জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী

(দশম শ্রেণি, বাংলা — সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর)

লেখক পরিচিতি

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতায়। সেকালের সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁর প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটেনি, বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার সূচনা। অথচ এই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখেনি— নিজের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ আর মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তিনি অসংখ্য উপন্যাস, ছোটোগল্প ও শিশু-কিশোর সাহিত্য রচনা করেছেন।

তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলির মধ্যে ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি‘, ‘সুবর্ণলতা‘, ‘বকুলকথা‘, ‘অগ্নিপরীক্ষা‘, ‘সাগর শুকায়ে যায়‘, ‘সোনার হরিণ‘ প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ উপন্যাসের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৭৮ সালে জ্ঞানপীঠ পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়াও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি.লিট উপাধি ও নানা রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তাঁর ঝুলিতে জমা পড়েছে। ১৯৯৫ সালের ১৩ জুলাই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

উৎস: ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি নেওয়া হয়েছে আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘কুঁকুম‘ ছোটোগল্প সংকলন থেকে।


গল্পের সারসংক্ষেপ জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর

পারিবারিক আড্ডা
পারিবারিক আড্ডা

গরমের ছুটিতে মামাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে কিশোর তপন। এই সময়েই তার ছোটোমাসির বিয়ে হয়— নতুন মেসোমশাই কলেজের অধ্যাপক, আর সেই সঙ্গে একজন সাহিত্যিকও বটে, যাঁর লেখা বইও ছাপা হয়। এই খবর শুনে তপনের চোখ কপালে ওঠে। এতদিন তার ধারণা ছিল, লেখক-সাহিত্যিক মানে বুঝি আকাশ থেকে পড়া কোনো আলাদা প্রজাতির মানুষ।

কিন্তু নতুন মেসোকে কাছ থেকে দেখে সে অবাক হয়ে বোঝে— ইনি তো তার বাবা, ছোটোমামা বা মেজোকাকুর মতোই একেবারে সাধারণ, রক্তমাংসের মানুষ। দাড়ি কামান, সিগারেট খান, স্নান করেন, ঘুমোন। এই আবিষ্কার তপনের মনে গভীর দাগ কাটে— তবে কি সে-ও লিখতে পারে?

এই ভাবনা থেকেই এক নিস্তব্ধ দুপুরে, বাড়ির সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন, তপন গোপনে তেতলার সিঁড়িতে বসে হোমটাস্কের খাতায় লিখে ফেলে একটি সম্পূর্ণ গল্প— নাম ‘প্রথম দিন’, বিষয়— স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি। লেখা শেষে নিজের লেখা পড়ে তারও গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে— এ যে সত্যিকারের গল্পের মতোই শোনাচ্ছে! আনন্দে-উত্তেজনায় সে ছুটে গিয়ে কথাটা জানায় তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছোটোমাসিকে। ছোটোমাসি গল্পটি স্বামীকে দেখান।

মেসো গল্পটি পড়ে জানান, লেখার হাত মন্দ নয়, একটু ‘কারেকশান’ করে দিলে পত্রিকায় ছাপা হতে পারে। এই আশ্বাসে তপনের আনন্দের সীমা থাকে না। বাড়িতে হইচই পড়ে যায়— তপনের নাম হয়ে যায় কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী! ছুটি শেষ হয়ে স্কুল খুলে যায়, কিন্তু মেসোর তরফে আর কোনো খবর আসে না।

তপন প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিল— এমন সময় ছোটোমাসি আর মেসো একদিন বেড়াতে আসেন, হাতে সেবারের ‘সন্ধ্যাতারা‘ পত্রিকা। তাতে ছাপা হয়েছে তপনের নামাঙ্কিত গল্প— ‘প্রথম দিন’ (গল্প), শ্রীতপন কুমার রায়!

সারা বাড়িতে খুশির বন্যা বয়ে যায়। মায়ের অনুরোধে লজ্জা কাটিয়ে তপন নিজের মুখে গল্পটি পড়তে বসে সকলের সামনে। কিন্তু পড়তে গিয়েই তার সব আনন্দ নিমেষে উবে যায়— প্রতিটি লাইন যেন সম্পূর্ণ অচেনা, নতুন। এ কার লেখা?

আসলে মেসো গল্পটিকে ‘কারেকশান’ করতে গিয়ে গোড়া থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের ভাষায় নতুন করে লিখে ফেলেছেন। ছাপা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে তপনের নিজস্বতা বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ভেতরে ভেতরে তপন এক গভীর, অব্যক্ত লজ্জা ও অপমানে দগ্ধ হতে থাকে। তার মনে হয়, এ যেন জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন।

এই তীব্র অপমান থেকেই তপন দৃঢ় সংকল্প নেয়— জীবনে যদি কখনও নিজের লেখা ছাপাতে দিতে হয়, তবে সে নিজে গিয়েই দেবে, নিজের কাঁচা লেখা যেমন আছে তেমনভাবেই। লেখা ছাপা হোক বা না হোক, কিন্তু তা হবে একান্তই তার নিজের।

এইভাবেই গল্পের নামকরণ সার্থক হয়ে ওঠে— তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যায়। সে বুঝতে পারে প্রকৃত সৃষ্টির মূল্য, আত্মমর্যাদার গুরুত্ব, এবং ধার করা প্রশংসার অসারতা।


জ্ঞানচক্ষু মূল বিষয়বস্তু ও শিক্ষা

চিঠি_পত্রিকা হাতে আনন্দ
চিঠি_পত্রিকা হাতে আনন্দ

আশাপূর্ণা দেবী এই ছোট্ট গল্পের মধ্য দিয়ে একটি কিশোর মনের স্বপ্ন, উচ্ছ্বাস, আশাভঙ্গ আর তা থেকে জেগে ওঠা আত্মমর্যাদাবোধের যাত্রাপথ চিত্রিত করেছেন। গল্পের কেন্দ্রীয় বার্তা হল— নিজের প্রচেষ্টায় অর্জিত সাফল্যের মূল্য অসীম, কিন্তু অন্যের দাক্ষিণ্যে পাওয়া মিথ্যা স্বীকৃতি কখনোই প্রকৃত আনন্দ বা সম্মান বয়ে আনতে পারে না।


গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ! জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর

ক) অতি সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (মান ১)

১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের রচয়িতা কে?
উত্তর: আশাপূর্ণা দেবী।

২. গল্পটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত?
উত্তর: ‘কুঁকুম’ ছোটোগল্প সংকলন থেকে।

৩. তপন কার বাড়িতে ছুটি কাটাচ্ছিল?
উত্তর: তার মামাবাড়িতে।

৪. তপনের ছোটোমাসির বিয়ে কার সঙ্গে হয়েছিল?
উত্তর: একজন কলেজের অধ্যাপক তথা সাহিত্যিকের সঙ্গে।

৫. নতুন মেসোর পেশা কী ছিল?
উত্তর: কলেজের অধ্যাপনা, পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা।

৬. তপন প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে কী ভাবত?
উত্তর: লেখকরা সাধারণ মানুষ নয়, আলাদা কিছু— এমনটাই ভাবত।

৭. নতুন মেসোকে দেখে তপনের ধারণা কীভাবে বদলাল?
উত্তর: বোঝে সাহিত্যিকরাও দাড়ি কামানো, স্নান-খাওয়ার মতো সাধারণ জীবনযাপন করেন।

৮. তপন গল্পটি কোথায় বসে লিখেছিল?
উত্তর: মামাবাড়ির তেতলার নির্জন সিঁড়িতে।

৯. তপনের লেখা গল্পের নাম কী?
উত্তর: ‘প্রথম দিন’।

১০. গল্পের বিষয়বস্তু কী ছিল?
উত্তর: স্কুলে ভর্তি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা।

১১. তপন সবার আগে কাকে গল্প লেখার কথা জানায়?
উত্তর: ছোটোমাসিকে।

১২. কোন পত্রিকায় গল্পটি ছাপা হয়?
উত্তর: ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায়।

১৩. ছাপার পর বাড়ির লোকেরা তপনকে কী বলে ডাকত?
উত্তর: কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী।

১৪. গল্পটি কার সংশোধনের পর ছাপা হয়?
উত্তর: নতুন মেসোর সংশোধনের পর।

১৫. গল্প পড়তে গিয়ে তপন কেন হতবাক হয়?
উত্তর: প্রতিটি লাইন অচেনা লাগে, নিজের লেখা কিছুই খুঁজে পায় না।

১৬. তপনের গল্পের প্রকৃত পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তর: মেসো গল্পটি সম্পূর্ণ নতুন করে লিখে দিয়েছিলেন।

১৭. গল্পের নামকরণ কেন সার্থক?
উত্তর: তপনের চোখে প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হয়— অর্থাৎ তার অন্তর্দৃষ্টির উন্মেষ ঘটে, তাই নামকরণ সার্থক।

১৮. তপন শেষে কী সংকল্প নেয়?
উত্তর: ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিজে গিয়েই জমা দেবে, কারো দাক্ষিণ্যে নয়।

১৯. আশাপূর্ণা দেবী কোন উপন্যাসের জন্য জ্ঞানপীঠ পান?
উত্তর: ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি‘।

২০. আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম-মৃত্যুসাল কী?
উত্তর: ১৯০৯–১৯৯৫।


খ) সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (মান ২–৩)

হতাশা ও আত্মমগ্নতা
হতাশা ও আত্মমগ্নতা

১. নতুন মেসোর সাহিত্যিক পরিচয় জেনে তপনের প্রতিক্রিয়া কী হয়?
উত্তর: মেসো যে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক তা জেনে তপন বিস্মিত হয়। জলজ্যান্ত লেখককে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা তার আগে হয়নি, তাই কৌতূহলবশত সে মেসোকে মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে।

২. নতুন মেসোকে পর্যবেক্ষণ করে তপন কী বোঝে?
উত্তর: মেসো দাড়ি কামান, সিগারেট খান, স্নান-খাওয়া-ঘুম সবই সাধারণ মানুষের মতোই করেন। এই পর্যবেক্ষণে তপন বোঝে লেখক হওয়া কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়।

৩. তপন কীভাবে তার প্রথম গল্প লিখেছিল?
উত্তর: এক নিস্তব্ধ দুপুরে বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে থাকাকালীন তপন হোমটাস্কের খাতা নিয়ে তেতলার সিঁড়িতে বসে একটানা লিখে ফেলে তার প্রথম গল্প ‘প্রথম দিন’।

৪. গল্প লেখার পর তপনের মানসিক অবস্থা কেমন হয়?
উত্তর: নিজের লেখা পড়ে তার গায়ে কাঁটা দেয়, উত্তেজনা ও আনন্দে সে নিজেকে লেখক ভাবতে শুরু করে।

৫. মেসো তপনের গল্প সম্পর্কে প্রথমে কী বলেছিলেন?
উত্তর: মেসো লেখার প্রশংসা করে জানান, সামান্য ‘কারেকশান’ করে দিলে তা পত্রিকায় ছাপার উপযুক্ত হবে।

৬. গল্প ছাপা হওয়ার খবরে বাড়িতে কী প্রতিক্রিয়া হয়?
উত্তর: সারা বাড়িতে আনন্দের হইচই পড়ে যায়, সবাই তপনকে কবি-সাহিত্যিক বলে সম্বোধন করতে থাকে, পত্রিকাটি হাতে হাতে ঘোরে।

৭. গল্প পড়তে গিয়ে তপন কী আবিষ্কার করে?
উত্তর: বুঝতে পারে ছাপা গল্পের প্রতিটি লাইন অচেনা— মেসো তা আগাগোড়া নতুন করে লিখে দিয়েছেন। এতে সে গভীর লজ্জা ও অপমান বোধ করে।

৮. ‘রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই’— প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: তপন বিশ্বাস করেছিল তার লেখক মেসো তার গল্পের প্রকৃত মূল্য বুঝবেন, ঠিক যেমন রত্ন জহুরির কাছেই যথাযথ মূল্যায়ন পায়। এই বিশ্বাস থেকেই সে মেসোর প্রশংসায় উৎফুল্ল হয়েছিল।

৯. অপমানের মুহূর্তে তপন কী সংকল্প নেয়?
উত্তর: ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে দিতে হলে নিজে গিয়েই দেবে, কাঁচা লেখা যেমন আছে তেমনভাবেই, কারো সংশোধনের মুখাপেক্ষী না হয়ে।

১০. গল্পের শেষে তপনের উপলব্ধি কী ছিল?
উত্তর: অন্যের বদান্যতায় পাওয়া স্বীকৃতিতে কোনো প্রকৃত গৌরব নেই— এই উপলব্ধিই তার জ্ঞানচক্ষু উন্মোচন করে।

১১. আশাপূর্ণা দেবীর সাহিত্যিক পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর: প্রথাগত শিক্ষা না পেলেও নিজের পর্যবেক্ষণশক্তির জোরে তিনি বাংলা সাহিত্যে অনন্য স্থান অর্জন করেন এবং ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’র জন্য জ্ঞানপীঠ পুরস্কার পান।

১২. তপনের চরিত্রের মূল বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: কল্পনাপ্রবণ, সংবেদনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন— অপমানিত হয়েও ভেঙে না পড়ে দৃঢ় সংকল্প নেওয়ার ক্ষমতা তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।


গ) বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নাবলি (মান ৫)

১. তপনের অন্তর্দৃষ্টি কীভাবে উন্মোচিত হয়েছিল আলোচনা করো।
উত্তর: প্রথমে তপন বিশ্বাস করত লেখকরা আলাদা প্রজাতির মানুষ। নতুন মেসোকে কাছ থেকে দেখে সে প্রথম ধাক্কা খায়— বোঝে তাঁরাও সাধারণ। এই বিশ্বাসে সে নিজে গল্প লেখে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানচক্ষু উন্মোচিত হয় গল্পের শেষে, যখন সে জানে তার ছাপা গল্প আসলে মেসোর লেখা। এই উপলব্ধিতেই সে বোঝে দাক্ষিণ্যে পাওয়া স্বীকৃতির অসারতা।

২. গল্প লেখা থেকে প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত ঘটনাক্রম বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন গল্প লেখে, ছোটোমাসির মাধ্যমে তা মেসোর কাছে পৌঁছায়, মেসো সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’য় ছাপা হয়। কিন্তু আনন্দের মুহূর্তেই ধরা পড়ে গল্পটি আসলে মেসোর দ্বারা সম্পূর্ণ পুনর্লিখিত।

৩. নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: ‘জ্ঞানচক্ষু’ অর্থ অন্তর্দৃষ্টি। তপনের জীবনে দু-দফায় এই উন্মেষ ঘটে— প্রথমে বোঝে লেখকরাও সাধারণ, পরে বোঝে ধার করা স্বীকৃতির অসারতা। তাই নামকরণ সার্থক।

৪. তপনের চরিত্র আলোচনা করো।
উত্তর: তপন স্বপ্নদর্শী, সংবেদনশীল কিশোর, যার মধ্যে লেখক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। অপমানিত হয়েও সে ভেঙে না পড়ে আত্মমর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প নেয়— এই দিকটিই তাকে পরিণতমনস্ক করে তোলে।

৫. মেসোর চরিত্র সম্পর্কে মূল্যায়ন লেখো।
উত্তর: বাহ্যিকভাবে স্নেহশীল মেসো তপনের গল্প ছাপানোর ব্যবস্থা করেন বটে, কিন্তু সংশোধনের নামে তা সম্পূর্ণ নতুন করে লিখে দিয়ে শিশুমনের সৃজনশীলতার প্রতি অবিচার করেন— যা গল্পের মূল দ্বন্দ্বের জন্ম দেয়।

৬. ‘তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই, তার থেকে অপমানের’— আলোচনা করো।
উত্তর: গল্প স্বকণ্ঠে পড়তে গিয়ে তপন বোঝে তা তার লেখা নয়। খ্যাতি নয়, নিজের সৃষ্টির স্বীকৃতি চেয়েছিল সে— তাই ধার করা কৃতিত্বে তার কাছে দুঃখ ও অপমান ছাড়া কিছু থাকে না।

৭. ‘লেখক হওয়া অলৌকিক কিছু নয়’— ভাবনাটি কীভাবে দৃঢ় হয় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মেসোর দৈনন্দিন সাধারণ আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তপন বোঝে সাহিত্যিকরাও সাধারণ মানুষ। এই বিশ্বাসই তাকে নিজে লেখার সাহস জোগায়।

উপরে জ্ঞানচক্ষু গল্পের সারমর্ম, জ্ঞানচক্ষু আশাপূর্ণা দেবী দশম শ্রেণি বাংলা, জ্ঞানচক্ষু মাধ্যমিক বাংলা, জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর, তপন জ্ঞানচক্ষু চরিত্র, জ্ঞানচক্ষু নামকরণের সার্থকতা, জ্ঞানচক্ষু গল্পের mcq ,আলোচনা করা হয়েছে যেগুলো আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় আসতে পারে ।

5.1 ভারত: অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ | Class 10 Geography Short Question and Answer 2025

মাধ্যমিক ভূগোল প্রশ্ন ও উত্তর |বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ঠ ভূমিরূপ (প্রথম অধ্যায়)

  • অসুখী একজন প্রশ্ন উত্তর — পাবলো নেরুদা (অনুবাদ: নবারুণ ভট্টাচার্য)
    কবি পরিচিতি পাবলো নেরুদা ছিলেন চিলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি, প্রাবন্ধিক এবং একইসঙ্গে দক্ষ কূটনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ। ১৯০৪ সালের ১২ জুলাই তাঁর জন্ম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি চিলির বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবতা, প্রেম, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী চেতনা তাঁর কবিতার মূল সুর। ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার এবং ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার …

    Read more

  • জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী
    (দশম শ্রেণি, বাংলা — সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর) লেখক পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতায়। সেকালের সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁর প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটেনি, বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার সূচনা। অথচ এই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখেনি— নিজের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ আর মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে …

    Read more

  • টাইকো ব্রাহে: যে জ্যোতির্বিদ নাক হারিয়েও আকাশ দেখা থামাননি
    একটু ভাবুন। ১৫৬০ সাল। ডেনমার্কের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌদ্দ বছর বয়সের একটা ছেলে আইন পড়তে বসে আছে। হঠাৎ বাইরে লোকজনের ভিড়। সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে। সূর্যগ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়টা সূর্যগ্রহণ নয়। অবাক করা বিষয়টা হলো — জ্যোতির্বিদরা আগে থেকেই বলে দিতে পেরেছিলেন ঠিক কখন এই গ্রহণ হবে। নিখুঁতভাবে। এই ছেলেটার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরতে …

    Read more

  • রজার বেকন: মধ্যযুগের অন্ধকারে যে সন্ন্যাসী জ্বালিয়েছিলেন বিজ্ঞানের আলো
    একটু ভাবুন। ত্রয়োদশ শতাব্দী। ইউরোপজুড়ে চার্চের অন্ধকার শাসন। বিজ্ঞানচর্চা মানেই ধর্মের বিরোধিতা। কেউ যদি বলে — “প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করব না” — তাকে পাগল বলা হবে, বিধর্মী বলা হবে। সেই যুগে একজন মানুষ সন্ন্যাসীর পোশাক পরে, হাতে কাচের লেন্স আর বই নিয়ে বললেন — “অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো কিছুই সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়।” এই একটা কথার …

    Read more

  • হ্যানিম্যান: যে ডাক্তার রোগীর যন্ত্রণা দেখে নিজেই ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিলেন — তারপর বদলে দিয়েছিলেন পুরো চিকিৎসার ধারণাটাই
    একটু ভাবুন। আপনি একজন ডাক্তার। সারাদিন রোগী দেখছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি জমছে — কারণ আপনি নিজেই জানেন, আপনি যে চিকিৎসা দিচ্ছেন সেটা রোগীকে সারাচ্ছে না, বরং তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। রক্তমোক্ষণ, পারদ, জোঁকের ব্যবহার — এই সব “চিকিৎসা” দেখে আপনার বুক ভারী হয়ে আসছে। কী করবেন আপনি? বেশিরভাগ মানুষ হয়তো মুখ বুজে …

    Read more

  • ডিমোক্রিটাস: যে মানুষটা হাসতে হাসতে মহাবিশ্বের রহস্য সমাধান করেছিলেন
    একটা মানুষ, যিনি প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটতেন আর মানুষের বোকামি দেখে হাসতেন। প্রতিবেশীরা ভাবত লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই “পাগল” মানুষটাই আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এমন একটা তত্ত্ব দিয়ে গেছেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একদম ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর নাম ডিমোক্রিটাস। আবডেরার সেই হাসিখুশি দার্শনিক, যাঁকে ইতিহাস স্মরণ করে “দ্য লাফিং ফিলোসফার” নামে। আজ একটু …

    Read more

Leave a Comment