অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)

কবি পরিচিতি

পাবলো নেরুদা ছিলেন চিলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক এবং একইসঙ্গে দক্ষ কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি চিলির বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবতা, প্রেম, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী চেতনা তাঁর কবিতার মূল সুর। ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

অনুবাদক পরিচিতি অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর

নবারুণ ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন। উল্লেখযোগ্য রচনা— ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’, ‘রাতের সার্কাস’। তিনি নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য ও লেখিকা মহাশ্বেতা দেবীর সন্তান। মৃত্যু ২০১৪ সালের ৩১ জুলাই।

উৎস: নেরুদার ‘Extravagaria’ গ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতাটি নবারুণ ভট্টাচার্য ‘অসুখী একজন’ নামে অনুবাদ করেন, যা তাঁর ‘বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে’ কাব্যগ্রন্থে (২০১৩) স্থান পায়। ইংরেজি তরজমা: ‘The Unhappy One’।

সারসংক্ষেপ

সময়ের অতিবাহন
সময়ের অতিবাহন

কবি তাঁর প্রিয়তমাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে রেখে দূরে চলে যান। মেয়েটি জানত না তিনি আর ফিরবেন না, তাই অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। জগৎ তার নিজের ছন্দে চলতে থাকে— কুকুর হেঁটে যায়, সন্ন্যাসিনী পথ চলেন, বৃষ্টিতে পায়ের দাগ মুছে নতুন ঘাস জন্মায়।

এক বছর পর মেয়েটির ওপর বিচ্ছেদ-বেদনা নেমে আসে। এরপর যুদ্ধ আসে— বিশ্বাস, সংস্কার ভেঙে পড়ে, শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। তবু মেয়েটি অবিচল থেকে প্রেমিকের প্রতীক্ষা করে যায়, কারণ ভালোবাসা মানুষকে স্থিরচিত্ত রাখে। এই প্রতীক্ষা অন্তহীন, শাশ্বত, যার কোনো মৃত্যু নেই।


অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান ১)

যুদ্ধ ও ধ্বংসের প্রতীক
যুদ্ধ ও ধ্বংসের প্রতীক

১. কবিতাটির মূল রচয়িতা কে? — পাবলো নেরুদা।
২. অনুবাদক কে? — নবারুণ ভট্টাচার্য।
৩. নেরুদা কোন দেশের কবি? — চিলির।
৪. নেরুদা কত সালে নোবেল পান? — ১৯৭১ সালে।
৫. মূল কবিতাটির নাম ও গ্রন্থ কী? — ‘La Desdichada’, গ্রন্থ ‘Extravagaria’।
৬. অনূদিত কাব্যগ্রন্থের নাম কী? — ‘বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে’।
৭. ইংরেজি তরজমা কী? — ‘The Unhappy One’।
৮. কবি কাকে দরজায় দাঁড় করিয়ে গিয়েছিলেন? — তাঁর প্রিয়তমাকে।
৯. মেয়েটি কী জানত না? — কবি আর ফিরবেন না, এটা জানত না।
১০. এক বছর পর মেয়েটির ওপর কী নামে? — বিচ্ছেদ-বেদনা।
১১. পায়ের দাগ কীভাবে মুছল? — বৃষ্টির জলে।
১২. তার জায়গায় কী জন্মাল? — নতুন ঘাস।
১৩. কবিতায় বর্ণিত ধ্বংসাত্মক ঘটনা কী? — যুদ্ধ।
১৪. যুদ্ধে শহরের পরিণতি কী হয়? — ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
১৫. মেয়েটি কেন অবিচল ছিল? — ভালোবাসা তাকে স্থিরচিত্ত রাখে বলে।
১৬. কবিতা অনুসারে প্রতীক্ষার প্রকৃতি কী? — অন্তহীন, শাশ্বত, মৃত্যুহীন।
১৭. নবারুণ ভট্টাচার্যের পিতা-মাতা কে? — বিজন ভট্টাচার্য ও মহাশ্বেতা দেবী।
১৮. নেরুদা কত সালে শান্তি পুরস্কার পান? — ১৯৫০ সালে।
১৯. নবারুণের জন্ম-মৃত্যুসাল? — ১৯৪৮–২০১৪।
২০. কবিতায় গির্জার কোন চরিত্রের উল্লেখ আছে? — একজন সন্ন্যাসিনী (নান)।


সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (মান ২–৩)

অবিচল অপেক্ষা
অবিচল অপেক্ষা

১. কবিতার শুরুর বিরহ-দৃশ্যটি বর্ণনা করো।
কবি প্রিয়তমাকে দরজায় রেখে চলে যান; মেয়েটি না জেনেই অপেক্ষা করতে থাকে।

২. কবির যাওয়ার পরেও জগতের ছন্দ কীভাবে অব্যাহত ছিল?
কুকুর হাঁটে, সন্ন্যাসিনী পথ চলেন— জগৎ উদাসীনভাবে নিজের নিয়মে চলতে থাকে।

৩. প্রকৃতির মধ্যে কী পরিবর্তন লক্ষ করা যায়?
বৃষ্টি পায়ের দাগ মুছে দেয়, নতুন ঘাস জন্মায়— সময়ের প্রবাহ বোঝায়।

৪. যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বাস-সংস্কারের কী পরিণতি হয়?
প্রাচীন বিশ্বাস-সংস্কার ভেঙে পড়ে, মানুষ কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।

৫. যুদ্ধের ধ্বংসলীলা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
মানুষ প্রিয় জিনিস হারায়, শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

৬. ধ্বংসের মধ্যেও মেয়েটি কীভাবে প্রতীক্ষা বজায় রাখে?
তার মনোভাবের কোনো পরিবর্তন হয় না, ভালোবাসাই তাকে অবিচল রাখে।

৭. কবিতায় ভালোবাসাকে কীভাবে দেখানো হয়েছে?
ধ্বংসের মধ্যেও মানুষকে স্থিরচিত্ত রাখার শক্তি হিসেবে।

৮. শেষাংশে প্রতীক্ষার ব্যাখ্যা কী?
প্রতীক্ষা অন্তহীন, শাশ্বত, চিরসত্য, মৃত্যুহীন।

৯. নেরুদার সাহিত্যিক পরিচয় লেখো।
চিলির কবি-কূটনীতিবিদ, প্রেম-মানবতা-যুদ্ধবিরোধিতার কবি, নোবেলজয়ী (১৯৭১)।

১০. নবারুণের সাহিত্যিক পরিচয় লেখো।
প্রথাগত ধারার বাইরে ভিন্ন স্বাদের রচনার জন্য পরিচিত স্বতন্ত্র ধারার লেখক।


বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর (মান ৫)

অসুখী একজন
অসুখী একজন

১. কবিতায় প্রেম ও প্রতীক্ষার চিত্র আলোচনা করো।
প্রকৃতি ও সময় বদলালেও মেয়েটির প্রতীক্ষা অটুট থাকে— প্রকৃত ভালোবাসা সময় বা বিপর্যয়ে প্রভাবিত হয় না।

২. যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক চিত্র বিশ্লেষণ করো।
আগুন, ভাঙা বিশ্বাস, হারানো সামগ্রী, ধ্বংসস্তূপ শহর— যুদ্ধের সর্বগ্রাসী রূপ ফুটে ওঠে।

৩. নামকরণের তাৎপর্য আলোচনা করো।
নিরন্তর বিরহ-একাকিত্বে থাকা মেয়েটিই ‘অসুখী একজন’— তবে তার দুঃখ ভালোবাসার প্রতি নিষ্ঠারও প্রকাশ।

৪. সময়ের প্রবাহ বনাম ব্যক্তিগত বিরহের দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করো।
জগৎ বদলায়, কিন্তু মেয়েটির বিরহ-বেদনা অপরিবর্তিত থাকে— এই বৈপরীত্যই কবিতার মূল দ্বন্দ্ব।

৫. ভালোবাসাকে স্থৈর্যের উৎস হিসেবে কীভাবে দেখানো হয়েছে?
ধ্বংসের মধ্যেও মেয়েটি বিচ্যুত হয় না— ভালোবাসাই তার এই অবিচল প্রতীক্ষার উৎস।

অসুখী একজন, পাবলো নেরুদা, নবারুণ ভট্টাচার্য, দশম শ্রেণি বাংলা, মাধ্যমিক বাংলা, অনুবাদ কবিতা, বাংলা সাহিত্য, মাধ্যমিক প্রশ্ন উত্তর, WBBSE বাংলা, ক্লাস ১০ বাংলা কবিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল । প্রশ্ন গুলো দেওয়া আছে , সেগুলোকে বিস্তারিত ভাবে লেখার চেষ্টা করতে হবে।

টাইকো ব্রাহে: যে জ্যোতির্বিদ নাক হারিয়েও আকাশ দেখা থামাননি

জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী

  • বহুরূপী
    লেখক-পরিচিতি বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান নাম সুবোধ ঘোষের জন্ম ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ সেপ্টেম্বর, বিহারের হাজারিবাগে। আদি নিবাস ছিল বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর মহকুমার বহর গ্রামে। হাজারিবাগের সেন্ট কলম্বাস কলেজে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর কর্মজীবন ছিল অসাধারণ বর্ণময়। বাসের কন্ডাক্টর, টিউটর, ট্রাক ড্রাইভার, এমনকি সার্কাস পার্টিতে ক্লাউনের ভূমিকা পর্যন্ত — বহু পেশায় তাঁকে যেতে হয়েছে। এই …

    Read more

  • হারিয়ে যাওয়া কালি কলম প্রশ্ন উত্তর | শ্রীপান্থ | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    লেখক-পরিচিতি বাংলা সাহিত্য জগতে নিখিল সরকার ‘শ্রীপান্থ’ ছদ্মনামেই অধিক পরিচিত। তাঁর আরেকটি ছদ্মনাম ‘দৌবারিক’। জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ১ মে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক হওয়ার পর তরুণ বয়স থেকেই সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন — প্রথমে ‘যুগান্তর’, পরে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-য়। আনন্দবাজারের সোমবারের বিখ্যাত ‘কলকাতার কড়চা’ বিভাগটি দীর্ঘকাল …

    Read more

  • আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষের জন্ম ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের চাঁদপুরে (বর্তমানে বাংলাদেশ)। তাঁর আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ; পৈতৃক ভিটে ছিল বরিশাল জেলার বানারিপাড়া গ্রামে। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। …

    Read more

  • আফ্রিকা কবিতা | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | দশম শ্রেণি প্রশ্ন উত্তর
    কবি-পরিচিতি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে, কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুরবাড়িতে। শৈশব থেকেই সাহিত্যের আবহে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি খুব অল্প বয়স থেকেই ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘হিন্দুমেলার উপহার’, আর প্রথম সার্থক ছোটোগল্প হিসেবে সাহিত্য-সমালোচকেরা ‘দেনাপাওনা’-কে চিহ্নিত করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অজস্র কবিতা, গান, ছোটোগল্প, …

    Read more

  • অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)
    কবি পরিচিতি পাবলো নেরুদা ছিলেন চিলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক এবং একইসঙ্গে দক্ষ কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি চিলির বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবতা, প্রেম, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী চেতনা তাঁর কবিতার মূল সুর। ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার …

    Read more

  • জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী
    (দশম শ্রেণি, বাংলা — সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর) লেখক পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতায়। সেকালের সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁর প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটেনি, বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার সূচনা। অথচ এই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখেনি— নিজের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ আর মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে …

    Read more

Leave a Comment