অন্নপূর্ণা যোজনায় ভেরিফিকেশন শুরু হয়ে গেল — কারা বাদ পড়বেন, পোর্টাল কোথায়, কীভাবে চেক করবেন? সম্পূর্ণ আপডেট

Table of Contents

অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন শুরু, পোর্টালও চালু — এখনই জেনে নিন আপনার কী করণীয়

গতকাল যে বিজ্ঞপ্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার ঘোষণা হয়েছিল, তার পরের ধাপ শুরু হয়ে গেছে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেক্রেটারির পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM) এবং কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কমিশনারকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে — “Request for Verification of Annapurna Yojana Beneficiary”

মানে, শুধু ঘোষণাতেই থামেনি — যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়ে গেছে। এবং এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে ২৫ মে ২০২৬-এর মধ্যেই।


কেন এই অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন?

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সমস্ত সুবিধাভোগী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনায় আসবেন — এটা ঠিকই আছে। কিন্তু এর মধ্যে কিছু নাম আছে যাদের বাদ দেওয়া দরকার। সেই বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াটাই এখন চলছে। চারটি ক্যাটাগরিতে যাচাই করা হচ্ছে —

প্রথমত, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত ভোটার তালিকার ড্রাফটে যারা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন এবং পরে Form 6-এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হননি।

দ্বিতীয়ত, ড্রাফট তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় তালিকায় যাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, বিচার-নিষ্পত্তির পর যাদের নাম বাতিল করা হয়েছে।

চতুর্থত, ভোটার তথ্য স্লিপ বিতরণের সময় যারা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট পাওয়া গেছেন।


অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন এ কী কী তথ্য পাঠাতে হবে?

জেলাশাসকদের একটি নির্দিষ্ট ছকে এই তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে —

  • সুবিধাভোগীর নাম
  • লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদন আইডি
  • আধার নম্বর
  • কোন কারণে অযোগ্য — উপরের ১, ২, ৩ বা ৪ নম্বর কারণ
  • SIR ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন কিনা বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে আবেদন করেছেন কিনা
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আধারের সাথে লিঙ্কড কিনা এবং আধার নম্বর সঠিক কিনা

অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশনএ কি আমার নাম বাদ পড়বে?

এই প্রশ্নটা এখন হাজারো পরিবারের মাথায় ঘুরছে — সেটা স্বাভাবিক।

সহজ করে বললে — যদি আপনি বর্তমানে সক্রিয় ভোটার তালিকায় আছেন, মৃত বা স্থানান্তরিত নন, এবং আধার কার্ড ব্যাংকের সাথে সঠিকভাবে লিঙ্কড আছে — তাহলে চিন্তার কারণ নেই। আপনার নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তবে যদি আধার-ব্যাংক লিঙ্কিং না থাকে — সেটা এখনই ঠিক করিয়ে নিন। কারণ টাকা সরাসরি আধার-লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাবে। লিঙ্কিং না থাকলে টাকা আসবে না।


অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন পোর্টাল চালু হয়েছে — কোথায় যাবেন?

সুখবর হলো, অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন এর ডিজিটাল পোর্টাল ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেছে।

পোর্টালের ঠিকানা: 🔗 https://socialsecurity.wb.gov.in/login

এই পোর্টালের মাধ্যমে —

  • নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করা যাবে
  • নতুন আবেদন করা যাবে (১ জুন থেকে)
  • তথ্য যাচাই করা যাবে

পোর্টালে ঢুকলে বাঁদিকে “অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল” লেখা দেখতে পাবেন।


পোর্টালে সমস্যা হচ্ছে — কী করবেন?

সততার সাথে বলতে গেলে, অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন পোর্টালটি সদ্য চালু হওয়ায় এই মুহূর্তে সার্ভারে কিছুটা চাপ আছে। অনেকে স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে সঠিক তথ্য দেখতে পাচ্ছেন না। নতুন আবেদনের অপশনও এখনো দেখা যাচ্ছে না — শুধু লগইনের অপশন আছে।

তবে এটা সাময়িক সমস্যা। সার্ভারের চাপ কমলে এবং কারিগরি ত্রুটি দূর হলে পোর্টাল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন সঠিক মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সব তথ্য দেখতে পারবেন।

তাই এই মুহূর্তে বারবার চেষ্টা করে হতাশ না হয়ে — একটু অপেক্ষা করুন। ১ জুনের আগেই পোর্টাল সম্পূর্ণ চালু হওয়ার কথা।


গ্রামীণ ও শহর এলাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা

ভেরিফিকেশন ও নতুন আবেদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে —

  • গ্রামীণ এলাকায় — BDO অফিস
  • শহরাঞ্চলে — SDO অফিস
  • কলকাতা পৌর এলাকায় — KMC অফিসার

এঁরাই আবেদন যাচাই করে জেলাশাসকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠাবেন।


এখনই যা করবেন

একটু সময় নিয়ে এই তিনটি কাজ করে ফেলুন —

এক, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আধার লিঙ্কড আছে কিনা যাচাই করুন। না থাকলে নিকটবর্তী ব্যাংকে গিয়ে এখনই করিয়ে নিন।

দুই, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম থাকলে আলাদা আবেদনের দরকার নেই — শুধু নিশ্চিত করুন যে আপনার ভোটার কার্ড সক্রিয় আছে।

তিন, নতুন আবেদন করতে চাইলে ১ জুন ২০২৬-এর পর পোর্টালে গিয়ে অনলাইনে আবেদন করুন।


সব মিলিয়ে, প্রক্রিয়াটা দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। পর্ষদের লক্ষ্য স্পষ্ট — ১ জুনের মধ্যে সব সাজিয়ে-গুছিয়ে নিয়ে সেদিন থেকেই টাকা পাঠানো শুরু করা। তাই এখন থেকেই প্রস্তুত থাকুন।


তথ্যসূত্র: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেক্রেটারির বিজ্ঞপ্তি এবং Annapurna Yojana Portal — socialsecurity.wb.gov.in

আরো দেখুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে এলো অন্নপূর্ণা যোজনা — এবার প্রতি মাসে ₹৩০০০! কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

আরো দেখুন: ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব মহিলা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন — ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন?

আরো দেখুন: ভারতীয় সংবিধান ও সাধারণ জ্ঞানের জাতীয় প্রতিযোগিতা — বিশ্বরূপ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোও অংশ নিতে পারবে, জানুন সম্পূর্ণ তথ্য

  • বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
    বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। …

    Read more

  • বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
    বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — …

    Read more

  • মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
    মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা …

    Read more

  • নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
    দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা …

    Read more

  • বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
    দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, …

    Read more

  • অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
    দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কবি পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর: সারসংক্ষেপ জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ একটি যুগসচেতন ও মানবতাবাদী কবিতা। তিনটি অসমান স্তবকে — পাঁচ, ছয় ও সাত পঙক্তিতে — কবি এঁকেছেন হিংসার বিরুদ্ধে গানের এক অনন্য বিদ্রোহ। কবিতায় …

    Read more

Leave a Comment