সরকারি কর্মীরা এখন মিডিয়ায় কথা বলতে পারবেন না — West Bengal Government Employees Media Ban, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে যা জানা দরকার
কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটা নির্দেশিকা জারি করেছে যেটা নিয়ে রাজ্যের সরকারি মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখে চিফ সেক্রেটারির দফতর থেকে জারি করা সার্কুলার নম্বর 139-CS/2026 — এই নথিটি মূলত রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীদের মিডিয়া এবং প্রেসের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
পরদিনই, অর্থাৎ ২০ মে ২০২৬-এ, পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস ডিপার্টমেন্ট (নবান্ন) এটি সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলাশাসক, পুলিশ কর্তৃপক্ষ সহ সমস্ত দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছে — যাতে “কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।”
তো, এই সার্কুলারে আসলে কী বলা হয়েছে? একটু সহজ করে বুঝিয়ে বলা যাক।
কাদের উপর এই নিষেধাজ্ঞা? West Bengal Government Employees Media Ban
এই West Bengal Government Employees Media Ban নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে —
- All India Service (AIS) — অর্থাৎ IAS ও IPS অফিসার
- West Bengal Civil Service কর্মীরা
- West Bengal Police Service সদস্যরা
- রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সমস্ত কর্মী
- সরকার পোষিত বা আংশিক অনুদানপ্রাপ্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, বোর্ড, কর্পোরেশন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও এর আওতায় আসবেন
সহজ কথায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাথে যে কোনোভাবে যুক্ত কর্মীরা এই নির্দেশিকার আওতায় পড়বেন।
কী কী নিষিদ্ধ করা হয়েছে?

West Bengal Government Employees Media Ban সার্কুলারে মোট পাঁচটি বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে —
প্রথমত, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মী কোনো স্পনসর্ড বা বেসরকারিভাবে তৈরি মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকার স্পনসর্ড কিন্তু বাইরের সংস্থা দ্বারা পরিচালিত অনুষ্ঠানেও নয়।
দ্বিতীয়ত, কোনো সরকারি নির্দেশ ছাড়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সরকারি নথি বা তথ্য প্রেসের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তৃতীয়ত, সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদপত্র, পত্রিকা বা অন্য কোনো প্রকাশনায় সম্পাদনা বা পরিচালনায় অংশ নেওয়া যাবে না। রেডিওতে অংশগ্রহণ বা কোনো পত্রিকায় চিঠি বা নিবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
চতুর্থত, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সমালোচনা — সে যে মাধ্যমেই হোক না কেন — সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পঞ্চমত, এমন কোনো বক্তব্য, প্রকাশনা বা মিডিয়া কনটেন্ট যা রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের সম্পর্ক, বা অন্য রাজ্য বা বিদেশি সরকারের সাথে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে — সেটাও সম্পূর্ণ বারণ।
এই নির্দেশিকার ভিত্তি কী?

West Bengal Government Employees Media Ban আসলে নতুন কোনো আইন নয়। সার্কুলারে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই নির্দেশগুলো মূলত পুরনো তিনটি বিধিমালার উপর ভিত্তি করে জারি করা হয়েছে —
- All India Services (AIS) Conduct Rules, 1968
- West Bengal Service (Duties, Rights and Obligations) Rules, 1980
- West Bengal Government Servants’ Conduct Rules, 1959
এই বিধিগুলো আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। সরকার এখন সেগুলো নতুন করে মনে করিয়ে দিল — এবং কড়াভাবে মানার নির্দেশ দিল।
এই সার্কুলার কেন এখন?
এই প্রশ্নটা স্বাভাবিকভাবেই মাথায় আসে। পুরনো বিধিমালা থাকলেও হঠাৎ করে এই মুহূর্তে West Bengal Government Employees Media Ban সার্কুলার জারি করার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো প্রেক্ষাপট আছে। রাজ্যের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি কর্মীর মিডিয়া যোগাযোগ বা সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই সার্কুলার সম্ভবত সেই প্রেক্ষাপটেরই প্রতিক্রিয়া।
তবে সরকারিভাবে সেটা স্বীকার করা হয়নি। West Bengal Government Employees Media Ban নথিতে বলা হয়েছে, এটি শুধু বিদ্যমান বিধিমালার “পুনর্মনে করানো” এবং “কঠোর পালনের” নির্দেশ।
সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে কী?
সরাসরি বলতে গেলে — যদি কোনো সরকারি অফিসার বা কর্মী আপনাকে কোনো তথ্য দেন, কোনো মিডিয়া প্রোগ্রামে কথা বলেন বা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন — সেটা এখন থেকে সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
এর ফলে সরকারি তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। সাংবাদিক মহল থেকে ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
শেষ কথা
এই ধরনের সার্কুলার নতুন নয় — ভারতের অনেক রাজ্যেই এমন বিধিনিষেধ আগে থেকে আছে। কিন্তু সেগুলো কতটা প্রযোজ্য হবে, কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে এর ভারসাম্য কোথায় — এই প্রশ্নগুলো এখনও খোলা আছে।
পশ্চিমবঙ্গের লক্ষাধিক সরকারি কর্মীর জন্য এই নির্দেশিকা এখন থেকে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। নথিতে পরিষ্কার বলা আছে — কোনো ব্যতিক্রম নেই।
তথ্যসূত্র: চিফ সেক্রেটারির সার্কুলার নং 139-CS/2026, তারিখ ১৯.০৫.২০২৬ এবং পার্সোনেল ও অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস ডিপার্টমেন্টের নং 696-PAR-HR/O/PAR(Estt)/MISC-11/2023, তারিখ ২০.০৫.২০২৬
আরো দেখুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ওবিসি সংরক্ষণ নীতি: ৬৬টি জাতির জন্য ৭% সংরক্ষণ
আরো দেখুন: বড় সিদ্ধান্ত! 2011 থেকে দেওয়া ১.৬৯ কোটি জাতি শংসাপত্র পুনর্যাচাই করবে রাজ্য — ‘দুয়ারে সরকার’ -এর সার্টিফিকেটও বাদ নেই
- উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ রেজাল্টের পর এবার স্কুলভিত্তিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট — বক্স প্লট কী এবং স্কুলগুলো কীভাবে রিপোর্ট জমা দেবে? সম্পূর্ণ গাইড
WBCHSE School Performance Report 2026 শুধু পাস-ফেলের গল্প নয় — এবার স্কুলগুলোকেও হিসাব দিতে হবে রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে, আনন্দ-বেদনার ঢেউও কিছুটা থিতু হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) এবার শুধু পাস-ফেলের সংখ্যায় থেমে থাকেনি। ২০ মে ২০২৬-এ জারি করা বিজ্ঞপ্তি নম্বর L/PR/219/2026-এ সংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে — এবার থেকে প্রতিটি স্কুলের জন্য আলাদাভাবে বিষয়ভিত্তিক … - পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা —চিফ সেক্রেটারির নতুন সার্কুলারে কী বলা হয়েছে? সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
সরকারি কর্মীরা এখন মিডিয়ায় কথা বলতে পারবেন না — West Bengal Government Employees Media Ban, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে যা জানা দরকার কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটা নির্দেশিকা জারি করেছে যেটা নিয়ে রাজ্যের সরকারি মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখে চিফ সেক্রেটারির দফতর থেকে জারি করা সার্কুলার নম্বর 139-CS/2026 — এই … - পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন ওবিসি সংরক্ষণ নীতি: ৬৬টি জাতির জন্য ৭% সংরক্ষণ
রাজ্য সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর। গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দপ্তর (Backward Classes Welfare Department) থেকে ওবিসি সংরক্ষণ নীতি নিয়ে দুটি নতুন বিজ্ঞপ্তি (Notification No. 944-BCW এবং 945-BCW) প্রকাশিত হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে এই নতুন বিজ্ঞপ্তিগুলো জারি করা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে … - অশোক সেন — যে বাঙালি বিজ্ঞানী নোবেলের তিনগুণ পুরস্কার পেয়ে সাইকেলেই অফিস যান
অশোক সেন — ৩ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার, তবুও সাইকেলে অফিস। মহাবিশ্বের রহস্য ভেদ করা এই বাঙালি বিজ্ঞানীকে কি আপনি চেনেন? একটা সাধারণ দৃশ্য কল্পনা করুন। প্রয়াগরাজের রাস্তায় একজন মধ্যবয়সী মানুষ সাইকেলে করে অফিস যাচ্ছেন। কাঁধে ঝোলানো একটা সাধারণ ব্যাগ। পরনে সাধারণ পোশাক। চেহারায় কোনো আভিজাত্যের চিহ্ন নেই। এই মানুষটি কে? পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারের প্রায় তিনগুণ … - যে বাঙালি বিজ্ঞানীর সমীকরণ ছাড়া Hawking-Penrose-এর নোবেল হতো না — অমল কুমার রায়চৌধুরীর অজানা গল্প
নোবেল পেলেন Penrose, ভিত্তি দিয়েছিলেন এক বাঙালি — অমল কুমার রায়চৌধুরীর বিস্মৃত মহাবিশ্ব ২০২০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হলো। রজার পেনরোজ পেলেন অর্ধেক পুরস্কার — ব্ল্যাক হোল তৈরির গাণিতিক প্রমাণের জন্য। পুরো পৃথিবী উত্তেজিত হলো। কিন্তু যাঁরা এই বিজ্ঞানের গভীরে থাকেন, তাঁরা জানেন — পেনরোজের সেই প্রমাণের মূল স্তম্ভটা আসলে তৈরি হয়েছিল কলকাতায়। সেই … - PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: ২২তম কিস্তি থেকে Farmer ID — সব কিছু এক জায়গায় জানুন
PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: কিস্তি থেকে Farmer ID, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি — pm kisan guidelines pdf ভারতের কৃষক মানেই একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষ। একদিকে সারা দেশের পেট ভরানোর দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের সংসারে প্রতি মাসে টানাটানি। বীজ কিনবেন, সার কিনবেন, সেচের খরচ দেবেন — আর এই সবকিছুর মাঝে ফসলের দাম ঠিকমতো না পেলে …