ভারতের জাতীয় দিবস গুলি হল সেই বিশেষ দিনগুলি, যা ভারতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং যা গোটা দেশ জুড়ে পালিত হয়। এই দিনগুলি ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় চেতনাকে প্রতিফলিত করে। প্রধান জাতীয় দিবসগুলি হল:
১. স্বাধীনতা দিবস (১৫ আগস্ট): ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারত ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক এবং দেশবাসীর আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দিন।
২. প্রজাতন্ত্র দিবস (২৬ জানুয়ারি): ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয় এবং ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনটি ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং নাগরিক অধিকারের প্রতীক।
৩. গান্ধী জয়ন্তী (২ অক্টোবর): এই দিনটি জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। অহিংসা ও শান্তির প্রতি তাঁর আদর্শ আজও ভারতকে অনুপ্রাণিত করে।
এই দিনগুলি ছাড়াও, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবও ভারতে জাতীয় স্তরে পালিত হয়, যা ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। বিভিন্ন ভারতের জাতীয় দিবস লিপিবদ্ধ করা হল
ভারতের জাতীয় দিবস: ইতিহাস, তাৎপর্য এবং উদযাপন
| ক্রমিক সংখ্যা | তারিখ | দিবস/দিনটিকে কি বলে? |
| 1 | ৯ই জানুয়ারী | অনাবাসী ভারতীয় দিবস |
| 2 | ১২ই জানুয়ারী | জাতীয় যুব দিবস (স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন) |
| 3 | ১৫ই জানুয়ারী | জাতীয় সেনা বা স্থলবাহিনী দিবস |
| 4 | ২৩শে জানুয়ারী | নেতাজীর জন্মদিবস |
| 5 | ২৬শে জানুয়ারী | প্রজাতন্ত্র দিবস |
| 6 | ৩০শে জানুয়ারী | জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুদিন |
| 7 | ২৪শে ফেব্রুয়ারী | কেন্দ্রীয় আফগারি শুল্কদিবস |
| 8 | ২৮শে ফেব্রুয়ারী | জাতীয় বিজ্ঞান দিবস (বিজ্ঞানী সি ভি রামনের জন্মদিন) |
| 9 | ৪ঠা মার্চ | জাতীয় নিরাপত্তা দিবস |
| 10 | ৫ই মার্চ | জাতীয় সমুদ্র দিবস |
| 11 | ১৩ই এপ্রিল | জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড দিবস |
| 12 | ১১ই মে | জাতীয় প্রযুক্তি/কারিগরী দিবস |
| 13 | ১৩ই মে | জাতীয় সমাজবন্ধন দিবস |
| 14 | ২৯শে মে | এভারেস্ট আরোহণ দিবস |
| 15 | ২৮শে জুন | জাতীয় দরিদ্র দিবস |
| 16 | ৯ই আগষ্ট | ভারত ছাড়ো দিবস |
| 17 | ১৫ই আগষ্ট | স্বাধীনতা দিবস |
| 18 | ২৩শে আগষ্ট | জাতীয় সম্ভাবনা দিবস |
| 19 | ২৯শে আগষ্ট | জাতীয় ক্রিড়া দিবস (ধ্যানচন্দ্রের জন্মদিন) |
| 20 | ১লা সেপ্টেম্বর | জাতীয় পুষ্টি দিবস |
| 21 | ৫ই সেপ্টেম্বর | সংস্কৃত ভাষা দিবস ও শিক্ষক দিবস(সর্বপল্লী রাধাকৃয়ানের জন্মদিন) |
| 22 | ১৪ই সেপ্টেম্বর | হিন্দী ভাষা দিবস |
| 23 | ২রা অক্টোবর | গান্ধীজীর জন্মদিন |
| 24 | ৮ই অক্টোবর | জাতীয় বায়ুসেনা দিবস |
| 25 | ১০ই অক্টোবর | জাতীয় ডাক দিবস |
| 26 | ৩১শে অক্টোবর | জাতীয় একতা দিবস |
| 27 | ৪ঠা ডিসেম্বর | জাতীয় নৌসেনা দিবস |
| 28 | ৭ই ডিসেম্বর | সেনাবাহিনীর পতাকা দিবস |
| 29 | ১৪ই ডিসেম্বর | জাতীয় শক্তি সঞ্চয়ন দিবস |
| 30 | ১৮ই ডিসেম্বর | জাতীয় সংখ্যালঘু অধিকার |
| 31 | ২৩শে ডিসেম্বর | জাতীয় কৃষক দিবস |
| 32 | ২৪শে ডিসেম্বর | জাতীয় ক্রেতাদিবস অধিকার দিবস |
| 33 | ভারতের জাতীয় আদর্শ কি? | সত্যমেব জয়তে (সত্যই একমাত্র জয়ী হয়) |
| 34 | ভারতের জাতীয় ধ্বনি কি? | জয়হিন্দ/বন্দেমাতরম |
| 35 | ভারতের জাতীয় পশু কি? | বাঘ |
| 36 | ভারতের জাতীয় পক্ষী কি? | ময়ূর |
| 37 | ভারতের জাতীয় ফুল কি? | পদ্ম |
| 38 | ভারতের জাতীয় ফল কি? | আম |
ভারতের জাতীয় দিবস সমূহ: কেন এই দিনগুলি গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের জাতীয় দিবস গুলি কেবল কিছু নির্দিষ্ট তারিখ নয়, বরং আমাদের জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই দিনগুলি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এই ভারতের জাতীয় দিবস গুলি পালনের মাধ্যমে আমরা আমাদের জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত রাখি এবং ঐক্যবদ্ধ ভারতবর্ষের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করি।
- জ্ঞানচক্ষু প্রশ্ন উত্তর — আশাপূর্ণা দেবী
(দশম শ্রেণি, বাংলা — সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর) লেখক পরিচিতি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর জন্ম ১৯০৯ সালের ৮ জানুয়ারি, উত্তর কলকাতায়। সেকালের সামাজিক রীতি অনুযায়ী তাঁর প্রথাগত বিদ্যালয়-শিক্ষা লাভের সুযোগ ঘটেনি, বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার সূচনা। অথচ এই সীমাবদ্ধতা তাঁকে দমিয়ে রাখেনি— নিজের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, জীবনবোধ আর মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে … - টাইকো ব্রাহে: যে জ্যোতির্বিদ নাক হারিয়েও আকাশ দেখা থামাননি
একটু ভাবুন। ১৫৬০ সাল। ডেনমার্কের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে চৌদ্দ বছর বয়সের একটা ছেলে আইন পড়তে বসে আছে। হঠাৎ বাইরে লোকজনের ভিড়। সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে। সূর্যগ্রহণ হচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয়টা সূর্যগ্রহণ নয়। অবাক করা বিষয়টা হলো — জ্যোতির্বিদরা আগে থেকেই বলে দিতে পেরেছিলেন ঠিক কখন এই গ্রহণ হবে। নিখুঁতভাবে। এই ছেলেটার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরতে … - রজার বেকন: মধ্যযুগের অন্ধকারে যে সন্ন্যাসী জ্বালিয়েছিলেন বিজ্ঞানের আলো
একটু ভাবুন। ত্রয়োদশ শতাব্দী। ইউরোপজুড়ে চার্চের অন্ধকার শাসন। বিজ্ঞানচর্চা মানেই ধর্মের বিরোধিতা। কেউ যদি বলে — “প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করব না” — তাকে পাগল বলা হবে, বিধর্মী বলা হবে। সেই যুগে একজন মানুষ সন্ন্যাসীর পোশাক পরে, হাতে কাচের লেন্স আর বই নিয়ে বললেন — “অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো কিছুই সঠিকভাবে জানা সম্ভব নয়।” এই একটা কথার … - হ্যানিম্যান: যে ডাক্তার রোগীর যন্ত্রণা দেখে নিজেই ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছিলেন — তারপর বদলে দিয়েছিলেন পুরো চিকিৎসার ধারণাটাই
একটু ভাবুন। আপনি একজন ডাক্তার। সারাদিন রোগী দেখছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি জমছে — কারণ আপনি নিজেই জানেন, আপনি যে চিকিৎসা দিচ্ছেন সেটা রোগীকে সারাচ্ছে না, বরং তাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে। রক্তমোক্ষণ, পারদ, জোঁকের ব্যবহার — এই সব “চিকিৎসা” দেখে আপনার বুক ভারী হয়ে আসছে। কী করবেন আপনি? বেশিরভাগ মানুষ হয়তো মুখ বুজে … - ডিমোক্রিটাস: যে মানুষটা হাসতে হাসতে মহাবিশ্বের রহস্য সমাধান করেছিলেন
একটা মানুষ, যিনি প্রতিদিন রাস্তায় হাঁটতেন আর মানুষের বোকামি দেখে হাসতেন। প্রতিবেশীরা ভাবত লোকটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই “পাগল” মানুষটাই আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে এমন একটা তত্ত্ব দিয়ে গেছেন, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের একদম ভিত্তিপ্রস্তর। তাঁর নাম ডিমোক্রিটাস। আবডেরার সেই হাসিখুশি দার্শনিক, যাঁকে ইতিহাস স্মরণ করে “দ্য লাফিং ফিলোসফার” নামে। আজ একটু … - পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬-২৭: শিক্ষা আর চাকরির ক্ষেত্রে কী কী বদল আসছে, এক নজরে দেখে নিন
২২শে জুন, ২০২৬-এ বিধানসভায় পেশ হলো রাজ্যের ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট। এবারের ভাবনার কেন্দ্রে আছে “পঞ্চশক্তি” — পাঁচটা স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা। তার মধ্যে দুটো স্তম্ভ সরাসরি ছুঁয়ে যাচ্ছে রাজ্যের ছাত্রছাত্রী আর চাকরিপ্রার্থীদের জীবন — একটা হলো জ্ঞান-শক্তি, অর্থাৎ শিক্ষা ও মানব-মূলধন, আর অন্যটা সেবা-শক্তি, যার অধীনে এসেছে বড় নিয়োগের ঘোষণা। আপনি …