PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: কিস্তি থেকে Farmer ID, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি — pm kisan guidelines pdf
ভারতের কৃষক মানেই একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষ। একদিকে সারা দেশের পেট ভরানোর দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের সংসারে প্রতি মাসে টানাটানি। বীজ কিনবেন, সার কিনবেন, সেচের খরচ দেবেন — আর এই সবকিছুর মাঝে ফসলের দাম ঠিকমতো না পেলে মাথায় হাত।
এই বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই ২০১৯ সালে ভারত সরকার একটা সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিল — প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, সংক্ষেপে PM-KISAN। প্রতিটি যোগ্য কৃষক পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো — মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী নেই, কোনো অফিসে ধরনা দিতে হবে না।
২০২৬ সালে এসে এই প্রকল্প শুধু টিকে নেই — বরং আরও বড় হয়েছে, আরও ডিজিটাল হয়েছে। ২২টি কিস্তি পেরিয়ে গেছে। মোট ৪.২৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি সরাসরি কৃষকদের হাতে পৌঁছেছে। এখন এই প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে — AgriStack, Farmer ID, Face Authentication।
এই পোস্টে আমরা PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। যদি আপনি একজন কৃষক হন, বা আপনার পরিবারে কেউ কৃষিকাজ করেন, তাহলে এই পোস্টটা একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনেক কাজে আসবে।
PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড এবং কেন শুরু হয়েছিল? pm kisan guidelines in bengali

ভারতে কৃষি খাতে সরাসরি আয় সহায়তার ধারণাটা নতুন নয়। বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের মতো ছোট ছোট প্রকল্প চালাত। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এত বড় মাপের, এত সুসংগঠিত একটা প্রকল্প — এটা ছিল সত্যিকার অর্থেই নতুন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট — ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কৃষি উপকরণের খরচ মেটানো এবং তাদের সংসারে একটু স্বস্তি দেওয়া।
সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো — এটা শতভাগ কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থে চলে। রাজ্য সরকারকে কিছু দিতে হয় না। আর টাকাটা যায় সরাসরি কৃষকের আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে — Direct Benefit Transfer বা DBT পদ্ধতিতে।
এই পদ্ধতির একটা বড় সুবিধা হলো স্বচ্ছতা। Public Finance Management System বা PFMS এবং NPCI-এর আধার ম্যাপিং প্রযুক্তি নিশ্চিত করে যে টাকাটা ঠিক মানুষের কাছেই যাচ্ছে — ভুল অ্যাকাউন্টে নয়, ভুয়ো সুবিধাভোগীর কাছে নয়।
২২তম কিস্তি — pm-kisan 2026 সম্পূর্ণ গাইড কীভাবে পাবো?

২০২৬ সালের ১৩ই মার্চ। আসামের গুয়াহাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী PM KISAN 2026এর ২২তম কিস্তি ছাড়লেন।
সংখ্যাটা একটু ভাবুন — ৯.৩২ কোটিরও বেশি কৃষক পরিবারের অ্যাকাউন্টে একসাথে ১৮,৬৪০ কোটি টাকা। একটা কর্মদিবসে।
প্রকল্প শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪.২৭ লক্ষ কোটি টাকার বেশি কৃষকদের ব্যাংকে গেছে। এই সংখ্যাটা বুঝতে হলে একটু তুলনা দরকার — ভারতের অনেক রাজ্যের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি এই অর্থ।
কিন্তু এই বিশাল সাফল্যের পাশাপাশি একটা উদ্বেগজনক তথ্যও আছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩২.৯৪ লক্ষ কৃষকের কিস্তি শুধুমাত্র e-KYC না করার কারণে আটকে আছে। আরও ১৬.৫২ লক্ষ কৃষকের টাকা Land Seeding সমস্যায় আটকে।
মানে, প্রায় ৫০ লক্ষ কৃষক — যাঁরা টাকা পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্য — শুধুমাত্র কিছু ডিজিটাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার কারণে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটা সত্যিই দুঃখজনক।
কিস্তির সময়সূচি — কখন আসে, কেন এই সময়ে? pm kisan sampada yojana upsc

PM-KISAN-এর কিস্তি বিতরণের সময়টা মোটেও এলোমেলো নয়। এটা ভারতের কৃষি মরসুমের সাথে সুচিন্তিতভাবে মেলানো।
প্রথম কিস্তি: এপ্রিল থেকে জুলাই
এই সময়টা হলো খরিফ মরসুমের শুরু। ধান, ভুট্টা, তুলা — এই ফসলগুলোর বীজ কিনতে হয়, জমি তৈরি করতে হয়, সার দিতে হয়। ঠিক এই সময়ে ২,০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে এলে কৃষকের একটু হাঁফ ছাড়ার সুযোগ হয়।
দ্বিতীয় কিস্তি: আগস্ট থেকে নভেম্বর
খরিফ ফসল মাঠে আছে, পরিচর্যা চলছে। কীটনাশক লাগবে, সেচ লাগবে। এই মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সেই খরচটা কিছুটা মেটাতে সাহায্য করে।
তৃতীয় কিস্তি: ডিসেম্বর থেকে মার্চ
রবি মরসুমের শুরু। গম, সরিষা, আলু — এই শীতকালীন ফসলের বপন শুরু হয়। তৃতীয় কিস্তির ২,০০০ টাকা সেই শুরুটাকে একটু সহজ করে দেয়।
এই সময়ভিত্তিক পরিকল্পনাটা আসলে বেশ চিন্তাভাবনার ফসল। শুধু টাকা দেওয়া নয় — ঠিক সময়ে টাকা দেওয়া, যখন সবচেয়ে বেশি দরকার।
পিএম কিষাণ 2026 এর জন্য আবেদন করার যোগ্যতা কি?

এই প্রশ্নটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি আছে। একটু বিস্তারিত বলি,PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড নিয়ে
মূল শর্ত: জমির মালিকানা
PM-KISAN পাওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হলো আপনার নামে চাষযোগ্য জমির মালিকানা থাকতে হবে। শুধু জমি থাকলেই হবে না — সেই জমিটা সত্যিকারের কৃষিকাজে ব্যবহার হতে হবে।
মানে, যদি আপনার নামে জমি আছে কিন্তু সেটায় বাড়ি বানিয়েছেন বা দোকান দিয়েছেন — তাহলে সেই জমির হিসেবে PM-KISAN পাবেন না।
‘কৃষক পরিবার’ মানে কী?
প্রকল্পের ভাষায়, একটা ‘কৃষক পরিবার’ মানে স্বামী, স্ত্রী এবং তাদের নাবালক সন্তানরা — একটা একক ইউনিট।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় — যদি স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের নামেই আলাদা আলাদা জমি থাকে, তবুও পরিবার হিসেবে বছরে মোট ৬,০০০ টাকাই পাবেন। দুটো আলাদা কিস্তি হবে না।
এটা অনেকেই জানেন না এবং পরে হতাশ হন।
শহরের কৃষকরাও পাবেন?
হ্যাঁ, পাবেন। প্রকল্পটা শুধু গ্রামের জন্য নয়। শহরের মধ্যে বা শহরের কাছে যদি কারো চাষযোগ্য জমি থাকে এবং সেটা সত্যিকারের কৃষিকাজে ব্যবহার হয় — তাহলে তিনিও যোগ্য।
আধার কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
এই দুটো ছাড়া PM-KISAN-এ নিবন্ধন সম্ভব নয়। আধার কার্ড থাকতে হবে এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবশ্যই আধারের সাথে সংযুক্ত হতে হবে। নইলে টাকা পাঠানো সম্ভব নয়।
কারা পাবেন না — বর্জনের তালিকা

এই তালিকাটা জানা খুব জরুরি। অনেকে না জেনে আবেদন করেন, পরে সমস্যায় পড়েন।
সরকারি চাকুরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তরা
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে একটা ব্যতিক্রম আছে — চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী বা Multi-Tasking Staff (MTS) এই নিয়মের বাইরে। তারা আবেদন করতে পারবেন।
পেনশনভোগীরা
যারা মাসে ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি পেনশন পান, তারা বাদ। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম — তারা পেনশন পেলেও PM-KISAN পেতে পারেন।
আয়করদাতারা
গত assessment বছরে যদি আয়কর দিয়ে থাকেন — PM-KISAN আপনার জন্য নয়। এটা স্পষ্টতই বলছে যে প্রকল্পটা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল কৃষকদের জন্য।
পেশাদার গোষ্ঠী
নিবন্ধিত ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং আর্কিটেক্টরা বাদ। পেশাগত লাইসেন্স আছে মানেই ধরে নেওয়া হচ্ছে আয় যথেষ্ট।
সাংবিধানিক পদধারীরা
প্রাক্তন ও বর্তমান মন্ত্রী, সাংসদ, বিধায়ক, মেয়র, জেলা পঞ্চায়েত চেয়ারম্যান — এই ধরনের সাংবিধানিক পদের অধিকারী যে কেউ বাদ।
প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিক
ট্রাস্ট, মন্দির, কর্পোরেট ফার্ম বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নামে জমি থাকলে PM-KISAN পাওয়া যাবে না। জমির মালিক অবশ্যই একজন ব্যক্তি হতে হবে।
ভাগচাষী ও ভূমিহীন কৃষকরা
এটা PM-KISAN-এর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা। যারা অন্যের জমিতে ভাগে চাষ করেন বা একেবারেই ভূমিহীন — তারা এই প্রকল্পের কেন্দ্রীয় কাঠামোর বাইরে। কারণ জমির মালিকানাই এখানে মূল শর্ত।
এই বিষয়টা নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছে — কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কাঠামোতে ভূমিহীন কৃষকদের অন্তর্ভুক্তি হয়নি।
e-KYC — কেন এত জরুরি, কীভাবে করবেন?

২০২৬ সালে PM-KISAN পাওয়ার সবচেয়ে বড় শর্ত হয়ে উঠেছে e-KYC। এটা না করলে কিস্তি আসবে না — এটা এখন একেবারে নিশ্চিত।
কিন্তু কেন e-KYC দরকার? সরকারের যুক্তি হলো — প্রকল্পের শুরুতে অনেক ভুয়ো সুবিধাভোগী ঢুকে গেছেন। মৃত কৃষকের নামে টাকা যাচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য ভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা নিচ্ছেন। e-KYC এই সমস্যাগুলো বন্ধ করার হাতিয়ার।
পদ্ধতি ১: OTP ভিত্তিক e-KYC (সবচেয়ে সহজ)
এটাই সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি এবং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
কীভাবে করবেন:
- pmkisan.gov.in পোর্টালে যান অথবা PM-KISAN মোবাইল অ্যাপ খুলুন
- ‘e-KYC’ অপশনে ক্লিক করুন
- আধার নম্বর দিন
- আধারের সাথে যুক্ত মোবাইলে OTP আসবে
- OTP দিলেই e-KYC সম্পন্ন
শর্ত: আপনার মোবাইল নম্বর আধার কার্ডের সাথে যুক্ত থাকতে হবে।
পদ্ধতি ২: Biometric ভিত্তিক e-KYC
যদি মোবাইল আধারের সাথে যুক্ত না থাকে, তাহলে এই পদ্ধতি।
কীভাবে করবেন:
- কাছের Common Service Centre (CSC) বা Pradhan Mantri Jan Seva Kendra-তে যান
- আধার কার্ড নিয়ে যান
- আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির স্ক্যান হবে
- সাধারণত ১৫ টাকার মতো ফি লাগে
এই পদ্ধতি একটু সময়সাপেক্ষ, কিন্তু নির্ভরযোগ্য।
পদ্ধতি ৩: Face Authentication (নতুন ও উন্নত পদ্ধতি)
২০২৬ সালে এই পদ্ধতি চালু হয়েছে এবং এটা বিশেষত প্রবীণ কৃষকদের জন্য দারুণ সুবিধাজনক — যাদের আঙুলের ছাপ বা চোখের সমস্যা থাকতে পারে।
কীভাবে করবেন: pm-kisan 2026 রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কী?
- আপনার স্মার্টফোনে ‘PM-KISAN’ অ্যাপ এবং ‘Aadhaar Face RD’ অ্যাপ ডাউনলোড করুন
- PM-KISAN অ্যাপে e-KYC অপশনে যান
- Face Authentication বেছে নিন
- নিজের মুখ ক্যামেরার দিকে ধরুন
- আধারের সাথে মুখের মিল যাচাই হলেই সম্পন্ন
এই পদ্ধতিতে কোনো CSC-তে যেতে হয় না, কোনো ফি লাগে না। ঘরে বসেই করা যায়।
Land Seeding — এটা কী এবং কেন দরকার?

Land Seeding মানে হলো আপনার জমির সরকারি নথি (খতিয়ান, দাগ নম্বর) আপনার আধার কার্ডের সাথে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করা।
এটা কেন দরকার? কারণ সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে আপনি সত্যিই জমির মালিক এবং সেই জমি আসলেই চাষের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৬.৫২ লক্ষ কৃষকের কিস্তি শুধুমাত্র Land Seeding সমস্যার কারণে আটকে আছে।
Land Seeding সমস্যা হলে কী করবেন:
- স্থানীয় কৃষি দপ্তরে যান
- কৃষি প্রযুক্তি সহায়ক (KPS)-এর সাহায্য নিন
- Assistant Director of Agriculture (ADA) অফিসে যোগাযোগ করুন
- আপনার জমির কাগজপত্র — খতিয়ান, পরচা, মিউটেশন সার্টিফিকেট — নিয়ে যান
AgriStack এবং Unique Farmer ID — ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

এটা নিয়ে এখনও অনেকের ধারণা পরিষ্কার নয়। কিন্তু আগামী দিনে এটাই PM-KISAN এবং ভারতের কৃষি নীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে।
AgriStack কী?
AgriStack হলো ভারত সরকারের একটি ডিজিটাল কৃষি অবকাঠামো — অনেকটা আধার কার্ডের মতো, কিন্তু শুধু কৃষি খাতের জন্য। এতে তিনটি মূল স্তম্ভ আছে:
১. Farmers’ Registry: প্রতিটি কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য
২. Geo-referenced Village Maps: জমির ভৌগোলিক অবস্থান ডিজিটালভাবে চিহ্নিত
৩. Crop Sown Registry: কে কোথায় কী ফসল চাষ করছেন তার নথি
Unique Farmer ID কী? পিএম কিষাণ 2026 এর সুবিধা পেতে কি কি নথি লাগবে?
এই তিনটি স্তম্ভকে একসাথে জুড়ে প্রতিটি কৃষকের একটা অনন্য পরিচয়পত্র তৈরি হবে — Unique Farmer ID বা অনন্য কৃষক পরিচয়পত্র।
এই ID-তে থাকবে:
- কৃষকের ব্যক্তিগত তথ্য
- তাঁর জমির বিবরণ — কোথায়, কতটুকু
- কী ফসল চাষ করেন
- কোন সার, কীটনাশক ব্যবহার করেন
- আয়ের আনুমানিক চিত্র
- ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
মানে, এই একটা ID দিয়েই একজন কৃষকের সম্পূর্ণ কৃষি পরিচয় পাওয়া যাবে।
কোথায় কোথায় চালু হয়েছে? pm-kisan 2026 অনলাইনে আবেদন করার সঠিক পদ্ধতি কী?

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪টি রাজ্যে নতুন PM-KISAN নিবন্ধনের জন্য Farmer ID বাধ্যতামূলক হয়েছে। এই রাজ্যগুলো হলো:
অন্ধ্রপ্রদেশ, আসাম, বিহার, ছত্তিশগড়, গুজরাট, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশ।
উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কৃষকের Farmer ID তৈরি হয়ে গেছে। মে ২০২৬ থেকে সেখানে সমবায় সমিতির মাধ্যমে সার বিতরণের ক্ষেত্রেও এই ID ব্যবহার শুরু হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য — ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে ১১ কোটি কৃষক ID তৈরি করা।
এই ID থেকে কৃষকের কী লাভ?
ভবিষ্যতে এই Farmer ID ব্যবহার করে কৃষকরা একাধিক সুবিধা পাবেন:
- Soil Health Card-এর তথ্য সহজে পাবেন
- ফসল বীমার জন্য আলাদা করে কাগজপত্র দিতে হবে না
- মান্ডি বা কৃষি বাজারে সরাসরি সংযোগ হবে
- ঋণের জন্য ব্যাংকে যাওয়া সহজ হবে — কারণ একটা ID-তেই সব তথ্য থাকবে
- আবহাওয়া সতর্কতা ও কৃষি পরামর্শ সরাসরি পৌঁছাবে
পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য বিশেষ তথ্য | pm-kisan 2026 সুবিধাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারবেন?

পশ্চিমবঙ্গে PM-KISAN-এর যাত্রাটা একটু আলাদা। ২০২১ সালের মে মাসে রাজ্যে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এর আগে রাজনৈতিক কারণে রাজ্য সরকারের সাথে কেন্দ্রের একটা টানাপোড়েন ছিল।
২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন কেন্দ্রীয় সরকারের Digital Agriculture Mission (DAM) এবং AgriStack প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে চলেছে — যা এতদিন ঝুলে ছিল। এটা রাজ্যের কৃষকদের জন্য ভালো খবর।
পশ্চিমবঙ্গে জমির নথি — কী কী লাগবে? PM KISAN e-KYC Face Authentication

পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব জমি নথির ব্যবস্থা আছে। PM-KISAN-এ নিবন্ধন বা Land Seeding-এর জন্য এই নথিগুলো প্রয়োজন:
খতিয়ান (Khatian): এটা জমির মালিকানার প্রধান প্রমাণ। এতে জমির মালিকের নাম, জমির পরিমাণ, প্রকৃতি সব লেখা থাকে। Banglarbhumi পোর্টাল (banglarbhumi.gov.in) থেকে অনলাইনে সংগ্রহ করা যায়। BL&LRO অফিস থেকেও পাওয়া যায়।
দাগ নম্বর (Plot Number): এটা জমির ভৌগোলিক অবস্থান চিহ্নিত করে। Land Seeding-এর জন্য সঠিক দাগ নম্বর দেওয়া খুব জরুরি। Banglarbhumi পোর্টাল বা মৌজা ম্যাপ থেকে পাওয়া যায়।
Mutation সার্টিফিকেট: যদি সম্প্রতি জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়ে থাকে — উত্তরাধিকার বা ক্রয়ের মাধ্যমে — তাহলে Mutation সার্টিফিকেট দরকার। e-District পোর্টাল বা BL&LRO অফিস থেকে পাওয়া যায়।
বর্ধমানের কৃষকদের জন্য বিশেষ তথ্য | পিএম কিষাণ কিস্তি স্ট্যাটাস চেক

বর্ধমান বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের শস্যভাণ্ডার। এখানকার কৃষকরা PM-KISAN-এর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল — কারণ এই অঞ্চলে আমন ধানের চাষ প্রধান এবং খরিফ ও রবি মরসুমের মাঝখানে একটা আর্থিক শূন্যতা তৈরি হয়।
পূর্ব বর্ধমানের কৃষকরা: রায়না-১-এর মতো বন্যাপ্রবণ এলাকায় PM-KISAN-এর টাকা সত্যিকারের ত্রাণের মতো কাজ করে। এই জেলার কৃষি প্রশাসনের সদর দপ্তর বর্ধমান শহরের Bridge House এলাকায় — Joint Director of Agriculture-এর অফিসে।
পশ্চিম বর্ধমানের কৃষকরা: দুর্গাপুর ও আসানসোলে একাধিক Common Service Centre আছে যেখান থেকে e-KYC, নতুন নিবন্ধন বা Land Seeding সংক্রান্ত সাহায্য পাওয়া যায়। আসানসোলে Assistant Director of Agricultural Marketing-এর অফিস বার্নপুর রোডের কাছে যুব আবাসন চত্বরে।
PM KISAN 2026 — ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া | পিএম কিষাণ ই-কেওয়াইসি ২০২৬

এখনও PM-KISAN-এ নিবন্ধন করেননি? এখনই করুন। পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনে — ঘরে বসেই করা যায়।
প্রয়োজনীয় নথি — আগে গুছিয়ে নিন: পিএম কিষাণ 2026 এর সুবিধা পেতে কি কি নথি লাগবে?
- আধার কার্ড (অবশ্যই)
- জমির নথি — খতিয়ান বা পরচা
- ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পৃষ্ঠা (IFSC কোড সহ)
- আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বর
ধাপ ১: পোর্টালে যান
pmkisan.gov.in পোর্টালে যান। হোমপেজে ‘Farmers Corner’ অপশন দেখতে পাবেন।
ধাপ ২: New Farmer Registration pm kisan guidelines
‘New Farmer Registration’ বেছে নিন। এরপর Rural বা Urban — আপনার ক্ষেত্র অনুযায়ী বেছে নিন।
ধাপ ৩: আধার যাচাই
আধার নম্বর এবং ক্যাপচা কোড দিন। তারপর ‘Search’ করুন।
ধাপ ৪: তথ্য পূরণ
একটা ফর্ম আসবে। এতে পূরণ করতে হবে:
- ব্যক্তিগত তথ্য — নাম, ঠিকানা, ব্যাংকের IFSC কোড
- জমির তথ্য — দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ
ধাপ ৫: OTP যাচাই ও জমা
আধার-সংযুক্ত মোবাইলে OTP আসবে। সেটা দিলেই আবেদন জমা হবে। একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পাবেন — সেটা সংরক্ষণ করুন।
আবেদনের পর স্ট্যাটাস দেখবেন কীভাবে? PM KISAN Land Seeding Problem Solution

পোর্টালের ‘Know Your Status‘ লিঙ্কে যান। রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা আধার নম্বর দিলেই আবেদনের অবস্থা জানা যাবে।
সমস্যা হলে কোথায় যাবেন? পিএম কিষাণ 2026 এর জন্য কোন সরকারি ওয়েবসাইটে যেতে হবে?
PM-KISAN-এর কিস্তি আসছে না? e-KYC হচ্ছে না? Land Seeding-এ সমস্যা? এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করুন:
| যোগাযোগের মাধ্যম | বিবরণ |
|---|---|
| টোল-ফ্রি হেল্পলাইন | 155261 বা 1800-115-526 |
| দিল্লি হেডডেস্ক | 011-24300606 |
| কিষাণ কল সেন্টার | 1800-180-1551 (সকাল ৬টা – রাত ১০টা) |
| কারিগরি সমস্যার ইমেইল | pmkisan-ict@gov.in |
| টাকা না পাওয়ার অভিযোগ | pmkisan-funds@gov.in |
পোর্টালে সরাসরি Help Desk অপশনেও অভিযোগ জানানো যায়। সমস্যার ধরন নির্বাচন করুন, অভিযোগ জমা দিন — একটা ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন। সেই নম্বর দিয়ে পরে অভিযোগের অগ্রগতি দেখতে পারবেন।
২০২৬ সালের বাজেট ও MSP — কৃষকদের জন্য কী আছে? পিএম কিষাণ 2026 এর পেমেন্ট স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করব?

PM-KISAN বরাদ্দ অপরিবর্তিত
২০২৬-২৭ বাজেটে PM-KISAN-এর জন্য ৬৩,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে — গত বছরের মতোই।
বার্ষিক সহায়তার পরিমাণ ৬,০০০ টাকা থেকে বাড়ানোর দাবি বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছিল। বিশেষত কৃষক সংগঠনগুলো দাবি করছিল যে মূল্যস্ফীতির কথা মাথায় রেখে অন্তত ৮,০০০-১০,০০০ টাকা করা হোক। কিন্তু সরকার এবার টাকার পরিমাণ না বাড়িয়ে ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নতি এবং সুবিধাভোগীদের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
MSP নিয়ে বিতর্ক
২০২৬-২৭ বিপণন মরসুমের জন্য খরিফ শস্যের নতুন Minimum Support Price বা MSP ঘোষণা হয়েছে। তবে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) এই বর্ধিত MSP-কে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি — স্বামীনাথন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী C2+50% ফর্মুলায় MSP নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদন খরচের দেড়গুণ দাম নিশ্চিত করতে হবে। এই দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কটা বলছে — PM-KISAN যাই হোক না কেন, ফসলের ন্যায্য দামের প্রশ্নটা এখনও অমীমাংসিত।
মহিলা কৃষকরা — PM KISAN 22nd Installment 2026

PM-KISAN-এর একটা অপ্রত্যাশিত ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ মহিলাদের মধ্যে।
প্রায় ২.১৫ কোটিরও বেশি মহিলা কৃষক এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। এটা শুধু টাকার কথা নয় — এটা পরিচয়ের কথা।
যখন একজন গ্রামীণ মহিলার নামে জমি নথিভুক্ত হয় এবং সেই জমির জন্য সরকারি সহায়তা তাঁর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে — তখন সামাজিকভাবে একটা বড় বদল ঘটে। তিনি আর শুধু ‘কৃষকের স্ত্রী’ নন — তিনি নিজেই একজন স্বীকৃত কৃষক।
এই প্রবণতা বাড়ছে। পরিবারের জমি স্বামীর বদলে স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত করার ঘটনা গ্রামে গ্রামে দেখা যাচ্ছে। PM-KISAN পরোক্ষভাবে গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়নের একটা হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যৎ কোথায় যাচ্ছে? PM KISAN West Bengal Registration

PM-KISAN এখন শুধু একটা নগদ সহায়তা প্রকল্প নয়। এটা ভারতের একটা বিশাল ডিজিটাল কৃষি অবকাঠামোর ভিত্তি হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে কৃষকদের জন্য যা সম্ভব হবে:
Soil Health Card সংযোগ: কোন জমিতে কী সার দরকার, সেটা Farmer ID-র সাথে যুক্ত হবে। কৃষক সরাসরি পরামর্শ পাবেন।
ফসল বীমা সহজীকরণ: Pradhan Mantri Fasal Bima Yojana-র সাথে Farmer ID যুক্ত হলে আলাদা করে কাগজপত্র দাখিলের ঝামেলা থাকবে না।
কৃষি ঋণ সহজ করা: ব্যাংকগুলো Farmer ID AgriStack 2026 দেখেই বুঝতে পারবে কৃষকের জমি কতটুকু, চাষের ইতিহাস কী, আয় কেমন — ঋণ পাওয়া সহজ হবে।
বাজারের সাথে সংযোগ: কোন এলাকায় কী ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার real-time তথ্য পাওয়া যাবে। কৃষকরা ভালো দামে সরাসরি বিক্রির সুযোগ পাবেন।
আবহাওয়া সতর্কতা: কৃষকের জমির অবস্থানের ভিত্তিতে সরাসরি মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কৃষি পরামর্শ পাঠানো সম্ভব হবে।
এই পুরো ব্যবস্থাটা এখনও তৈরি হচ্ছে। কিন্তু যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে আগামী দুই-তিন বছরে ভারতের কৃষি প্রশাসনের চেহারা অনেকটাই বদলে যাবে।
PM KISAN 2026 এক নজরে সম্পূর্ণ তথ্য

| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বার্ষিক সহায়তা | ৬,০০০ টাকা (৩টি কিস্তিতে) |
| প্রতি কিস্তি | ২,০০০ টাকা |
| ২২তম কিস্তি | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| সুবিধাভোগী | ৯.৩২ কোটি+ কৃষক পরিবার |
| মোট বিতরণ | ৪.২৭ লক্ষ কোটি+ টাকা |
| e-KYC স্থগিত | ৩২.৯৪ লক্ষ কৃষক |
| Land Seeding সমস্যা | ১৬.৫২ লক্ষ কৃষক |
| মহিলা সুবিধাভোগী | ২.১৫ কোটি+ |
| ২০২৬-২৭ বরাদ্দ | ৬৩,৫০০ কোটি টাকা |
| Farmer ID লক্ষ্যমাত্রা | ১১ কোটি (২০২৬-২৭) |
| পোর্টাল | pmkisan.gov.in |
| হেল্পলাইন | 155261 / 1800-115-526 |
PM-KISAN প্রকল্পটা শুরু হয়েছিল একটা সহজ প্রতিশ্রুতি নিয়ে — ছোট কৃষকের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়া। সেই প্রতিশ্রুতি মোটামুটি পূরণ হচ্ছে। ৪.২৭ লক্ষ কোটি টাকা কৃষকদের ব্যাংকে গেছে — এটা ছোট কথা নয়।
কিন্তু ২০২৬ সালে এসে এই প্রকল্পের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে — e-KYC, Land Seeding, Farmer ID। এগুলো না করলে টাকা আটকে যাবে। আর অনেক কৃষক, বিশেষত প্রবীণ বা প্রযুক্তিতে অনভ্যস্ত মানুষরা, এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে পারছেন না।
তাই এই পোস্টটা পড়ে যদি বুঝতে পারেন যে আপনার বা আপনার পরিচিত কারো e-KYC বাকি আছে — আজকেই করুন। CSC সেন্টারে যান, কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করুন। নইলে প্রাপ্য টাকা বঞ্চনার গল্পটা চলতেই থাকবে।
এই পোস্টটা আপনার গ্রামের বা এলাকার কৃষকদের সাথে শেয়ার করুন। হয়তো কেউ জানেন না যে তাঁর e-KYC বাকি — একটু জানালেই ২,০০০ টাকার একটা কিস্তি তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।
ছোট তথ্য, বড় পরিবর্তন।
তথ্যসূত্র: PM-KISAN অফিসিয়াল পোর্টাল (pmkisan.gov.in), কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক — ভারত সরকার, ২০২৬
আরো দেখুন: বড় সিদ্ধান্ত! 2011 থেকে দেওয়া ১.৬৯ কোটি জাতি শংসাপত্র পুনর্যাচাই করবে রাজ্য — ‘দুয়ারে সরকার’ -এর সার্টিফিকেটও বাদ নেই
আরো দেখুন: অটিস্টিক সন্তানের জন্য ট্রান্সফার আটকে রেখেছিল স্কুল — হাইকোর্ট যা বলল তা নজির গড়ল
FAQ
Q.1: প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি কী?
Ans: প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) হলো একটি নতুন কেন্দ্রীয় প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের সমস্ত কৃষিজমি থাকা কৃষক পরিবারগুলোকে কৃষিকাজ এবং আনুষঙ্গিক কাজের পাশাপাশি পারিবারিক প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য কৃষকদের টাকা দেওয়ার সম্পূর্ণ খরচ ভারত সরকার বহন করে।
Q.2: এই প্রকল্পের সুবিধা কি কেবল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের (SMF) জন্যই প্রযোজ্য?
Ans: না। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যখন পিএম-কিষাণ প্রকল্প শুরু হয়, তখন কেবল ২ হেক্টর পর্যন্ত জমি থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারগুলোই এই সুবিধা পেত। পরে ১ জুন, ২০১৯ থেকে এই প্রকল্পের নিয়ম পরিবর্তন করে জমির পরিমাণ নির্বিশেষে সমস্ত কৃষক পরিবারকে এর আওতাভুক্ত করা হয়।
Q.3: এই প্রকল্পের সুবিধাগুলি কী কী?
Ans: পিএম-কিষাণ প্রকল্পের অধীনে, জমি আছে এমন সমস্ত কৃষক পরিবার বছরে ৬০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। এই টাকা প্রতি চার মাস অন্তর ২০০০ টাকার তিনটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়।
Q.4: প্রকল্পটি কবে চালু হয়?
Ans: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এই পিএম-কিষাণ প্রকল্প চালু করেন।
Q.5: প্রকল্পটি কবে থেকে কার্যকর হয়েছে?
Ans: প্রকল্পটি ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ থেকে কার্যকর হয়েছে।
Q.6: এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কারা?
Ans: নিজেদের নামে চাষযোগ্য জমি আছে এমন সমস্ত কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
Q.7: কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন? (প্রকল্পের আওতার বাইরে কারা?)
Ans: নিম্নলিখিত শ্রেণীর কৃষকরা পিএম-কিষাণ প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক জমির মালিক। যেসব কৃষক পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য নিম্নলিখিত তালিকাভুক্ত। সাংবিধানিক পদে থাকা প্রাক্তন এবং বর্তমান ব্যক্তিরা।
প্রাক্তন ও বর্তমান মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী, লোকসভা/রাজ্যসভা/বিধানসভা/বিধান পরিষদের প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্য, পুরনিগমের প্রাক্তন ও বর্তমান মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারপার্সনরা।
কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকারের মন্ত্রক/অফিস/দফতর এবং এর অধীনস্থ শাখা, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সরকারের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থার সমস্ত কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মচারী এবং স্থানীয় সংস্থার নিয়মিত কর্মচারীরা (মাল্টি টাস্কিং স্টাফ/ক্লাস ফোর/গ্রুপ ডি কর্মচারী ছাড়া)।
সমস্ত সুপারঅ্যানুয়েটেড/অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার যাঁদের মাসিক পেনশন ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি (মাল্টি টাস্কিং স্টাফ/ক্লাস ফোর/গ্রুপ ডি কর্মচারী ছাড়া)।
গত অ্যাসেসমেন্ট বছরে আয়কর দিয়েছেন এমন সমস্ত ব্যক্তি।
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং আর্কিটেক্টদের মতো পেশাদাররা যাঁরা পেশাদার সংস্থার সঙ্গে নিবন্ধিত এবং পেশা হিসেবে এই কাজগুলো করেন।
Q.8: বছরে কতবার এই সুবিধা দেওয়া হবে?
Ans: পিএম-কিষাণ প্রকল্পের অধীনে, জমি আছে এমন সমস্ত কৃষক পরিবার বছরে ৬০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে। এই টাকা প্রতি চার মাস অন্তর ২০০০ টাকার তিনটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির সময়কাল ছিল ১.১২.২০১৮ থেকে ৩১.০৩.২০১৯ পর্যন্ত, দ্বিতীয় কিস্তির সময়কাল ১.০৪.২০১৯ থেকে ৩১.০৭.২০১৯, তৃতীয় কিস্তির সময়কাল ১.০৮.২০১৯ থেকে ৩০.১১.২০১৯ এবং এইভাবেই চলতে থাকবে।
Q.9: গ্রামে নিজের নামে চাষযোগ্য জমি আছে এমন কোনো কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকার/পিএসইউ/স্বশাসিত সংস্থার কর্মী কি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?
Ans: না। কেন্দ্রীয়/রাজ্য সরকারের মন্ত্রক/অফিস/দফতর এবং এর অধীনস্থ শাখা, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং সরকারের অধীনস্থ স্বশাসিত সংস্থার সমস্ত কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক ও কর্মচারী এবং স্থানীয় সংস্থার নিয়মিত কর্মচারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।
তবে, কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত মাল্টি টাস্কিং স্টাফ (MTS)/ক্লাস ফোর/গ্রুপ ডি কর্মচারীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, যদি তাদের পরিবার অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করে এবং অন্য কোনো বর্জনের মানদণ্ডের আওতায় না পড়ে।
Q.10: ২ হেক্টরের বেশি চাষযোগ্য জমির মালিক কোনো ব্যক্তি বা কৃষক পরিবার কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন?
Ans: হ্যাঁ। জমির পরিমাণ নির্বিশেষে সমস্ত কৃষক পরিবারকে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
Q.11. কোনো সুবিধাভোগী যদি প্রকল্পটির জন্য ভুল ঘোষণা দেন তাহলে কী হবে?
Ans. ভুল ঘোষণার ক্ষেত্রে, সুবিধাভোগীর কাছে থেকে পাঠানো আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Q.12. এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা নির্ধারণের কাট-অফ তারিখ কত?
Ans. সুবিধাভোগীদের যোগ্যতা নির্ধারণের কাট-অফ তারিখ হলো ০১.০২.২০১৯। জমির মালিকের মৃত্যুর কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা হস্তান্তর ছাড়া, আগামী ৫ বছরের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে আর কোনো পরিবর্তন বিবেচনা করা হবে না।
Q.13. জমির মালিকের মৃত্যুর কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে ০১.০২.২০১৯ তারিখের পরে চাষযোগ্য জমির মালিকানা হস্তান্তর হলে কি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে?
Ans. হ্যাঁ। জমির মালিকের মৃত্যুর কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে ০১.০২.২০১৯ তারিখের পরে চাষযোগ্য জমির মালিকানা হস্তান্তর হলে এই ধরনের সমস্ত ক্ষেত্রে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
Q.14. ০১.১২.২০১৮ থেকে ৩১.০১.২০১৯-এর মধ্যে মালিকানা হস্তান্তর হলে কি তা বিবেচনা করা হবে?
Ans. ক্রয়, উত্তরাধিকার, উইল, উপহার ইত্যাদি যে কোনো কারণে ০১.১২.২০১৮ থেকে ৩১.০১.২০১৯-এর মধ্যে চাষযোগ্য জমির মালিকানা হস্তান্তর হলে, পরিবারের সদস্যরা প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য হলে ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরের প্রথম কিস্তি হিসেবে হস্তান্তরের তারিখ থেকে ৩১.০৩.২০১৯ পর্যন্ত ৪ মাসের অনুপাতে টাকা পাবেন।
Q.15. আয়কর প্রদানকারী কৃষক বা তাঁর স্বামী/স্ত্রী কি এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?
Ans. না। পরিবারের কোনো সদস্য যদি গত অ্যাসেসমেন্ট বছরে আয়কর দিয়ে থাকেন, তবে ওই পরিবার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়।
Q.16. এই প্রকল্পের অধীনে ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞা কী?
Ans. জমি থাকা কৃষক পরিবার বলতে বোঝায় “স্বামী, স্ত্রী এবং নাবালক সন্তানদের নিয়ে গঠিত একটি পরিবার, সংশ্লিষ্ট রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জমির রেকর্ড অনুসারে যাদের চাষযোগ্য জমি আছে”। সুবিধাভোগী শনাক্ত করতে এবং সুবিধা হিসাব করতে প্রচলিত জমির মালিকানা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে।
Q.17. নিজের নামে জমির মালিকানা নেই, কিন্তু বাবা/পূর্বপুরুষের জমিতে চাষ করেন এমন কোনো ব্যক্তি/কৃষক কি এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?
Ans. না। জমি তাঁর নিজের নামে থাকতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে জমির মালিকানা যদি তাঁর নামে হস্তান্তর হয়, তবেই তিনি যোগ্য হবেন।
Q.18. নিজের নামে জমির মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও জমি চাষ করেন এমন কোনো ব্যক্তি/কৃষক (যেমন ভাগচাষী), কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?
Ans. না। এই প্রকল্পের অধীনে সুবিধা পেতে হলে জমির মালিকানা থাকাই একমাত্র মাপকাঠি।
Q.19. আর্থিক সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কীভাবে শনাক্ত ও বাছাই করা হবে?
Ans. এই প্রকল্পের সুবিধার জন্য যোগ্য কৃষক পরিবারগুলোকে শনাক্ত করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারগুলোর। প্রকল্পের সুবিধা হস্তান্তরের জন্য প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করতে বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রচলিত জমির মালিকানা ব্যবস্থা বা জমির রেকর্ড ব্যবহার করা হবে।
Q.20. সুবিধা পাওয়ার জন্য পিএম-কিষাণ পোর্টালে কী কী বাধ্যতামূলক তথ্য জমা দিতে হবে?
Ans. পিএম-কিষাণ প্রকল্পের অধীনে নাম নথিভুক্ত করতে কৃষকদের নিচের তথ্য ও নথিপত্র দিতে হবে:
নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং ক্যাটাগরি (SC/ST)।
আধার নম্বর।
(অসম, মেঘালয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষকদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য ছিল না, কারণ সেখানে বেশিরভাগ নাগরিককে আধার নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই এই রাজ্যগুলোকে ৩১ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
এই রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে, যাদের আধার আছে তাদের কাছ থেকে আধার নম্বর সংগ্রহ করা হবে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স, ভোটার আইডি কার্ড, এনআরইজিএ জব কার্ড বা সরকার কর্তৃক জারি করা অন্য কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হবে)।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড।
মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক না হলেও এটি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে টাকা ট্রান্সফারের বিষয়ে তথ্য জানানো যায়।
Q.21. জমির মালিক কোনো কৃষক পরিবার কীভাবে বুঝবে যে তাদের নাম সুবিধাভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
Ans. স্বচ্ছতা ও তথ্য প্রদানের সুবিধার্থে সুবিধাভোগীদের তালিকা পঞ্চায়েতে প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া, রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো সিস্টেম জেনারেটেড এসএমএস-এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের টাকা অনুমোদনের বিষয়টি জানাবে। কৃষক পিএম-কিষাণ পোর্টালে ‘ফার্মার্স কর্নার’-এর মাধ্যমেও নিজের স্ট্যাটাস জানতে পারবেন।
Q.22. যোগ্য সুবিধাভোগীর নাম তালিকায় না থাকলে তাঁর জন্য কী উপায় আছে?
Ans. যেসব যোগ্য কৃষক পরিবারের নাম তালিকায় নেই, তারা তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তাদের জেলার ডিস্ট্রিক্ট লেভেল গ্রিভান্স রিড্রেসাল মনিটরিং কমিটির কাছে যেতে পারেন। এছাড়া, সরকার পিএম-কিষাণ ওয়েব পোর্টালে (www.pmkisan.gov.in) একটি বিশেষ ‘ফার্মার্স কর্নার’ তৈরি করেছে, যেখানে তিনটি আলাদা লিঙ্ক রয়েছে:
নতুন কৃষকের রেজিস্ট্রেশন: এই লিঙ্কের মাধ্যমে কৃষকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য জমা দিতে পারবেন। ফর্মে কিছু বাধ্যতামূলক ফিল্ড এবং যোগ্যতা সংক্রান্ত স্ব-ঘোষণা রয়েছে। ফর্মটি পূরণ করে সফলভাবে জমা দেওয়ার পর, যাচাইয়ের জন্য এটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্টেট নোডাল অফিসার (SNO)-এর কাছে চলে যায়। তিনি তথ্য যাচাই করে তা পিএম-কিষাণ পোর্টালে আপলোড করেন এবং তারপর পেমেন্টের জন্য ডেটা প্রসেস করা হয়।
আধার বিবরণ এডিট: এই লিঙ্কের মাধ্যমে কৃষক আধার কার্ড অনুযায়ী নিজের নাম নিজেই সংশোধন করতে পারবেন। সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার পর সংশোধিত নাম আপডেট হয়ে যায়।
সুবিধাভোগীর স্ট্যাটাস: এই লিঙ্কে আধার নম্বর, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর দিয়ে সুবিধাভোগীরা নিজেরাই তাদের কিস্তির পেমেন্টের স্ট্যাটাস জানতে পারবেন।
Q.23. পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন জমি যদি একই বা ভিন্ন গ্রাম, জেলা বা রাজ্যের বিভিন্ন রাজস্ব রেকর্ডে ছড়িয়ে থাকে, তাহলে পরিবারটি কীভাবে সুবিধা পাবে?
Ans. এই ধরনের ক্ষেত্রে, কৃষক পরিবার শুধুমাত্র এক জায়গা থেকেই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে। কোনো পরিবারকে যেন দুবার টাকা দেওয়া না হয়, স্টেট নোডাল অফিসাররা (SNOs) তা নিশ্চিত করবেন।
Q.24. একটি মাত্র জমির রেকর্ডে যদি একাধিক কৃষক পরিবারের নাম থাকে, তাহলে কি প্রতিটি কৃষক পরিবার প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?
Ans. যদি তাই হয়, তবে তারা কত টাকা পাবে? এই ধরনের প্রতিটি কৃষক পরিবার প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী যোগ্য হলে আলাদাভাবে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার যোগ্য হবে।
Q.25. প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা কি সরাসরি সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা হবে?
Ans. হ্যাঁ। প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
Q.26. সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
Ans. হ্যাঁ, সুবিধাভোগীদের প্রকল্পের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার জন্য আধার নম্বরের পাশাপাশি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে হবে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ না দিলে কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না।
Q.27. প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আধার বিবরণ দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?
Ans. প্রথম কিস্তির (০১.১২.২০১৮ থেকে ৩১.০৩.২০১৯) জন্য আধার নম্বর দেওয়া ঐচ্ছিক ছিল। দ্বিতীয় কিস্তির (০১.০৪.২০১৯ থেকে ৩১.০৭.২০১৯) জন্য শুধুমাত্র আধার নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
তৃতীয় কিস্তি (০১.০৮.২০১৯) এবং তারপরের কিস্তিগুলোর জন্য সুবিধাভোগীদের ডেটার সঙ্গে আধার সিডিং বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে, সরকার ৩০.১১.২০১৯ পর্যন্ত এই নিয়মে ছাড় দিয়েছিল।
০১.১২.২০১৯ থেকে সমস্ত কিস্তির জন্য আধার সিডিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে অসম, মেঘালয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরে আধারের ব্যবহার কম থাকায় ৩১.০৩.২০২০ পর্যন্ত তাদের এই নিয়ম থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছিল।
Q.28. রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কি ধাপে ধাপে বা ব্যাচ অনুযায়ী পিএম-কিষাণ পোর্টালে সুবিধাভোগীদের তালিকা দিতে পারে?
Ans. হ্যাঁ, যোগ্যতার মানদণ্ডের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হওয়ার পর রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো ব্যাচ অনুযায়ী যোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকা দিতে পারে। তাদের দেওয়া অনুমোদিত তালিকার ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে সুবিধা দেওয়া হবে।
Q.29. শহরাঞ্চলে অবস্থিত গ্রামের কৃষকরা কি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?
Ans. এই প্রকল্পের অধীনে শহুরে এবং গ্রামীণ চাষযোগ্য জমির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। উভয়ই প্রকল্পের আওতাভুক্ত, শর্ত হলো শহরাঞ্চলে অবস্থিত জমিতে বাস্তবে চাষাবাদ হতে হবে।
Q.30. মাইক্রো ল্যান্ড হোল্ডিং (অত্যন্ত ক্ষুদ্র জমি) থাকলে কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়?
Ans. চাষযোগ্য নয় এমন মাইক্রো ল্যান্ড হোল্ডিং এই প্রকল্পের সুবিধার আওতার বাইরে
Q.31. সুবিধাভোগীদের দেওয়া তথ্য বা ঘোষণা যাচাই করার জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা কী?
Ans. সুবিধাভোগীর দেওয়া তথ্য যাচাই করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা বা কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করার স্বাধীনতা রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত সরকারের রয়েছে।
Q.32. এই প্রকল্পের অধীনে ‘নাবালক’ সন্তানদের ‘সাবালক’ হওয়ার কাট-অফ তারিখ কত?
Ans. ‘নাবালক’ থেকে ‘সাবালক’ হওয়ার কাট-অফ তারিখ হলো ০১.০২.২০১৯।
Q.33. কৃষকরা কি কৃষিকাজ ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহৃত কৃষিজমির জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন?
Ans. না। অকৃষি কাজে ব্যবহৃত কৃষিজমি এই প্রকল্পের সুবিধার আওতাভুক্ত হবে না।
Q.34. সুবিধাভোগীদের কিস্তি দেওয়ার পদ্ধতি কী?
Ans. a) সুবিধাভোগীদের ডেটা আপলোড করার জন্য www.pmkisan.gov.in নামে একটি নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
b) যোগ্য কৃষকরা গ্রামের পাটোয়ারি, রাজস্ব আধিকারিক বা অন্য কোনো নির্ধারিত আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে পারেন।
c) ব্লক/তালুক/জেলা স্তরে নিযুক্ত নোডাল অফিসাররা ডেটা প্রসেস করে স্টেট নোডাল অফিসারদের (SNOs) কাছে পাঠান।
d) স্টেট নোডাল অফিসাররা ডেটা প্রমাণীকৃত করেন এবং পোর্টালে ব্যাচ অনুযায়ী তা আপলোড করেন।
e) আপলোড করা ডেটা ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (NIC), পাবলিক ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (PFMS) এবং ব্যাঙ্কের মাধ্যমে একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়।
f) যাচাই করা ডেটার ভিত্তিতে SNO-রা ফান্ডের রিকোয়েস্ট ফর ট্রান্সফার (RFT) সই করে পোর্টালে আপলোড করেন।
g) RFT-এর ওপর ভিত্তি করে, PFMS একটি ফান্ড ট্রান্সফার অর্ডার (FTO) জারি করে।
h) FTO-এর ওপর ভিত্তি করে, কৃষি দফতর টাকার জন্য অনুমোদনের নির্দেশ দেয়।
i) এরপর PFMS পোর্টাল ব্যবহার করে, ব্যাঙ্কের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ডেস্টিনেশন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করা হয়। ডেস্টিনেশন ব্যাঙ্ক কোনো তফসিলি ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্ক হতে পারে। পুরো ব্যাঙ্কিং লেনদেন ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) দ্বারা পরিচালিত ও নজরদারি করা হয়।
Q.35. প্রকল্পের অধীনে নিবন্ধিত কোনো কৃষক যদি কোনো কারণে কোনো ৪ মাসের কিস্তি না পান, তবে তিনি কি পরে তা পেতে পারবেন?
Ans. হ্যাঁ। কোনো যোগ্য কৃষকের নাম যদি নির্দিষ্ট ৪ মাসের জন্য পিএম-কিষাণ পোর্টালে আপলোড করা হয়, তবে তিনি ওই নির্দিষ্ট সময়কাল থেকেই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। বর্জনের মানদণ্ডের আওতায় পড়ার কারণ ছাড়া, অন্য কোনো কারণে যদি তিনি কিস্তি না পান, তবে দেরির কারণ সমাধান হওয়ার সাথে সাথে তিনি সমস্ত বকেয়া কিস্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো যোগ্য কৃষকের নাম ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯-এর মধ্যে পোর্টালে আপলোড করা হয়, তবে তিনি ওই সময়ের কিস্তির পাশাপাশি পরবর্তী সমস্ত কিস্তি পাবেন।
আবার নাম যদি এপ্রিল-জুলাই ২০১৯-এ আপলোড হয়, তবে তিনি এপ্রিল-জুলাই ২০১৯-এর কিস্তি এবং পরবর্তী কিস্তিগুলো পাবেন। অনেকেই ডিসেম্বর ২০১৮-মার্চ ২০১৯ এবং এপ্রিল-জুলাই ২০১৯-এর কিস্তি পেলেও আগস্ট-নভেম্বর ২০১৯-এর কিস্তি পাননি, কারণ ওই কিস্তির জন্য আধার সিডিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। অনেক রাজ্য এই কাজ শেষ করতে না পারায় সরকার ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ পর্যন্ত এই নিয়মে ছাড় দিয়েছিল।
রাজ্যগুলোকে ১০০% আধার সিডিং-এর কাজ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছিল যাতে কৃষকরা পরের সমস্ত কিস্তি পান। অসম, মেঘালয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে ৩১ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত আধারের কাজ শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল।
- PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: ২২তম কিস্তি থেকে Farmer ID — সব কিছু এক জায়গায় জানুন
PM-KISAN 2026 সম্পূর্ণ গাইড: কিস্তি থেকে Farmer ID, পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি — pm kisan guidelines pdf ভারতের কৃষক মানেই একটা অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষ। একদিকে সারা দেশের পেট ভরানোর দায়িত্ব, অন্যদিকে নিজের সংসারে প্রতি মাসে টানাটানি। বীজ কিনবেন, সার কিনবেন, সেচের খরচ দেবেন — আর এই সবকিছুর মাঝে ফসলের দাম ঠিকমতো না পেলে … - বড় সিদ্ধান্ত! 2011 থেকে দেওয়া ১.৬৯ কোটি জাতি শংসাপত্র পুনর্যাচাই করবে রাজ্য — ‘দুয়ারে সরকার’ -এর সার্টিফিকেটও বাদ নেই
২০১১ থেকে দেওয়া সব জাতি শংসাপত্র পুনর্যাচাই হবে — ‘দুয়ারে সরকার’-এর সার্টিফিকেটও তালিকায়, রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত কী বার্তা দিচ্ছে ? ১৪ই মে ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের Backward Classes Welfare Department থেকে একটা চিঠি গেল রাজ্যের সমস্ত জেলার District Magistrate-দের কাছে। চিঠির বিষয়বস্তু পড়লে চমকে উঠতে হয়। ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে যত SC, ST ও OBC … - অটিস্টিক সন্তানের জন্য ট্রান্সফার আটকে রেখেছিল স্কুল — হাইকোর্ট যা বলল তা নজির গড়ল
অটিস্টিক সন্তানের জন্য ট্রান্সফার চেয়েছিলেন মা-শিক্ষিকা — স্কুল NOC দেয়নি, হাইকোর্ট এবার কড়া নির্দেশ দিল একজন মা। একজন শিক্ষিকা। আর মাঝখানে একটা ৯ বছরের ছেলে — যে কথা বলতে পারে না ঠিকঠাক, একা থাকতে পারে না, প্রতিটা মুহূর্তে কারো সঙ্গ দরকার তার। Beauti Baitha-র জীবনটা এইভাবেই চলছিল। প্রতিদিন সকালে উঠে ঘর থেকে বেরোতে হয় — … - বড় ধাক্কা! পশ্চিমবঙ্গের সব Sponsored স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি বাতিল — তাৎক্ষণিক প্রভাব কী হবে?
রাজ্যের সব Sponsored স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি হঠাৎ বাতিল — শিক্ষা দফতরের এই আদেশ কী বার্তা দিচ্ছে? ১৪ই মে ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা মহলে এদিন একটা বড় ঢেউ এল। Government of West Bengal-এর School Education Department, Secondary Branch — Bikash Bhawan থেকে একটি অফিসিয়াল Order জারি করা হলো। Order নম্বর: 582-SE/S/5C-01/2026। আর সেই আদেশে যা লেখা … - HS 2026 PPS/PPR আবেদন শুরু ১৫ মে — কীভাবে করবেন, কত টাকা লাগবে, সব জানুন এখনই
HS 2026 PPS ও PPR আবেদন শুরু ১৫ই মে — দেরি না করে এখনই জেনে নিন পুরো প্রক্রিয়া পরীক্ষার ফলাফল বেরোনোর পর অনেক ছাত্রছাত্রীর মনেই একটা প্রশ্ন থাকে — “আমি কি আরেকবার খাতা দেখানোর সুযোগ পাব?” উত্তর হলো, হ্যাঁ — এবং সেই সুযোগ এসে গেছে। HS 2026 PPS/PPR এর মাধ্যমে West Bengal Council of Higher … - HS Result 2026 West Bengal আগামীকাল সকাল ১০:৩০-এ — কোথায় দেখবেন, কীভাবে মার্কশিট পাবেন, সব তথ্য এক জায়গায়
উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ রেজাল্ট কাল সকালেই — অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে কাল সকাল থেকেই লক্ষ লক্ষ পরিবারের বুকের ধুকপুকানি একটু বাড়বে — এটা বলাই বাহুল্য। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) জানিয়েছে, ১৪ মে ২০২৬, অর্থাৎ আগামীকাল সকাল ১০:৩০ মিনিটে HS Result 2026 West Bengal-এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে …