বরাহমিহির: জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী ও পণ্ডিত

বরাহমিহির ছিলেন উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার এক উজ্জ্বল রত্ন। জ্যোতিষশাস্ত্র, অঙ্কশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিদ্যায় তাঁর মতো পারদর্শী কেউ ছিলেন না।

Varahamihira

উজ্জয়িনীর নবরত্ন

মিহিরের জন্ম ও পরিচয়

কিংবদন্তী অনুসারে, তাঁর পিতার নাম ছিল বরাহ এবং পুত্রের নাম ছিল মিহির। প্রথমে বরাহ নবরত্ন সভায় স্থান পান, পরে বিক্রমাদিত্য মিহিরকে সভায় নিয়ে আসেন। সম্রাটের ইচ্ছা ছিল খণাকেও সভায় স্থান দেওয়ার, কিন্তু তৎকালীন সমাজব্যবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি

এক শুভক্ষণে বরাহের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। বরাহ পুত্রের ভাগ্য গণনা করে জানতে পারেন যে সে স্বল্পায়ু। তাই তিনি শিশুটিকে একটি পেটিকার মধ্যে রেখে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন। সেই পেটিকাটি সিংহলের উপকূলে পৌঁছালে সেখানকার মেয়েরা শিশুটিকে রাজার কাছে নিয়ে যায়।

রাজা চন্দ্রচূড় শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে জ্যোতিষীরা জানান যে সে উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার উজ্জ্বল রত্ন বরাহের পুত্র। শিশুটির নাম রাখা হয় মিহির। পরে মিহিরের সাথে রাজার মেয়ের বিয়ে হয়।

খণার বুদ্ধিমত্তা ও পরিণতি

একবার সম্রাট বরাহের কাছে আকাশের নক্ষত্রের সংখ্যা জানতে চান। বরাহ সময় চাইলে তাঁর পুত্রবধূ খণা গণনা করে সঠিক উত্তর দেন। বরুচি রাজার কাছে খবরটি জানালে পারিষদরা খণাকে সভায় বসানোর প্রস্তাব দেন। বরাহ অপমানে পুত্র মিহিরকে খণার জিভ কেটে দিতে বলেন। তবে, ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী বরাহ ও মিহির একই ব্যক্তি ছিলেন, এবং খণা ছিলেন পরবর্তীকালের একজন।

বরাহমিহিরের পরিচয় ও অবদান

বরাহমিহির ছিলেন অবন্তী নগরের মানুষ। তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র ও অঙ্কশাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তিনি গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সমসাময়িক ছিলেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ্যা পুস্তক ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা‘ ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে লিখিত হয়েছিল। তিনি ভারতীয় পঞ্জিকার বৈজ্ঞানিক সংশোধন করেন এবং বৈশাখ মাস থেকে বছর গণনা শুরু করেন।

তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য বই ‘বৃহৎসংহিতা‘। তিনি আবহবিদ্যা, পূর্তবিদ্যা এবং স্থাপত্যবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। ‘বৃহৎসংহিতা’ গ্রন্থে তিনি বজ্রলেপ নামক সিমেন্ট জাতীয় বস্তুর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর অন্যান্য বইগুলি হল ‘বৃহৎজাতক‘ এবং ‘যোগমাত্রা‘। তাঁর সঠিক জীবনবৃত্তান্ত জানা যায়নি, কিন্তু তাঁর লিখিত বইগুলি আজও অমর হয়ে আছে।

FAQ

Q.1: বরাহমিহির কে ছিলেন?

Ans: বরাহমিহির ছিলেন উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের নবরত্ন সভার এক উজ্জ্বল রত্ন। তিনি জ্যোতিষশাস্ত্র, অঙ্কশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন।

Q.2: বরাহ মিহিরের প্রধান কাজ কি ছিল?

Ans: বরাহমিহিরের প্রধান কাজ ছিল জ্যোতির্বিদ্যা। এছাড়াও তিনি অঙ্কশাস্ত্র ও স্থাপত্যবিদ্যায় অবদান রেখেছেন। তিনি ভারতীয় পঞ্জিকার বৈজ্ঞানিক সংশোধন করেন এবং ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ ও ‘বৃহৎসংহিতা’র মতো বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।

Q.3: বরাহমিহিরের বিখ্যাত বইগুলোর নাম কি?

Ans: বরাহমিহিরের বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’, ‘বৃহৎসংহিতা’, ‘বৃহৎ জাতক’ এবং ‘যোগমাত্রা’।

Q.4: নবরত্ন সভা কি?

Ans: নবরত্ন সভা ছিল উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভা, যেখানে নয় জন জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তি স্থান পেতেন। এই সভায় বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যায় পারদর্শী পণ্ডিতেরা উপস্থিত ছিলেন।

Q.5: খনা কে ছিলেন?

Ans: খনা ছিলেন কিংবদন্তী অনুযায়ী বরাহমিহিরের পুত্রবধূ। তিনিও বুদ্ধিমতী ছিলেন এবং একবার আকাশের নক্ষত্রের সংখ্যা গণনা করে সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন। যদিও ঐতিহাসিক মতে, বরাহমিহির ও খনা ভিন্ন সময়ের ব্যক্তি ছিলেন।

Q.6: ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ কবে লেখা হয়েছিল?

Ans: ‘পঞ্চসিদ্ধান্তিকা’ ৫৫০ খ্রিস্টাব্দে লেখা হয়েছিল। এটি বরাহ মিহিরের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্যোতির্বিদ্যা পুস্তক।

Q.7: ‘বৃহৎসংহিতা’ গ্রন্থে কি আলোচনা করা হয়েছে?

Ans: ‘বৃহৎসংহিতা’ গ্রন্থে আবহবিদ্যা, পূর্তবিদ্যা, স্থাপত্যবিদ্যা এবং বজ্রলেপ নামক সিমেন্ট জাতীয় বস্তুর কথা আলোচনা করা হয়েছে।

Q.8: ভারতীয় পঞ্জিকার বৈজ্ঞানিক সংশোধন কে করেছিলেন?

Ans: ভারতীয় পঞ্জিকার বৈজ্ঞানিক সংশোধন করেছিলেন বরাহ মিহির। তিনিই বৈশাখ মাস থেকে বছর গণনা শুরু করেন।

Q.9: বরাহমিহিরের জন্মস্থান কোথায় ছিল?

Ans: বরাহমিহিরের জন্মস্থান ছিল অবন্তী নগর। তিনি অবন্তী নগরের মানুষ ছিলেন।

Q.10: বরাহমিহির কোন রাজার সমসাময়িক ছিলেন?

Ans: বরাহ মিহির গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের সমসাময়িক ছিলেন।

READ MORE

সত্যেন্দ্রনাথ বসু |Satyendra Nath Bose Biography in Bengali

READ MORE

ভারতীয় রসায়নের জনক: আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় | Acharya Prafulla Chandra Roy discovered Mercurous Nitrite

Leave a Comment