ব্রহ্মগুপ্ত: বীজগণিতের জনক Brahmagupta

প্রাচীন ভারতের গণিতবিদ ব্রহ্মগুপ্ত ছিলেন বীজগণিতের জনক! কীভাবে তাঁর অবদান ইউরোপে পৌঁছাল আর আধুনিক বীজগণিতের ভিত্তি স্থাপন করল, জানুন এই পোস্টে।

Brahmagupta
Brahmagupta

ইউরোপীয় পণ্ডিতদের অবদান

ইউরোপীয় পণ্ডিতগণ বীজগণিত সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তবে এর মূল ধারণা তাঁদের কাছে এসেছিল আরবদের কাছ থেকে।

বীজগণিতের উৎস

আরবদেশের মহামনীষী মহম্মদ বেনমুসা রচিত “আলজেব্রা ওয়াল মোকাবিলা” গ্রন্থ থেকে ইউরোপীয়রা বীজগণিতের ধারণা লাভ করেন। এই গ্রন্থ থেকেই অ্যালজেব্রা বা বীজগণিত নামের উৎপত্তি হয়। তবে, আরবি বীজগণিতের মূলে ছিলেন ভারতীয় গণিতবিদ ব্রহ্ম গুপ্ত।

ব্রহ্মগুপ্তের অবদান

ব্রহ্মগুপ্তই প্রথম শূন্যকে (০) গাণিতিক মর্যাদা দিয়েছিলেন। তিনি দ্বিঘাত সমীকরণের উদ্ভাবক ছিলেন এবং জ্যোতির্গণনার ক্ষেত্রে বীজগণিতের সার্থক প্রয়োগ করেছিলেন। ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি গুর্জর রাজ্যের রাজাকে “ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত” নামে একটি মহাগ্রন্থ উপহার দেন।

ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত

এই গ্রন্থে অঙ্কশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে বীজগণিত, পাটিগণিত, জ্যামিতি এবং জ্যোতির্বিদ্যার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন ছিল। গ্রন্থটি বিভিন্ন ভাষায় একাধিকবার অনূদিত হয়েছিল এবং একাদশ ও দ্বাদশ শতক পর্যন্ত সর্বত্র প্রচারিত ছিল।

আল বেরুনী ও খলিফা হারুন-অল-রসিদ

সুলতান মামুদের সঙ্গে আল বেরুনী একাদশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতে এসে ব্রহ্ম গুপ্তের গ্রন্থটি পাঠ করেন। তিনি ভারতীয় জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত গ্রন্থও পাঠ করেছিলেন এবং এদেশের ভাষাও আয়ত্ত করেছিলেন। বাগদাদের খলিফা হারুন-অল-রসিদের আমলে আরব্য রজনী লেখাগুলি প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি ব্রহ্ম গুপ্তের সমস্ত রচনা আরবি ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন। তাঁরই চেষ্টায় ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনি চরকসংহিতা এবং সুশ্রুতসংহিতাকেও আরবি ভাষায় অনুবাদ করিয়েছিলেন।

ব্রহ্ম গুপ্তের জন্ম ও পরিচয়

আনুমানিক ৫৫৮ খ্রিস্টাব্দে ব্রহ্ম গুপ্ত জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল জিষ্ণু। আল বেরুনীর মতে, ব্রহ্ম গুপ্তের জন্মস্থান ছিল মূলতান প্রদেশে। আবার অন্যান্য পণ্ডিতদের মতে, তিনি গুর্জর বা গুজরাটের বাসিন্দা ছিলেন।

ব্রহ্মগুপ্তের কৃতিত্ব

ব্রহ্ম গুপ্ত স্বীকার করেছিলেন যে গুর্জরের রাজা ব্যাঘ্রমুখের রাজত্বকালে তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশাতেই গ্রন্থটি জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং মৃত্যুর পঞ্চাশ বছরের মধ্যে তাঁর সুখ্যাতি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত গ্রন্থের বীজগণিত বিষয়ক অংশগুলি আরবি গণিতজ্ঞরা গ্রহণ করেন এবং আধুনিক বীজগণিতের সূচনা করেন। বিদেশী পণ্ডিতদের মতে, ভারতবর্ষ হল বীজগণিতের জনক এবং ব্রহ্ম গুপ্ত ছিলেন খ্রিস্টীয় সপ্তম শতাব্দীর পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ।

অন্যান্য কাজ

ব্রহ্ম গুপ্ত জ্যামিতিতে তেমন দক্ষ ছিলেন না, তবে পাটিগণিত অংশে তিনি কুড়িটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করেছিলেন। ৬৬৫ সালে তিনি ‘কারণ খণ্ড খাদ্যক‘ নামে আরও একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
সমালোচনা
ব্রহ্মগুপ্ত আর্যভট্টকে সহ্য করতে পারতেন না, তাই তিনি অনেক সমালোচকের নিন্দার পাত্র হয়েছিলেন।

উপসংহার

ব্রহ্মগুপ্তের নাম ভারতবাসীর কাছে অজ্ঞাত থাকলেও, তিনিই ছিলেন বীজগণিতের প্রথম প্রবর্তক।

READ MORE: আমাদের পরিবেশ |পঞ্চম শ্রেণী দ্বিতীয় অধ্যায়: ভৌত পরিবেশ (মাটি,জল,জীববৈচিত্র) প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 5 Science

READ MORE: আমাদের পরিবেশ |পঞ্চম শ্রেণী তৃতীয় অধ্যায়: পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ পরিচিতি প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 5 Science

READ MORE:আমাদের পরিবেশ |পঞ্চম শ্রেণী চতুর্থ অধ্যায়:পরিবেশ ও সম্পদ প্রশ্ন ও উত্তর | West Bengal Class 5 Science

FAQ

Q.1: বীজগণিতের মূল ধারণা ইউরোপীয়রা কার কাছ থেকে পেয়েছিল?

Ans: ইউরোপীয়রা বীজগণিতের মূল ধারণা পেয়েছিল আরবদের কাছ থেকে।

Q.2: ‘অ্যালজেব্রা’ বা বীজগণিত নামটি কোন গ্রন্থ থেকে এসেছে?

Ans: মহম্মদ বেনমুসার লেখা “আলজেব্রা ওয়াল মোকাবিলা” গ্রন্থ থেকে।

Q.3: আরবি বীজগণিতের মূলে কোন ভারতীয় গণিতবিদ ছিলেন?

Ans: ব্রহ্মগুপ্ত

Q.4: ব্রহ্মগুপ্তের সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী?

Ans: “ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত”

Q.5: শূন্যকে (০) গাণিতিক মর্যাদা প্রথম কে দিয়েছিলেন?

Ans: ব্রহ্মগুপ্ত

Q.6:কোন বিদেশী পণ্ডিতের মতে ভারতবর্ষ বীজগণিতের জনক?

Ans: আল বেরুনীর মতো বিদেশী পণ্ডিতদের মতে ভারতবর্ষ বীজগণিতের জনক।

Q.7: আল বেরুনী ব্রহ্মগুপ্তের কোন গ্রন্থটি ভারতে এসে পাঠ করেন?

Ans: “ব্রহ্মস্ফুট সিদ্ধান্ত”

  • মাধ্যমিক ২০২৬ রেজাল্টে অসন্তুষ্ট ? Madhyamik 2026 PPS PPR Application করো ২২ মে-র আগেই — সম্পূর্ণ তথ্য এখানে
    মাধ্যমিক ২০২৬-এর ফলাফলে মন খারাপ? PPS বা PPR-এর সুযোগ নিন — Madhyamik 2026 PPS PPR Application এর সময় শেষ হওয়ার আগেই রেজাল্ট বেরোনোর পর মনে হচ্ছে কোনো বিষয়ে নম্বরটা একটু কম হয়ে গেল? বা হয়তো কাঙ্ক্ষিত ফল পাওনি বলে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছ? তাহলে এই খবরটা তোমার জন্যই। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE) মাধ্যমিক পরীক্ষা …

    Read more

  • মাধ্যমিক রেজাল্ট ২০২৬: কবে বেরোবে, কোথায় দেখবে, মার্কশিটই বা কবে পাবে — সব প্রশ্নের উত্তর এক জায়গায়
    সত্যি বলতে, মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর যে অপেক্ষাটা শুরু হয়, সেটা পরীক্ষার চেয়ে কোনো অংশে কম কষ্টের না। হলের ভেতরে বসে উত্তর লেখার সময় অন্তত একটা কাজ থাকে — কিন্তু পরীক্ষা শেষ হলে? তখন শুধু অপেক্ষা। প্রতিটা দিন সকালে উঠে মনে হয়, আর কতদিন? বাড়ির লোকেরাও প্রশ্ন করে, বন্ধুরাও করে — সবার মুখে একটাই কথা, …

    Read more

  • মাধ্যমিক রেজাল্ট ২০২৬: ৪ঠা মে প্রকাশিত হবে WBBSE ফলাফল — রোল নম্বর দিয়ে সরাসরি দেখুন | Madhyamik Result 2026
    Madhyamik Result 2026 দেখুন সহজেই! WBBSE ৪ঠা মে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করবে। রোল নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে wbbsedata.com থেকে এখনই চেক করুন আপনার মার্কশিট। এই বছরটা একটু অন্যরকম লাগছে, তাই না? মাধ্যমিক দিয়ে যারা বসে আছ, তাদের বুকের ভেতরটা এখন কেমন ধুকপুক করছে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তবু রেজাল্টের …

    Read more

  • 5.1 ভারত: অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ | Class 10 Geography Short Question and Answer 2025
    5.1 ভারত: অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) থেকে বহুবিকল্পভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (MCQ, Very Short, Short, Descriptive Question and Answer) গুলি আগামী West Bengal Class 10th Madhyamik Geography Examination – পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট তোমরা যারা মাধ্যমিক ভূগোল পরীক্ষার জন্য 5.1 ভারত: অবস্থান ও প্রশাসনিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়)  MCQ প্রশ্ন ও …

    Read more

  • চক্রপাণি দত্ত: কিংবদন্তী চিকিৎসক ও পণ্ডিত
    চক্রপাণি দত্ত ছিলেন বিখ্যাত একজন আদর্শ চিকিৎসক এবং শারীরতত্ত্ববিদ। বহু দূর থেকে রোগীরা তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য আসতেন। তিনি রোগীদের চিকিৎসা করতেন আনন্দ সহকারে এবং অবসর সময়ে বই লিখতেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে ‘চিকিৎসা সংগ্রহ‘, ‘দ্রব্য গুণ‘ এবং ‘সর্বসার সংগ্রহ‘ উল্লেখযোগ্য। ‘চক্রদত্ত‘ নামক গ্রন্থে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন। টীকাকার ও উপাধি চক্রপাণি দত্ত …

    Read more

  • পশ্চিমবঙ্গ সরকারের EWS সার্টিফিকেট পাওয়ার পদ্ধতি | EWS Certificate West Bengal Criteria | EWS সার্টিফিকেট কি এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
    EWS সম্পূর্ণ কথাটি হল ইকনোমিক্যালি উই কার সেকশন (Economically Weaker Section) বা সমাজের অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণি। EWS সার্টিফিকেটের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া অংশকে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুযোগ সুবিধা দেওয়া।এই সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি চাকরিতে 10% সংরক্ষণ পাওয়া যেতে পারে। শুধুমাত্র জেনারেল কাস্ট যারা অন্য কোন সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত …

    Read more

Leave a Comment