মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন ও উত্তর : জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) Madhyamik Life Science Question and Answer : মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer, দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় এর প্রশ্ন উত্তর pdf  নিচে দেওয়া হলো

Table of Contents

2.A  কোশ বিভাজন ও কোশচক্র

circular cell cycle diagram
circular cell cycle diagram

জীবদেহ এক বা বহু কোশ দিয়ে গঠিত। কোশই হল জীবের গাঠনিক ও কার্যকরী একক। যে প্রক্রিয়ায় একটি জনিতৃ কোশ থেকে অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, তাকে কোশ বিভাজন বলে। কোশ বিভাজনের পর কোশের বৃদ্ধি, পুনরায় বিভাজন — এই পর্যায়ক্রমিক ঘটনাগুলির সামগ্রিক রূপকে কোশচক্র বলা হয়।

2.A.I  ক্রোমোজোম, DNA ও জিন — পারস্পরিক সম্পর্ক

কোশের নিউক্লিয়াসে নিউক্লিওপ্রোটিন দিয়ে গঠিত, প্যাঁচানো সূত্রাকার অংশকে ক্রোমাটিন জালিকা বলে। কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম তৈরি হয়। ক্রোমোজোম মূলত DNA, হিস্টোন প্রোটিন এবং স্বল্পমাত্রায় RNA ও নন-হিস্টোন প্রোটিন দিয়ে গঠিত।

● ক্রোমাটিন জালিকা: নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত, নিউক্লিওপ্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত প্যাঁচানো সূত্রাকার কাঠামো, যা ক্রোমোজোম গঠনের পূর্বরূপ।

● ক্রোমোজোম → DNA → জিন: এই ক্রমে প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটি DNA অণু থাকে এবং সেই DNA-র নির্দিষ্ট অংশ, যেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত লিপিবদ্ধ থাকে, তাকে জিন বলে।

DNA-র গঠন ও বৈশিষ্ট্য

DNA double helix structure
DNA double helix structure

১৯৫৩ সালে ওয়াটসন ও ক্রিক DNA অণুর দ্বিতন্ত্রী মডেল প্রস্তাব করেন। DNA হল ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড — একটি রাসায়নিক যৌগ।

● গঠন: DNA দ্বিতন্ত্রী ও কুণ্ডলাকার (ডাবল হেলিক্স) এবং দুটি তন্ত্র পরস্পরের বিপরীতমুখী।

● শর্করা: DNA-র শর্করা ডিঅক্সিরাইবোজ (পাঁচ কার্বনযুক্ত)।

● নাইট্রোজেন ক্ষার: DNA-তে চারটি নাইট্রোজেন ক্ষার আছে — অ্যাডেনিন (A), থাইমিন (T), গুয়ানিন (G) এবং সাইটোসিন (C)।

● বেস পেয়ারিং: A-T যুগল দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা এবং G-C যুগল তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা যুক্ত থাকে।

● পিচ: প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪Å এবং প্রতিটি প্যাঁচে ১০টি নিউক্লিওটাইড জোড় থাকে।

RNA-র গঠন

RNA হল রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড। এটি সাধারণত একতন্ত্রী। RNA-র শর্করা রাইবোজ। নাইট্রোজেন ক্ষার হল অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল (থাইমিনের পরিবর্তে)।

2.A.II  ক্রোমোজোমের রাসায়নিক গঠন

● প্রোটিন: ক্রোমোজোমে দুই ধরনের প্রোটিন থাকে — ক্ষারীয় হিস্টোন প্রোটিন (আর্জিনিন, লাইসিন সমৃদ্ধ) এবং অ-ক্ষারীয় বা অ্যাম্লিক নন-হিস্টোন প্রোটিন (টাইরোসিন, ট্রিপটোফ্যান সমৃদ্ধ)।

● নিউক্লিক অ্যাসিড: ক্রোমোজোমে প্রধানত DNA এবং স্বল্পমাত্রায় RNA থাকে।

● ধাতব আয়ন: ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন প্রভৃতি ধাতব আয়ন ক্রোমোজোমের গঠনে অংশ নেয়।

2.A.III  ক্রোমোজোমের প্রকারভেদ

ক্রোমোজোম দুই প্রকার:

● অটোজোম: দেহজ বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। মানুষের দেহে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে।

● অ্যালোজোম বা সেক্স ক্রোমোজোম: লিঙ্গ নির্ধারণ করে। পুরুষের ক্ষেত্রে XY এবং মহিলার ক্ষেত্রে XX রূপে থাকে।

ক্রোমোজোমের সংখ্যাকে প্লয়েডি বলে। জনন কোশে হ্যাপ্লয়েড (n) এবং দেহকোশে ডিপ্লয়েড (2n) ক্রোমোজোম থাকে। মানুষের ডিপ্লয়েড সংখ্যা ৪৬।

2.A.IV  ক্রোমোজোমের গঠনগত অংশ

● ক্রোমাটিড: মেটাফেজ দশায় একটি ক্রোমোজোমের দুটি অর্ধেক অংশকে ক্রোমাটিড বলে।

● সেন্ট্রোমিয়ার বা প্রাথমিক খাঁজ: দুটি ক্রোমাটিডকে পরস্পরের সাথে যুক্ত রাখে। এটি বেমতন্তুর সাথে সংযুক্ত থাকে।

● গৌণ খাঁজ (NOR): প্রাথমিক খাঁজ ছাড়া অন্য যে-কোনো খাঁজকে গৌণ খাঁজ বলে। এই খাঁজ নিউক্লিওলাস গঠনে অংশ নেয় বলে একে নিউক্লিওলার অর্গানাইজার রিজিয়ন (NOR) বলে।

● স্যাটেলাইট: কোনো কোনো ক্রোমোজোমের প্রান্তে বোতামের মতো ফোলা অংশকে স্যাটেলাইট বলে।

● টেলোমিয়ার: ক্রোমোজোমের প্রতিটি প্রান্তের বিশেষ অংশ। প্রতিটি DNA গঠনে সাহায্য করে, কোশের বার্ধক্য ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে।

2.A.V  ক্রোমাটিনের প্রকারভেদ

● ইউক্রোমাটিন: স্থির নিউক্লিয়াসে প্রসারিত অবস্থায় থাকে। হালকা রঞ্জিত হয়। সক্রিয় জিন বহন করে।

● হেটেরোক্রোমাটিন: স্থির নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় থাকে। গাঢ়ভাবে রঞ্জিত হয়। নিষ্ক্রিয় জিন বহন করে।

2.A.VI  মাইটোসিস কোশ বিভাজন

Diagram showing all stages of Mitosis
Diagram showing all stages of Mitosis

মাইটোসিস হল সেই কোশ বিভাজন পদ্ধতি যেখানে একটি মাতৃকোশ থেকে সমআকৃতি ও সমক্রোমোজোমযুক্ত দুটি অপত্য কোশ তৈরি হয়। নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম একবার বিভাজিত হয়।

● স্থান: দেহকোশ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্ধনশীল অঙ্গে ঘটে।

● গুরুত্ব: বহুকোষী জীবের বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ, এককোষী জীবের অযৌন জনন।

মাইটোসিসের দশাসমূহ

(১) ইন্টারফেজ

কোশচক্রের G₁, S ও G₂ দশা মিলিয়ে ইন্টারফেজ গঠিত। এই দশায় DNA প্রতিলিপিকরণ (S দশায়), হিস্টোন সংশ্লেষ ও কোশের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। এটি দীর্ঘস্থায়ী পর্যায়।

(২) প্রোফেজ

ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম দৃশ্যমান হতে শুরু করে। নিউক্লিয় আবরণ ভাঙতে শুরু করে। নিউক্লিওলাস বিলুপ্ত হয়।

(৩) মেটাফেজ

ক্রোমোজোমগুলি কোশের মধ্যবর্তী তলে (মেটাফেজ প্লেটে) সজ্জিত হয়। বেমতন্তুর সাথে সেন্ট্রোমিয়ার যুক্ত হয়। এই দশায় ক্রোমোজোমগুলি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।প্রাণীকোশে সেন্ট্রিওল থেকে বেমতন্তু (স্পিন্ডেল) তৈরি হয়।

(৪) অ্যানাফেজ

সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয় এবং ক্রোমাটিডগুলি বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায়। ক্রোমোজোমগুলি V, L, J বা I আকৃতি ধারণ করে।

(৫) টেলোফেজ

ক্রোমোজোমগুলি বিপরীত মেরুতে পৌঁছায় এবং অস্পষ্ট হয়ে যায়। নতুন নিউক্লিয় আবরণ তৈরি হয়। নিউক্লিওলাস পুনরায় গঠিত হয়।

(৬) সাইটোকাইনেসিস

● প্রাণীকোশ: কোশঝিল্লির মাঝবরাবর খাঁজ তৈরি হয়ে (ক্লিভেজ) সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়।

● উদ্ভিদকোশ: কোশপাত গঠনের মাধ্যমে সাইটোপ্লাজম বিভক্ত হয়।

2.A.VII  মিয়োসিস কোশ বিভাজন

Flowchart illustration of Meiosis
Flowchart illustration of Meiosis

মিয়োসিস হল সেই বিভাজন পদ্ধতি যেখানে একটি ডিপ্লয়েড মাতৃকোশ থেকে ক্রোমোজোম ও নিউক্লিয়াসের দুইবার বিভাজনের ফলে হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়। এই বিভাজনকে হ্রাস বিভাজনও বলে।

● মিয়োসিস-I (হ্রাস বিভাজন): পিতা ও মাতার সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড় বেঁধে বাইভ্যালেন্ট তৈরি করে ও পৃথক হয়।

  ◆ কায়াজমা: সমসংস্থ ক্রোমোজোমের মধ্যে ননসিস্টার ক্রোমাটিডের ক্রসিং ওভার ঘটে এখানে।

● মিয়োসিস-II (সম বিভাজন): মাইটোসিসের মতো, ক্রোমাটিড পৃথক হয়।

● মিয়োসিসের গুরুত্ব: জননকোশ সৃষ্টি, ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্রুবক রাখা, ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে বৈচিত্র্য সৃষ্টি।

2.B  জনন

যে প্রক্রিয়ায় একটি জনিতৃ জীব থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে জনন বলে। জনন দুই প্রকার — অযৌন জনন ও যৌন জনন।

2.B.1  জননের তাৎপর্য

জীবজগতে বংশবৃদ্ধি ও প্রজাতির অস্তিত্ব রক্ষা।

নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব সৃষ্টির মাধ্যমে বিবর্তনে সহায়তা।

প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি।

2.B.2  যৌন জনন

যে জনন প্রক্রিয়ায় দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি করে এবং সেই জাইগোট থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়, তাকে যৌন জনন বলে।

2.B.3  অযৌন জনন

6 types of asexual reproduction
6 types of asexual reproduction

যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেটের মিলন ছাড়া একটি জীব থেকে অপত্য জীব তৈরি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে। উদাহরণ — আমিবা, ইস্ট, হাইড্রা, স্পাইরোগাইরা।

অযৌন জননের প্রকারভেদ

● দ্বিবিভাজন: একটি জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য তৈরি করে। উদাহরণ — আমিবা, ব্যাকটেরিয়া।

● বহুবিভাজন: নিউক্লিয়াস বারবার মাইটোসিস দ্বারা বিভাজিত হয়ে বহু অপত্য কোশ সৃষ্টি করে। উদাহরণ — প্লাসমোডিয়াম।

● কোরকোদ্গম: মাতৃদেহ থেকে কোরক বের হয় এবং পরিণত হয়ে নতুন জীব তৈরি করে। উদাহরণ — ইস্ট, হাইড্রা।

● খণ্ডীভবন: জীবদেহ খণ্ডে বিভক্ত হয়, প্রতিটি খণ্ড নতুন জীব তৈরি করে। উদাহরণ — স্পাইরোগাইরা, অসিলেটোরিয়া।

Life cycle diagram of a Fern (Dryopteris)
Life cycle diagram of a Fern (Dryopteris)

● রেণু উৎপাদন: রেণুথলিতে রেণু তৈরি হয় এবং অঙ্কুরিত হয়ে নতুন জীব সৃষ্টি করে। উদাহরণ — মিউকর, পেনিসিলিয়াম, রিকসিয়া, ড্রায়োপটেরিস।

● পুনরুৎপাদন: কাটা অংশ থেকে পূর্ণাঙ্গ জীব তৈরি। উদাহরণ — প্ল্যানেরিয়া, হাইড্রা, স্পঞ্জ।

● অপুংজনি: নিষেক ছাড়া অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে নতুন জীব তৈরি। উদাহরণ — মৌমাছির পুরুষ।

2.B.4  অঙ্গজ জনন

উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, মূল — এই অঙ্গগুলির মাধ্যমে বংশবিস্তারকে অঙ্গজ জনন বলে।

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন

● মূল: ডালিয়া, মিষ্টি আলু প্রভৃতি উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন চারা তৈরি হয়।

● কাণ্ড: আলু (চোখ), আদা, পেঁয়াজ — বিভিন্ন রূপান্তরিত কাণ্ড থেকে বংশবিস্তার ঘটে।

● পাতা: পাথরকুচির পাতার প্রান্তে প্রান্তীয় মুকুল থেকে নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন

● শাখাকলম: কাণ্ডের টুকরো মাটিতে পুঁতলে নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়। উদাহরণ — গোলাপ, আম।

● জোড়কলম (গ্রাফটিং): উন্নত প্রজাতির শাখা কম উন্নত প্রজাতির কাণ্ডে জুড়ে দেওয়া হয়। উদাহরণ — আম, লিচু।

● অণুবিস্তরণ (মাইক্রোপ্রপাগেশন): বিশেষ কর্ষণ সংযোজনে দ্রুত ও বিপুল সংখ্যায় রোগমুক্ত উদ্ভিদ তৈরি।

2.C সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন

সপুষ্পক উদ্ভিদে পরাগধানির পরাগরেণু পরাগযোগের মাধ্যমে গর্ভমুণ্ডে পৌঁছায় এবং নিষেকের মাধ্যমে জনন সম্পন্ন হয়।

2.C.1  ফুলের গঠনগত অংশ

cross-sectional diagram of a complete flower
Cross-sectional diagram of a complete flower

একটি সম্পূর্ণ আদর্শ ফুলে চারটি স্তবক থাকে — বৃতি (বাইরের সবুজ অংশ), দলমণ্ডল (রঙিন পাপড়ি), পুংকেশর (পুংজনন অঙ্গ) ও গর্ভকেশর (স্ত্রীজনন অঙ্গ)।

2.C.2  পরাগযোগ

পুংকেশরের পরাগধানি থেকে পরাগরেণু গর্ভকেশরের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পরাগযোগ বলে।

● স্বপরাগযোগ: একই ফুলের মধ্যে বা একই উদ্ভিদের ফুলে পরাগযোগ।

● ইতর পরাগযোগ: এক উদ্ভিদের পরাগরেণু অন্য উদ্ভিদের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর।

পরাগযোগের মাধ্যম: বায়ু (ধান, গম), জল (পাতাশেওলা), পতঙ্গ (জবা, আকন্দ), পাখি (শিমুল, পলাশ)।

2.C.3  নিষেক ও নতুন উদ্ভিদ গঠন

পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর পর পরাগনালি তৈরি করে ডিম্বকের দিকে অগ্রসর হয়। পুং জননকোশ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে। জাইগোট বারবার বিভক্ত হয়ে ভ্রূণ তৈরি করে, ডিম্বক বীজে এবং ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।

2.B.5  জনুক্রম

জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (2n) ও হ্যাপ্লয়েড (n) জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে। ফার্নে স্পোরোফাইট (2n) ও গ্যামেটোফাইট (n) জনু পর্যায়ক্রমে আসে।

2.D  বৃদ্ধি ও বিকাশ

● বৃদ্ধি: জীবের শুষ্ক ভরের স্থায়ী অপরিবর্তনীয় বৃদ্ধিকে বৃদ্ধি বলে। উদাহরণ — পাতার প্রসারিত হওয়া।

● বিকাশ: একটি জাইগোট থেকে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ জটিল বহুকোষী জীব গঠনের প্রক্রিয়া হল বিকাশ।

মানব বিকাশের পাঁচটি দশা

5 stages of human development
5 stages of human development

1. সদ্যোজাত দশা: জন্ম থেকে ২ বছর পর্যন্ত।

2. শৈশব দশা: ২ থেকে ১১ বছর।

3. বয়ঃসন্ধি দশা: ১১ বছরের কাছাকাছি থেকে শুরু, ১৮–১৯ বছর পর্যন্ত।

4. পরিণত দশা: যৌন পরিণতি লাভের পর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত।

5. বার্ধক্য দশা: শারীরিক কর্মক্ষমতা হ্রাস ও ক্রমে মৃত্যু।

MCQ প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

1. জিন মূলত কোনটির অংশ? 

(a) RNA

(b) DNA

(c) DNA ও RNA উভয়

(d) কোনোটিই নয়

উত্তর: (b)DNA

2. ক্রোমোজোমের অধিক ঘনত্ব যুক্ত পুঁতির মতো অংশগুলিকে কি বলে?

(a) ক্রোমোনিমা

(b) ক্রোমোমিয়ার

(c) ক্রোমাটিড

(d) সেন্ট্রোমিয়ার

উত্তর: (b) ক্রোমোমিয়ার

3. স্যাটেলাইট থেকে ক্রোমোজোমের 

(a) মুখ্য খাঁজে

(b) সেন্ট্রোমিয়ারে

(c) গৌণ খাঁজে

(d) ক্রোমাটিডে

উত্তর: (c ) গৌণ খাঁজে 

4. কোন কোষ বিভাজনকে সদৃশ্ বিভাজন বলে 

(a) মাইটোসিস

(b) মিয়োসিস

(c) সাইটোকাইনেসিস

(d) অ্যামাইটোসিস

উত্তর: (a) মাইটোসিস 

5. নিম্নলিখিত কার ক্ষেত্রে খন্ডিভবন দেখা যায়?

(a) অ্যামিবা

(b) হাইড্রা

(c) স্পাইরোগাইরা

(d) প্লানেরিয়া

উত্তর: (c ) স্পাইরোগাইরা

6. ফুলের কোন অংশ পরাগযোগের জন্য কীটপতঙ্গ আকর্ষণ করে? 

(a) বৃতি

(b) পাপড়ি

(c) পুংস্তবক

(d) স্ত্রীস্তবক

উত্তর: (b) পাপড়ি 

7. দুটি গ্যামেটের মিলনকে বলে 

(a) নিষেক

(b) সংশ্লেষ

(c) অপুং জনি

(d) অযৌন জনন

উত্তর: (a) নিষেক

8.কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের বিষুব অঞ্চলে অবস্থান করে

(a) প্রফেজ

(b) মেটাফেজ

(c) অ্যানাফেজ

(d) টেলোফেজ

উত্তর: (b) মেটাফেজ

9. কোন কোশ বিভাজন পদ্ধতিতে মাতৃকোশ থেকে হ্যাপ্লয়েড অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়?

(a) মাইটোসিস  

(b) মিয়োসিস

(c) আমাইটোসিস

(d) কোনোটিই নয়

উত্তর: মিয়োসিস

10. DNA-র দ্বিতন্ত্রী মডেল কে প্রস্তাব করেন?

(a) ডারউইন ও হাক্সলে 

(b) ওয়াটসন ও ক্রিক  

(c) মেন্ডেল ও ডি ভ্রিস

(d) ফ্লেমিং ও স্ট্র্যাসবার্গার

উত্তর: ওয়াটসন ও ক্রিক

11. মাইটোসিসের কোন দশায় ক্রোমোজোমগুলি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায়?

(a) প্রোফেজ

(b) মেটাফেজ

(c) অ্যানাফেজ

(d) টেলোফেজ

উত্তর: মেটাফেজ

12. কোশচক্রের কোন দশায় DNA প্রতিলিপিকরণ ঘটে?

(a) G₁ দশা

(b) S দশা

(c) G₂ দশা  

(d) M দশা

উত্তর: S দশা

13. NOR কোথায় থাকে?

(a) সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে

(b) গৌণ খাঁজে

(c) টেলোমিয়ার

(d) স্যাটেলাইটে

উত্তর: গৌণ খাঁজে  

14. মানুষের দেহকোশে মোট ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?

(a) 23  

(b) 44

(c) ) 46

(d) 48

উত্তর: 46

15. DNA-তে থাইমিনের পরিপূরক ক্ষারটি হল—

(a) অ্যাডেনিন

(b) গুয়ানিন

(c) সাইটোসিন

(d) ইউরাসিল

উত্তর: অ্যাডেনিন

16. প্লাসমোডিয়ামে কোন ধরনের অযৌন জনন দেখা যায়?

(a) দ্বিবিভাজন

(b) বহুবিভাজন

(c) কোরকোদ্গম

(d) খণ্ডীভবন

উত্তর: বহুবিভাজন

17. পাতাশেওলায় জলের মাধ্যমে পরাগযোগ — এটি কোন ধরনের পরাগযোগ?

(a) বায়ুপরাগী  

(b) হাইড্রোফিলাস

(c) এন্টোমোফিলাস

(d) অর্নিথোফিলাস

উত্তর: হাইড্রোফিলাস

18. কোশ বিভাজনে বেমতন্তু গঠনে কোন অঙ্গাণু সাহায্য করে?

(a) মাইটোকন্ড্রিয়া

(b) সেন্ট্রিওল

(c) রাইবোজোম

(d) গলগি বডি

উত্তর: সেন্ট্রিওল  

19. একটি উদ্ভিদের মূলকোশে ক্রোমোজোম সংখ্যা ১২ হলে পরাগরেণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?

(a) 6

(b) 12

(c) 24

(d) 3

উত্তর: 6

20. পাথরকুচির পাতায় কোন প্রকার অঙ্গজ জনন দেখা যায়?

(a) কাণ্ডের মাধ্যমে

(b) পাতার মাধ্যমে

(c) মূলের মাধ্যমে  

(d) রেণুর মাধ্যমে

উত্তর: পাতার মাধ্যমে

21. মিয়োসিস বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন বলার কারণ হল—

(a) কোশের আকার হ্রাস পায়

(b) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়

(c) DNA কমে যায়  

(d) প্রোটিন কমে যায়

উত্তর: ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়

22. স্পাইরোগাইরায় কোন প্রকার অযৌন জনন দেখা যায়?

(a) কোরকোদ্গম

(b) বহুবিভাজন

(c) ) খণ্ডীভবন  

(d) রেণু উৎপাদন

উত্তর: খণ্ডীভবন

23. হাইড্রায় কোরকোদ্গম পদ্ধতিতে বংশবিস্তার হওয়া কী ধরনের জনন?

(a) যৌন জনন

(b) অযৌন জনন

(c) জনুক্রম

(d) কোনোটিই নয়

উত্তর: অযৌন জনন  

24. অটোজোম দেহের কী নির্ধারণ করে?

(a) লিঙ্গ

(b) দেহজ বৈশিষ্ট্য  

(c) বর্ণান্ধতা

(d) হিমোফিলিয়া

উত্তর: দেহজ বৈশিষ্ট্য  

25. কোশচক্রের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা হল—

(a) M দশা

(b) S দশা

(c) ইন্টারফেজ

(d) G₂ দশা

উত্তর: ইন্টারফেজ

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer : 

Scientific diagram of a eukaryotic chromosome
Scientific diagram of a eukaryotic chromosome

1. S দশায় কি সংশ্লেষণ ঘটে? 

উত্তর: DNA 

2. জিন কোথায় থাকে? 

উত্তর: জিন প্রধানত ক্রোমোজোম এ থাকে 

3. কোথায় RNA জিন রূপে কাজ করে? 

উত্তর: ভাইরাসের ক্ষেত্রে 

4. মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত? 

উত্তর: মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা 46 টি বা 23 জোড়া 

5. মানুষের সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজমের সংখ্যা কত?

উত্তর: দুটি 

6. একটি শুক্রাণু তে অটোজোম সংখ্যা কত? 

উত্তর: 22 টি 

7. একটি শুক্রাণুতে বা ডিম্বাণুতে সেক্স ক্রোমোজোম সংখ্যা কটা? 

উত্তর: একটি 

8. শুক্রাণু বা ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত? 

উত্তর: 23টি

9. পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম কিভাবে প্রকাশ করা হয়? 

উত্তর: পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম হলো XY প্রকৃতির 

10. ক্রমনিমার পুঁথির দানার মতো অংশগুলি কে কি বলে?

উত্তর: ক্রমোমিয়ার 

11. মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার কোথায় থাকে? 

উত্তর: ক্রোমোজোমের মাঝখানে 

12. স্যাটেলাইট যুক্ত ক্রোমোজোমকে কি বলে? 

উত্তর: স্যাট ক্রোমোজোম 

13. DNA তে নাইট্রোজেন বেস গুলি কি কি থাকে? 

উত্তর: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, থাইমীন, সাইটোসিন

14. RNA এর নাইট্রোজেন বেস গুলি কি কি? 

উত্তর: অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, ইউরাসিল 

15.DNA ও RNA তে কত কার্বনযুক্ত শর্করা থাকে? 

উত্তর: 5 কার্বন যুক্ত 

16.DNA এবং RNA এর পিন্টুজ শর্করা হিসেবে কি থাকে? 

উত্তর: DNA তে ডি অক্সিরাইবোজ শর্করা, RNA তে রাইবোজ শর্করা থাকে 

17.DNA এর দ্বিতন্ত্রী নকশা কে প্রণয়ন করেন? 

উত্তর: বিজ্ঞানী ওয়াটসন ও ক্রিক 1953 সালে 

18. প্রাণী কোষের কোন অঙ্গাণু কোষ বিভাজন কালে বেম গঠন করে? 

উত্তর: সেন্ট্রোজোম 

19. ভ্রুনের পরিস্ফুটন কালে কি ধরনের কোষ বিভাজন দেখা যায়? 

উত্তর: মাইটোসিস 

20. কোন কোষ বিভাজনে নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়?

উত্তর: অ্যামাইটোসিস 

21. একটি মাতৃকোষ থেকে চারটি অপত্য কোষ কোন কোষ বিভাজনে সৃষ্টি হয়?

উত্তর: মিয়োসিস 

22. মিয়োসিস প্রক্রিয়া প্রধানত কোথায় ঘটে? 

উত্তর: জনন মাতৃকোষ 

23. কোন কোষ বিভাজনকে হ্রাস বিভাজন বলে?

উত্তর: মিয়োসিস কে হ্রাস বিভাজন বলে।

24. ক্রসিং ওভার কখন ঘটে? 

উত্তর: মিয়োসিস 1 এর প্রফেজের প্যাকেটিং উপদাশায় ক্রসিং ওভার ঘটে। 

25. সদৃশ্ কোষ বিভাজন কাকে বলে? 

উত্তর: মাইটোসিস কে সদৃশ্ কোষ বিভাজন বলে।

26. G0 দশায় কোন কোন কোষ অবস্থান করে? 

উত্তর: স্নায়ু কোষ, পেশী কোষ, পরিণত লোহিত রক্তকণিকা। 

27. কোষ চক্রের কোন দশায় DNA এর পরিমাণ 2C থেকে 4C হয়? 

উত্তর: S দশায় 

28. কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয়লাসের বিলুপ্তি ঘটে? 

উত্তর: প্রফেজ

29. কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোম গুলি বেমের মাঝখানে সজ্জিত থাকে? 

উত্তর: মেটাফেজ দশায় 

30. কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোমকে সুস্পষ্টভাবে গোনা যায়? 

উত্তর: মেটাফেজ দশায় 

31. কোষ বিভাজনের কোন দশায় ক্রোমোজোম গুলি বেমের দুই মেরুর দিকে চলতে থাকে? 

উত্তর: অ্যানাফেজ দশায় 

32. কোষ বিভাজনের কোন দশায় নিউক্লিয় পর্দার আবির্ভাব ঘটে? 

উত্তর: টেলোফেজ 

33. কোন অঙ্গানু উদ্ভিদ কোষের কোষ বিভাজন কালে বেম গঠন করে? 

উত্তর: মাইক্রোটিউবিউল 

34. ক্যারিওকাইনেসিস কাকে বলে? 

উত্তর: নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।

35. সাইটোকাইনেসিস কাকে বলে?

উত্তর: সাইটোপ্লাজমের বিভাজনকে সাইটোকাইনেসিস বলে। 

36. উদ্ভিদ কোষের সাইটোকাইনেসিস কি পদ্ধতিতে ঘটে? 

উত্তর: সেলপ্লেট গঠনের মাধ্যমে 

37. প্রাণী কোষের সাইটোকাইনেসিস কি পদ্ধতিতে হয়? 

উত্তর: ক্লিভেজ পদ্ধতিতে 

38. পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোমের দেহাংশের বিনিময় কে কি বলে?

উত্তর: ক্রসিং ওভার 

39. বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত উদ্ভিদ কোষ কে কি বলে? 

উত্তর: সিনোসাইট 

40. বহু নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রাণী কোষ কে কি বলে? 

উত্তর: সিনসাইটিয়াম

শূন্যস্থান পূরণ কর | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

1…….. কোষ বিভাজনে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে 

উত্তর: মিয়োসিস 

2…….. অনুর ঘন কুণ্ডলীকৃত গঠনই হলো ক্রোমোজোম 

উত্তর: ডি এন এ 

3. অ্যাডেনিন একটি ………জাতীয় নাইট্রোজেন ক্ষারক। 

উত্তর: পিউরিন 

4. মানুষের মধ্যে যদি মিয়োসিসের পরিবর্তে মাইটোসিস দ্বারা গ্যামেট উৎপন্ন হতো তবে অপত্য সন্তানের একটি দেহকোষে অটোজম সংখ্যা হতো……….

উত্তর: 88 টি

5. হিস্টোন এক প্রকার……. প্রোটিন।

উত্তর: ক্ষারীয় 

6. লিঙ্গ নির্ধারণে সাহায্য করে……ক্রোমোজোম 

উত্তর: সেক্স ক্রোমোজোম 

7. সকল ক্রোমোজোম এ থাকে………খাজ 

উত্তর: মুখ্য খাঁজ 

8….. এক প্রকার প্রত্যক্ষ বিভাজন 

উত্তর: অ্যামাইটোসিস 

9………ক্রোমাটিন ইন্টারফেস দশায় হালকা বর্ণ ধারণ করে।

উত্তর: ইউক্রোমাটিন

10. ক্রোমোজোমের দুই প্রান্ত দেশকে………বলে।

উত্তর: টেলোমিয়ার 

11. ফার্নের জনুক্রমে স্পোরোফাইট জনু ………….

উত্তর: 2n

12. DNA-তে অ্যাডেনিনের পরিপূরক ক্ষারটি হল………..

উত্তর: থাইমিন

13. . মিয়োসিস বিভাজনকে……………বিভাজনও বলে

উত্তর: হ্রাস

14. গুয়ানিন ও সাইটোসিনের মধ্যে……….. সংখ্যক হাইড্রোজেন বন্ধন থাকে

উত্তর: 3

15. মাইটোসিসের ………….দশায় নিউক্লিয় পর্দার বিলুপ্তি ঘটে

উত্তর: প্রোফেজ

সত্য অথবা মিথ্যা নির্ধারণ করো  [প্রতিটি ১ নম্বর]মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) ‘জনন’ প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

1. ইউরাসিল ক্ষারটি DNA-তে পাওয়া যায়।  [মিথ্যা]

2. মাইটোসিসের ফলে অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান থাকে।  [সত্য]

3. হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে অপুংজনি বলে।  [মিথ্যা]

4. সমস্ত ক্রোমোজোমগুলি বাইভ্যালেন্ট গঠন করে।  [সত্য]

5. DNA দ্বিতন্ত্রী ও কুণ্ডলাকার গঠনযুক্ত।  [সত্য]

6. বায়ুপরাগী ফুল সাধারণত খুব সুগন্ধযুক্ত হয়।  [মিথ্যা]

7. প্ল্যানেরিয়া খণ্ডীভবন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে।  [মিথ্যা]

8. মিয়োসিস কোশ বিভাজনের দ্বিতীয় উপদশায় ক্রসিং ওভার সংঘটিত হয়।  [মিথ্যা]

9. টেলোমিয়ার ক্রোমোজোমের প্রতিটি প্রান্তে উপস্থিত থাকে।  [সত্য]

10. হিস্টোন প্রোটিন পাওয়া যায় নিউক্লিওজোমের গঠনে।  [সত্য]

11. উদ্ভিদকোশে সাইটোকাইনেসিস কোশপাত গঠনের মাধ্যমে ঘটে।  [সত্য]

12. একটি সম্পূর্ণ DNA প্যাঁচে ১০টি নিউক্লিওটাইড জোড় থাকে।  [সত্য]

13. মাইটোসিসের মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোম সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়।  [সত্য]

14. পাথরকুচি পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জনন করে।  [সত্য]

15. অযৌন জননে গ্যামেটের মিলন ঘটে।  [মিথ্যা]

স্তম্ভ মেলাও  [প্রতিটি ১ নম্বর] জীবনের প্রবাহমানতা, ‘জনন’ প্রশ্ন ও উত্তর

A-স্তম্ভের সাথে B-স্তম্ভ মেলাও:

A-স্তম্ভB-স্তম্ভ
(i) মিয়োসিস(a) ক্ষতিপূরণ ও বৃদ্ধি
(ii) মাইটোসিস(b) হ্রাস বিভাজন
(iii) কায়াজমা(c) কোরকোদ্গম
(iv) হাইড্রা(d) জেনেটিক পুনর্বিন্যাস
(v) টেলোমিয়ার(e) কোশের বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ
(vi) NOR(f) নিউক্লিওলাস গঠন
(vii) সাইটোকাইনেসিস(g) সাইটোপ্লাজমের বিভাজন

উত্তর: (i)→(b), (ii)→(a), (iii)→(d), (iv)→(c), (v)→(e), (vi)→(f), (vii)→(g)

জনন 

Life Science Class Ten Reproduction
Life Science Class Ten Reproduction

অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) ‘জনন’ প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

1. কোন প্রাণী  বহু বিভাজন পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে?

উত্তর: প্লাসমোডিয়াম 

2. বাডিং এর সাহায্যে কোন প্রাণী জনন সম্পন্ন করে? 

উত্তর: হাইড্রা 

3. বাডিং এর সাহায্যে কোন উদ্ভিদ জনন সম্পন্ন করে? 

উত্তর: ইস্ট 

4. কোন প্রাণীর পুনরুতপাদন ঘটে? 

উত্তর: প্লানেরিয়া 

5. খন্ডীভবন প্রক্রিয়ায় জনন সম্পন্ন করে কোন উদ্ভিদ?

উত্তর: স্পাইরোগাইরা 

6. জু স্পোর কোথায় দেখা যায়? 

উত্তর: হাইটোপথোরাতে

7. ফ্লাজেলা বিহীন অচল রেনুকে কি বলে?

উত্তর: এপ্লানোস্পোর 

8. এপ্লানোস্পোর কোথায় দেখা যায়? 

উত্তর: মিউকরে

9. খর্ব ধাবকের সাহায্যে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন করে কোন উদ্ভিদ?

উত্তর: কচুরিপানা 

10. পত্রজ মুকুল দেখা যায় কোন উদ্ভিদে? 

উত্তর: পাথরকুচি, বেগনিয়া 

11. এক্সপ্লান্ট কাকে বলে?

উত্তর: টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে ব্যবহৃত উদ্ভিদ অংশকে কে এক্সপ্লান্ট বলে।

12. টরুলা দশা কোথায় দেখা যায়

উত্তর: ইস্টে

13. জোড় কলম পদ্ধতিতে যে শাখা বা মুকুলটিকে গ্রাফটিং এর জন্য নির্বাচন করা হয় তাকে কি বলে?

উত্তর: সিয়ন বলে

14. বুলবিলের সাহায্যে বংশবিস্তার করে কোন উদ্ভিদ? 

উত্তর: খামআলু, চুপরি আল

15. কর্ষণ দ্রবণে কি কি হরমোন দেওয়া হয়?

উত্তর: অক্সিন, সাইটোকাইনিন

16. জনুক্রম দেখা যায় কোন উদ্ভিদে?

উত্তর: মস, ফার্ন

17. কোন প্রকার জননে প্রকরণ সৃষ্টি হয়?

উত্তর: যৌন জননে 

18. জনুক্রমে কোন দুটি জনুর আবর্তন ঘটে? 

উত্তর: রেনুধর জনু ও লিঙ্গধর জনু

19. ফার্নের লিঙ্গধর উদ্ভিদকে কি বলে? 

উত্তর: প্রো থ্যালাস 

20. স্বপরাগযোগ দেখা যায় এমন দুটি গাছের নাম কর।

উত্তর: সিম, টমেটো 

21. স্বপরাগযোগের একটি সুবিধা লেখ।

উত্তর: কোন প্রজাতির বৈশিষ্ট্য রক্ষা পায় 

22. স্ব পরাগযোগের একটি অসুবিধা লেখো। 

উত্তর: নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয় না 

23. ইতর পরাগযোগের একটি সুবিধা লেখ। 

উত্তর: নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। 

24. ইতর পরাগযোগের একটি অসুবিধা লেখ। 

উত্তর: বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়। 

25. বায়ুপরাগী ফুল কাকে বলে?

উত্তর: বায়ুর সাহায্যে পরাগ যোগ হয় যেসব ফুলে তাদের বায়ু পরাগে উদ্ভিদ বলে।

26. বায়ু পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও। 

উত্তর: ধান গম 

27. বায়ু পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখ।

উত্তর: ফুলগুলি ক্ষুদ্র বর্ণহীন ও গন্ধহীন 

28. জল পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও 

উত্তর : পাতা ঝাঁঝি,পাতা শ্যাওলা 

29.পতঙ্গ পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখ। 

উত্তর:ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের হয় এবং ফুলের মিষ্ট রস থাকে। 

30.পতঙ্গ পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও। 

উত্তর: আম ,সূর্যমুখী 

31.পক্ষী পরাগী ফুলের উদাহরণ দাও। 

উত্তর:শিমুল, পলাশ, মাদার 

32.পক্ষী পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লেখ। 

উত্তর:ফুলগুলি বড় ও উজ্জ্বল বর্ণের হয়

33. নিষেকের পর ডিম্বক কিসে পরিণত হয়? 

উত্তর: বীজে

34. নিষেকের পর ডিম্বাশয় কিসে পরিণত হয়? 

উত্তর: ফলে 

35. অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি অপত্য সৃষ্টি হওয়ার পদ্ধতির নাম কি? 

উত্তর: অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস 

সংক্ষিপ্ত উত্তর ধর্মী প্রশ্ন | মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) ‘জনন’ প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

1. ক্রোমোজোম কাকে বলে? 

উত্তর: কোষের নিউক্লিয়াস মধ্যস্থ নিউক্লিয় জালিকা থেকে উৎপন্ন নিউক্লিয় প্রোটিন দিয়ে গঠিত, স্বপ্রজননশীল যে সুত্রাকার অংশ জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য গুলি বহন করে এবং প্রজাতির পরিব্যক্তি, প্রকরণ ও বিবর্তন মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাকে ক্রোমোজোম বলে। 

2. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুসারে ক্রোমোজোম কত প্রকারের হয়? 

উত্তর: চার প্রকারের। যথা-মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাক্রোসেন্ট্রিক, টেলো সেন্ট্রিক

3. মাইটোসিস পদ্ধতির দুটি তাৎপর্য লেখ। 

উত্তর:(1) মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে। 

(2) জীবদেহের আঘাতপ্রাপ্ত স্থান মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে জীর্ণস্থানে কোষ দিয়ে প্রতিস্থাপন ঘটে, ফলে জীব দেহের ক্ষয়পুরন হয়। 

4. ক্রসিং ওভারের গুরুত্ব লেখ। 

উত্তর (1) ক্রসিং ওভার এর মাধ্যমে সৃষ্ট অপত্য ক্রোমোজোমে জিনের সজ্জারিতির পরিবর্তন ঘটে ফলে প্রকরণভাবে সৃষ্টি হয়। 

(2) নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। 

(3) এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে জিনগুলি ক্রোমোজোমে রৈখিকভাবে সজ্জিত থাকে। 

5. যৌন জননের সুবিধা গুলি লেখ। 

উত্তর: (1) দুটি ভিন্ন ধর্মী গ্যামেট দয়ের মিলনের ফলে অপত্য জিবে নতুন বৈশিষ্ট্য উৎপন্ন হয়। 

(2) যেহেতু ক্রসিং ওভার ঘটে তাই ভেদ বা প্রকরণ সৃষ্টি হয় যা প্রজাতির বিবর্তনে ভূমিকা নেয়। 

(3) যেহেতু অপত্য জীব নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয় তাই পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অর্থাৎ অভিযোজন ক্ষমতা অনেক বেশি হয়। 

6. এমন দুটি প্রাণীর নাম লেখ যারা জনুক্রম দেখায়? 

উত্তর: প্যারামেসিয়াম ও মনোসিস্টিস 

7. বুলবিল কি? 

উত্তর: চুপরী আলু, খাম আলু প্রভৃতি উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল খাদ্য সঞ্চয় করে শীত ও গোলাকার হয় একে বুলবিল বলে। 

8. জিন কাকে বলে?

উ: DNA-র নির্দিষ্ট অংশ যা একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের নির্দেশ বহন করে, তাকে জিন বলে। জিন হল বংশগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক। প্রতিটি ক্রোমোজোমে নির্দিষ্ট সংখ্যায় জিন বিন্যস্ত থাকে।

9.টেলোমিয়ার কী? এর কাজ লেখো।

উ: ক্রোমোজোমের প্রতিটি প্রান্তের বিশেষ ক্যাপ-সদৃশ অংশকে টেলোমিয়ার বলে। কাজ: (i) টেলোমিয়ার প্রতিটি DNA গঠনে সাহায্য করে, (ii) কোশের বার্ধক্য ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে, (iii) নিষ্ক্রিয় টেলোমেরেজ উৎসেচক সক্রিয় করে টেলোমিয়ারকে আগের অবস্থায় ফেরাতে সাহায্য করে।

10. ইউক্রোমাটিন ও হেটেরোক্রোমাটিনের পার্থক্য লেখো।

● ইউক্রোমাটিন: স্থির নিউক্লিয়াসে প্রসারিত, হালকা রঞ্জিত, সক্রিয় জিন বহন করে।

  ● হেটেরোক্রোমাটিন: স্থির নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলীকৃত, গাঢ়ভাবে রঞ্জিত, নিষ্ক্রিয় জিন বহন করে।

11. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের পার্থক্য লেখো।

● মাইটোসিস: দেহকোশে ঘটে; অপত্য কোশ ডিপ্লয়েড; ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত; ক্রসিং ওভার ঘটে না।

  ● মিয়োসিস: জনন কোশে ঘটে; অপত্য কোশ হ্যাপ্লয়েড; ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়; ক্রসিং ওভার ঘটে।

12. কোশচক্র কাকে বলে? এর দশাগুলির নাম লেখো।

উ: জীবের প্রতিটি কোশের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র আছে। কোশ সৃষ্টির পর বৃদ্ধি, বিভাজন এবং পুনরায় সৃষ্টি — এই পর্যায়গুলির সামগ্রিক আবর্তনকে কোশচক্র বলে। দশাগুলি: ইন্টারফেজ (G₁, S, G₂) ও মাইটোটিক ফেজ (M)

13. অযৌন জনন কাকে বলে? দুটি উদাহরণ দাও।

উ: যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেটের মিলন ছাড়াই একটি জীব থেকে অপত্য জীব তৈরি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে। উদাহরণ: আমিবার দ্বিবিভাজন এবং হাইড্রার কোরকোদ্গম।

14. পরাগযোগ কাকে বলে? স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের পার্থক্য লেখো।

উ: পুংকেশরের পরাগধানি থেকে পরাগরেণু গর্ভকেশরের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগযোগ বলে।

  ● স্বপরাগযোগ: একই ফুলের মধ্যে পরাগযোগ; বৈচিত্র্য কম।

  ● ইতর পরাগযোগ: দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের মধ্যে পরাগযোগ; বৈচিত্র্য বেশি।

15. রেণু উৎপাদন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উ: রেণুথলিতে মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড রেণু তৈরি হয় এবং অনুকূল পরিবেশে অঙ্কুরিত হয়ে নতুন জীব তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে রেণু উৎপাদন বলে। উদাহরণ — মিউকর, পেনিসিলিয়াম, রিকসিয়া, ড্রায়োপটেরিস।

16. অপুংজনি কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উ: নিষেক ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু (ডিপ্লয়েড বা হ্যাপ্লয়েড) থেকে সরাসরি নতুন জীব তৈরির প্রক্রিয়াকে অপুংজনি বলে। উদাহরণ — মৌমাছির পুরুষ (ড্রোন), আফিড (পুরুষ) এবং মিউকর ও স্পাইরোগাইরা জাতীয় উদ্ভিদ।

17. NOR কী? এর কাজ লেখো।

উ: গৌণ খাঁজ বা নিউক্লিওলার অর্গানাইজার রিজিয়ন (NOR) হল ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজ ছাড়া অন্য কোনো খাঁজ। কাজ: (i) নিউক্লিওলাস গঠনে অংশগ্রহণ করে, (ii) rRNA সংশ্লেষে সাহায্য করে এবং (iii) কোনো নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

18. মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয় কেন?

উ: মিয়োসিস বিভাজনে ক্রোমোজোম মাত্র একবার কিন্তু নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম দুইবার বিভাজিত হয়। ফলে একটি মাতৃকোশ (2n) থেকে চারটি অপত্য কোশ তৈরি হয় যাতে মাতৃকোশের অর্ধেক ক্রোমোজোম থাকে (n)। এইভাবে ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এটিকে হ্রাস বিভাজন বলা হয়।

19. কোশ বিভাজনের প্রয়োজনীয়তা কী?

উ: কোশ বিভাজন জরুরি কারণ: (i) বহুকোষী জীবের দেহের বৃদ্ধি ঘটে, (ii) ক্ষতস্থান পূরণ বা ক্ষতিপূরণ হয়, (iii) এককোষী জীবের প্রজনন ঘটে, (iv) মিয়োসিস বিভাজনে জনন কোশ তৈরি হয় যা যৌন জননে সাহায্য করে।

20. কায়াজমা কাকে বলে? এর গুরুত্ব কী?

উ: মিয়োসিস-I এর প্যাকাইটিন উপদশায় বাইভ্যালেন্টের সমসংস্থ ক্রোমোজোমের ননসিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে যে জায়গায় ক্রসিং ওভার ঘটে তাকে কায়াজমা বলে। গুরুত্ব: কায়াজমার ফলে ক্রোমোজোমের জিনের পুনর্বিন্যাস ঘটে, যা জীবে বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

21. মাইক্রোপ্রপাগেশন বা অণুবিস্তরণ কাকে বলে?

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান সাজেশন – মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়)প্রশ্ন ও উত্তর  

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর  [৩–৫ নম্বর] মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়) ‘জনন’ প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer :

1. DNA-র দ্বিতন্ত্রী মডেলের বর্ণনা দাও। [৫ নম্বর]

উ: ১৯৫৩ সালে জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস ক্রিক DNA অণুর দ্বিতন্ত্রী কুণ্ডলাকার মডেল প্রস্তাব করেন। এই মডেলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি হল:

  ● গঠন: DNA দুটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল নিয়ে গঠিত যারা পরস্পরের বিপরীতমুখী ও কুণ্ডলাকারভাবে পেঁচানো।

  ● শর্করা ও ফসফেট: প্রতিটি তন্ত্রে ডিঅক্সিরাইবোজ শর্করা ও ফসফেট পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয়ে মেরুদণ্ড (backbone) গঠন করে।

  ● নাইট্রোজেন ক্ষার: DNA-তে অ্যাডেনিন (A), থাইমিন (T), গুয়ানিন (G) ও সাইটোসিন (C) — এই চারটি ক্ষার আছে। A সর্বদা T-এর সাথে (দুটি H-বন্ধন) এবং G সর্বদা C-এর সাথে (তিনটি H-বন্ধন) যুক্ত।

  ● পিচ ও নিউক্লিওটাইড: প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪Å এবং প্রতিটি প্যাঁচে ১০টি নিউক্লিওটাইড জোড় থাকে।

  ● বিপরীত মেরু: দুটি তন্ত্র ৫’→৩’ ও ৩’→৫’ দিকে বিপরীতমুখী।

  এই মডেল DNA-র প্রতিলিপিকরণ ও বংশগতির রহস্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মূলভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

2. মাইটোসিস কোশ বিভাজনের বিভিন্ন দশার বর্ণনা দাও। [৫ নম্বর]

উ: মাইটোসিস বিভাজনে নিউক্লিয়াস বিভাজন (ক্যারিওকাইনেসিস) ও সাইটোপ্লাজম বিভাজন (সাইটোকাইনেসিস) পর্যায়ক্রমে ঘটে।

  ● প্রোফেজ: ক্রোমাটিন সংকুচিত হয়ে ক্রোমোজোম দৃশ্যমান হয়। নিউক্লিয় আবরণ ভাঙে। নিউক্লিওলাস অদৃশ্য হয়। প্রাণীকোশে সেন্ট্রিওল থেকে বেমতন্তু তৈরি হয়।

  ● মেটাফেজ: ক্রোমোজোমগুলি কোশের বিষুবীয় তলে (মেটাফেজ প্লেটে) সারিবদ্ধ হয়। সেন্ট্রোমিয়ার বেমতন্তুর সাথে যুক্ত হয়।

  ● অ্যানাফেজ: সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়, ক্রোমাটিড দুটি বিপরীত মেরুতে সরে যায়। ক্রোমোজোম V, L, J বা I আকৃতি নেয়।

  ● টেলোফেজ: ক্রোমোজোম বিপরীত মেরুতে পৌঁছে অস্পষ্ট হয়। নতুন নিউক্লিয় আবরণ ও নিউক্লিওলাস তৈরি হয়।

  ● সাইটোকাইনেসিস: প্রাণীকোশে ক্লিভেজ ও উদ্ভিদকোশে কোশপাত গঠনের মাধ্যমে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।

3. অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা করো। [৫ নম্বর]

উ: অযৌন জনন হল গ্যামেটের মিলন ছাড়া একটি জীব থেকে অপত্য জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়া। এর বিভিন্ন পদ্ধতি হল:

  ● দ্বিবিভাজন (Binary Fission): মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃজীব দুটি অপত্য সৃষ্টি করে। উদাহরণ — আমিবা, প্যারামেসিয়াম, ব্যাকটেরিয়া।

  ● বহুবিভাজন (Multiple Fission): নিউক্লিয়াস বারবার বিভক্ত হয়, তারপর সাইটোপ্লাজম ভাগ হয়ে অনেক অপত্য তৈরি হয়। উদাহরণ — প্লাসমোডিয়াম।

  ● কোরকোদ্গম (Budding): মাতৃদেহে কোরক সৃষ্টি হয়, পুষ্টি পেয়ে বৃদ্ধি পায় ও বিচ্ছিন্ন হয়ে নতুন জীব তৈরি করে। উদাহরণ — ইস্ট, হাইড্রা।

  ● খণ্ডীভবন (Fragmentation): জীবদেহ খণ্ডে বিভক্ত হয়, প্রতিটি অংশ পূর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হয়। উদাহরণ — স্পাইরোগাইরা।

  ● রেণু উৎপাদন (Spore Formation): মিয়োসিস বিভাজনে রেণু তৈরি হয়। উদাহরণ — ফার্ন, মিউকর, পেনিসিলিয়াম।

  ● পুনরুৎপাদন (Regeneration): দেহের কাটা অংশ থেকে সম্পূর্ণ জীব তৈরি হয়। উদাহরণ — প্ল্যানেরিয়া।

4. সপুষ্পক উদ্ভিদে নিষেক প্রক্রিয়া ও নতুন উদ্ভিদ গঠনের বর্ণনা দাও। [৫ নম্বর]

উ: সপুষ্পক উদ্ভিদে নিষেক প্রক্রিয়া নিম্নরূপে সংঘটিত হয়:

  ● পরাগযোগ: পুংকেশরের পরাগধানি থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়।

  ● পরাগনালি গঠন: গর্ভমুণ্ডের নিঃসরণের প্রভাবে পরাগরেণু থেকে পরাগনালি বের হয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে ডিম্বকের দিকে অগ্রসর হয়।

  ● নিষেক (Fertilisation): পরাগনালি ডিম্বকে প্রবেশ করে পুং জননকোশ মুক্ত করে। একটি পুং জননকোশ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড জাইগোট তৈরি করে।

  ● দ্বিনিষেক: অপর পুং জননকোশ দ্বিতীয় মেরু নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে ট্রিপ্লয়েড ভ্রূণপোষক টিস্যু (এন্ডোস্পার্ম) তৈরি করে।

  ● ভ্রূণ গঠন: জাইগোট মাইটোসিস দ্বারা বিভক্ত হয়ে ভ্রূণ তৈরি করে। ডিম্বক বীজে এবং ডিম্বাশয় ফলে পরিণত হয়।

5. মিয়োসিসের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করো। [৩ নম্বর]

উ: মিয়োসিস বিভাজনের গুরুত্ব বহুমুখী:

  ● ক্রোমোজোম সংখ্যা স্থিতিশীলতা: মিয়োসিসের ফলে হ্যাপ্লয়েড জনন কোশ তৈরি হয়, যা নিষেকের পর ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠন করে। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক থাকে।

  ● জৈব বৈচিত্র্য: ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিনের নতুন সমন্বয় ঘটে, যা জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করে। এটি বিবর্তনে সাহায্য করে।

  ● যৌন জনন সম্ভব করে: হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদনের মাধ্যমে উন্নত জীবে যৌন জনন সম্পাদিত হয়।

6. মানবিকাশের পাঁচটি দশার বর্ণনা দাও। [৫ নম্বর]

উ: মানবিকাশের পাঁচটি দশা:

  ● সদ্যোজাত দশা (০–২ বছর): শিশু জন্মের দিন থেকে ২ বছর পর্যন্ত। এই সময়ে দ্রুত শারীরিক ও স্নায়বিক বিকাশ ঘটে।

  ● শৈশব দশা (২–১১ বছর): দ্রুত ভাষা বিকাশ, সামাজিকতা ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

  ● বয়ঃসন্ধি দশা (১১–১৮/১৯ বছর): শরীরে হরমোনের প্রভাবে দ্রুত পরিবর্তন আসে। প্রজনন অঙ্গের পরিপক্বতা ঘটে। এটি যৌন পরিণতির দশা।

  ● পরিণত দশা (১৮/১৯ – বার্ধক্য পর্যন্ত): শরীর সম্পূর্ণ পরিণত থাকে। যৌন লক্ষণগুলি প্রকটভাবে দেখা যায়।

  ● বার্ধক্য দশা: শারীরিক ও মানসিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্রমশ অকার্যকর হয়। স্বাভাবিক পরিণতি হল মৃত্যু।

7. জনুক্রম কী? ফার্নের জনুক্রম বর্ণনা করো। [৩ নম্বর]

উ: জীবের জীবনচক্রে ডিপ্লয়েড (2n) ও হ্যাপ্লয়েড (n) জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।

উ: ফার্নের জনুক্রম: ফার্নের পাতায় রেণুথলি থেকে মিয়োসিসে হ্যাপ্লয়েড রেণু তৈরি হয় (স্পোরোফাইট → স্পোর)। রেণু অঙ্কুরিত হয়ে ছোট, সবুজ, হৃদয়াকার প্রোথ্যালাস তৈরি করে (গেমিটোফাইট জনু, n)। প্রোথ্যালাসে পুং ও স্ত্রী জননকোশ তৈরি হয়। নিষেকের পর জাইগোট তৈরি হয় ও সেটি থেকে নতুন স্পোরোফাইট (2n) সৃষ্টি হয়।

8. কোশ বিভাজনে মাইটোকন্ড্রিয়া ও রাইবোজোমের ভূমিকা লেখো।

  ● মাইটোকন্ড্রিয়া: কোশ বিভাজনের সময় প্রচুর শক্তির প্রয়োজন। মাইটোকন্ড্রিয়া ATP উৎপাদন করে সেই শক্তি সরবরাহ করে।

  ● রাইবোজোম: কোশ বিভাজনের আগে ও পরে প্রয়োজনীয় এনজাইম ও প্রোটিন সংশ্লেষ করে কোশ বিভাজনকে সুনিয়ন্ত্রিত রাখে।

9. G₀ দশা কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উ: কোশচক্রে যখন কোনো কোশ কোশচক্র থেকে বেরিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং কোনো বিভাজন না করে, তখন সেই নিষ্ক্রিয় দশাকে G₀ দশা বলে। যকৃৎকোশ, পরিণত RBC, হৃৎপেশির কোশ — এই সমস্ত কোশ G₀ দশায় থাকে।

10. সমসংস্থ ক্রোমোজোম কাকে বলে?

উ: যৌন জননকারী জীবের দেহকোশে যে সমস্ত ক্রোমোজোমের আকৃতি, সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান, জিনের প্রকৃতি ও বিন্যাস একইরকম তাদের সমসংস্থ ক্রোমোজোম বলে। প্রতিটি ডিপ্লয়েড কোশে প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি করে কপি থাকে — একটি পিতার, অপরটি মাতার থেকে প্রাপ্ত।

KEY POINTS — দ্রুত Revision এর জন্য

পরিভাষাসংজ্ঞা
ক্রোমোজোমনিউক্লিয়াসে অবস্থিত, DNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত, জিন বহনকারী সূত্রাকার কাঠামো।
জিনDNA-র নির্দিষ্ট অংশ যা একটি প্রোটিন সংশ্লেষের নির্দেশ বহন করে।
অটোজোমদেহজ বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম।
অ্যালোজোমলিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম (XY বা XX)।
মাইটোসিসদেহকোশ বিভাজনে সমআকৃতি ও সমক্রোমোজোমযুক্ত দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি।
মিয়োসিসক্রোমোজোম দুইবার বিভক্ত হয়ে হ্যাপ্লয়েড চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি।
জনুক্রমডিপ্লয়েড ও হ্যাপ্লয়েড জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তন।
পরাগযোগপরাগধানি থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তর।
নিষেকপুং ও স্ত্রী জননকোশের মিলনে জাইগোট গঠন।
অপুংজনিনিষেক ছাড়া অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে নতুন জীব সৃষ্টি।
বৃদ্ধিজীবের শুষ্ক ভরের স্থায়ী, অপরিবর্তনীয় বৃদ্ধি।
বিকাশজীবে জটিলতা বৃদ্ধির ঘটনা — জাইগোট থেকে পূর্ণ জীব গঠন।

” মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবনের প্রবাহমানতা (দ্বিতীয় অধ্যায়)  “ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ টপিক মাধ্যমিক পরীক্ষা (West Bengal Class Ten X  / WB Class 10  / WBBSE / Class 10  Exam / West Bengal Board of Secondary Education – WB Class 10 Exam / Class 10 Class 10th / WB Class 10 / Class 10 Pariksha ) দশম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর pdf এখান থেকে প্রশ্ন অবশ্যম্ভাবী । সে কথা মাথায় রেখে Bigyansiksha .com এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান এর এই প্রশ্ন গুলো এক জায়গায় করা হল ।

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – জীবজগতে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় (প্রথম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer 

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – বংশগতি এবং কয়েকটি সাধারণ জিনগত রোগ (তৃতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – অভিব্যক্তি অভিযোজন (চতুর্থ অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

READ MORE

মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান – পরিবেশ, তার সম্পদ এবং তাদের সংরক্ষণ (পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Life Science Question and Answer

Leave a Comment