রাজ্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর। গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর (Backward Classes Welfare Department) থেকে ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে দুটি নতুন বিজ্ঞপ্তি (Notification No. 944-BCW এবং 945-BCW) প্রকাশিত হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে এই নতুন বিজ্ঞপ্তিগুলো জারি করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ নীতি র পুরো কাঠামোতে একটি বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আসুন সহজ ভাষায় বুঝে নিই এই নোটিশে ঠিক কী বলা হয়েছে এবং চাকরির ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হতে পারে।
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ এবং ওবিসি সংরক্ষণ নীতি

এই নতুন পরিবর্তনের ভিত্তি হলো কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের একটি যুগান্তকারী রায় যা ২২ মে ২০২৪ তারিখে দেওয়া হয়েছিল। আগে রাজ্যে ওবিসিদের দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মোট ১৭% সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া হতো। এর মধ্যে ওবিসি-এ (OBC-A) ক্যাটাগরির জন্য ১০% এবং ওবিসি-বি (OBC-B) ক্যাটাগরির জন্য ৭% আসন সংরক্ষিত থাকত।
কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট এই বিভাজন এবং বর্ধিত ওবিসি সংরক্ষণ নীতি খারিজ করে দেয়। তবে আদালত ২০১০ সালের আগে রাজ্যের ওবিসি তালিকায় থাকা ৬৬টি (৬৬) নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের সংরক্ষণে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, শুধুমাত্র এই ৬৬টি সম্প্রদায়ই রাজ্যে ৭% ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা পাবে।
বাতিল হলো একাধিক পুরনো নির্দেশিকা
আদালতের রায়কে কার্যকর করতে রাজ্য সরকার আগের বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা বাতিল করেছে। ১৮ মে ২০২৬ তারিখের ৯৪৪-বিসিডব্লিউ (944-BCW) বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত বছর (২০২৫ সালের মে ও জুন মাসে) জারি করা ৫টি ওবিসি সংরক্ষণ বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এর মানে হলো, পুরনো নিয়মে আর কোনো নিয়োগ বা ওবিসি সংরক্ষণ নীতি র সুবিধা মিলবে না।
১০০-পয়েন্ট রোস্টারে বড় পরিবর্তন
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসতে চলেছে রাজ্য সরকারের কর্মী নিয়োগের ‘মডেল ১০০-পয়েন্ট রোস্টার‘ বা সংরক্ষণের হিসাব নিকাশে।
অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তরের সচিব সঞ্জয় বনসাল শ্রম দপ্তরকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে নতুন বিজ্ঞপ্তির ওপর ভিত্তি করে বর্তমান ১০০-পয়েন্ট রোস্টারটি সংশোধন করতে হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এর অর্থ কী? যদি একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা যায় তবে দেখা যাবে এটি একটি বিশাল পরিবর্তন। আগে রাজ্য স্তরের চাকরিতে ১৭% আসন ওবিসিদের জন্য বরাদ্দ থাকত। এখন সেটি কমে ৭% হয়ে গেল। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে শূন্যপদের (Vacancy) বন্টনে। জেনারেল বা অসংরক্ষিত ক্যাটাগরির প্রার্থীদের জন্য আনুপাতিক হারে সুযোগ কিছুটা বাড়তে পারে। অন্যদিকে যারা আগে নতুন তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে ওবিসি সংরক্ষণের সুবিধা পেতেন তারা এবার থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতেই বিবেচিত হবেন।
কোন ৬৬টি সম্প্রদায় এই ৭% সংরক্ষণের সুবিধা পাবে?

সরকারের ৯৪৫-বিসিডব্লিউ (945-BCW) বিজ্ঞপ্তিতে সেই ৬৬টি সম্প্রদায়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যারা এবার থেকে রাজ্য সরকারি চাকরি এবং অন্যান্য পরিষেবায় ৭% সংরক্ষণের সুবিধা পাবে।
এই তালিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সম্প্রদায় হলো:
- কপালী এবং বৈশ্য কপালী (Kapali, Baishya Kapali)
- কুর্মি (Kurmi)
- সূত্রধর (Sutradhar)
- কর্মকার (Karmakar)
- কুম্ভকার (Kumbhakar)
- স্বর্ণকার (Swarnakar)
- কলু, তেলি (Teli, Kolu)
- নাপিত (Napit)
- গোয়ালা, গোপ (Goala, Gope এবং সংশ্লিষ্ট উপাধি)
- তাঁতি (Tanti)
- জোলা (Jolah – Ansari-Momin)
- ফকির (Fakir, Sain)
৬৬টি জাতির নাম PDF

(সম্পূর্ণ ৬৬টি জাতির নাম দেখতে সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.anagrasarkalyan.gov.in ভিসিট করতে পারেন অথবা আমাদের সংযুক্ত পিডিএফটি দেখতে পারেন।)
এই পদক্ষেপটি মূলত আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার একটি উদ্যোগ। অনেকদিন ধরেই ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের কারণে রাজ্যে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছিল। ১০০-পয়েন্ট রোস্টারটি একবার সংশোধিত হয়ে গেলে আটকে থাকা নিয়োগগুলো দ্রুত শুরু হওয়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে এই সিদ্ধান্ত অনেক প্রার্থীর জন্যই হতাশার কারণ হতে পারে যারা এতদিন নিজেদের ওবিসি এ বা বি ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত বলে জানতেন কিন্তু নতুন এই ৬৬টি সম্প্রদায়ের তালিকায় তাদের নাম নেই।
আপনাদের এই নতুন নিয়ম নিয়ে কী মতামত? এটি কি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনবে নাকি প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলবে? কমেন্ট করে আমাদের জানান।
আরো দেখুন: PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: ২২তম কিস্তি থেকে Farmer ID — সব কিছু এক জায়গায় জানুন
- বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। … - বাচ্য | দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও সারসংক্ষেপ | WBBSE Class 10
বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, MCQ, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর। কর্তৃবাচ্য, কর্মবাচ্য, ভাববাচ্য ও কর্মকর্তৃবাচ্য বিস্তারিত আলোচনাসহ। WBBSE পরীক্ষার জন্য আদর্শ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ বাচ্য দশম শ্রেণী বাংলা ব্যাকরণ: অধ্যায় সারসংক্ষেপ বাক্যের মধ্যে সমাপিকা ক্রিয়া কখনো কর্তার সঙ্গে, কখনো কর্মের সঙ্গে মিলে চলে, আবার কখনো কোনোটির সঙ্গেই মিলে না — … - মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ২০২৫ | WBBSE দশম শ্রেণি বাংলা নম্বর বিভাজন সম্পূর্ণ গাইড
মাধ্যমিক বাংলা নতুন প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বিভাজন বিস্তারিত জানুন। MCQ, VSA, SA এবং রচনাধর্মী প্রশ্নের মার্কস, শব্দ সীমা ও পরীক্ষার কৌশল — সব কিছু এক জায়গায়। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হল — প্রশ্নের কাঠামো ভালোভাবে জানা। কোন বিভাগে কত নম্বর, কোন ধরনের প্রশ্ন আসে, উত্তর কতটা লম্বা হওয়া উচিত — এটা … - নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর | মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তকের নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পের বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন। লেখক পরিচিতি: নদীর বিদ্রোহ প্রশ্নোত্তর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮–১৯৫৬) বাংলা সাহিত্যের এক অসাধারণ প্রতিভাবান লেখক। তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। সাঁওতাল পরগনার দুমকায় তাঁর জন্ম, আদিনিবাস বর্তমান বাংলাদেশের অন্তর্গত ঢাকা … - বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রশ্নোত্তর | রাজশেখর বসু | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, লেখক পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন। রাজশেখর বসুর প্রবন্ধ বিশ্লেষণ ও মাধ্যমিক সাজেশন লেখক পরিচিতি রাজশেখর বসু (১৮৮০–১৯৬০) বাংলা সাহিত্যে ‘পরশুরাম‘ ছদ্মনামে চিরস্মরণীয়। ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ বর্ধমান জেলার শক্তিগড়ের কাছে বামুনপাড়ায় তাঁর জন্ম। বাংলা সাহিত্যে রসরচনার ক্ষেত্রে তিনি অতুলনীয়। ‘গড্ডালিকা’, … - অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর | জয় গোস্বামী | দশম শ্রেণি বাংলা সম্পূর্ণ গাইড
দশম শ্রেণির বাংলা পাঠ্যক্রমের অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর, সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ, কবি পরিচিতি ও প্রশ্নোত্তর — অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী। অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার প্রশ্নোত্তর: সারসংক্ষেপ জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ একটি যুগসচেতন ও মানবতাবাদী কবিতা। তিনটি অসমান স্তবকে — পাঁচ, ছয় ও সাত পঙক্তিতে — কবি এঁকেছেন হিংসার বিরুদ্ধে গানের এক অনন্য বিদ্রোহ। কবিতায় …