নাটকারের পরিচিতি
বাংলা নাটসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নাটকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের জন্ম ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে, তৎকালীন বাংলার খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। ছাত্রাবস্থাতেই বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষক সখারাম গণেশ দেউস্করের কাছে সাংবাদিকতার পাঠ নেন এবং ‘হিতবাদী’ পত্রিকার সখারামের সহযোগী হন। পরে ‘বেকালী’, ‘বিজলী’, ‘আত্মশক্তি’ প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। সহ-সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক কৃষক’ ও ‘ভারত’ পত্রিকার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
১৯৩০ থেকে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর কালজয়ী নাটকগুলি রচিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক নাটকগুলির মধ্যে রয়েছে ‘গৈরিক পতাকা’ (১৯৩০), ‘সিরাজদৌলা’ (১৯৩৮), ‘রাষ্ট্রবিপ্লব’ (১৯৪৪)। সামাজিক নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘রক্তকমল’, ‘ঝড়ের রাতে’, ‘জননী’ ইত্যাদি। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটক হল ‘ধাত্রীপান্না’, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’, ‘সংগ্রাম ও শান্তি’ ইত্যাদি।
তাঁর নাটকের প্রধান গুণ স্বদেশিকতা ও জাতীয়তাবাদ। তিনি শুধু নাটক রচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, নাট্যমঞ্চের সঙ্গেও তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দের ৫ মার্চ তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর,রচনার উৎস ও পটভূমি

‘সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর’ পাঠ্যাংশটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে। নাটকটি ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে রচিত এবং সেই বছরই ২৮ জুন ‘নাট্যনিকেতন’ মঞ্চে প্রথম অভিনীত হয়।
নাটকের ঐতিহাসিক পটভূমি হল ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশির যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র বাইশ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা বাংলার নবাব হন। কিন্তু সিংহাসনে বসার পর থেকেই তিনি ঘরে-বাইরে নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হন। একদিকে ঘসেটি বেগম, মীরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠের মতো ষড়যন্ত্রীরা; অন্যদিকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন।
এই দ্বিমুখী চাপেই তাঁর পতন ঘনিয়ে আসে। কলকাতার দুর্গ পুনরুদ্ধার করে আলিনগরের সন্ধির পর শেষপর্যন্ত পলাশির যুদ্ধে ক্লাইভের কাছে তিনি পরাজিত ও পরে নিহত হন।
সেই ইতিহাসেরই মঞ্চরূপ এই নাটক। ব্রিটিশ শাসনকালে স্বদেশিকতার বার্তা নিয়ে লেখা এই নাটক বাঙালি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিল।
সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর: পাঠ-সারসংক্ষেপ
প্রথম ভাগ: ওয়াটসের সঙ্গে সিরাজের দরবারে সংঘাত
দরবার কক্ষে সিরাজ সিংহাসনে উপবিষ্ট। চারপাশে মীরজাফর, মোহনলাল, মীরমদন, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ এবং ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস (Watts), ফরাসি দূত মঁসিয়ে লা (Monsieur Law)।
সিরাজ ওয়াটসকে সরাসরি প্রশ্ন করেন — কলকাতা জয়ের ইতিহাস সে জানে, আলিনগরের সন্ধির শর্তও সে জানে। তা সত্ত্বেও কোম্পানির সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন করে, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, এমনকি চন্দননগর আক্রমণ করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?
সিরাজ ওয়াটসের লেখা গোপন চিঠি দরবারে পাঠ করান — যেখানে মুনিজকে দিয়ে পাঠানো সেই চিঠিতে স্পষ্ট বলা ছিল কোম্পানির পরিকল্পনার কথা। সিরাজ বলেন — এত বড়ো বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত, তবু তিনি তা দেবেন না। শুধু বলেন:
“এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করো।”
ওয়াটস বলেন — “Punish me, Your Excellency, if you will. I can only say that I have done my duty.”
এবং বিদায় নেওয়ার সময় বলেন — “Farewell, Your Excellency!”
দ্বিতীয় ভাগ: ফরাসি দূতের সঙ্গে সিরাজের কথোপকথন
ওয়াটস চলে গেলে ফরাসি দূত মঁসিয়ে লা এগিয়ে আসেন। ইংরেজরা চন্দননগর আক্রমণ করে ফরাসি বাণিজ্যকুঠি দখল করেছে। তারা সিরাজের সাহায্য চাইতে এসেছেন।
সিরাজ ফরাসিদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেন। কিন্তু কলকাতা জয় ও পূর্ণিয়ার শওকতজঙ্গের যুদ্ধে তাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে — মন্ত্রিমণ্ডলও যুদ্ধের পক্ষে নয়। তাই সরাসরি ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিনি ফরাসিদের সাহায্য করতে পারছেন না।
হতাশায় সিরাজ বলেন — “আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।”
মঁসিয়ে লা বিদায় নেওয়ার সময় ইংরেজিতে বলেন — “We have always sought for your protection, Your Excellency.” এবং একটি সতর্কবার্তাও দেন: আমরা এই দেশ ছেড়ে গেলে এমন এক শিখা জ্বলে উঠবে যা গঙ্গার সব জলেও নেভানো যাবে না।
তৃতীয় ভাগ: ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে সংঘাত ও মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা
দরবারে রাজবল্লভ ও জগৎশেঠ প্রকাশ্যে সিরাজের নীতির সমালোচনা করতে শুরু করেন। জগৎশেঠ বলেন — যদি গোয়েন্দা নিযুক্ত থাকতেন, তাহলে বাংলার সিংহাসনে এতদিন অন্য নবাব বসতেন। এই উক্তির প্রতিবাদ করেন মোহনলাল ও মীরমদন।
সিরাজ তখন মীরজাফরকে প্রশ্ন করেন — ওয়াটস তাঁর কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন, সেই চিঠি। চিঠিটা সভায় পড়ে শোনাতে চান কিনা? মীরজাফর অস্বীকার করেন, বলেন এটি নবাবের অনুগ্রহ।
সিরাজ একটি সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে পড়েন — প্রকাশ্যে মীরজাফরকে লজ্জা দিলে যুদ্ধের আগে সেনাপতি হারাবেন। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নেন:
“আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।”
মীরজাফরকে বলেন — জাফর আলি খাঁ, আপনি শুধু সিপাহসালার নন, আমার পরম আত্মীয়। তিনি বাংলার মান-মর্যাদা রক্ষার শপথ নেন — মীরজাফরও শপথ করেন। মোহনলাল, মীরমদন, রায়দুর্লভও শপথ নেন।
সিরাজের বক্তব্য: “রাজবল্লভ, ভাগ্যবান জগৎশেঠ, শক্তিমান রায়দুর্লভ, বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।”
চতুর্থ ভাগ: ঘসেটি বেগমের প্রবেশ — সংঘাত ও প্রতিহিংসা
দরবার থেকে সকলে চলে গেলে ঘসেটি বেগম প্রবেশ করেন — সিরাজের মাসি, তীব্র প্রতিহিংসাপরায়ণ এক নারী।
ঘসেটি বেগম এককে একক অভিযোগ করতে থাকেন — মিতিঝিল থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদে এনে নজরবন্দি করা হয়েছে, তাঁর সম্পদ হস্তগত করা হয়েছে, তাঁর পালিত পুত্রকে সিংহাসন থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
সিরাজও পাল্টা উত্তর দেন — রাজনীতির কারণেই তা করা হয়েছে।
ঘসেটি বলেন — “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা।”
সিরাজ ঘসেটির ব্যবহারে ক্লান্ত হয়ে পড়েন — অনেক সহ্য করেছেন। একটিও কটূক্তির প্রতিবাদ করেননি, কোনো স্পর্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। অথচ তারা সারা দেশে তাঁর দুর্নাম রটিয়ে বেড়াচ্ছেন।
সিরাজ বলেন — “আর কত হেয় করতে চান আপনারা?”
লুৎফা (সিরাজের প্রিয়তমা পত্নী) এসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করার চেষ্টা করেন।
পঞ্চম ভাগ: পলাশির পূর্বে সিরাজের মানসিক অবস্থা ও শেষ একালাপ
শেষ পর্যায়ে সিরাজ লুৎফার সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। তিনি জানান — পেনেরো মাস রাজত্বে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে যে, কোনো মানুষকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারেন না, ভালোও বাসতে পারেন না।
সিরাজ জানান — পলাশির প্রান্তরে আবার যুদ্ধের সম্ভাবনা। এইবার হয়তো শেষ যুদ্ধ — “যদি জয়ী হই, তা হলে হয়তো আর যুদ্ধ হবে না—আর যদি পরাজিত হই, তা হলে তো নয়ই!”
লুৎফা বলেন — পলাশি?
সিরাজের বিখ্যাত একালাপ: “পলাশি! লাখে লাখে পলাশ-ফুলের আগুন-বরণে কোনোদিন হয়তো পলাশির প্রান্তর রাঙা হয়ে থাকত, তাই আজও তার বুকে রক্তের তৃষ্ণা। জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়—পলাশি, রাক্ষসী পলাশি!”
এই উক্তিতে সিরাজের আসন্ন পরিণতির আশঙ্কা, ব্যক্তিগত বেদনা এবং বাংলার ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের পূর্বাভাস মিশে আছে।
বিশেষ শব্দার্থ: সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর

| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| উপবিষ্ট | বসে আছেন এমন |
| Your Excellency | কারও প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য সভাসংসের বিশেষ রীতি |
| শিষ্টাচার | ভদ্রতা |
| অ্যাডমিরাল | নৌবহরের সেনাধ্যক্ষ |
| তরজমা | অনুবাদ |
| প্রতিপণ | প্রমাণ |
| রইস | সম্ভ্রান্ত |
| নিমক | নুন |
| রাজদ্রোহ | রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ |
| সৌহার্দ্য | সুসম্পর্ক |
| হষ্টমনে | খুশি হয়ে |
| বাঁদী | দাসী |
| বন্ধন মোচন | বাঁধন থেকে মুক্তি |
প্রশ্নোত্তর: সিরাজদৌলা প্রশ্ন উত্তর

ক · অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: ১)
১. ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি কে রচনা করেছেন?
উত্তর: ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচনা করেছেন।
২. ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি কত খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়?
উত্তর: ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে রচিত হয়।
৩. ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি প্রথম কোথায় মঞ্চস্থ হয়?
উত্তর: ‘সিরাজদৌলা’ নাটকটি প্রথম ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জুন ‘নাট্যনিকেতন’ মঞ্চে অভিনীত হয়।
৪. পাঠ্যাংশটি নাটকের কোন অঙ্কের কোন দৃশ্য থেকে নেওয়া?
উত্তর: পাঠ্যাংশটি নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া হয়েছে।
৫. নাটকে ‘ওয়াটস’ কে?
উত্তর: ওয়াটস হলেন ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি (Resident), যিনি সিরাজের দরবারে উপস্থিত থাকতেন।
৬. ‘মঁসিয়ে লা’ কে?
উত্তর: মঁসিয়ে লা হলেন সিরাজদৌলার দরবারে উপস্থিত ফরাসি প্রতিনিধি।
৭. “এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করো।” — কাকে এই কথা বলা হয়েছে? উত্তর: সিরাজ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে এই কথা বলেছেন।
৮. ওয়াটস দরবার ত্যাগের সময় কী বলেছিলেন?
উত্তর: ওয়াটস বলেছিলেন — “Farewell, Your Excellency!”
৯. “আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।” — কাকে, কেন এ কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সিরাজ ফরাসি দূত মঁসিয়ে লা-কে এ কথা বলেছেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফরাসিদের সাহায্য করতে না পারার জন্য তিনি এই ক্ষমা চেয়েছেন।
১০. “আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।” — বক্তা কে?
উত্তর: বক্তা হলেন নবাব সিরাজদৌলা। তিনি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা জেনেও যুদ্ধের আগে সেনাপতিকে প্রকাশ্যে লজ্জা না দিয়ে এই কথা বলেছেন।
১১. ঘসেটি বেগম সিরাজের কে?
উত্তর: ঘসেটি বেগম সিরাজের মাসি।
১২. “আমার রাজ্য নাই, তাই আমার কাছে রাজনীতিও নাই—আছে শুধু প্রতিহিংসা।” — বক্তা কে? উত্তর: বক্তা হলেন ঘসেটি বেগম।
১৩. “ওই ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী?” — বক্তা কে?
উত্তর: বক্তা নবাব সিরাজদৌলা।
১৪. লুৎফার পরিচয় কী?
উত্তর: লুৎফা (লুৎফুন্নিসা বেগম) হলেন বাংলা, বিহার ও ওড়িশার ভাগ্যবিড়ম্বিত নবাব সিরাজদৌলার প্রিয়তমা পত্নী।
১৫. “জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়—পলাশি, রাক্ষসী পলাশি!” — বক্তা কখন এ কথা বলেছেন? উত্তর: পলাশির যুদ্ধের পূর্বে, লুৎফার সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে সিরাজ এ কথা বলেছেন।
১৬. “বাংলার ভাগ্যাকাশ আজ দুর্যোগের ঘনঘটা” — কার উক্তি?
উত্তর: নবাব সিরাজদৌলার উক্তি।
১৭. পলাশির যুদ্ধ কত খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল?
উত্তর: পলাশির যুদ্ধ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন হয়েছিল।
১৮. শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের একটি সামাজিক ও একটি ঐতিহাসিক নাটকের নাম লেখো।
উত্তর: সামাজিক নাটক — ‘রক্তকমল’; ঐতিহাসিক নাটক — ‘গৈরিক পতাকা’।
খ · সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান: ৩)

১. “এই মুহূর্তে তুমি আমার দরবার ত্যাগ করো।” — বক্তা কাকে, কেন, কোন দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকাংশে উদ্ধৃতিটির বক্তা হলেন নবাব সিরাজদৌলা। তিনি ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটসকে তাঁর দরবার ত্যাগ করতে বলেছেন।
দরবার ত্যাগের কারণ: সিরাজ সিংহাসনে বসে কলকাতা ফোর্ট উইলিয়ামের দুর্গ অধিকার করে ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের সন্ধি করেছিলেন। কিন্তু ইংরেজরা সেই সন্ধির শর্তবলি লঙ্ঘন করেছে এবং চন্দননগর আক্রমণ করে ফরাসি বাণিজ্যকুঠি দখল করেছে।
আরও মারাত্মক বিষয় — ওয়াটস তাঁরই দরবারে বসে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন, সভাসদদের উত্তেজিত করেছেন, কলকাতায় ইংরেজদের নির্দেশ পালন করেছেন। এই বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত হলেও সিরাজ কেবল দরবার ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।
২. “আমার এই অক্ষমতার জন্য তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।” — কে, কার উদ্দেশ্যে, কেন মন্তব্যটি করেছেন?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকে সিরাজদৌলা ফরাসি দূত মঁসিয়ে লা-কে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্যটি করেছেন।
যে সময় এই নাটকের প্রেক্ষাপট, সেই সময় ইউরোপে ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল, যার আঁচ এসে পড়েছিল বাংলাতেও। ইংরেজরা ফরাসিদের বাণিজ্যকুঠি চন্দননগর দখল করেছিল। এমন সময় ফরাসি দূত নবাবের সাহায্য চাইতে এলেন।
কিন্তু নবাব সিরাজদৌলা বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব থাকা সত্ত্বেও সাহায্যের আশ্বাস দিতে পারেননি। কারণ কলকাতা জয় ও পূর্ণিয়ার শওকতজঙ্গের যুদ্ধে তাঁর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, মন্ত্রিমণ্ডলও যুদ্ধের পক্ষে নয়। ফরাসিদের প্রতি সহানুভূতি থাকলেও ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগঠিত করতে না পারার এই অসমর্থতার জন্যই তিনি ক্ষমা চেয়েছেন।
৩. “আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন।” — কার উক্তি? কেন এই মন্তব্য করা হয়েছে?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকাংশে এই উক্তি নবাব সিরাজদৌলার।
নাটকে সিরাজ জেনেছেন যে তাঁর সিপাহসালার মীরজাফর ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি ওয়াটসের লেখা সেই গোপন চিঠি নবাবের হাতে এসে পড়েছে।
কিন্তু সিরাজ একটি সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়েছেন। পলাশির যুদ্ধ আসন্ন। এই মুহূর্তে প্রকাশ্যে দরবারে মীরজাফরকে লজ্জা দিলে যুদ্ধের ঠিক আগে সেনাপতি হারাবেন। তাই তিনি কৌশলগতভাবে মীরজাফরকে শাস্তি না দিয়ে শপথ নিয়ে এক করার চেষ্টা করেন।
এই পরিস্থিতিতেই তিনি বলেন — আজ বিচারের দিন নয়, সৌহার্দ্য স্থাপনের দিন। এই উক্তিতে সিরাজের দূরদর্শিতা এবং কোমল মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়।
৪. “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা” — কোন কারণে ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে এসেছিল?
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকে এই উক্তি সিরাজদৌলার।
সিরাজদৌলা সিংহাসনে বসার পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন। একদিকে যেমন ঘসেটি বেগম, শওকতজঙ্গ তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিলেন; অন্যদিকে তাঁর অনুগত কর্মচারী মীরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ, রাজবল্লভ প্রকৃতপক্ষে সিরাজের পক্ষে ছিলেন না।
আবার সিংহাসনে বসার পরই নবাব জড়িয়ে পড়েছিলেন ইংরেজদের সঙ্গে আলিনগরের যুদ্ধে। ইংরেজরা সেই যুদ্ধের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুখিয়ে ছিল। ইং-ফরাসি প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলার রাজনৈতিক শান্তি বিঘ্নিত করছিল।
এই অবস্থায় ঘরে-বাইরে বিপদের মুখে বিপন্ন সিরাজদৌলা বুঝেছিলেন যে বাংলার ভাগ্যাকাশে ঘনিয়ে এসেছে দুর্যোগের ঘনঘটা, যা রূপ নেবে কোনো অন্তর্ঘাত অথবা নির্ণায়ক যুদ্ধে।
৫. “ওই ঘসেটি বেগম মানবী না দানবী?” — বক্তা কে? পাঠ্যাংশ অনুসারে ঘসেটি বেগমের চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকে উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন নবাব সিরাজদৌলা। তিনি লুৎফার কাছে ঘসেটি বেগম সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছেন।
ঘসেটি বেগমের চরিত্র: ঘসেটি বেগম হলেন সিরাজের মাসি। তিনি চাননি সিরাজ বাংলার নবাব হোক। সিরাজ সিংহাসনে বসার পর থেকেই তিনি চক্রান্ত করতে শুরু করেন। এই নাটকের প্রথম থেকেই আমরা তাকে দেখি চক্রান্তকারী, ষড়যন্ত্রকারীরূপে। তাঁর সেই চক্রান্ত সম্পর্কে অবগত হয়েই সিরাজ মতিঝিল থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদে নিয়ে আসেন।
নাটকে তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে যে নিষ্ঠুরতা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও নির্মম মানসিকতা উঠে আসে, তাতে নারীসুলভ কমনীয়তা বা মাতৃমেহের ন্যূনতম স্পর্শটুকু নেই। এজন্যই লুৎফা তাঁকে ‘মানবী না দানবী’ বলে প্রশ্ন করেছেন।
গ · ব্যাখ্যাধর্মী / রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান: ৫)
১. ‘সিরাজদৌলা’ নাটকাংশ অনুসারে সিরাজের চরিত্রের বিশেষত্বগুলি আলোচনা করো। (৫)
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাটকে শচীন্দ্রনাথ সিরাজ চরিত্রটিকে জাতীয়তাবাদের আলেকে একেঁছেন। তাই তিনি সিরাজের নামে সংকলিত নাটকাংশে সিরাজকে কেন্দ্রীয় চরিত্র।
অকুণ্ঠ দেশপ্রেম: বিদেশি ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে বাংলার মান-মর্যাদা বাঁচাতে সিরাজ সর্বদা তৎপর ছিলেন। তিনি বলেছেন — “সবার আগে বলি—বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আমাকে সাহায্য করুন।” নাট্যাংশে তাঁর মাত্র পেনেরো মাসের রাজত্বেও এই দেশপ্রেম সুস্পষ্ট।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা: সিরাজ ঘোষণা করেছেন — “বাংলা শুধু হিন্দুর নয়, বাংলা শুধু মুসলমানের নয়—মিলিত হিন্দু-মুসলমানের মাতৃভূমি গুলবাগ এই বাংলা।” এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে একজন মহান জাতীয় নেতার মর্যাদা দেয়।
মহানুভবতা ও ক্ষমাশীলতা: ওয়াটসের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে শুধু দরবার ছাড়তে বলেছেন। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা জেনেও প্রকাশ্যে শাস্তি দেননি — বরং সৌহার্দ্য স্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
দুরদর্শিতা: সিরাজ কিন্তু নির্বোধ নন। তিনি বুঝতে পেরেছেন যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই একমাত্র পথ। তাই শেষপর্যন্ত মীরজাফরসহ সকলকে একত্রিত করে পলাশির যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
আবেগপ্রবণতা: প্রশাসনিক দুর্বলতা স্বীকার করেছেন অকপটে — “আমাকে অযোগ্য মনে করে কাউকে যদি এই সিংহাসনে বসাতে চান, আমি হষ্টমনে সিংহাসন ছেড়ে দেব।” সব মিলিয়ে এই নাটকে সিরাজের আবেগপ্রবণ, স্বদেশ-অনুরাগী, সহিষ্ণু, কর্তব্যপরায়ণ, দূরদর্শী, নিভীক ও বন্ধুবৎসল চরিত্রটি অত্যন্ত মনোরম হয়ে উঠেছে।
২. “জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়—পলাশি, রাক্ষসী পলাশি!” — বক্তা কখন একথা বলেছেন? উক্তিটির মধ্য দিয়ে বক্তার কোন মানসিকতা ফুটে উঠেছে? (২+৩)
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদৌলা’ নাটকাংশের শেষপর্যায়ে লুৎফার সঙ্গে কথোপকথনকালে সিরাজ এই কথা বলেছেন। পলাশির প্রান্তরে আসন্ন যুদ্ধের কথা ভাবতে ভাবতে, আসন্ন বিপদের আভাস পেতে পেতে তিনি এই উক্তি করেছেন।
বক্তার মানসিকতা: এই উক্তিটির মধ্যে সিরাজের মানসিকতার একাধিক স্তর ধরা পড়েছে।
প্রথমত, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। পলাশির প্রান্তর কোনোদিন পলাশ-ফুলের আগুনে রাঙা ছিল — আজ সেখানে রক্তের তৃষ্ণা। এই যুদ্ধে কার রক্ত পড়বে — নিজের, না শত্রুর — তা তিনি জানেন না। এই অনিশ্চয়তাই তাঁকে গ্রাস করেছে।
দ্বিতীয়ত, গভীর মানসিক যন্ত্রণা। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্রে ক্লান্ত, পরিজন-বিরোধে ক্ষতবিক্ষত সিরাজের হৃদয় এই চূড়ান্ত যুদ্ধের কথা ভেবে কেঁপে উঠছে।
তৃতীয়ত, বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারাক্রান্ত উপলব্ধি। তিনি বুঝতে পারছেন — এই যুদ্ধে পরাজিত হলে বাংলার স্বাধীনতা চিরতরে ডুবে যাবে। পলাশির মাটি তাই তাঁর কাছে ‘রাক্ষসী’ মনে হচ্ছে — কারণ এই মাটিতেই হয়তো বাংলার স্বাধীনতার সমাধি হবে।
৩. ‘সিরাজদৌলা’ নাটকে লুৎফা চরিত্রটি কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে? (৫)
উত্তর: শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদৌলা’ নাটকাংশে লুৎফা তুলনামূলকভাবে ছোটো কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র।
লুৎফা হলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার ভাগ্যবিড়ম্বিত নবাব সিরাজদৌলার প্রিয়তমা পত্নী। যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, কূটসা, দেশ ও হিংসায় যখন সিরাজ ক্ষতবিক্ষত, তখন যোগ্য সহধর্মিণীর মতোই লুৎফা সিরাজের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। সিরাজের প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ ভালোবাসা স্পষ্ট।
নাটকে লুৎফার ভূমিকা মূলত দুটি দিকে:
প্রথমত, ঘসেটি বেগমের সঙ্গে সিরাজের সংঘাত যখন তীব্র রূপ নেয়, তখন লুৎফা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ঘসেটি বেগমের প্রতি সিরাজের রাগ নিয়ন্ত্রণে লুৎফার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
দ্বিতীয়ত, নাটকের শেষে লুৎফার সঙ্গে সিরাজের একান্ত কথোপকথনে পলাশির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিরাজের উদ্বেগ, যন্ত্রণা ও প্রেম একসঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃশ্যে লুৎফার নীরব উপস্থিতি সিরাজের ভেতরের মানুষটিকে আমাদের সামনে তুলে ধরে।
লুৎফার চোখে জল দেখে সিরাজ বলেছিলেন — “আপনার চোখে জল আমি যে সইতে পারি না।” এই ছোট্ট উক্তিই দুজনের সম্পর্কের গভীরতা বুঝিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে লুৎফা চরিত্রটি এই নাটকে বিপর্যস্ত নবাবের পাশে দাঁড়ানো একজন অকুণ্ঠ প্রেমময় জীবনসঙ্গিনী হিসেবে অত্যন্ত মানবিক ও হৃদয়গ্রাহী।
অভিষেক — মাইকেল মধুসূদন দত্ত | Class 10 বাংলা মেঘনাদবধ কাব্য আলোচনা
বহুরূপী
হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | শ্রীপান্থ | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী
- বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক MCQ (Inverse Trigonometric Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের দ্বিতীয় ইউনিট বিপরীত ত্রিকোণমিতিক অপেক্ষক (Inverse Trigonometric Functions) — এখানে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় যোগ-বিয়োগের সূত্রে … - সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ প্রশ্নোত্তর — HS তৃতীয় সেমিস্টার গণিত (WBCHSE 2026)
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ ও অ্যাসারশন-রিজন প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যাসহ। WBCHSE সিলেবাস অনুযায়ী প্র্যাকটিসের জন্য আদর্শ। সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) প্রশ্নোত্তর — উচ্চমাধ্যমিক তৃতীয় সেমিস্টার গণিত উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার গণিতের সিলেবাসে সম্বন্ধ ও অপেক্ষক MCQ (Relations and Functions) অধ্যায়টা প্রথম ইউনিট হলেও এখানেই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী … - তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ” অধ্যায়ের প্রশ্ন উত্তরসহ। লেঞ্জের সূত্র, আবেশাঙ্ক, ট্রান্সফরমার, AC বর্তনী সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের পঞ্চম ও শেষ মূল ইউনিট তড়িৎ চুম্বকীয় আবেশ ও পরিবর্তী প্রবাহ — এখানে লেঞ্জের সূত্র, স্ব-আবেশ, পারস্পরিক … - তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা – HS 3rd Semester Physics MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা” সংক্রান্ত মডেল প্রশ্নপত্রের প্রশ্ন উত্তরসহ তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: HS 3rd Semester Physics প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার সিলেবাসে তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা টপিকটা মূল ৫টা ইউনিটের মতো আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ Model Question Paper হিসেবে আসেনি — বরং সাধারণ মিশ্র মক টেস্ট (Set-I … - তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। বায়ো-সাভার্ট সূত্র, সাইক্লোট্রন, চুম্বকত্ব সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তৃতীয় সেমিস্টারের চতুর্থ অধ্যায় তড়িৎ প্রবাহের চৌম্বক ক্রিয়া ও চুম্বকত্ব — এখানে বায়ো-সাভার্ট সূত্র, অ্যাম্পিয়ারের সূত্র, সাইক্লোট্রন … - প্রবাহী তড়িৎ – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “প্রবাহী তড়িৎ” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। কারেন্ট, রোধ, পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। প্রবাহী তড়িৎ: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর প্রবাহী তড়িৎ অধ্যায়টা তৃতীয় সেমিস্টারের মধ্যে সবচেয়ে “প্র্যাকটিক্যাল” — এখানেই পোটেনশিওমিটার, মিটার ব্রিজ, শান্ট-গ্যালভানোমিটারের মতো যন্ত্রের হিসাব আসে, যেগুলো ল্যাব পরীক্ষাতেও কাজে লাগে। নিচে … - স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। ধারক নেটওয়ার্ক, বিভব ও শক্তি সংক্রান্ত সব প্রশ্ন এখানে। স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়ের পরের ধাপ হলো স্থিরতড়িৎ বিভব ও ধারকত্ব — এই অধ্যায়ে বিভব, বিভব প্রভেদ, ধারকত্বের … - তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র – HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর
উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পদার্থবিদ্যার “তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র” অধ্যায়ের সবকটি MCQ প্রশ্ন উত্তরসহ। WBCHSE বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য আদর্শ। তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র: HS 3rd Semester Physics সম্পূর্ণ MCQ প্রশ্নোত্তর উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টারের পদার্থবিদ্যা পরীক্ষায় তড়িৎ আধান ও তড়িৎ ক্ষেত্র অধ্যায়টি নম্বর তোলার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর একটি। … - আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর | HS সংস্কৃত তৃতীয় সেমিস্টার সাজেশন ২০২৬
উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার সংস্কৃত ‘আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের গ্রন্থ’ অধ্যায়ের আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর সম্পূর্ণ MCQ, শূন্যস্থান, স্তম্ভ মিলিয়ে, অ্যাসারশন-রিজন ও সত্য-মিথ্যা প্রশ্ন উত্তর। আর্যভট্ট প্রশ্ন উত্তর — HS সংস্কৃত তৃতীয় সেমিস্টার সম্পূর্ণ সাজেশন উচ্চ মাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার সংস্কৃত পাঠ্যক্রমের পৌরাণিক ও লৌকিক সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস ইউনিটের শেষ টপিক ‘আর্যভট্ট ও ব্রহ্মগুপ্তের …