
ক্ষরণ স্থলঅনাল গ্রন্থিতে তৈরি হয়সনাল গ্রন্থিতে তৈরি হয়
কর্মস্থল উৎস্থল থেকে দূরবর্তী স্থানে ভাজ করেউৎস্থল ও অন্যত্র উভয়তেই কাজ করে
পরিণতিকাজের শেষে নষ্ট হয়ে যায়কাজের শেষে নষ্ট হয় না

1.B.II অক্সিন

Apical dominance
Apical dominance

সংজ্ঞা: উদ্ভিদের অগ্রভাগের ভাজক কলার কোষ থেকে উৎপন্ন ইন্ডোলঅ্যাসেটিক অ্যাসিড (IAA) নামক নাইট্রোজেনযুক্ত জৈব অ্যাসিড, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে অংশ নেয়, তাকে অক্সিন বলে।

প্রকৃতি: ইন্ডোলভিত্তিক জৈব অ্যাসিড। এটি N₂ যুক্ত হরমোন।

উৎস: উদ্ভিদের কাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগের ভাজক কলার কোষ, বীজপত্র, বর্ধনশীল পাতার কোষ এবং ফুলের ইত্যাদি।

রাসায়নিক উপাদান: অক্সিনের রাসায়নিক উপাদান হল কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H), অক্সিজেন (O) এবং নাইট্রোজেন (N)।

উদ্ভিদদেহে অক্সিনের ভূমিকা:

  • অক্সিন DNA গঠনের মাধ্যমে কোষ বিভাজনে অংশগ্রহণ করে। ফলে ভাজক কলার কোষের কোষগুলি বিভাজিত হয়।
  • অক্সিন কোষের প্রাচীরের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে কোষের প্রসারণ ও আয়তন বৃদ্ধি পায়।
  • অক্সিনের প্রভাবে উদ্ভিদের কাণ্ডের অগ্রমুকুল বৃদ্ধি পায় এবং পার্শ্বীয় বা কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।একে অগ্রস্থ প্রকটতা বলে।
  • অল্পমাত্রায় অক্সিনের প্রয়োগে নতুন মূল তৈরি হয় এবং মূলের বৃদ্ধি ঘটে।
  • অক্সিনের প্রভাবে ট্রান্সপিরেশন বৃদ্ধি পায় এবং ফলের পরিপক্কতা তরান্বিত হয়।
  • আলোকবৃত্তি, অভিকর্ষবৃত্তি ইত্যাদি দিকনির্ণীত বক্রচলন অর্থাৎ ট্রপিক চলন অক্সিন নিয়ন্ত্রণ করে।
  • ফুলের গর্ভাশয়ের কোষ বিভাজন ঘটিয়ে বীজবিহীন বা পার্থেনোকার্পিক ফল তৈরিতে প্রয়োগ করা হয়।

1.B.III জিব্বেরেলিন

সংজ্ঞা: উদ্ভিদের অঙ্কুরিত ও ক্রমবর্ধমান বীজ এবং বর্ধনশীল কলায় উৎপন্ন টারপিনয়েড বর্গভুক্ত নাইট্রোজেনবিহীন জৈব অ্যাসিড, যা অন্য উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করতে সাহায্য করে, তাকে জিব্বেরেলিন বলে।

প্রকৃতি: টারপিনয়েড শ্রেণির জৈব অ্যাসিড, নাইট্রোজেনবিহীন হরমোন।

উৎস: পরিণত বীজপত্র, মুকুল, পাতার বর্ধিষ্ণু অংশ, অঙ্কুরিত চারাগাছ ইত্যাদি।

রাসায়নিক উপাদান: জিবেরেলিনের মধ্যে কার্বন (C), হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন (O) পাওয়া যায়।

উদ্ভিদদেহে জিব্বেরেলিনের ভূমিকা:

  • জিবেরেলিনের প্রভাবে বীজের সুপ্তাবস্থা কেটে অঙ্কুরিত হয়।
  • জিবেরেলিনের প্রভাবে পর্বমধ্যের কোষগুলোর দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটে, ফলে খর্ব কাণ্ডগুলো লম্বা কাণ্ডে পরিণত হয়।
  • আপেল, আঙুর ইত্যাদি গাছে ফলধারণ ও ফলের আকার বৃদ্ধিতে জিব্বেরেলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

1.B.IV সাইটোকাইনিন

সংজ্ঞা: উদ্ভিদের ফলে ও সস্যে উৎপন্ন এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এমন নাইট্রোজেনযুক্ত পিউরিন বর্গের জৈব যৌগকে সাইটোকাইনিন বলে।

প্রকৃতি: অ্যাডেনিন গোষ্ঠীভুক্ত জৈব যৌগ, নাইট্রোজেনযুক্ত হরমোন।

উৎস: উদ্ভিদের ফল ও সস্য, নারকেলের তরল সস্য (ডাবের জল), টমেটোর রস, ভুট্টার সস্য।

রাসায়নিক উপাদান: কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।

উদ্ভিদদেহে সাইটোকাইনিনের ভূমিকা:

  • সাইটোকাইনিন উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমের বিভাজনে বা সাইটোকাইনেসিসে সাহায্য করে।
  • সাইটোকাইনিন উদ্ভিদের অগ্রমুকুলের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করে পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে।
  • সাইটোকাইনিন পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হওয়াকে প্রতিরোধ করে এবং পাতার ক্লোরোফিল নষ্ট হওয়াকে বাধা দেয়।
  • সাইটোকাইনিন উদ্ভিদের বার্ধক্য বা জরা বিলম্বিত করে।

1.B.V কৃত্রিম হরমোন

গবেষণাগারে সংশ্লেষিত হরমোন যা প্রাকৃতিক উদ্ভিদ হরমোনের মতো কার্যকর, তাকে কৃত্রিম হরমোন বলে। উদাহরণ — ইন্ডোল বিউটিরিক অ্যাসিড (IBA), ন্যাপথ্যালিনঅ্যাসেটিক অ্যাসিড (NAA), 2,4-ডাই-ক্লোরোফেনোক্সি অ্যাসিটিক অ্যাসিড (2,4-D)।

কৃত্রিম হরমোনের ভূমিকা:

  • শাখাকলম থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি: যেসব উদ্ভিদ সাধারণভাবে কলম হয় না, তাদের কাণ্ডের টুকরোকে কৃত্রিম অক্সিন (IBA, NAA) দ্রবণে রাখলে কলম থেকে অস্থানিক মূল গজায়।
  • অপরিণত ফলের মোচন রোধ: আম, কলা, আঙুর ইত্যাদি ফলের বৃন্তে 2,4-D বা কৃত্রিম জিবেরেলিন স্প্রে করলে অপরিণত ফলের মোচন রোধ হয়।
  • আগাছানাশক হিসেবে: 2,4-D কৃত্রিম অক্সিন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা ধান, গম ইত্যাদি শস্যকে সুরক্ষিত রেখে আগাছা বিনষ্ট করে।
  • বীজবিহীন ফল সৃষ্টি: আপেল, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি উদ্ভিদে কৃত্রিম অক্সিন প্রয়োগ করে বীজবিহীন ফল উৎপাদন করা হয়।

১.C প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও রাসায়নিক সমন্বয় — হরমোন

1.C.I প্রাণীদেহের বিভিন্ন কাজ নিয়ন্ত্রণে হরমোনের প্রয়োজনীয়তা

হরমোন প্রাণীদেহের জৈব নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোম খাড়া হওয়া, রক্তে glucose সঠিক মাত্রা বজায় রাখা, BMR নিয়ন্ত্রণ এবং জননগত বৃদ্ধি ও ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজগুলো হরমোনের সাহায্যে সম্পন্ন হয়।

প্রাণী হরমোনের বৈশিষ্ট্য:

  • উৎস: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা নালিবিহীন গ্রন্থি।
  • রাসায়নিক প্রকৃতি: প্রোটিনধর্মী (ইনসুলিন), পলিপেপটাইডধর্মী (ভেসোপ্রেসিন), অ্যামাইনোধর্মী (থাইরক্সিন), স্টেরয়েডধর্মী (টেস্টোস্টেরন), লিপিডধর্মী (প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন), গ্লাইকোপ্রোটিনধর্মী (TSH), ক্যাটেকোলামাইনধর্মী (অ্যাড্রিনালিন)।
  • পরিবহন পদ্ধতি: উৎপত্তিস্থল থেকে রক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।
  • কাজ ও পরিণতি: হরমোন উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে কোষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কাজ শেষে বিনষ্ট হয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণী হরমোনের তুলনা:

বিষয়উদ্ভিদ হরমোনপ্রাণী হরমোন
উৎসকাণ্ড ও মূলের অগ্রভাগ, ভাজক কোষঅন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা নালিবিহীন গ্রন্থি
পরিবহনকোষান্তর ব্যাপন অথবা জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাধ্যমেরক্ত ও লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়
রাসায়নিক প্রকৃতিঅম্ল বা ক্ষারধর্মীপ্রোটিনধর্মী বা লিপিডধর্মী বা অ্যামাইনোধর্মী বা স্টেরয়েডধর্মী
ব্যবহারিক গুরুত্বব্যবহারিক প্রয়োগ ব্যাপকব্যবহারিক প্রয়োগ নগণ্য
উদাহরণঅক্সিন, জিবেরেলিন, সাইটোকাইনিন ইত্যাদিইনসুলিন, থাইরক্সিন, টেস্টোস্টেরন ইত্যাদি

1.C.II মানবদেহের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি এবং তা থেকে ক্ষরিত হরমোন

Hypothalamus-Pituitary-Target Gland Feedback System
Hypothalamus-Pituitary-Target Gland Feedback System

1.C.III.1 হাইপোথ্যালামাস

হাইপোথ্যালামাস হল প্রভু গ্রন্থিগুলোর প্রভু গ্রন্থি বা সুপ্রিম কমান্ডার নামেও পরিচিত।

অবস্থান: অগ্রমস্তিষ্কে থ্যালামাসের নিচে অবস্থিত।

ভূমিকা: অগ্র পিটুইটারির হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চাৎ পিটুইটারির হরমোন উৎপাদন।

হাইপোথ্যালামাস থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন:

  • ARH বা অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক রিলিজিং হরমোন — পিটুইটারির অগ্রখণ্ডকে ACTH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • TRH বা থাইরোট্রপিন রিলিজিং হরমোন — পিটুইটারির অগ্রখণ্ডকে TSH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • SRH বা সোমাটোট্রপিন রিলিজিং হরমোন — পিটুইটারির অগ্রখণ্ডকে STH বা GH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • GIH বা গ্রোথ ইনহিবিটিং হরমোন — অগ্র পিটুইটারিকে GH ক্ষরণে বাধা দেয়।
  • GnRH বা গোনাডোট্রফিন রিলিজিং হরমোন — পিটুইটারির অগ্রখণ্ডকে FSH ও LH ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।
  • PRH বা প্রোল্যাকটিন রিলিজিং হরমোন — পিটুইটারির অগ্রখণ্ডকে প্রোল্যাকটিন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।

1.C.III.2 পিটুইটারি গ্রন্থি

অপর নাম হল মাস্টার গ্ল্যান্ড।

অবস্থান: মস্তিষ্কের তৃতীয় প্রকোষ্ঠে স্ফেনয়েড অস্থি দ্বারা গঠিত সেলা টারসিকা নামক প্রকোষ্ঠে অবস্থিত।

পিটুইটারির অগ্রখণ্ড থেকে ক্ষরিত হরমোনের ভূমিকা:

  • ACTH বা অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন: আড্রেনাল গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। অধিক ক্ষরণে কুশিং রোগ হয়।
  • STH বা GH (গ্রোথ হরমোন): মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, হাড় ও পেশি গঠন নিয়ন্ত্রণ করে। অধিকজনিত ফলে শিশুর অতিকায়তা বা জাইগান্টিজম এবং প্রাপ্তবয়স্কের অ্যাক্রোমেগালি হয়। অভাবজনিত ফলে বামনত্ব বা ডোয়ারফিজম।
  • TSH বা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন: থাইরয়েড গ্রন্থির বৃদ্ধি এবং থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। অধিক ক্ষরণে হাইপারথাইরয়েডিজম বা গলগণ্ড রোগ হয়।
  • GTH (FSH ও LH): শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপিত করে।

1.C.III.3 থাইরয়েড গ্রন্থি

অবস্থান: গলার শ্বাসনালির অঞ্চলে এবং স্বরযন্ত্রের ঠিক নিচে অর্থাৎ শ্বাসনালির দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তরুণাস্থির মধ্যে দুই যুগ্ম থাইরয়েড গ্রন্থি অবস্থিত।

নিঃসৃত হরমোন: থাইরক্সিন বা T₄ এবং ট্রাই আয়োডোথাইরোনিন বা T₃।

থাইরক্সিনের ভূমিকা:

  • থাইরক্সিন মৌল বিপাকের হার স্বাভাবিক রাখে।
  • থাইরক্সিনের প্রভাবে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট ইত্যাদির বিপাক বৃদ্ধি পায়।
  • থাইরক্সিন তাপ উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • থাইরক্সিনের প্রভাবে মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বৃদ্ধি ঘটে।
  • অভাবজনিত ফল: শিশুর কেটিনিজম, বয়স্কদের মিক্সিডিমা ও সাধারণ গলগণ্ড রোগ।
Human endocrine glands
Human endocrine glands

1.C.III.4 অগ্ন্যাশয় গ্রন্থি

অবস্থান: উদর গহ্বরের পাকস্থলির নিচে অগ্ন্যাশয় অবস্থিত।

অগ্ন্যাশয়ের প্রধান অন্তঃক্ষরা কোষ ও তাদের হরমোন: বিটা কোষ — ইনসুলিন ক্ষরণ করে; আলফা কোষ — গ্লুকাগন ক্ষরণ করে; ডেলটা কোষ — সোমাটোস্ট্যাটিন ক্ষরণ করে।

ইনসুলিনের ভূমিকা:

  • ইনসুলিনের প্রভাবে পেশি ও অ্যাডিপোজ কোষে গ্লুকোজ গ্লাইকোজেনেসিসের মাধ্যমে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চিত হয়।
  • ইনসুলিন অ্যামিনো অ্যাসিডগুলিকে যুক্ত করে প্রোটিন তৈরি করে।
  • ইনসুলিন মেদকলায় গ্লুকোজ ও ল্যাকটিক অ্যাসিড থেকে স্নেহপদার্থ তৈরিতে অংশগ্রহণ করে।
  • অভাবজনিত ফল: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মধুমেহ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস রোগ হয়।

1.C.III.5 অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি

অবস্থান: দুটি বৃক্কের উপরে টুপির মতো বৃক্কের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় থাকে।

নিঃসৃত হরমোন: অ্যাড্রেনালিন বা এপিনেফ্রিন এবং নর-অ্যাড্রেনালিন বা নরএপিনেফ্রিন।

অ্যাড্রেনালিনের ভূমিকা:

  • অ্যাড্রেনালিন হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, হার্ড উৎপাদ বৃদ্ধি করে।
  • অ্যাড্রেনালিন রক্তবাহ প্রসারিত করে রক্তচাপ কমায়, অপরদিকে রক্তবাহ সংকুচিত করে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
  • আকস্মিক উত্তেজনা, দুঃখ, ভয়, মানসিক চাপ ইত্যাদি সংকটকালীন অবস্থায় অ্যাড্রেনালিন রক্ত চলাচল বাড়িয়ে উত্তেজনা কমিয়ে দেয় — তাই একে জরুরিকালীন বা সংকটকালীন হরমোন বলে।

1.C.III.6 জনন গ্রন্থি

শুক্রাশয়: পুরুষদেহে উদর গহ্বরের বাইরে স্ক্রোটাম নামক থলিতে অবস্থিত। নিঃসৃত হরমোন — টেস্টোস্টেরন।

টেস্টোস্টেরনের ভূমিকা: পুরুষদেহের প্রধান যৌনাঙ্গ ও আনুষঙ্গিক যৌনাঙ্গের বৃদ্ধি, পরিস্ফুরণ ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করে। বয়ঃসন্ধিকালে গোঁফ, দাড়ি, পেশিবহুল দেহ, গলার কণ্ঠস্বর ইত্যাদি গৌণ যৌন লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়, শুক্রাণু উত্পাদনে সহায়তা করে ।

ডিম্বাশয়: স্ত্রীদেহে শ্রোণিগহ্বরের জরায়ুর দুপাশে অবস্থিত। নিঃসৃত হরমোন — ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন।

ইস্ট্রোজেনের ভূমিকা: স্তনগ্রন্থি, জরায়ু, যোনি, জননগ্রন্থির বৃদ্ধি ও পরিস্ফুরণ নিয়ন্ত্রণ করে। স্তনের নিচে ফ্যাট সঞ্চয়, স্তন গঠন, কোমল কণ্ঠস্বর ইত্যাদি গৌণ বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়, ডিম্বাণু উত্পাদন

প্রোজেস্টেরনের ভূমিকা: জরায়ুতে ভ্রূণের রোপণ, অমরা বা প্লাসেন্টা গঠন করতে সাহায্য করে। ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু উৎপাদন হয় এবং গর্ভাবস্থায় ঋতুচক্র বন্ধ থাকে।

1.D প্রাণীদের সাড়াপ্রদান ও ভৌত সমন্বয় — স্নায়ুতন্ত্র

1.D.I স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়

দৌড়ানোর সময় আমাদের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। সেই জন্য পেশিকোষে অতিরিক্ত গ্লুকোজ এবং অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। এইসময় হৃদগতি ও শ্বাসগতি বৃদ্ধি পায়, সঙ্গে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়। এই রক্তই পেশিকোষে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। সেই জন্য ফুসফুস দ্রুত শ্বাস নেয় এবং হৃৎপিণ্ড দ্রুত পাম্প করার মাধ্যমে পেশিকোষে গ্লুকোজ ও অক্সিজেন সরবরাহ করে। মস্তিষ্ক রক্তের অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড শনাক্ত করে এবং শ্বাসপেশি ও হৃৎপিণ্ড ইত্যাদি অঙ্গে প্রয়োজনীয় মায়ু স্পন্দন পৌঁছে দেয়। এইভাবে স্নায়ুতন্ত্র বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।

1.D.I.1 সমন্বয়ের সংজ্ঞা:

যে প্রক্রিয়ায় প্রাণীদেহে বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়, সেই প্রক্রিয়াকে সমন্বয় সাধন বলে।

1.D.I.2 স্নায়ুতন্ত্রের সংজ্ঞা

যে তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণীদেহে উদ্দীপনা গ্রহণ, উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যরক্ষা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন ঘটে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেম বলে।

1.D.I.3 স্নায়ুতন্ত্রের কাজ

  • পারস্পরিক সহযোগিতা রক্ষা করে দেহের বিভিন্ন অঙ্গের ক্রিয়াকলাপে স্নায়বিক সমন্বয়সাধন একটি অন্যতম প্রধান কাজ।
  • বাহ্যিক অথবা অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা গ্রহণ করা।
  • গৃহীত অনুভূতি স্নায়ুস্পন্দনের আকারে পরিবহণ এবং দেহের বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া ঘটানো।
  • প্রতিক্ষেপের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ ও পেশি সংকোচনে সহায়তা করা।

1.D.II স্নায়বিক পথ — স্নায়ু সংবেদ প্রবাহের পথ

উদ্দীপনা → ইন্দ্রিয় গ্রাহক → অন্তর্বাহী স্নায়ু উদ্দীপনা → প্রান্তসন্নিষ্ট বা সাইন্যাপস → কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র → উদ্দীপনার উত্তর → সাইন্যাপস → বহির্বাহী স্নায়ু → কারক বা ইফেক্টর → সাড়াপ্রদান।

1.D.III স্নায়ুকোষ, নিউরোগ্লিয়া এবং স্নায়ু

1.D.III.1 স্নায়ুকোষ বা নিউরোন

Human motor neuron
Human motor neuron

সংজ্ঞা: কোষদেহ ও সকলপ্রকার প্রবর্ধকের সমন্বয়ে গঠিত স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একককে নিউরোন বা স্নায়ুকোষ বলে।

নিউরোনের গঠন প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত — কোষদেহ ও প্রবর্ধক।

কোষদেহের গঠনগত বৈশিষ্ট্য:

  • কোষপর্দা লাইপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত এবং এটি কোষদেহকে আবৃত করে রাখে।
  • কোষদেহের সাইটোপ্লাজমকে নিউরোপ্লাজম বলে।
  • কোষদেহে একটি বৃহদাকার নিউক্লিয়াস দেখা যায়।
  • নিউরোপ্লাজমে রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন নির্মিত দানাগুলি নিসল দানা বলে, যেগুলি অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা (RER)-এ প্রোটিন উৎপাদন করে।
  • কোষদেহের মধ্যে সূক্ষ্ম তন্তু মতো নিউরোফাইব্রিল উপস্থিত।
  • কোষদেহের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু ইত্যাদি কোষীয় অঙ্গাণু দেখা যায়।

1.D.III.2 নিউরোগ্লিয়া

সংজ্ঞা: নিউরোন বা মায়ুকোষ ব্যতীত স্নায়ুতন্ত্রের একপ্রকার পরিবর্তিত যোগকলা হল নিউরোগ্লিয়া।

স্নায়ুতন্ত্রের কোষসমষ্টির ৯০ শতাংশই হল নিউরোগ্লিয়া।

প্রকারভেদ: আকৃতি অনুসারে নিউরোগ্লিয়া বিভিন্ন প্রকারের হয় যথা — অলিগোডেন্ড্রোগ্লিয়া, মাইক্রোগ্লিয়া ও অ্যাস্ট্রোসাইট।

কাজ: নিউরোগ্লিয়ার স্নায়ুস্পন্দনের ক্ষমতা নেই কিন্তু মায়ুকোষের মৃত্যুর পরে এরা মায়ুকোষের স্থান দখল করে। পুষ্টি প্রদান ও জীবাণু ধ্বংস করে।

1.D.III.3 নিউরোনের প্রকারভেদ

  • সংজ্ঞাবহ বা সেনসরি নিউরোন: যে নিউরোন গ্রাহক থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে দেয়।
  • সহযোগী বা অ্যাডজাস্টার নিউরোন: যে নিউরোন সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরোনের কাজের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।
  • আজ্ঞাবহ বা মোটর নিউরোন: যে নিউরোন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে উদ্দীপনা কারকে পৌঁছে দেয়।

1.D.IV স্নায়ুকোষ, স্নায়ুতন্ত্র ও স্নায়ুর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক

স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণীদেহে বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন হয়। স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক হল স্নায়ুকোষ বা নিউরোন। অসংখ্য নিউরোন নিউরোগ্লিয়া ও বিভিন্ন ধরনের স্নায়ুমিলিতভাবে স্নায়ুতন্ত্র গঠন করে।

১.D.V স্নায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন

সংজ্ঞা: মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড অর্থাৎ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কোনো কোনো স্থানে অনেকগুলি নিউরোনের কোষদেহ একত্রিত হয়ে যে স্ফীত অংশ বা গ্রন্থি গঠন করে, তাকে মায়ুগ্রন্থি বা নার্ভ গ্যাংলিয়ন বলে।

কাজ: স্নায়ুগ্রন্থি থেকে নার্ভ বা মায়ু উৎপন্ন হয়।

1.D.VI প্রান্তসন্নিষ্ট বা সাইন্যাপস

Chemical Synapse
Chemical Synapse

সংজ্ঞা: যে স্থানে একটি নিউরোনের অ্যাক্সনের প্রান্ত, অন্য নিউরোনের ডেন্ড্রন, অ্যাক্সন বা কোষদেহের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করে, অর্থাৎ দুটি নিউরোনের সংযোগস্থলকেই স্নায়ুসন্নিষ্ট বা প্রান্তসন্নিষ্ট বা সাইন্যাপস বলে।

গঠন: অ্যাক্সন-প্রান্তগুলির স্ফীত, প্রসারিত অংশকে সাইন্যাপটিক নব বা প্রান্তসন্নিষ্ট স্ফীতি বলে। প্রান্তসন্নিষ্ট ভেসিকলে বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক প্রেরকপদার্থ পূর্ণ থাকে যেমন — অ্যাসিটাইলকোলিন।

কাজ: সাইন্যাপসের মধ্যে দিয়ে স্নায়ুস্পন্দন একটি নিউরোন থেকে অপর একটি নিউরোনে প্রবাহিত হয়।

১.D.VII স্নায়ুতন্ত্রের প্রকারভেদ

স্নায়ুতন্ত্র তিন প্রকার — কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড), প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (করোটির মায়ু ১২ জোড়া ও সুষুম্নার মায়ু ৩১ জোড়া) এবং স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র (সমবেদী ও পরাসমবেদী)।

1.D.VIII মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ড

Human Brain (Sagittal Section)
Human Brain (Sagittal Section)

মস্তিষ্কের সংজ্ঞা: সুষুম্নাকাণ্ডের শীর্ষদেশে অবস্থিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্ফীতিময় যে অংশ করোটির মধ্যে সুরক্ষিত থেকে প্রাণীর বৃদ্ধি, চিন্তা, স্মৃতি ইত্যাদি স্নায়বিক আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে মস্তিষ্ক বা ব্রেন বলে।

অবস্থান: দেহকাণ্ডের অগ্রভাগে করোটির মধ্যে মস্তিষ্ক অবস্থিত।

মানব মস্তিষ্কের প্রধান অংশগুলির কাজ:

  • সেরিব্রাল কর্টেক্স বা গুরুমস্তিষ্ক: তাপ, চাপ, স্পর্শ, যন্ত্রণা ইত্যাদি ইন্দ্রিয়অনুভূতির গ্রহণ, বিশ্লেষণ ও সমন্বয়সাধনে অংশগ্রহণ করে। দর্শন, শ্রবণ, আঘাতন, ঘ্রাণ ইত্যাদির নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • থ্যালামাস: রাগ, লজ্জা, অত্যধিক গরম বা ঠান্ডা অথবা তীব্র বেদনা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ হয় থ্যালামাসের সাহায্যে।
  • হাইপোথ্যালামাস: নিদ্রা, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দৈহিক উষ্ণতা, আত্মরক্ষা ও অপরকে আক্রমণ করতে হাইপোথ্যালামাস সাহায্য করে।
  • মধ্যমস্তিষ্ক: অগ্রমস্তিষ্ক ও পশ্চাৎমস্তিষ্কের কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন করে। দর্শন ও শ্রবণ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কেন্দ্ররূপে কাজ করে।
  • পনস বা যোজক: হৃৎস্পন্দন, লালানিঃসরণ, শ্বাসক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।
  • লঘুমস্তিষ্ক: দৈহিক ভারসাম্য রক্ষা ও দেহভঙ্গিমা নিয়ন্ত্রণ।
  • সুষুম্নাশীর্ষক: হৃৎস্পন্দন, লালানিঃসরণ, শ্বাসক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।

সুষুম্নাকাণ্ড: মেরুদণ্ডের নিউরাল কেনেলে অবস্থিত। বাইরের অনুভূতি গ্রহণ ও মস্তিষ্কে প্রেরণ করে, মস্তিষ্ক থেকে মায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করে পেশি ও আন্তরযন্ত্রে প্রেরণ করে এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

1.D.IX প্রতিবর্ত ক্রিয়া ও প্রতিবর্ত পথ

সংজ্ঞা: বাহ্যিক পরিবেশ অথবা অভ্যন্তরীণ যে-কোনো পরিবর্তনের বিপরীতে মস্তিষ্কের নির্দেশ পরিবহনের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্ত এবং অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার ফলে যে কাজ সম্পন্ন হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।

Complete spinal reflex arc
Complete spinal reflex arc

প্রতিবর্ত ক্রিয়া দুই ভাগে বিভক্ত:

  • জন্মগত প্রতিবর্ত: যেসকল প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্মগত অর্থাৎ জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বংশগতসূত্রে প্রাপ্ত হয়, অ্যাভাসনির্ভর নয় এবং চিরস্থায়ী, তাকে সহজাত বা জন্মগত বা শর্তবিহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। উদাহরণ — শিশুর দুগ্ধপান করা, তীব্র আলোকে চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • অর্জিত প্রতিবর্ত: যেসকল প্রতিবর্ত ক্রিয়া জন্ম থেকে উৎপন্ন না হয়ে ক্রমাগত অভ্যাস বা অভিজ্ঞতার দ্বারা অর্জিত হয়, তাকে অর্জিত বা শর্তসাপেক্ষ বা শর্তবিহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। উদাহরণ — শিশুর হাঁটা ও কথা বলতে শেখা, সাইকেল চালানো।

1.D.X চোখ — মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিয়

Anatomical cross-section of human eye
Anatomical cross-section of human eye, মানুষের চোখ

চোখের বিভিন্ন অংশ ও তাদের কাজ:

  • কনজাংটিভা বা নেত্রবর্ত্মকলা: চোখের গোলকের সম্পূর্ণ অংশি অর্থাৎ কর্নিয়ার উপরিতল এবং স্ক্লেরার সম্মুখভাগে শ্লেষ্মাঝিল্লি দ্বারা আবৃত স্বচ্ছ স্তর। কাজ: ধুলো, বালি ইত্যাদি থেকে অক্ষিগোলকের অন্যান্য অংশকে রক্ষা করে।
  • কর্নিয়া বা অচ্ছোদপটল: অক্ষিগোলকের সর্বাপেক্ষা বাইরের স্বচ্ছ ১/৬ অংশ। কাজ: কর্নিয়া স্বচ্ছ হওয়ায় এর মাধ্যমে আলো সহজেই অক্ষিগোলকে প্রবেশ করে।
  • স্ক্লেরা বা শ্বেতমণ্ডল: চোখের পিছনে বহিরাবরণীর পশ্চাৎভাগের ৫/৬ অংশ। কাজ: অক্ষিগোলকের আকৃতি প্রদান করে এবং অক্ষিগোলকের ভেতরে আলো প্রবেশে বাধা দেয়।
  • কোরয়েড বা কৃষ্ণমণ্ডল: অক্ষিগোলকের মধ্যবর্তী স্তরের প্রায় ২/৩ অংশ, রঞ্জক পদার্থপূর্ণ। কাজ: রক্তবাহের উপস্থিতির জন্য কোরয়েড অক্ষিগোলকে পুষ্টি প্রদান করে এবং কৃষ্ণবর্ণযুক্ত হওয়ার জন্য অক্ষিগোলকে বিচ্ছুরিত আলোকের প্রতিফলন রোধ করে।
  • আইরিস বা কণীনিকা: কর্নিয়া ও লেন্সের মধ্যবর্তী স্থানে আকুয়াস হিউমারে ঝুলন্ত একটি পাতলা, গোলাকার, সংকোচনশীল, মাঝখানে ছিদ্রযুক্ত পর্দাবিশেষ। কাজ: রেটিনায় পতিত আলোকরশ্মির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • তারারন্ধ্র বা পিউপিল: আইরিস বা কণীনিকার মাঝখানে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র ছিদ্রবিশেষ। কাজ: অক্ষিগোলকে আলোকরশ্মি প্রবেশে সাহায্য করে।
  • লেন্স বা মণি: আইরিশের পিছনে সিলিয়ারি বডির সঙ্গে সিলিয়ারি লিগামেন্টযুক্ত একটি স্বচ্ছ, স্থিতিস্থাপক, দ্বি-উত্তল বৃত্তাকার চাকতিবিশেষ। কাজ: আলোর প্রতিসরণ ঘটায় এবং আলোকরশ্মিকে রেটিনার উপরে কেন্দ্রীভূত করে।
  • রেটিনা বা দর্শনপটল: লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী প্রকোষ্ঠে অবস্থিত স্নায়ুসমৃদ্ধ আবরণ। রেটিনায় রড কোষ ও কোণ কোষ — এই দুই ধরনের মায়ুকোষ থাকে।

1.D.X.2 দূরদৃষ্টি ও নিকটদৃষ্টির মধ্যে তুলনা

বিষয়একনেত্র দৃষ্টিদ্বিনেত্র দৃষ্টি
প্রতিবর্ত গঠনদুটি চোখে একই সঙ্গে দুটি আলাদা বস্তুর প্রতিবর্ত গঠিত হয়।দুটি চোখে একই সঙ্গে একই বস্তুর প্রতিবর্ত গঠিত হয়।
বস্তুর সঠিক আকার, অবস্থান ও দূরত্ব নির্ণয়নির্ণয় করা যায় না।নির্ণয় করা যায়।
উদাহরণপায়রা, গোরু, কুকুর ইত্যাদিমানুষ, বানর, বাঘ ইত্যাদি

1.D.XI দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি ও সংশোধন

Eye defects and their corrections
Eye defects and their corrections

মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি: যে ত্রুটিতে চোখে দূরের দৃষ্টি বাধাপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকে। ক্ষতি সংশোধন: অবতল লেন্সের মাইনাস (-) পাওয়ার যুক্ত চশমা ব্যবহার।

হাইপারমেট্রোপিয়া বা দূরদৃষ্টি: চোখে কাছের দৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়, কিন্তু দূরের দৃষ্টি ঠিক থাকে। ক্ষতি সংশোধন: উত্তল লেন্সের প্লাস (+) পাওয়ারযুক্ত চশমার ব্যবহার।

প্রেসবায়োপিয়া: সাধারণত ৪০ বছরের কাছাকাছি বয়সে পৌঁছালে চোখের সংকোচন-প্রসারণশীলতা কমে যায় এবং তার ফলে চোখের উপযোজন ক্ষমতা কমে যায়। বাইফোকাল লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করলে ক্রটি দূর করা যায়।

ক্যাটার‍্যাক্ট বা চোখে ছানি পড়া: বয়সজনিত কারণে লেন্সের উপরে পাতলা আবরণ সৃষ্টির ফলে লেন্স আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঘোলাটে, অস্বচ্ছ হয়ে যায়। অপারেশন করে পর্দা সরিয়ে দিয়ে এবং বিশেষ লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহারের দ্বারা স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া যায়।

1.E প্রাণীদের সাড়াপ্রদানের একটি প্রকার হিসেবে গমন

1.E.I গমনের সংজ্ঞা

খাদ্যসংগ্রহ, আত্মরক্ষা, বাসস্থান খোঁজা ও প্রজননের জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার দ্বারা নিজের চেষ্টায় সমগ্র জীবদেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়া অথবা নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কোনো দূরত্ব অতিক্রম করাকে গমন বা লোকোমোশন বলে।

1.E.III মাছের গমন

Fish Locomotion
Fish Locomotion মাছের গমন

মাছ হল মেরুদণ্ডী প্রাণীদের একটি বিশেষ গোষ্ঠী যারা মাছ অ্যাম্প্লিটিউড/পার্শ্বীয় গতিবিধির মাধ্যমে এগিয়ে যায়। মাছের পাখনা গমনে সাহায্য করে।

মাছের গমনে পাখনার ভূমিকা:

  • বক্ষ পাখনা (এক জোড়া): মাছকে জলের ভেতরে কাটতে সাহায্য করে এবং সামনের দিকে অগ্রসর হতে সাহায্য করে।
  • শ্রোণি পাখনা (এক জোড়া): জলের ওপর-নিচে যাওয়ার জন্য সাহায্য করে।
  • পৃষ্ঠ পাখনা (একটি): ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • পায়ু পাখনা (একটি): ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • পুচ্ছ পাখনা (একটি): মাছকে জলের মধ্যে সামনের দিকে ঠেলে দেয়।

মাছের গমনে পেশির ভূমিকা:

  • V আকৃতির মায়োটোম পেশিগুলি পরপর সংকুচিত হয়ে মাছের দেহকে পাশাপাশি সিনুয়াস আন্দোলনে এগিয়ে নিয়ে যায়।
  • দেহের একপার্শ্বের পেশির সংকোচন এবং অপর পার্শ্বের পেশির প্রসারণ একসাথে হওয়ার ফলে মাছের দেহ পাশাপাশি গতিতে চলে।

1.E.III.2 প্যারামেসিয়ামের গমন

গমন পদ্ধতি নাম: সিলিয়ারি গমন পদ্ধতি।

গমন পদ্ধতি: সিলিয়াগুলো বিশেষ সমন্বিতভাবে চলাচল করে প্যারামেসিয়ামকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সিলিয়ার সক্রিয় স্ট্রোক ও রিকভারি স্ট্রোকের মাধ্যমে গমন হয়।

1.E.III.3 ইউগ্লিনার গমন

গমন পদ্ধতি: ফ্ল্যাজেলার সাহায্যে গমন।

গমন পদ্ধতি বর্ণনা: ইউগ্লিনার ফ্ল্যাজেলাম বা চাবুকের মতো অঙ্গ ঘুর্ণনক্রমে আবর্তন করে জলে অগ্রগতি ঘটায়।

1.E.III.4 অ্যামিবার গমন

Amoeba locomotion
Amoeba locomotion অ্যামিবার গমন

গমন পদ্ধতি নাম: অ্যামিবয়েড গমন পদ্ধতি।

গমন পদ্ধতি বর্ণনা: অ্যামিবা ক্ষণপদ বা সিউডোপোডিয়া তৈরি করে গমন করে। সাইটোপ্লাজমের প্রবাহের মাধ্যমে ক্ষণপদ তৈরি হয় এবং অ্যামিবা এগিয়ে যায়।

১.E.III.5 পাখির গমন

পাখি বায়ুতে উড়ে বেড়ায়। ডানায় পালকের বিন্যাস এবং পেক্টোরালিস মেজর ও মাইনর পেশির সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে উড়ে বেড়ায়।

1.E.III.6 মানুষের গমন

মানুষের গমনে পেশি এবং অস্থিসন্ধির সহযোগিতায় হাঁটা, দৌড়ানো বা লাফানোর মতো গমন সম্ভব হয়।

মানুষের গমনে পেশির ভূমিকা:

  • সারকোমিয়ামের সংকোচনের মাধ্যমে পেশিগুলি ছোটো হয় এবং হাড়গুলোকে টেনে আনে।
  • পেশির সংকোচন ও শিথিলায়ন পর্যায়ক্রমে ঘটার ফলে মানুষ এগিয়ে যেতে পারে।

মানুষের গমনে চলনের পদ্ধতি:

  • হাঁটার সময়: গ্যাস্ট্রোকনেমিয়াস মেজর পেশি ১২টি রেকটিফিকেশন নামক কাজ করে।

1.E.IV মানুষের গমনে সচল ও অসচল অস্থিসন্ধি

সচল অস্থিসন্ধি: যেখানে দুটি অস্থির মধ্যে সুক্ষ্ম ফাঁক থাকে এবং অস্থিগুলো সক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করতে পারে। যেমন — কনুই, কব্জি, হাঁটু।

অসচল অস্থিসন্ধি: যেখানে দুটি অস্থি পরস্পরের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে সংযুক্ত এবং নড়াচড়া করতে পারে না। যেমন — করোটির অস্থিসন্ধি।

MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

1. মানব দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি হলো –

(a) গুরু মস্তিষ্ক

(b) লঘু মস্তিষ্ক

(c) পনস

(d) সুষুম্না শীর্ষক

2. ইনসুলিন ক্ষরিত হয় –

(a) পিটুইটারি থেকে

(b) থাইরয়েড থেকে

(c) অগ্নাশয় থেকে

(d) বৃক্ক থেকে

3. টেস্টোস্টেরন ক্ষরিত হয় –

(a) শুক্রাশয় থেকে

(b) ডিম্বাশয় থেকে

(c) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে

(d) অগ্নাশয় থেকে

4. বীজবিহীন ফল উৎপাদনে সাহায্য করে –

(a) IAA

(b) GH

(c) কাইনিন

(d) ফ্লোরিজেন

5. মানবদেহে করটিয় স্নায়ুর সংখ্যা –

(a) 10 জোড়া

(b) 31 জোড়া

(c) 12 জোড়া

(d) 21 জোড়া

6. অ্যামিবার গমন অঙ্গের নাম হল –

(a) সিলিয়া

(b) ক্ষনপদ

(c) ফ্লাজেলা

(d) সিটা

7. একটি লোকাল হরমোন হল –

(a) থাইরক্সিন

(b) অ্যাড্রিনালিন

(c ) টেস্টোস্টেরন

(d) ইনসুলিন

8. বল ও সকেট সন্ধির উদাহরণ –

(a) ঊরু সন্ধি

(b) হাঁটু সন্ধি

(c) গোড়ালি সন্ধি

(d) কব্জা সন্ধি

9. অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে –

(a) কোন কোষ

(b) রড কোষ

(c ) উভয়

(d) কোনোটি নয়

10. মানুষের অক্ষিগোলকের যে অংশটি আলোকসুবেদি তা হল –

(a) কোরয়েড

(b) স্ক্লেরা 

(c ) কর্নিয়া 

(d) রেটিনা

11. হাসনুহানা উদ্ভিদে ফুল রাত্রে ফোটে, দিনের বেলায় মুদে যায়, এটি কোন ধরনের চলন – 

(a) অনুকূল আলোকব্যপ্তী

(b) প্রতিকুল আলোকব্যপ্তি

(c) তাপব্যপ্তি

(d) কোনোটি নয়

12. হাইপোথেলামাস কোন পিটুইটারি হরমোন সংরক্ষিত রাখে –

(a)TSH

(b)STH

(c)ADH 

(d) থাইরক্সিন

13. অপরিণত উদ্ভিদ কোষে ছোট ছোট গহবরকে ঘিরে সাইটোপ্লাজমের চলন –

(a) রোটেশন 

(b) সারকুলেশন

(c) উভয়

(d) কোনোটিই নয়

14. দৈহিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্ত মানব মস্তিষ্কের অংশটি হল –

(a) থ্যালামাস

(b) লঘু মস্তিষ্ক

 (c ) হাইপোথ্যালামাস

(d) সুষুম্না শীর্ষক

15. অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় না –

(a) ইনসুলিন

(b) পেপসিন

(c ) থাইরক্সিন

(d) অ্যাড্রিনালিন

16. ডেল্টয়েড পেশী হল –

(a) এক্সটেন্সর পেশি

(b) অ্যাবডক্টর পেশি

(c ) অ্যাডাক্টর পেশি

(d) ফ্লেক্সর পেশি

17. মানুষের দ্বিপদ গমনের সময় দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে –

(a) সেরিবেলাম

(b) অন্তঃকর্ণ

(c ) সেরিব্রাম

(d) a ও b উভয়

18. ক্যালোরিজেনিক হরমোন হলো –

(a) ইনসুলিন

(b) থাইরক্সিন

(c ) অ্যাড্রিনালিন

(d) নিত্রসিন

19. ক্রেস্কোগ্রাফ গ্রন্থটি ব্যবহার করেন –

(a) আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু

(b) আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়

(c )হরগোবিন্দ খোরানা

(d) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং

20. উদ্ভিদের জোড়া রোদ এবং ক্লোরোফিল্ বিনষ্টকরণ প্রতিহত করে কোন হরমোন –

(a) কৃত্রিম অক্সিন

(b) জিব্বেরেলিন

(c ) কৃত্রিম জিব্বেরেলিন

(d) সাইটোকাইনিন

21. অর্জিত প্রতিবর্তে ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোন বিজ্ঞানী –

(a) স্যার আইজ্যাক নিউটন

(b) ডক্টর খোরানা

(c ) ইভান প্যাভলভ

(d) জগদীশচন্দ্র বসু

22. কোন নিউরনের সাহায্যে কেন্দ্র থেকে সারা কারকে বা ইফেক্টারে পৌঁছায় –

(a) সংজ্ঞাবহ নিউরন

(b) আজ্ঞাবহ নিউরন

(c ) সহযোগী নিউরন

(d) সংজ্ঞাবহ ও আজ্ঞাবহ নিউরন

23. নিচের কোনটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপক –

(a) আলো

(b) তাপ

(c ) তৃষ্ণা

(d) স্পর্শ

24. উদ্দীপক শনাক্ত করে জিবের সাড়া প্রদানকে বলে –

(a) সংবেদনশীলতা

(b) অনুভব

(c ) অভিমুখিতা

(d) উদ্দীপনা গ্রহণ

25. রাসায়নিক বার্তাবাহক হল –

(a) উৎসেচক

(b) রক্ত

(c ) স্নায়ু

(d) নিউরন

26. অগ্রস্থ প্রকটতার জন্য দায়ী উপাদান –

(a) জিব্বেরেলীন

(b) অক্সিন

(c ) সাইটো কাইনিন

(d) উৎসেচক

27. কোনটি নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারজাত হরমোন –

(a) অক্সিন

(b) সাইটোকাইনিন

(c ) জিব্বেরেলিন

28. ডাইবেটিস মেলিটাস আছে আক্রান্ত ব্যক্তির নিচের কোন হরমোনটি যথেষ্ট মাত্রায় ক্ষরিত হয় না – 

(a) অ্যাড্রিনালিন

(b) ইনসুলিন

(c ) থাইরক্সিন

(d) টেস্টোস্টেরন

29. ভয় পেলে মানুষের কোন হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পায় –

(a) GH

(b) GTH

(c ) থাইরক্সিন

(d) অ্যাড্রিনালিন

30. স্নায়ুতন্ত্রের প্যাকিং কোশ বলতে কোনটিকে বোঝায় –

(a) প্যারেনকাইমা

(b) নিউরন

(c ) নিউরোগ্লিয়া

(d) লেডিগ কোশ

31. মহিলাদের ক্ষেত্রে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন ডিম্বাশয় এর গ্রাফিয়ান ফলিকল থেকে যে হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়, তা হল –

(a) TSH

(b) ADH

(c ) ACTH

(d) ইস্ট্রোজেন

32. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে যে কারণে নুইয়ে পড়ে, সেটি হল –

(a) কেমন্যাস্টি

(b) সিসমোন্যাস্টি

(c ) ফটো ট্রাপিজম

(d) ফটো ট্যাকটিক চলন

33. রসস্ফীতির তারতম্য চলন ঘটে –

(a) বনচাঁড়াল গাছে

(b) পদ্মে

(c ) সূর্যমুখীতে

(d) রিও গাছে

34. যে বক্র চলন উদ্দীপকের গতিপথ অনুসারে হয়, তা হল –

(a) ন্যাস্টিক চলন

(b) ট্রপিক চলন

(c ) ট্যাকটিক চলন

(d) প্রোটোপ্লাজমীয় চলন

35. বীজের সুপ্তদশা ভঙ্গ করে অঙ্কুরোদগম ঘটায় –

(a) অক্সিন

(b) জিব্বেরেলিন

(c ) ইথিলিন

(d) সাইটোকাইনিন

36. প্রাণীদের অন্তক্ষরা গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয় –

(a) হরমোন

(b) উৎসেচক

(c ) ভিটামিন

(d) জৈব অম্ল

37. স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক হল –

(a) নিউরোগ্লিয়া

(b) নিউরোসাইটন

(c ) পেরি ক্যারিঅন

(d) নিউরন

38. একটি মিশ্র স্নায়ুর উদাহরণ হল –

(a) ভেগাস

(b) অলফ্যাক্টরি

(c ) অপটিক

(d) অকিউলোমোটর

39. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান স্ফিত গোলাকার অংশটি হলো –

(a) মস্তিষ্ক

(b) সুষুম্না কান্ড

(c ) নিউরোগ্লিয়া

(d) গ্যাংলিওন

40. মানব মস্তিষ্কে সর্ববৃহৎ অংশটি হল –

(a) সেরিবেলাম

(b) সেরিব্রাম

(c ) পনস

(d) লঘুমস্তিষ্ক

41. মাছের গমনে সাহায্য করে –

(a) ঐচ্ছিক পেশী

(b) মায়াটম পেশী

(c ) ভিসেরাল পেশী

(d) অনৈচ্ছিকপেশী

42. পায়রার ডানার পালকের সংখ্যা হল –

(a) 12

(b) 24

(c ) 15

(d) 23

43. একটি ফ্লেক্সর পেশির উদাহরণ হল –

(a) হ্যামস্ট্রিং

(b) গ্যস্ট্রোকনমিয়াস

(c ) a ও b উভয়

(d) কোনোটিই নয়

44. যে পেশির সংকোচনে নিকটবর্তী অঙ্গ প্রসারিত হয়ে দূরে সরে যায় –

(a) এক্সটেন্সর পেশি

(b) অ্যাবডক্টর পেশি

(c ) অ্যাডাক্টর পেশি

(d) ফ্লেকসর পেশি

45. সঠিক উত্তরটি নির্বাচন কর-

(a) গুরু মস্তিষ্ক –দেহের ভারসাম্য রক্ষা

(b) হাইপোথ্যালামাস –

বুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ

(c ) লঘু মস্তিষ্ক –দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

(d) সুষুম্না শীর্ষক – হৃদ স্পন্দন ও 

খাদ্য গলাধঃকরণ করার নিয়ন্ত্রণ 

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

এক কথায় উত্তর দাও:

1. জীবের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন কে কি বলে?

উত্তর: চলন

2. সোয়ান কোষ কোথায় থাকে?

উত্তর: নিউরনের মেডুলারি আবরণ ও নিউরিলেমার অন্তবর্তী স্থানে

3. পাকস্থলী নিঃসৃত একটি লোকাল হরমোনের নাম কি?

উত্তর: গ্যাস্ট্রিন

4. বৃক্কের ওপর কোন গ্রন্থি অবস্থিত?

উত্তর: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি

5. টেস্টোস্টেরন হরমোন কোন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়?

উত্তর: শুক্রাশয়

6. অভিকর্ষ চলন উদ্ভিদের কোন অঙ্গে দেখা যায়?

উত্তর: উদ্ভিদের মূল

7. কোন হরমোনের প্রভাবে উদ্ভিদের আলোক বর্তি চলন হয়?

উত্তর: অক্সিন হরমোন

8. অক্সিন হরমোন এর প্রভাবে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে কি বলে?

উত্তর: পার্থেনোকার্পি

9.অক্ষিগোলকের লেন্স ও রেটিনার অন্তর্বর্তী প্রকোষ্ঠ অবস্থিত তরলটির নাম কি?

উত্তর: ভিট্রিয়াস হিউমর

10. মস্তিষ্কের ফাঁকা স্থলকে কি বলে?

উত্তর: ভেন্ট্রিকল

11. সুষুম্নাকাণ্ডের গহবরকে কি বলে?

উত্তর: নিউরোসিল 

12. মেডুলারি আবরণ যুক্ত নিউরোনকে কি বলে?

উত্তর: মেডুলেটেড নিউরন

13. কোষদেহের যে অংশ থেকে নিউরনের উৎপত্তি হয় তাকে কি বলে?

উত্তর: অ্যাক্সন হিলক

14. শাখা যুক্ত অ্যাক্সনকে কি বলে?

উত্তর: কোল্যাটেরাল বা অক্ষশাখা

15. কোন প্রক্রিয়ায় প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়?

উত্তর: নিউগ্লুকোজেনেসিস

16. কোন হরমোনকে হাইপার গ্লাইসেমিক হরমোন বলা হয়?

উত্তর: গ্লুকাগন

17.কোন হরমোনকে অ্যান্টি কিটোজেনিক হরমোন বলা হয়?

উত্তর: ইনসুলিন

18. অগ্নাশয় অবস্থিত অন্তক্ষরা কোষপুঞ্জকে একত্রে কি বলে?

উত্তর: আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স

19. কোন হরমোন মাতৃদেহে স্তনদুগ্ধ উৎপাদনের ও স্তনগ্রন্থির বিকাশে সাহায্য করে?

উত্তর: LTH বা লিউট্রফিক হরমোন বা প্রোলেক্টিন

জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় প্রশ্ন উত্তর 2024 |class 10 life science question answer in bengali

20. কোন হরমোন প্রসবকালে জরায়ুর সংকোচন ঘটায়?

উত্তর: অক্সিটোসিন

21. কোন গ্রন্থিকে সুপ্রিম কমান্ডার বা সর্বোচ্চ প্রভুগ্রন্থি বলে?

উত্তর: হাইপোথ্যালামাস

22. প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটরস ( PGA)কোন হরমোনদের বলা হয়?

উত্তর: কৃত্রিম হরমোন

23. কোন উদ্ভিদ হরমোন ইন্ডল বর্গযুক্ত?

উত্তর: অক্সিন হরমোন

24. কোন উদ্ভিদ হরমোন টারপিনয়েড বর্গ যুক্ত?

উত্তর: জিব্বেরেলিন হরমোন

25. কোন উদ্ভিদ হরমোন পিউরিন জাতীয় ক্ষারীয় জৈব পদার্থ?

উত্তর: সাইটোকাইনিন

26. কোন প্রকল্পিত হরমোন ফুল ফোটাতে সাহায্য করে?

উত্তর: ফ্লোরিজেন

27. একটি গ্যাসীয় হরমোনের নাম লেখ যা দ্রুত ফলকে পাকিয়ে দেয় ।

উত্তর: ইথিলিন

28. কোন জৈব পদার্থ উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে রোধ করে ও অঙ্কুরোদগমে বাধাদান করে?

উত্তর: অ্যাবসাইসিক অ্যাসিড

29. কোন হরমোন উদ্ভিদ দেহে সংবহন করার দ্বারা সব দিকে পরিবাহিত হয়?

উত্তর: সাইটোকাইনিন হরমোন

দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর |জীবন বিজ্ঞান দশম শ্রেণী

30. কোন বিজ্ঞানী প্রথম উদ্ভিদ দেহে জিব্বেরেলিন হরমোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ক্যুরোশোয়া

31. দিবর্ষজীবী উদ্ভিদে প্রথম বছর ফুল ফোটানোর জন্য কোন উদ্ভিদ হরমোন ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: জিব্বেরেলিন হরমোন

32. কোন হরমোন অগ্রস্থ প্রকটতা ঘটায়?

উত্তর: অক্সিন হরমোন

33. কোন হরমোনের প্রভাবে গাছের শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয় গাছ ক্রমশ গম্বুজাকার ধারণ করে?

উত্তর: সাইটোকাইনিন হরমোন

34. একটি নাইট্রোজেন বিহীন উদ্ভিদ হরমোনের নাম লেখ।

উত্তর: জিব্বেরেলিন হরমোন

35. কোন বিজ্ঞানী উদ্ভিদ দেহে হরমোনের উপস্থিতির কথা জানান?

উত্তর: চার্লস ডারউইন

36. কোন বিজ্ঞানী জই নামক উদ্ভিদের মুকুলা বরণী থেকে অক্সিন নামক হরমোন আবিষ্কার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী ভেন্ট

37. কোন উদ্ভিদে নিকটিন্যাস্টি চলন দেখা যায়?

উত্তর: তেঁতুল গাছে

38. এমন একটি উদ্ভিদের উদ্ভিদের নাম লেখ যার মূল প্রতিকূল অভিকর্ষবর্তি চলন দেখায়?

উত্তর: সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল

39. ফার্নের শুক্রাণু কিসের প্রভাবে ডিম্বাণুর দিকে অগ্রসর হয়?

উত্তর: ম্যালিক অ্যাসিড

40. কোন উদ্ভিদকে ‘ভারতীয় টেলিগ্রাফ উদ্ভিদ’ বা ‘নৃত্যরত উদ্ভিদ’ বলা হয়?

উত্তর: বনচাঁড়াল উদ্ভিদ 

41. পরিণত উদ্ভিদ কোষের অভ্যন্তরস্থ একটি বৃহৎ কোষগহবরকে কেন্দ্র করে প্রোটোপ্লাজমের

আবর্তনকে কি বলে?

উত্তর: রোটেশন

42. কোন হরমোন ফাইটোহরমোন নামে পরিচিত?

উত্তর: উদ্ভিদ হরমোন

43. পশ্চাদ পিটুইটারি থেকে ক্ষরিত হরমোন গুলিকে কি বলে?

উত্তর: নিউরোহরমোন

44. নিউরো হরমোনগুলির উৎসস্থল কি?

উত্তর: হাইপোথ্যালামাস

45. কোন হরমোনকে ক্যালরিজেনিক হরমোন বলা হয়?

উত্তর: থাইরক্সিন হরমোন

46. কোন হরমোনের অভাবে কুশিং বর্ণিত লক্ষণ দেখা যায়?

উত্তর: ACTH বা অ্যাড্রিনো কটিকো ট্রপিক হরমোন

47. পিটুইটারি গ্রন্থি কিসের সাহায্যে হাইপোথ্যালামসের সঙ্গে যুক্ত থাকে?

উত্তর: ইনফান্ডিবুলাম নামক দন্ড

48. কোন হরমোনের অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ হয়?

উত্তর: ভেসোপ্রেসিন বা ADH

49. একটি লোকাল হরমোনের নাম লেখ ।

উত্তর: টেস্টোস্টেরন

50. কোন প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন উৎপন্ন হয়?

উত্তর: গ্লাইকোজেনেশিস প্রক্রিয়ায়

জীবন বিজ্ঞান দশম শ্রেণী প্রথম অধ্যায় অনুশীলনী |জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় class 10

51. কোন হরমোনকে অ্যান্টি ডায়াবেটিক হরমোন বলা হয়?

উত্তর: ইনসুলিন

52. কোন গ্রন্থিকে সুপ্রারেনাল গ্রন্থি বলা হয় ?

উত্তর: অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি

53. ড্রেনডনের এক-একটি শাখাকে কি বলা হয়?

উত্তর: ডেনড্রাইট

54. অ্যাক্সনের শেষ প্রান্ত অসংখ্য সুক্ষ শাখান্বিত হয়ে কি উৎপন্ন করে?

উত্তর: প্রান্তবুরুশ

53. একটি নিউরট্রান্সমিটার এর উদাহরণ দাও।

উত্তর: অ্যাসিটাইল কোলিন

54. মস্তিষ্কের বাইরের ত্রিস্তরী আবরণ কে কি বলা হয়?

উত্তর: মেনিনজেস

55. সেরিব্রাল কটেক্সের দুটি গোলার্ধ কি দ্বারা যুক্ত থাকে?

উত্তর: করপাস ক্যালোসাম নামক স্নায়ুযোজক

56. লঘু মস্তিষ্কের দুটি গোলার্ধ কি দ্বারা যুক্ত থাকে?

উত্তর: ভারমিজ

57. ডেট্রুসর পেশির সংকোচন ঘটিয়ে মূত্রত্যাগের সহায়তা করে মস্তিষ্কের কোন অংশ?

উত্তর: পনস

58. মস্তিষ্কের কোন অংশ সমবেদী ও পরাসমবেদী স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: হাইপোথ্যালামাস

59. মস্তিষ্কের কোন অংশ দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: লঘু মস্তিষ্ক

60. রেটিনার কোন অংশে সবচেয়ে ভালো প্রতিবিম্ব গঠিত হয়?

উত্তর: পীতবিন্দু

দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর pdf

61. রেটিনার কোন অংশে কোন প্রতিবিম্ব গঠিত হয় না?

উত্তর: অন্ধবিন্দু

62. রেটিনায় অবস্থিত কোন স্নায়ু কোষ উজ্জ্বল আলোতে দেখতে সাহায্য করে?

উত্তর: কোন কোষ

63. কোন স্নায়ু কোষ অন্ধকারে দেখতে সাহায্য করে?

উত্তর: রড কোষ

64. কোন কোষে বর্ণ গ্রাহী কোন রঞ্জক উপস্থিত থাকে?

উত্তর: সায়ানোপসিন ও আয়োডোপসিন রঞ্জক

65. রড কোষে বর্ণগ্রাহী কোন রঞ্জক থাকে?

উত্তর: রোডপসিন রঞ্জক

66. চোখের কোন স্তর কর্নিয়াকে ঘর্ষণজড়িত আঘাত থেকে রক্ষা করে?

উত্তর: কনজাংটিভা

67. অ্যামিবার গমন কে কি বলে?

উত্তর: অ্যামিবয়েড গমন

68. ইউগ্লিনা কিসের সাহায্যে গমন করে?

উত্তর: ফ্ল্যাজেলা

69. পাখির ডানার প্রান্তভাগের কটি বড় পালক থাকে এবং এর নাম কি?

উত্তর: তেইশটি বড় পালক থাকে এবং এর নাম রেমিজেস।

70. পাখির গমনে সাহায্যকারী প্রধান পেশি গুলির নাম লেখ।

উত্তর: পেক্টরালিস মেজর, পেক্টরালিস মাইনর এবং কোরাকো ব্রাকিয়ালিস 

71. গমনের সময় কোন কোন অংশ  দেহের ভারসাম্য বজায় রাখে?

উত্তর : লঘু মস্তিষ্ক ও অন্তঃকরণে অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার নালী ও অটোলিথ যন্ত্র

72. গ্লুটিয়াস ম্যাক্সিমাস কি ধরনের পেশি?

উত্তর: এক্সটেন্সর পেশি

73. ল্যাটিসিমাস ডরসি কি ধরনের পেশি?

উত্তর: অ্যাডাক্টর পেশি

74. হাতের ডেল্টয়েড বেশি কি ধরনের পেশি?

উত্তর: অ্যাবডাক্টর পেশি

75. মাছের দেহের দুপাশে অবস্থিত ‘V’ আকৃতির পেশি গুলিকে কি বলে?

উত্তর: মায়োটম পেশি

76. পাখির দেহের লেজের দিকের বড় পালক গুলিকে কি বলে?

উত্তর: রেক্ট্রিসেস

77. চোখের কোন কোন অংশ প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে?

উত্তর: কর্নিয়া , অ্যাকুয়াস হিউমার ,লেন্স, ভিট্রিয়াস সিউমার

78. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের কোন কোন অংশে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড দেখা যায়?

উত্তর: মস্তিষ্কের নিলয়, সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোসিল এবং মেনিনজেসের সাব অ্যারাকনয়েড স্পেসে

79.  সুষুম্নাকান্ড কিসের মাধ্যমে সংবেদি উদ্দীপনা প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে পৌঁছায়?

উত্তর: অ্যাসেন্ডিং ট্রাক্ট

80. সুষুম্নাকাণ্ডে কিসের মাধ্যমে চেষ্টিয় নির্দেশনা কারকে পৌঁছায়?

উত্তর: ডিসেন্ডিং ট্রাক্ট

81. পনস এর কোন কোন অংশ শ্বাসকার্য নিয়ন্ত্রণ করে?

উত্তর: নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্র ও অ্যাপনিউস্টিক কেন্দ্র

82. শ্বেত বস্তু কি?

উত্তর: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র অসংখ্য নিউরনের মায়োলিন আবরণ যুক্ত স্নায়ুতন্তু ও নিউরোগ্লিয়ার সমষ্টি

83. ধূসর বস্তু কি?

উত্তর: কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অসংখ্য নিউরনের কোষ দেহ ও নিউরোগ্লিয়া কোষের সমষ্টি

84. গুরু মস্তিষ্কের ওপরিতলের অসংখ্য খাঁজগুলিকে ও ভাঁজগুলিকে কি বলে?

উত্তর: যথাক্রমে সালকাস ও জাইরাস

85. একটি বাধা দানকারী নিউরোট্রান্সমিটারের নাম লেখ।

উত্তর: GABA বা গামা অ্যামাইনো বিউটারিক অ্যাসিড

86. ফ্যাসিকুলাস কি?

উত্তর: পেরিনিউরিয়াম আবৃত স্নায়ুতন্তুগুচ্ছ

87. অ্যানাবলিক হরমোন কোন হরমোনকে বলা হয়?

উত্তর: থাইরক্সিন হরমোনকে

88. ক্যাটেকোলামাইন জাতীয় হরমোনের নাম লেখ।

উত্তর: অ্যাড্রিনালিন

89. একটি পেপটাইড ধর্মী হরমোনের নাম লেখ?

উত্তর: অক্সিটোসিন

90. জিব্বেরেলিনের প্রভাবে ধান গাছের অতিকায় বৃদ্ধির ঘটনাকে কি বলে?

উত্তর: ব্যাকানে

91 সাইটোকাইনিনের যে গাছের বার্ধক্য বিলম্বিকরণ ক্ষমতা তাকে কি বলে?

উত্তর: রিচমন্ড-ল্যাং প্রভাব

92. জিব্বেরেলিনের প্রভাবে পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিকে কি বলে?

উত্তর: বল্টিং

93. একটি অ্যান্টি অক্সিন এর নাম লেখ।

উত্তর: ট্রাইআয়াডোবেঞ্জয়িক  অ্যাসিড বা TIBA

94. হরমোন শব্দটি কোন গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে?

উত্তর: ‘HORMAO’

95. হরমোন শব্দটি প্রথম কারা ব্যবহার করেন?

উত্তর: বিজ্ঞানী বেলিস ও স্টারলিং

96. রিঅ্যাকশন টাইম কি?

উত্তর: উদ্দীপনা প্রদান ও জীবের সাড়া প্রদানের মধ্যবর্তী সময়কাল

97. একটি অভ্যন্তরীণ উদ্দীপকের উদাহরণ লেখ।

উত্তর: হরমোন

98. লজ্জাবতী গাছের পাতায় কোন ধরনের চলন লক্ষ্য করা যায়?

উত্তর: সিসমোন্যাস্তিক চলন

99. প্রথম আবিষ্কৃত প্রাণী হরমোনটির নাম কি?

উত্তর: সিক্রিটিন

100. সুষুম্নাকাণ্ডে ধূসর বস্তু ও শ্বেত বস্তু কেমন ভাবে অবস্থান করে?

উত্তর: ধূসর বস্তু ভেতরের দিকে ও শ্বেত বস্তু বাইরের দিকে অবস্থান করে।

101. ক্যাটারাক্ট ত্রুটি কিভাবে দূর করা হয়?

উত্তর: ফেকো সার্জারির মাধ্যমে

102. মায়পিয়া রোগাক্রান্ত রোগী কি ধরনের চশমার লেন্স ব্যবহার করেন?

উত্তর: অবতল লেন্স

103. হাইপার ওপিয়া রোগাক্রান্ত রোগী কি ধরনের চশমার লেন্স ব্যবহার করেন?

উত্তর: উত্তল লেন্স 

104. প্যারামেসিয়াম এর গমন অঙ্গ এর নাম কি?

উত্তর: সিলিয়া

105. একটি ঈষৎ সচল অস্থিসন্ধির নাম কি?

উত্তর: মেরুদন্ডের কশেরুকা

106. একটি অচল অস্থিসন্ধির নাম লেখ।

উত্তর: করোটির অস্থিসন্ধি

107. সাইনোভিয়াল পর্দায় থাকা পিচ্ছিল জলীয় দেহ তরলের নাম কি?

উত্তর: সাইনোভিয়াল তরল

108. প্রথম আবিষ্কৃত উদ্ভিদ হরমোনটি কি?

উত্তর: অক্সিন

109. অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির কটেক্স অঞ্চল থেকে ক্ষরিত একটি হরমোনের নাম লেখ।

উত্তর: গ্লুকোকর্টিকয়েড

110. কোন হরমোন্কে আপৎকালীন হরমোন বলা হয়?

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

1. চলন ও গমন কাকে বলে?

উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় জিব নির্দিষ্ট স্থানে স্থির থেকে অর্থাৎ স্থানান্তরে না গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালন করে,চলন বলে।

                                                  যে প্রক্রিয়ায় জীব স্বেচ্ছায় বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের দ্বারা সামগ্রিকভাবে স্থান পরিবর্তন করে,গমন বলে।

2. ট্যাকটিক চলন কাকে বলে?

উত্তর: আলো তাপমাত্রা রাসায়নিক পদার্থ বিদ্যুৎ শক্তি প্রভৃতি বহিঃস্থ উদ্দীপকের প্রভাবে উদ্ভিদ কিংবা উদ্ভিদ অঙ্গের স্থান পরিবর্তনকে ট্যাকটিক চলন বলে ।

3. জিওট্রপিক চলন কাকে বলে?

উত্তর: উদ্ভিদ অঙ্গের চলন যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে অভিকর্ষের গতিপথ অনুসারে হয় তখন ,তাকে জিও ট্রপিক চলন বলে।

4. সিসমোন্যাস্টিক চলন কাকে বলে?

উত্তর: স্পর্শ, ঘর্ষণ, আঘাত, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উদ্দীপকের তীব্রতার প্রভাবে উদ্ভিদ অঙ্গের যে ন্যাস্টিক চলন হয়,তাকে সিসমোন্যাস্টিক চলন বলে।

5. হরমোনকে রাসায়নিক সমন্বয়ক বলা হয় কেন?

উত্তর: সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন যুক্ত হরমোন টার্গেট কোষের ওপর কাজ করে বিভিন্ন অঙ্গের ও তন্ত্রের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে

6. অগ্রস্থ প্রকটতা কাকে বলে?

উত্তর: উদ্ভিদের অগ্র মুকুলে অক্সিন হরমোনের পরিমাণ বেশি থাকলে অগ্র মুকুলের বৃদ্ধি বেশি হয় এবং সেই কারণে কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এই শারীরবৃত্তীয় ঘটনাকেই অগ্রস্থ প্রকটতা বলে। অগ্র মুকুল কেটে বাদ দিলে কাক্ষিক মুকুলের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।

7. পিটুইটারিকে ‘ মাস্টার গ্ল্যান্ড ’ বলা হয় কেন?

উত্তর: পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এমন অনেক হরমোন নিঃসৃত হয় যা অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

এই কারণে পিটুইটারি গ্রন্থিকে ‘ মাস্টার গ্ল্যান্ড ’ বলা হয়।

8. অগ্নাশয় এর অন্তঃক্ষরা কোষগুলি কি কি? সেখান থেকে কি কি হরমোন নিঃসৃত হয়?

উত্তর: অগ্নাশয় এর অন্তঃক্ষরা কোষগুলি হল বিটা কোশ ,আলফা কোশ ,ডেল্টা কোশ এবং পিপি কোশ ।

বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন, গামা কোষ থেকে গ্লুকাগন ,ডেল্টা কোষ থেকে সোমাটোস্ট্যানিন ,পিপি কোষ থেকে প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড ক্ষরিত হয়।

9. জিব্বেরেলিন কিভাবে মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে?

উত্তর: অনুকূল পরিবেশে জলের উপস্থিতিতে বীজ মধ্যস্থ সুপ্ত ভ্রুন থেকে জিব্বেরেলিক অ্যাসিড নির্গত হয়ে বিভিন্ন আদ্রবিশ্লেষক উৎসেচককে (যথা –আলফা অ্যামাইলেজ ,প্রোটিয়েজ, ডিগ্লুকোনেজ) সক্রিয় করে।সক্রিয় আদ্রবিশ্লেষক উৎসেচক বীজের শস্যকে বিশ্লিষ্ট করে দ্রবনীয় শর্করা ,অ্যামাইনো অ্যাসিড ,নিউক্লিওসাইড ইত্যাদিতে রূপান্তরিত করে যা ভ্রুণ দ্বারা শোষিত হয়ে ভ্রুনের বৃদ্ধি ঘটে এবং বীজ অঙ্কুরিত হয়।

10. অ্যাড্রিনালিনকে সংকটকালীন হরমোন বলে কেন?

উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় অ্যাড্রিনালিনের ভূমিকা খুবই নগণ্য। কিন্তু রাগ ,ভয় ,আনন্দ ,দুশ্চিন্তা প্রভৃতি উত্তেজনা কালে এই হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোনের ক্রিয়াশীলতা দীর্ঘস্থায়ী নয় ,জরুরি কালীন অবস্থায় এই হরমোন দ্রুত ক্রিয়াশীল হয় আবার জরুরি অবস্থা দূর হলে এর ক্রিয়াশীলতাও হ্রাস পায়, এই কারণে অ্যাড্রিনালকে সংকটকালীন হরমোন বলে।

11. টেস্টোস্টেরনের দুটি কাজ উল্লেখ কর।

উত্তর: 1) পুরুষ দেহে প্রধান যৌনাঙ্গের এবং আনুষঙ্গিক যৌনাঙ্গের বৃদ্ধি ঘটানো।

          2) পুরুষদের গৌণ যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে। ফলে পুরুষদের পেশি বহুল দেখায় গলার স্বর মোটা হয় এবং গোঁফ, দাড়ি গজায়।

12. মানব দেহের জনন গ্রন্থি থেকে হরমোন ক্ষরণে GTH এর দুটি লেখ।

উত্তর: এই হরমোন চার প্রকারের যথা -FSH,LH,ICSH,LTH

  1. FSH এর কাজ হল এই হরমোন স্ত্রী দেহে ডিম্বাশয় গ্রাফিয়ান ফলিকল বা ডিম্বথলির আয়তন ও সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং তাকে উদ্দীপিত করে ইস্ট্রোজেন হরমোন ক্ষরনে সহায়তা করে।
  2. LH এর কাজ হল স্ত্রী দেহে করপাস লিউটিয়াম বা পীতগ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটানো এবং তাকে উদ্দীপিত করে প্রজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণে সহায়তা করা।

13. স্নায়ু সন্নিধি কাকে বলে?

উত্তর: দুটি নিউরনের সংযোগস্থলে যেখানে একটি নিউরনের শেষ এবং অপর নিউরনের শুরু তাকে স্নায়ুসন্নিধি বা সাইন্যাপস বলে ।

14. লঘু মস্তিষ্কের কাজ কি?

উত্তর: 1) দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করা।

         2) প্রত্যাবর্তী স্নায়ু কেন্দ্র রূপে কাজ করা।

15. চোখের কোন কোন দৃষ্টি জনিত ত্রুটি দূর করার জন্য অবতল ও উত্তল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়?

উত্তর: চোখের হ্রস্বদৃষ্টি ত্রুটি বা মায়োপিয়া রোগ দূর করার জন্য অবতল লেন্স যুক্ত চশমা এবং চোখের দীর্ঘদৃষ্টি ত্রুটি বা হাইপারোপিয়া দূর করার জন্য উত্তল লেন্স যুক্ত চশমা ব্যবহার করা হয়।

16. স্নায়ু কোষের অংশগুলি কি কি?

উত্তর: স্নায়ু কোষ প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত ,সেগুলি হল-

        1) কোষদেহ বা সেল বডি

        2) প্রবর্ধক 

                      প্রবর্ধক আবার দুই প্রকারের হয় ,যথা-

                       1. ক্ষুদ্র প্রবর্ধক বা ডেনড্রন

                       2. দীর্ঘ প্রবর্ধক বা অ্যাক্সন 

 17. মায়ালিন আবরণী কাজ লেখ।

উত্তর:1) এটি তড়িৎ অপরিবাহীর রূপে কাজ করে ফলে মায়োলিন আবরণবিহীন অংশের মধ্য দিয়ে  স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত পরিবহন ঘটে।

        2) এটি আবরক হিসেবে স্নায়ুতন্ত্রকে রক্ষা করে ও পুষ্টি সরবরাহ করে।

18. থাইরয়েড বামনত্ব ও পিটুইটারি বামনত্বের পার্থক্য কি?

উত্তর: থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নির্গত থাইরক্সিন হরমোনের কম ক্ষরণে মানব দেহের বৃদ্ধি হ্রাস পায় একে থাইরয়েড বামনত্ব বলে। অপরদিকে অগ্র পিটুইটারি থেকে নির্গত গ্রোথ হরমোন বা STH হরমোনের কম ক্ষরণে মানব দেহের যে সামগ্রিক বৃদ্ধি হ্রাস পায় তাকে পিটুইটারি বামনত্ব বলে।

19. ভয় পেলে বুক ধরফর করা ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যে হরমোনটি জড়িত তার ক্ষরন স্থান ও একটি কাজ লেখ।

উত্তর: ভয় পেলে বুক ধরফর করা ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে অ্যাড্রিনালিন হরমোন জড়িত। এই হরমোন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়। এর একটি কাজ হল এটি হার্দ উৎপাদ বৃদ্ধি করে এবং রক্তবাহকে সংকোচিত করে রক্তচাপকে বাড়িয়ে দেয়।

20. গমনের দুটি উদ্দেশ্য লেখ।

উত্তর: 1) প্রাণীরা খাদ্য বিষয় স্বনির্ভর নয় তাই খাদ্য খুঁজতে ও তা সংগ্রহ করতে প্রাণীকে গমন করতে হয়।

         2) শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অর্থাৎ আত্মরক্ষার জন্য প্রাণীরা স্থানান্তরে গমন করে।

21. প্রতিটি সেরিব্রাল হেমিসফিয়ারে কটি খন্ড ও কি কি?

উত্তর: প্রতিটি সেরিব্রাল হেমিসফিয়ার পাঁচটি খন্ডতে বিভক্ত যথা -ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, টেম্পোরাল, অক্সিপিটাল এবং ইনসুলা। 

22. সংবেদনশীলতা কি?

উত্তর: উদ্দীপকে প্রভাবে জীবদের সাড়া প্রদানের ক্ষমতাকে সংবেদনশীলতা বলে। যেমন -মাটিতে বীজ রোপণ করে অঙ্কুরোদগম ঘটালে দেখা যাবে মূল মাটির নিচে এবং কাণ্ড মাটির উপর বৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে এক্ষেত্রে জল, সূর্যালোক এবং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে সংবেদনশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।

23. হরমোন কাকে বলে?

উত্তর: যে জৈব রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ কোষ সমষ্টি বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকোষ থেকে নিঃসৃত হয়ে দেহ তরলের মাধ্যমে বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে কোষের বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ,তাকে হরমোন বলে।

24. নিউরোগ্লিয়ার কাজগুলি লেখ।

উত্তর: 1) অলিগো ডেনড্রোগ্লিয়া ও সোয়ান কোষ মায়োলিন আবরণী তৈরি করে।

         2) অ্যাস্ট্রোসাইট কোষ স্নায়ু কলার ক্ষতস্থান নিরাময় সাহায্য করে, ও নিউরনকে পুষ্টি সরবরাহ করে।

25. গুরু মস্তিষ্কের দুটি কাজ লেখ।

উত্তর: 1) স্পর্শ, চাপ, তাপ, ব্যথা প্রভৃতি অনুভূতি গ্রহণে সাহায্য করে।

         2) দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ প্রভৃতি গ্রহণে সাহায্য করে।

26. স্নায়ু গ্রন্থি কাকে বলে?

উত্তর: কেন্দ্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে কয়েকটি স্নায়ু কোষের কোষদেহগুলি যোগ কলার আবরণী পরিবেষ্টিত হয়ে যে ঈষৎ স্ফীত গ্রন্থি সৃষ্টি করে, তাকে স্নায়ু গ্রন্থি বলে।

27. প্রতিবর্ত ক্রিয়া কাকে বলে ?উদাহরণ দাও।

উত্তর: প্রাণীদেহে নির্দিষ্ট উদ্দীপনার প্রভাবে যে স্বতঃস্ফূর্ত তাৎক্ষণিক ও অনৈচ্ছিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে। যেমন -গরম বস্তুতে হাত দিলে তৎক্ষণাৎ হাতটি গরম বস্তু থেকে সরে যায়।

28. বামনত্ব ও ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগের কারণ লেখ।

উত্তর: অগ্র পিটুইটারি থেকে নির্গত গ্রোথ হরমোন বা STH এর কম ক্ষরণের ফলে বামনত্ব রোগ হয়।

পশ্চাৎ পিটুইটারি থেকে নির্গত ভেসোপ্রেসিন বা ADH এর কম ক্ষরণের ফলে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ হয়।

29. উপযোজন কাকে বলে?

উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে অক্ষি গোলকের পেশি ও লেন্সের সাহায্যে যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তাকে উপযোজন বলে।

30. সুষুম্না কান্ডের দুটি কাজ লেখো।

উত্তর: 1) সুষুম্না কান্ডের ধূসর বস্তু প্রতিবর্ত ক্রিয়ার কেন্দ্র রূপে কাজ করে।

         2) সুষুম্না কান্ডের অ্যাসেন্ডিং ট্রাক্টের মাধ্যমে সংবেদী উদ্দীপনা প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে মস্তিষ্কে ও ডিসেন্ডিং ট্র্যাক্টের মাধ্যমে চেষ্টিয় ও নির্দেশনা কারক অংশে পৌঁছায়।

31. মানুষের গমনে ঐচ্ছিক পেশির ভূমিকা কি?

উত্তর: মানুষের দেহে হাত ,পা প্রভৃতি স্থানের কঙ্কাল এর সঙ্গে যুক্ত পেশিকে ঐচ্ছিক পেশি বলে। ঐচ্ছিক পেশির ক্রিয়াশীলতার ফলে সংশ্লিষ্ট অস্থি গুলির বিচলন ঘটে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে মানুষের গমন ঘটে।

32. সাইনোভিয়াল সন্ধির সচল থাকার দুটি শর্তের উল্লেখ কর।

উত্তর: সাইনোভিয়াল সন্ধির সচল থাকার দুটি শর্তে হল..

1) সাইনোভিয়াল তরল অস্থিসন্ধিকে পিচ্ছিল করে এবং জীবিত কোষগুলিকে সজীব রাখতে সাহায্য করে।2) সন্ধিস্থলে অস্থির মস্তকে হায়ালিন তরুনাস্থির আবরণ থাকায় অস্থিগুলির ঘর্ষণ কম হয়।

33. ‘চলন ছাড়া গমন সম্ভব নয়’- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: জীবের এক স্থানে আবদ্ধ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা উদ্দীপকের প্রভাবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনকে চলন বলে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে জীবদেহের সামগ্রিকভাবে স্থানান্তরকে গমন বলে। সুতরাং ,গমন কালে জীবের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালিত হয় অর্থাৎ চলনের সাহায্যে গমন সম্পন্ন হয়। এজন্য বলা হয় ‘চলন ছাড়া গমন সম্ভব নয়’।

34. পেশি ক্লান্তি বলতে কী বোঝো।

উত্তর: বেশি বিশ্রাম কালে অস্থিপেসিতে শক্তির অতিরিক্ত চাহিদা পুরাণের জন্য গ্লুকোজের অবাধ জারণ ঘটে, ফলে ল্যাকটিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয় এবং এর প্রভাবে পেশি কোষের সংকোচন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় পেশি অবসাদগ্রস্ত হয়, একে পেশি ক্লান্তি বলে। 

35. মাছের দেহাকৃতি মাছের গমনে কিভাবে ভূমিকা পালন করে?

উত্তর: মাছের দেহ মাকু আকৃতির এবং দুপাশ থেকে চ্যাপটা। এই প্রকার দেহাকৃতি মাছকে সামনের দিকে জলের বাধা কেটে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং জলের গভীরে চাপের হাত থেকে রক্ষা করে। 

36. দূরবিন্দু ও নিকট বিন্দু কি?

উত্তর: একজন সুস্থ ব্যক্তি চোখের উপযোজন না ঘটিয়ে সর্বাধিক যে দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় তাকে দূরবিন্দু বলে। মানুষের ক্ষেত্রে দূরবিন্দু 6 মিটারের বেশি।

                                                                                একজন সুস্থ ব্যক্তি চোখের উপযোজন না ঘটিয়ে সর্বনিম্ন যে দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায় তাকে নিকট বিন্দু বলে। মানুষের ক্ষেত্রে নিকট বিন্দু হল 25 cm।

37. একনেত্র ও দ্বিনেত্র দৃষ্টি কাকে বলে?

যে দৃষ্টি বা দর্শনে দুটি ভিন্ন চোখের সাহায্যে একইসঙ্গে দুটি ভিন্ন বস্তুকে পৃথকভাবে দেখা যায় তাকে একনেত্র দৃষ্টি বলে। যেমন-ব্যাং, গরু ,ঘোড়া প্রভৃতি প্রাণীর দৃষ্টি। 

উত্তর: যে দৃষ্টি বা দর্শন এর মাধ্যমে একইসঙ্গে দুটি চোখ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাকে দ্বিনেত্র দৃষ্টি বলে। যেমন-মানুষ, পেঁচা প্রভৃতি প্রাণীর দৃষ্টি। 

38. প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজন এর গুরুত্ব লেখ। 

উত্তর: 1) গাড়ি চালানোর সময় পথচারী ও অন্যান্য গাড়ির অবস্থান নির্ণয় দ্বারা দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। 

2) রাস্তায় চলার সময় ট্রাফিক সিগন্যাল ,পথনির্দেশ প্রভৃতি বুঝতে উপযোজন সাহায্য করে। 

3) বিভিন্ন খেলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দক্ষতা অর্জনে উপযোজন সাহায্য করে। 

39. ফোভিয়া সেন্ট্রালিস কি? এর কাজ লেখ। 

উত্তর: মানব চক্ষুর তারারন্ধ্রের ঠিক বিপরীত দিকে রেটিনা নামক স্তরে যে ছোট অবতল খাঁজ উপস্থিত থাকে তাকে ফোভিয়া সেন্ট্রালিস বলে। এই স্থানে লক্ষ্যবস্তুর সবচেয়ে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। 

40. লেন্স কি? এর কাজ লেখ। 

উত্তর: স্বচ্ছ , দ্বিউত্তল, স্থিতিস্থাপক, এপিথেলিয়াম কোষ দ্বারা গঠিত চাক্তির মত যে অংশটি চোখের সিলিয়ারী বডি সঙ্গে যুক্ত থাকে তাকে লেন্স বলে। লেন্স এর কাজ হল লেন্স প্রতিসারক মাধ্যম রূপে কাজ করে। এছাড়াও অ্যাকুয়াস হিউমার ও ভিট্রিয়াস হিউমারকে পৃথক রাখে। 

41. থ্যালামাসকে গুরু মস্তিষ্কের প্রবেশদ্বার বলে কেন?

উত্তর: ঘ্রাণ সংক্রান্ত স্নায়ুস্পন্দন ছাড়া অন্যান্য সমস্ত সংজ্ঞাবহ বা সেনসরি স্নায়ুস্পন্দন প্রথমে থ্যালামাসে প্রেরিত হয়। পরে থ্যালমাস এই সমস্ত স্নায়ু স্পন্দনকে গুরু মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট অংশে রিলে করে দেয়। সংজ্ঞাবহ স্নায়ুস্পন্দন থ্যালামাসের মধ্য দিয়ে গুরু মস্তিষ্কে প্রবেশ করে বলে ,একে গুরু মস্তিষ্কেরে প্রবেশদ্বার বলা হয়। 

42. মেনিনজেসের কাজ লেখ। 

উত্তর: মেনিনজেসের কাজ 1) মেনিনজেস মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। 

2) মেনিনজেসের পায়া ম্যাটার স্তরটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করে। 

43. অন্তরবাহী স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য লেখ। 

উত্তর: অন্তরবাহী স্নায়ুর বৈশিষ্ট্য হল 1) সংজ্ঞাবহ বা অন্তরবাহী নিউরন দ্বারা গঠিত।                                               2) গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র প্রেরণ করে। 

44. স্নায়ুতন্ত্র কে ভৌত সমন্বয়ক বলা হয় কেন?

উত্তর: স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্গত স্নায়ু দ্বারা প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও তন্ত্রের কাজের মধ্যে সমন্বয় ঘটে চলে ,তাই স্নায়ুতন্ত্র কে ভৌত সমন্বয়ক বলে। 

45. হরমোন ও স্নায়ুর মধ্যে একটি সাদৃশ্য ও একটি বৈসাদৃশ্য লেখ। 

উত্তর:  সাদৃশ্য:-উভয় সমন্বয়ক রূপে কাজ করে। 

          বৈসাদৃশ্য:-হরমোন রাসায়নিক সমন্বয়করূপে কাজ করে এবং এর ক্রিয়া মন্থর কিন্তু সুদূরপ্রসারী।    অন্যদিকে ,স্নায়ু ভৌত সমন্বয়করূপে কাজ করে এবং এর ক্রিয়া দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক

দীর্ঘ উত্তর ধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

1. উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা লেখ। 

উত্তর: উদ্ভিদের ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে অক্সিন হরমোনের ভূমিকা হল..

অক্সিন উদ্ভিদের ফটোট্রপিক এবং জিও ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। কাণ্ডে অক্সিন আলোর উৎসের বিপরীত দিকে বেশি মাত্রায় সঞ্চিত হয়ে ওই অঞ্চলের কোষগুলির দ্রুত বিভাজন ঘটায়, ফলে উদ্ভিদের কাণ্ড আলোর উৎসের দিকে বেঁকে যায়।

এইভাবে অক্সিন ফটোট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে। অধিক ঘনত্বের অক্সিনে বিটপ অনুভূতিশীল এবং কম ঘনত্বের অক্সিনে মূল অনুভূতিশীল। কান্ডের অগ্রভাগে অধিক ঘনত্বের অক্সিন এবং মূলের অগ্রভাগে কম ঘনত্বের অক্সিন সঞ্চিত হয়ে যথাক্রমে কান্ড ও মূলের অগ্রভাগে দ্রুত কোষ বিভাজন ঘটায়।

ফলে বিটপ অভিকর্ষের বিপরীতে এবং মূল অভিকর্ষের অনুকূলে অগ্রসর হয়। অক্সিন এইভাবে উদ্ভিদের জিও ট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে। 

2. থাইরক্সিন হরমোনটির ক্ষরণের ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি লেখ। 

উত্তর: হাইপোথ্যালামাস থেকে নিঃসৃত TRH বা বা থাইরোট্রপিন রিলিজিং হরমোন অগ্র থেকে TSH বা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন এর নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে। TSH আবার থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোনটির নিঃসরণের হারকে প্রভাবিত করতে পারে।

(a) পজিটিভ ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ:-রক্তে থাইরক্সিন হরমোনটির মাত্রা হ্রাস  পেলে হাইপোথ্যালামাস উদ্দীপিত হয় এবং TRH ক্ষরণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে অগ্র পিটুইটারি উদ্দীপিত হয় এবং অধিক মাত্রায় TSH ক্ষরিত হয়। এই হরমোনটি থাইরয়েড গ্রন্থিটিকে উদ্দীপিত করে থাইরক্সিন হরমোন এর ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।

(b) নেগেটিভ নিয়ন্ত্রণ:-রক্তে থাইরক্সিন হরমোনটির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে হাইপোথেলামাস অবদমিত হয় ফলে TRH ক্ষরণের হার হ্রাস পায়। এর ফলে অগ্র পিটুইটারি থেকে TSH নিঃসরণের হার কমে যায়। থাইরয়েড গ্রন্থটি উদ্দীপিত হয় না বলে থাইরক্সিন হরমোনের হরমোন হ্রাস পায়। 

3. প্রতিবর্ত পথ ও প্রতিবর্ত পথের উপাদানগুলি সম্বন্ধে লেখ। 

উত্তর: সংজ্ঞা:-যে পথে প্রতিবর্ত ক্রিয়ার স্নায়ু স্পন্দন আবর্তিত হয় ,তাকে প্রতিবর্ত পথ বলে। 

প্রতিবর্ত পথের উপাদানগুলি হল :-

(1) গ্রাহক:-এর সাহায্যে পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গৃহীত হয়। 

(2) সেন্সরি নিউরন:-এর মাধ্যমে স্নায়ু স্পন্দন গ্রাহক থেকে স্নায়ু কেন্দ্রে পরিবাহিত হয়। 

(3) স্নায়ু কেন্দ্র:-সুষুম্নাকাণ্ডের ধূসর পদার্থে অবস্থিত। এখানে সংজ্ঞাবহ উদ্দীপনা আজ্ঞাবহ উদ্দীপনায় রূপান্তরিত হয়। 

(4) মোটর নিউরন:-এই নিউরন স্নায় উদ্দীপণাকে কেন্দ্র থেকে কারকে বহন করে। 

(5) কারক:– দেহস্থ পেশি ও গ্রন্থি হল কারক।

4. ইনসুলিন হরমোনের কাজ গুলি লেখ।

উত্তর: ইনসুলিনের কাজ গুলি হল-

কার্বোহাইড্রেট বিপাক নিয়ন্ত্রণ:-ইনসুলিন কোষ পর্দার ভেদ্যতা বৃদ্ধি করে পেশি কোষে গ্লুকোজ বিশোষণের হাড় বাড়ায় এবং গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজকে পাইরুভিক এসিডে পরিণত করে।

এছাড়া যকৃত ও পেশি কোষ এ গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ থেকে গ্লাইকোজেন সংশ্লেষ বৃদ্ধি করে। এবং গ্লাইকোজেন থেকে গ্লুকোজ প্রস্তুতি বন্ধ করে। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পায়। 

প্রোটিন বিপাক নিয়ন্ত্রণ:-যকৃতে নিওগ্লুকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ইনসুলিন এই প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকরূপে কাজ করে ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে পারে না। 

ফ্যাট বিপাক নিয়ন্ত্রণ:-ইনসুলিন মিথ কলার গ্লুকোজ থেকে ফ্যাট প্রস্তুতিতে সাহায্য করে। দেহে ফ্যাটের জারণ বৃদ্ধি পেলে রক্তে কিটন বডিস নামক রেচন পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় যা বৃক্কের পক্ষে ক্ষতিকর। ইনসুলিন আবার ফ্যাটের জারন ক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে কিটোন বডি প্রস্তুতি বন্ধ রাখে।

ইনসুলিন কিটোন বডি প্রস্তুতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য একে অ্যান্টি কিটোজেনিক হরমোন বলে। 

5. গমনের চালিকা শক্তিগুলি লেখ। 

উত্তর: গমনের চালিকা শক্তিগুলি হল..

(1) প্রাণীরা খাদ্য অন্বেষণের জন্য স্থানান্তরে গমন করে। 

(2) কোন খাদক প্রাণী কর্তৃক আক্রান্ত হলে শিকার প্রাণীটি নিজেকে রক্ষার জন্য উক্ত স্থান থেকে পলায়ন করে। অর্থাৎ প্রাণীদের আত্মরক্ষার জন্য গমন করতে হয়। 

(3) একটি প্রাণী অনেকগুলি শাবকের জন্ম দিলে শাবকগুলি বড় হয়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। 

(4) প্রাণীরা তাদের পছন্দমত ও নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে স্থানান্তরে গমন করে। 

(5) প্রজনন অর্থাৎ বংশবিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রাণীদের গমনের প্রয়োজন হয়। উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনী খোঁজা, পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণীদের যৌন মিলনের জন্য পরস্পর কাছে আসার জন্য গমনের প্রয়োজন হয়। 

6. কি ঘটনা ঘটবে-(i) খাদ্যকণা শ্বাসনালীতে ঢুকে পড়ে, (ii) নাকের মধ্যে বিজাতীয় বস্তু প্রবেশ করে?

উত্তর: (i) আমাদের শ্বাসনালীতে খাদ্য কণা প্রবেশ করলে কাশি প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সৃষ্টি হয় যা শ্বসন পথকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। কাশি হওয়ার ফলে যে খাদ্য কণা শ্বাসনালীতে প্রবেশ করেছিল তা বাইরে বেরিয়ে আসে। 

(ii) নাকের মধ্যে কোন বিজাতীয় বস্তুর উপস্থিতিতে আংশিক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুসফুস থেকে বায়ু নাক ও মুখের ভিতর দিয়ে সজোরে নির্গত হওয়া হল হাঁচি।

নাসা বিবরের মিউকাস স্তরে অস্বস্তিকর বহিরাগত বস্তু হিস্টামিন ক্ষরনে উদ্দীপনা দেয় যা নাকের স্নায়ু কোষকে উদ্দীপিত করে ও সেই উদ্দীপনা ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক থেকে চেষ্টীয় নির্দেশনা গলবিল ও শ্বাসনালির পেশিতে পৌঁছালে তাদের সংকোচন ঘটে এবং ফলস্বরূপ হাঁচি হয় ও নাক থেকে বহিরাগত পদার্থ নির্গত হয়ে যায়।

7. উপযোজন কাকে বলে? প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজন এর ভূমিকা লেখ। 

উত্তর: স্থান পরিবর্তন না করে অক্ষিগোলকের পেশি ও লেন্সের সাহায্যে যে পদ্ধতিতে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় তাকে উপযোজন বলে। প্রাত্যহিক জীবনে উপযোজন এর ভূমিকা হল-

(i) রাস্তা পারাপারের সময় ট্রাফিক সিগন্যাল বা পথনির্দেশ সঠিকভাবে দেখার জন্য সঠিক সময় লেন্সের উপযোজন না ঘটলে দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না। 

(ii) পথচারীরা রাস্তা পারাপারের সময় লেন্সের উপযোজন সঠিকভাবে না হলে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।  

8. কৃত্রিম হরমোনের ব্যবহারিক প্রয়োগ গুলি লেখ। 

উত্তর: কৃত্রিম হরমোনের ব্যবহারিক প্রয়োগ গুলি হল..

(i) শাখা কলম থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি :-গোলাপ, আম, পেয়ারা, লেবু প্রভৃতি উদ্ভিদের শাখা কলমে কৃত্রিম অক্সিন হরমোন (IBA,NAA) প্রয়োগ করে তাড়াতাড়ি মূল উৎপন্ন করানো যায়। শাখা কলমে মূল জন্মানোর পর শাখাটিকে টবের মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। এরকম গাছের ফল মাতৃ উদ্ভিদের মতো সমগুণ সম্পন্ন হয়। 

(ii) অপরিণত ফলের মোচন রোধ :-কৃত্রিম অক্সিন (2,4D) স্প্রে করে গাছের মুকুল ,কচি ফল ইত্যাদির ঝরে পড়া রোধ করা যায়। আম গাছের মুকুল আসার পর কৃত্তিম অক্সিন স্প্রে করলে অপরিণত ফলের মোচন রোধ করা যায়। 

(iii) আগাছানাশক হিসেবে কৃত্রিম অক্সিন এর ভূমিকা :- ধান, গম, যব প্রভৃতি শস্যক্ষেত্রে কৃত্রিম অক্সিন (2,4D) ব্যবহার করে আগাছা নির্মূল করা হয়। এতে ফসলের উপর কোন স্থায়ী প্রভাব পড়ে না।

(iv) বীজবিহীন ফল সৃষ্টি :-কৃত্রিম অক্সিন (NAA,IBA) প্রয়োগ করে পরাগ যোগ ও নিষেক ছাড়াই উদ্ভিদের বীজবিহীন ফল সৃষ্টি করা হয়। 

9. নিউরন ও স্নায়ুর মধ্যে সম্পর্ক কি?

উত্তর: নিউরন ও স্নায়ুর মধ্যে সম্পর্ক হল

  • (1) স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক হল নিউরন। এই নিউরনের একাধিক অ্যাক্সন মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে।
  • (2) স্নায়ু সেনসরী বা মোটর নিউরন দ্বারা গঠিত হয়।
  • (3)স্নায়ুকলার উদ্দীপনা পরিবহনকারী অংশ হল স্নায়ু কোষ বা নিউরন ,অন্যদিকে নিউরনের উদ্দীপনা পরিবহনকারী অংশ হলো স্নায়ু। 
  • সুতরাং, গঠন ও কাজের ভিত্তিতে বলা যায়, নিউরন হল উদ্দীপনা পরিবহনকারী একপ্রকার কোষ এবং স্নায়ু হল ওই কোষের উদ্দীপনা পরিবহনকারী অংশ। 

10. মাছের গমনে মায়োটম পেশির ভূমিকা আলোচনা কর। 

উত্তর: মাছের গমনে মায়োটম পেশির ভূমিকা হল ..

  • (1) মাছের দেহে মেরুদন্ডের দুপাশে ‘V’ আকৃতির খন্ডিত মায়োটম পেশী সমস্ত দেহকান্ড জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
  • (2) দেহের একপাশের পেশি গুলির সংকোচন ঘটলে বিপরীত দিকের পেশিগুলি প্রসারিত হয়। ফলে, দেহে একপ্রকার তরঙ্গের আকারে আন্দোলন তৈরি হয়। 
  • (3) ক্রমান্বয়িক পেসি সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে মাছের দেহ এঁকেবেঁকে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। 

উত্তর: স্নায়ু স্পন্দন  প্রি সাইন্যাপটিক পর্দাতে পৌঁছালে প্রি সাইন্যাপটিক নবের মধ্যে প্রবেশ করে। এর প্রভাবে প্রি সাইন্যাপটিক ভেসিকল  প্রি সাইন্যাপটিক পর্দার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক্সোসাইটোসিস পদ্ধতিতে নিউরোট্রান্সমিটার কে সাইন্যাপটিক ক্লেফট অঞ্চলে ক্ষরণ করে। তারপর নিউরোট্রান্সমিটার পোস্ট সাইন্যাপটিক পর্দায় অবস্থিত গ্রাহকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে উদ্দীপিত করে ।

12. পাখির গমনে উড্ডয়ন পেশির ভূমিকা লেখ ।

উত্তর: পাখির গমনে উড্ডয়ন পেশির ভূমিকা..

  • (1) পাখির গমনে অর্থাৎ উড্ডয়নের সঙ্গে তিনপ্রকার পেশি জড়িত।

সেগুলি হল- পেক্টোরালিস মেজর,পেক্টোরালিস মাইনর , কোরাকো ব্রাকিয়ালিস।

  • (2) পেক্টোরালিস মেজর নামক বক্ষপেশির সংকোচনের ফলে পাখির জনা নীচের দিকে নামতে থাকে ।

ফলে বাতাসে চাপ পড়ে এবং বাতাস বিপরীত দিকে ঊর্ধ্বাঘাত সৃষ্টি করে ও পাখি উপরের দিকে উড়ে যায় ।

উপসংহার

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর   

” মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান –  জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) – প্রশ্ন উত্তর  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (West Bengal Class Ten X  / WB Class 10  / WBBSE / Class 10  Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WB Class 10 Exam / Class 10 Class 10th / WB Class 10 / Class 10 Pariksha ) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর pdf এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে Bigyansiksha .com এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান এর এই প্রশ্ন গুলো এক জায়গায় করা হল ।

READ MORE

আমাদের পরিবেশ |পঞ্চম শ্রেণী দ্বিতীয় অধ্যায়: ভৌত পরিবেশ (মাটি,জল,জীববৈচিত্র) প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 5 Science

READ MORE

আমাদের পরিবেশ |পঞ্চম শ্রেণী প্রথম অধ্যায়: মানবদেহ প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 5 Science

READ MORE

সীতারাম রাজু |Who was Alluri Sitaram Raju Class 10

Leave a Comment