সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

Table of Contents

কবি-পরিচিতি

মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা।

তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। আরাকান রাজসভার ঘটনাচক্রে আলাওল কিছুকাল আরাকানরাজের অশ্বারোহী সৈন্যদলে নিযুক্ত ছিলেন।

মাগন ঠাকুরের নির্দেশে তিনি হিন্দি কবি মালিক মহম্মদ জয়সীর ‘পদুমাবৎ’ কাব্যটি বাংলায় অনুবাদ করেন — যার নাম রাখেন ‘পদ্মাবতী’। এটি তাঁর প্রথম ও শ্রেষ্ঠ রচনা। পাশাপাশি তিনি দৌলত কাজীর অসমাপ্ত রচনা ‘সতীময়না’-র কাহিনি সম্পন্ন করেন। অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে ‘সয়ফুলমুলুক বাদিউজ্জমাল’, ‘সপ্তপয়কর’, ‘তোহফা’, ‘দারাসেকেন্দরনামা’ প্রভৃতি।

আনুমানিক ১৬৭৩ খ্রিস্টাব্দে আলাওলের মৃত্যু হয়।


সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর: রচনার উৎস ও পটভূমি

দিব্যপুরী — সমুদ্রের মাঝে স্বর্গীয় দ্বীপ
দিব্যপুরী — সমুদ্রের মাঝে স্বর্গীয় দ্বীপ

‘সিন্ধুতীরে’ পাঠ্যাংশটি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ৩৫তম খণ্ড ‘পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড’ থেকে নেওয়া হয়েছে। ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ গ্রন্থের সংকলকরা গৃহীত অংশটির নাম দিয়েছেন ‘সিন্ধুতীরে’

মূল কাব্যের পটভূমি হলো: চিতোররাজ রতনসেন সিংহলরাজকন্যা পদ্মাবতীর অপরূপ সৌন্দর্যের কথা এক পাখির মুখে শুনে আকৃষ্ট হন এবং সিংহলে গিয়ে পদ্মাবতীকে বিবাহ করেন। ফেরার পথে প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ে তাদের নৌকা ভেঙে যায় এবং পদ্মাবতী তার চার সখীসহ অচেতন অবস্থায় একটি মান্দাসে (ভেলা) ভেসে আসে সমুদ্রকন্যা পদ্মার দ্বীপতীরে। ‘সিন্ধুতীরে’ এই পর্যায়টিকেই কেন্দ্র করে রচিত।

কাব্যটি পয়ার-ত্রিপদী ছন্দে লেখা এবং মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যরীতি মেনে রচিত।


পাঠ-সারসংক্ষেপ সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর

প্রথম ভাগ: দিব্যপুরীর পরিচয় ও পদ্মার আবাস

কবিতার সূচনায় সমুদ্রের মাঝখানে এক অপূর্ব দ্বীপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে — যেখানে কোনো দুঃখ নেই, কষ্ট নেই, সত্যধর্ম ও সৎ আচরণ সর্বদা পালিত হয়। এটিই ‘দিব্য পুরী’ বা দিব্যস্থান। এই দ্বীপটি সমুদ্রতীরে এক পর্বতের পাশে, ফল-ফুলে পরিপূর্ণ — নানা সুগন্ধী ও সৌরভতর পুষ্প, নানা ফলের বৃক্ষ মিলিয়ে কবি এক স্বর্গীয় পরিবেশ রচনা করেছেন।

এই দ্বীপেই বাস করেন সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মা — ‘সমুদ্রনপতি সুতা পদ্মা নামে গুণযুতা’। পদ্মা নিজে এই দ্বীপে একটি সুন্দর উদ্যান সৃষ্টি করেছেন। সেখানে রয়েছে বিচিত্র টঙ্গি (প্রাসাদ) — হেমরঙে রঙিন। পদ্মা সেই প্রাসাদেই সর্বক্ষণ বাস করেন।

দ্বিতীয় ভাগ: সকালবেলার উদ্যান-ভ্রমণ ও মান্দাস দর্শন

পিতার গৃহে শৈশব থেকে নানাসুখে খেলাধুলা করে বড়ো হওয়া পদ্মা একদিন ভোরবেলায় সখীদের সঙ্গে উদ্যানে যাচ্ছিলেন। এমন সময় সমুদ্রতীরে একটি মান্দাস দেখতে পেলেন। কৌতূহলী পদ্মা দ্রুতপদে সেখানে গিয়ে দেখলেন — চারদিকে তার চার সখী, এবং মধ্যে একটি কন্যা, যার রূপ অতুলনীয় — রূপে সবাইকে জিতে নেওয়া সেই কন্যাটি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

তৃতীয় ভাগ: পদ্মার বিস্ময় ও অনুমান

পদ্মা সেই কন্যার অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হয়ে মনে মনে ভাবলেন — এত রূপ! হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে কোনো বিদ্যাধরী স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

আবার কন্যার দিকে তাকিয়ে দেখলেন — তার বসন ভেজা এবং চুল ও পোশাক বিশৃঙ্খল ও এলোমেলো। এই দেখে পদ্মা বুঝলেন — হয়তো সমুদ্রে প্রবল বাতাসে নৌকা ভেঙে এই সামুদ্রিক বিপর্যয়েই তার এই অবস্থা হয়েছে।

অচেতন কন্যাটি যেন চিত্রের পুতুলের মতো — কিছুমাত্র শ্বাস আছে মাত্র।

চতুর্থ ভাগ: পদ্মার প্রার্থনা ও উদ্যম

পদ্মা অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ হয়ে মনে মনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করলেন — বিধি, আমাকে নৈরাশ করো না। পিতার পুণ্যের ফলে, ভাগ্যের বলে — এই কন্যার জীবন ফিরে আসুক। প্রাণপণে চিকিৎসা করব — হে নিরঞ্জন (পরম ঈশ্বর), এই দুখিনীকে স্মরণ করে কৃপা করো।

পঞ্চম ভাগ: সেবা ও সুস্থতা

পদ্মা তার সখীদের নির্দেশ দিলেন — পদ্মাবতী ও তার সখীদের উদ্যানে নিয়ে যাও। পঞ্চজন (পদ্মাবতী ও চার সখী) সেখানে গেলে শুরু হলো শুশ্রূষা।

প্রথমে আগুন জ্বেলে গায়ে ও মাথায় পায়ে সেঁক দেওয়া হলো। তারপর তন্ত্র-মন্ত্র এবং মহৌষধি প্রয়োগ করা হলো। এইভাবে দণ্ড চারি (প্রায় দুই ঘণ্টা) অনেক যত্নে চিকিৎসার পর পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন — পদ্মাবতী ও তার চার সখী চেতনা ফিরে পেলেন।

কবিতার শেষে আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষক মাগন ঠাকুরের প্রশংসায় নিজেকে ‘হীন আলাওল’ বলে উল্লেখ করেছেন — মধ্যযুগীয় কাব্যরীতির ঐতিহ্য মেনে।


বিশেষ শব্দার্থ: সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর

পদ্মার বিস্ময় — মান্দাসে অচেতন পদ্মাবতী
পদ্মার বিস্ময় — মান্দাসে অচেতন পদ্মাবতী
শব্দঅর্থ
দিব্যউৎকৃষ্ট, সুন্দর
মাঞ্জমান্দাস, ভেলা, নৌকা
গোতলিপুতুল
মনোহরমনোরাম, সুন্দর
তুরিতশীঘ্র
ক্রেশকষ্ট
নিপতিতাভূপতিত, মাটিতে পড়া
নৈরাশনিরাশ
সমুদ্রপতিসমুদ্রের রাজা
চেতনরহিতসংজ্ঞাহীন
বাছরকফিরে আসুক
সুতাকন্যা
গুণযুতাগুণযুক্তা
ছেকেসেঁক দেয়
অতিরেকপ্রাচুর্য অর্থে প্রযুক্ত, ভরা
রম্ভাস্বর্গের অপ্সরী
টঙিপ্রাসাদ
মেহৌষধিঅব্যর্থ ওষুধ
বেথানিতঅবিন্যস্ত, এলোমেলো
সৌরভতরসুগন্ধের চেয়েও সুগন্ধময়
নিরঞ্জনপরম ঈশ্বর
বাওবায়ু
মোহান্তপুরোহিত
সুরচনসুন্দর রচনা যার


প্রশ্নোত্তর: সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর

চিকিৎসার দৃশ্য — তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি
চিকিৎসার দৃশ্য — তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি

ক · সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর (অতিসংক্ষিপ্ত) (মান: ১)

১. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের কোন খণ্ড থেকে নেওয়া?

উত্তর: ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতাটি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ৩৫তম খণ্ড ‘পদ্মা-সমুদ্র খণ্ড’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

২. ‘সিন্ধুতীরে’ নামটি কে দিয়েছেন?

উত্তর: ‘সাহিত্য সঞ্চয়ন’ গ্রন্থের সংকলকরা গৃহীত অংশটির নাম দিয়েছেন ‘সিন্ধুতীরে’।

৩. মূল ‘পদুমাবৎ’ কাব্যটির রচয়িতা কে?

উত্তর: মূল ‘পদুমাবৎ’ কাব্যটি হিন্দি কবি মালিক মহম্মদ জয়সীর রচনা।

৪. “সিন্ধুতীরে দেখি দিব্যস্থান” — সিন্ধুতীরে কাকে দিব্যস্থান বলা হয়েছে?

উত্তর: সমুদ্রকন্যা পদ্মার আবাসটি স্বর্গভূমির মতো মনোহর এবং উৎকৃষ্ট — তাই সিন্ধুতীরের ওই দ্বীপটিকে কবি ‘দিব্যস্থান’ বলেছেন।

৫. ‘বিস্মিত হইল বালা’ — বালার বিস্ময়ের কারণ কী?

উত্তর: সমুদ্রতীরে ভূপতিত হতচেতন এক কন্যার অপরূপ সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করে ‘বালা’ পদ্মা বিস্মিত হলেন।

৬. ‘অনুমান করে নিজ চিতে’ — কে কী অনুমান করলেন?

উত্তর: সমুদ্রনৃপসুতা পদ্মা অনুমান করলেন — পতিত হতচেতন কন্যা হয়তো দেবরাজ ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।

৭. “বেথানিত হৈছে কেশ বেশ” — পঙ্ক্তির অর্থ কী?

উত্তর: সামুদ্রিক দুর্যোগে পদ্মাবতী চেতনারহিত হয়েছিলেন। প্রবল দুর্যোগে তার বেশবাস বা পোশাক-আশাক এলোমেলো ও অবিন্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।

৮. ‘সখী সবে আজ্ঞা দিল’ — সখীরা কী আজ্ঞাপ্রাপ্ত হল?

উত্তর: পদ্মা সখীদের আদেশ দিলেন — পদ্মাবতী ও তার চার সখীকে উদ্যানের মাঝে দিয়ে নিয়ে যেতে।

৯. “পঞ্চজনে বসে ডাকিয়া” — পঞ্চজনের নাম লেখো।

উত্তর: পঞ্চজন হলেন পদ্মাবতী এবং তার চার সখী — চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিণী এবং বিধুমুলা।

১০. ‘সমুদ্রনপতি সুতা’ কাকে বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘সমুদ্রনপতি সুতা’ বলতে সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মাকে বোঝানো হয়েছে। তিনি অত্যন্ত গুণবতী।

১১. “দিব্য পুরী সমুদ্রে মাঝারে” — দিব্যপুরীর বৈশিষ্ট্য কী?

উত্তর: দিব্যপুরী সমুদ্রের মাঝে এক অতি মনোহর স্থান, যেখানে কোনো দুঃখ নেই, কষ্ট নেই, সর্বদা সত্যধর্ম ও সৎ আচরণ পালিত হয়।

১২. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” — ‘তথা’ বলতে কোন স্থানের কথা বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘তথা’ বলতে পদ্মার নিজে তৈরি করা উদ্যানে অবস্থিত রত্নখচিত উচ্চ টঙি বা বিচিত্র হেমরঙে সজ্জিত প্রাসাদকে বোঝানো হয়েছে।

১৩. পদ্মাবতীকে দেখে পদ্মার কী মনে হয়েছিল?

উত্তর: পদ্মাবতীর রূপ দেখে পদ্মার মনে হয়েছিল তিনি ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট কোনো বিদ্যাধরী, অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।

১৪. পদ্মাবতী কীভাবে ওই অবস্থায় পৌঁছেছিলেন বলে পদ্মা অনুমান করেছিলেন?

উত্তর: পদ্মা অনুমান করেছিলেন — সমুদ্রে প্রবল বাতাসে নৌকা ভেঙে যাওয়ার কারণেই পদ্মাবতীর এই অবস্থা হয়েছে।

১৫. পঞ্চকন্যার জ্ঞান ফেরাতে কী কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল?

উত্তর: আগুন জ্বেলে গায়ে, মাথায় ও পায়ে সেঁক দেওয়া, তন্ত্র-মন্ত্র প্রয়োগ এবং মহৌষধি দেওয়া হয়েছিল।

১৬. কতক্ষণ চিকিৎসার পর পঞ্চকন্যা জ্ঞান ফিরে পেলেন?

উত্তর: দণ্ড চারি (প্রায় দুই ঘণ্টা) অনেক যত্নে চিকিৎসার পর পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেলেন।

১৭. সৈয়দ আলাওল কোন দুটি ছদ্মনামে পরিচিত?

উত্তর: পাঠ্যাংশে উল্লেখিত নেই; তবে আলাওল কবিতার শেষে নিজেকে ‘হীন আলাওল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

১৮. ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত? উত্তর: ‘পদ্মাবতী’ কাব্যটি পয়ার-ত্রিপদী ছন্দে রচিত।


খ · সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর (সংক্ষিপ্ত) (মান: ৩)

পঞ্চকন্যার সচেতনতা প্রাপ্তি — নতুন জীবন
পঞ্চকন্যার সচেতনতা প্রাপ্তি — নতুন জীবন

১. “পদ্মা নামে গুণযুতা” — পদ্মা কে? কাব্যাংশটিতে তাঁর কোন গুণের পরিচয় পাও?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক কাব্যাংশে পদ্মা হলেন সমুদ্ররাজের কন্যা।

কাব্যাংশে পদ্মার বেশ কয়েকটি গুণের পরিচয় পাই। প্রথমত, তিনি সৌন্দর্যপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রিয় — সমুদ্রের মাঝে অবস্থিত দ্বীপটিকে নিজের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়ে সেখানে ফুল-ফলে এক অপূর্ব উদ্যান সৃষ্টি করেছেন।

দ্বিতীয়ত, তিনি দয়ালু ও সেবাপরায়ণ — অচেতন পদ্মাবতীকে দেখে তার হৃদয়ে স্নেহ জাগে এবং তিনি ঈশ্বরের কাছে তার জীবন ভিক্ষা করেন।

তৃতীয়ত, সাহসী ও কর্তব্যনিষ্ঠ — মান্দাসে অচেতন কন্যাদের দেখে তিনি দ্রুত পদক্ষেপে সেখানে গিয়ে তন্ত্র-মন্ত্র-মহৌষধি প্রয়োগ করে তাদের সুস্থ করেন।

সামগ্রিকভাবে পদ্মা এক সহানুভূতিশীল ও পরোপকারী নারী চরিত্র।


২. “তাহেতে বিচিত্র টঙি” — ‘বিচিত্র টঙি’ কী? তা কোথায় অবস্থিত, বর্ণনা দাও।

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক কাব্যাংশে ‘টঙি’ শব্দের অর্থ প্রাসাদ। তা বিচিত্র তার কারণ প্রাসাদটি নানা ধাতু ও বর্ণে রঞ্জিত এবং অতি সুন্দর ও মনোহর।

প্রাসাদটি একটি দ্বীপে একটি পর্বতের উপর অবস্থিত। এই দ্বীপের বর্ণনায় কাব্যে বলা হয়েছে তা অতি মনোহর দেশ, সেখানে কোনো দুঃখ-ক্রেশ নেই। এবং বিভিন্ন সুলক্ষণ, সুগন্ধযুক্ত ফল-ফুলের গাছ দিয়ে সেই দ্বীপটি সজ্জিত। এই দ্বীপেই পর্বতের পাশে পদ্মা নিজে এক উদ্যান রচনা করেছেন। সেই উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রত্নখচিত উচ্চ টঙি বা প্রাসাদে কন্যা পদ্মা সর্বদা অবস্থান করেন।


৩. “বিস্মিত হইল বালা” — ‘বালা’টি কে? তার বিস্ময়ের কারণ কী?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক কাব্যাংশ থেকে গৃহীত এই অংশে ‘বালা’ বলতে বোঝানো হয়েছে সমুদ্ররাজের কন্যা পদ্মাকে।

ভোরবেলায় সখীদের সঙ্গে উদ্যানে আসার পথে সমুদ্রতীরে একটি মান্দাসে পদ্মা চারজন সখীসহ অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা এক অসাধারণ সুন্দরী কন্যাকে দেখতে পান। সেই কন্যা হলেন চিতোররানি পদ্মাবতী।

পদ্মাবতীর রূপের কলা — তার অপরূপ সৌন্দর্য দেখেই সমুদ্রকন্যা পদ্মা বিস্মিত হলেন। এত অপার সৌন্দর্য তিনি আগে দেখেননি। তাই তিনি মনে মনে ভাবলেন, এই রূপবতী কন্যা নিশ্চয় ইন্দ্রের অভিশাপে স্বর্গভ্রষ্ট কোনো বিদ্যাধরী — যিনি অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।


৪. “চিতের পৌতলি সমা” — ‘পৌতলি’ শব্দের অর্থ কী? কাকে ‘চিতের পৌতলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক কাব্যাংশ থেকে গৃহীত হয়েছে এই উদ্ধৃতি। এখানে ‘পৌতলি’ শব্দের অর্থ পুতুল।

পদ্মাবতী কাব্যের নায়িকা, সিংহলরাজকন্যা, চিতোররাজ রতনসেনের স্ত্রী রূপসী পদ্মাবতীকে সমুদ্রের ধারে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ‘চিতের পৌতলির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

অর্থাৎ, যেভাবে একটি সুন্দর পুতুল নির্জীব ও অচল হয়ে পড়ে থাকে — ঠিক সেইভাবেই রূপসী পদ্মাবতী নিষ্প্রাণ ও স্থির হয়ে পড়ে আছেন। তার শরীরে কিঞ্চিৎ শ্বাস মাত্র আছে। এই তুলনার মাধ্যমে কবি পদ্মাবতীর অচেতন নির্জীব অবস্থার একটি করুণ চিত্র এঁকেছেন।


৫. “মোহান্ত আরিত শুনি” — ‘মোহান্ত’ কথার অর্থ কী? এই প্রসঙ্গে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক কাব্যাংশে ‘মোহান্ত’ কথার অর্থ মোহিত করে যার (পুরোহিত)। আরাকান রাজসভার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুর নিজে ছিলেন সাহিত্যরসিক।

এই পঙ্ক্তিতে কবি আলাওল মধ্যযুগীয় কাব্যরীতি অনুসরণ করে তাঁর পৃষ্ঠপোষক মাগন ঠাকুরের প্রশংসা করেছেন এবং নিজেকে ‘হীন আলাওল’ বলে বিনয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। মধ্যযুগীয় কাব্যরচনার পরম্পরা মেনে এই কাব্যের শেষে আলাওল নিজের আত্মপরিচয় দান করেছেন এবং পৃষ্ঠপোষকের প্রতি সম্মানজ্ঞাপন করেছেন।


গ · সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর (ব্যাখ্যাধর্মী / রচনাধর্মী)(মান: ৫)

১. ‘পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন’ — ‘পঞ্চকন্যা’ কারা? তারা কীভাবে চেতন ফিরে পেয়েছিল? (২+৩)

উত্তর: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশে ‘পঞ্চকন্যা’ বলতে বোঝানো হয়েছে পদ্মাবতী এবং তার চার সখীকে। তাদের নাম হল — চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিণী ও বিধুমুলা।

তারা কীভাবে চেতন ফিরে পেয়েছিল: সমুদ্র বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে পঞ্চকন্যা একটি মান্দাসে ভাসতে ভাসতে এসে পড়েছিলেন সিন্ধুতীরে — যেখানে বাস ছিল সমুদ্রসুতা পদ্মার।

পদ্মা ও তার সখীরা পঞ্চকন্যাকে অচেতনভাবে সমুদ্রের তীরে পড়ে থাকতে দেখে প্রথমে তাদেরকে শুষ্ক বস্ত্রে আবৃত করেন। তারপর তাদেরকে উদ্যানের মাঝে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগুন জ্বেলে তাদের গায়ে, মাথায় ও পায়ে সেঁক দেওয়া হয়। তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি প্রয়োগ করা হয়। চার দণ্ড (প্রায় দুই ঘণ্টা) ধরে প্রাণপণ সেবা-যত্নের পর পদ্মাবতী ও তার চার সখী চেতনা ফিরে পান।

পদ্মার দাক্ষিণ্য ও সখীদের অক্লান্ত সেবা ছাড়া পদ্মাবতীর বেঁচে ওঠা সম্ভব হত না।


২. “তথা কন্যা থাকে সর্বক্ষণ” — কোন কন্যার কথা বলা হয়েছে? সে সর্বক্ষণ কোথায় কীভাবে থাকে? (১+১+৩)

উত্তর: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশটিতে সমুদ্রনৃপতি-সুতা পদ্মার কথা বলা হয়েছে।

পদ্মা সর্বক্ষণ সমুদ্রের মাঝে একটি দ্বীপে বিচিত্র টঙি বা হেমরঙে সজ্জিত প্রাসাদে থাকেন।

কীভাবে থাকেন: পদ্মার এই আবাসস্থান অত্যন্ত সুন্দর ও স্বর্গীয়। দ্বীপের উপর রয়েছে একটি পর্বত, তার পাশে পদ্মা নিজে হাতে ফুল ও ফলে সমৃদ্ধ এক সুশোভিত উদ্যান রচনা করেছেন। সেই উদ্যানে রয়েছে নানা মনোহর ও সুগন্ধী পুষ্প, সৌরভতর ফুল, নানা সুলক্ষণ ফলের গাছ। সেই উদ্যানের মধ্যে অবস্থিত রত্নখচিত উচ্চ টঙি বা বিচিত্র হেমরঙে সজ্জিত প্রাসাদে কন্যা পদ্মা সর্বক্ষণ বাস করেন।

এই পরিবেশে পদ্মা ছিলেন সৌন্দর্যপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রিয় এক সুখী কন্যা — যতদিন না সমুদ্রের বুকে একটি মান্দাস ভেসে আসার ঘটনায় তার জীবন নতুন এক দায়িত্বের সামনে এসে দাঁড়ায়।


৩. ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতায় মুখ্য হয়ে উঠেছে সমুদ্রকন্যা পদ্মার চরিত্রটি। এই চরিত্রটির বিস্তারিত বর্ণনা দাও। (৫)

উত্তর: কবি সৈয়দ আলাওলের ‘পদ্মাবতী’ কাব্য থেকে নেওয়া ‘সিন্ধুতীরে’ শীর্ষক পাঠ্যাংশটিতে মুখ্য হয়ে উঠেছে সমুদ্রকন্যা পদ্মার চরিত্রটি। জায়সীর কাব্যে যিনি লক্ষ্মী, তাকেই কবি পদ্মা নামে দিয়ে সূক্ষ্মভাবে এই কাব্যে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও প্রকৃতিপ্রেম: পদ্মার বর্ণনায় কবি লিখেছেন ‘সমুদ্রনপতি-সুতা পদ্মা নামে গুণযুতা’ — অর্থাৎ এই পদ্মা সমুদ্ররাজের কন্যা এবং তিনি গুণবতী। পদ্মা চরিত্রের যে দিকটি প্রথমেই নজর কাড়ে তা হল তার সৌন্দর্যপ্রিয়তা ও প্রকৃতিপ্রেম। সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত দ্বীপটিকে তিনি নিজের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং সেখানে নিজে ফুল-ফলে এক অপূর্ব উদ্যান সৃজন করে সাজিয়ে তুলেছেন।

কৌতূহলী স্বভাব: সবলা হাসিমুখিতে ভরে থাকা এই চরিত্রটির কৌতূহলপ্রবণতার পরিচয় পাওয়া যায় যখন তিনি ভোরবেলায় সখীদের নিয়ে সমুদ্রতীরে এসে দেখা একটি মান্দাস দেখতে তুরিত পায়ে ছুটে যান।

দয়া ও সহানুভূতি: পদ্মা যখন মান্দাসে পদ্মাবতী ও তার সখীদের অচেতনায় পড়ে থাকতে দেখেন, তখন পদ্মাবতীকে দেখে তার হৃদয়ে স্নেহের উদয় হয়। তিনি মনে মনে ঈশ্বরের কাছে পদ্মাবতীর প্রাণ ভিক্ষা করেন। নিজের পিতার পুণ্যের ফলে এই কন্যার জীবন ফিরে আসুক — এই প্রার্থনায় পদ্মার হৃদয়ের উদারতা প্রকাশ পায়।

সেবাপরায়ণতা ও কর্মকুশলতা: পদ্মা শুধু প্রার্থনাতেই থেমে থাকেননি। তিনি সখীদের আদেশ দিয়ে পদ্মাবতীকে উদ্যানে নিয়ে আসান, আগুন জ্বেলে সেঁক দেন, তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি প্রয়োগ করেন। তাঁর অক্লান্ত সেবায় পঞ্চকন্যার জ্ঞান ফিরে আসে।

সামগ্রিকভাবে পদ্মা একজন দয়ালু, সৌন্দর্যপ্রিয়, কর্তব্যনিষ্ঠ ও নিঃস্বার্থ নারী চরিত্র। পদ্মার দাক্ষিণ্যেই পরবর্তীকালে চিতোরের রাজার সঙ্গে পদ্মাবতীর মিলন সম্ভব হয়েছিল। এইসব বৈশিষ্ট্যগুলির মিশেলেই এই চরিত্রটি কবিতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।


৪. ‘অচৈতন্য পড়েছে ভূমিতে’ — কার কথা বলা হয়েছে? তাকে দেখে কার কী মনে হয়েছিল? সে এই অবস্থায় কোন ভূমিকা নিয়েছিল? (১+২+২)

উত্তর: সৈয়দ আলাওলের ‘সিন্ধুতীরে’ কবিতা থেকে গৃহীত এই অংশটিতে চিতোরের রানি পদ্মাবতী ও তার সখীদের কথা বলা হয়েছে।

পদ্মার মনে কী হয়েছিল: পদ্মাবতীকে দেখে সমুদ্রকন্যা পদ্মার মনে হয়েছিল — হয়তো ইন্দ্রের অভিশাপে কোনো বিদ্যাধরী স্বর্গভ্রষ্ট হয়ে অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তারপর তার ভেজা বসন ও আলুথালু কেশ দেখে ভেবেছিলেন — সমুদ্রে প্রবল বাতাসে নৌকা ভেঙে কোনো দুর্ঘটনার মধ্যে পড়ে সখীসহ পদ্মাবতী সিন্ধুতীরে এসে পড়েছেন।

পদ্মা যে ভূমিকা নিয়েছিল: পঞ্চকন্যাকে অচেতনভাবে পড়ে থাকতে দেখে পদ্মা প্রথমে ঈশ্বরের কাছে তাদের জীবন ভিক্ষা করেন। তারপর সখীদের আদেশ দিয়ে তাদের শুষ্ক বস্ত্রে ঢেকে উদ্যানে নিয়ে যান। আগুন জ্বেলে সেঁক দেন, তন্ত্র-মন্ত্র ও মহৌষধি প্রয়োগ করেন। চার দণ্ড (প্রায় দুই ঘণ্টা) প্রাণপণ সেবা-যত্নের পর পদ্মাবতী ও তার সখীরা চেতনা ফিরে পান। পদ্মার দাক্ষিণ্য ছাড়া পদ্মাবতীর বাঁচা সম্ভব হত না।

এখানে সিন্ধুতীরে কবিতা, সৈয়দ আলাওল, সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর, সিন্ধুতীরে সারাংশ, পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ, দশম শ্রেণি বাংলা সিন্ধুতীরে, class 10 bangla sindhutire, সমুদ্রকন্যা পদ্মা চরিত্র, পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন, মধ্যযুগীয় বাংলা কবিতা, মাধ্যমিক বাংলা সিন্ধুতীরে, sindhutire madhyamik suggestion, পদ্মাবতী সমুদ্র খণ্ড আলাওল, সিন্ধুতীরে mcq class 10 সমস্ত আলোচনা করা হয়েছে।

পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর

প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর

অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা

বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর | সুবোধ ঘোষ | দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর

  • সিন্ধুতীরে প্রশ্ন উত্তর কবিতা | সৈয়দ আলাওল | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি সৈয়দ আলাওলের জন্ম আনুমানিক ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার ফতেহাবাদে। তাঁর পিতা ছিলেন ফতেহাবাদের এক আমলা। তরুণ বয়সে ফরিদপুর থেকে চট্টগ্রামের পথে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতা নিহত হন এবং আলাওল নিজেও বন্দি হন। পরে আরাকান রাজসভায় পৌঁছে সেখানকার প্রধান অমাত্য মাগন ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন এবং তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় …

    Read more

  • পথের দাবী প্রশ্ন উত্তর — শরৎচন্দ্র | Class 10 বাংলা সারাংশ ও প্রশ্নোত্তর
    লেখক-পরিচিতি রবীন্দ্র সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর, হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বড়ো হওয়া শরৎচন্দ্র ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছেন অনেক বছর এবং দীর্ঘকাল বর্মায় (বর্তমান মিয়ানমার) ছিলেন। সেই বর্মণীয় জীবনের অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। ‘কুন্তলীন’ গল্প প্রতিযোগিতায় ‘মন্দির’ নামে গল্প পাঠিয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন — এটাই …

    Read more

  • প্রলয়োল্লাস প্রশ্ন উত্তর | কাজী নজরুল ইসলাম | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, সঙ্গীতজ্ঞ ও বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি লেটো দলে গান লিখে ও গেয়ে সাহিত্যজীবনের সূচনা করেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাজীবনের অভিজ্ঞতা ও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তাঁর লেখালেখিকে …

    Read more

  • সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর নাটক | শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    নাটকারের পরিচিতি বাংলা নাটসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নাটকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে, তৎকালীন বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সখারামের সহযোগী হন। পরে ‘বেকালী’, ‘বিজলী’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সহ-সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক কৃষক’ …

    Read more

  • অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা
    কবি-পরিচিতি উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি, তৎকালীন যশোহর জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) সাগরদাঁড়ি গ্রামে। বাল্যকালেই কলকাতায় এসে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, রাজনারায়ণ বসু, গৌরদাস বসাক প্রমুখ। গ্রিক, ল্যাটিন, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় তিনি গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। প্রথম …

    Read more

  • বহুরূপী প্রশ্ন উত্তর | সুবোধ ঘোষ | দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর
    লেখক-পরিচিতি বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান নাম সুবোধ ঘোষের জন্ম ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর, বিহারের হাজারিবাগে। আদি নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ছিল অসাধারণ বর্ণময়। বাসের কন্ডাক্টর, টিউটর, ট্রাক ড্রাইভার, এমনকি সার্কাস পার্টিতে ক্লাউনের ভূমিকা পর্যন্ত — বহু পেশায় তাঁকে যেতে হয়েছে। এই …

    Read more

  • হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | শ্রীপান্থ | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    লেখক-পরিচিতি বাংলা সাহিত্য জগতে নিখিল সরকার ‘শ্রীপান্থ’ ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। তাঁর আরেকটি ছদ্মনাম ‘দৌবারিক’। জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১ মে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক হওয়ার পর তরুণ বয়স থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন — প্রথমে ‘যুগান্তর’, পরে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য়। আনন্দবাজারের সোমবারের বিখ্যাত ‘কলকাতার কড়চা’ বিভাগটি দীর্ঘকাল …

    Read more

  • আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের চাঁদপুরে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। তাঁর আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ; পৈতৃক ভিটে ছিল বরিশাল জেলার বানারিপাড়া গ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। …

    Read more

  • আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে। শৈশব থেকেই সাহিত্যের আবহে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি খুব অল্প বয়স থেকেই ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’, আর প্রথম সার্থক ছোটোগল্প হিসেবে সাহিত্য-সমালোচকেরা ‘দেনাপাওনা’-কে চিহ্নিত করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, …

    Read more

Leave a Comment