চক্রপাণি দত্ত ছিলেন বিখ্যাত একজন আদর্শ চিকিৎসক এবং শারীরতত্ত্ববিদ। বহু দূর থেকে রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য আসতেন। তিনি রোগীদের চিকিৎসা করতেন আনন্দ সহকারে এবং অবসর সময়ে বই লিখতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘চিকিৎসা সংগ্রহ‘, ‘দ্রব্য গুণ‘ এবং ‘সর্বসার সংগ্রহ‘ উল্লেখযোগ্য। ‘চক্রদত্ত‘ নামক গ্রন্থে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন।

টীকাকার ও উপাধি
চক্রপাণি দত্ত চিকিৎসাশাস্ত্রের টীকাকার হিসেবেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি চরকসংহিতা এবং সুশ্রুত সংহিতার উপর দুটি টীকা রচনা করেন – ‘চরকতত্ত্ব প্রদীপিকা‘ ও ‘ভানুমতী‘। এই জন্য তাঁকে ‘চরকচতুরানন‘ এবং ‘সুশ্রুত সহস্রানন‘ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
জীবন ও পটভূমি
চক্র পাণি দত্তের জীবন নানা ঘটনায় পূর্ণ ছিল। তাঁর জন্মস্থান ছিল উত্তরবঙ্গের গৌড় অঞ্চল। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বারেন্দ্রভূমির একটি গ্রামে। পাল রাজাদের শাসনকালে তাঁর আবির্ভাব হয়। তিনি ছিলেন বৃদ্ধ সম্রাট নয়নপাল দেবের চিকিৎসক নারায়ণ দত্তের পুত্র।
সম্রাট ও চক্রপাণি
একবার রাজ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও সম্রাট চিন্তিত ছিলেন। চেদিরাজ লক্ষ্মীকর্ণের আক্রমণ এবং অপমান তাঁকে পীড়া দিচ্ছিল। তিনি গুরুদেব অতীশ দীপঙ্করকে স্মরণ করলেন এবং চেদিরাজের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের কথা ভাবলেন।
এই সময়, রাজচিকিৎসক নারায়ণ দত্তের পুত্র চক্রপাণি দত্ত সম্রাটের আশীর্বাদ নিতে আসেন। সম্রাট বালককে সর্বশাস্ত্র বিশারদ হওয়ার আশীর্বাদ করেন এবং পাল সাম্রাজ্যের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের আশা প্রকাশ করেন।
চক্রপাণি দত্তের শিক্ষা ও কর্মজীবন
সাত বছর পর চক্রপাণি দত্ত গুরুগৃহে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করে ফিরে আসেন। ততদিনে সম্রাট নয়নপালদেব মারা গেছেন এবং তাঁর পুত্র তৃতীয় বিগ্রহ পাল সিংহাসনে বসেছেন। চক্রপাণি দত্ত তাঁর পিতার আসনে বসেন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণা শুরু করেন।
বিগ্রহপাল তাঁকে জ্ঞানার্জনের জন্য ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাঠান। তিনি মগধে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তারপর তিনি উত্তর ভারত ভ্রমণ করেন।
বিদ্রোহ ও নির্বাসন
সম্রাট তৃতীয় বিগ্রহপালের সময় রাজ্যে বিদ্রোহ দেখা যায়। অবশেষে তিনি ভগ্নহৃদয়ে মারা যান। সিংহাসন নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে দ্বিতীয় মহীপাল সিংহাসনে বসেন। দেশের এমন পরিস্থিতিতে চক্রপাণি দত্ত তাঁর আদি নিবাস বারেন্দ্রভূমের গ্রামে ফিরে যান এবং সেখানে চিকিৎসাশাস্ত্রের গবেষণা শুরু করেন।
পণ্ডিত ও সাহিত্যিক
চক্রপাণি দত্ত ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। সংস্কৃত সাহিত্যে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ‘ব্যাকরণ চন্দ্রিকা’ এবং ‘শব্দচন্দ্রিকা’ নামক গ্রন্থ রচনা করেন।
মৃত্যু
একাদশ শতাব্দীর শেষে অথবা দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে এই বিখ্যাত চিকিৎসক ও পণ্ডিতের জীবনাবসান হয়।
আরো দেখুন:
Class 10 Physical Science Test Question Answer 2024
আরো দেখুন:
Physical Science Suggestion Madhyamik- পরমাণুর নিউক্লিয়াস (অধ্যায়-৭) প্রশ্নউত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান
আরো দেখুন:
Physical Science Suggestion Madhyamik- গ্যাসের আচরণ (অধ্যায়-২) প্রশ্নউত্তর – মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান
আরো দেখুন:
দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান | পরীক্ষাগার ও রাসায়নিক শিল্পে অজৈব রসায়ন – প্রশ্ন উত্তর সাজেশন | WBBSE Class 10th Physical Science Suggestion
FAQ
Q.1: চক্রপাণি দত্ত কে ছিলেন?
Ans: তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত আদর্শ চিকিৎসক, শারীরতত্ত্ববিদ এবং পণ্ডিত।
Q.2: তাঁর উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা গ্রন্থগুলো কী কী?
Ans: ‘চিকিৎসা সংগ্রহ’, ‘দ্রব্য গুণ’, ‘সর্বসার সংগ্রহ’ এবং ‘চক্রদত্ত’।
Q.3: চরকসংহিতা ও সুশ্রুতসংহিতার উপর তাঁর লেখা টীকাগুলির নাম কী?
Ans: ‘চরকতত্ত্ব প্রদীপিকা’ (চরকসংহিতার উপর) এবং ‘ভানুমতী’ (সুশ্রুত সংহিতার উপর)।
Q.4: তাঁকে কী কী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল?
Ans: ‘চরকচতুরানন’ এবং ‘সুশ্রুত সহস্রানন’।
Q.5: চক্রপাণি দত্তের পিতার নাম কী ছিল?
Ans: নারায়ণ দত্ত, যিনি সম্রাট নয়নপাল দেবের চিকিৎসক ছিলেন।
Q.6: চক্রপাণি দত্তের জন্মস্থান কোথায় ছিল?
Ans: উত্তরবঙ্গের গৌড় অঞ্চল, তাঁদের আদি নিবাস ছিল বারেন্দ্রভূমির একটি গ্রাম।
Q.7: তিনি কোন রাজাদের শাসনকালে আবির্ভূত হন?
Ans: পাল রাজাদের শাসনকালে।
Q.8: তিনি চিকিৎসাশাস্ত্র ছাড়াও আর কোন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন?
Ans: সংস্কৃত ব্যাকরণ বিষয়ে, যেমন ‘ব্যাকরণ চন্দ্রিকা’ এবং ‘শব্দচন্দ্রিকা’।
Q.9: তাঁর আনুমানিক মৃত্যু সাল কবে?
Ans: একাদশ শতাব্দীর শেষে অথবা দ্বাদশ শতাব্দীর প্রথমদিকে।
- অন্নপূর্ণা যোজনায় ভেরিফিকেশন শুরু হয়ে গেল — কারা বাদ পড়বেন, পোর্টাল কোথায়, কীভাবে চেক করবেন? সম্পূর্ণ আপডেট
অন্নপূর্ণা যোজনার ভেরিফিকেশন শুরু, পোর্টালও চালু — এখনই জেনে নিন আপনার কী করণীয় গতকাল যে বিজ্ঞপ্তিতে অন্নপূর্ণা যোজনার ঘোষণা হয়েছিল, তার পরের ধাপ শুরু হয়ে গেছে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেক্রেটারির পক্ষ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM) এবং কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের কমিশনারকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে — “Request for Verification of Annapurna … - লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে এলো অন্নপূর্ণা যোজনা — এবার প্রতি মাসে ₹৩০০০! কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?
Annapurna Yojana West Bengal 2026 — মাসে ₹৩০০০ সরাসরি ব্যাংকে, ১ জুন থেকেই শুরু অনেকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সরকারি নথিতে সেটা নিশ্চিত হয়ে গেল। এসে গেল Annapurna Yojana West Bengal 2026 পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ বিভাগ ১৯ মে ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর 2411-WCD/O/AB-4/2026-এ জানানো হয়েছে, … - ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গের সব মহিলা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন — ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড কীভাবে পাবেন, কোথায় আবেদন করবেন?
West Bengal Free Bus Travel Women 2026, টিকিট লাগবে না — পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারে প্রতিদিন সকালে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা, ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি করে উঠা, তারপর পকেট থেকে টাকা বের করে টিকিট কাটা — রাজ্যের কোটি কোটি মহিলার কাছে এই ছবিটা এবার বদলে যেতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার … - ভারতীয় সংবিধান ও সাধারণ জ্ঞানের জাতীয় প্রতিযোগিতা — বিশ্বরূপ অলিম্পিয়াড ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলোও অংশ নিতে পারবে, জানুন সম্পূর্ণ তথ্য
সংবিধান জানো, দেশ জানো — Vishwaroop Quiz Olympiad 2026 West Bengal সুযোগ পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষার্থীদের আমাদের দেশের সংবিধান সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি — সত্যি বলতে, এই প্রশ্নটা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। পাঠ্যবইয়ে কিছুটা পড়া হয়, পরীক্ষার আগে মুখস্থ করা হয়, তারপর ভুলে যাওয়া হয়। কিন্তু সংবিধান তো শুধু পরীক্ষার বিষয় নয় — এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের … - উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ রেজাল্টের পর এবার স্কুলভিত্তিক পারফরম্যান্স রিপোর্ট — বক্স প্লট কী এবং স্কুলগুলো কীভাবে রিপোর্ট জমা দেবে? সম্পূর্ণ গাইড
WBCHSE School Performance Report 2026 শুধু পাস-ফেলের গল্প নয় — এবার স্কুলগুলোকেও হিসাব দিতে হবে রেজাল্ট বেরিয়ে গেছে, আনন্দ-বেদনার ঢেউও কিছুটা থিতু হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) এবার শুধু পাস-ফেলের সংখ্যায় থেমে থাকেনি। ২০ মে ২০২৬-এ জারি করা বিজ্ঞপ্তি নম্বর L/PR/219/2026-এ সংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে — এবার থেকে প্রতিটি স্কুলের জন্য আলাদাভাবে বিষয়ভিত্তিক … - পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা —চিফ সেক্রেটারির নতুন সার্কুলারে কী বলা হয়েছে? সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ
সরকারি কর্মীরা এখন মিডিয়ায় কথা বলতে পারবেন না — West Bengal Government Employees Media Ban, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে যা জানা দরকার কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটা নির্দেশিকা জারি করেছে যেটা নিয়ে রাজ্যের সরকারি মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৯ মে ২০২৬ তারিখে চিফ সেক্রেটারির দফতর থেকে জারি করা সার্কুলার নম্বর 139-CS/2026 — এই …