সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ ও প্রশ্নোত্তর — MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও নির্ণয়মূলক প্রশ্ন। কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, দ্বিগু। এই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর গুলো আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ। তাই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা 2027 খুব ভাল ভাবে প্র্যাক্টিস করতে হবে।
সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা:WBBSE class 10 Bengali grammar

বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া হল সমাস। অর্থসম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদকে একত্রে সংক্ষিপ্ত করে একটি নতুন পদে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় সমাস। ‘সমাস’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি — সম্ + √অস্ + অ, যার সাধারণ অর্থ সংক্ষেপ করা। এই অধ্যায় এর সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা এই সব কিছু আলোচনা করা হল।
সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য: সমাস প্রশ্নোত্তর
সন্ধি ও সমাস উভয়ই শব্দ গঠনের উপায়, কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া।
সন্ধিতে একটি শব্দের শেষ ধ্বনি ও পরের শব্দের প্রথম ধ্বনির মিলন হয়, এটি ধ্বনিগত প্রক্রিয়া। সমাসে পদের সাথে পদের মিলন হয়, এটি অর্থগত প্রক্রিয়া।
সন্ধিতে প্রতিটি পদের অর্থ অক্ষুণ্ণ থাকে; কিন্তু সমাসে কখনো কখনো নতুন অর্থ সৃষ্টি হয় (বিশেষত বহুব্রীহি সমাসে)। সন্ধিতে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, সমাসে সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
সন্ধিতে পদক্রম অক্ষুণ্ণ থাকে; সমাসে পদের ক্রম বদলাতে পারে।
সন্ধিতে বাইরের অন্য শব্দের আগমন ঘটে না; সমাসে প্রয়োজনে অন্য শব্দ আসতে পারে।
সন্ধিতে সৃষ্ট পদ তৎসম হয়; সমাসের ক্ষেত্রে সৃষ্ট পদ অনেক সময় অর্থতৎসমও হয়।
মূল পরিভাষা: class 10 Bengali grammar samas question answer
সমস্যামান পদ: যে পদগুলোকে একত্রিত করে সমাস তৈরি হয়, সেই প্রতিটি পদকে সমস্যামান পদ বলে। যেমন — ‘রাজার পুত্র = রাজপুত্র’ এখানে ‘রাজার’ ও ‘পুত্র’ হল সমস্যামান পদ।
সমস্তপদ বা সমাসবদ্ধ পদ: সমস্যামান পদগুলো মিলিত হয়ে যে নতুন পদ তৈরি হয়, তাকে সমস্তপদ বলে। উপরের উদাহরণে ‘রাজপুত্র’ হল সমস্তপদ।
ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য: সমস্তপদের অর্থ বিশ্লেষণ করার জন্য যে বাক্য বা বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বলে। যেমন — ‘রাজপুত্র’-এর ব্যাসবাক্য হল ‘রাজার পুত্র’।
পূর্বপদ: ব্যাসবাক্যে যে সমস্যামান পদটি প্রথমে থাকে তাকে পূর্বপদ বলে।
পরপদ বা উত্তরপদ: ব্যাসবাক্যে যে সমস্যামান পদটি পরে থাকে তাকে পরপদ বলে।
সমাসের প্রকারভেদ: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ সমাস
বাংলায় মূলত নয় প্রকার সমাস স্বীকার করা হয়।
১. কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য বা বিশেষণ অথবা উভয়ই বিশেষ্য হয়, এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে। কর্মধারয় সমাস পাঁচ ভাগে বিভক্ত — সাধারণ, মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক। উদাহরণ: নীলাকাশ, সিংহাসন, তুষারধবল, মুখচন্দ্র, শোকানল।
২. তৎপুরুষ সমাস: যে সমাসে পূর্বপদের কারক বিভক্তি বা অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। কারক-সম্পর্কের ভিত্তিতে এটি ছয় ভাগে এবং গঠন ও অর্থ অনুসারে আরও পাঁচ ভাগে বিভক্ত। উদাহরণ: ফুলতোলা (কর্ম), মনগড়া (করণ), পূজাগৃহ (নিমিত্ত), দুগ্ধজাত (অপাদান), রাতকানা (অধিকরণ), সভাপতি (সম্বন্ধ)।
৩. দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে উভয় সমস্যামান পদ সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত থাকে এবং উভয় পদের অর্থ সমানভাবে প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। উদাহরণ: ভাইবোন, দিনরাত, কথাবার্তা।
৪. দ্বিগু সমাস: যে সমাসে পূর্বপদে সংখ্যাবাচক বিশেষণ ও পরপদে বিশেষ্য থাকে, এবং সমাহার বা সমষ্টির অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। উদাহরণ: ত্রিভুবন, শতাব্দী, পঞ্চভূত।
৫. বহুব্রীহি সমাস: যে সমাসে উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য একটি অতিরিক্ত অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। উদাহরণ: বীণাপাণি (বীণা পাণিতে যার = সরস্বতী), নীলকণ্ঠ (নীল কণ্ঠ যার = শিব)।
৬. নিত্য সমাস: যে সমাসের প্রকৃতপক্ষে ব্যাসবাক্য হয় না, বা ব্যাসবাক্য গঠন করতে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। উদাহরণ: জন্মান্তর, দেশান্তর, কালান্তর।
৭. অব্যয়ীভাব সমাস: যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় থেকে এবং সমস্তপদে পূর্বপদের অব্যয়ের ভাব ও অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। উদাহরণ: উপকূল, প্রতিদিন, দুর্ভিক্ষ।
৮. অলোপ সমাস: সমাস হওয়ার পরেও সমস্তপদে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেলে তাকে অলোপ সমাস বলে। তিন ভাগে বিভক্ত — অলোপ দ্বন্দ্ব, অলোপ তৎপুরুষ, অলোপ বহুব্রীহি। উদাহরণ: মায়েঝিয়ে, তেলেভাজা, হাতেখড়ি।
৯. বাক্যাশ্রয়ী সমাস: বাক্য বা বাক্যাংশ যখন সমাসবদ্ধ পদরূপে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। উদাহরণ: যাচ্ছেতাই, ভজহরি, রাধেশ্যাম।
সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা: বহু বিকল্পীয় প্রশ্নাবলি (MCQ)
প্রতিটির পূর্ণমান — ১ | সঠিক উত্তরটি বেছে নাও। মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ সমাস

১. ‘সমাস’ শব্দটির সাধারণ অর্থ কী? (ক) মিলন (খ) সংক্ষেপ (গ) সম্বন্ধ (ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (খ) সংক্ষেপ
২. ‘সমাস’ শব্দটির সঠিক ব্যুৎপত্তি কোনটি? (ক) সম্ + √আস্ + অ (খ) সম্ + √অস্ + অ (গ) স + মাস (ঘ) সম্ + আস্ + স
উত্তর: (খ) সম্ + √অস্ + অ
৩. যে পদগুলো নিয়ে সমাস গঠিত হয়, তাদের কী বলে? (ক) সমস্তপদ (খ) সমস্যামান পদ (গ) পরপদ (ঘ) ব্যাসবাক্য
উত্তর: (খ) সমস্যামান পদ
৪. ‘রাজপুত্র’ শব্দে ‘পুত্র’ কোন পদ? (ক) পূর্বপদ (খ) সমস্তপদ (গ) পরপদ (ঘ) সমস্যামান পদ
উত্তর: (গ) পরপদ
৫. সমস্তপদের অর্থ বিশ্লেষণের বাক্যকে কী বলা হয়? (ক) পূর্বপদ (খ) উত্তরপদ (গ) ব্যাসবাক্য (ঘ) সমস্যামান পদ
উত্তর: (গ) ব্যাসবাক্য
৬. সমাসে কোন পদটি সাধারণত প্রাধান্য পায় না? (ক) পরপদ (খ) সমস্তপদ (গ) পূর্বপদ (ঘ) সমানভাবে উভয়ই
উত্তর: (গ) পূর্বপদ (তৎপুরুষ ও কর্মধারয়ে)
৭. কর্মধারয় সমাসে প্রধানত কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়? (ক) পূর্বপদের (খ) পরপদের (গ) উভয় পদের সমানভাবে (ঘ) তৃতীয় কোনো পদের
উত্তর: (খ) পরপদের
৮. ‘নীল যে আকাশ = নীলাকাশ’ — এটি কোন কর্মধারয়ের উদাহরণ? (ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয় (গ) সাধারণ কর্মধারয় (ঘ) উপমান কর্মধারয়
উত্তর: (গ) সাধারণ কর্মধারয়
৯. ‘সিংহাসন’ শব্দটি কোন কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ? (ক) সাধারণ কর্মধারয় (খ) উপমান কর্মধারয় (গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (ঘ) উপমিত কর্মধারয়
উত্তর: (গ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয় (সিংহ চিহ্নিত আসন)
১০. উপমান কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদটি কেমন হয়? (ক) উপমেয়বাচক (খ) উপমানবাচক (গ) বিশেষ্যপদ (ঘ) সাধারণধর্মবাচক
উত্তর: (খ) উপমানবাচক
১১. ‘তুষারধবল’ — এই সমাসবদ্ধ পদটি কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) উপমিত কর্মধারয় (খ) উপমান কর্মধারয় (গ) রূপক কর্মধারয় (ঘ) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়
উত্তর: (খ) উপমান কর্মধারয়
১২. ‘মুখচন্দ্র’ কোন কর্মধারয়ের দৃষ্টান্ত? (ক) উপমান কর্মধারয় (খ) রূপক কর্মধারয় (গ) উপমিত কর্মধারয় (ঘ) সাধারণ কর্মধারয়
উত্তর: (গ) উপমিত কর্মধারয় (মুখ চন্দ্রের ন্যায়)
১৩. ‘শোকানল’ শব্দে কোন সমাস রয়েছে? (ক) উপমান কর্মধারয় (খ) উপমিত কর্মধারয় (গ) রূপক কর্মধারয় (ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর: (গ) রূপক কর্মধারয় (শোক রূপ অনল)
১৪. রূপক কর্মধারয় সমাসে সাদৃশ্যবাচক শব্দ হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়? (ক) যেন (খ) ন্যায় (গ) রূপ (ঘ) মতো
উত্তর: (গ) রূপ
১৫. তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ থেকে কী লোপ পায়? (ক) ধ্বনি (খ) বিভক্তি বা অনুসর্গ (গ) পদটি সম্পূর্ণ লোপ পায় (ঘ) উত্তরপদ লোপ পায়
উত্তর: (খ) বিভক্তি বা অনুসর্গ
১৬. ‘ফুলকে তোলা = ফুলতোলা’ — এটি কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ? (ক) করণ তৎপুরুষ (খ) কর্ম তৎপুরুষ (গ) নিমিত্ত তৎপুরুষ (ঘ) অপাদান তৎপুরুষ
উত্তর: (খ) কর্ম তৎপুরুষ
১৭. করণ তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ থেকে সাধারণত কোন বিভক্তি বা অনুসর্গ লোপ পায়? (ক) ‘কে’ বা ‘রে’ (খ) ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’ বা ‘তে’ (গ) ‘থেকে’ বা ‘হইতে’ (ঘ) ‘র’ বা ‘এর’
উত্তর: (খ) ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’ বা ‘তে’
১৮. ‘সত্যের জন্য আগ্রহ = সত্যাগ্রহ’ — এটি কোন তৎপুরুষ? (ক) কর্ম তৎপুরুষ (খ) করণ তৎপুরুষ (গ) নিমিত্ত তৎপুরুষ (ঘ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ
উত্তর: (গ) নিমিত্ত তৎপুরুষ
১৯. ‘দুগ্ধ হইতে জাত = দুগ্ধজাত’ — এটি কোন তৎপুরুষ? (ক) কর্ম তৎপুরুষ (খ) করণ তৎপুরুষ (গ) অপাদান তৎপুরুষ (ঘ) অধিকরণ তৎপুরুষ
উত্তর: (গ) অপাদান তৎপুরুষ
২০. ‘গাছে পাকা = গাছপাকা’ — এটি কোন তৎপুরুষের উদাহরণ? (ক) করণ তৎপুরুষ (খ) নিমিত্ত তৎপুরুষ (গ) অধিকরণ তৎপুরুষ (ঘ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ
উত্তর: (গ) অধিকরণ তৎপুরুষ
২১. ‘সভার পতি = সভাপতি’ — এটি কোন তৎপুরুষ সমাস? (ক) কর্ম তৎপুরুষ (খ) নিমিত্ত তৎপুরুষ (গ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ (ঘ) অধিকরণ তৎপুরুষ
উত্তর: (গ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ
২২. উপপদ তৎপুরুষ সমাসে সমাসবদ্ধ পদের শেষে কেমন পদ থাকে? (ক) বিশেষ্যপদ (খ) বিশেষণপদ (গ) কৃদন্তপদ (ঘ) অব্যয়পদ
উত্তর: (গ) কৃদন্তপদ
২৩. ‘অনেক’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) কর্মধারয় (খ) অব্যয়ীভাব (গ) নঞ তৎপুরুষ (ঘ) নিত্যসমাস
উত্তর: (গ) নঞ তৎপুরুষ (নয় এক = অনেক)
২৪. ‘চিরসুখী’ পদটি কোন তৎপুরুষ সমাসের দৃষ্টান্ত? (ক) ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ (খ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ (গ) উপসর্গ তৎপুরুষ (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর: (খ) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ (চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী)
২৫. দ্বন্দ্ব সমাসে কোন পদের অর্থ প্রাধান্য পায়? (ক) পূর্বপদের (খ) পরপদের (গ) উভয়পদের সমানভাবে (ঘ) তৃতীয় কোনো পদের
উত্তর: (গ) উভয়পদের সমানভাবে
২৬. ‘বেচাকেনা’ শব্দটি কোন দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ? (ক) সমার্থক দ্বন্দ্ব (খ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব (গ) সহচর অর্থপ্রকাশক দ্বন্দ্ব (ঘ) একশেষ দ্বন্দ্ব
উত্তর: (খ) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব
২৭. ‘কথাবার্তা’ কোন দ্বন্দ্বের উদাহরণ? (ক) বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব (খ) সমার্থক দ্বন্দ্ব (গ) ইত্যাদি অর্থবোধক দ্বন্দ্ব (ঘ) একশেষ দ্বন্দ্ব
উত্তর: (খ) সমার্থক দ্বন্দ্ব
২৮. ‘লাঠালাঠি’ কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) সমার্থক দ্বন্দ্ব (খ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি (ঘ) সহার্থক বহুব্রীহি
উত্তর: (গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি
২৯. বহুব্রীহি সমাসে কার অর্থ প্রাধান্য পায়? (ক) পূর্বপদের (খ) পরপদের (গ) উভয় পদের (ঘ) কোনো পদেরই নয়, অন্য একটি অর্থের
উত্তর: (ঘ) কোনো পদেরই নয়, অন্য একটি অর্থের
৩০. ‘দশানন’ কোন বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ? (ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি (খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি (গ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি (ঘ) নঞর্থক বহুব্রীহি
উত্তর: (গ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি (দশ আনন যার = রাবণ)
৩১. ‘চাঁদমুখ’ কোন বহুব্রীহির উদাহরণ? (ক) সমানাধিকরণ বহুব্রীহি (খ) ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি (গ) ব্যতিহার বহুব্রীহি (ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি
উত্তর: (ঘ) মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি (চাঁদের মতো সুন্দর মুখ যার)
৩২. ‘শতাব্দী’ কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) সমাহার দ্বিগু (খ) তদ্ধিতার্থক দ্বিগু (গ) সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি (ঘ) নিত্যসমাস
উত্তর: (ক) সমাহার দ্বিগু (শত অব্দের সমাহার)
৩৩. ‘উপকূল’ কোন অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ? (ক) অভাব অর্থে (খ) বৌলা বা পৌনঃপুনিক অর্থে (গ) সামীপ্য অর্থে (ঘ) বৈপরীত্য অর্থে
উত্তর: (গ) সামীপ্য অর্থে (কূলের সমীপে)
৩৪. কোন সমাসের ব্যাসবাক্য প্রকৃতপক্ষে হয় না? (ক) কর্মধারয় সমাস (খ) নিত্য সমাস (গ) তৎপুরুষ সমাস (ঘ) দ্বন্দ্ব সমাস
উত্তর: (খ) নিত্য সমাস
৩৫. ‘মায়েঝিয়ে’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) অলোপ তৎপুরুষ (খ) অলোপ দ্বন্দ্ব (গ) অলোপ বহুব্রীহি (ঘ) নিত্যসমাস
উত্তর: (খ) অলোপ দ্বন্দ্ব (মাও ও ঝিয়ে)
৩৬. ‘গতনিদ্র’ পদটির ব্যাসবাক্য কোনটি? (ক) গত যে নিদ্রা (খ) নিদ্রা গত যার (গ) গত নিদ্রার (ঘ) গত ও নিদ্রা
উত্তর: (খ) নিদ্রা গত যার — (সমানাধিকরণ বহুব্রীহি)
৩৭. ‘যাচ্ছেতাই’ কোন সমাসের দৃষ্টান্ত? (ক) নিত্যসমাস (খ) অলোপ তৎপুরুষ (গ) বাক্যাশ্রয়ী সমাস (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস
উত্তর: (গ) বাক্যাশ্রয়ী সমাস
৩৮. ‘তেলেভাজা’ শব্দটি কোন অলোপ সমাসের উদাহরণ? (ক) অলোপ দ্বন্দ্ব (খ) অলোপ করণ তৎপুরুষ (গ) অলোপ বহুব্রীহি (ঘ) অলোপ অপাদান তৎপুরুষ
উত্তর: (খ) অলোপ করণ তৎপুরুষ (তেলে ভাজা)
৩৯. ‘হাতেখড়ি’ শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ? (ক) অলোপ দ্বন্দ্ব (খ) অলোপ তৎপুরুষ (গ) অলোপ বহুব্রীহি (ঘ) নিত্যসমাস
উত্তর: (গ) অলোপ বহুব্রীহি (হাতে খড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে)
৪০. অর্থপ্রাধান্যের বিচারে সমাস কত প্রকার? (ক) তিন প্রকার (খ) চার প্রকার (গ) পাঁচ প্রকার (ঘ) ছয় প্রকার
উত্তর: (খ) চার প্রকার (পূর্বপদ প্রধান, পরপদ প্রধান, উভয়পদ প্রধান, অন্যপদ প্রধান)
সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (VSA)
প্রতিটির পূর্ণমান — ১ | কম-বেশি ২০ শব্দে উত্তর দাও। Samas class 10 Bengali MCQ

১. সমাস কাকে বলে?
উঃ অর্থসম্বন্ধ বজায় রেখে পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত দুই বা তার বেশি পদকে একত্রে মিলিত করে একটি নতুন পদ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
২. ব্যাসবাক্য বলতে কী বোঝায়?
উঃ সমস্তপদের অর্থ বিশ্লেষণ করার জন্য যে বাক্য বা বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়, তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে।
৩. সমস্যামান পদ কাকে বলে?
উঃ যে পদগুলোকে একত্রিত করে সমাস তৈরি হয়, সেই প্রতিটি পদকে সমস্যামান পদ বলে। যেমন ‘রাজার’ ও ‘পুত্র’।
৪. পূর্বপদ ও পরপদ বলতে কী বোঝানো হয়?
উঃ ব্যাসবাক্যে যে সমস্যামান পদটি প্রথমে বসে তাকে পূর্বপদ এবং পরে যেটি বসে তাকে পরপদ বলে।
৫. কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য বা বিশেষণ এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, দুটি পদের মাধ্যমে একটি বস্তু বা ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
৬. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় কাকে বলে?
উঃ যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যে থাকা ব্যাখ্যামূলক এক বা একাধিক পদ সমস্তপদে লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বলে। যেমন — সিংহাসন।
৭. উপমান কর্মধারয় কাকে বলে?
উঃ যে কর্মধারয় সমাসে উপমানবাচক পূর্বপদের সাথে সাধারণধর্মবাচক পরপদের সমাস হয়, তাকে উপমান কর্মধারয় বলে। যেমন — তুষারধবল।
৮. উপমিত কর্মধারয় সমাস কাকে বলে?
উঃ যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয়বাচক পূর্বপদের সঙ্গে উপমানবাচক পরপদের সমাস হয় এবং সাধারণধর্ম থাকে না, তাকে উপমিত কর্মধারয় বলে। যেমন — মুখচন্দ্র।
৯. রূপক কর্মধারয় কাকে বলে?
উঃ যে কর্মধারয় সমাসে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়, তাকে রূপক কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন — শোকানল (শোক রূপ অনল)।
১০. তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে পূর্বপদের কারক বিভক্তি বা বিভক্তিস্থানীয় অনুসর্গ লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
১১. উপপদ তৎপুরুষ কাকে বলে?
উঃ যে তৎপুরুষ সমাসে উপপদের সঙ্গে কৃদন্তপদের সমাস হয় এবং সমস্তপদে উপপদের বিভক্তি লোপ পায়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ বলে। যেমন — জলচর।
১২. নঞ তৎপুরুষ কাকে বলে?
উঃ যে তৎপুরুষ সমাসে ‘না’, ‘নয়’, ‘নঞ’ ইত্যাদি না-বাচক অব্যয় বা উপসর্গের সঙ্গে বিশেষ্য বা বিশেষণের সমাস হয়, তাকে নঞ তৎপুরুষ বলে। যেমন — অচেনা, অজ্ঞান।
১৩. ব্যাপ্তি তৎপুরুষ কাকে বলে?
উঃ যে তৎপুরুষ সমাসে স্থান বা কালের ব্যাপ্তি বোঝায় এবং পূর্বপদের ব্যাপ্তিবাচক পদটি লোপ পায়, তাকে ব্যাপ্তি তৎপুরুষ বলে। যেমন — চিরসুখী, আজন্ম।
১৪. দ্বন্দ্ব সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে সমস্যামান পদগুলো সংযোজক অব্যয় দ্বারা যুক্ত এবং উভয় পদের অর্থ সমানভাবে প্রাধান্য পায়, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন — ভাইবোন, মা-বাবা।
১৫. ব্যতিহার বহুব্রীহি কাকে বলে?
উঃ যে বহুব্রীহি সমাসে একই শ্রেণির ক্রিয়ার পারস্পরিক বিনিময় বোঝাতে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং পূর্বপদে ‘আ’ ও উত্তরপদে ‘ই’ যুক্ত হয়, তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে। যেমন — হাতাহাতি।
১৬. বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে সমস্যামান পদগুলোর কোনোটিরই অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য একটি তৃতীয় অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন — নীলকণ্ঠ।
১৭. দ্বিগু সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়, এবং সমাহার অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। যেমন — ত্রিভুবন।
১৮. অব্যয়ীভাব সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে পূর্বপদে অব্যয় বা উপসর্গ থাকে এবং সমস্তপদে পূর্বপদের অব্যয়ের ভাব প্রাধান্য পায়, তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। যেমন — উপকূল, প্রতিদিন।
১৯. নিত্য সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসের প্রকৃতপক্ষে ব্যাসবাক্য হয় না বা হলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্য সমাস বলে। যেমন — জন্মান্তর, কালান্তর।
২০. অলোপ সমাস কাকে বলে?
উঃ সমাস হওয়ার পরেও সমস্তপদে পূর্বপদের বিভক্তিচিহ্ন অক্ষুণ্ণ থাকলে তাকে অলোপ বা অলুক সমাস বলে। যেমন — তেলেভাজা, হাতেখড়ি।
২১. বাক্যাশ্রয়ী সমাস কাকে বলে?
উঃ বাক্য বা বাক্যাংশ যখন সমাসবদ্ধ পদরূপে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলে। যেমন — যাচ্ছেতাই, হরিবোল।
২২. সন্ধি ও সমাসের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
উঃ সন্ধিতে ধ্বনির সাথে ধ্বনির মিলন হয়, সমাসে পদের সাথে পদের মিলন। সন্ধিতে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, কিন্তু সমাসে সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
২৩. উপপদ কী?
উঃ উপপদ তৎপুরুষ সমাসে কৃদন্তপদের পূর্ববর্তী যে পদটি থাকে, তাকে উপপদ বলে। উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাস হয়ে উপপদ তৎপুরুষ সমাস তৈরি হয়।
২৪. কুৎ প্রত্যয় কী?
উঃ ধাতুর সাথে যে প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন পদ গঠিত হয়, তাকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। কৃৎ প্রত্যয় যোগে গঠিত পদকে কৃদন্ত পদ বলে।
২৫. ‘বর্ণমূলক’ সমাস কাকে বলে?
উঃ যে সমাসে সমস্তপদে সমস্যামান পদের পূর্বপদ ও পরপদ কারওরই অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে সম্পূর্ণ নতুন কোনো অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে বর্ণমূলক বা বহুব্রীহি সমাস বলে।
সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি
প্রতিটির পূর্ণমান — ৩ | কম-বেশি ৬০ শব্দে উত্তর দাও। কর্মধারয় সমাস উদাহরণ সহ

১. কর্মধারয় সমাসের শ্রেণিবিভাগ সংক্ষেপে লেখো।
উঃ কর্মধারয় সমাস প্রধানত পাঁচ ভাগে বিভক্ত।
- সাধারণ কর্মধারয়: বিশেষণ ও বিশেষ্য পদের সমাস। যেমন — নীলাকাশ।
- মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: ব্যাসবাক্যের মধ্যবর্তী পদ লোপ পায়। যেমন — সিংহাসন।
- উপমান কর্মধারয়: উপমানবাচক পূর্বপদ ও সাধারণধর্মবাচক পরপদ। যেমন — তুষারধবল।
- উপমিত কর্মধারয়: উপমেয় পূর্বপদ ও উপমান পরপদ। যেমন — মুখচন্দ্র।
- রূপক কর্মধারয়: উপমেয় ও উপমানের অভেদ কল্পনা। যেমন — শোকানল।
২. উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
উঃ উপমান কর্মধারয়ে পূর্বপদ উপমানবাচক ও পরপদ সাধারণধর্মবাচক, উপমেয় থাকে না — যেমন তুষারধবল। উপমিত কর্মধারয়ে পূর্বপদ উপমেয় ও পরপদ উপমানবাচক, উভয়ই বিশেষ্য — যেমন মুখচন্দ্র। রূপক কর্মধারয়ে উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা করা হয়, ‘রূপ’ সাদৃশ্যবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয় — যেমন শোকানল।
৩. তৎপুরুষ সমাসের কারক-ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ সংক্ষেপে লেখো।
উঃ কারক সম্পর্কের ভিত্তিতে তৎপুরুষ সমাস ছয় ভাগে বিভক্ত।
কর্ম তৎপুরুষে ‘কে’ বিভক্তি লোপ পায় — ফুলতোলা।
করণ তৎপুরুষে ‘দিয়ে’/’তে’ বিভক্তি লোপ পায় — মনগড়া।
নিমিত্ত তৎপুরুষে ‘জন্য’/’নিমিত্ত’ লোপ পায় — সত্যাগ্রহ।
অপাদান তৎপুরুষে ‘থেকে’/’হতে’ লোপ পায় — দুগ্ধজাত।
অধিকরণ তৎপুরুষে ‘এ’/’তে’/’য়’ লোপ পায় — রাতকানা।
সম্বন্ধ তৎপুরুষে ‘র’/’এর’ লোপ পায় — সভাপতি।
৪. দ্বন্দ্বের গঠনগত শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ লেখো।
উঃ গঠনের দিক থেকে দ্বন্দ্ব সমাসে চার ধরনের পদের মিলন হতে পারে।
- দুটি বিশেষ্য পদ: ভাই ও বোন = ভাইবোন, ছেলে ও মেয়ে = ছেলেমেয়ে।
- দুটি বিশেষণ পদ: লাল ও নীল = লালনীল, ভালো ও মন্দ = ভালোমন্দ।
- দুটি সর্বনাম পদ: তুমি ও আমি = তুমিআমি, যার ও তার = যারতার।
- দুটি ক্রিয়াপদ: হাসে ও কাঁদে = হাসেকাঁদে, দেখো ও শোনো = দেখোশোনো।
৫. বহুব্রীহি ও কর্মধারয় সমাসের পার্থক্য কী?
উঃ কর্মধারয় সমাসে পরপদের অর্থই সমস্তপদে প্রাধান্য পায় — দুটি পদ মিলে একটি বস্তুকে নির্দেশ করে। যেমন — ‘গিরিমা’ শব্দে ‘মা’-এর অর্থই প্রধান। বহুব্রীহি সমাসে উভয় পদের অর্থ সমস্তপদে প্রাধান্য পায় না — সম্পূর্ণ নতুন এবং ভিন্ন অর্থ প্রকাশ পায়।
যেমন — ‘নীলকণ্ঠ’ মানে শিব, ‘নীল’ বা ‘কণ্ঠ’ নয়। এটাই দুটির মূল পার্থক্য।
৬. দ্বিগু ও সংখ্যাবাচক বহুব্রীহির পার্থক্য কী?
উঃ দ্বিগু সমাসে সংখ্যাবাচক পূর্বপদ ও বিশেষ্য পরপদ দিয়ে সমাহার বা সমষ্টির অর্থ প্রকাশ পায় — যেমন ত্রিভুবন (তিন ভুবনের সমাহার)। সংখ্যাবাচক বহুব্রীহিতেও পূর্বপদ সংখ্যাবাচক বিশেষণ, কিন্তু সমস্তপদ সমষ্টি না বুঝিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে নির্দেশ করে —
যেমন, দশানন মানে রাবণ, দশ মুখের সমষ্টি নয়।
৭. অব্যয়ীভাব সমাস কোন কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
উঃ অব্যয়ীভাব সমাস নানা অর্থে ব্যবহৃত হয়। সামীপ্য অর্থে — উপকূল (কূলের সমীপে)। অভাব অর্থে — দুর্ভিক্ষ (ভিক্ষার অভাব)। বৌলা বা পৌনঃপুনিক অর্থে — প্রতিদিন। ব্যাপ্তি অর্থে — আবাল্য। অতিক্রম না করে অর্থে — যথাসাধ্য (সাধ্যকে অতিক্রম না করে)। বৈপরীত্য অর্থে — প্রতিকূল। সাদৃশ্য অর্থে — উপনদী।
৮. অলোপ সমাসের তিনটি ভাগ উদাহরণসহ লেখো।
উঃ অলোপ সমাস তিন ভাগে বিভক্ত।
- অলোপ দ্বন্দ্ব: দ্বন্দ্ব সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ না পেলে। যেমন — মায়েঝিয়ে, দুধেভাতে।
- অলোপ তৎপুরুষ: তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি অক্ষুণ্ণ থাকলে। যেমন — তেলেভাজা, মনেরমানুষ।
- অলোপ বহুব্রীহি: বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না। যেমন — হাতেখড়ি, গায়েহলুদ।
৯. নিত্যসমাসের বৈশিষ্ট্য কী?
উঃ নিত্যসমাসের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এর ব্যাসবাক্য প্রকৃতপক্ষে হয় না। ব্যাসবাক্য তৈরি করতে চাইলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়। যেমন — ‘দেশান্তর’ শব্দের ব্যাসবাক্য ‘অন্য দেশ’ করলে সমস্তপদের প্রকৃত অর্থ আসে না — ‘অন্য জন্ম = জন্মান্তর’ করলে আসে। অর্থাৎ সমস্যামান পদের সংখ্যার চেয়ে বেশি পদ নিয়ে ব্যাসবাক্য গঠন করতে হয়।
১০. সমানাধিকরণ ও ব্যাধিকরণ বহুব্রীহির পার্থক্য কী?
উঃ সমানাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হয় এবং উভয় পদে একই শূন্যবিভক্তি থাকে। যেমন — গতনিদ্র (নিদ্রা গত যার)। ব্যাধিকরণ বহুব্রীহিতে পূর্বপদ বিশেষ্য ও পরপদ বিশেষ্য হয়, কিন্তু পরপদে ‘তে’ বা ‘এ’ বিভক্তি যুক্ত হয়।
যেমন — বীণাপাণি (বীণা পাণিতে যার)।
১১. ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
উঃ যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদটি ক্রিয়াবিশেষণ হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ তৎপুরুষ সমাস বলে। সমস্তপদে পূর্বপদের ক্রিয়াবিশেষণবোধক পদটি লোপ পায়।
যেমন — অর্থরূপে দগ্ধ = অর্থদগ্ধ, ঘনরূপে সমিষ্ট = ঘনসমিষ্ট, দৃঢ়ভাবে বদ্ধ = দৃঢ়বদ্ধ।
১২. উপসর্গ তৎপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।
উঃ যে তৎপুরুষ সমাসে না-বাচক উপসর্গ ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ পরপদের সঙ্গে মিলিত হয় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে উপসর্গ তৎপুরুষ বলে। পূর্বপদ উপসর্গটি সমস্তপদে নিজের স্থান পরিবর্তন করে পরপদের পূর্বে বসে এবং অর্থের পরিবর্তন ঘটায়।
উদাহরণ: চরের অনু = অনুচর, লৌকিকের অতি = অতিলৌকিক, বৃষ্টির অতি = অতিবৃষ্টি।
নির্ণয়মূলক / বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নাবলি
উপবিভাগ নির্দেশের প্রয়োজন নেই — শ্রেণি নির্ণয় করো। মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭

১. নীচের সমাসবদ্ধ পদগুলির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো:
| সমাসবদ্ধ পদ | ব্যাসবাক্য | সমাসের নাম |
|---|---|---|
| চাঁদমুখ | চাঁদের মতো সুন্দর মুখ যার | মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি |
| ডাকমাশুল | ডাকের জন্য মাশুল | নিমিত্ত তৎপুরুষ |
| কুসুমকোমল | কুসুমের মতো কোমল | উপমান কর্মধারয় |
| সত্যাগ্রহ | সত্যের জন্য আগ্রহ | নিমিত্ত তৎপুরুষ |
| জলচর | জলে চরে যে | উপপদ তৎপুরুষ |
২. নীচের ব্যাসবাক্যগুলি থেকে সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করো এবং সমাসের নাম লেখো:
| ব্যাসবাক্য | সমাসবদ্ধ পদ | সমাসের নাম |
|---|---|---|
| পদ্ম নাভিতে যার | পদ্মনাভ | ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি |
| চন্দ্র শিখরে যার | চন্দ্রশেখর | ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি |
| জলরূপ সম্পদ | জলসম্পদ | রূপক কর্মধারয় |
| পাঠে রত | পাঠরত | সম্বন্ধ তৎপুরুষ |
| বসুকে ধরে যে | বসুধরা | উপপদ তৎপুরুষ |
৩. নীচের সমাসবদ্ধ পদগুলির ব্যাসবাক্য বিশ্লেষণ করো এবং কোনটি পূর্বপদ ও কোনটি পরপদ তা নির্দেশ করো:
পঙ্কজ: ব্যাসবাক্য — পঙ্কে জন্মায় যা। পূর্বপদ = পঙ্ক (উপপদ), পরপদ = জ (কৃদন্ত পদ)। সমাস = উপপদ তৎপুরুষ।
ডাকমাশুল: ব্যাসবাক্য — ডাকের জন্য মাশুল। পূর্বপদ = ডাক, পরপদ = মাশুল। সমাস = নিমিত্ত তৎপুরুষ।
কুসুমকোমল: ব্যাসবাক্য — কুসুমের মতো কোমল। পূর্বপদ = কুসুম (উপমান), পরপদ = কোমল (সাধারণধর্ম)। সমাস = উপমান কর্মধারয়।
৪. নীচের বাক্যগুলি থেকে সমাসবদ্ধ পদ বেছে নিয়ে সমাসের নাম লেখো (উপবিভাগ নির্দেশ নিষ্প্রয়োজন):
[১] মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ। মুক্তিকামী — মুক্তি কামনা করে যে = মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি।
[২] অসার সংসারচক্র ঘোরে নিরবধি। নিরবধি — অবধি নেই যার = নঞর্থক বহুব্রীহি।
[৩] চলবে আমার বেচাকেনা বিশ্বজোড়া হাটে। বেচাকেনা — বেচা ও কেনা = বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব। বিশ্বজোড়া — বিশ্বকে জুড়ে যা আছে = উপপদ তৎপুরুষ।
[৪] হে নব সভ্যতা, হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী। সর্বগ্রাসী — সর্বকে গ্রাস করে যে = উপপদ তৎপুরুষ।
[৫] দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সাড়না। দুঃখতাপ — দুঃখ ও তাপ = সমার্থক দ্বন্দ্ব। ব্যথিত — ব্যথায় ইত = ব্যাপ্তি তৎপুরুষ (প্রাদি সমাস)।
৫. নীচের সমাসবদ্ধ পদগুলি ব্যাসবাক্যে বিশ্লেষণ করো এবং শ্রেণি নির্ণয় করো:
নবদুর্বাদলশ্যাম: নব যে দুর্বা (সাধারণ কর্মধারয়) → নবদুর্বা, নবদুর্বার দল (সম্বন্ধ তৎপুরুষ) → নবদুর্বাদল, নবদুর্বাদলের ন্যায় শ্যাম (উপমান কর্মধারয়) → নবদুর্বাদলশ্যাম। এটি বাক্যাশ্রয়ী সমাস।
অজাতকুলশীল: নয় জাত = অজাত (নঞ তৎপুরুষ), কুল ও শীল = কুলশীল (দ্বন্দ্ব সমাস), অজাত কুলশীল যার = অজাতকুলশীল (বহুব্রীহি সমাস)।
৬. উপমান কর্মধারয় নামকরণে ‘উপমান’ শব্দের ব্যবহারের কারণ লেখো।
উঃ উপমান কর্মধারয় সমাসে পূর্বপদটি উপমানবাচক — অর্থাৎ যার সাথে তুলনা করা হয়, সেই বাইরের বস্তুটি পূর্বপদে থাকে। পরপদে থাকে সাধারণধর্মবাচক বিশেষণ। উপমেয় পদটি সমাসের বাইরে থাকে। কারণ এই সমাসে উপমানটিই প্রধান, তাই ‘উপমান’ নামে এই সমাসকে চিহ্নিত করা হয়। যেমন — ‘তুষারধবল’ শব্দে ‘তুষার’ উপমান, ‘ধবল’ সাধারণধর্ম।
কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Grammar
বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
উপরের আলোচনায় আমার কভার করেছি সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি, class 10 Bengali grammar samas question answer, মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ সমাস, samas class 10 Bengali MCQ, কর্মধারয় সমাস উদাহরণ সহ, তৎপুরুষ সমাস প্রশ্নোত্তর, বহুব্রীহি সমাস দশম শ্রেণি, দ্বন্দ্ব সমাস উদাহরণ, দ্বিগু সমাস বাংলা, অব্যয়ীভাব সমাস উদাহরণ, মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৭ , WBBSE class 10 Bengali grammar, সমাস MCQ মাধ্যমিক, সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য, ব্যাসবাক্য সমাস নির্ণয়। মাধ্যমিক 2027 এর জন্য খুব ভাল করে প্র্যাক্টিস করো।
- সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা| মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৫
সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ ও প্রশ্নোত্তর — MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও নির্ণয়মূলক প্রশ্ন। কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, দ্বিগু। এই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর গুলো আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ। তাই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা 2027 খুব ভাল ভাবে প্র্যাক্টিস করতে হবে। সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা:WBBSE … - কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Grammar
কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বিষয়ে সম্পূর্ণ নোটস, সারসংক্ষেপ, MCQ এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক। অধ্যায় সারসংক্ষেপ: কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কারক। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকেই বলা হয় কারক সম্পর্ক। সহজ করে বললে — ক্রিয়াটি কে করছে, … - বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। … - বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — … - মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা … - নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা …