প্রফুল্ল চাকী: উনিশ বছরের বিপ্লবী যিনি ধরা না দিয়ে নিজেই নিজের জীবন শেষ করলেন

একটা ছবি কল্পনা করুন। ১৯০৮ সাল। মোকামা ঘাট রেল স্টেশন। প্রচণ্ড গরম। একজন উনিশ বছরের তরুণ ট্রেন থেকে নামছেন। সারারাত পায়ে হেঁটে এসেছেন। জল নেই, খাবার নেই। কিন্তু চোখে দৃঢ় সংকল্প। চারদিক থেকে পুলিশ ঘিরে ধরল। তরুণটি একটুও ভেঙে পড়লেন না। পিস্তল বের করলেন। একটা গুলি ছুড়লেন।

তারপর আর একটা মুহূর্ত দেরি না করে পিস্তলের নল নিজের মাথায় ঠেকিয়ে ট্রিগার টেনে দিলেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। বয়স মাত্র উনিশ বছর। এই তরুণের নাম প্রফুল্ল চাকী।

যাঁর জন্ম হয়েছিল এক দরিদ্র পরিবারে, যাঁর স্কুল থেকে বহিষ্কার হয়েছিল, যাঁকে ইতিহাসে ক্ষুদিরামের পাশে প্রায়ই একটু কম আলো দেওয়া হয় — কিন্তু যাঁর জীবনটা কম রোমাঞ্চকর নয়, কম অনুপ্রেরণার নয়।


Table of Contents

বগুড়ার বিহার গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু

প্রফুল্ল চাকীর বিপ্লবী যাত্রা
প্রফুল্ল চাকীর বিপ্লবী যাত্রা

১৮৮৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর। তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার গ্রামে জন্ম প্রফুল্ল চন্দ্র চাকীর।

বাবা রাজনারায়ণ চাকী স্থানীয় নবাব এস্টেটের কর্মচারী ছিলেন। মা স্বর্ণময়ী দেবী ধর্মপ্রাণ গৃহিণী। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে প্রফুল্ল সবচেয়ে ছোট।

মাত্র দুই বছর বয়সে বাবা মারা গেলেন। তারপর থেকে মায়ের একক সংগ্রামে সংসার চলেছে। অভাব ছিল, কষ্ট ছিল। কিন্তু মা ছেলেকে পড়াশোনা থেকে দূরে রাখেননি।

প্রাথমিক পড়া শেষে রংপুর জিলা স্কুলে ভর্তি হলেন ১৯০২ সালে। তখন বয়স মাত্র চৌদ্দ। কিন্তু এই শহরেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যাবে।

আরো পড়ুন: বিপ্লবী কানাইলাল দত্ত: এক অগ্নিযুগের বীরগাথা


স্কুল থেকে বহিষ্কার — এবং একটা নতুন পথ

১৯০৫ সাল। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ সারা বাংলাকে আলোড়িত করে তুলেছে। ছাত্র সমাজও উত্তাল।

ব্রিটিশ সরকার “কার্লাইল সার্কুলার” জারি করল — ছাত্রদের যেকোনো রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দেওয়া নিষিদ্ধ। রংপুর জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র প্রফুল্ল এই আদেশ মানলেন না। সমাবেশে নেতৃত্ব দিলেন। ফলাফল — স্কুল থেকে বহিষ্কার।

কিন্তু প্রফুল্ল একা নন। প্রায় দুইশত সহপাঠীও তাঁর সাথে স্কুল ছাড়লেন। তাঁরা যোগ দিলেন নবগঠিত রংপুর জাতীয় বিদ্যালয়ে। এখানেই পরিচয় হলো শিক্ষক ব্রজসুন্দর রায়ের সাথে। স্বদেশী দর্শনের দীক্ষা পেলেন।

আর ‘বান্ধব সমিতি’তে যোগ দিয়ে শিখলেন লাঠিখেলা, কুস্তি — আর বিপ্লবের ভাবাদর্শ। ১৯০৩ সালে এক গোপন সভায় হাত কেটে রক্ত বের করে শপথ নিলেন — দেশকে স্বাধীন করবেন। বয়স তখন পনেরো।


কলকাতায় এলেন — যুগান্তর দলে যোগ দিলেন

রংপুর, বান্ধব সমিতি _ ১৯০৩ সাল
রংপুর, বান্ধব সমিতি _ ১৯০৩ সাল

১৯০৭ সাল। বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ রংপুরে এলেন। প্রফুল্লের দেশপ্রেম আর শারীরিক সক্ষমতা দেখে বুঝলেন — এই ছেলেকে কলকাতায় নিয়ে যেতে হবে।

প্রফুল্ল কলকাতায় এলেন। উঠলেন ৩২ নম্বর মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে। এটাই ছিল যুগান্তর দলের প্রধান ঘাঁটি — বোমা বানানো হতো এখানে, বিপ্লবীরা থাকতেন এখানে।

প্রশিক্ষণ শুরু হলো। অস্ত্র চালানো, বোমা তৈরি। পাশাপাশি গীতা, উপনিষদ, বিবেকানন্দ — মৃত্যুর ভয় কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি। প্রফুল্ল দ্রুত দলের নির্ভরযোগ্য সদস্য হয়ে উঠলেন। এরপর একের পর এক অপারেশনের দায়িত্ব এলো।

আরো পড়ুন : স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ক্ষুদিরাম বসু


ফুলার হত্যার পরিকল্পনা — ব্যর্থতা

প্রথম বড় দায়িত্ব — পূর্ববঙ্গ ও আসামের লেফটেন্যান্ট গভর্নর জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলারকে হত্যা। ফুলার বিপ্লবীদের উপর কঠোর নির্যাতন চালাচ্ছিলেন। তাঁকে দার্জিলিং সফরে হত্যা করার পরিকল্পনা হলো।

প্রফুল্ল দার্জিলিং গেলেন। রেকি করলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফুলারের ভ্রমণসূচি বাতিল হয়ে গেল। পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।

তারপর এলো নারায়ণগড়ের ঘটনা। ১৯০৭ সালের ৫ই ডিসেম্বর বাংলার লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্ড্রু ফ্রেজারের ট্রেনের নিচে ল্যান্ডমাইন পাতলেন প্রফুল্ল আর বিভূতিভূষণ সরকার। বিস্ফোরণ হলো। ট্রেন ধ্বংস হলো। কিন্তু ফ্রেজার অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন।

এরপর দেওঘরে বোমা পরীক্ষায় সহযোদ্ধা প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী নিহত হলেন দুর্ঘটনায়। এই মৃত্যু প্রফুল্লকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দিল।


কিংসফোর্ড — এবং মুজাফফরপুর মিশন

দুই অকুতোভয় বিপ্লবী
দুই অকুতোভয় বিপ্লবী

কলকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ড। এই মানুষটার নাম বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিত।

কেন? কারণ কিশোর ছাত্র সুশীল সেনকে সামান্য রাজনৈতিক কারণে ১৫ ঘা বেত্রাঘাতের আদেশ দিয়েছিলেন তিনি। বিপ্লবীরা সিদ্ধান্ত নিল — কিংসফোর্ডকে শেষ করতে হবে।

ব্রিটিশ সরকার টের পেয়ে কিংসফোর্ডকে বদলি করে দিল। প্রমোশন দিয়ে পাঠিয়ে দিল বিহারের মুজাফফরপুরে — দূরে, নিরাপদে। কিন্তু যুগান্তর দল থামল না। মিশনের জন্য বেছে নেওয়া হলো দুজনকে — ১৯ বছরের প্রফুল্ল চাকী আর ১৮ বছরের ক্ষুদিরাম বসু।


মুজাফফরপুরে তিন সপ্তাহ — টার্গেট রেকি

১৯০৮ সালের এপ্রিলের শেষে দুজন মুজাফফরপুর পৌঁছালেন। ছদ্মনামে। প্রফুল্লের নাম “দিনেশ চন্দ্র রায়”, ক্ষুদিরামের নাম “হারেন সরকার”। এক দাতব্য ধর্মশালায় উঠলেন। স্কুলছাত্রের ভান করলেন।

তিন সপ্তাহ ধরে রেকি করলেন। কিংসফোর্ডের বাংলো। তাঁর যাতায়াতের রুট। ইউরোপীয় ক্লাব থেকে বের হওয়ার পথ। সব কিছু মনে রেখে নিলেন।


৩০ এপ্রিল, ১৯০৮ — রাত সাড়ে আটটা

ইউরোপীয় ক্লাবের গেটের বিপরীতে পার্কের গাছের আড়ালে দুজন অপেক্ষা করছেন।

রাত সাড়ে আটটা। ক্লাব থেকে একটা মার্জিত ঘোড়ার গাড়ি বের হলো। হুবহু কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো। দুজন দৌড়ে গেলেন। বোমা ছুড়লেন। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। গাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস। কিন্তু সেই গাড়িতে কিংসফোর্ড ছিলেন না।

ছিলেন ব্যারিস্টার প্রিংগল কেনেডির স্ত্রী আর তাঁর কন্যা গ্রেস কেনেডি। মিস গ্রেস এক ঘণ্টার মধ্যে মারা গেলেন। তাঁর মা দুদিন পরে। কিংসফোর্ড সামান্য পেছনে ছিলেন — অক্ষত।

ভুল গাড়িতে বোমা পড়েছে। দুজন নির্দোষ নারী মারা গেছেন। দুই তরুণ বিপ্লবী বুঝলেন কী হয়েছে। মর্মাহত হলেন। তৎক্ষণাৎ পালানোর সিদ্ধান্ত নিলেন — আলাদা পথে।


একরাতের ২৫ মাইল পথ — একা

ক্ষুদিরাম একদিকে পালালেন। পরদিন সকালে গ্রেপ্তার হলেন। প্রফুল্ল পালালেন আরেকদিকে। ভয়ঙ্কর গরম। রাত। চারদিকে পুলিশ। জল নেই, খাবার নেই। তবু সারারাত হেঁটে চললেন।পরদিন দুপুরে পৌঁছালেন সমস্তিপুর স্টেশনে।

সেখানে রেলওয়ের এক কর্মকর্তা ত্রিগুণাচরণ ঘোষ তাঁকে দেখলেন। বুঝলেন — ইনিই মুজাফফরপুরের পলাতক। কিন্তু ধরিয়ে দিলেন না। নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেন। স্নান করালেন, খাওয়ালেন, নতুন পোশাক দিলেন। রাতের ট্রেনে কলকাতার টিকিট কিনে দিলেন। মোকামা ঘাটের ট্রেনে তুলে দিলেন।


নন্দলাল ব্যানার্জী — যে ফাঁদ পাতল

কিন্তু সেই ট্রেনে একই কামরায় ছিলেন সমস্তিপুরের সাব-ইন্সপেক্টর নন্দলাল ব্যানার্জী — সাদা পোশাকে, ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন।

প্রফুল্লের আচরণে কিছু একটা তাঁকে সন্দিগ্ধ করল। পায়ে জুতো নেই। মুখ শুকনো। কথায় একটা অসংলগ্নতা। সাধারণ গল্পের ভান করে প্রফুল্লের সাথে কথা বললেন। তথ্য বের করলেন। নিশ্চিত হলেন।

গোপনে পরের স্টেশনে তারবার্তা পাঠালেন — মোকামা ঘাটে পুলিশ মোতায়েন রাখতে।


মোকামা ঘাট — শেষ মুহূর্ত

মোকামা ঘাট _ ২ মে, ১৯০৮
মোকামা ঘাট _ ২ মে, ১৯০৮

২রা মে, ১৯০৮। বেলা দশটা। ট্রেন মোকামা ঘাটে থামল। প্রফুল্ল নামলেন। নন্দলাল আর কনস্টেবলরা ঘিরে ধরল। প্রফুল্ল ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করলেন। দৌড়ালেন। কিন্তু চারদিক থেকে ঘেরাও।

একটা গুলি ছুড়লেন পুলিশের দিকে। লক্ষ্যভ্রষ্ট। তারপর এক মুহূর্ত। পিস্তলের নল নিজের মাথায় ঠেকালেন। ট্রিগার টানলেন। প্ল্যাটফর্মে লুটিয়ে পড়লেন প্রফুল্ল চাকী। বয়স মাত্র উনিশ।

এই মৃত্যু হঠাৎ নয়। মুরারিপুকুর বাগানবাড়িতে তিনি খালি রিভলবার মুখে ঢুকিয়ে মহড়া দিতেন। বলতেন — “ধরা পড়লে এইভাবেই শেষ করব। অন্যভাবে গুলি করলে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।” তিনি প্রতিশ্রুতি রেখেছিলেন।


মৃত্যুর পরেও অসম্মান — মাথা কাটা হলো

প্রফুল্লের মৃত্যুর পরে ঔপনিবেশিক সরকার আরও এক ঘৃণ্য কাজ করল। তিনি ছদ্মনামে ছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত করার অজুহাতে মৃতদেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করা হলো। কাঁচের জারে স্পিরিটে ভরে কলকাতায় পাঠানো হলো।

কারাবন্দী ক্ষুদিরামকে দিয়ে সনাক্ত করানোর চেষ্টা হলো। ক্ষুদিরাম প্রিয় সহযোদ্ধার রক্তহীন মুখ দেখলেন। ভেঙে পড়লেন না। প্রফুল্লের মাথা আর পরিবারকে দেওয়া হলো না। কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিল তাও অনেকদিন জানা যায়নি।


বিশ্বাসঘাতকের পরিণতি

অমর শহীদ
অমর শহীদ

নন্দলাল ব্যানার্জী ব্রিটিশদের কাছ থেকে পেলেন এক হাজার টাকা পুরস্কার আর পদোন্নতি। কিন্তু বেশিদিন বাঁচলেন না। সেই বছরই ৯ই নভেম্বর কলকাতার সার্পেন্টাইন লেনে তাঁর বাড়ির সামনে বিপ্লবী শ্রীশচন্দ্র পাল আর রণেন গাঙ্গুলী অপেক্ষায় ছিলেন।

নন্দলাল বাড়ি ফিরছিলেন। গুলি চলল। নন্দলাল মারা গেলেন। ইতিহাস প্রফুল্লের বদলা নিল।


মুজাফফরপুর বোমাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া

মুজাফফরপুর বোমাকাণ্ড
মুজাফফরপুর বোমাকাণ্ড

এই ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিল। মোহনদাস গান্ধী নিন্দা করলেন — নিরীহ নারীদের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

বাল গঙ্গাধর তিলক ‘কেসরি’ পত্রিকায় প্রফুল্ল-ক্ষুদিরামের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন। ফলাফল — তিলককে ছয় বছরের জন্য মান্দালয় জেলে পাঠানো হলো।

মুরারিপুকুরে তল্লাশি চালিয়ে বোমা, অস্ত্র উদ্ধার হলো। অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ সহ ৩৯ জন বিপ্লবী গ্রেপ্তার হলেন — এটাই আলিপুর বোমা মামলা। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হলো।


আজকের অবহেলা

স্বাধীনতার পরেও প্রফুল্ল চাকীর প্রতি ন্যায় হয়নি পুরোপুরি। ২০২৩ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি মুজাফফরপুরে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে বিদ্যুতের বকেয়া বিলের নোটিশ লাগানো হলো। ১,৩৬,৯৪৩ টাকা বকেয়া না দিলে বিদ্যুৎ কাটা যাবে।

উনিশ বছর বয়সে যে তরুণ নিজের জীবন দিয়ে গেছেন দেশের জন্য — তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে বিদ্যুতের বিলের নোটিশ। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে?


শেষ কথা

প্রফুল্ল চাকী খুব বেশিদিন বাঁচেননি। মাত্র উনিশ বছর। কিন্তু এই উনিশ বছরে যা করেছেন, যা বলেছেন, যেভাবে মাথা উঁচু রেখে মৃত্যুকে বরণ করেছেন — সেটা অনেক দীর্ঘ জীবনের চেয়ে অনেক বড়।

যে সময়ে সমবয়সী ছেলেরা স্কুল-কলেজে পড়ত, তখন প্রফুল্ল দেশের জন্য জীবন দেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন। এবং শেষ পর্যন্ত সেই শপথ রেখেছিলেন। মোকামা ঘাটের সেই প্ল্যাটফর্মে।

🅵🅰🆀

Q.1: প্রফুল্ল চাকীর জন্ম ও মৃত্যু কবে?

Ans: প্রফুল্ল চাকীর জন্ম ১৮৮৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর এবং মৃত্যু ১৯০৮ সালের ২রা মে।

Q.2: প্রফুল্ল চাকী কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?

Ans: প্রফুল্ল চাকী ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত বগুড়া জেলার বিহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

Q.3: প্রফুল্ল চাকীর পিতামাতার নাম কী?

Ans: প্রফুল্ল চাকীর পিতার নাম রাজনারায়ণ চাকি এবং মাতার নাম স্বর্ণময়ী দেবী।

Q.4: প্রফুল্ল চাকীর শিক্ষাজীবন কেমন ছিল?

Ans: প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের স্কুলে শুরু হয়। ১৯০৪ সালে তিনি রংপুর জেলা স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু ছাত্র আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।

Q.5: প্রফুল্ল চাকী কোন বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?

Ans: প্রফুল্ল চাকী ‘যুগান্তর’ দলে যোগদান করেন, যা বিপ্লবী বারীন ঘোষের নেতৃত্বে পরিচালিত ছিল।

Q.6: প্রফুল্ল চাকী প্রথম কোন বড় দায়িত্ব পান?

Ans: প্রফুল্ল চাকীর প্রথম বড় দায়িত্ব ছিল পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের লেফটেন্যান্ট গভর্নর জোসেফ ব্যামফিল্ড ফুলারকে হত্যা করা। তবে এই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

Q.7: ক্ষুদিরাম বসুর সাথে প্রফুল্ল চাকী কীভাবে যুক্ত হন?

Ans: প্রফুল্ল চাকী এবং ক্ষুদিরাম বসু একত্রে মজাফফরপুরের ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত হন। তবে ঘটনাক্রমে বোমা হামলায় কিংসফোর্ডের পরিবর্তে দুইজন নিরপরাধ ব্রিটিশ মহিলা নিহত হন।

Q.8: প্রফুল্ল চাকীর মৃত্যু কিভাবে হয়?

Ans: ১৯০৮ সালের ২রা মে, মোকামা স্টেশন থেকে গ্রেফতার এড়াতে প্রফুল্ল চাকী নিজের পিস্তল দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

Q.9: প্রফুল্ল চাকীর আত্মত্যাগের গুরুত্ব কী?

Ans: প্রফুল্ল চাকী ছিলেন একজন সাহসী এবং দেশপ্রেমিক যুবক, যাঁর আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে আজও অনুপ্রেরণা যোগায়।

  • দিগ্বিজয়ের রূপকথা প্রশ্ন উত্তর (সম্পূর্ণ) নবনীতা দেবসেন | দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা সাজেশন 2026
    নবনীতা দেবসেনের দিগ্বিজয়ের রূপকথা প্রশ্ন উত্তর, সমস্ত MCQ, শূন্যস্থান পূরণ, স্তম্ভ মেলানো, অ্যাসারশন-রিজন, সত্য-মিথ্যা ও ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর — WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণির সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক। দিগ্বিজয়ের রূপকথা প্রশ্ন উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণির সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক নবনীতা দেবসেনের দিগ্বিজয়ের রূপকথা প্রশ্ন উত্তর, তৃতীয় সেমিস্টারে প্রচুর বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন আসে। এই পোস্টে বইয়ে থাকা এই কবিতার প্রতিটি প্রশ্ন — MCQ, …

    Read more

  • ধর্ম কবিতা প্রশ্ন উত্তর (সম্পূর্ণ) শ্রীজাত | দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন
    শ্রীজাতর ধর্ম কবিতা প্রশ্ন উত্তর সমস্ত MCQ, শূন্যস্থান পূরণ, স্তম্ভ মেলানো, সত্য-মিথ্যা ও ক্রম অনুযায়ী প্রশ্ন উত্তর একসাথে — WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টারের সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক। ধর্ম কবিতা প্রশ্ন উত্তর: শ্রীজাতর কবিতার সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক শ্রীজাতর ধর্ম কবিতাটি তৃতীয় সেমিস্টারের সিলেবাসের একটি দার্শনিক ভাবনায় ভরা কবিতা। এই পোস্টে বইয়ে থাকা ধর্ম কবিতার প্রতিটি প্রশ্ন — MCQ, …

    Read more

  • আদরিণী গল্প প্রশ্ন উত্তর (সম্পূর্ণ) | দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা সাজেশন ২০২৬
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের আদরিণী গল্প প্রশ্ন উত্তর, সমস্ত MCQ, শূন্যস্থান পূরণ ও কেস স্টাডি প্রশ্ন উত্তর একসাথে — WBCHSE দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টার পরীক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক আদরিণী গল্প প্রশ্ন উত্তর: দ্বাদশ শ্রেণি তৃতীয় সেমিস্টারের সম্পূর্ণ প্রশ্নব্যাংক তৃতীয় সেমিস্টারের বাংলা সিলেবাসে প্রথম যে গল্পটা নিয়ে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী প্রস্তুতি শুরু করে, সেটা হল প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের আদরিণী গল্প …

    Read more

  • সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা| মাধ্যমিক সাজেশন ২০২৭
    সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা অধ্যায়ের সম্পূর্ণ সারসংক্ষেপ ও প্রশ্নোত্তর — MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত ও নির্ণয়মূলক প্রশ্ন। কর্মধারয়, তৎপুরুষ, দ্বন্দ্ব, বহুব্রীহি, দ্বিগু। এই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর গুলো আগামী মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্তপূর্ণ। তাই সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা 2027 খুব ভাল ভাবে প্র্যাক্টিস করতে হবে। সমাস প্রশ্নোত্তর দশম শ্রেণি বাংলা:WBBSE …

    Read more

  • কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Grammar
    কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বিষয়ে সম্পূর্ণ নোটস, সারসংক্ষেপ, MCQ এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সহায়ক। অধ্যায় সারসংক্ষেপ: কারক ও অকারক সম্পর্ক দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কারক। বাক্যের মধ্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে নামপদের যে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তাকেই বলা হয় কারক সম্পর্ক। সহজ করে বললে — ক্রিয়াটি কে করছে, …

    Read more

  • বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বাক্যের রূপান্তর | Madhyamik Bengali| WBBSE Class 10
    বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায়ের সম্পূর্ণ নোটস — বাক্যের সংজ্ঞা, গঠনগত ও অর্থগত শ্রেণিবিভাগ, বাক্যের রূপান্তর এবং বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর। মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আদর্শ। বাক্য দশম শ্রেণি বাংলা ব্যাকরণ অধ্যায় সারসংক্ষেপ: madhyamik bakyo ভাষার বৃহত্তম একক হল বাক্য। এক বা একাধিক পদের দ্বারা গঠিত যে পদসমষ্টি বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে তাকে বাক্য বলে। …

    Read more

Leave a Comment